দুরন্ত শৈশব আমায় এখনও টানে । আবার যদি ফিরে পেতাম শৈশব কত মজাই না হত । ত্প্ত রোদে দিনমান ঘুড়ে বেড়ানো, দিনভর পুকুরো ডুবাডুবি, ডোবা গুলোতে ভরে থাকা বৈশাখের প্রথম বৃষ্টি আর জোয়ারে পানিতে সেকি ডুবাডুবি। কারো বারন মানতে চাইত না মন। চোখ লাল হয়ে যেতে, ঠান্ডায় শরীরে হিম ধরে যেত । কখনও বা কাপুনি দিয়ে গায়ে জ্বর আসত। কাউ বলার সাহস হতো না জ্বর এসেছে। তখন বারণ শুনিনি তাই এখন জ্বর সইতে হত লুকিয়ে লুকিয়ে। মা গায়ে হাত দিয়ে বলত গা তো জ্বরে পুড়ে গেল আর কত জ্বলাবি, বল।
দুইদিন জ্বরে ভোগার পর তৃতীয় দিন আব্বা মেডিসিন নিয়ে আসত। স্কুলের শিক্ষকরাও ছুটি আসত প্রতিদিন যে ছেলেটি স্কুল আসত সে কেন স্কুল আসছে না তিনদিন।
লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমালে আচমকা ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেয়। কি এক টেক নিক আবিস্কার করে ছিলাম তখন। বিকেলে স্কুল মাঠে নানা বয়সি ছেলেরা বসত আসর পেতে । ক্রিকেট, ফুটবলের অত নিয়ম কানুন মাথায় ডুকত না। হাউ ইজ দ্যাটকে শুনে শুনে বলতাম। আউস দ্যাট আমপিয়ার। আমাকে কেউ খেলতে নিত না শুধু খাটাত । বল পানিতে পড়ে গেলে তা তোলার দায়িত্ব আমার । কচুরি পানায় আর কচু বনে বল খুজতে হত । হঠাত চিৎকার দিয়ে বলতাম.......ইউরেকা পেয়েছি। কিন্তু আসলে বল পাইনি। এমনি মজা করতাম। কেউ ভাবত পেয়েছি। কেউ ভাবত লুকিয়ে রেখে মিথ্যা কথা বলছি। ফিল্ডিংয়ের পর সবার শেষে বেটিং পেতাম। আমাকে দিত হালকা বল। বলত, মার জোরে ।
উঠত কেচ। এর পর আউট। হায়রে সখের বেটিং
বেশীভাগ সময় সহযোগী খেলোয়রের রান সংগ্রহের জন্য রানা হয়েছি। এরপর খেলা প্রতি চরম বিরাগ দেখা দেয়। আবার বিকেলে ভাইয়া ও আব্বার চোখকে ফাকি দিতে হতো ।
ঘুম থেকে জেগে কিছুক্ষন চুপচাপ থাকি ঘুমের জগত আর বাস্তবের মিল খোজার জন্য। তারপর ব্রাশ নিয়ে বাথরুমে। আর এভাবে এক একটি দিনের শুরু। জীবনের পরিনতির দিকে এগিয়ে যাওয়া। শুধুই যাওয়া।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


