somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেয়ে তুমি চলে এসো..আমি আর পারছি না.....চলে এসো প্লিজ

২০ শে জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেমন আছো তুমি ? তোমার ভালো আমি সবসময় কামনা করি। কোনভাবেই খারাপ থাকো এটা আমি কোনদানও চাইনি। তোমাকে কোনদিন আর বিরক্ত করবো না বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু সেদিন তোমাকে দেখতে পেয়ে তোমার কথা আবারো কেন জানি খুব মনে পড়ছে হঠাৎ করে। প্লিজ রাগ করো না আমার উপর। কেউ আমার উপর রাগ করলে আমার একেবারেই ভালো লাগে না। বিশেষ করে সেই মানুষটি যদি তুমি হও তাহলে আরো বেশী খারাপ লাগবে তখন।

আমার কথা কি তোমার মনে আছে ? ওই যে বিকালে তুমি কোচিংয়ে বের হলে যে ছেলেটি রাস্তার পাশে চায়ের দোকানে দাড়িয়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করতো। মাঝে মাঝে সকালে যখন স্কুলে যেতে বের হতে সেসময় আবারো একই জায়গায় দাড়িয়ে থেকে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। তুমি খুব বিরক্ত হতে আমাকে দেখে। এইতো চিনেছো আমাকে।
কত পাগলামী যে সেসময় তোমার জন্য করেছিলাম সেগুলো কি তোমার মনে আছে ? কড়া আইনের কলেজ ফাঁকি দিয়ে তোমার জন্য বসে থাকতাম। শুধু তোমাকে একবার দেখার জন্য। আচ্ছা একটা কথার জবাব কি দিবে আজ আমাকে ? সেইসময় আমাকে দেখে মাঝে মাঝে হঠাৎ করে এমন সুন্দর করে হাসি দিতে কেন ? তুমি কি জানো তোমার এই হাসিটি আমাকে কি পরিমাণ পাগল করে তুলতো ?

মনে আছে তোমার ‘ভালোবাসা দিবসে’ তোমাকে কার্ড পাঠিয়েছিলাম একটি ছোট ছেলেকে দিয়ে ? মনে নেই ছেলেটি কার্ড দিতে গিয়ে তোমার বাবার কাছে মার খেয়েছিলো !!

তোমার কি মনে আছে সেই দিনের কথা যেদিন আমার এক বড় আপুকে তোমার সাথে কথা বলতে পাঠিয়েছিলাম ? তোমার সামনে দাড়ানোর সাহস যে আমার কখনই হয়নি। তুমি আপুকে বলেছিলে তুমি পরীক্ষা শেষ হবার জন্য তুমি তিনমাস সময় চাও। তারপর তুমি তোমার কথা জানিয়ে দিবে আমাকে।

বিশ্বাস করো সেইদিন থেকে তোমাকে আমি আর বিরক্ত করিনি। পুরো তিনটি মাস অনেক দূর থেকে শুধু তোমাকে দেখে গেছি। তোমারও মনে থাকার কথা। কারণ সেই সময়টুকুতে তুমি আমাকে আর দেখোনি।
সেই সময়গুলো আমার কাছে ছিলো একই সাথে খুব আনন্দের ও কষ্টের। সময়টুকু পেরিয়ে গেলে তোমার কাছে থেকে ভালো কোন কথা পাবো এটা ভেবেও যেমন আনন্দে ছিলাম আবার তোমাকে খুব কাছে থেকে দেখতে না পাবার কষ্টটাও ছিলো। বিশ্বাস করো একবারও আমার মনে হয়নি তুমি তোমার জবাব আমাকে এভাবে দিবে।

সেইদিনটির জন্য কি তুমি এখনও রাগ করে আছো আমার উপর ? বিশ্বাস করো ঘটনাগুলো এভাবে ঘটে যাবে আমি আসলেই ভাবিনি। সেদিনের সময়টা মনে হয় সন্ধা হবে। আসি বাসাতেই ছিলাম। হঠাৎ করে এক বন্ধু ফোন দিয়ে বললো তোমাকে কোন একটি ছেলের সাথে দেখেছে। শুরুতে আমি কিন্তু কথাগুলো একেবারেই বিশ্বাস করিনি সত্যি ! তাড়াতাড়ি ছুটে গেলাম সেখানে।

অনেক ঘটনা ঘটলো সেদিন। আসলে আমারও যেন কি হয়ে গিয়েছিলো সেদিন ! পারতাম না করতে। কিন্তু কেন যানি সেদিন আর কিছু বলতে ইচ্ছে করলো না সেদিন। আমার কি দোষ বলো ? আমার এই বন্ধুগুলো যে আমাকে খুব পছন্দ করে। আমার খুব সুন্দর একটি স্বপ্নকে ভাঙ্গতে দেখে ওরা যে সেদিন এমন করবে আমি আসলেই ভাবতে পারি নাই।

তার কয়েকদিন পরেই তো তুমি তোমার মনের সব কথা জানিয়ে দিলে আমাকে। খুব খারাপ লেগেছিলো সেদিন তোমার কথাগুলো জানতে পেরে। তোমাকে বলেছিলাম জীবনে তোমার সামনে আর কখনোও আসবো না। নিজের সাথে খুব বড় অন্যায় করে ফেলেছিলাম সেদিন। ভেবেছিলাম তোমাকে ছাড়াও আমার চলে যাবে। নিজের মনকে বুঝিয়েছিলাম তোমাকে ভুলে যেতে। ভেবেছিলাম সফল হয়েছি। কিন্তু সত্যি কথাটা জানো ? আমি বিন্দুমাত্র সফল হয়নি। এখনো কিন্তু আমি তোমার ছায়া হয়ে থাকি মাঝে মাঝে। তুমি হয়তো বুঝতে পারো না। অনেক দূর থেকে দেখে যাই তোমাকে। বিশ্বাস করো আমার আর কিছু দরকার নেই। আমি এতেই অনেক খুশি।

কিন্তু হঠাৎ করে মাঝে মাঝে আমার কি যেন হয়ে যায় ? সেদিন খুজতে গিয়ে তোমার একটি ছবি পেয়ে গেলাম। ছবিতে তোমার হাসিমাখা মুখটি দেখতে পেয়ে কেনো জানি মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। দিনগুলো হঠাৎ করে আরো বেশী করে যেনো অসহ্য লাগতে লাগলো আমার কাছে।
থাক অনেক কথা বলে ফেললাম। রাগ করো না আমার উপর। আমি আমার কথা রেখে যাবো সারাজীবন। কোনদিন তোমার সামনে আর আসবো না আমি।
ভালো থেকো তুমি সবসময়। তোমার জীবন যে সবসময় আনন্দে কাটুক এই আশা রইলো।

মনটা আসলেই খুব খারাপ আমার। মনে খুব অসহ্য যন্ত্রনা হচ্ছে আমার। পারছিনা আমি আমার কথাগুলো রাখতে। তুমি এমন কেন করছো আমার সাথে ? ধুব কষ্ট হচ্ছে আমার। প্লিজ তুমি চলে এসো আমার কাছে। সত্যি বলছি আমি আর পারছি না।



সবশেষে একটি কথা। এই গানটি শুনেছিলেন নাকি ? এত আবেগময় গান অনেকদিন হলো শুনা যায় না। অদ্ভূত এক আবেগ দিয়ে গানটি গাওয়া। যেন খুব কষ্ট পেয়ে কেউ আর্তনাদ করে যাচ্ছে। গানটি অবশ্যই শুনে দেখবেন। এই গানটির সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের দেশের ৩টি জীবনের খুব করুন পরিণতি। শুনেছি একদম সত্যি ঘটনা। গানটির নাম 'নিকষ কালো এই আঁধার'....গানটির কয়েকটি লাইন দেখুন......

অন্ধকার ঘরে, কাগজের টুকরো ছিঁড়ে
কেটে যায় আমার সময়
তুমি গেছো চলে
যাওনি বিস্মৃতির অতলে
যেমন শুকনো ফুল বইয়ের মাঝে রয়েযায়
রেখেছিলাম তোমায় আমার হৃদয় গভীরে
তবু চলে গেলে এই সাজানো বাগান ছেড়ে
আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায়……

গানটির মিডিয়াফায়ার ডাউনলোড লিংক......
নিকষ কালো এই আঁধার
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২৪
৫৪টি মন্তব্য ৫৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×