০১.
জ্যোত্স্ন্যাকাল খুব প্রিয় ছিল একসময়.......যখন পাখি হবার সাধ ছিল ; আর ঝিরঝিরে বৃষ্টি একরাশ সুবাসিত শিউলি ফুলের মত চেতনার ঘরে নামত বিষাদ বিনাশী পুষ্পস্নান হয়ে। সেই কবেকার কথা........স্মৃতির ধুলো হয়ে হারিয়ে যাওয়া রূপকথার মত অনন্ত আকাশের শূন্যতায় মিশে গেছে তার সব। এখন শুধু মায়াঘেরা গল্পগুলি দূর আকাশের স্মৃতিলেখা তারা হয়ে মিটিমিটি জ্বলে আর তিরতির করে বয়ে চলা হুহু বাতাস বুকের এপারে অবিশ্রান্ত শূন্যতার গান গায়। কুঠুরিবন্দী হয়ে সমস্ত দিন জুড়ে বর্ণহীন সময়গুলির পুঁথিপাঠ করি,জ্যোত্স্ন্যার আলো তাই ঘরে ঢোকে না, আমিও যাই না তার কাছে আর। সারারাত ধরে আকাশ থেকে ঝরে পড়া সমস্ত বৃষ্টি অবশেষে চোখের ভেতর সমুদ্র হয়ে যায়.........আর একেকটা বর্ণলিপি একেকটা সূতোছেঁড়া উড়ন্ত ফানুস হয়ে ওঠে.......
০২.
আমি শুধু একটা তিতির পাখি চেয়েছিলাম। তাকে গান শোনাতে আর কবিতা শোনাতে চেয়েছিলাম। পাখিদের বেঁধে রাখতে নেই,তাই আমার ভীষণ শখ ছিল তাকে মায়ানগরীর জাদুর গান শুনিয়ে ভুলিয়ে রাখব,উড়তে গেলেও তার ডানাগুলি যেন আমার আকাশে সাঁতরে বেড়ায়। পাখিটার একটা নাম দিয়েছিলাম - কনকপাখি। চোখ বন্ধ করলে সে আমার সারা আকাশ জুড়ে ডানা ঝাপটাতো; আর খুলে দিলে চুপিচুপি আমার গলায় একটা ফাঁস এঁটে দিত - আমি অধীর হয়ে তার প্রতীক্ষা করতাম। তার জন্য আমি একটা সমুদ্র খুঁড়েছিলাম। আর জমিয়ে রেখেছিলাম ফোঁটা ফোঁটা নীল নীল মুক্ত।
একদিন গান গাইতে ভুলে গেলাম।
আর কনকপাখি জানালার ফাঁক গলে মায়ানগরীর মায়া ভুলে উড়াল দিল দূর আকাশে.........টানসুতো ছিঁড়ে......নিজেও জানলো না তা.....আর আমিও বলে দিলাম না.....
ফাঁসটা আমি ছিঁড়ে দিয়েছি তাই!
মুক্তির আনন্দে এখন শুধু রিমঝিম ঝরাপাতার গান গাই!
০৩.
একটা নদী আমার ভীষণ প্রিয় ছিল। নদীর নাম মেঘবতী। নদীর জলে মেঘের ছায়া টলমল করত সূর্যপ্রহরে আর আমি কিনারে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের পাড়ভাঙ্গা দেখতাম। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে ঢেউ এসে একদিন ছুঁইয়ে দিল আমার শরীর; আমি শিহরিত হলাম,স্তম্ভিত হলাম। তারপর ঢেউ এর বিছানায় গা এলিয়ে বহুদিনের চেনা স্বরলিপি ভুলে ঘুমিয়ে পরলাম চক্ষু মুদে। ঢেউ আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে আছড়ে ফেলল নদীর মধ্যিখানে। ডুবে যেতে যেতে আমি স্বপ্ন দেখলাম, আকাশের রং ছাই আর মেঘের রং তামাটে।
সেইদিন সেই নদীতে আমার আকাশ আর আমার মেঘদলের তিলাঞ্জলি হলো।
আমি ছাইরংকে চিরসঙ্গী করে নিলাম!
০৪.
অনেকগুলো রংমশাল আমি জ্বালিয়েছিলাম মধ্যগগনে। আমার ছায়াঢাকা ভয় ভয় মাখা আঙ্গিনায় তাদের দেখাচ্ছিল আতশবাজির মত। অতঃপর তাদের রঙিন আলোর ঝলকানি দেখে ভীত হলো সব গুহাবাসী,সমস্বরে আমায় করলো আক্রমণ। আমি হাত থেকে তাই সন্ধ্যাপ্রদীপ ফেলে দিয়ে মশালগুলো একে একে সব নিভিয়ে দিলাম।
এখন সকাল হলেই সূর্যের আলো চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে,কেবল গুহার ভেতর আমি আলোর বদলে অষ্টপ্রহর জ্বালিয়ে রাখি আঁধার আর উড়ে উড়ে আসা প্রজাপতিগুলোর সব ডানা কেটে দেই।
সব প্রজাপতির ডানা থাকতে নেই,সবসময় তাদের উড়তে দিতে নেই!
০৫.
অনেকদিন কোনো গান গাওয়া হয় না আমার। যেমন কবিতা লিখাও হয়না অনেকদিন। লিখতে গেলে হাত পুড়ে যায়, চোখে ধোঁয়া ওঠে........
ধোঁয়াগুলি মেঘের মত আকাশে উড়ে যায়,আমি উড়তে পারি না!
কারণ পাখিজন্ম সবার হয়না।
সব পাখি উড়তেও পারে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০১০ ভোর ৫:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


