হাইনে (১৭৯৭-১৮৫৬) জার্মান ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বিষাদময় রোমান্টিক কবি বলেই তাঁর সুখ্যাতি বেশি। কবিতার ভাষা রচনায় তিনি অত্যন্ত সরল। তাঁর লেখায় ইশ্বর প্রেম ও মানবপ্রেম উঠে এসেছে স্বমহিমায় কিন্তু অত্যন্ত সহজভাবে। কিছুটা রবীন্দ্রনাথের আদ্ধাত্বিক ও পূজা বিষয়ক গানের মতো। ধর্মে ইহুদী ছিলেন বলে আজীবন তাকে খ্রিষ্টান মৌলবাদীদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়েছেন। জীবনের শেষ আট বছর যক্ষায় আক্রান্ত হয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছেন। যক্ষার কথা জানতে পেরে বাড়িওয়ালা তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। প্যারিসে মৃত্যুর পূর্বমূহুর্তে তাঁর মন্তব্য ছিলো..” ইশ্বর আমাকে ক্ষমা করবেন, কারন এটাই তার কাজ।”
আমার এই প্রিয় কবির কবিতার অনুবাদের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। যদি বাংলা ভাষায় হাইনের অনুবাদের কাব্যগ্রন্থ আছে কিনা আমার জানা নেই। আমি প্রতি বই মেলায় খুঁজি। আমার সেই পুরানা পেপার কাটিং হতে শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন আজাদের একটি অনুবাদ এখানে তুলে দিলাম।
তুমি হাতখানি রাখো
প্রিয়তমা, তুমি হাতখানি রাখো এই বুকে।
শুনতে পাচ্ছো কি শব্দ? কে যেন হাতুড়ি ঠুকে চলেছে?
সেখানে এক মিস্ত্রি থাকে, যে বানিয়ে চলেছে এক শবাধার।
কার জন্য জানো?- আমার আমার।
উল্লাসে বিদ্বেষে নিরন্তর সে হাতুড়ি ঠুকছে দুই হাতে,
কিছুতেই ঘুমোতে পারছি না আমি, দিনে আর রাতে।
মিস্ত্রি, দ্রুত করো, তুমি কাজ শেষ করো তাড়াতাড়ি,
যাতে আমি অবশেষে বিগ্নহীন ঘুম যেতে পারি।
অনুবাদ: হুমায়ুন আজাদ
(পূর্বে আমারব্লগে প্রকাশিত.....)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

