প্রত্যেকটা দিন তো আর একই রকম হয় না, দিন বদলায়-পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন দিন আসে ।নতুনের আগমনী র্বাতা সবার জন্যে মঙ্গলই বয়ে আনে । মুক্তিযোদ্ধার সেই শেষ চিঠিতেও এরকমই একটা কথা ছিল ।
“বাচিঁয়া থাকলে দেখা হইবে তখন স্বাধীন দেশে একসাথে বিজয়ের পতাকা ওড়াবো,দুজনে ।”
তারপর সবকিছু পরিস্কার ।দেশ স্বাধীন হবার পর যারা বিভিন্ন সময়ে ওপরওয়ালার ভুমিকা পালন করেছেন ,তারা শুধু ওপরওয়ালাই ছিল । আর আমরা যারা নীচে আছি বলে তারা মনে করেন , কাধেঁর উপর পা রেখে উন্মাদনায় মেতেছে বছরের পর বছর ।
৭১ র্পূব সময় আমাদের কাছে খুব পরিস্কার ।সত্যিই কথা বলতে কি ওটাই ছিল পরির্বতনের সময় ।তারপর অর্থ্যাৎ ৭১ উত্তর সময় থেকে আজ অবধি; আগামীকাল নির্বাচন,০৮ । কি হয়েছে? হয়নি কিছুই।যারাই এসেছে লুটপাট করে খেয়েছে ।ধারাবাহিকতার বহমান পানি একই রকম- কোন নতুন রাস্তা তৈরি হলো না । সেই আ:লীগ, বি এন পি, জাতীয় পার্টি, জামাত ।আর অন্যদের কথা বললাম না কারণ তারাও এদেরই শাখা - প্রশাখা ।
এরা সবাই একই রকম । খুব অবাক লাগে এরা যখন একজন আর একজনের বিরুদ্ধে বলে, ওরা র্দুনিতিবাজ ।ওদেরকে ভোট দেবেন না । প্রসঙ্গ হলো র্দুনিতি করল কারা?খুব সহজ হিসাব ,তোমরাই তো ক্ষমতায় ছিলে । কেউ আগে ,কেউ পরে ।এখন কেন শুধুশুধু বাজে কথার বুলি ছাড়া হয় সাধারণ মানুষের কাছে ।
র্দুনিতি তো তোমরাই করেছ, করিয়েছ ।বাংলাদেশ , ৭১ র্পূবর্বতি সময়ে পশ্চিম পাকিস্থানিরা , ৭১ পরবর্তি সময়ে এই আ:লীগ, এই বি এন পি, এই জাতীয় পার্টি, এই জামাত ।আর অন্যদিকে শুধু শুধু ৭১ র্পূববতি সময়ে চলে গেল কতগুলো সাধারন মানুষ ,আর ৭১ উত্তর কালে আজ অবধি এই আমরা ।অন্যদিকে যে পরিবর্তনের আহ্বাবনে আমরা একত্রিত হয়েছিলাম একদিন, তা আজ সত্যিই ধরাছোঁয়ার বাইরে।
র্বতমানে আমাদের চিন্তা ভাবনার জায়গাগুলিই ভোতা হয়ে গিয়েছে ।এই দেশে শিক্ষিতরাও অশিক্ষিত আর অশিক্ষিতদের কথাতো বললামই না ।ঘুরে ফিরে আমরা ওই একটি জায়গাতেই আছি । হয় আ:লীগ নতুবা বি এন পি । যারা পরপর শুধু লুটপাট করেই গিয়েছে ।কিভাবে চলছে এই সাইকেল।এই দুটো দলতো আমাদেরকে দিয়েই তাদের বানিয়েছে ।কিন্তু কতকাল ???
একটু পেছনে ফেরা যাক । আ:লীগ, বি এন পি, জাতীয় পার্টি, জামাত এরা কিভাবে চালিয়েছে এই সাইকেল ।৭১ পরবর্তি কিছু সময় পেরিয়ে যাবার পর এরশাদের দশটি বছর তো বলার অপেক্ষা রাখেনা ।তার দুর্দশাগ্রস্ত দশটি বছর বাদ দিয়ে অন্যান্য র্নিবাচনের দিকে একটু তাকাই,
দল ১৯৯১ ১৯৯৬ ২০০১
বি এন পি ১৪০ ১১৬ ১৯৩
আ:লীগ ৯৬ ১৪৬ ৬২
জাতীয় পাটি ৩৫ ৩২ ১৪
জামাত ১৮ ৩ ১৭
অন্যাণ্য ৮ ২ ৮
সতন্ত্র ৩ ১ ৬
সুত্র: নিউ এইজ ওয়েব ।
আসন বন্ঠনগুলি এভাবেই ছিল গত র্নিবাচনে ।তাই উপরের টেবিলটিই প্রমান করে, তোমরা এসেছ তোমরা খেয়েছ ,আপনারা এসেছেন আপনারা খেয়েছেন, আবার তোমরা এসেছ তোমরা খেয়েছ । আবার সেই তোমরাই খাবারের জন্যে তৈরী হচ্ছ আগামীকাল থেকে ,২৯ ডিসে-০৮ ।মাঝখানে দুটি বছর গেল, স্বাদের মধ্যর্বতি সরকার ।মোটা অংকের টাকা গলা দিয়ে পেটে ঢোকার জন্যে এই সময়টুকুই যথেষ্ট ছিল তাদের জন্যে ।
আগামীকালও তাই হবে ।৯১,৯৬,০১ এর প্রতিচ্ছবি ।তোমরাই আসবে ,তোমরাই খাবে । আর আমরা পরির্বতনের অপেক্ষা করে যাবো, সপ্ন দেখব বদলানোর ।হাসিনা বলেছে ,২০২০ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বে ।কথা হচ্ছে র্নিবাচনের মধ্যে দিয়ে যদি সে ক্ষমতায় আসে স্থায়িত্বকাল হবে ৫ বছর , সেখানে ২০২০ সাল র্পযন্ত পরিকল্পনা করেন কিভাবে ?খালেদা জিয়া বলেছে, ভুল হয়ে গেলে ক্ষমা করে দেবার । একজন প্রধানমন্ত্রি ভুল করতে পারেন না ?অন্যদিকে আর যারা বাকী থাকল তাদের কথা বলবেন বিজ্ঞজনেরা ।
যদিও বিজ্ঞজনদের নিয়ে আমার একটা মতামত নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীরের বক্তোব্বের কাছাকাছি, এদেশের বিজ্ঞজনেরাও হয় আ:লীগ নতুবা বি এন পি পন্থি ।
র্বতমান সি ই সির একটা কথা দিয়ে শেষ করব ।বলেছেন,“না” ভোট যেন খেলার বিষয় না হয় ,কারণ এটা জনগনের স্বাধীন মতাধিকার । প্রশ্ন হলো এই “না” ভোট তো অনেক আগে থেকেই ছিল । কেন গত র্নিবাচনগুলোতে এই স্বাধীকার প্রয়োগের বিষয়টি থাকেনি ।
আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা সবসময়ের জন্যে মুক্তিযোদ্ধা । তাই আগত সন্তানদের বুকফাটা কান্নার সাথে জানিয়ে দিয়ে আজও চিঠি লিখে যাই ,
“বাচিঁয়া থাকলে দেখা হইবে তখন স্বাধীন দেশে একসাথে বিজয়ের পতাকা ওড়াবো,দুজনে ।”
সেই চিঠি কোনদিনও আগন্তুকরা পাবে কিনা জানিনা ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


