somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প : শেকড় ২

১০ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্প : শেকড় ২


০৪.

বিকেলে বাবার হাত ধরে বাইরে যায় সে। বাড়ির গেট থেকে বেরুলে টুকুর আনন্দ যেন আর থামে না। আকাশে লাল নীল ঘুড়ির মতো টুকুর মনেও ঘুরে বেড়ায় কতশত ফড়িং। তবে নাটাই এর মতো বাবা তার হাত ধরে রাখে।
মতি গেট বন্ধ করে এক দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে সোজা রান্না ঘরে ঢোকে, মামানি টুকুভাইয়া না ঐ পাগলাডারে একটা চকলেট দিসে। তপন মামাই ঐ ইদরিসের দোকান থাইক্যা কিনা দিসে।
ওর বাবা না কিছুই খেয়াল করে না , ছেলেটা কী করে , কার সাথে মেশে! আমি আর পারিনা।

টুকু বাবার হাত ধরে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ সময় সিএনজি অটোরিক্শা তেমন পাওয়া যায় না। লোকটা চকলেটের মোড়ক খুলে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে।
তুমি আমাদের সাথে যাবে? চলো না।
নাহ্‌ ! লোকটা হাসি হাসিমুখ করে বলে।
তপন কিছু বলে না। ছেলের হাত ধরে সিএনজিতে উঠে বসে, টুকু, তুমি ওকে চেনো?
হ্যাঁ বাবা, ওতো এখানেই থাকে, দোকানের সিঁড়িটা আছে না ওখানে ঘুমায়। আমি আর ও রোজ গল্প করি । বাবা মতি বলে , ও নাকি পাগল। পাগল মানে কি খারাপ বাবা ?
ঢাকা শহরের শব্দ দূষণ বেড়েছে আজকাল। তপনের উত্তরটা টুকু আর শুনতে পায় না।

০৫.

মতি কাল দেশে যাবে। সকাল থেকেই কাজে মন নেই তার। দিদার শুপারির কথা দোকানে গিয়েও ভুলে গেছে।
ছাদের কাপড়গুলো নিয়ে আয়, মতি। আরতি রান্নাঘর থেকে চেচায়। রেডিওতে পুরোনোদিনের গান বেজে ওঠে। ভলিউম বাড়িয়ে দেয় সে।
আমি তোমার সাথে ছাদে যাই, মতি।
না না মামানি ছাদে যাইতে মানা করছে না, ভাইয়া!
বারান্দায় মোড়াতে তাকে বসিয়ে রেখে ছাদে যায় মতি। টুকুর হাতে একটা চাররঙা বল।

০৬.

তপন বাড়ি ফিয়ে টুকুকে খোঁজে। মতি, আরতি, দিদা সবাই টুকুকে খোঁজে। আরতি ছাদে দৌড়ে যায়। মতির ভয়ে কান্না পায়। টুকু ভাইয়া, ও টুকু ভাইয়া...। ওর পেছন পেছন ছাদে গেলো নাতো ! দিদা চিৎকার করে মতিকে ডাকে, তোকে না বলেছি ওকে চোখে চোখে রাখতে! আমার ঘরের খাটের ওখানটায় দেখতো দেখি।
আরতি চোখ মুছে আর এঘর ওঘর ঘুরে বেড়ায়। তপন ইদরিসের দোকানের দিকে খোঁজে। সতীশবাবু তপনের ফোনে পেয়ে চলে এসেছেন। কাকা, তপনমামার মাথা ঠিক নাই। আমরা অহন কী করুম ?
বারান্দায় এসে দাঁড়ায় আরতি, মা, ও মা ঐ লোকটা নেই এখানে! ঐ আমার টুকুকে নিয়ে গেছে সতীশদা!
শাশুড়ির হাত ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে আরতি।
কে, কে ? সতীশবাবু অবাক হয়ে বলে।
পাগলা, এহানে থাকে।
মতির গালে একচড় বসিয়ে দেয় আরতি , তুই নিশ্চয়ই গেটটা খোলা রেখেছিলি!
মতির কিছুই মনে পড়ছেনা। মতির কষ্ট হচ্ছে।

০৭.

সতীশবাবু টুকুর একটা ছবি নিয়ে থানায় গেছেন। সাথে মতিকে পাঠিয়েছে আরতি। পাগলটার বর্ণনা হয়তো দিতে পারবে সে।

০৮.
সন্ধ্যে হয়ে এলে ঘরে ফেরে তারা। টুকুর খেলনাগুলো চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। আরতি মেঝেতে শুয়ে আছে। আজ পুজো দেয়া হয় নি। পূর্ণিমার আলোয় তার চোখের কোনে বিন্দু বিন্দু মুক্তকণা দেখা যায়।

০৯.

বাড়িতে চুলো জ্বলে নি। মতির ক্ষুধা পায়, তপন মামা, কয়ডা টাকা দেন বিস্কুট খামু।
তপন পান্জাবির পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়ে বলে, তুই কিছু খেয়ে শুয়ে পড়, কাল সকালেতো তুই বাড়ি যাবি।
মামা আমি যামু না মামা, আমি আর বাড়িত যামু না।
রাত গভীর হয়। তপন বারান্দায় বসে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে। মতির হাতে বিস্কুটের প্যাকেট, মামা বিস্কুট খাইবেন ?
মতি, মা কিছু খেয়েছে আজকে ?
উমাদেবীর ক্ষুধা নেই, কোনো ঘুম নেই।
পূর্ণিমার এই রাতে চারিদিকে শুধু আঁধারে ঘেরা।

১০.

গেটে কে যেনো শব্দ করে। মতি চিৎকার করে ওঠে, টুকুভাইয়া , টুকুভাইয়া। মতি দৌড়ে গেট খুলে। জটাধারি লোকটার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে টুকু। বাড়ির সবাই ছুটে আসে সিঁড়ির কাছে। টুকু লোকটার হাত ধরে উপরে উঠতে থাকে। কোথায় ছিলে সারাদিন, বাবা? আরতি ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে।
স্কুলের পাশে একটা মাঠ আছে না, ওখানে খেলতে গিয়েছিলাম, মা।
টুকুর সারা গায়ে ধুলো বালি মাখা। লোকটারো।
এটুকু ছেলেকে নিয়ে তুমি কোথায় গেলে, আমরা খুঁজে খুঁজে হয়রান। খরবদার ওর ধারে কাছেও আসবে না। উমা দেবীর গলা কেঁপে ওঠে।
মা, ভেতরে যাওতো। মতি , ওকে কিছু খেতে দে।
লোকটা নির্বিকারে দাঁড়িয়ে আছে। মতি রান্নাঘরের দিকে যায়।
পানি, একটু পানি... লোকটা মৃদুস্বরে বলে ওঠে।
আরতি গ্লাসে জল ঢালতে গিয়ে শাড়িতে ছলকে পড়ে। লোকটা একপলকে তার দিকেই চেয়ে আছে।

১১.

ছেলেকে বিছানায় রেখে বারান্দায় এসে দাড়ায় আরতি। দোকানের সিঁড়িতে ঘুমিয়ে আছে সে। শিশুর মতো। টুকুর মতোই কুকড়ে গোল হয়ে শুয়ে আছে লোকটা। তপন এসে আরতির কাঁধে হাত রাখে।
শোনো তপন, এই লোকটাকে এখান থেকে তাড়াও। আজ ভালোয় ভালোয় টুকু বাড়ি ফিরেছে। ওকে যদি অন্য কোথাও নিয়ে যেতো ? আরতি আর কিছুই ভাবতে পারে না। এখন এসব ভাবার সময় নয়।

আরতিকে হাত ধরে ঘরে নিয়ে যায়। শিশুরা ঘুমিয়ে থাকলে কী নিষ্পাপ দেখায়, তাই না? আরতি , তুমি কি লোকটাকে চেনো ?

চলবে .....
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:০৫
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×