somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প : শেকড় ৩

১৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৩:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




গল্প : শেকড় : শেষপর্ব

১২

দিদার পাশে চেয়ার টেনে বসে টুকু।
কাল তুই কী করলি ঐ পাগলটার সাথে? উমাদেবী টুকুসোনার গাল টিপে আদর করে।
ছি! পাগল বলছো কেনো, ওতো আমার বন্ধু ! দিদা জানো , মাঠের দুষ্ট ছেলেরা ওকে না ইট ছুঁড়ে মেরেছে। কেনো ওরা এমন করে ?
টুকুকে জড়িয়ে ধরে দিদা , ওরা ভালো নয়। তাই বলে তুমি ওর সাথে কোথাও যেও না, তোমার ঐ বন্ধু সবকিছুই ভুলে গেছে।
ওর ছেলের কথা বললো যে।ওর সবই মনে আছে দিদা তুমি জানোনা।

মতি মনযোগ দিয়ে ওদের কথা শোনে। সতীশকাকা, আমি আর তপনমামা আমরা কতো জাগা খুঁজছি। টুকু ভাইয়া , আপনার ছবি নিয়া আমরা পুলিশের কাছে গেসি।
মতি , তুমি হারিয়ে গেলে তোমাকে আমি খুঁজে বের করবো।
মতি ফিক করে হাসে !

১২

বারান্দায় নতুন একটা ফুলের টব রেখেছে আরতি। আজ থেকে ওখানে টুকুর বল খেলা নিষেধ। বারান্দায় এসে দাঁড়ায় টুকু। লোকটার সাথে কথা বলে।তাদের দুজনের একান্ত কথা। টুকুর শুধু হাসি পায়। সেও মিটিমিটি হাসে। ওদের কথা কেউ বোঝে না। মতিও না।

১৩

টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ে। টুকু বৃষ্টি দেখে। গাছের ডালে দুটো চড়ুইপাখির ডানা ঝাপটানো দেখে। টিপ টিপ থেকে টাপুর টুপুর, তারপর দমকা হাওয়া। টুকুর গায়ে জলের কণা এসে লাগে।বৃষ্টিতে বারান্দা থেকে হাত বাড়িয়ে দেয়। লোকটা বৃষ্টিতে ভিজছে। মতি টুকুকে ঘরে নিয়ে যেতে চায়, ভাইয়া তুফান আইসে ঘরে চলেন, মামানি ডাকে।
লোকটা শীতে কাঁপছে। প্রচণ্ড কাঁপছে। চোখের কাপনে ঠিকমতো টুকুকে দেখতে পায় না। টুকু দৌড়ে ঘরে যায়।
চুলোয় খিচুড়ি চাপিয়েছে আরতি। রহিমা বুয়া আজ আসে নি।
মা, ওকে ঘরে নিয়ে আসি?
কাকে?
ঐ যে আমার বন্ধুকে! ও কাঁপছে।
আরতি কোন কথা বলে না। টুকু কাঁদে, মার শাড়ি ধরে কাঁদে। দিদার কাছাকাছি যায়, দিদা ওকে ঘরে নিয়ে আসো না, ওর শীত লাগছে।
টুকুর গায়ে একটা লাল সোয়েটার পড়িয়ে দিয়ে বললেন, ওকে ঘরে এনো না, টুকু।
দরজায় বেলের শব্দ পেয়ে সিঁড়ির দিকে দৌড়ে যায় টুকু।
আমার বন্ধুকে এখানে নিয়ে আসো না, বাবা। টুকুর চোখে জল টলমল। মতি দরজাটা বন্ধ করে দে। টুকু চিৎকার করে কাঁদে। তপন ছেলের হাত শক্ত করে ধরে ওপরে উঠে যায়। ঝড়ের শব্দ ছাপিয়ে টুকুর কান্নার শব্দ বাড়িময় ঘুরপাক খায়। ক্লান্ত অবশ্রান্ত টুকু একসময় ঘুমিয়ে পড়ে।

১৪

ছোট্ট একটা ফুলের কলি এসেছে নতুন টবে। আজ খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যায় টুকুর। লোকটাকে খোঁজে। কোথাও দেখতে পায় না। রান্নাঘরে এককোণে শুয়ে থাকা মতিকে জাগিয়ে তোলে টুকু। আমার বন্ধুকে দেখেছো? কোথাও দেখি না কেনো ? চোখ মুছতে মুছতে মতি বলে, এতো সকালে উঠসেন কেন, ভাইয়া?
টুকু ওর হাত ধরে বারান্দায় নিয়ে যায়। সিড়ি ঘরে, রাস্তায় , দোকানের আশেপাশে কোথাও দেখা যায় না।
আরতি রান্নাঘরে ঢোকে। চিরতার রস গ্লাসে ঢেলে উমা দেবীর হাতে দেয়। আজ এতো সকালে উঠলে যে, সোনা ? মন খারাপ কেনো ?
আমার বন্ধুকে খুজে পাচ্ছি না কোথাও দিদা।
ইদরিস মিয়া দোকান খোলে। টুকু বলে, এই যে শোনো, ও কোথায় ?
কে, ঐ পাগল? ওরে খোঁজো কেন?
ও আমার বন্ধু, ওকে পাগল বলবে না। টুকু কাঁদে।

১৫

এতো চেঁচামেচি কিসের? তপন আর আরতি বারান্দায় চলে আসে।
ঐ ব্যাডার জন্য কান্দে টুকু ভাইয়া। মতি বলে।
আমার অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে, আমি যাই টুকু, ও এখানেই কোথাও আছে হয়তো। চলে আসবে।
আমার বন্ধু হারিয়ে গেছে খুঁজে আনো, বাবা। মতিকে বলো খুঁজে আনতে। উমাদেবী মতিকে ইশারা করে। টুকু কান্না থামিয়ে দৌড়ে ঘরে যায়।মতির হাতে একটা কাগজ দিয়ে বলে এই নাও আমার বন্ধুর ছবি। তুমি এটা নিয়ে থানায় যাও। আমাকে যেমন খুঁজেছিলে।
টুকুর কাঁচা হাতে আঁকা ছবি জটাধারি ঐ লোকটা , নতুন ফুলের টব, তার একপাশে আরতি আর লাল সোয়েটার পড়া টুকু। আরতি অবাক হয়ে ছেলের মায়াভরা মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকে।

১৬

মতি রাস্তায় নামে। জানেনা তার গন্তব্য ! কোথায় খুঁজবে লোকটাকে? উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায় সে। চৌরাস্তার পাশে একদল লোকের ভিড়। কিসের এতো ভিড়? অন্যসময় হলে দাঁড়িয়ে পড়তো ওখানে। এখন তার সময় নেই। চোখের দুফোঁটা জল গাল গড়িয়ে পড়ে। হাতের কাগজটা শক্ত করে ধরে রাখে মতি।

সমাপ্ত
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১০ ভোর ৬:২৭
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×