somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রান সৃষ্টির রহস্য বিষয়ক একটি গবেষনা এবং আমার ভাবনা

১৪ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্প্রতি একটি গবেষনায় দেখা গিয়েছে প্রানের আদি উপাদান সম্ভবত পৃথিবীর বাহির থেকে এসেছে। খবরটা somewherein এর একটা ব্লগ থেকে পেলাম প্রথমে এবং তার পর সায়েন্স ডেইলির মূল অর্টিকেল থেকেও দেখলাম। স্টার ক্যম্পাসের মাহাদিনকে লিঙ্কটা দেয়ার পর সে খুব উৎসাহের সাথে পরবর্তি কোন একটা সংখ্যায় এটাকে নিয়ে একটা রিপোর্ট করবে বললো। ফলে মনে হলো আরেকটু ঘাটাঘাটি করে দেখি, যদি মাহাদিনকে কোন অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারি, মন্দ কি।

খবরটা আমার চোখে পড়েছিল আরও কিছুদিন আগেই, তবে তখন ঘেটে দেখিনি। ইংল্যান্ডের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়, ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন-এর গবেষনার ফলাফল এটি। ইমপেরিয়ালের ওয়েব পেইজে আমি প্রায় প্রতিদিনই একবার যাই, আমার পি.এইচ.ডি এডমিশনের অগ্রগতি জানার জন্য (অনলানই পোর্টালের মাধ্যমে)। ওদের চমৎকার ওয়েব পেইজের উপরের দিকে প্রতিদিনই কিছু না কিছু খবর থাকে। এই খবরটাও আমি দেখেছিলাম কোন এক সময়। তবে খুব একটা গুরুত্ব দেইনি, সম্ভবত ভর্তি নিয়ে চিন্তার কারনে কে কোথায় কি করছিল সেটার খবর নেয়ার প্রয়োজন বোধ করিনি তখন। এখন ভর্তি হয়ে যাবার পর বেশ উত্তেজনাবোধ করছি। কারন আর্থ সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, অর্থাৎ যে বিভাগ থেকে এই গবেষনা পরিচালিত এবং প্রকাশিত হয়েছে সেটি ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদেরই একটা বিভাগ। আমার এডমিশন হয়েছে ইলেক্ট্রিকাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ফলে প্রতিবেশী বিভাগ বলা যেতে পারে। পাশের রুমের বিজ্ঞানীরা এত বড় আবিষ্কার করে ফেলল, একটু খোঁজ-খবর নেয়ার দরকার আছে বৈকি!

জিতা মার্টিন, যিনি কিনা এই গবেষনার প্রধান ব্যক্তি, তাদের গবেষনার স্বপক্ষে বলেছেন তারা এমন উপাদানের প্রমান পেয়েছেন যা সম্ভবত বাহিরের কোন নক্ষত্র থেকে বিস্ফরনের মাধ্যমে পৃথিবী এবং মঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তিতে এই উপাদানই ডি.এন.এ এবং আর.এন,এ - তথা জীবন তৈরীরর আদি উপাদান সৃষ্টি করেছিল। এ ঘটনা ৩.৮ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে ঘটেছে বলে তাদের ধারনা।

গবেষনার আরেক বিজ্ঞানী, মার্ক সেফটন বিষয়টির আরেকটু গভীরে চিন্তার উপকরন সংযুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, যেহেতু বিস্ফরনের মাধ্যমে এই বিশেষ উপাদান ছড়িয়েছে, এটা অনুমান করে নেয়া যায় যে অন্যান্য গ্রহ-উপগ্রহ যা সৌরজগতের বাহিরে বা অনেক দূরে, তাতেও এই বিশেষ উপাদান পৌছেছে। অতএব প্রানের অস্তিত্ব সৌরজগতের বাহিরে থাকার ধারনা আরো জোরালো হলো।

এই গবেষনার মূল ভিত্তি হচ্ছে ১৯৬৯ সনে অস্ট্রেলিয়াতে পতিত Murchison meteorite নামক উল্কা থেকে প্রাপ্ত রাসায়নিক পদার্থ। তারা গবেষনা করে নিশ্চিত হয়েছেন যে এই পদার্থ পৃথিবীর মাটিতে পতিত হবার পর উল্কাপিন্ডে সংযুক্ত হয়নি বরং আগে থেকেই সংযুক্ত ছিল অর্থাৎ এগুলো মহাকাশ থেকেই এসেছে। তাদের মূল যুক্তি হচ্ছে এই বিশেষ উপাদান (নিউক্লিয়ার বেইজ) গুলো অধিক কার্বনের সমন্বয়ে তৈরী যৌগ ধারন করছিল যা কখনই পৃথিবীতে তৈরী সম্ভব নয়। এধরনের যৌগ কেবল মহাকাশেই তৈরী সম্ভব এবং যেহেতেু এর সাথে মিশে এসেছে এই বিশেষ উপাদানগুলো, অতএব এগুলোও মহাকাশ থেকেই এসেছে।

এ বিষয়ের উপর গবেষনা এখনও চলছে এবং আরো নুতন তথ্য আবিষ্কৃত হবে; সেটাই স্বাভাবিক। ডারউইনের বিবর্তনবাদ এখানে হুমকীর মুখে কিনা সেটা বলার সময় এখনও আসেনি। যদি মেনেও নেই প্রানের আদি রুপ পৃথিবীর বাহির থেকে এসেছে, তবুও প্রানের বেড়ে ওঠা পৃথিবীতেই হয়েছে এবং সেখানে ডারউইনের মতবাদ সফল হতেও পারে। প্রশ্ন করা যেতে পারতো, এককোষী প্রান যদি পৃথিবীতে মানুষ হয়ে উঠতে পারে তবে কেন অন্য গ্রহে পারেনি। তবে যাচ্ছে না, কারন অন্য গ্রহে মানুষ হয়ে উঠেনি এটাই বা আমরা বলি কি করে!

জানার বাকি এখনও আমাদের অনেক দূর। নিউটন তাঁর সময়ে বলেছিল এখনও সে নুড়ি কুড়াচ্ছে সমুদ্রতীরে। মাঝে মাঝে মনে হয় আমরাও কিন্তু খুব বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারিনি। হয়তো নুড়ির ঝুড়িটা একটু ভারী করেছি, তবে এখনও তীরেই আছি।

পবিত্র কোরানের একটা আয়াত দিয়ে শেষ করছি:
And in the alternation of Night and Day, and the fact that Allah sends down Sustenance from the sky, and revives therewith the earth after its death, and in the change of the winds,- are Signs for those that are wise. (chapter - 45 (Al-Jathiyah), verse - 5)

১৪ জুন ২০০৮
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৪:৪৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×