.... তবুও আমি স্বপ্ন দেখি ... (স্বপ্ন, বাস্তব এবং ব্লগের সর্বস্বত্ব ব্লগার কতৃক সংরক্ষিত)

লাইফ ইন ডাবলিন - মাই আ'র্লি ডেইজ

৩০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:১৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

সা. ইনকে আমার একটা পরিবারের মত মনে হয়। সব ব্লগগুলোকে তাই একেএকে এখানে এনে জড়ো করার চেষ্টা করছি। এই পোস্টটিও সে উদ্যোগেরই একটা অংশ। গত ১৯ ডিসেম্বর ২০০৭ ব্লগার-এ লেখা একটা ইংরেজী পোস্টের বাংলা এখানে প্রকাশ করলাম। ডাবলিনের ডায়েরী সিরিজের প্রি-পোস্ট হিসেবে এটাকে গন্য করা যেতে পারে।

১৯ ডিসেম্বর ২০০৭ -এ লেখা
কোথা থেকে শুরু করবো? আজ থেকে, নাকি সেদিন থেকে যেদিন এখানে এসেছিলাম? মাঝে মাঝে আমি দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ি। এটা কি আসলেই আমি যে এখন সম্পূর্ন একাকী থাকছে? এটা কি আমি যে কিনা এখন নিজের খাবার নিজেই তৈরী করছে? (লক্ষ্যনীয় যে আমি সতর্কতার সাথে রান্না শব্দটাকে এড়িয়ে গিয়েছি কারন আমি এখনও রান্না করতে পারি না!) প্রতিদিন আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে দুই পিস পাউরুটিতে জ্যাম লাগিয়ে ঠান্ডা দুধের সাথে কর্নফ্ল্যাক্স নিয়ে বসি। সাথে কখনও কখনও একটা কলাও থাকে। ব্যাস - এই আমার ব্রেকফাস্ট। অথচ আমি দেশে থাকতে ব্রেকফাস্টের নামে কত কী খেতাম! রুটি, ডিম, মাংশ আরও কত কিছু। এখন আমি নিজেকে দেখে নিজেই হাসি। এটা আমি যে এখন রুটি এবং দুধের উপর জীবন কাটাচ্ছি! অথচ এক মাস আগেও আমাকে জোর করে কেউ দুধ খাওয়াতে পারতো না। হায়, এখন আমি খাচ্ছি, খেতে হয়। জীবন সবকিছু বদলে দেয়, কখনও কখনও নিজেকেও!

আমি সাধারনত লাঞ্চ করি না, যদি না আমি লাঞ্চটাই ব্রেকফাস্ট হিসেবে করি। দুই বেলা খাদ্যগ্রহন, আমার প্রতিদিনের পরিকল্পনা। মাঝে মাঝে লাঞ্চে হয়তো বার্গার খাই, ম্যাকডোনাল্ডস অথবা বার্গার কিং থেকে অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফে 'বাটারী' থেকে ছোট এককাপ ভাত এবং থাই চিকেন। আহ! আমি কত কিছু খেতাম লাঞ্চে, আর এখন কি না শুধু বার্গার! রাতে ডিনারে কি খাই? কোল্ড স্যান্ডউইচ। ব্যাস, আমার সারা দিনের খাওয়া শেষ।

একটা কালো রঙের সেক্সি ল্যাপটপ এখন আমার একমাত্র সঙ্গী। প্রতিদিন কিছু মুভি ডাইনলোড করি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যা আমি গভীর রাত পর্যন্ত দেখি। আমার নিজের থিয়েটার। মন্দ কি!

প্রতিদিন যখন আমি বাসায় ফিরে আসি, আমি নিজেকে বলি - "আরেকটা দিন শেষ হলো" এবং হাসি। জানি না, এভাবে আর কতদিন আমি চালিয়ে নিতে পারবো এই জীবন কিন্তু একটা কথা অবশ্যই বলতে হবে, এই একমাসের ডাবলিন জীবনে আমি অনেক কিছু শিখেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে মানুষ না খেয়ে মরে না বরং খেয়েই মরে। আমি রাতের পর রাত খাবার, টাকা এবং মাথার উপরে ছাদ ছাড়া কাটিয়েছি। একটা পুরো সপ্তাহ এক কাপড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লোরে ঘুমিয়ে কাটিয়েছি, যেখানে এক ডিগ্রী ঠান্ডায় নিজেকে ঢাকার জন্য একটা কাঁথাও ছিল না আমার কাছে। তবুও আমি বেঁচে আছি এবং স্টাইলের সাথে! সত্যিই, জীবন সবকিছু বদলে দেয়, কখনও কখনও নিজেকেও!

১৯ ডিসেম্বর ২০০৭
ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড।

সংযুক্ত ছবিতে লিফী নদীর পাড়ে দাড়ানো ডাবলিন নগরীকে দেখা যাচ্ছে।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: ডাবলিনের ডায়েরী  বিভাগে ।

 

  • ১৪ টি মন্তব্য
  • ১৭২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:২২
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: সব কথাই সত্য, একা থাকলে যে কত কি শেখা যায়....
সেক্সি ল্যাপটপ টা কেমন আছে? :)
৩০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:২৪

লেখক বলেছেন: মাহশাল্লাহ! এখনও সে ভালই সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। :)

২. ৩০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৪৮
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: চমৎকার।:)
ভালো লাগল।
ভালো থাকুন।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:২৭

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনিও ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

৩. ৩০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৪৬
comment by: েক আিম বলেছেন: আজ গালিবের (বাকের স্যার তোমাদের) সাথে তোমাকে নিয়ে কথা হচ্ছিল। তোমার খুব সুনাম করল আর আমি করলাম গর্ব।

এখন আমি বাংলাদেশে : বোনের মেরেজ ডে উপলক্ষে আসা।

ভালো থেক।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:২৭

লেখক বলেছেন: এ্য....! আপনি কি আদনান ভাইয়া?

৪. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১:১৬
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: জীবন সবকিছু বদলে দেয়, কখনও কখনও নিজেকেও।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:২৮

লেখক বলেছেন: আসলেই। মাঝে মাঝে নিজেকে দেখে অবাক হই।

৫. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১:২৫
comment by: একরামুল হক শামীম বলেছেন: জীবন সবকিছু বদলে দেয়, কখনও কখনও নিজেকেও!
চরম সত্যি কথা।
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:২৮

লেখক বলেছেন: সত্যটাকে এখন উপলব্ধিও করছি :)

৬. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৪৩
comment by: শিবলী বলেছেন: আচ্ছা, কাপড় চোপড় ধোবার ব্যাবস্তা কি?
দুনিয়ায় এই কাজটাই আমি ভালমত এবং আগ্রহ নিয়ে করতে পারি না
:(
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৩০

লেখক বলেছেন: এটাই একমাত্র সহজ কাজ :). ওয়াসিং মেশিন-এ দেই, ধোয়া হয়ে যায়। ড্রায়ারে দেই, শুকিয়ে যায়। স্ট্যান্ডে হ্যাঙ্গার দিয়ে ঝুলিয়ে দেই, অটো আয়রনিং হয়ে যায় :)

৭. ০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৪৬
comment by: েক আিম বলেছেন: নাহ শান্ত আমি আদনান না। তবে তোমার আন্দাজটা অনেক সুক্ষ ছিলো।

বুদ্ধিমান তুমি।
০৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৩৩

লেখক বলেছেন: এ্যা....! তাহলে কে???

 



 


আমি নিয়াজ, একজন খুব সাধারন মানুষ যার রয়েছে অসাধারন কিছু রঙ্গিন স্বপ্ন। আমি গর্ববোধ করি আমার বাঙালী এবং বাংলাদেশী পরিচয়ে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩০৭৮৪