somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নোয়িং - অপূর্ব এক সায়েন্স ফিকশন

৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিকোলাস কেইজ অভিনিত নোয়িং বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে গত ২০ মার্চ। শুরুতে স্বল্পপরিসরে মুক্তি দেয়া হলেও মুভিটা ক্রমেই দর্শক জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিয়েছে। ব্লকবাস্টার মুভিগুলোর মত নোয়িং-এর মুক্তিপূর্ব প্রচারনা ততটা ব্যাপক ছিলনা। তবে যতই সময় যাচ্ছে, ছবিটার কাটতি ততই বাড়ছে। মজার ব্যাপার, ছবিটা এ্যামেরিকান মুভি হলেও হলিউড চলচিত্র নয়। নোয়িং-এর পুরো শুটিং হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্টুডিও এবং লোকেশনে।

নোয়িং-এর কাহিনীর সূচনা হয় ১৯৫৯ সনে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসুচুসেটে। উইলিয়াম ডয়েজ এলিমেন্টারী স্কুল নামের একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা হয় সে বছর যারা পরিকল্পনা করে সেই স্কুলের ছাত্র এবং শিক্ষকদের থেকে পঞ্চাশ বছর পর পৃথিবীর রুপ কেমন হবে, সেটার একটা ধারনা ভবিষ্যতের জন্য রেখে যেতে। একটা টাইমক্যাপসুলে তারা বিভিন্ন জনের মতামত ছবির আকারে বন্দি করে মাটিতে গেঁথে রাখে পঞ্চাশ বছর। টাইম ম্যাসেজগুলোর মধ্যে সবগুলো ছবি থাকলেও একটা ম্যাসেজ ছিল ব্যাতিক্রম। লুসিন্ডা নামের একটা মানসিকভাবে অসুস্থ মেয়ে কিছু এলোমেলো সংখ্যা লিখে জমা দিয়েছিল যা আপাত দৃষ্টিতে অর্থহীনই মনে হচ্ছিল।

পঞ্চাশ বছর পরের ঘটনা। ২০০৯ সনে ম্যাসুচুসেট ইন্সটিটিউট অব টেকনলোজী তথা এ্যাম.আই.টি-তে শিক্ষকতা করেন প্রফেসার জন কেসলার। কেসলার তার ছাত্রদের বলতেন যে পৃথিবী সূর্যের ঠিক এমন একটা দূরত্বে অবস্থান করছে যেখানে প্রান সৃষ্টি সম্ভব। এর থেকে দূরে বা কাছে গেলে সেটা সম্ভব হতো না। সৃষ্টির আলোচনায় দুটো গুরুত্বপূর্ন ধারনা রয়েছে। একধনেরর মানুষ বিশ্বাস করে এই সৃষ্টি এমনি এমনি হয়নি বরং সৃষ্টির পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কারন। আরেক ধরনের মানুষ থিউরী অব র‌্যান্ডমনেসে বিশ্বাসী। তারা মনে করে এই সৃষ্টি একটা ক্যামিকেল এক্সিডেন্ট এবং বায়োলোজিকাল মিউটেশনের ফল। এখানে প্রান সৃষ্টি নিতান্তই কাকতালিয় এবং অর্থহীন। কেসলার ছিলেন দ্বিতীয় ধারনায় বিশ্বাসী।

প্রফেসার কেসলারের ছেলে ক্যাইলেব কালক্রমে পড়তে যায় উইলিয়াম ডয়েজ এলিমেন্টারী স্কুলে। যেদিন টাইমক্যাপসুল পুনরায় খোলা হয়, সেদিন লুসিন্ডার টাইম ম্যাসেজটি ক্যাইলেবের হাতে পড়ে যা সে বাড়ি নিয়ে আসলে তার বাবা প্রফেসার কেসলারের নজরে আসে। ধীরেধীরে কেসলার সেই আপাত অর্থহীন টাইম ম্যাসেজ থেকে পেতে থাকে আসাধারন কিছু ভবিষ্যতবানী। লুসিন্ডা সেই এলোমেলো সংখ্যাগুলোর মাঝে লিখে দিয়ে যায় পরবর্তি পঞ্চাশ বছরে পৃথিবীর কোথায় কোথায় এবং কবে কবে বড় ধরনের দূর্ঘটনাগুলো ঘটবে; সাথে সে দূর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা কত হবে সেটাও। কেসলারের হাতে যখন ম্যাসেজটি এসে পৌছায় তখনও তাতে তিনটা ঘটনা ঘটার বাকি ছিল। কেসলার সেই ঘটনাগুলোর পেছনে তাড়া করতে শুরু করে এবং ক্রমেই ঘটনা মোড় নিতে থাকে এমন এক দিকে যা কেসলারের বিশ্বাসের ভীতটাকে নাড়া দিতে শুরু করে চরম ভাবে।

অস্ট্রেলিয়ান পরিচালক এ্যলেক্স প্রোয়াস ছবিটার অধিকাংশ স্যূটিং করেছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রিয়েল স্পটে। যে স্কুলটা দেখানো হয়েছে সেটা মেলবোর্নের ক্যাম্বারওয়েল হাইস্কুল। তাছাড়া মেলবোর্ন মিউজিয়াম, অস্ট্রেলিয়ান সিনকোট্রন এবং মেলবোর্ন সেন্ট্রাল সিটি স্টুডিওতে ইনডোর স্যূটিংগুলো হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির যে দৃশ্য দেখানো হয়েছে, সেগুলোও আসলে অস্ট্রেলিয়াতে স্যূট করা। মুভিটায় একটা প্লেন ক্র্যাসের দৃশ্য রয়েছে যেটা খুব সহজেই কম্পিউটার গ্রাফিক্স দিয়ে করে ফেলা সম্ভব ছিল। কিন্ত পরিচাল এ্যালেক্সের মতে সেটা দর্শকরের চিত্তকে ছুঁয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। সেজন্য সেই দৃশ্যটি বাস্তব লোকেশনে স্যুট করে তাতে পরবর্তিতে স্পেশাল ইফেক্ট যোগ করা হয়েছে। ফলে দৃশ্যটি ফুটে উঠেছে অসাধারন ভাবে। কয়েক মিনিটের এই দৃশ্য ধারনের পূর্বে দুইদিন লেগেছে সেট তৈরী করতে এবং পরবর্তিতে আরো দুইদিন টানা স্যূটিং শেষে দৃশ্যটা চূড়ান্ত হয়। এ বিষয়ে এ্যালেক্স মিডিয়াকে বলেছে, "I did that specifically to not let the artifice of visual effects and all the cuts and stuff we can do, get in the way of the emotion of the scene." ।

নোয়িং যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় মুক্তির প্রথম উইকএন্ডে অসাধারন ব্যবসা করে $24,604,751 আয় করে নেয় যা উত্তর আমেরিকায় ছবিটিকে বক্স অফিসের এক নাম্বার অবস্থানে বসিয়ে দেয়। কালক্রমে ছবিটা আন্তর্জাতিক বক্সঅফিসেও শীর্ষস্থান দখল করে নেয় এবং যুক্তরাজ্যেও বর্তমানে সেরা ছবি হিসেবে প্রক্ষাগৃহ সমূহে চলছে। ব্যাক্তিগত ভাবে আমার ছবিটা অসাধারন লেগেছে এবং মুক্তির প্রথম দিনে সহ হলে গিয়ে তিনবার দেখা হয়ে গিয়েছে! ক্রিটিক্সরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিলেও বিনোদনের জন্য যারা মুভি দেখে থাকেন, তাদের মনকে ভরিয়ে দেবে নিঃসন্দেহে। পরিছন্ন এবং পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে দেখার মত একটা ছবি নোয়িং।

৩১ মার্চ ২০০৯
ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড।

মুভি ট্রেইলার
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:১১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×