নোয়িং-এর কাহিনীর সূচনা হয় ১৯৫৯ সনে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসুচুসেটে। উইলিয়াম ডয়েজ এলিমেন্টারী স্কুল নামের একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা হয় সে বছর যারা পরিকল্পনা করে সেই স্কুলের ছাত্র এবং শিক্ষকদের থেকে পঞ্চাশ বছর পর পৃথিবীর রুপ কেমন হবে, সেটার একটা ধারনা ভবিষ্যতের জন্য রেখে যেতে। একটা টাইমক্যাপসুলে তারা বিভিন্ন জনের মতামত ছবির আকারে বন্দি করে মাটিতে গেঁথে রাখে পঞ্চাশ বছর। টাইম ম্যাসেজগুলোর মধ্যে সবগুলো ছবি থাকলেও একটা ম্যাসেজ ছিল ব্যাতিক্রম। লুসিন্ডা নামের একটা মানসিকভাবে অসুস্থ মেয়ে কিছু এলোমেলো সংখ্যা লিখে জমা দিয়েছিল যা আপাত দৃষ্টিতে অর্থহীনই মনে হচ্ছিল।
পঞ্চাশ বছর পরের ঘটনা। ২০০৯ সনে ম্যাসুচুসেট ইন্সটিটিউট অব টেকনলোজী তথা এ্যাম.আই.টি-তে শিক্ষকতা করেন প্রফেসার জন কেসলার। কেসলার তার ছাত্রদের বলতেন যে পৃথিবী সূর্যের ঠিক এমন একটা দূরত্বে অবস্থান করছে যেখানে প্রান সৃষ্টি সম্ভব। এর থেকে দূরে বা কাছে গেলে সেটা সম্ভব হতো না। সৃষ্টির আলোচনায় দুটো গুরুত্বপূর্ন ধারনা রয়েছে। একধনেরর মানুষ বিশ্বাস করে এই সৃষ্টি এমনি এমনি হয়নি বরং সৃষ্টির পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কারন। আরেক ধরনের মানুষ থিউরী অব র্যান্ডমনেসে বিশ্বাসী। তারা মনে করে এই সৃষ্টি একটা ক্যামিকেল এক্সিডেন্ট এবং বায়োলোজিকাল মিউটেশনের ফল। এখানে প্রান সৃষ্টি নিতান্তই কাকতালিয় এবং অর্থহীন। কেসলার ছিলেন দ্বিতীয় ধারনায় বিশ্বাসী।
প্রফেসার কেসলারের ছেলে ক্যাইলেব কালক্রমে পড়তে যায় উইলিয়াম ডয়েজ এলিমেন্টারী স্কুলে। যেদিন টাইমক্যাপসুল পুনরায় খোলা হয়, সেদিন লুসিন্ডার টাইম ম্যাসেজটি ক্যাইলেবের হাতে পড়ে যা সে বাড়ি নিয়ে আসলে তার বাবা প্রফেসার কেসলারের নজরে আসে। ধীরেধীরে কেসলার সেই আপাত অর্থহীন টাইম ম্যাসেজ থেকে পেতে থাকে আসাধারন কিছু ভবিষ্যতবানী। লুসিন্ডা সেই এলোমেলো সংখ্যাগুলোর মাঝে লিখে দিয়ে যায় পরবর্তি পঞ্চাশ বছরে পৃথিবীর কোথায় কোথায় এবং কবে কবে বড় ধরনের দূর্ঘটনাগুলো ঘটবে; সাথে সে দূর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা কত হবে সেটাও। কেসলারের হাতে যখন ম্যাসেজটি এসে পৌছায় তখনও তাতে তিনটা ঘটনা ঘটার বাকি ছিল। কেসলার সেই ঘটনাগুলোর পেছনে তাড়া করতে শুরু করে এবং ক্রমেই ঘটনা মোড় নিতে থাকে এমন এক দিকে যা কেসলারের বিশ্বাসের ভীতটাকে নাড়া দিতে শুরু করে চরম ভাবে।
অস্ট্রেলিয়ান পরিচালক এ্যলেক্স প্রোয়াস ছবিটার অধিকাংশ স্যূটিং করেছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রিয়েল স্পটে। যে স্কুলটা দেখানো হয়েছে সেটা মেলবোর্নের ক্যাম্বারওয়েল হাইস্কুল। তাছাড়া মেলবোর্ন মিউজিয়াম, অস্ট্রেলিয়ান সিনকোট্রন এবং মেলবোর্ন সেন্ট্রাল সিটি স্টুডিওতে ইনডোর স্যূটিংগুলো হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির যে দৃশ্য দেখানো হয়েছে, সেগুলোও আসলে অস্ট্রেলিয়াতে স্যূট করা। মুভিটায় একটা প্লেন ক্র্যাসের দৃশ্য রয়েছে যেটা খুব সহজেই কম্পিউটার গ্রাফিক্স দিয়ে করে ফেলা সম্ভব ছিল। কিন্ত পরিচাল এ্যালেক্সের মতে সেটা দর্শকরের চিত্তকে ছুঁয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। সেজন্য সেই দৃশ্যটি বাস্তব লোকেশনে স্যুট করে তাতে পরবর্তিতে স্পেশাল ইফেক্ট যোগ করা হয়েছে। ফলে দৃশ্যটি ফুটে উঠেছে অসাধারন ভাবে। কয়েক মিনিটের এই দৃশ্য ধারনের পূর্বে দুইদিন লেগেছে সেট তৈরী করতে এবং পরবর্তিতে আরো দুইদিন টানা স্যূটিং শেষে দৃশ্যটা চূড়ান্ত হয়। এ বিষয়ে এ্যালেক্স মিডিয়াকে বলেছে, "I did that specifically to not let the artifice of visual effects and all the cuts and stuff we can do, get in the way of the emotion of the scene." ।
নোয়িং যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় মুক্তির প্রথম উইকএন্ডে অসাধারন ব্যবসা করে $24,604,751 আয় করে নেয় যা উত্তর আমেরিকায় ছবিটিকে বক্স অফিসের এক নাম্বার অবস্থানে বসিয়ে দেয়। কালক্রমে ছবিটা আন্তর্জাতিক বক্সঅফিসেও শীর্ষস্থান দখল করে নেয় এবং যুক্তরাজ্যেও বর্তমানে সেরা ছবি হিসেবে প্রক্ষাগৃহ সমূহে চলছে। ব্যাক্তিগত ভাবে আমার ছবিটা অসাধারন লেগেছে এবং মুক্তির প্রথম দিনে সহ হলে গিয়ে তিনবার দেখা হয়ে গিয়েছে! ক্রিটিক্সরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিলেও বিনোদনের জন্য যারা মুভি দেখে থাকেন, তাদের মনকে ভরিয়ে দেবে নিঃসন্দেহে। পরিছন্ন এবং পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে দেখার মত একটা ছবি নোয়িং।
৩১ মার্চ ২০০৯
ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড।
মুভি ট্রেইলার
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



