এই ধরনের কুচক্র প্রতিটি দেশেই অত্যন্ত তত্পর। এমনকি এদের শক্তি এতটা বেশি যে, এরা থেকে যায় পর্দার আড়ালে এবং ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এদের দ্বারা সাধিত ক্ষতির কোন ক্ষতিপূরণ নেই! এরা যত তাড়াতাড়ি নিশ্চিহ্ন হবে, পৃথিবীর জন্য ততই মঙ্গল। যা হোক, অন্তত একটি পার্টিতো গ্রেপ্তার হলো। নিচের রিপোর্টে বিস্তারিত:
ইয়াবা খেয়ে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হচ্ছে তরুণ-তরুণীরা
লন্ডন ফেরত তরুণীর স্বীকারোক্তি
বিকৃত যৌনাচার ও মাদকের লাভজনক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানরা। তাদের রয়েছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের কৌশলে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করিয়ে তাদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হয়। এ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিলাসবহুল বিএমডাবলিউ ও পোরশে মডেলের দুটি গাড়ি এবং বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক মাদকদ্রব্য। গ্রেফতারকৃতরা হলো দাই খান বীর ওরফে চিকু (৩২), মুশফিকুর রহমান ওরফে তমাল (৩৪), শেখ আহেদ শফিক (৩৩), সালমান রহিম জোয়ার্দার (২৮), আলতাফ আকমল কল্লোল (৩৩), ও মাহমুদ আল জুয়োরি ওরফে শ্যানন (১৯)। এদের গ্রেফতারের পর বিকৃত যৌনাচারের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে ভুক্তভোগী দুই তরুণীর জবানিতে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে র্যাব হেডকোয়ার্টারে প্রেস ব্রিফিংকালে এ চক্রের খপ্পরে পড়া দুই তরুণী তাদের ওপর বিকৃত যৌনাচার চালানোর নির্মম অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন।
লন্ডনে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে এ চক্রের ফাদে পড়া এক তরুণী জানান, কিছুদিন আগে লন্ডন থেকে দেশে এসে রিক্রিয়েশনের কোনো সুযোগ পাচ্ছিলেন না। পরে তার সঙ্গে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন তরুণীর পরিচয় হয়। তারা বেশির ভাগই মাদকাসক্ত। এভাবে সে নিজেও ওই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। চক্রের সদস্যরা তাকে দামি গাড়ি দিয়ে লং ড্রাইভে ঘুরতে নিয়ে যেতো। মাদকাসক্ত ছাত্রীদের সঙ্গে চক্রের সদস্যদের পরিচয় হওয়ার পর তাদের ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে বলা হয় এসব ট্যাবলেট খেলে আনন্দ-ফুর্তিতে থাকা যায়। এরপর তারা অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট খাওয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে অন্য বান্ধবীদের উৎসাহিত করে। এভাবে তারা জড়িয়ে পড়ে বিকৃত যৌনাচারে। এসব বিষয় পরিবারের সদস্যরা জানার পর তাদের এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে তারা মৃত্যুর হুমকি দিতো। উত্তরা, বনানী, গুলশান এলাকার অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা তাদের খপ্পরে পড়ে মাদকাসক্ত হয়েছে।
র্যাব জানায়, তাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আসছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তারা গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। অবশেষে বুধবার রাত ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত গুলশান ও বানানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সাদা রঙের একটি বিএমডাবলিউ (ঢাকা মেট্রো-১১-১১৩০) ও পোরশে গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ভ-১১-১১৩০) ছাড়াও ১৬টি ইয়াবা ট্যাবলেট, পাচটি মোবাইল সেট, পাচ বোতল ফেনসিডিল, ২৪টি পর্নো সিডি, বিকৃত যৌন আনন্দের উপাদান (সেক্স হ্যান্ডকাফ, অ্যানাল অ্যারাইসার, সেক্স গিয়ার, সেক্স স্টাইপ ফর ফিমেল), যৌন উত্তেজনা বর্ধক জেলি ও লিকুইড, পর্নো সারভেইল্যান্স বই, হেরোইন, গাজা খাওয়ার সরঞ্জামাদি, বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করে, গাড়ি দুটির মালিক আলতাফ আকমল কল্লোল। সে শরীফ রিয়াল এস্টেট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলে তারা সাংবাদিকদের জানায়। র্যাবের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা রয়েছে। তাদের অফিসেই তারা বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হয়। চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কলেজে গিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে। তাদের দামি গাড়ি দিয়ে লং ড্রাইভে নিয়ে যায়। ধীরে ধীরে তাদের মাদকাসক্ত করে তুলে। পরে বিকৃত যৌনাচারের দৃশ্য ভিডিও করে ফিল্ম বানিয়ে তা বাজারজাতও করে এ চক্রটি। এ চক্রের সঙ্গে কতো সদস্য জড়িত রয়েছে তা খুজে বের করার চেষ্টা করছে র্যাব। এরই মধ্যে তারা অনেকের নাম জানতে পেরেছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ঊর্ধ্বতন এক র্যাব কর্মকর্তা জানান।
রিপোর্টার: দেব দুলাল মিত্র
দৈনিক যায়যায়দিন
১৯ অক্টোবর ২০০৭।
পুনশ্চ: এই ধরণের চক্র সম্পর্কে আপনার ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়ে রাখুন। যে বিপদ আজ অন্যের, কাল যে সেটি আমার-আপনার হবে না, এ কথা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবেন কি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


