somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকারের হিযাবনীতি : বালিকা তুমি বে-আবরু হও

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকার নিয়ে সাধারণের উৎকণ্ঠার বুঝি দাঁড়ি নেই। অনবরত শঙ্কায় উদ্বিগ্ন সময় পাড় করছেন জনতা। ভিমরতি বলতে যেমনটা বোঝায় সেটিই যেনো পেয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রÑ সরকারকে। সরকারের কাছে ‘নিরুপদ্রব জীবনের নিশ্চয়তার’ চেয়ে এখন এই অনবরত শঙ্কার কুকুর সামলানোই জনতার কামনা হয়ে দেখা দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, খাদ্য, জীবনমান এইসব না চেয়ে মানুষ এখন চায় সরকার যেনো সাক্ষাৎ উপদ্রব না হয় তাদের জীবনের। বলছিলেন এক নাগরিক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরকা পরা নিয়ে সরকারের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের খবরে এমনই প্রতিক্রিয়া তার।
আদালতের নির্দেশে সরকারের শিক্ষামন্ত্রী (নুরুল ইসলাম নাহিদ) জানিয়েছেন, ছাত্রীদের বোরকা পরতে বাধ্য করা যাবে না। শিক্ষামন্ত্রীর এই ‘বাধ্য’র তরজমা কিন্তু খুব পরিষ্কার। কোনো ছাত্রীকেই আপনি বলতে পারবেন না বোরকা পরতে। বলতে পারবেন না, মেয়ে তুমি নিজেকে একটু সেইফে রাখো। বললেই নিধিরাম সরদার হাজির হবেন! আপনি ছাত্রীকে বোরকা পরতে ‘বাধ্য’ করেছেন বলে। আর এই নিধিরাম সরদারের ডাল-তলোয়ার দুই-ই আছে। তিনি আপনাকে শায়েস্তা করার ক্ষমতা রাখবেন; দরকার হলে থানা হাজত দেখাতে পারেন, কিংবা দেখাবেন। বোরকা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের খোলাসা মোটামুটি এমনই।
সহমত ও বিপত্তি
আদালত যে বিষয়টি সামনে রেখে এই নির্দেশনা জারি করেছেন, তার সাথে অসংকোচে সহমত পোষণ করছি। কারণ বোরকা একটি পোশাক শুধু নয়, সে ধর্মীয় চি‎হ্ন। তাই ধর্মনির্দেশক এই পোশাক অন্যধর্মের কাউকে পরতে বাধ্য তো দূরের, বলারও কোনো যৌক্তি থাকতে পারে না। এইটুকুতে আদালত বা শিক্ষামন্ত্রণালয় স্থির থাকলে আমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন তাদের সঙ্গী হত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু না, শিক্ষামন্ত্রণালয় তার এখতিয়ারের বাইরে পা বাড়ালো। যা শুধু অযৌক্তিক এমন না, অনৈতিকও। কারণ শিক্ষামন্ত্রণালয়কে এই অথরোটি দেয়া হয়নি যে Ñ সে সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে। কোনোভাবেই এর যৌক্তি দাঁড় করানো যাবে না। কিন্তু এই কাজটিই করেছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। ভাবা যায়! কাজটি যদি অন্য কোনো মন্ত্রণালয় করতো, তবে এই ভেবে হয়তো সহ্য করা যেতো যে, তার আরও শিক্ষার দরকার আছে। কিন্তু বাস্তবতায় নির্বাক বোধ সত্যিই যন্ত্রণায়। এখন কি তবে ভাবার দরকার হলো, শিক্ষামন্ত্রণালয়টি কাদের দখলে পড়েছে।
লেজ হারানো শেয়ালের কিচ্ছেটি পুরোনো। অন্য একটি গল্পও এর আদলে করা যেতে পারে। একজন লোক হঠাৎ করেই পোশাক পরা কিছু লোকের মুখোমুখি হয়ে পড়লো। তার কিন্তু পোশাক নেই। যা হবার হলো। সে প্রথমে নিজের চোখটি বন্ধ করে বাঁচার চেষ্টা করলো। বাঁচা গেলো কী? কাজ তো হতো যারা তাকে দেখছে তারাও যদি চোখ বন্ধ করে দিতো অথবা অন্ধ হতো। কিন্তু সেটি তো হবার নয়। তো কী করা? শেয়ালের বুদ্ধিটি তার অজানা নয়। সে প্রস্তাব করলো, তার মতো হয়ে যেতে। এতে অবশ্যই সমস্যা চুকে যায়। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ‘লজ্জার’ও কি তবে শেয়ালের বুদ্ধির দরকার পড়ে গেলো! পাশের পোশাকটিকে তার অস্বস্তি মনে হচ্ছে।
বে- আবরু : ফ্রান্স তরিকা
পোশাকের এই ‘অস্বস্তিটা’ পেয়েছিলো ক্রমশ পোশাক শূন্য হওয়া ফ্রান্সকেও। সে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে। ঐ সময়ে ফ্রান্স পোশাকে এখনের মতো এতোটা সাশ্রয়ী (!) হয়নি। তবুও সরকারের তরফে পরামর্শ আকারে বলা হয়, স্কুলে ছাত্রীরা যেনো ধর্মীয় নিদর্শনবাহী কোনো পোশাক ব্যবহার না করে। ’৩৭-এ ধর্মীয় পোশাকের ব্যাপারে পরামর্শ থাকলেও ১৯৮৯ সালেই এটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। স্কার্ফ পরার কারণে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয় তিনটি মেয়েকে। আদালত পর্যন্ত পৌঁছে এই বিষয়টি। আদালত একে ‘লাইসিতে’র (ধর্মনিরপেক্ষতার) বিরোধী বলে রায় দেয়। এভাবে সময় ও জল Ñ গড়িয়েছে দুই। কিন্তু এতটুকু ক্ষান্ত হয়নি ফ্রান্স। ধীরে ধীরে বে-আবরুকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের (২০১০) ১৩ জুলাই ফ্রান্স পাকাপাকি আইন করেছে, জনসমক্ষে বোরকা পড়া যাবে না। কেনো যাবে না, এ নিয়ে বিস্তর তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। কোনো কিছুতেই কিছু হয়নি। ১৯৩৭-এর পরামর্শই ২০১০-এ এসে আইন হলো, ধর্মীয় পোশাক নিষিদ্ধ। জনসমক্ষে বোরকা পরার অধিকার নেই নাগরিকের। ’৩৭-’১০ এই সময়ে হিযাবের জন্যে ফ্রান্সে মুসলমানদের অব্যাহতভাবে অপমান আর ঘৃণা সইতে হয়েছে। বের করে দেয়া হয়েছে স্কুল থেকে। শিকার হয়েছে বর্ণবাদের। হামলার। হয়েছে হিযাবের জন্য আদালতে বিচার চাওয়া অবস্থায় আসামির হাতে খুনও। মারওয়া, সেই মারওয়াকে মনে আছে আমাদের। আদালতে যার ছোট্ট মেয়েটিকে আছাড় মেরে ফেলে দেয়া হয়েছিলো। ছুরি মারা হয়েছিলো অন্তঃসত্তা যে নারীকে। এই ভাবে, এই হিযাব নিয়ে ফ্রান্স বরাবরই শিরোনাম হয়। এ পর্যন্ত হিযাব নিয়ে যত অঘটন ঘটানো হয়েছে তার সিংসভাগের কৃতিত্বই ফ্রান্সের। কেনো, ফ্রান্সে হিযাব এতোটা আক্রান্ত কেনো। পোশাকে সাশ্রয়ীদের চেয়ে হিযাব ব্যবহারকারির সংখ্যা কি তবে ওখানে বেশি! মোটেই না। সংখ্যাটি নিতান্তই গৌণ। একটি হিশেব বলছে, মাত্র দুহাজার নারী সেখানে হিযাব ব্যবহার করেন! এই দু’হাজার মানুষ নিয়ে পুরো ফ্রান্স যেভাবে ব্যতিব্যস্ত তাতে অনেকের বিস্ময়-জিজ্ঞাসা থাকতেই পারে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, দু’ হাজার তো অনেক বড় সংখ্যা, দু’জন নারীও যদি ফ্রান্সে হিযাব ব্যবহার করতেন তবুও পুরো ফ্রান্স তাদের এই হিযাব নিষিদ্ধ করতে লেগে যেত!
ফ্রান্সের হিযাব-ভীতি : কাহিনী কী
কাহিনী হয়তো কিছুই না। সেই গল্পটিই এখানে মূর্ত। ন্যাংটো তার পাশে নিজের মতো একজনই দেখতে চাইবে। না হয় তার খুত খুত লাগবে। গা ছমছম করবে। অস্বস্তি বাড়বে। পুরো ফ্রান্স যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে, পোশাকে সাশ্রয়ী হচ্ছে মেয়েরা, তেষ্ণা মেটাচ্ছে পুরুষচোখের, সেখানে কিছু সৌন্দর্য নিজেকে আড়াল করে রাখবে, এটা কতক্ষণ যহ্য করা যায়! সুতরাং, বালিকা তুমি বে-আবরু হও। তা ছাড়া অন্য মেয়েরা যেখানে তাদের ‘অধিকার’ আদায় করে ফ্রান্সকে উঁচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে আর এরা কিনা কাপড়ে মোড়ে রাখছে নিজেদেরকে। কাজে লাগাচ্ছে না যোগ্যতাকে। (কাপড় খুলতে পারাইটাই এখন সবচে বড় যোগ্যতা)। বঞ্চিত করছে। পুরুষ দায়িত্ব বলে তো একটা কথা আছে। সেই পুরুষরাই এখানে দায়িত্ব নিয়েছেন! তো আমরা আর খোঁজ করে এর চে’ অতিরিক্ত কী পাবো।
তবুও যদি বিশ্লেষণে যান, দেখবেন পুরো বিষয়টির সাথে জড়িয়ে আছে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্ধেষ। জড়িয়ে আছে অপপ্রচার ও অন্ধ ক্রোধ। হিযাব এককভাবে মুসলমান নারীদের পোশাক হওয়ায় ইসলামবিদ্ধেষীরা একে যুথসইভাবে অপপ্রচারের টার্গেট করেছে। যেমনটা পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে হচ্ছে অনেক জায়গায়। (ধারণা করি, সেদিন দূরে নয় যেদিন পাঞ্জাবিরও হিযাবের কপাল হবে)। তারা বলে বেড়াচ্ছে হিযাব জঙ্গি, সন্ত্রাসীদের চি‎‎হ্ন। ফ্রান্সে হিযাব নিষিদ্ধ করার জন্যে যে কমিশন গঠন হয়েছিলো, তার প্রতিবেদক রেমি সোয়ার্ডস মজার তথ্য দিয়েছেন! তিনি বলেছেন, “হিযাব এখন ইসলামি হুমকির একটি চিহ্ন। আমরা যার (হিযাব) মুখোমুখি তা বিশ্বব্যাপী ইহুদিবিদ্ধেষেরও দৃষ্টান্ত। সুতরাং অবশ্যই একে রুখতে হবে।” যুক্তি, ফ্রান্স উদার মূল্যবোধের ধর্মনিরপেক্ষ একটি রাষ্ট্র। এখানে ইহুদি ধর্মের প্রতি স্পষ্ট বিদ্ধেষের চিহ্ন নিয়ে চলাফেরার সুযোগ দেয়া যায় না। এটা ফ্রান্সের মূল্যবোধপরিপন্থী। আর একে রক্ষা করতে ইসলামধর্মের প্রধানতম একটি বিষয়কে হত্যা করতে কিন্তু ফ্রান্সের ‘উদার মূল্যবোধে’ মোটেই বাধেনি।
ফ্রান্সের পথে বাংলাদেশ
ফ্রান্স নিয়ে এতো কথা বললাম, বাংলাদেশে হিযাবের ভবিষ্যৎ দেখতে। কারণ ফ্রান্সে হিযারে বিরুদ্ধে শুরুতেই কোনো আইন হয়নি। প্রথমে একটি প্রস্তাবনা (পরামর্শ) পেশ করা হয়েছে। এর ৭৩ বছর পর হিযাব নিষিদ্ধ করে পাকাপাকি আইন হয়েছে।
বাংলাদেশেও এই সরকারের আগে কোনো সরকার হিযাব নিয়ে নির্দেশনা দেয়নি। কারণ বাংলাদেশের সত্তা থেকে হিযাবকে আলাদা করে ভাবেনি কোনো সরকারই। এবারই প্রথম, সরকার নির্দেশনা জারি করলো হিযাব নিয়ে। শিক্ষামন্ত্রণালয় রীতিমত পরিপত্র জারি করেছে। এবং সেটি সব প্রতিষ্ঠানে পাঠানোও হয়েছে। তবে কি ফ্রান্সের ভূত হাজির হয়েছে এখানেও। ‘হিযাবের গায়ের’ ইহুদিবিদ্ধেষ এরাও দিব্যি চোখে দেখতে পাচ্ছে? আবিষ্কার করেছে ইসলামি হুমকির নিদর্শন? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও কিছু সময় দিতে হবে। আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে, এদেশের ‘হিযাববিশেষজ্ঞরা’ও রেমি সোয়ার্ডস এর তথ্যটিই তাদের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করবেন। তবে প্রশ্ন হলো, ৭৩ বছর না তারও আগে সেই রিপোর্টটি আমরা হাতে পাবো।
এই লেখা যখন তৈরি হচ্ছে তখন একজন পরমর্শ দিলেন, সরকারের নেয়া ‘ইভটিজিং’ প্রতিরোধ কর্মসূচিটি এখানে এনে আচ্ছা মতো সাইজ করতে। তার মতে সরকার একদিকে মেয়েদের বখাটেদের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে পারছে না। না পেরে তাদের হাতে বাঁশি তুলে দিচ্ছে। তবু এসব বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। বরঞ্চ রাস্তা-ঘাটে মেয়েদের উত্যেক্ত করা বেড়েই চলেছে। ইতোমধ্যে অনেকে এ কারণে প্রাণও হারিয়েছে। কিন্তু স্কুলপড়–য়া মেয়েদের নিরাপত্তা ও বখাটেদের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তাদের বে-আবরু করে কি তবে বখাটেদের বাজারে সব মেয়েকে খোলে দিতে চাইছে সরকার?
হিযাববিলাস ও হিযাবভ্রান্তি
এখন যা বলবো সেটিকে মূল লেখার অংশ মনে না করলেও চলবে। কিংবা না করাই ভালো। এখানে আমরা হিযাবের সীমানা নিয়ে প্রাথমিক কিছু কথা বলবো। সহজ করে বললে হিযাবের ধর্মীয় দিকটি। সরকারি তরফে হিযাব নিয়ে নির্দেশনা জারির পর কয়েকটি লেখা পড়লাম। দেখলাম প্রায় সকলেই একটি বিষয় নিয়ে তর্ক করতে চেয়েছেন যে, হিযাব বলতে আমরা বোরকার যে আদল তৈরি করেছি, তা কুরআন-হাদিস সমর্থিত কি না। তারা হিযাব সংক্রান্ত আয়ত আর এক-দুটি হাদিস উল্লেখ করেই ‘সিদ্ধান্ত’ দিয়েছেন যে, বোরকা শরীয়ত নির্দেশিত হিযাব নয়। এটিকেই আমরা হিযাবভ্রান্তি বলতে চেয়েছি। আর হিযাবিলাস হচ্ছে ফ্যাশেনব বোরকাগুলো। অনেকে এখন ফ্যাশন হিসেবে বোরকা ব্যবহার করছেন। তাও বিশেষ ধরণের বোরকা। এর বিশেষত্ব হচ্ছে এটি বোরকা হলেও ভেতরের সব কিছুই অনায়াসে আপনাকে ‘দর্শন’ দেবে। এটি কেউ পর্দা করার জন্যে ব্যবহার করেন বলে আমাদের মনে হয় না। তাই এনিয়ে খুব কথা বলার দরকার নেই। ভ্রান্তি বিষয়ে ফিরে যাই। তাদের মূল যুক্তি হলো, ছতর। শরীয়ত বলে দিয়েছে, পুরুষের ছতর হলো পেটের মধ্যভাগ (নাভি) থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। আর নারীর হচ্ছে, চেহারা, হাতের কব্জি, পায়ের গোড়ালির নিচ ছাড়া পুরো শরীর। ছতরের এই সীমানা দেখেই তারা এক ফালে তিন হাত আসমানে উঠে গেছেন। ভাবতে সময় পাননি যে, এটি ছতরের নুন্যতম পর্যায়। তার মানে হলো এর বেশি কিছু খোলা রাখা যাবে না। কিন্তু এটিকেই এরা ধরে নিয়েছেন, এর বেশি কিছু ঢাকা যাবে না। ফলেই নারীর বোরকা পরা নিয়ে জ্ঞান বিতরণ করেন।
এটি সত্য যে কুরআন-হাদিসের কোথাও লেখা নেই যে বোরকা পরতে হবে, যেমনটা নেই শার্ট না পাঞ্জাবি পরবেন। এটি সময় আর পরিবেশ-ই নির্ধারণ করে নেয়। শরীয়ত শুধু দেখছে যে, পোশাকের যে কাজ সেটি আপনার পোশাকে হচ্ছে কি না। যদি হয়ে যায় তবে বেশ। না হলে তো শরীয়ত সেটাকে পোশাকই বিবেচনা করবে না। ছতর ঢাকা তো পরের বিষয়। এখানে অবশ্যই পোশাকের প্রাথমিক শর্তগুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। এই সব শর্ত পূরণ করে আপনি যা ইচ্ছে পরুন, কোনো আপত্তি নেই।
নারীদের ব্যাপারে কুরআন বলে দিয়েছে, তোমরা নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়িও না। কীভাবে তাহলে আড়াল করে চলবে, বোরকা না চাদর নাকি অন্য কিছু Ñ শরীয়ত সেটি বলতে যায়নি। কেনো যায়নি এটি একটুতেই বুঝতে পারার কথা। রাসূল সা. এর যুগের নারীরা এই আইন আসার পর মোটা চাদরে নিজেদের আবৃত করে চলাফেরা করতেন। কালে কালে এই চাদর বিবর্তন হয়ে বোরকায় এসে আসন বিছিয়েছে। নারীরা একেই এখন নিজেদের পোশাক হিশেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন। রইলো মুখ ঢাকার (নেকাব) বিষয়টি। এটিও জরুরি। কারণ কুরআন বলছে নিজেকে প্রদর্শন না করতে। আর প্রদর্শনের মূল বিষয়ই তো প্রথমত মুখই। তবে আপনি কীভাবে বলবেন যে, নারীকে পা থেকে চুল পর্যন্ত ঢেকে মুখ প্রদর্শন করে চলতে অনুমোদন দিয়েছে ইসলাম? এ কখনোই সম্ভব নয়।



২৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×