somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাকির নায়েক আলেম বলে আমি কোনো প্রমাণ পাইনি : ওলিপুরী

০৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ এই সময়ে অখণ্ড ব্যস্ততার নামই তিনি, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী। এই ব্যস্ত সময়েও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কালকণ্ঠে। প্রশ্নগুলোর লিখিত জবাব দিয়েছেন নিজে। লিখেছেন মন খুলে। এসবই সম্ভব হয়েছে তাঁর আন্তরিকতা ও মুফতি মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়ার কল্যাণে। নোমান বিন আরমানের করা প্রশ্নগুলোর জবাবে লেখা ওলিপুরীর সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য হুবহু ছাপা হলো।]
কালকণ্ঠ : আপনার সম্পর্কে বলুন। কখন, কীভাবে ওয়াজ শুরু করলেন।
ওলীপুরী : আমার ওয়াজ শুরু করার একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট আছে। আর তা হল, আমি আনুষ্ঠানিক লেখাপড়া শেষ করার পর প্রায় বার বছর পর্যন্ত শিক্ষকতা করেছি। সেই শিক্ষকতা জীবনে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে শ্রোতা হিসেবে যেতাম। তখন গভীরভাবে লক্ষ্য করেছিরাম যে, অনেক ওয়াজের মধ্যেই মানুষকে হক কথা বলা, মানুষের আমল আক্বীদা সংশোধন হওয়ার মত দিশাদান, বিশুদ্ব হেদায়তের পথে মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার পরিবর্তে গলার সুর দিয়ে মানুষকে ভক্ত করা, রং ঢং এর কথার দ্বারা মানুষের চিত্তবিনোদন করা এবং মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তির মাধ্যমে ওয়াজ করার প্রবণতা বিদ্যমান। এতে সাধারণ শ্রোতারা দারুণভাবে বিপথগামী হওয়ার প্রবল আফঙ্কা থাকে। এই পরিস্থিতি আমাকে ছহীহ ওয়াজের মাধ্যমে মানুষকে হেদায়তের পথে ডাকার আগ্রহ আমার অন্তরে ক্রমান্বয়ে প্রবল হতে থাকে। এভাবে ওয়াজ শুরু করি।
তখনও নিয়মিত শিক্ষকতা করি এবং মাঝে মধ্যে ওয়াজ করতে যাই । এমতাবস্থায় একদা স্বপ্নে দেখি, কোন একটা মসজিদে আসরের নামাজ পড়তে গেছি । সেখানে আ ও অনেক মুসল্লী ছিলেন। কিন্তু নামাজের জামাতের জন্য কেউই আযান দিতে চায় না। তাই আমি বললাম, আর কেউ আযান না দিলে আমি দেব।
একথা বলে আমি যেই আযান দেয়া শুরু করলাম, তখনই এক দল লোক আমার আযানের আওয়াজকে স্তব্দ করে দেয়ার জন্য মাইক যোগে হট্টগোল শুরু করে দিল। কিন্তু আমার মুখের আযানের আওয়জে তাদের মাইকের আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে গেল। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা থেকে আমি ওয়াজে আসার পূর্ণ প্রেরণা লাভ করি। যার ফলে প্রথমত শিক্ষকতা করতাম নিয়মিত। আর ওয়াজ করতে যেতাম মাঝেমধ্যে। আর এখন ওয়াজে যাই নিয়মিত শিক্ষকতা করি মাঝেমধ্যে।
কালকণ্ঠ : সমাজের ঠিক কোন অংশটিকে দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্যে আপনি বেশি মেহনত করছেন।
ওলীপুরী : সমাজের কোন সুনির্দিষ্ট অংশকে উদ্দেশ্য না করে আমি সর্বস্তরের মানুষের উদ্দেশ্যই ওয়াজ করি। তবে ধর্মের নামে কুসংস্কার অর্থাৎ ইসলামের নামে ভ্রান্ত আকিদা বিশ্বাস পোষণ করা এবং নেক আমলের নামে বিদআত ও কুসংস্কার এর প্রতিবাদে আমি বেশি জোর দিয়ে থাকি ।
কালকণ্ঠ : তো এই দীর্ঘ সময়ের তাফসীর থেকে এখন আপনার কি মনে হয়, যে চেতনা থেকে ওয়াজের খেদমতে নেমেছেন তার সবটুকু পেয়েছেন বা পাচ্ছেন। মানে, সময় ও সমাজের কতটা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন।
ওলীপুরী : এর ফলে যে, সব মানুষের আকিদা আমল সংশোধন হয়ে গেছে, তা নয়। কারণ এমনটা কোন ওয়াজের বেলায় তো দূরের কথা কোন নবী রাসুলের বেলায়ও হয়নি। তবে সমাজের যে অংশটা সত্যের সন্ধানী, অর্থাৎ প্রথাগতভাবে ওয়াজ মাহফিলে না গিয়ে, সরল মনে নিজেদের আকিদা ও আমল সংশোধনের উদ্দেশ্যে যায়, তারা সন্তুষজনকভাবেই সংশোধন হয়। আর এটা ওয়াজের সফলতা ।
কালকণ্ঠ : ওয়াজ, তাফসির মাহফিল এখন বেশি হচ্ছে। আর অনেক বক্তা জ্ঞান আর আদর্শকে অবজ্ঞা করে ওয়াজ ও তাফসিরকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। যোগ্যতা ছাড়াই ওয়াইজ ও মুফাসসির হিসেবে নিজেকে প্রচার করছেন। এর কারণ কী।
ওলীপুরী : হাদীছে উল্লেখ আছে যে, ওয়াজ করে থাকে তিন দল লোক । ১. ইসলামী রাষ্ট্রের কর্মকর্তাগণ । ২. ইসলামী রাষ্ট্রের কর্মকর্তাগণের মনোনীত বক্তাগণ (এবং তাদের অবর্তমানে হক্কানী উলামায়ে কেরাম ও তাদের সমর্থিত বক্তাগণ)। ৩. নিজেদের সুখ্যাতী প্রসারের অভিলাষীগণ। এই শেষোক্ত শ্রেণীর বক্তাগণের ছড়াছড়িই প্রশ্নে উল্লেখিত বিপত্তির কারণ।
কালকণ্ঠ : এই প্রবণতা রোখার উপায় কী।
ওলীপুরী : এই প্রবণতা রোখা সহজ নয়। কারণ ওয়াজের নামে সুরের তানে শ্রোতাদেরে মুগ্ধ করা, অবান্তর কথাবার্তা বলা ও রংঢং এর কথা বার্তার দ্বারা শ্রোতাদের চিত্তবিনোদনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের অভিলাষী বক্তাদের অভাব নেই সমাজে। আর ওয়াজের নামে এসব অনুষ্ঠান শুনার মত শ্রোতারও এ সমাজে অভাব নেই। তাই এ প্রবণতা রুখা খুব কঠিন। তবে এসব আনুষ্ঠানিকতাকে আসল ওয়াজ নয়, এ কথাটা প্রচার করতে থাকলে একদিকে আল্লাহর কাছে দায়িমুক্ত হওয়ার এবং অন্যদিকে সত্যান্বেষী শ্রোতাদের সচেতন করে তোলার আশা করা যায় ।
কালকণ্ঠ : মাঠ পর্যায়ে যেসব তাফসির হয়, যেমন সিলেট আলীয়া মাদরাসা মাঠ বা অন্য কোথাও; সেসবে মহিলাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা আগে ছিলো না। গত বছরই (আপনার প্রোগ্রামে) আলীয়া মাঠে এটি প্রথম দেখা গেলো। এতোদিন মহিলাদের জন্য ব্যবস্থা না রাখার কারণ কী। আর এটিকে আপনি কীভাবে দেখেন।
ওলীপুরী : মাঠ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ওয়াজ বা তফসীর মাহফিলগুলোতে মহিলাদের আশা-যাওয়া এবং অবস্থান করার বেলায় শরীয়ত সম্মত পর্দা এবং আপত্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্ত থাকলে মহিলাদের উপস্থিতির ব্যবস্থা আপত্তিকর নয়। তাই এসব সতর্কতা অবলম্বন করা যেখানে কঠিণ হয়, সেখানে তাদের উপস্থিতির ব্যবস্থা না করাই কাম্য। সিলেট আলিয়া মাদরাসা তাফসীর কমিটি অর্থাৎ খাদিমুল কোরআন পরিষদ যখনই এসব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা করতে পারে, তখনই মহিলাদের উপস্থিতির ব্যবস্থা করে। এমনটা হওয়া উচিত ।

কালকণ্ঠ : এখন তো প্রায়দিনই পুরোটা সময় ওয়াজে-সফরে থাকতে হচ্ছে। তো এই সময় কি আপনি কোনো মুতায়ালা করেন। কখন?
ওলীপুরী : মুতাআলার বা কিতাবাদির অধ্যায়নই ইলমকে তাজা রাখে। সফরসহ অন্যান্য কাজের ঝামেলার ফাঁকে ফাঁকেই মুতাআলার চেষ্টা করে থাকি। যদিও এটা আমার জন্য খুবই কঠিন হয়।
কালকণ্ঠ : অনেকে প্রচার করেন, একই ওয়াজ আপনি সব জায়গায় করেন। সূরা ইউসুফের প্রসঙ্গটি এনে এরা তাদের বক্তব্যে জোর দেন। এটি কেনো হয়। তাদের কি কিছু বলবেন।
ওলীপুরী : একই ওয়াজ আমি সব জায়গায় করি অথবা সূরায়ে ইউসুফের তাফসীর সবখানে করি, একথা ঠিক নয়। হ্যা অনেক সময় মাহফিলের আয়োজনকারীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোন বিষয়ে আলোচনা অথবা সুনির্নিষ্ট কোন আয়াতের তাফসীর করার জন্য আবেদন আসে তখন এটা একাধিকবার আলোচনা করা সত্তেও পুনরায় আলোচনা করতে হয়।
এছাড়া ক্ষণস্থায়ী এ জীবনের অসারতা, চিরস্থায়ী পরকালীন জীবনের গুরুত্ব, আল্লাহর বিধান, নবী সা. এর তরীকা আকীদা ও আমলের সংশোধন, সুন্নত ও বিদয়াতের পার্থক্য, মরণ, কবর, হাশর, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি তো বারংবার আলোচনা হবেই। কারণ এগুলি আলোচনা করাই তো সত্যিকারের ওয়াজ। উল্লেখ্য, কয়েক বছর থেকে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে ধারাবাহিকভাবে সূরায়ে ইউসুফের তাফসীর হচ্ছে। এটাকে সবসময় একই সূরার তাফসীর করা হয় বলে মনে করা ঠিক হবে না। কারণ এদীর্ঘ সূরার আয়াতগুলির ধারাবাহিক তাফসীরই সেখানে হচ্ছে।
কালকণ্ঠ : অনেকে বলেন, বছরে একদুদিন তাফসির মাহফিল করে কুরআনের হক আদায় ও এর থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়। আপনি কি মনে করেন?
ওলীপুরী : এ কাথাটকে দু’ ভাবে ব্যখ্যা করা যেতে পারে। একটা হল বছরে দু’একবার তাফসীর মাহফিলে গিয়েই কুরআনের হক আদায় হয়ে গেছে মনে করা ঠিক নয়। আর দ্বিতীয়টা হল দু’একটা তাফসীর মহিফিলে গেলেই কুরআনের হক আদায় না হওয়ার অজুহাতে তাফসীর মাহফিকে অবজ্ঞা করা এটাও ঠিক নয়। বিশুদ্বভাবে পবিত্র কুরআনের চর্চা যে যত বেশি করবে, সে ততই উপকৃত হতে পারবে।
কালকণ্ঠ : আমাদের দেশে ওয়াজমাহফিলে সাধারণত বয়স্ক মুসল্লি ও সৌখিন কিছু ছাত্র যুবক আসেন। যাদের এই ওয়াজ বেশি প্রয়োজন Ñ কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়–য়ারা তেমন আসে না। এর কারণ কী।
ওলীপুরী : যাদের কাছে দ্বীনের চার্চা যে পরিমাণ হয়, তারা সেই অনুপাতে এর গুরুত্ব অনুধাবন করে তাতে অংশগ্রহণ করেন। কলেজ, ভার্সিটিতে দ্বীনের চর্চার অভাভেই সেখানে এর শ্রোতার অভাব হয়। যারা তাবলীগ করেন, তাদের দ্বারা এ অবস্থার পরিবর্তন আশা করা যায়।
কালকণ্ঠ : প্রায় সবগুলো ওয়াজ মাহফিলের রিপোর্ট একইÑ পুরনো সেই কেচ্ছা-কাহিনী। জীবনজগত নিয়ে প্রয়োজনের অনেক কিছুই সেখানে আলোচনা হয় না। সমকালীন কেনো বিষয়ে সমাজের জন্য তেমন নির্দেশনা সেখানে থাকে না। কেনো?
ওলীপুরী : পবিত্র কুরআন-হাদীসে বর্ণিত ঘটনাবলীকে পুরানো কেচ্ছা কাহিনী আখ্যা দিয়ে অবজ্ঞা করার অবকাশ নেই। কারণ, এসব ঘটনায় সর্বকালের সর্ব লোকের জন্যই শিক্ষণীয় বিষয় আছে । হ্যাঁ, যদি কেউ শ্রোতাদেরকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা না দিয়ে শুধুমাত্র মুখরোচক কেচ্ছা কাহিনী শুনিয়ে জনপ্রিয় হতে চান, তাহলে যারা এমনটি করেন তাদেরকেই এর কারণ জিজ্ঞাসা করা দরকার।
কালকণ্ঠ : এবার অন্য প্রসঙ্গ, জাকির নায়েক নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী। ওলীপুরী : এই ভদ্রলোকের ব্যাপারে যারা যত কথা বলেন তাদের কারো কাছে আমি এমন কোন প্রমাণ পাইনি যে, তিনি কোন আলেম। এমনকি তিনি পবিত্র কুরআন ছহীহ শুদ্ধভাবে তেলাওত করতে পারেন বলেও আমি কোন প্রমাণ পাইনি। তাই তার কোন অনুষ্ঠানও দেখতে যাই না, তার কোন বইপুস্তক ও পড়তে চাই না। কারণ ছহীহ মুসলিম শরীফে হযরত ইবনে শিহাব যুহরী রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, ধর্মীয় জ্ঞানও ধর্মের অংশ। তাই তোমরা যার কাছ থেকে ধর্ম শিখতে চাও তাকে আগে চিনে নিও। কাজেই তার সম্পর্কে আমার কিছু বলতে হলে যারা তার অনুষ্ঠান দখেতে যান তাদের কাছ থেকে সংগৃহিত তথ্যের আলোকেই বলতে হবে।
কালকণ্ঠ : অনেকে তার বিরোধিতা করেন কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত দেন না। সংশয়ে আছেন। কারণ কী?
ওলীপুরী : যারা কারণ দর্শাতে না পেরে সংশয় বা বিরেধিতা করেন তাদের কাছেই এর কারণ জিজ্ঞাসা করা দরকার ।
কালকণ্ঠ : জাকির নায়েকের কোন কোন বিষয়টি সংশয়ের বা বিরোধিতার।
ওলীপুরী : যারা ইসলামী শিক্ষার মূল উৎস পবিত্র কুরআন ও হাদীস যথারীতি না পড়েই ইসলামী অনুশাসন বা এর বিধিবিধান নিয়ে মন্তব্য করে এবং তা জনগনের মধ্যে প্রচার করতে যায়, এদের এহেন অধিকার চর্চাটাই তো এদের ব্যাপারে সংশয়ের কারণ। আর এভাবে মন্তব্য করতে গিয়ে যদি ইসলামী শিক্ষার নামে ইসলামী শিক্ষার বিপরীত কথা বলতে থাকে, তখনও কি এটা তার বিরোধিতার কারণ হবে না? তিনি ইসলাম ধর্ম বা ইসলামী শিক্ষার প্রচার করতে হলে তাকে আগে প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি ইসলাম এবং ইসলামী শিক্ষা কোত্থেকে কতটুকু গ্রহণ করেছেন। তা না করে একাজে অগ্রসর হওয়াটাই সংশয়ের কারণ। আর কোন কিছু যথারীতি না শিখে তা করতে গেলে উল্টাপাল্টা হবেই। তখনই সেটা হবে তার বিরোধিতার কারণ।
কালকণ্ঠ : শুধু সংশয় বা ধারণা থেকে কারো বিরোধিতা কি যৌক্তিক?
ওলীপুরী : অকারণে কাউকে সংশয় বা বিরোধিতা করা উচিত নয়। কিন্ত যেখানে সংশয় বা বিরোধিতার কারণ বিদ্যমান আছে, সেখানে কারণটাকে উপেক্ষা করে শুধু আবেগ প্রবণ হয়ে তার সাফাই গাওয়াও উচিৎ নয়।
কালকণ্ঠ : জাকির নায়েকের অনুষ্ঠানে যে বিষয়টি সবার চোখে পড়ে, সে হলো উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের সর্বাধিক উপস্থিতি। এছাড়া নানা ধর্মবর্ণের লোক তো আছেই। এই বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন।
ওলীপুরী : আপনার কথামত তার অন্ষ্ঠুানে তরুণ-তরুণীদের সর্বাধিক উপস্থিতি যদি ঠিক হয়ে থাকে, তাহলে আমার প্রথম কথা হল, এদের উপস্থিতিটা কি ইসলামী শরীয়ত সম্মত পর্দা ও সতর্কতার বিধান রক্ষা করেই হয়, না তা লঙ্ঘন হয়? যদি লঙ্ঘন হয়, তাহলে আপনিই বলুন সেটা কি সত্যিই ইসলামী অনুষ্ঠান না ইসলামের নামে তরুণ-তরুণীদের মেলা? আর যদি বলেন, সেখানে ইসলামী শরীয়ত সম্মত প্রর্দা রক্ষা হয়, তাহলে আমার বুঝে আসে না যে, অন্যান্য ধর্মের তরুণ-তরুণীদের মিলনমেলায় মুসলমান তরুণ-তরুণীদের শরীয়তসম্মত পর্দাটা কীভাবে রক্ষা হয়! আর দ্বিতীয় কথা হল, তরুণ-তরুণীরা উচ্চ শিক্ষা লাভের বয়স পেল কিভাবে আর বয়স পেলে এরা তরুণ-তরুণীই রইল কীখাবে তাও আমার বোধগম্য নয়। সুতারাং আপনার কথায় মনে হয়, এ অনুষ্ঠানটা বিভিন্ন ধর্মাবল্মী তরুণ-তরুণীদের এক মিলনমেলা। তাই এ মেলা তো আকর্ষণীয় হওয়ারই কথা।
কালকণ্ঠ : জাকির নায়েক নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্যের কথা কখনো কি তার সাথে শেয়ার করেছেন। কথনো কি যোগাযোগ করার ভাবনা আছে?
ওলীপুরী : তিনি একজন আলেম, একথা আমার কছে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলাম ধর্ম অথবা ইসলামী শিক্ষা সম্পর্কে আলাপ আলোচনা বা মত বিনিময়ের জন্য তার সাথে আমার যোগাযোগের কোন প্রশ্নই আসে না।
কালকণ্ঠ : জাকির নায়েককে আপনি কীভাবে জানেন, শুধু তার বই পড়ে; না তার প্রোগ্রামগুলোও দেখেছেন।
ওলীপুরী : পুর্বেই বলেছি যে, তিনি কোন আলেম বলে আমার কাছে প্রমানিত না হওয়ায় তাকে নিয়ে আমার কোন পর্যবেক্ষণ, মতবিনিময় বা যোগাযোগ এর কিছুই দরকার মনে করি না। আমি তার প্রোগ্রামও দেখি না , বইও পড়ি না, এবং তিনি আলেম বলে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে জানার দরকার মনে করি না।
কালকণ্ঠ : জাকির নায়েকের পোশাক নিয়ে তার বিরোধীদের মধ্যে যেমন কথা রয়েছে, কথা রয়েছে নির্বিঘেœ তার প্রোগ্রাম করা নিয়েও। কোনো পক্ষের বাধার মুখে না পড়ায় তারা ভাবেন নিশ্চয় মহল বিশেষের এজেন্ট তিনি। একই প্রশ্ন যদি তাবলীগের ব্যাপারে ওঠে! তাবলীগ জামাতও তো নির্বিঘেœ ইসলামের চিহ্নিতশত্র“ ঘাঁটিগুলোতে দাওয়াতের কাজ করছে।
ওলীপুরী : হ্যাঁ, তার পোশাক নিয়ে “বিরোধীগণ” নয়. বরং সত্যানুসান্ধানীদের মধ্যে কথাবার্তা হয়। কেউ বলেন তিনি যখন টুপি ছাড়া শার্ট প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় টাই ব্যবহার করেন, তখন তাকে তার পোশাকের দ্বারা একজন মুসলামান বলে পরিচয় করার উপায় থাকে না। তদুপরি এই টাইকে তিনি যখন ইসলামী পোশাক বা মুসলমানী পোশাক বলে প্রমাণিত করার হীনচেষ্টা ও অপব্যাখ্যা শুরু করেন তখনই তার অনুষ্ঠানের দর্শকদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। এটা জঘন্যতম বিভ্রান্তি, ইসলামী আইন শাস্ত্রবিদগণে কেউই আজ পর্যন্ত এই টাইকে ইসলামী পোশাক বা মুসলামানী পোশাকের অন্তভুক্ত করে কোন দললিপ্রমাণ পেশা করেননি। তাই তার ব্যাখ্যা শুনে প্রশ্ন জাগে যে, তিনি বিগত ১৪ শ বছরের মুহাদ্দিসীন, মুফাসসিরীন, মুজতাহিদ ইমামগণ এবং ইসলামী আইনশাস্ত্র বিদগণের চেয়ে বেশি জ্ঞানী হয়ে গেলেন? এত জ্ঞান তিনি পেলেন কোথায়?
তিনি তার প্রচারাভিযানে কোন পক্ষের বাধার মুখে পড়েন কি না, জানি না। তাবে হকের প্রচারাভিযন সর্বদাই বাতিলের বাঁধার মুখে পড়ার কথা। তাবলীগ জামাতের বেলায় এ প্রশ্ন খাটে না। কারণ প্রথমত তাঁরা সর্বদাই বাতিলপন্থী বিদয়াতীদের বাধার মুখেই প্রচারাভিযান চারিয়ে যাচ্ছেন। আর দ্বিতীয়ত তাদের ইসলামী লেবাস-পোশাক, চালচলন, আমল, আখলাক দেখে অনেক বাধা প্রদানকারীরাও শেষ পর্যন্ত এ মহৎ কাজে অংশ গ্রহণ করে নিজেদেরে ধন্য করে তোলছেন। বাকী রইল ইসলামের চিহ্ণিত শত্র“ঘাঁটিগুলির কথা। সেসব ঘাঁটির শত্র“রা শুধু দাওয়াত ও তাবলীগকে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবন্ধক মনে করে না। তাই এ কারণে তারা তাবলীগ জামাতের বাঁধা না হলে এটা তাদের বাতিল সাব্যস্ত হওয়ার কারণ হতে পারে না।
কালকণ্ঠ : অনেকে বলেন জাকির নায়েক লা মাযহাবি। আপনার কী ধারণা।
ওলীপুরী : লা মাযহাবীদের মধ্যেও এমন অনেক ভাল লোক আছেন, যারা মাযহাব চতুষ্টয়ের মুজতাহিদ ইমামগন এবং তাদের ইজতিহাদগত বিশ্লেষণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। আর হাদীস ফিকাহ এবং মাযহাব চতুষ্টয়ের ইমামগণের সিন্ধান্ত হচ্ছে, জুমআর খুৎবা নিছক আভিধানিক অর্থে প্রয়োজ্য নয় ; বরং এটা আল্লাহ যিকর এবং বিশেষ এবাদত অর্থে পলনীয় হওয়ায় একমাত্র আরবী ভাষায়ই হতে হবে। যেমন আযান শব্দের আভিধানিক অর্থ আহবান। কিন্ত শ্রোতাদের মাতৃভাষায় এ আহবান করলে সেটা ইসলামী আযান হবে না; বরং আরবী ভাষায়ই করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, জাকির নায়েকের অনুষ্ঠানের শ্রোতারা বলছেন, তিনি নাকি ইন্টানেটর মাধ্যমে জুমাআর খুতবার বেলায় আরবী ভাষার বিরুদ্ধে, মাতৃভাষায় হওয়ার পক্ষে প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন। এ কেমন লা মাযহাবি! মাযহাব চতুষ্টয়ের এমনকি সাহাবায়ে কেরামের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এ অপপ্রচারের দুঃসাহস তিনি পেলেন কোথায়?
কালকণ্ঠ : বাজারে এখন আপনার একটি ভিসিডি পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
ওলীপুরী : এটা যারা করেছে, তারা আমাকে লুকিয়ে করছে। তাও আমি টের পাওয়া মাত্র শুধু নিষেধই নয়, বরং বলে দিয়েছি যে, এ ব্যাপারে যদি কোন হক্কানী আলেমের দ্বিমত থাকে, তাহলে দলীল প্রমাণ নিয়ে আমার সাথে আলোচনায় বসার জন্য। অথবা দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতী সাহেবগণের কাছ থেকে এর পক্ষে লিখিতি ফতোয়া প্রদান করে আমাকে দেখাবার জন্য। কিন্তু দুঃখজনক ব্যপার হলো তারা এর কোনোটাই না করে উক্ত ভিডিও রেকর্ডার থেকে আমার এই কথাটাকে কেটে ফেলে সিডি তৈরি করেছে। এমন কারসাজি যারা করতে পারে তাদের বেলায় আমার কিছু বলার নেই।
কালকণ্ঠ : কালকণ্ঠের ডিসেম্বর সংখ্যাটি তো পড়লেন। আমাদের কর্ম উদ্যোগ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন বা পরামর্শ।
ওলীপুরী : কোন পত্রিকার মাত্র একটি সংখ্যা পড়েই তার ব্যাপারে সঠিক মন্তব্য করা কঠিন। তবে এ সংখ্যাটির অনেকাংশই আমার কাছে ভাল লেগেছে। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য, আদর্শ ও লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পেলেই সুনিদির্ষ্ট পরামর্শ দেয়া যাবে।
কালকণ্ঠ : কী কী বিষয়ে আমরা কাজ করতে পারি।
ওলীপুরী : হকের পক্ষে এবং বাতিলের বিরুদ্ধে প্রচারকার্য চালাবার উদ্দেশ্য থাকলে আধুনিক যুগের যত মিডিয়ায় যত অসত্য ও বাতিলের প্রচার হচ্ছে, সেগুলির প্রতিবাদ এবং হক ও সত্য প্রচারের শপথ নিয়ে কাজ করে যেতে হবে।
কালকণ্ঠ : ধন্যবাদ আপনাকে।
ওলীপুরী : জি, সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য আপনাদেরকেও ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাদের এর উত্তম পুরস্কার দান করুন।

মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরির এই সাক্ষাৎকারটি কালকণ্ঠের জানুয়ারি ২০১০ সংখ্যায় প্রকাশ হবার পর পাঠকের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার জন্ম হয়। পক্ষে-বিপক্ষে, সমর্থন-অসমর্থনে চলে বিস্তর আলোচনা। সমালোচনা। কোথাও কোথাও ক্ষুব্ধও হন অনেকে। এমনি সময়ে আবারো কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান :-

জাকির সম্পর্কে আমার বক্তব্যের ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই

কালকণ্ঠ : জানুয়ারি সংখ্যায় কালকণ্ঠে আপনার সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর থেকেই তুমুল প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। আপনি কী রকমের প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?
ওলিপুরী : জানুয়ারি সংখ্যায় কালকণ্ঠে আমার সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর আমি কোন রকমের প্রতিক্রিয়া পাইনি। এখন শুধু আপনার প্রশ্নের মাধ্যমে তার সংবাদ পেলাম।
কালকণ্ঠ : জাকির নায়েক নিয়ে আপনার বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা পুনর্বিবেচনার দরকার মনে করছেন কি?
ওলিপুরী : না।
কালকণ্ঠ : আপনি বলেছেন জাকির নায়েকের বই পড়েন না, প্রোগ্রামও দেখেন না। অথচ তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন ঠিকই। প্রশ্ন হলো, যেখানে জাকিরকে পুরোপুরি জানার সুযোগ রয়েছে, সেখানে আপনার মতো দায়িত্বশীল কেউ কি শোনা কথায় মন্তব্য করতে পারেন?
ওলিপুরী : বিগত সংখ্যায় জাকির নায়েক সম্পর্কে আপনার প্রশ্নগুলির প্রারম্ভেই আমি বলেছি যে, আমি যেহেতু তার বইও পড়িনা, প্রোগ্রামও দেখিনা, তাই এগুলি যারা পড়েন বা দেখেন তাদের বাচনিকের ভিত্তিতেই আমার মন্তব্য করতে হবে। হ্যাঁ তার সম্পর্কে আমার কোন মন্তব্যের অবাস্তবতা আপনি প্রমাণ করতে পারলে আমি তা প্রত্যাহার করতে পারি।
কালকণ্ঠ : ঠিক কোন কারণে জাকির নায়েকের আলেম পরিচয়টা আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে।
ওলিপুরী : ইসলামের প্রচার করতে হলে ইসলাম সম্পর্কে যথাযোগ্য আলেম হওয়া অথবা এমন আলেমের তত্ত্বাবধানে কাজ করা অপরিহার্য। অন্যথায় অযোগ্য প্রচারকের দ্বারা ইসলামের নামে ভ্রান্ত ধারণার প্রচার হওয়াই স্বাভাবিক।
কালকণ্ঠ : আপনি যেটা বললেন, জাকির নায়েক ‘আলেম বলে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত (মতবিনিময় বা যোগাযোগÑ উপরের বক্তব্য) তাকে জানার দরকার মনে করি না’। প্রশ্ন, আপনি যখন তার বইকেতাব কিচ্ছুই পড়বেন না, যোগাযোগও করবেন না। তাহলে জানবেন কী করে যে, তিনি আলেম কি না।
ওলিপুরী : আপনি তার আলেম হওয়াটা প্রমাণ করে দিলেই তো আমি তা জানতে পারি। আর কোন কিছু প্রমাণ হওয়ার আগে তা মেনে নেয়ার প্রশ্নই আসতে পারে না।
কালকন্ঠ : জাকির নায়েক আলেম বলে আপনি প্রমাণ পাননি, যদি প্রমাণ পান যে তিনি আলেম, তবে কি তার কর্মকান্ডকে বৈধতা দেবেন।
ওলিপুরী : অবশ্যই নয়। কারণ আলেম বলে প্রমাণ হওয়ার পরে জানতে হবে তিনি হক্কানী আলেম, না ভ্রান্তমতবাদী আলেম। ভ্রান্ত মতবাদী কোন আলেমের কর্মকান্ডকে বৈধতা দানের প্রশ্নই আসে না।
কালকন্ঠ : কেউ যদি অভিযোগ করে যে, বিদ্বেষপ্রসূত হয়ে আপনি জাকির সম্পর্কে মন্তব্য করছেন, তবে তাদের আপনি কী বলবেন।
ওলিপুরী : আমি বলব তারা জাকির নায়েকের অন্ধভক্ত। কারণ তার সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন বিদ্বেষ নেই।
কালকণ্ঠ : আলেমের পরিচয় বা সংজ্ঞাটা কী?
ওলিপুরী : ইসলামের পরিভাষায় পবিত্র কুরআন, হাদীসের জ্ঞানকে ইলম এবং এ জ্ঞানের অর্জনকারীকে আলেম বলা হয়। সুতরাং যিনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে সেখানকার উস্তাদগণের কাছে যথারীতি কুরআন হাদীস শিক্ষা করে শেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ লাভ করবেন, অথবা ব্যক্তিগতভাবে কোন উস্তাদের কাছ থেকে কুরআন –হাদীছ শিখে আলেম হিসাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত হবেন তিনিই আলেম বলে গণ্য হবেন। কিন্তু তা না করে যিনি উস্তাদ ছাড়া নিজে নিজে চর্চা করে আলেম হওয়ার দাবী করবেন, তার দাবী গ্রাহ্য হবে না।
কালকণ্ঠ : দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য ‘আলেম’ হওয়া কি শর্ত?
ওলিপুরী : দ্বীনের যে অংশের দাওয়াত দিবে, অন্ততঃ সেই অংশের আলেম হওয়াত অবশ্যই শর্ত। তদুপরি দাওয়াত দাতা যদি পূর্ণাঙ্গ আলেম না হন, তবে তার জন্য অবশ্যই সুযোগ্য আলেমের তত্ত্বাবধানে দাওয়াতের কাজ করা অপরিহার্য। অন্যথায় সমূহ বিপত্তির আশঙ্কা থাকবেই।
কালকণ্ঠ : তসলিমা নাসরিনের কথা শুনে কোনো মুসলমান বিভ্রান্ত হওয়ার শঙ্কা কম। কেউ তাকে ওভাবে পাঠ করেও না। উপরন্তু তাকে নাস্তিক ফতোয়া দেয়া হয়েছে মঞ্চে-বিবৃতিতে। দেখা গেলো এই তসলিমাকে আপনার ভালোই জানা আছে, ট্রেইলারের কাছে কীভাবে মেয়েরা কাপড়ের মাপ দেয়Ñ সেটাও নিখুঁতভাবে তসলিমার বর্ণনা সমেত আপনি এখনো ওয়াজ করেন। কিন্তু যাকে অনেকে খোদা-রাসূলের পরে বিশ্বাস করে বসে আছে, তাকে (জাকিরকে) জানার দরকারই মনে করছেন না। কে ক্ষতিকর, তসলিমা না জাকির।
ওলিপুরী : তসলিমা নাসরিনের কথা শুনে সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম হলেও অনেক শিক্ষিতরাই বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। যেমন মৃত পিতার ত্যাজ্য সম্পত্তিতে ছেলে - মেয়ের সমান সমান উত্তরাধিকারের দাবীতে আজকাল বহু শিক্ষিতরা তসলিমার সাথে ঐক্যমত পোষণ করছেন। যা পবিত্র কুরআনের সূরায়ে নিসা এর ১১ নং আয়াতের সরাসরি বিরোধী। কাজেই তসলিমার কথায় “কোন মুসলমানের বিভ্রান্ত হওয়ার আশংকা কম” আপনার এ ধারণা সঠিক নয়।
আর আপনার কথামতে জাকির নায়েককে যদি অনেকেই খোদা রাসূলের পদে বিশ্বাস করে বসে থাকে, তাহলে তারা অবশ্যই তার অন্ধ ভক্ত। তবে এটাও আমার কাছে এখনও প্রমাণিত হয়নি যে, কোন মুসলমান জাকির নায়েককে খোদা রাসূলের পরেই স্থান দিয়েছে। যদি আপনার কাছে এটা প্রমাণ হয়ে থাকে, তাহলে আপনাকে এ মূহূর্তেই তার বিরুদ্ধে ভূমিকা নিতে হবে। তখন আপনাকে তার অন্ধ ভক্তরা তার বিদ্বেষী বলবে। এর কোন তওয়াক্কা করলে চলবে না। তসলিমা হল মানুষের ঈমান বিনষ্টকারী। আর জাকির নায়েক সম্পর্কে তার অন্ধভক্তদের মন্তব্য সঠিক হলে তিনি মানুষের আমল বিনষ্টকারী। সুতরাং আপনিই বিবেচনা করুন, কে কী পরিমাণ ক্ষতিকর।
কালকণ্ঠ : আপনার ভিসিডি বিষয়ের বক্তব্য পুরোপুরি বুঝা গেলো না। এরা কি এটি তৈরির আগে আপনার সাথে কথা বলেছিলো। “....তারা এর কোনটাই না করে উক্ত ভিডিও রেকর্ডার থেকে আমার এই কথাটাকে কেটে ফেলে সিডি তৈরি করেছে।” এই আলাপ কখন হয়েছিলো। সিডি তৈরির পরে!
ওলিপুরী : আমি একটা তাফসীর সম্মেলনে বয়ান করছিলাম। বয়ানের মধ্যে হঠাৎ দেখলাম একটা লোক বিডিও ক্যামেরা নিয়ে ছবি উঠাচ্ছে। তখনই আমি তাকে এটা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করে বলেছি যে, এসব ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মানুষের ছবি তোলা হারাম হওয়ার ব্যাপারে যদি কারো দ্বিমত থাকে, তাহলে আমাকে এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য দলীল দেখাবেন, আর নাহয় এর পক্ষে নিজ মুফতী সাহেব গণের ফতোয়া সংগ্রহ করে আমাকে দেখাবেন। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও কারীরা আমার সামন থেকে সরে আড়ালে গিয়ে আমার বয়ানের ভিডিও করেছে। যা আমি উপস্থিত সময় দেখতে পাইনি। পরে লোকমুখে শুনতে পেরেছি। অথচ এই কারসাজিকারীরা আমার দুটি প্রস্তাবের কোন একটাও পালন করেনি। অর্থাৎ এমনভাবে ছবি তোলা জায়েয হওয়ার পক্ষে আমাকে কোন দলীলও দেখায়নি এবং কোন ফতোয়াও দেখাতে পারেনি।
কালকণ্ঠ : ধন্যবাদ আপনাকে।
ওলিপুরী : আপনাকেও ধন্যবাদ। তবে আমাকে কোন প্রকার বেড়াজালে ফেলার ভঙ্গিতে প্রশ্ন না করলে খোলা মনে জবাব দিতে পারব।
১০টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×