কক্সবাজারের মুক্তিযুদ্ধের শহীদঃ[/su
( বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বান এর তথ্য)
১। শহীদ মোহাম্মদ শরীফ, চেয়ারম্যান, কালারমারছড়া, মহেশখালী।
শাহাদতের তারিখ ৩০শে এপ্রিল-১৯৭১। তদানিন্তন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহেশখালীর থানার চিহ্নিত দালালদের সহযোগিতায় কালারমারছড়ার নিজ বাস ভবনে আসলে গুলি করে হত্যা করে।
শহীদের কবর- কক্সবাজারের গোলদিঘীর পাড় কবরস্থান।
২। শহীদ আবদুল হামিদ, চকরিয়ার কৃতি সন্তান।
চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি এবং ভারতীয় ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা চকরিয়া থানার ১ম গেরিলা গ্রুপের কমান্ডার। পাক সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে অমানুষিক নির্যাতনের পর টেকনাফ উপজেলা কমপ্লেক্সের পিছনে নাইটং পাহাড়ে নিছের বধ্যভূমিতে হত্যা করে ফেলে রাখে নভেম্বর মাসে। বিজয়ের পরে আবদুল হামিদের আত্মীয়-স্বজন টেকনাফের বধ্যভূমিতে বস্তাবন্দী গলিত লাশ সনাক্ত করে। পরে চকরিয়ার শাহ ওমর (রঃ) এর মাজারের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
৩। শহীদ ফরহাদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ মাস্টার্স এর ছাত্র ও ছাত্রনেতা। কালুরঘাট পতনের পর কক্সবাজারে এসে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালায়। পাক হানাদার বাহিনী কক্সবাজার পৌঁছার প্রায় ১৫ দিন আগে এখানকার আওয়ামী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অন্তর কোন্দলের শিকার হয়ে স্বাধীনতার পক্ষ নামধারী পরে পাক বাহিনীর অনুচর কর্তৃক ধৃত হয়ে কারাগারের নিক্ষিপ্ত হয় এবং পাক বাহিনীর তোহফা হিসেবে তুলে দেয়। নির্মমভাবে নির্যাতনের পরে বাঁকখালী নদীর পাশে গুলি করে হত্যা করে নদীতে নিক্ষেপ করে। লাশ বেশ কয়েকদিন নদীর উজান ভাটিতে ভেসে থাকার পর বদর মোকাম কবরস্থানে কবর দেয়া হয় বলে জানা যায়।
৪। কক্সবাজারের ছাত্রনেতা শহীদ সুভাষকে ফরহাদের সাথে বন্দী অবস্থায় হানাদার বাহিনী হত্যা করে। লাশ কোথায় সৎকার হয়েছে জানা যায়নি।
শহীদ এডভোকেট জ্ঞানেন্দ্র চৌধুরী কক্সবাজার আদালতের নাম করা উকিল। পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী কক্সবাজারের চিহ্নিত দালালেরা হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। অমানুষিক নির্যাতনের পর সী-বীচ রেস্ট হাউস বর্তমানে ১৭ ই.সি.বি’র ক্যাম্পের দক্ষিণ পশ্চিম কোনার ছড়ার পাশে হত্যা করে মাঠি চাপা দেয়। যুদ্ধের পর লাশের কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
৬। মাস্টার ইলিয়াছ। উখিয়া স্কুলের স্বনামধন্য শিক্ষক পাকিস্তানের দালালদের সহযোগিতায় হানাদার বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। অমানুষিক নির্যাতনের পরে নিজের কোড়া কবরের ভিতর তাকে গুলি করে হত্যা করে সী-বীচ রেস্ট হাউজের সামনের বালুর ঢিবিতে। যুদ্ধের পর তার লাশ সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজার বধ্যভূমিঃ
১। কক্সবাজার সী-বীচ রেস্ট হাউজের সামনের বালুচর। যাহা বর্তমানে ১৭ ই.সি.বি এর ক্যাম্প।
২। টেকনাফের উপজেলা কমপ্লেক্সের পিছনে নাইটং পাহাড়ের পাদদেশে।
৩। মহেশখালী আদিনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



