নৌমন্ত্রী, তার শ্রমিক সংগঠন ও একজন ইলিয়াস কাঞ্চন
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
গত ১৫দিন ধরে রাজধানীতে শোভা পাচ্ছিলো ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ ও নৌমন্ত্রী শাহাজাহান খানের হাস্যজ্বল ছবি সংবলিত রঙ্নি পোস্টার। ঢাকা চলো বলে ঢাকাতেই এতো পোস্টার, বাইরে কতো ছিলো তা মন্ত্রীই ভালো বলতে পারবেন। উদ্দেশ্য ২৪অক্টোবর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পরিবহন শ্রমিক সমাবেশ। প্রধান অতিথি যোগাযোগমন্ত্রী নয়, নৌমন্ত্রী। তার ২/৩দিন আগে নিরাপদ সড়ক চাই শীর্ষক দাবিতে একইস্থানে অনশন করেন আমাদের পরিচিত মুখ ইলিয়াস কাঞ্চন।
ওই অনশনস্থলে হালের আলোচিত-সমালোচিত আমাদের প্রিয় যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন যোগ দেন। এবং তিনি ইলিয়াসি কাঞ্চনকে পানি খাওয়াইয়ে অনশন ভঙ করান।
২৪ সেপ্টেম্বর, দুপুর ২টা ১৫ মিনিট
কাওরানবাজার এনটিভি ভবনের সামনের ভিআইপি রাস্তায় যাচ্ছে এক সঙ্গে অনেকগুলো ট্রাক। এসব ট্রাকে শ্রমিকরা ভর্তি। তারা নৌমন্ত্রীর সমাবেশে যাচ্ছেন এবং নানা সেøাগানে প্রকম্পিত করছে রাজপথ। একটি ট্রাকে ইলিয়াস কাঞ্চনের অনেক বড় হাস্যজ্বল ছবি। তার পুরো শরীরে পড়ানো হয়েছে পুরাতন, ছেড়া জুতোর মালা। আর কিছু শ্রমিক ঘর ঝারু দেওয়ার সেই ঝাটা দিয়ে তাকে পেটাচ্ছে। আর আমরা সাধারণ মানুষেরা শুধু তাকিয়ে দেখছিলাম এ নোংরামী। কিন্তু করার যে কিছুই ছিলো না।
কি সেলুকাস এ দেশ। যে মানুষটি নিজের স্ত্রীকে সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন। আর প্রতিনিয়ত চালকদের গোর্য়াতুমির কারণে আমরা হারাচ্ছি আমাদের স্বজনদের। দেশ হারাচ্ছে মিশুক মনির-তাকে মাসুদদের। আর সেই চালকদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে, তাদের সচেতন করা সহ সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতেই তার নিরাপদ সড়ক চাওয়া আন্দোলন। আমি আমার ব্যস্ততায় হয়তো তার এ আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে জড়াতে পারিনি, কিন্তু তার উদ্যোগকে মনে প্রাণে স্বাগত জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি পড়ার সময় থেকেই।
আর আজ তাকেই, তার শরীরে জুতো পড়ায়ে রাজপথে দাপিয়ে যাচ্ছে অশিক্ষিত, মুর্খ শ্রমিকেরা। আর নৌমন্ত্রী কি এটা জানেন না, না তার আস্কারা পেয়েই এটা হলো।
এর আগেও শ্রমিকেরা নানা সময় তাদের দাপট দেখিয়েছে। কিছুদিন আগে ভুয়া লাইসেন্স ধরার জন্য গাবতলীর টেকনিক্যাল মোড়ে বসেছিল ছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালতের বিচারক যখন কয়েকজন চালককে ধরলো, জরিমানা করলো, বিচারের আওতায় আনতে চাইলো, তারা ওই আদালতের সবার ওপর চড়াও হলো। একপর্যায়ে একটি কাউন্টারে ঢুকে কোনো মতে রক্ষা পেলেন তারা। এতেই তারা ক্ষ্যান্ত নয়, তারা রাস্তার মধ্যে উল্টাপাল্টা গাড়ি রেখে যানজট তৈরি করলো, পরে জানলাম নৌমন্ত্রী শ্রমিকদের কোনো সমস্যা হবেনা, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসবে না এসব অভয় দিলেন। তারাও অবরোধ তুলে নিলো।
আমার প্রশ্ন এভাবে আর কতদিন? আমরা কি নিয়মের মধ্যে কখনোই যাবো না। আমরাকি শালীনতা শিখবো না। সম্মানিত মানুষকে এভাবে অপদস্ত না করে সম্মান জানানো শিখবো না।
(আমি এই বাজে ঘটনাটির ছবি তুলেছিলাম, কিন্তুমোবাইল থেকে কম্পিউটারে না নিতে পারায় আপলোড করতে পারলাম না)
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পাখি মন

রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।