somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীন দেশ কিন্তু পরাজিত মুক্তিযোদ্ধা !

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্যালেন্ডারের নিয়মে মার্চ আর ডিসেম্বর মাস এলেই আমরা সবাই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক -বাহক বনে যাই। স্মর্তি রোমন্থন , কি পেলাম বা পেলাম না , হা হুতাস , নানা প্রতিজ্ঞা করা ইত্যাদি অনেক কিছুই হতে থাকে কিন্তু থাকে না অনেক প্রশ্নের উত্তর। আসুন একটু চোখ বুলিয়ে দেখি স্বাধিন দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের আবস্থান ?

১। মর্মান্তিক ও দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য হল ,বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান , মুজিব নগর সরকারের চার স্তম্ভ সর্বজনাব তাজ উদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান ও এম মনসুর আলী কে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নয় বরং এই স্বাধীন দেশেই শহিদ হতে হয়েছিল এবং নির্মম হলেও সত্য হল , এই হত্যাগুলোর পেছনে সি আই এ আর তার চর দের ষড়যন্ত্র যেমন সত্য তেমনি সত্য তারকা খচিত মুক্তিযুদ্ধাদের ক্যু -দেতায় ভুমিকা ।

২। মুক্তিযুদ্ধকালীন সেনা অফিসার সঙ্কট ছিল প্রকট। সেই সময় অধিকাংশের পোস্টিং ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে নজরবন্দি অবস্থায় । তবে, সবাই নয়। যুদ্ধকালীন পাকিস্তান থেকে ছুটিতে বা বিভিন্ন উপলক্ষে এদেশে এসেছেন ,আবার চলে গেছেন এমন অফিসারের সংখ্যা দেড়শতের মতো ।অর্থাত্ ১৫০ অফিসারেরই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবার সুযোগ ছিল কিন্তু যুদ্ধে যোগ দেন মাত্র ৩০/৩৫ জন অফিসার। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া অফিসারদের আমরা দু‘ভাগে ভাগ করতে পারি : ক) এদেশে কর্মরত যারা প্রতিরোধ পর্বে যোগ দিয়েছিলেন যথা লে কর্নেল সালাউদ্দিন , মেজর জিয়া, মেজর বাহার , মেজর সফিউল্লাহ , মেজর খালেদ, মেজর শাফায়াত জামিল, মেজর আবু ওসমান, ক্যাপ্টেন হাফিজ , ক্যাপ্টেন ভুঁইয়া , প্রমুখ । খ) যারা পশ্চিম পাকিস্তান ( নজরবন্দি অবস্থা ) থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন যেমন ডালিম ,নুর, মতি , জিয়াউদ্দিন, তাহের , মঞ্জুর প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধে বীরোত্বপুর্ন ভুমিকার জন্য উপরোক্ত সুর্যসন্তানদের সরকার স্বীকৃতি দেন বীর উত্তম , বীর বিক্রম , বীর প্রতীক প্রভৃতি খেতাব ।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য , এই স্বাধী্ন বাংলাদেশেই তাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার খালেদ বীর উত্তম -কর্নেল হায়দার বীর উত্তম -কর্নেল তাহের বীর উত্তম -জেনারেল জিয়া বীর উত্তম -জেনারেল মঞ্জুর বীর উত্তম প্রমুখ সেক্টর অধিনায়কসহ বী উ, বীবি , বীপ্র প্রভৃতি খেতাবধারী অধিকাংশ মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানি কে ব্রাশ ফাঁয়ার ও ফাঁসি দ্বারা মরতে হয়েছে তথাকথিত ক্যূর অভিযোগে কিংবা নিছক বিপ্লবী উন্মাদনায় (যেমন ৭ নভে৭৫ তারিখে হায়দার ও হুদাকে হত্যা ।

৩। মুক্তিবুদ্ধি -চিন্তার জন্যে ২৫শে মার্চ ১৯৭১ কলো রাতেই শুরু হয় বুদ্ধিজীবীদের নিধন এবং তা' চলে যুদ্ধের পুরো নয়
মাস জুড়ে । ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পাকবাহিনী ও
তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদররা অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে দেশের শ্রেষ্ঠসন্তান বুদ্ধিজীবীদের ।এমনকি ৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে বিজয় লাভের পরেও বুদ্ধিজীবীদের নিধন অব্যাহত থাকে। দ্রষ্টান্তস্বরূপ ডঃ মনসুর আলী (ডিসে ২১,১৯৭১) চলচিচত্রকার জহির রায়হান (নিখোজ হন ৩০ শে জানু ১৯৭২ )এবং সাংবাদিক গোলাম রহমান (হত্যা জানু ১১,১৯৭২) ।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য , ৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যা কান্ড শুরু হয়ে এখনও তা' চলছে।

৪। প্রান্তিক মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকাংশ বেঁচে আছেন "জিন্দা লাশ" হয়ে। প্রতিদিন সংবাদপত্রে ছাপা হছে তাদের বেচে থাকার সংগ্রাম নিয়ে নিউজ-ফিচার।

আমরা সেমিনার করি ,বিশেষ দিনে ক্রোরপত্র বের করি ,কাউকে দেবতাও বানাই , দিবসভিত্তিক মায়া কান্নাকাটি করি অতি সার্থক ভাবে কিন্তু কেন এমনটি হল তা জানতে চাই না ,জানাতে চাই না ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×