
একাত্তরে যারা বাংলার স্বাধীনতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাদের আমি জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান মনে করি । বলা হয়ে থাকে বিপদে বন্ধুর পরিচয় । ঠিক তেমনি দেশ যখন শত্রুর কবলে পড়ে তখনই দেশপ্রেমিকের পরিচয় পাওয়া যায় । একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের (’৭১ এর আগে-পরে যে ভূমিকাই থাকুক না কেন ) সবাই ছিলেন দেশপ্রেমিক ।
একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের আগে-পরে যে ভূমিকাই থাকুক না কেন , একাত্তরের স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী রাজাকার ,আল বদর, আল শামস, শান্তি কমিটি , মালেকের মন্ত্রীসভার সদস্যরা, হক-আলাউদ্দিনের চীনাপন্থী কমিউনিষ্ঠদের ভূমিকা আমার কাছে ঘৃন্য ছিল , আছে ।
মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু স্থানে নাকি রাজাকাররা মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করেছে এমন কথাও শুনা যায় । এটা যদি সত্যও হয় , সেই সত্য দ্বারা সকল স্বাধীনতার বিরোধীতাকারীদের যেমন দেশদ্রোহী-গাদ্দার -রাজাকার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া যায় না তেমনি কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার বা মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুই একজনের বাত্যয়ের জন্য সকল মুক্তিযোদ্ধাদের খাটো করা বা কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না ।
আমার ব্যক্তিগত ভাবে শতাধিক মুক্তিবাহিনীর গণযোদ্ধাদের সাথে আলাপের /দেখা সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে । তাদের মুক্তিযোদ্ধো পরিচয় পাবার পর আপনাতেই মাথা নত হয়ে যায় । একই ভাবে , যখন কারো রাজাকারীর খতিয়ান শুনি তখন মুখ থেকে আপনাতেই বেড়িয়ে আসে -‘শুয়োরের বাচ্চা’ ।
আমি মনে করি , ইতিহাসের কোন ব্যক্তি বা ঘটনার বিচার করতে হয় ওই সময়কালে / পটভুমিতে ব্যক্তি বা ঘটনার ভূমিকা কি ছিল তা’ দিয়ে । অতীত বা ভবিষ্যতের কোন ঘটনায় ব্যক্তির ভূমিকা দ্বারা বায়াসড না হয়ে । একজন ব্যক্তি আজীবন প্রগতিশীল /প্রতিক্রিয়াশীল থাকতে পারেন আবার নাও পারেন । যে বঙ্গবন্ধু ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের তরুন তুর্কি (গুরু সওরাওর্য়াদির মত ) তিনি আবার পরে হয়েছেন স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা, বাংলাদেশের স্থপতি । ইতিহাসে এমন
উদাহরন ভুরি ভুরি । আপন ভাইদের হত্যা , পিতা-বোনকে কারাগারে নিক্ষেপ করে ক্ষমতায় আসা আওরঙ্গজেবই হয়ে যান বাদশা আলমগীর (জিন্দাপীর) ।
বাংলাদেশে যে কোন ব্যক্তির ভূমিকার বিচার করতে হবে তার কৃতকর্মের বিচারে যদি তা’ ক্রিমিনাল এক্টের আওতায় পড়ে তবে অবশ্যই সে
ক্রিমিনাল (তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় এখানে অবান্তর অপ্রাসঙ্গিক) । এখন স্বয়ং কোন মুক্তিযোদ্ধাই যদি তার ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়‘ ব্যবহার করে ফায়দা হাসিলে তৎপর হয় , সেই মুক্তিযোদ্ধাকে আমরা সুবিধাবাদি ,ধান্দাবাজ ইত্যাদি ট্যাগায়িত করতে পারি কিন্তু এ জন্য সকল মুক্তিযোদ্ধাদের খাটো করার পক্ষপাতি নই এমনকি সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধার একাত্তরে ভূমিকা নিয়েও আমি সংশয় প্রকাশ করতে নারাজ কারণ একাত্তরে হয়ত সত্যিকারের দেশপ্রেমে উদ্ধুব্ধ হয়েই তিনি লড়াই করেছিলেন ।
মুক্তিযোদ্ধারা অবশ্যই একাত্তরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের ভূমিকায় উপনিত হয়েছিলেন কিন্তু তারা সবাই রক্তে মাংসে গড়া দোষে গুণে মানুষই ছিলেন, দেবতা বা নবী নয় ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


