আমার প্রিয় পোস্ট

পরাজিত হতে হতে আমি উঠে দাড়িয়েছি এবার ফিরে যাবো না খালি হাতে, স্তব্ধতা আর সৌন্দর্যের পায়ে পায়ে এগিয়ে যাই যে কবি সে কখনো খালি হাতে ফিরে যেতে পারে না ।

ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র হোক সবার

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২৯

শেয়ারঃ
0 1 0

আওয়ামিলীগই 'আওয়ামী মুসলিম লিগ' থেকে মুসলিম শব্দটি উঠিয়ে দেবার সাহস দেখাতে পেরেছিল কিংবা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অব্যবহিত পরে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রিয় মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। সে সাথে এটাও সত্য যে, পাকিস্তানী কারাগার থেকে ঢাকায় ফিরে এসে রেসকোর্স ময়দানে বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান যে বক্তৃতা দেন তাতে তিনি বাংলাদেশকে 'দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র' হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন । তাও কাগজে কলমে 'ধর্মনিরপেক্ষতা' সংবিধানে যাও বা চালু ছিল মুজিবের সময়, জিয়াউর রহমান এসে তা মূল শুদ্ধ উপড়ে ফেললেন। ধর্ম নিরপেক্ষতার উপরে কাঁচি চালিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হল 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' আর সমান বেগে মুলনীতি হিসেবে স্থাপিত হল - 'সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর আস্থা আর বিশ্বাস'কে। সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদ-এর উচ্ছেদ হয়ে গেল। ১২ নং অনুচ্ছেদের উচ্ছেদের ফলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার সুযোগ পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হল। এরশাদ সাহেব এসে তো ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্মই বানিয়ে দিলেন।

হাসিনার আওয়ামী লীগ ইসলামী দলগুলোর সাথে ২০০৬ সালে দহরম মহরম সত্যি আমাদের ভাবিয়ে তুলে। নেজামে ইসলামি পার্টির (একাংশ) চেয়্যারম্যান মুফতি ইজহারুল ইসলাম দাবি করেছেন যে, তিনি নাকি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা’র সঙ্গে সাক্ষাতকারকালে তাকে আওয়ামীলীগ এর ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ মতবাদ সংশোধনসহ ১০টি প্রস্তাব দেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এর জবাবে তাকে নাকি বলেছেন,‘ধর্মনিরপেক্ষ’ মতবাদ ইতিমধ্যেই সংশোধন করা হয়েছে (সুত্রঃ দৈনিক আমারদেশ, ১৭ নভেম্বর ২০০৬,পৃ-১৬)।এ নিয়ে আমি লিখিঃ আওয়ামী লীগ এর ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র আদর্শ নিয়ে সংশয়" ।এরপরে আওয়ামী লীগ খেলাফত মজলিশের মধ্যকার ৫ দফা চুক্তি করে । আমাদের বিশিষ্ট বুদ্ধীজীবীবৃন্দ -সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া পড়ে মনে হচ্ছিল তারা এরকম ঘটনা যে ঘটতে পারে এমনটা চিন্তাও করেননি এবং এর জন্যই যারপরনাই অবাক হয়েছেন । এই নিয়ে আমি লিখেছিলাম-…এত বিস্মিত হবার কি আছে !

আওয়ামী লীগ যে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ মতবাদ ইতিমধ্যেই সংশোধন করেছে তার প্রমান পাই তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেখানে বলা "The fundamental principles of the Bangladesh Awami Leagues shall be Bengali Nationalism, Democracy, Secularism or in other words ensuring freedom of all religions" । আওয়ামী লীগের ব্যাখ্যায় সেক্যুলারিজম হলঃ সব ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা । কিন্তু সেক্যুলারিজম' মানে কি সব ধর্মের স্বাধীনতা বা সব ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা? ড.অভিজিৎ রায় লিখেছেনঃ‘সেক্যুলারিজম’ শব্দটির অর্থ –‘সব ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা’ নয়, বরং এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে একটি মতবাদ, যা মনে করে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি থেকে ধর্মকে পৃথক রাখা উচিৎ।

আমেরিকান হেরিটেজ ডিকশনারীতে secularism শব্দটির সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে এভাবে -The view that religious considerations should be excluded from civil affairs or public education এ সংজ্ঞা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ধর্মকে রাষ্ট্রের কাজের সাথে জড়ানো যাবে না- এটাই সেক্যুলারিজমের মোদ্দা কথা।

ভারত তার জন্মলগ্ন থেকেই 'ধর্মনিরপেক্ষতা'কে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করে এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু রাষ্ট্রীয় কার্যাবলী থেকে ধর্মকে পৃথক রাখাই সঙ্গত মনে করতেন । অথচ সেই ‘ইহজাগিতিক’ ভারতেই রাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণন পঞ্চাশের দশকে ঘোষণা করলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয় বরং সর্ব ধর্মের সহাবস্থান, এবং তিনি Hindu view of life এর কল্পিত ভাববাদী পূর্ণতায় তিনি আস্থাবান। ‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়’ – এই শ্লোগানটি বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী দল আওয়ামিলীগও খুব জোরে সোরে বলার চেষ্টা করে। তবে এ শ্লোগানটির মধ্যেই রয়েছে এক ধরণের ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’।

এ ফাঁকিটি চমৎকার ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তার ‘ইহজাগিতিকতার প্রশ্ন’ প্রবন্ধে: 'ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, এই কথাটা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর পরই খুব জোরেসোরে বলা হচ্ছে। কথাটা সত্য বটে আবার মিথ্যাও বটে। সত্য এ দিক থেকে যে, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা নাগরিকদের এ পরামর্শ দেয় না যে, তোমাদের ধর্মহীন হতে হবে; কিন্তু তা বলে এমন কথাও ... বলে না যে, রাষ্ট্র নিজেই সকল ধর্মের চর্চা করবে, কিংবা নাগরিকদের নিজ নিজ ধর্ম চর্চায় উৎসাহিত করবে। রাষ্ট্র বরঞ্চ বলবে ধর্মচর্চার ব্যাপারে রাষ্ট্রের নিজের কোন আগ্রহ নেই, রাষ্ট্র নিজে একটি ধর্মহীন প্রতিষ্ঠান।, ধর্ম বিশ্বাস নাগরিকদের সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত ব্যাপার। রাষ্ট্রের ওই ধর্মহীনতাকেই কিছুটা নম্রভাবে বলা হয় ধর্মনিরপেক্ষতা।'

এক কথায় ,ধর্মনিরপেক্ষতা হল "ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র সবার "।

সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম সেক্যুলারিজম পরিপন্থি । লেজেহুমো এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্মই বানিয়ে দিলেন সংবিধানে কাঁচি চালিয়ে , সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও কেন আজো সেই সংশোধনী বাতিলের উদ্যোগ নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ সরকার । মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা অন্যতম মুলনীতি সংবিধানে পুনঃস্থাপনে তাদের কেন এত গড়িমসি । আওয়ামী লীগ যদি আদতে সেক্যুলার রাষ্ট্র চায় তবে প্রথমেই রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বাতিল করার কথা কিন্তু এক বছরেও তারা তা' করেনি এবং করতে চায়নি । আওয়ামী লীগ যদি রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বাতিল না করে তবে প্রমানিত হবে তারা আসলে ছদ্ম সেক্যুলার বা ভন্ড ।

 

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ৯:৪৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩৩
অচন্দ্রচেতন বলেছেন: নীতি না গদি? গদি না নীতি? ক্যানট হ্যাভ বোথ।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৫২

লেখক বলেছেন: হুমম !

২. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৬
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: 'নাসারা' (ক্রিশ্চিয়ান) ধর্মের নয়া রুপ হইলো 'আধুনিকতা'(মর্ডানিটি) > আর সেই আধুনিকতার ধর্মভিত্তিক রাজনীতি হইলো 'দুনিয়াদারি'র (সেকুলারিজম) রাজনীতি > সেই রাজনীতিতে খোদায়ী রাজ্য হইলো 'রাষ্ট্র' (স্টেট) > সেই রাষ্ট্র চালানোর শরা-শরীয়ত হইলো 'গনতন্ত্র' (ডেমক্রেসি) > যেই শরীয়তের মধ্যে খোদা তার রাজ্যে বান্দাকে দাখিল হওয়ার সুযোগ দেন শুধু একটা পরিচয়ের ভিত্তিতে ; 'নাগরিক' (সিটিজেন) > রাষ্ট্রে একজন বান্দা শুধু নাগরিক, এইটা ছাড়া আর কোনো পরিচয় দুনিয়াদিরর খোদার কাছে কবুল হয় না।

তো সেইখানে মুসলিম/হিন্দু, বাঙালী/অবাঙালী পরিচয়ের রাজনীতি এতদিন মাইনা চলা হইলো কেমনে ? জবাব তালাশ করা দরকার। আর খোদায়ী রাজ্যকে যারা বলেন একই সাথে গনতন্ত্রী এবং দুনিয়াদার হইতে হবে, তারা কি জাইনা বুইঝা নিজের গোষ্ঠীর সাথে আমাগোরে বিভ্রান্ত করেন? একটা দুনিয়াদার (সেকুলার) রাজ্য বা রাষ্ট্র কি কইরা অ-গনতন্ত্রী হইতে পারে? দুনিয়াদারির রাজ্যব্যবস্থাই তো গনতন্ত্র। রাজ্য যদি গনতন্ত্রী হয় তবে তো তা সেকুলার হইবোই।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৫০

লেখক বলেছেন: মতামতের জন্য ধন্যবাদ ।

৩. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৯
আধার রাতের মুসাফির বলেছেন: ধর্মনিরপেক্ষতা হল "ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র সবার " কিন্তু আসলে কি এটা মানা হয় বরাং এর মাধ্যমে ধর্মের টুটি কে চেপে ধরা হয়। যেমন ফ্রান্স।

আমার মনে হয় ধর্মনিরপক্ষেতা একটা ভন্ডামি মতবাদ।
৫. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৮
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: ব্রাদার, বেয়াদবি নেবেন না। রাষ্ট্র সবার - এই রকম কোন রাষ্ট্র কি বাস্তবে আছে ? নাকি ব্যাপারটি কেবলই থিয়োরি ?
৬. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৯
সৈয়দ মোজাদ্দাদ আল হাসানাত বলেছেন: নিরপেক্ষ আবার কে ? কেউ তো নিরপেক্স হতে পারেনা । বাংলাদেশে তো সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গা হয়না (বাংলাদেশ তো মুসলিম দেশ বলে ঘোষিত হয়েছিল) সাম্প্রদায়ীক সম্পৃতি মডেল হিসাবে যাদের দেখছেন সেই ভারতেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বেশি হয় । যে ধর্ম কেন্দ্রিক দল বিজেপি (বাবরি মসজিদ ভাঙ্গায় যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে ) তাদের কেই জনগন মসনদ এ বসায় । দোহাই আপনাদের ভারত কিংবা পাকিস্থানকে মডেন হিসাবে দাড় করাবেন না এই উপমহাদেশে বাংলাদেশ এ সাথে কাউকে তুলনা করার মত নাই । বাংলাদেশ এর মানুষ সাম্প্রদায়িক নয় (মুসলমান বা হিন্দু বা বৌদ্ধ বা খৃষ্টান) । পাকিস্থান যেমন শোষন করেছে তেমনি ভারত ও অর্থনেতিক ভাবে আমাদের দেশ টাকে শোষন করছে । ভারত মনে করে তারা দেশ কে স্বধীন করে দিয়েছে । এই জন্য তাদের কথা মত বাংলাদেশ চলবে । কিন্তু বাংলার সাধারন মানুষ বুকে মাইন বেধে নিজেকে উতসর্গ করেছে এটাকি বিশ্ব বাসি দেখেনি ?
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৫৪

লেখক বলেছেন: "বাংলাদেশ এর মানুষ সাম্প্রদায়িক নয় "
একমত । তবে 'সাম্প্রদায়িকতা' আমার লেখার আলোচ্য বিষয় নয় ।

৭. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৯
ধীবর বলেছেন: রাস্ট্রধর্ম নিশ্চই দেশের সাধারণ মানুষের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আঘাত করেনি? তাহলে বাংলাদেশ বিরোধী এবং ভারতের কাছে দাসখত লিখে দেয়া মুক্তমনা গোষ্ঠীর এত গাত্র দাহ কেন? মাইনাস।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:০০

লেখক বলেছেন: রাস্ট্রধর্ম নিশ্চই দেশের সাধারণ মানুষের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আঘাত করেছে কি করেনি সেটা তো আমার লেখার আলোচ্য নয় । আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চেচামেচি করে কিন্তু নিজেরা সরকারে থেকে সেক্যুলার রাষ্ট্র করার উদ্যোগ নেয়নি এবং তাদের সমর্থক দালাল বুদ্ধিজীবিরাও কোনো উচ্চবাচ্চ করেনা । এতেই প্রমানিত হয় তারা আদতে ছদ্ম সেক্যুলার ও ভন্ড । এটাই বলতে চেয়েছি ।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:০১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ।

৯. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২২
সৈয়দ মোজাদ্দাদ আল হাসানাত বলেছেন: ধর্ম নিরপেক্ষ খোদ আমেরিকায় কি মুসলমানরা ঠিক মতো ধর্ম পালন করতে পারছে ? পারছে ফ্রান্সের মুসলমানরা ?
১০. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৩০
রিয়াজুল ইস্‌লাম বলেছেন: আওয়ামী লীগ যদি রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বাতিল না করে তবে প্রমানিত হবে তারা আসলে ছদ্ম সেক্যুলার বা ভন্ড ।

একমত।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:০২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ।

১১. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৩৮
সৈয়দ মোজাদ্দাদ আল হাসানাত বলেছেন: যে দেশের রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচন এলে প্রতিশ্রুতির বন্যা মাথায় টুপি আর হাতে তসবিহ নিয়ে , মাজার জিয়ারত এর ধুম পরে যায় সেদেশে কাকে ভন্ড আর কাকে ভালো বলবেন ?
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:০২

লেখক বলেছেন: হুমম !

১২. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৫৯
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: ধন্যবাদ দিছেন। সুখি হইলাম।

আপনেরে সুখি করারও ইচ্ছা ছিল। কিন্তু টাইম এর আর্কাইভ এখন ঠিক এভেলেবল না।
দুনিয়াদারি'র 'প্রকৃত' অর্থ উপলদ্ধি করনেওয়ালা জনাব নেহরুর একখান সেকুলার ছবির কথা মনে পড়লো আপনের লেখা পইরা। যে ছবি মূলত দুনিয়াদার আম্রিকা কিংবা ফ্রান্স কিংবা ইন্ডিয়া র জনজীবনের ছবির কথা মনে কইরা দেয়।

মনে আছে তো? বার্থ অফ এ সেকুলার নেশন ? মওলানা আজাদ এবং আম্বেদকর ?
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:০৫

লেখক বলেছেন: আবারও ধন্যবাদ । আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চেচামেচি করে কিন্তু নিজেরা সরকারে থেকে সেক্যুলার রাষ্ট্র করার উদ্যোগ নেয়না এবং তাদের সমর্থক দালাল বুদ্ধিজীবিরাও কোনো উচ্চবাচ্চ করেনা । এতেই প্রমানিত হয় তারা আদতে ছদ্ম সেক্যুলার ও ভন্ড । এটাই বলতে চেয়েছি ।

১৩. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:১৩
জাহিদ পারভেজ বলেছেন: আমাদের দেশের সেক্যুলারিজম পন্থি দল বা নেতারা কি এক বার আমেরিকার ইলেকশনের ( যাদের কে আমরা সেক্যুলারিজম পন্থি বলে জানি বা মানি ) সময় এদেশে এসে দেখে যাবেন এখানকার ইলেকশনের সময় প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা কত বার চার্চে দৌড়াই ।কারণ টা হয়তো বলার প্রয়োজন নাই। এরা যদি সত্যকার অর্থে সেক্যুলার হত তবে তো আর চার্চে দৌড়ানোর প্রয়োজন হত না।
৯/১১ পর থেকে কি ,ধর্ম নিরপেক্ষ আমেরিকা,ফ্রান্সের মুসলমানরা ঠিক মতো ধর্ম পালন করতে পারছে ?এরা যদি সত্য সত্যই ধর্ম নিরপেক্ষ হতো তবে এমন তো হবার কথা নয় এ সব দেশে।
আসলে ধর্ম নিরপেক্ষতা বলতে কিছু নেই।এগুলি সব রাজনিতী আর নেতা নেত্রীদের ইলেকশনে জেতার জন্য সস্তা বুলি ।
১৪. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:১৮
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: সেইটা তো ঠিকই আছে। উগ্র সাম্প্রদায়িক বাঙালী জাতীয়তাবাদ-এর (যেইটার আদতে জন্ম ঔপনিবেশিক কলকাতার হিন্দুত্ববাদী শোষকশ্রেনীর মধ্যে) রাজনীতি আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পরে যেইখানে আইনা দাড় করাইছে, সেইখানে এইগুলান তো জানা কথা। 'দুনিয়াদারি' (সেকুলারিজম) হইলো আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির অতি নিচুমানের উপাদান। এইগুলান তো পুরান কথা।

কিন্তু অ-ভন্ড দুনিয়াদারিতে আমরা ইমানদার হইলাম ক্যামনে? সেই জবাব যদি আপনে আমি নিজেদের মধ্যে তালাশ করতাম তাইলে মনে হয় (আওয়ামী ভন্ডামীর বিবেচনা বাদ দিয়াই) আমরা নিজেগো অভন্ডতা যাচাই কর্তে পারতাম।

আমারা যারা অভন্ড সেকুলার, আমাগো যে মনে হয়-
'প্রায় সব ক্ষেত্রেই ধর্ম দাঁড়ায় ধর্মান্ধতা, প্রতিক্রিয়াশীলতা, মূঢ়তা, কুসংস্কার আর বিশেষ মহলের ইচ্ছার প্রতিভূ হিসেবে।'

আর তার বিপরীতে-
'নাসারা' (ক্রিশ্চিয়ান) ধর্মের নয়া রুপ তথা 'আধুনিকতা'(মর্ডানিটি) আর সেই আধুনিকতার ধর্মভিত্তিক রাজনীতি তথা 'দুনিয়াদারি'র (সেকুলারিজম) রাজনীতি মানেই হইলো - অধর্মান্ধতা, অপ্রতিক্রিয়াশীলতা, অমূঢ়তা, অকুসংস্কার ইত্যাদি।


এইটা কেন মনে হয়?


তাছাড়া কোন 'ধর্ম' এত 'অ' একসাথে ধারন করে? সেইটা কি 'সেকুলার' যেইটারে 'ধর্ম' বইলা শনাক্ত করে সেই ধর্ম?

এইটা কি আমরা নিজেরা নিজেগো চিন্তা দিয়া ধার্য করছি? একটু তালাশি দিয়া দেখা দরকার।
১৫. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২৮
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: কেন আপনের মনে হয়? যে রাষ্ট্র যদি দুনিয়াদার খোদার রাজ্য হয় তাইলে রাষ্ট্র সবার হয় ?

কারন এই রাষ্ট্রে আসমানের খোদার কারবার নাই বইলা বলা হয়! তাইতো ?
এই রাষ্ট্রের সমাজে সব ব্যক্তি নাগরিক সরাসরি অংশ নিতে পারে, বিশেষ মহলের ইচ্ছা আর খোদা রুপে হাজির হয় না, তাইতো মনে হয় আপনার ?

একটা তালাশি দেন দেহি নীচে-

আজকালের উদার গণতন্ত্রের ধাঁচ থেকেই প্রস্তাবনার পক্ষে একটি শক্তিশালী নজির দেখানো যায় যে, নির্বাচক জনগণ ও তার সংসদীয় প্রতিনিধিদের মাঝে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর সরাসরি সংযোগসূত্র বিদ্যমান। সাংস্কৃতিকভাবে ভিন্নতর ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক নির্বাচক জনসংখ্যার আর্থ-সামাজিক স্বার্থ, পরিচয় ও আকাঙ্ক্ষার অনেক এবং অনেক কম প্রতিনিধিত্ব করে প্রতিনিধিরা। শাসনব্যবস্থার সাথে যুক্ত সংসদ বর্হিভূত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নাগরিকের প্রত্যক্ষ প্রতিফলনের অনুপস্থিতি’র ক্ষতিপূরণ হয়না। অন্যদিকে, সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর চাপ-প্রয়োগকারী গোষ্ঠী সমুহের প্রভাব, যেই নির্বাচক জনগোষ্ঠী সরাসরি নিজেদের স্বার্থ রক্ষার কর্তৃত্ব অর্পণ করে তাদের প্রভাবের চেয়ে বেশি না হলে অনেক প্রকাশ্য। (উদাহরণস্বরূপ, ব্রিটেনের ফার্মার্স ইউনিয়িন; এবং যুক্তরাষ্ট্রের এইপ্যাক ও অয়েল লবি)। মতামত জরিপ, নাগরিকদের নড়বড়ে সামষ্টিক মতামতের ওপর অবিরামভাবে নজরদারি করে, সরকারকে নির্বাচন মধ্যবর্তী জন-মনোভাবের বিষয়ে ওয়াকেবহাল রাখে, এবং নির্বাচনে ভোটদান সংক্রান্ত মতামত আঁচ ও প্রভাবিত করতে সরকারকে সক্ষম করে। চুড়ান্তভাবে গণমাধ্যম, যা ক্রমবর্ধমানহারে বাণিজ্যিক গোষ্ঠীসমূহের মালিকানায় চলে আসছে এবং প্রায়ই রাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা করছে; তারা জনগণের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং এর নিশ্চয়তা ও আশংকার মনোভাবের মাঝখানে থেকে মধ্যস্থতা করে। এভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহে এই সমাজ (উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক সমাজ) কোনোভাবেই প্রত্যক্ষ-অংশগ্রহণমূলক সমাজ নয়। এখানে এমন কোনো পরিসর নেই যেখানে সব নাগরিক মুক্ত ও সমানভাবে একজন আরেকজনের সাথে আলাপালোচনা চালাতে পারে। জনজীবনে আলাপালোচনার অস্তিত্ব কেবল দল নেতা, আমলাতান্ত্রিক প্রশাসক, সংসদীয় আইন প্রণেতা ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই অভিজাতদের মতো সাধারন নাগরিকরা নীতি নির্ধারনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় না—নির্দিষ্ট সময় পর পর নাগরিকের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এমনকি যে নীতির সপক্ষে নাগরিক ভোট দিলো সেটা তা মেনে চলার নিশ্চয়তাও দেয় না।
১৬. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩৫
মন যাযাবর বলেছেন: রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মের অনুভুতি ঠোকানো যাবে না। এই তত্ত্বীয় কথা কে মানছে বলুন? প্রথম বিশ্বের সুবিধানুযায়ী পৃথিবীর সকল সিদ্ধান্ত ধর্মের অবস্থান উপরই হচ্ছে। কেউ কেউ অবশ্য বলেন অর্থনৈতিক অবস্থানের উপর.....।
দেখুন ভাই ভন্ডামী সব জায়গায়। সাধারনের ছেলে ধর্ষন করলে ঐ সাধারন লজ্জায় চুপশে যায়। তাকে চুপশানো হয়। চ্যায়ারমেনের ছেলে করলে চ্যায়ারমেন লজ্জা পান না। "দুষ্ট ছেলেপেলে যে কি করে...." বলে উনি অন্য কাজে নজর দেন।
দুনিয়ার সব কু-সিদ্ধান্তে প্রথম বিশ্বের কোন লজ্জা পান না। অথচ আমাদের তৃতীয় বিশ্বের বুদ্ধিজীবিদের লজ্জা অনেক। আমাদেরও।
শক্তি প্রথম, তত্ত্ব পরে।
স্বার্থ আগে, লজ্জা পরে।
আগে জিতি, পরে নিয়ম দেখব।
১৭. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১৯
রাহা বলেছেন: জ্বি..ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র হোক সবার...
১৮. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৩২
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: আজকে সার্চ দিয়ে পেলাম ব দ রু দ্দী ন উ মরের নিচের লেখা । লিখেছেন ১০ জানুয়ারি যুগান্তরে .



ধর্মনিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে আ’লীগের ডিগবাজি



১৯. ২৫ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৫:৪৮
সুবিদ্ বলেছেন: শিরোনামের সাথে একমত, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার...

আমি সোজাভাবে মনে করি আমাদের রাষ্ট্র ধর্মের ভিত্তিতে তার নাগরিকদের সাথে কোন বৈষম্য করবেনা, এটাই ধর্মনিরপেক্ষতা। এখন ধর্মকে রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ড থেকে বিযুক্ত করা অবাস্তব। যেমন: এখন হজ্জ্বের মৌসুম, রাষ্ট্র কি হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে? বা কয়েকদিন আগে সমাপ্ত দুর্গাপূজায় অনুদান দেয়া বন্ধ করে দেবে? এককথায় উত্তর হলো, না...

আর সংবিধান থেকে ঐ শয়তান আর ভন্ডের শিরোমনি লেজেহুমুর যোগ করা রাষ্ট্রধর্ম অবশ্যই বাদ দেয়া উচিত, কিন্তু জনগনের প্রয়োজনেই রাষ্ট্রকে ধর্মের পালন, লালন, বিকাশ, সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং অপব্যবহার ঠেকানোর সবরকম উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে।

একটা সংশোধনী: ভারত তার জন্ম থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূলনীতি হিসেবে ঘোষনা দেয়নি, ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৬সালে তা সংযোজিত হয়েছে।



 

মোট সময় লেগেছে ১.৫২২৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ঢাবি হতে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর । আগ্রহের বিষয় কবিতা-দর্শন-বিজ্ঞান । ১৯৯০'র দশকের শুরু থেকে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেনীর জাতীয়...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই