আমার প্রিয় পোস্ট

পরাজিত হতে হতে আমি উঠে দাড়িয়েছি এবার ফিরে যাবো না খালি হাতে, স্তব্ধতা আর সৌন্দর্যের পায়ে পায়ে এগিয়ে যাই যে কবি সে কখনো খালি হাতে ফিরে যেতে পারে না ।

অফেন্ডিং জিয়া ১ : স্বাধীনতার ঘোষণা পর্ব

১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৩৬

শেয়ারঃ
0 29 0


( ট্রেলার পোস্ট : অফেন্ডিং জিয়া তে বলা হয়েছিল এই সিরিজটি আমরা মানে আমি আর অমি রহমান পিয়াল যৌথভাবে লিখছি । তবে, আমাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক (আসলে আমি ব্যস্ত থাকায় এই পর্বে ফাঁকি দিয়েছি ) েই পর্ব লিখেছেন পিয়াল ভাই । আমার অংশগ্রহন থাকবে মন্তব্যের ঘরে । যে কারো , যে কোন মতামতের জন্য আমন্ত্রন তবে প্রাসঙ্গিক মন্তব্য বা গঠনমুলক সমালোচনার জন্য আগাম ধন্যবাদ । অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যেরজবাব দেয়া থেকে বিরত থাকব প্রসঙ্গে থাকার নিমিত্তে এবং সময় -শ্রম বাচাতে । )
এই পর্বের ভূমিকা : জিয়াউর রহমানকে লিখতে বসলেই এসে পরে স্বাধীনতার ঘোষণা। কে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন? মুজিব না জিয়া এই রাজনৈতিক বিতর্কে জেরবার আমাদের ইতিহাস। অনেক ঝামেলার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিয়া ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এই দাবী থেকে সরে এসেছে। এটা সম্ভব হয়েছে খোদ জিয়ার লিখিত একটি স্মৃতিকথা ও ভিডিও ফুটেজ দাখিলের পর। কিন্তু ইতিহাস দখলের প্রবণতাটা আগের মতো আছে তাদের। তালিকায় সর্বশেষ যোগ হয়েছে জিয়াই বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট, তার ডাকেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, আমরা স্বাধীন হয়েছি। এই দাবীর পেছনে সেই ঘোষণাই। কোন ঘোষণা! এখানে তাহলে আমলে নিতে হবে কালুরঘাট থেকে জিয়া মোট কয়টি ঘোষণা দিয়েছেন। কবে কবে? প্রথমে বঙ্গবন্ধুর নামে ঘোষণা দেওয়ার পর হঠাৎ নিজেকেই কেনো রাষ্ট্রপ্রধান ও সামরিক বাহিনীর প্রধান ঘোষণা করলেন নতুন করে। কেনোই বা সেটা পাল্টে ফেললেন! তথ্য জোড়া দিয়ে যা দাড়িয়েছে সেটা স্পাই থ্রিলারের সঙ্গে পাল্লা দেবে। বেরিয়ে আসে একজন অবাঙালীর (!) প্ররোচনায় কতখানি কনভিন্সড হয়ে জিয়া এমন ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। সেদিক থেকে এটা মোটেও স্বাধীনতার ঘোষণা বিতর্ক নিয়ে আরেকটি প্রামান্য পোস্ট নয়। বরং নেপথ্যের চাপা পড়া একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে লাইমলাইটে আনা। পাঠকদের আবারও বলি পোস্টের প্রসঙ্গে থাকার চেষ্টা করুন। আগামীতে যেসব পর্ব আসবে সেগুলো নিয়ে আগবাড়িয়ে প্রেডিকশনে যাবেন না।

অখ্যাত মেজর!

শুরু হোক একটি ভুল সংশোধনের মাধ্যমে। স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে জিয়ার বিরোধিতায় অনেকের মুখে একটা কথা প্রায় শোনা যায়। ‘কোথাকার কোন অখ্যাত মেজর এসে রেডিওতে ঘোষণা দিলো আর হয়ে গেলো...!’ এই অখ্যাত মেজর কথাটি মারাত্মক ভূল সম্বোধন। মুক্তিযুদ্ধের আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বীরত্বের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন হাতেগোনা বাঙালী অফিসার। মেজর জিয়া তাদেরই একজন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে হিলাল-ই-জুরাত পদক জোটে তার (সূত্র : উইকিপিডিয়া ও পাক ডিফেন্স ফোরাম)। পাক সেনাবাহিনীর এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বের পদক (নিশান-ই-হায়দার হচ্ছে সর্বোচ্চ যা জীবিতরা পান না, যেমন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ। ৬ বছর পর নামের পরে সেই ইনিশিয়াল বদলে বীরউত্তম লেখার সৌভাগ্য হয় তার। দুটো আলাদা দেশের সেনাবাহিনীর হয়ে বীরত্বের পদক জেতা অফিসারদের তালিকায় জিয়াও আছেন)। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে জিয়া তাই মোটেও অখ্যাত কেউ নন। বরং এত বিখ্যাত যে একজন বিদেশী তার ছবি পকেটে নিয়ে ঘোরেন!


রহস্যময় আগন্তুক

...কক্সবাজার যাওয়ার পথে কালুরঘাট ব্রীজ পেরুলেই রাস্তাটা একটা ঢালের তীক্ষ্ম বাক নিয়েছে। তারপর এগিয়ে গেছে সোজা পটিয়া, দুলাহাজরা এবং কক্সবাজার হয়ে মূল ভুখন্ডের সর্ব দক্ষিণের প্রান্ত টেকনাফের দিকে। ঢালের শেষ মাথায়, যেখানে রাস্তাটা আবার সোজা হয়েছে একটা পেট্রোলপাম্প আছে। পাম্পটা ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, অন্ধকারে ডুবে ছিল জায়গাটা। একপাশে কিছু গাছের গুড়ি স্তুপাকারে রাখা, কিছু খালি বাসও ছিলও এখানে। পলায়নপর ড্রাইভাররা ফেলে রেখে গিয়েছিল। পাম্প স্টেশনের আশেপাশে গোটাকতক গাড়ী আর পিকআপও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা ছিলো। ক্রমশ রাত ঘনিয়ে এলো। রাত তখন আটটা। একটা গুড়ির উপর বসে কথা বলছিলাম আমি আর অলি। একটা বাসের ভেতর বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন জিয়া। হঠাৎ একটা লোককে এগিয়ে আসতে দেখলাম আমরা। মোটামুটি দীর্ঘকায়, চমৎকার চেহারা, মাথায় লম্বা চুল, বয়স মধ্য ত্রিশের মতো হবে। আগন্তুক আমাদের কাছে এসে জানালেন, জিয়ার খোজ করছেন তিনি। মুখ চাওয়াচাওয়ি করলাম আমি আর অলি। কারণ ওই অবস্থায় ব্যাপারটা কেমন যেন রহস্যময় মনে হচ্ছিল। যাহোক, আমরা তার পরিচয় জানতে চাইলাম। জিয়াকে তিনি চেনেন কিভাবে? কিন্তু পরিচয় বা উদ্দেশ্য জানাতে রাজী হলেন না ভদ্রলোক। জিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য জোর করলেন। আমি চমৎকার আমেরিকান উচ্চারণ ভঙ্গীতে আলাপরত আগন্তুককে নিয়ে ব্যস্ত। ঠিক তখন ক্যাপ্টেন অলি গিয়ে জিয়াকে নবাগতের উপস্থিতির কথা জানালেন। একটু বাদেই অলি ফিরে এসে বললেন, ভদ্রলোককে বাসের ভেতর নিয়ে যেতে বলেছেন জিয়া। আগন্তুককে নিয়ে আমরা বাসে অপেক্ষারত জিয়ার কাছে এলাম। জিয়া আমাদের দুইজনকে বেরিয়ে যেতে ইশারা করলেন। আগন্তুককে আগেই তল্লাশী করা হয়েছিল, জিয়ার একখানা ফটোগ্রাফ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি তার কাছে। আগন্তুকের সঙ্গে জিয়াকে একা রেখে বেরিয়ে এলাম আমরা।... (মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় প্রথম প্রতিরোধ : লে.জে মীর শওকত আলী, গোলাম মোস্তফা সম্পাদিত অনন্য জিয়াউর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আগস্ট ২০০৪)

২৭ মার্চের সে রাতের ঘণ্টাখানেক একান্ত আলাপচারিতার পর আগন্তুক যখন বেরিয়ে গেলেন, জিয়া তার পরিচয় দিলেন সঙ্গীদের। লোকটা আমাদের বন্ধু, আমাদের একটা উপকার করতে চায়। কি উপকার, কি তার ধরণ সে আলোচনায় একটু পরেই আসছি। কিন্তু মীর শওকতের লেখায় বা আর কোথাও সেই ফটোগ্রাফের রহস্য মেলে না। কিভাবে একজন বিদেশীর বুকপকেটে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অফিসারের ছবি এলো তা জানা হয় না আমাদের। তার আগেই অবশ্য বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তার স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণাটা পড়ে ফেলেছেন।



এবং জিয়াই প্রথম নন

চট্টগ্রাম শহরে প্রতিরোধ লড়াইটা ঢাকার ঘণ্টা কয়েক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিলো। এর নেতৃত্বে ছিলেন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের ক্যাপ্টেন রফিক। ২৫ মার্চ রাতে জিয়া যখন পরিস্থিতি আরো ভালো করে বোঝার জন্য ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যদের নিয়ে পটিয়ার দিকে সরে গেছেন (চট্টগ্রাম থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ), রফিক তার সীমিত লোকবল ও সামর্থ্য নিয়েই জোর লড়াই লড়ছেন। সেদিন রাত দুটোয় রেলওয়ে হিলে রফিকের ট্যাকটিকাল হেডকোয়ার্টারে আমরা একই আগন্তুকের দেখা পাই।

আগন্তুকের নাম বা পরিচয় রফিক দেননি। মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা তার লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে বইতে আমরা জানতে পারি একটি বিদেশী রাষ্ট্রের তরফে তাকে সামরিক সাহায্যের প্রস্তাব দেন ব্যক্তিটি। শর্ত তার সঙ্গে কক্সবাজার যেতে হবে। ‘আমি যেতে পারবো না, আমি ছাড়া এখানে আর কোনো অফিসার নেই। রফিকের প্রত্যাখানের পর অপরিচিত লোকটি তাকে বিকল্প প্রস্তাব দেন রেডিওতে ভাষন দেওয়ার। আগের গ্রাউন্ডে এবারও প্রত্যাখ্যান করলেন রফিক। বরং একটি টেপ রেকর্ডার এনে তার ভাষণ রেকর্ড করে নেওয়ার পাল্টা প্রস্তাব দিলেন। রফিক লিখেছেন, এরপরেও অপরিচিত আগন্তুক তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য আমার উপর এত চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন যে আমি খুবই সন্দিহান হয়ে পড়লাম। পুরা বিষয়টা পাকিস্তানীদের ফাঁদ হওয়া বিচিত্র নয়- আমি ভাবলাম। আমাকে রাজী করাতে না পেরে তিনি রেকর্ডিং যন্ত্রপাতি নিয়ে আবার আসা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু ভদ্রলোক আর কখনও ফিরে আসেননি। পরে আমি জানতে পেরেছিলাম যে তিনি বাঙালি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের অন্য একটি দলের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদেরকে কক্সবাজারের দিকে যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করেছিলেন। হয়তো কক্সবাজারের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের স্থান থেকে বাঙালি সৈন্যদেরকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া। শেষ পর্যন্ত জনগণ অবশ্য তাকে সন্দেহজনক কার্যকলাপের কারণে মেরে ফেলে। তবে তার এসব কার্যকলাপের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কি ছিল সেটা হয়তো আর কখনোই জানা যাবে না।

পরিচয় এবং বেলাল মোহাম্মদের সত্য গোপন

মাহমুদ হোসেন নামে আমাদের আলোচিত রহস্যপুরুষটির জাতীয়তা এবং পরিচিতি সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী তথ্য রয়েছে। মীর শওকত তার চোস্ত আমেরিকান ইংরেজীতে মুগ্ধ, রফিকের মনেই হয়নি তিনি বাঙালী। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সফল রূপকার বেলাল মোহাম্মদ নিশ্চিত করেছেন তিনি বাঙালী। কিন্তু বেগম মুশতারী শফি তাকে উল্লেখ করেছেন ভারতীয় বলে। বাংলাদেশে কবে থেকে আছেন এবং কি উদ্দেশ্যে এটা নিয়েও দুজনের মন্তব্য দুই ধরণের। এখানে না বললেই নয় সে সময় এনায়েত বাজারে ডাক্তার শফির বাসাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের লোকদের একটি আড্ডা গড়ে উঠেছিলো এবং বেলাল মোহাম্মদ ছিলেন সেখানকার নিয়মিত অতিথি। এটাও বলতে হবে যে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বেলাল মোহাম্মদ যে কটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন তাতে তিনি মিথ্যে না বললেও সত্য গোপন করে গেছেন। কৌশলে আড়াল করেছেন মাহমুদ এপিসোড। কখনও তার লেখায় এসেছে গাড়ী চালাচ্ছিলেন আমার এক বন্ধু, এমনকি বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমে দেওয়া সাম্প্রতিকতম সাক্ষাতকারটি তেও একবারই মাহমুদের উল্লেখ ছিলো তার মুখে। সেখানে তাকে আগ্রাবাদ হোটেলের প্রোমোটার জাতীয় কিছু বলা হয়েছে। ভিডিওতে তার নাম বলা হলেও যিনি সেটি শুনে শুনে লিখেছেন, তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ঠেকেনি মাহমুদ হোসেনকে, তাই বাদ দিয়েছেন!


আর বেলাল মোহাম্মদের ব্যাপারটা হলো উনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নিয়ে একটি বই লিখেছেন। এরপর স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক নিয়ে বিডিনিউজের আগে ডয়চেভেলে ও তার একটি সাক্ষাতকার রয়েছে সবক্ষেত্রেই তিনি বইয়ের বক্তব্যটি ধরে রেখেছেন। কালুরঘাট ট্রান্সমিশন সেন্টারটি চালু করা, সেটার প্রতিরক্ষার জন্য রফিককে না পেয়ে পটিয়া থেকে জিয়াকে নিয়ে আসা। তারপর কৌতুকছলে বলা এখানে তো সবাই মাইনর, আপনিই একমাত্র মেজর, আপনি আপনার নামে একটি ঘোষণা পড়ুন না। কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই জিয়া তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেছেন। সুস্পষ্টভাবেই এসবের কৃতিত্ব বেলাল নিজের বলেই দাবি করছেন। এমনকি আঙুলে গুনে জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠকারী নবম ঘোষক, সম্মানী হিসেবে ১৫ টাকার ভাতা পেতেন তখনকার ঘোষকরা- এজাতীয় রসিকতাও আছে তার বয়ানে।
চারদিনের ওই শব্দ-লড়াইয়ে (প্রোপোগান্ডামূলক প্রচারণা অর্থে) বেলাল মোহাম্মদদের কৃতিত্ব কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু একটু ঘাটাঘাটি করলেই ছায়া এবং কায়াকে আলাদা করে ফেলা যাচ্ছে। রফিকের মুখেই আমরা শুনেছি ২৫ মার্চ রাত দুটোয় তার কাছে এসেছিলেন মাহমুদ। রেডিওতে ঘোষণা পাঠের আব্দার নিয়ে। বেলালরা কালুরঘাটের ওই ট্রান্সমিশন সেন্টারটি মূল বেতারের বিকল্প হিসেবে চালু করার পেছনে মূল মন্ত্রণাদাতাটিও ক্ষুরধার মাহমুদ হোসেনের মাথা থেকে বেরিয়েছে ধরলে অনেক হিসেবই দুয়ে দুয়ে চারের মতো মিলে যায়। মিলিয়ে দেন বেলাল নিজেই। ২৬ মার্চ সন্ধ্যার পর তারা ওই বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র চালু করে অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেন। রাতে যখন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ হান্নান সেখানে গেলেন, তিনি বললেন এই ট্রান্সমিটার দিয়ে তিনি সেদিন দুপুরেই একদফা ঘোষণা পাঠ করে গেছেন (বিডিনিউজে বেলাল মোহাম্মদের সাক্ষাতকার ২য় পর্ব)। বইয়ে মূল বেতারের কথা বলে এড়িয়ে গেলেও সাক্ষাতকারে আর সেটা অস্বীকার করেননি। কথা হচ্ছে হান্নান কিভাবে এই ট্রান্সমিশন সেন্টারটি ব্যবহার করলেন, কে তাকে দিয়ে ঘোষণা পাঠ করাতে সাহায্য করেছে। বেলাল মোহাম্মদ এড়িয়ে গেছেন, আমার ধারণা উত্তরটা তার জানা। এবং মুশতারী শফিই আমাদের জানিয়ে দেন যে ২৭ মার্চ সকালে তার বাসা থেকেই গাড়ী করে বেলালকে নিয়ে পটিয়া রওনা দেন মাহমুদ। অথচ বেলাল স্মৃতিচারণে এই যাত্রাকে এক বন্ধুর গাড়িতে বলে চালিয়ে দিয়ে নিজেকে বসিয়ে রেখেছেন ড্রাইভারের পাশের আসনে।



আসা যাক বেলাল কিভাবে মাহমুদকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। মাহমুদ হোসেন নিজেকে মূখ্য চরিত্রে রেখে ‘অরিজিন অব হিপ্পিজম’ নামে একটা ছবি তৈরীর পরিকল্পনা নিয়েছিলেন যার প্রেক্ষাপট ভারতবর্ষ। পাশাপাশি তুলে ধরেছেন তার বিপ্লবী চরিত্র। লন্ডনে আইউব খানের এক সভায় নাকি বোমা হামলা চালিয়েছিলেন ভাইয়ের সঙ্গে মিলে। আর মুশতারী শফির বইয়ে ঠিক উল্টো চিত্র পাই আমরা। এখানেই আমরা জানতে পারি সাবেক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের ভাতিজি ভাস্করপ্রভার স্বামী মাহমুদ হাসান। ২৭ মার্চের রোজনামচায় মুশতারী লিখেছেন : ... এ সময় মাহমুদ হোসেন নামে একজন লোক এলো আমার বাসায় বেলাল ভাইকে কোথায় যেন নিয়ে যেতে। মাহমুদ হোসেন ভারতীয় লোক। থাকে কখনও লন্ডন, কখনও আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায়। তার স্ত্রী নাকি ভারতের জনতা পার্টির নেতা মোরারজী দেশাইর ভাইঝি। নাম-ভাস্করপ্রভা। তিনি প্রায় মাসকয়েক হলো বাংলাদেশে এসেছেন। উদ্দেশ্য বাংলাদেশের পল্লীগীতি ও বাউল সংগীতের উপর ধারাবর্ণণা সহকারে লং প্লের রেকর্ড বের করবেন। বেলাল ভাইয়ের সাথে তার চুক্তি সংগ্রহীত গানের ধারাবর্ণনা লিখে দেবার। উঠেছেন আগ্রাবাদ হোটেলে। চট্টগ্রাম রেডিওর সঙ্গীত প্রযোজক রামদুলাল দেবের সাথেও তার সখ্যতা গড়ে উঠেছে। উনি শিল্পীদের সংগ্রহ করে গানের রিহার্সেল করেন, রিহার্সাল হয় আগ্রাবাদ হোটেলেই। বেলাল ভাইও সেখানে যেতেন। প্রায় ৬ ফিটেরও ওপর লম্বা কালো লোক, মাথাভর্তি কোকড়া ঝাকড়া চুল। দেখলে ভয় লাগে। আজ এসেছেন একটা কালো মরিস মাইনর গাড়ী নিয়ে, গাড়ীতে দুজন ইপিআর জোয়ান গাড়ীর দুপাশে বন্দুকের নল বের করে। তার সাথে আরো এসেছেন আগ্রাবাদ হোটেলের সহকারী ম্যানেজার ফারুক চৌধুরী। কেন এসেছেন মাহমুদ হোসেন? কোথায় নিয়ে যেতে চান বেলাল ভাইকে? ডাক্তার শফিকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বেলাল ভাই বললেন, ‘মাহমুদ হোসেন এসেছেন আমাকে নিয়ে যেতে চান সীমান্তের ওপারে অস্ত্র সাহায্যের জন্য।’আমিও কথাটা শুনলাম। শফি আতকে উঠে অনেকটা ধমকের সুরেই বললো, খবরদার বেলাল, এ কাজে তুমি কিছুতেই যাবে না ওর সাথে। বেলাল ভাই বললো, ঠিকাছে সীমান্তের ওপারে যাবো না, তবে পটিয়া পর্যন্ত যাই। শুনেছি বাঙালী সৈন্যরা এখন নাকি ক্যান্টনমেন্ট এবং শহর ছেড়ে পটিয়ার দিকে গেছে। সেখান থেকে কিছু আর্মড গার্ড নিয়ে আসি। কারণ কালুরঘাট ট্রান্সমিটার ভবনটি এখন নিরাপদ নয়। ও আর এই কাজে বাধা দিলো না। বেলাল ভাই চলে গেলো মাহমুদ হোসেনের সাথে। (স্বাধীনতা আমার রক্তঝরা দিন, পৃষ্টা- ১০৪)


সিআইএর চর!



বেগম মুশতারী শফির ভাষ্যটাই সমর্থন করেছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা লে.কর্ণেল নুরুন্নবী বীরবিক্রম। মাহমুদ হোসেন সম্পর্কে যাবতীয় খোজখবরের সূত্রপাতও তিনিই। জীবনের যুদ্ধ : যুদ্ধের জীবন (কলম্বিয়া প্রকাশনী) নামে একটি বই আছে তার লেখা। সেখানেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রামগড় জেডফোর্স হেডকোয়ার্টারে জিয়ার সঙ্গে মদ্যপানের (রাম) ফাঁকে ফাঁকে নানা আলাপচারিতার উল্লেখেই। সেখানেই আমি প্রথম পাই মাহমুদ হাসানকে। মিসিং লিংকগুলো জোড়া দেওয়ার প্রয়াসও তখন থেকেই। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক অনুষ্ঠান শেষে নুরুন্নবীকে আমরা ধরেছিলাম কথাগুলোর ব্যাখ্যা চেয়ে। সঙ্গী ছিলেন সাংবাদিক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা (সামরিক বাহিনীতে গণহত্যা খ্যাত) আনোয়ার কবীর। নুরুন্নবী আমাদের রেকর্ড করতে দেননি, তবে জানিয়েছেন শিগগিরই তার একটি বই বেরোবে যাতে এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ থাকবে। তিনি যা বলেছিলেন তাই স্মৃতি থেকে হুবহু তুলে দেয়া হল :
ওই লোকের পুরো নাম মাহমুদ হাসান। '৭০ এর নির্বাচনের পর থেকেই সে চট্টগ্রাম হোটেল আগ্রাবাদে স্থায়ী আবাস নেয়। লন্ডনে পড়াশোনার সুবাদে মোররাজী দেশাইর ভাতিজির সঙ্গে প্রেম ও বিয়ে। বাংলাদেশের লোক সঙ্গীতের উপর গবেষণা ও তথ্য চিত্র নির্মাণের কথা বলে সে স্থানীয় মহলে বেশ খাতির জমিয়ে তোলে। তার গুনমুগ্ধদের মধ্যে ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র খ্যাত বেলাল মোহাম্মদসহ অনেকেই। বেগম মুশতারী শফির স্মৃতিকথায়ও উল্লেখ আছে মাহমুদের। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ করার ব্যাপারে অগ্রগণ্যদের একজন ছিলেন মাহমুদ। জিয়া বেশ কয়েকবারই বিভিন্ন উপলক্ষ্যে এই গল্প করেছেন তার অধীনস্থদের কাছে। নুরুন্নবীর ভাষ্য অনুযায়ী মাহমুদ জিয়াকে হাস্যকর যুক্তিতে কনভিন্স করেন এই বলে যে পূর্ব পাকিস্তানে সিআইএর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি এবং জিয়া যদি একটি বিপ্লবী পরিষদ গঠন করেন এবং নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেন তাহলে ফিলিপাইন থেকে একদিনের মধ্যে ৭ম নৌবহরকে তার সাহায্যে নিয়ে আসবেন মাহমুদ। ২৭ মার্চ জিয়ার প্রথম ঘোষণাটার এটা অন্যতম রহস্য। যদিও উপস্থিতদের চাপে এরপর তিনি ঘোষণা পাল্টান। মাহমুদ জিয়ার ছাড়পত্র, আগ্রাবাদ হোটেলের পিআরও এবং ক্যাশিয়ার ফারুক ও গনি এবং ইস্ট বেঙ্গলের দুজন সিপাই নিয়ে কক্সবাজার রওয়ানা দেন জনৈক উকিলের সঙ্গে দেখা করতে। এরমধ্যে মীর শওকত এবং খালেকুজ্জামানও রওয়ানা হন। পথে দুলহাজারায় একটি ব্যারিকেডে না থেমে এগিয়ে যায় মাহমুদের মরিস মাইনর। পরের ব্যারিকেডে উত্তেজিত জনতা চড়াও হয় তাদের ওপর। মাহমুদ বাংলা বলতে পারতেন না, তাকে বিহারী বলে হত্যা করে উন্মত্ত স্থানীয়রা। মাত্র একজন সিপাই প্রাণ নিয়ে কোনো মতে পালিয়ে আসে। কিন্তু জিয়ার দেখা পাননি, কারণ ২৮ মার্চ জিয়া অলি আহমেদকে নিয়ে নিজেই কক্সবাজার যান। বাংলা ভালো বলতে পারেন না বলে তারও একই সমস্যা হয়, কিন্তু চট্টগ্রামের স্থানীয় অলি সে যাত্রা পার করিয়ে নেন তাকে। কক্সবাজার পৌছে সপ্তম নৌবহরের কোনো দিশা পাননি জিয়া। খোজ মেলেনি শওকতেরও। যিনি রিপোর্ট করেন ৭ এপ্রিল।



খানিকটা ফাঁক রয়েছে নুরুন্নবীর বক্তব্যে। প্রথমত জিয়া ২৭ মার্চ যে ভাষনটি দেন তাতে নিজেকে সরকার প্রধান দাবী তিনি করেননি। করেছেন ২৮ মার্চের ভাষণে (যা লে. শমসের মুবিন চৌধুরী বেশ কয়েকবার পাঠ করেন), তৃতীয় দফা ভাষনে (মাহমুদের মৃত্যুর পর আবার পাল্টে দেন ভাষা)। আবার মীর শওকতের ভাষ্য অনুযায়ী রাত ৮টার দিকেই জিয়ার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাত মাহমুদের। তার অর্থ পটিয়ায় তিনি এ বিষয়টি নিয়ে মুখোমুখি হননি জিয়ার। আর জিয়ার প্রথম ভাষণটি প্রচার হয় ৭টা ২০ মিনিটে (বেলাল মোহাম্মদের সাক্ষাতকার)। সেক্ষেত্রে পরদিন জিয়ার ভাষণ এবং মাহমুদের কক্সবাজার যাত্রার যোগসূত্র ওই দ্বিতীয় ভাষণ। জিয়া মাহমুদকে কেনো বিশ্বাস করলেন এটা একটা রহস্যই বটে। কারণ সপ্তম নৌবহর ফুল থ্রটলে চললেও পাঁচ দিনের আগে বঙ্গোপসাগরে ঢোকার কোনো সুযোগ ছিলো না। পাশাপাশি বিকল্প হিসাবে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের অপশনও রেখেছিলেন মাহমুদ। সেক্ষেত্রে হেলিকপ্টার যোগাড়ের একটা ব্যাপার ছিলো। মাহমুদ নিশ্চয়ই সেজন্য কক্সবাজার যাচ্ছিলেন না। ফেরা যাক মাহমুদের সিআইএ পরিচয় দান নিয়ে (যা জিয়া নিজের মুখে বলেছেন নুরুন্নবীকে)। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মোররাজি দেশাই সিআইএর চর হিসেবে কাজ করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে। তার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বাবার হয়ে পাচারকরা তথ্যের পেমেন্ট আনার। কাকতালীয়ভাবে জিয়ার শাসনামলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে দ্বিতীয় দফা আসীন হয়েছিলেন মোরারজী দেশাই। উপমহাদেশেও বেশ একটা শান্তি শান্তি ভাব চলে এসেছিলো মার্কিন ছাতার তলে। তবে বেলাল মোহাম্মদ বন্ধু মাহমুদের সম্মাণ রেখেছেন তার মৃত্যুর ব্যাপারটি বিস্তারিত জানিয়ে। ১৯৭৩ সালের মাহমুদের পরিবারকে নিয়ে শঙ্খ নদীর পাশে মৌলবীর ট্যাক নামক জায়গাটায় গিয়েছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার ঘোষণা বিতর্ক

এ বিষয়ে সবচেয়ে চমকপ্রদ কাজটি করেছেন শ্রদ্ধেয় মাহবুবুর রহমান জালাল ভাই ও মাশুকুর রহমান। তাই ওই ব্যাপারটিতে আর নাক না গলাই। তবে অনেকের সঙ্গে আমরাও বিভ্রান্ত হয়েছি এসব ঘোষণার সত্যিকার অনুলিপি কি ছিলো তা নিয়ে। একেক জায়গায় একেক টেক্সট। উদাহরণ দিচ্ছি।

This is Shadhin Bangla Betar Kendro. I, Major Ziaur Rahman, at the direction of Bangobondhu sheikh Mujibur Rahman, hereby declare that the independent People's Republic of Bangladesh has been established. At his direction, I have taken command as the temporary Head of the Republic. In the name of Sheikh Mujibur Rahman, I call upon all Bengalis to rise against the attack by the West Pakistani Army. We shall fight to the last to free our Motherland. By the grace of Allah, victory is ours. Joy Bangla.



The Government of Sovereign State of Bangladesh on behalf of our great national leader, the supreme commander of Bangladesh Sheikh Mujibur Rahman, we hereby proclaim the independence of Bangladesh. It is further proclaimed that Sheikh Mujibur Rahman is the sole leader of the elected representatives of seventy five million people of Bangladesh, I therefore appeal on behalf of our great leader Sheikh Mujibur Rahman to the governments of all the democratic countries of the World, specially the big world powers and the neighbouring countries and to take effective steps to stop immediately the awful genocide that has been carried on by the army of occupation from Pakistan To dub us, the legally elected representatives of the majority of the people as repressionist is a cruel joke and contradiction in terms which should fool none.
The guiding principle of the new state will be first neutrality, second peace and third friendship to all and enmity to none. May Allah help us, Joy Bangla.

আর একলাইনেরও আছে যা তারেক মাসুদ পরিচালিত মুক্তির গান কিংবা নোভার গাওয়া রাজাকারের তালিকা চাই গানটিতে ব্যবহার করা হয়েছে। I major Zia, do hereby declare the independence of Bangladesh, on behalf of our great national leader, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman



পাশাপাশি কথা ওঠে এই ঘোষণার প্রভাব নিয়ে। বেলাল নিজে বলেছেন কালুরঘাট ট্রান্সমিটারের ব্যাপ্তি পঞ্চাশ মাইল। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ তখন (২৭ মার্চ) প্রাণ হাতে নিয়ে পালাচ্ছে, রেডিও শোনার সময় নেই। অন্তত চট্টগ্রামের রেডিও তো নয়ই। খোদ চট্টগ্রামেই প্রতিরোধ লড়াই শুরু হয়েছে ২৫ তারিখে। সেই লড়াইয়ে জিয়া কোনো অবদানই রাখতে পারেননি। বরং রফিককে একা রেখে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন পটিয়ায় (এ ব্যাপারে বিস্তারিত থাকবে আগামী পর্বে)। রাজশাহী, রংপুর, ব্রাক্ষনবাড়িয়া, গাজীপুর, বরিশালসহ বিভিন্নস্থানে নিজেদের মতো করে লড়াইয়ে নেমে গেছেন সামরিক-আধাসামরিক ও বেসামরিক যোদ্ধারা। তাই এই বেতার ভাষণটি মুক্তিযুদ্ধের একটি অন্যতম মাইলস্টোন হলেও আবশ্যিকতার বিচারে খুব একটা প্রয়োজনীয় কিছু ছিলো না। এটা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ হতো। তবে মার্কিন মেরিনদের এনে যুদ্ধে নাক গলিয়ে পাকিস্তানীদের গণহত্যাকে জায়েজ করার সিআইএর কোনো পরিকল্পনার সঙ্গে যদি এই ঘোষণার যোগসাজস থাকে, তাহলে বলবো জিয়া অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন ভয়ঙ্কর এক ষড়যন্ত্রের গুটি হ্ওয়ার হাত থেকে। তবে ইতিহাস বলে এমন প্রচুর যড়যন্ত্রেরই তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষী। ঘোষণা প্রসঙ্গে এই সিদ্ধান্তে আসার মতো যথেষ্ঠ সবল প্রমাণ আমার হাতে নেই। তবে মাহমুদ হোসেনকে নিয়ে সঠিক অনুসন্ধানে এই জটটা নিশ্চিতভাবেই খুলবে বলে আমার বিশ্বাস।

এই পর্ব শেষ করছি হাসানুল হক ইনুর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য দিয়ে। বড় ধরণের জামাতে ইমাম সাহেবের তাকবীর সব নামাজীর কানে পৌছানোর জন্য কিছু ভলান্টিয়ারের মতো থাকেন, যাদের বলা হয় মোকাব্বির (?)। তারা ইমাম সাহেবের আওয়াজটাই উচ্চস্বরি প্রতিধ্বনিত করেন। তাই বলে তাদেরকে কেউ ইমাম বলে না।

সূত্র : প্রতিটি সূত্র পোস্টেই উল্লিখিত, লিংকে ক্লিক করলেই পাবেন।

কৃতজ্ঞতা : দূর্লভ কিছু উপাত্ত দিয়ে সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই জালাল ভাই, কুলদা রায় এবং আনোয়ার কবীরকে

 

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৫৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

২. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৪৩
অচেনাসময় বলেছেন: জটিল++

জিয়া সম্বন্ধে অনেক অজানাও জানা হলো।

১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৫. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৫৩
হোদল রাজা বলেছেন: আপনাদের দুজনকেই প্লাস!

ধন্যবাদ!
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৬. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৫৩
রাজিবুল ইসলাম বলেছেন: চমৎকার তথ্যমূলক পোষ্ট। পরবর্তি পোষ্ট গুলিতে এই রকম তথ্যের সন্নিবেশ আশা করছি।
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৭. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৫৪
আমি ছাড়া সবাই ভাল বলেছেন: যারা + আর প্রিয়তে নিয়া গেল তারা কি পুস্টের কোন কিছু চোখে পড়েছে ?নাকি জিয়ারে একহাত নিছে বলেই + আর প্রিয়তে?

পুরা পোস্টটা ২বার এসেছে এক পোস্টে।এডিট করে ঠিক করে দিন ।
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, এডিট করে ঠিক করলাম ।

১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:০১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ এডিট করে ঠিক করলাম ।

৯. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৫৭
দখিনা বাতাস বলেছেন: ওরে খাইছে!!!!! এত কিছু যোগার করলেন ক্যামনে? সোজা প্রিয়তে ++++++++++++++
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১০. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:০৪
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: ২ বার এসেছে।

---

আলোচ্চ মাহমুদ হোসেন সেই বেতারকেন্দ্র থেকে "Hello Mankind" সম্বোধনে একটা ভাষন দিয়েছিলেন, সেটাকেও সংযুক্ত করতে পারেন।

---

কোন এক জায়গায় পড়েছিলাম, জিয়া মাহমুদ হোসেনকে একটা কাগজে নোট দিয়েছিলেন, নিজের স্বাক্ষর সহ যেন পথে ব্যারিকেডে সেটা দেখাতে পারেন। তা সত্ত্বেও কেন তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল, তা এক রহস্য। সাথে দুজন সৈনিক থাকার পরে কেন তাকে সন্দেহ করে হত্যা করা হল, সেটাও অজানা।

----

পরের পর্বের অপেক্ষায়।
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৫

লেখক বলেছেন: প্লিজ শেয়ার করুন ।

১১. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:০৪
সপ্তর্ষী বলেছেন: ভালো বিশ্লেষনী পোস্ট।
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১২. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:০৮
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: @হাসান শহীদ ফেরদৌস, হেলো ম্যানকাইন্ডের ব্যাপারে আরো জানতে ইচ্ছুক। জানাবেন অনুগ্রহ করে।
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১৫. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:১৫
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: পোস্ট গভীর আগ্রহ নিয়ে পড়লাম। অজানা অ-নে-কগুলো তথ্য আর বিশ্লেষণের জন্য খুব বড় একটা প্লাস।

টাইটেলটা নিয়ে অস্বস্তি আছে একটু এখনো, অনেকেই ভুলে মনে করবেন যে জিয়ার ব্যাপারে উপসংহার টানাটাই এখানে মুখ্য, অথচ তথ্যগুলো আর বিশ্লেষণগুলোর মূল্য, উপসংহারের মূল্যের হাজার গুণ বেশী।

১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০২

লেখক বলেছেন: টাইটেল পিয়াল ভাই নির্বাচন করেছেন । তার ব্যাখ্যা-"সম্ভবত এর আগে ডিফেন্ডিং জিয়া নামে একটা লেখা পড়েছিলাম, নামটা মাথায় গেথে গিয়েছিলো, তাই পোস্টের নাম রাখা হয়েছে অফেন্ডিং জিয়া। "

আগেই বলা হয়েছে , এই সিরিজ আমাদের যৌথ কর্ম । যেহেতু পিয়ালের টাইটেলে আমি আপত্তি করিনি এবং সেই টাইটেল এখানে ব্যবহার করছি তাই আমার নিজের ব্যাখ্যা দেয়ার দায় আছে ।

প্রথমেই বলে নেয়া ভাল-এখানে আমরা বিচারকের পজিশনে নেই বরং ব্লগার/পাঠকদেরই আমরা বসিয়েছি সেই আসনে । আমাদের উপস্থাপিত তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবার ভার পাঠকের ।

তবে, আমরা এখানে যে সব তথ্য -উপাত্ত তুলে ধরছি সেগুলি আদতে জিয়ার বিরুদ্ধেই যাই । কিন্তু মনে রাখা দরকার তথ্যগুলি মৌলিক বা আমাদের বানানো নয় । আমরা যাচাই বাছাই করে তথ্যগুলি সাজিয়েছি মাত্র । তবে আমরা সব সময় গুরুত্বারোপ করেছি বস্তুনিষ্ঠতার প্রতি ।

১৬. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:১৭
মিথুন-১ বলেছেন: লজ্জা শরমের মাথা খাইয়া পিয়াল ভাই নিজ নামেইতো লিখতে পারেন......।
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৯

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যের মাজেজা কি ? এই সিরিজ আমাদের যৌথ কর্ম । পিয়াল সামুতে থাকলেও এই সিরিজ আমার নামের ব্লগেই আসত । এখানে লজ্জা সরমের মাথা খাওয়ার কোন ব্যাপার নেই । আমাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পিয়াল লিখবেন আমুতে আর আমি সামুতে ।

১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১৮. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:২৯
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: আরেকটু আগে থেকে শুরু করলে মনে হয় ভাল হতো। জিয়া চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্থানী যুদ্ধজাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। কাজটা বোধহয় শুরুও হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রামবাসীর বাধাঁর মূখে সেটা থেমেও গিয়েছিল। ২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউনের পরও জিয়া তার সেই দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলেন। বন্দরে যাওয়ার পথে মেজর রফিক তাকে ইন্টারসেপ্ট করেন এবং বুঝিয়ে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি তার কমান্ডিং অফিসারকর হত্যা করেন ইত্যাদি ...

প্রশ্ন হলো জিয়ার কি বিবেক বা নিজস্ব বিচার-বিবেচনা বলে কিছু ছিল না ? আরেকজনের কথায় তিনি সব বুঝলেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করলেন।

ধন্যবাদ সিরিজটি শুরু করার জন্য। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১২

লেখক বলেছেন: "প্রশ্ন হলো জিয়ার কি বিবেক বা নিজস্ব বিচার-বিবেচনা বলে কিছু ছিল না ? আরেকজনের কথায় তিনি সব বুঝলেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করলেন। "

গুরুত্বপুর্ন প্রশ্ন । আমাদের সিরিজের সাথে থাকুন । উত্তর পেয়ে যাবেন ।

১৯. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৩২
রাহা বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১৩

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ।

২০. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৩৫
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: মাহমুদ হোসেনের ব্যাপারটা একেবারেই জানতাম না......
তার মৃত্যুটাও রহস্যময়....
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১৩

লেখক বলেছেন: হ ।

২১. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৪১
চন্দন বলেছেন: রুন্নবীর ভাষ্য অনুযায়ী মাহমুদ জিয়াকে হাস্যকর যুক্তিতে কনভিন্স করেন এই বলে যে পূর্ব পাকিস্তানে সিআইএর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি এবং জিয়া যদি একটি বিপ্লবী পরিষদ গঠন করেন এবং নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেন তাহলে ফিলিপাইন থেকে একদিনের মধ্যে ৭ম নৌবহরকে তার সাহায্যে নিয়ে আসবেন মাহমুদ। ২৭ মার্চ জিয়ার প্রথম ঘোষণাটার এটা অন্যতম রহস্য।

সবে বৈশাখ মাস এলো আষাঢ় মাসের আরোও অনেক দেরী :)
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১৫

লেখক বলেছেন: তিনি সামু ছেড়ে গেছেন ।

২৩. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৪৬
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: @হাসান শহীদ ফেরদৌস, হেলো ম্যানকাইন্ডের ব্যাপারে আরো জানতে ইচ্ছুক। জানাবেন অনুগ্রহ করে

--------

দেশের বাইরে থাকায় কোন রেফারেন্স হাতের কাছে নেই। গুগল মামুকে খোঁচা দিয়ে এইটুকু পেলাম-

২৬শে মার্চ, ১৯৭১, রাত ১০ টার দিকে মাহ্মুদ হোসেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিজের লেখা একটি SOS পাঠ করেন যাতে তিনি শ্রোতাদের সম্বোধন করেছিলেন হ্যালো ম্যানকাইন্ড বলে।

পুরো ঘোষনাটি কোথাও পেয়েছিলাম কিনা মনে করতে পারছিনা। আপনার সাথে আমিও লেখকদ্বয়কে অনুরোধ করছি।
২৪. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৪৯
হিমু ব্রাউন বলেছেন: ++++ ....সোজা প্রিয়তে.....
১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

২৭. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫১
আমি বীরবল বলেছেন: একজন গালিবাজের নাম থাকায় মাইনাস।
২৮. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫২
"বৃষ্টির কান্না" বলেছেন: বাআলের আবালেরা কি করতে চায়?
২৯. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১৫
রশিক রশীদ বলেছেন: যারা মাইনাস দিয়েছেন সম্ভবত তাঁদের কারো মন্তব্য নেই । কারনটা কি এ পর্যন্ত ১৪টা মাইনাস অথচ মন্তব্য বিশ্লেষন করলে বেশী হলে ২/৩টি মন্তব্য হতে পারে মাইনাসওয়ালাদের । কারনটা বিঝলাম না । এরা কারা ? যুদ্ধাপরধী বা জামাত-শিবির প্রশ্নে কোন পোষ্ট আসলেও এধরনের কান্ড দেখা যায় তবে কি এরা সবাই একই গোত্রের পেইড কিছু লোক ?

মাইনাস দাতারা উত্তর দেবেন দয়া করে।
৩০. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৫৬
াহো বলেছেন: জিয়াউর রহমানের নিবন্ধ

Birth of a Nation (March 1974)

http://bangladesh-71.info/file/ziaBichitra.pdf

তার পর এলো ১ মার্চ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানের উদাও আহবানে সারাদেশে শূরু হলো ব্যাপক অসহযোগ আন্দোলন ।.....
৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষনা আমাদের কাছে এক গ্রীন সিগন্যাল বলে মনে হলো''
৩১. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:২৫
শারিফ বলেছেন: নুরুজ্জামান মানিক আর অমি পিয়াল এদের লেখা পরতে হয়না এমনিতেই মাইনাস দেয়া যা।

কোন রকম চিন্তা করতে হলনা মাইনাস

------------------------------------------------------------------------------
৩২. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:২৩
ভাবনাবিহীন বলেছেন: ইটিহাসের ইসকুল খুইলাসে আলের ালরা
৩৩. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:০৮
ত্রিশোনকু বলেছেন:

তবে মার্কিন মেরিনদের এনে যুদ্ধে নাক গলিয়ে পাকিস্তানীদের গণহত্যাকে জায়েজ করার সিআইএর কোনো পরিকল্পনার সঙ্গে যদি এই ঘোষণার যোগসাজস থাকে, তাহলে বলবো জিয়া অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন ভয়ঙ্কর এক ষড়যন্ত্রের গুটি হ্ওয়ার হাত থেকে।

-সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস চট্টগ্রামের জনগন বন্ধ করে দেয়। সেই জাহাজ থেকে অস্ত্র নামাতে যাবার পথে আগ্রাবাদে ক্যাপ্টেন রফিকের অধীনস্ত অফিসারের হস্তক্ষেপে মেজর জিয়া ফিরে আসেন -তা না হ'লে ইতিহাসে তার নাম অন্যভাবে লেখা হ'ত।

ক্যামেরাম্যান বলেছেন: আরেকটু আগে থেকে শুরু করলে মনে হয় ভাল হতো। জিয়া চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্থানী যুদ্ধজাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। কাজটা বোধহয় শুরুও হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রামবাসীর বাধাঁর মূখে সেটা থেমেও গিয়েছিল। ২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউনের পরও জিয়া তার সেই দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট ছিলেন। বন্দরে যাওয়ার পথে..

-ক্যামেরাম্যানের সাথে সর্বাংশে একমত।

"এটাও বলতে হবে যে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বেলাল মোহাম্মদ যে কটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন তাতে তিনি মিথ্যে না বললেও সত্য গোপন করে গেছেন। কৌশলে আড়াল করেছেন মাহমুদ এপিসোড। কখনও তার লেখায় এসেছে গাড়ী চালাচ্ছিলেন আমার এক বন্ধু, এমনকি বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমে দেওয়া সাম্প্রতিকতম সাক্ষাতকারটি তেও একবারই মাহমুদের উল্লেখ ছিলো তার মুখে। সেখানে তাকে আগ্রাবাদ হোটেলের প্রোমোটার জাতীয় কিছু বলা হয়েছে। ভিডিওতে তার নাম বলা হলেও যিনি সেটি শুনে শুনে লিখেছেন, তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ঠেকেনি মাহমুদ হোসেনকে, তাই বাদ দিয়েছেন.......................................... এবং মুশতারী শফিই আমাদের জানিয়ে দেন যে ২৭ মার্চ সকালে তার বাসা থেকেই গাড়ী করে বেলালকে নিয়ে পটিয়া রওনা দেন মাহমুদ। অথচ বেলাল স্মৃতিচারণে এই যাত্রাকে এক বন্ধুর গাড়িতে বলে চালিয়ে দিয়ে নিজেকে বসিয়ে রেখেছেন ড্রাইভারের পাশের আসনে"।


-গাড়ী চালাচ্ছিলেন ডাঃ সৈয়দ আনোয়ার আলী, বেলাল তার বাসস্থান থেকে কালুরঘাট যেতে গড়িমসি করাতে যিনি বেলালকে বলেছিলেন যে যদি বেলাল তার সাথে কালুরঘাটে না যায় বেতার কেন্দ্র চালু করতে, তা'লে গাড়ীর চাক্কার তলে তাকে পিষে ফেলা হবে।
৩৪. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:৩৪
তিনকড়ি বলেছেন: আপনারা গুরুত্বপূর্ণ কমেন্টগুলা তো দুই পাশেই শেয়ার করতে পারেন। ছাগুদের নিয়া ভাইবেন না। তারা এইগুলার জবাব দিতে পারবে না।

এইটার একটা ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেখলাম :

(আরিফ জেবতিক ভাইয়ের মন্তব্যের জবাবে লিখছিলাম। তবে কেউ যদি মিস করে এইজন্য আলাদা তুলে দিলাম। যাদের মাথার উপর দিয়া গেছে, তারা এইটা পড়ার পর পোস্টটা যদি আবার পড়েন, মাথার ভিতরে সান্ধাইয়া যাইতে পারে কাহিনী)

পোস্টটা আসলেই পাঠকের মর্জিমতো সিদ্ধান্তে আসার জন্য। তাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে দেওয়ার জন্য। যদি এটার কোনো যুক্তিসঙ্গত প্রামাণিক কাউন্টার আসে, তার জবাবেও আমরা প্রস্তুত। কিন্তু এহহামিদার চিরকালের ছাগলামী ছাড়া তেমন কোনো কিছু না পেয়ে একটু হতাশই হলাম। সেই চিরন্তন মুজিব খারাপ তাই জিয়ারে কেনো খারাপ বলবা টাইপের কুযুক্তি। যাহোক, পোস্টের ফোকাসটা নিয়েই না হয় আলোচনায় যাওয়া যাক।

ভূমিকাতেই রয়েছে খানিকটা। জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তাকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং ইদানিং আমাদের স্বাধীনতার মূল নায়ক হিসেবেও প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা চালাচ্ছে তা ঐতিহাসিক উপাত্ত বিচারে একটি মিথ্যাচার- এটাই মূল প্রতিপাদ্য সিরিজের এই পর্বে। কারণ সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা বিতর্ক দেখছি একদল বলছে জিয়া শুধু বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন, আরেকদল বলছে না, জিয়া নিজেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

পোস্টে সরাসরি না বলা হলেও বুদ্ধিমান পাঠকরা ইতিমধ্যেই নিশ্চয়ই কিছু ব্যাপার বুঝে ফেলেছেন যা হতে পারে এরকম:

১. প্রতিরোধের প্রথম প্রহরে জিয়ার ভূমিকা আহামরি কিছু নয়। উনি চট্টগ্রামে অবস্থিত একটা ব্যাটেলিয়ানের সেকন্ড ইন কমান্ড। তার অধীনে রয়েছে প্রশিক্ষিত সেনাদল। তিনি নিজেও পাকিস্তানের পক্ষে হিলাল-ই-জুরাত জেতা একজন অফিসার। অথচ চট্টগ্রামে মূল লড়াইটা লড়লো আধা-সামরিক ইপিআর বাহিনীর সদস্যরা ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে।

২. ২৭ তারিখ পর্যন্ত জিয়ার অবস্থান পটিয়ায়। এটাকে কৌশলগত পশ্চাদপসারন বা পরিস্থিতি বোঝার জন্য একটু দূরে অবস্থান নেওয়া যাই বলা হোক না কেনো, কেউ যদি পলায়ন বলে তাহলেও দোষ দেওয়া যাবে না। কারণ ১ নম্বর পয়েন্টেই বলা হয়েছে।

৩. স্বাধীনতার ঘোষনা দিতে কালুরঘাটে তাকে আসতে হয়েছে। তাকে ডেকে আনা হয়েছে। ২৬ থেকে ৩০ মার্চ কালুরঘাট সুরক্ষিতই ছিলো। জিয়াকে পটিয়া থেকে এসে দখল করতে হয়নি। তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এনেছেন বেলাল মোহাম্মদ। জিয়া দলবলসহ তাকে নিরাপত্তা দিতে এসেছেন। তার ভূমিকা এখানে নিরাপত্তা অফিসারের, বেলাল মোহাম্মদদের বডিগার্ড বা যাই বলা হোক না কেনো। তবে সেটা ঘোষনা পাঠের আগ পর্যন্ত। চট্টগ্রামের পতনের আগপর্যন্ত শহরের এত কাছে থেকেও তিনি রফিককে কোনো সাহায্য করেননি।

৪. প্রথম ঘোষণায় জিয়া নিজেকে বিদ্রোহী এ ভূখন্ডের রাষ্ট্রপতি বা সামরিক প্রধান কিছুই দাবি করেননি, কারণ করার মতো এমন কিছুই তিনি করেননি। জিয়া বললেন আজ থেকে তিনি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আর সারা দেশের জনগন সেটা শুনে আহলাদিত হলো, হাততালি দিলো, জয় জিয়াউর রহমান বলে যুদ্ধে ঝাঁপ দিলো এটা তো সত্যি নয়।

৫. তাহলে ওই পর্যায়ে তার যাওয়ার পেছনে কি কারণ। কারণ মাহমুদ হোসেন। সে এই অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিআইএ অফিসার (হয়তো ইনফর্মার ছিলো, ওই পরিস্থিতিতে নিজের গুরুত্ব বাড়িয়েছে), জিয়া চাইলে সপ্তম নৌবহর তার সাহায্যে এগিয়ে আসবে, তবে সেজন্য জিয়ার স্ট্যাটাসটা তো বাড়াতে হবে। তাই ওই অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট এবং কমান্ডার ইন চীফ হিসেবে ভাষণের সংস্করণ। সেই মাহমুদ হোসেন নামের লোকটাই যখন রহস্যময় একটা চরিত্র হিসেবে বিচরণ করে, তার সম্পর্কে ভাসাভাসা আলাপ ভেসে আসে স্পষ্ট কিছু বলে না, যখন সে এই রহস্যের মূল চাবিকাঠি। ক্যাপ্টেন রফিক বলেছেন মাহমুদ তাকে কক্সবাজার যেতে জোরাজুরি করেছেন। চট্টগ্রাম থেকে ভারত যেতে কক্সবাজার হয়ে যেতে হয় না। এন্টারপ্রাইজ আসবে, সেখানে হেলিকপ্টার করে জিয়াকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এই ছিলো মাহমুদের প্রস্তাবনা।

৬. ভাষণের অনুলিপি কয়েক জাতের হতে পারে, কিন্তু জিয়া ভাষণ দিয়েছেন- এটাই সত্যি। ২৭ থেকে ৩০ মার্চ জিয়ার স্বকণ্ঠে ও জিয়ার নামে প্রচারিত এসব ভাষণের ইফেক্ট কিছুটা জালাল ভাই ও ম্যাশ তাদের নিবন্ধে দিয়েছেন। কিন্তু আসল সত্যি হচ্ছে ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় ওই ভাষণ দেওয়ার আগে ঢাকায় গণহত্যা হয়ে গেছে, সারা দেশে যুদ্ধ চলছে। যে লক্ষ্য নিয়ে কালুরঘাটে বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র গঠিত হয়েছিলো তা মূলত প্রোপোগান্ডা, টিক্কা খান মুক্তিবাহিনীর হাতে খতম হয়ে গেছেন, শিগগিরি দেশ মুক্ত হয়ে যাবে, বঙ্গবন্ধু মুক্তিবাহিনীর সঙ্গেই আছেন-ইত্যাদি চাপাবাজি যা সাধারণের মনোবল চাঙ্গা করার জন্য। জিয়ার ভাষণ মর্যাদার বিচারে সেই প্রোপোগান্ডাগুলোর একটি মাত্র, কারণ স্বাধীনতা এর আগেই ঘোষণা হয়ে গেছে, স্বাধীনতার লড়াইও শুরু হয়ে গেছে। প্রোপাগান্ডার ব্যাপারটা জাস্টিফাই করার জন্য ২৮ মার্চ যেদিন জিয়া নিজেকে রাষ্ট্রপতি ও সেনাপতি দাবি করলেন সেদিনকার বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠানগুলোর একটা অডিও ক্লিপ দাখিল করছি, যেদিন শমসের মুবিন চৌধুরী জিয়ার সেই ঘোষণা পড়েছেন। শুনলেই বুঝবেন কি কিসিমের প্রোপোগান্ডা প্রচার হয়েছে সেখানে। (ডাউনলোড করতে হবে হ্যাকারবক্স থেকে, নাম শুইনা ভড়কানোর কিছু নাই, এটা হোস্ট, হ্যাকিংয়ের কিছু নাই এখানে)

৭. মাহমুদ হোসেনের এডভেঞ্চার মাঠে মারা যাওয়ার পর, জিয়া নিজের রাষ্ট্রপতি স্ট্যাটাস কিংবা প্রধান সেনাপতি স্ট্যাটাস ধরে রাখার জন্য কিছুই করেননি। ৩০ মার্চ যখন পাকিস্তানী বিমান আক্রমণে কালুরঘাটের পতন হলো। জিয়া ওই জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলেই মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুকেই রাষ্ট্রপতি, ওসমানীকেই প্রধান সেনাপতি মেনে যুদ্ধ করেছেন।


‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া লও লও লাল সালাম’ শ্লোগানটায় গলা মেলাতে রক্তে দোলা লাগে বটে, কিন্তু যারা এর স্রষ্টা তাদের লাল সালামটা দেয়া যাচ্ছে না ঐতিহাসিক এসব উপাত্তের বিচারে।
৩৫. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:৫৭
াহো বলেছেন: Bangla Desh Sheik Mujibur Rahman sought through his AwamiLeague

Bangla Desh: Tread with Caution

Newyork Times August 8, 1971, Sunday

Click This Link


By DAVID LIDMAN

August 8, 1971, Sunday

BANGLA DESH is a hope, an aspiration, the dream of millions of East Pakistanis. Bangla Desh -- Bengal Nation, or homeland, is what Sheik Mujibur Rahman sought through his Awami League, but its victory at the ballot box has resulted in the imprisonment of Banga Bandhu (Bengal's friend) -- Rahman, and the killing of thousands of East Pakistanis, and driven millions of them into refugee privations in neighboring India
৩৬. ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:১২
ত্রিশোনকু বলেছেন: ২৯ বছর ধরে চেষ্টা করেও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম, পিএসসির দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কৃত অপরাধের circumstantial evidence ছাড়া আর কিছু বের করতে পারিনি। যেমন:

১। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের হোতাদের চেনা সত্যেও তাদের ধরিয়ে না দেয়া/গ্রেপ্তার না করা।

২। গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠার নামে যুদ্ধাপরাধীদের পূণর্বাসন করা।

৩। শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দেশের সম্মানকে পদদলিত করা।

৪। নম্বরধারী ঘাতক (serial killer) হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীতে অগণিত খুন করা।

আশা করছি আপনারা প্রত্যক্ষ প্রমাণ নিয়ে এগিয়ে আসবেন।

২২ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:৫২

লেখক বলেছেন: আমাদের সিরিজের সাথে থাকুন ।

৩৭. ২০ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৭:০৫
দাসত্ব বলেছেন: বরখাস্ত হওয়া নুরুন্নবী হলো এই পোস্টের প্রাণপুরুষ।
এই নুরুন্নবী ১৯৭৭ এর রেড আর্মির জিয়া ইন্টঃ এয়ারপোর্টে ল্যান্ডিং করাকে বলসিলো ভুয়া ঘটনা ।
যুধিষ্ঠির নুরুন্নবীকেই যে অমি পিয়াল টার পোস্টের আসল সোর্স হিসেবে নেবে সেটা অস্বাভাবিক কিছু না।
যাইহোক রেড আর্মির ঘটনাটার লিংক দিলাম।
http://www.youtube.com/watch?v=ndTBa21kZf8
এবার বোঝেন নুরুন্নবী কত সত্যবাদী।
এর চাইতে তো মিনা ফারাহ কে এই বিষয়ে ব্লগিং করতে দিলেই পারতেন । আপনারা এত কষ্ট করলেন কেন ?

জিয়ার আমলে চাকরী হারানো লোক ছাড়া আর কাউকে পেলেন না।
টাইম ম্যাগাজিনে ২৫ শে মার্চ রাতে কি ঘটসিলো সেটার ১টা নিউজ আছে। অফেন্ডিং শেখ মুজিব হিসাবে সেটা সামনে আসবে।
আপনার জিয়া বিদ্বেষী নুরুন্নবী (বাংলা সিনেমার মত বাংলা রাজনীতির কালারিং করা " মদ্যপান") পোস্ট টয়লেটে ফ্লাশ করলাম।
অ্যান্থনি মাসকারেনহাস , লরেন্জ্ঞ লিফশুলজ , জেনারেল জে এফ আর জ্যাকবের মত লোক জিয়া সম্পর্কে কি বললো সেটা রেফারেন্স হলোনা - নুরুন্নবী হইলো আসল রেফারেন্স!
আপনিও থার্ডক্লাশ ব্লগিং এ নেমে গেলেন!
২০ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৩৭

লেখক বলেছেন: দলিল, লজিক আর ঘটনা পরস্পরার যোগসুত্র যদি থাকে আপনার অফেন্ডিং শেখ মুজিবে তবে আমি অবশ্যই গ্রহন করব আর আগেও বলেছি , এখানেও বলছি শেখ মুজিব কেন কাউকেই আমি সমালোচনার ঊর্ধ্বে মনে করি না । তাঁরা রক্ত-মাংশে মানুষ ছিলেন ফেরেশতা নন ।

২২ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:৫৭

লেখক বলেছেন: নুরুন্নবী্র বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়ার সরকার উৎখাতের অভিযো্গ ছিল কিন্তু এই ব্লগে প্রেসিডেন্ট জিয়া আলোচ্য নয় বরং মেজর জিয়া বিষয় যেখানে জিয়ার জেড ফোর্সের নুরুন্নবী রেফারেন্স হিসেবে আসতে পারে বৈকি । তবে, নুরুন্নবী্র ভাষ্যে যদি অসত্য থাকে তা' খন্ডন করা যেতে পারে ।

৩৮. ২০ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৫২
দাসত্ব বলেছেন: মতিউর রহমান রেন্টু ১৭ বছর হাসিনার সাথে ছিলো।
রেন্টুর বই এর সোর্স দিয়ে যদি এখন অফেন্ডিং হাসিনা লিখি একসেপ্ট করবেন ?
মালেক উকিল বলসিলো শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর : ফেরাউনের পতন হইসে। এই মালেক উকিল শেখ মুজিবের সাথে সারাজীবন রাজনীতি করলো , ৬ দফার জন্য জেলে গেলো। ৭৪ এর শেষ পার্লামেন্টে স্পীকার ছিলো , বাকশালের ১৩ জনের সেন্ট্রাল এক্সিকিউটিভ কমিটির মেম্বার ছিলো।

মালেক উকিলের রেফারেন্স দিয়ে যদি অফেন্ডিং শেখ মুজিব লিখি- একসেপ্ট করবেন ?

তবে টাইম ম্যাগাজিনের রেফারেন্সে অফেন্ডিং শেখ মুজিব আসবে।
স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়েও ফালাফালি বন্ধ করার জন্য সিআইএ র রিপোর্ট আসবে।

আপনারা মানিক জোড় তখন ডিফেন্ড কিভাবে করবেন দেখা যাবে । সস্তা ব্লগিং কারে বলে নুরুন্নবীর রেফারেন্সে ব্লগ লেখা দেখলেই বোঝা যায়।

এরশাদ শিকদার মারা যাওয়ার পর রাস্তায় রাস্তায় ২ টাকার চটি বই বের হইসিলো এরশাদ শিকদারের কাহিনী নিয়ে।
বিক্রিও হইসিলো প্রচুর।

আপনাদের এই পোস্ট ঐ পর্যায়ের ১টা ব্লগীয় চটি।
৩৯. ২০ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:০৮
হরিসূধন বলেছেন:
পরে আইসা কমু যা বলার.....

৪০. ২০ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৪৬
মুখ ও মুখোশ বলেছেন: দাসত্ব বলেছেন: মতিউর রহমান রেন্টু ১৭ বছর হাসিনার সাথে ছিলো।
রেন্টুর বই এর সোর্স দিয়ে যদি এখন অফেন্ডিং হাসিনা লিখি একসেপ্ট করবেন ?
মালেক উকিল বলসিলো শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর : ফেরাউনের পতন হইসে। এই মালেক উকিল শেখ মুজিবের সাথে সারাজীবন রাজনীতি করলো , ৬ দফার জন্য জেলে গেলো। ৭৪ এর শেষ পার্লামেন্টে স্পীকার ছিলো , বাকশালের ১৩ জনের সেন্ট্রাল এক্সিকিউটিভ কমিটির মেম্বার ছিলো।

মালেক উকিলের রেফারেন্স দিয়ে যদি অফেন্ডিং শেখ মুজিব লিখি- একসেপ্ট করবেন ?

তবে টাইম ম্যাগাজিনের রেফারেন্সে অফেন্ডিং শেখ মুজিব আসবে।
স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়েও ফালাফালি বন্ধ করার জন্য সিআইএ র রিপোর্ট আসবে।

আপনারা মানিক জোড় তখন ডিফেন্ড কিভাবে করবেন দেখা যাবে । সস্তা ব্লগিং কারে বলে নুরুন্নবীর রেফারেন্সে ব্লগ লেখা দেখলেই বোঝা যায়।

এরশাদ শিকদার মারা যাওয়ার পর রাস্তায় রাস্তায় ২ টাকার চটি বই বের হইসিলো এরশাদ শিকদারের কাহিনী নিয়ে।
বিক্রিও হইসিলো প্রচুর।

আপনাদের এই পোস্ট ঐ পর্যায়ের ১টা ব্লগীয় চটি।
৪১. ২০ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:১৫
দাসত্ব বলেছেন: এই পোস্টে বোঝা গেলোঃ সেই সময়টাতে যে জিয়া কে যা বলতেসে এবং কনভিন্স করতেসে বলার জন্য জিয়া সেটার দিকেই ঝুকতেসে। মাহমুদ হোসেন কিছু বললো জিয়া সেটা গ্রহন করলো। বেলাল মোঃ কিছু বললো জিয়া সেটা গ্রহন করলো। একে খান , এম এ হান্নান কিছু বললো জিয়া সেটাও মেনে নিলো।
মার্কিন মেরিন সেনা এনে যদি দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী সামরিক সাহায্য পাওয়া যায় তাহলে তো মাহমুদ হোসেনের কথা বিশ্বাস করে দেশপ্রেমিকের কাজ করলো !

এবং এটাও বোঝা গেলো প্রেসিডেন্ট না হেড অফ লিবারেশন আর্মি না সামথিং এলস্ কোন কিছুই জিয়ার মনঃস্তত্ত্বে তখন ছিলোনা।
সুপার্রব!

এখানে আবার বোঝা গেলো- বেলাল মোঃ কেও ভুয়া প্রমান করার চেষ্টা করা হয়েছে। মনে হচ্ছে বেলাল মোঃ স্বাঃ বাঃ বেঃ কেন্দ্র খুলতেই চান নাই।

ত্রিশোংকুর কমেন্টে বোঝা গেলো ড্রাইভার ছিলেন ডাঃ সৈয়দ আনোয়ার আলী , অমি পিয়াল জোর করে তাকে মাহমুদ হোসেন বানাতে চাইছেন ।

মাহমুদ হোসেন কে সিআইএ এজেন্ট হিসাবে দেখানো হলো পোস্টে। সিআইএ এজেন্টের সাথে জিয়াকে তার দেশের ব্যাপারে কি ভরসা দিলো সেটা মেনে নেয়াতে জিয়া নাকি উল্টা-পাল্টা করে ফেললো !?- তাহলে মাহমুদ হোসেনের সাথে বন্ধুত্ব থাকায় বেলাল মোঃ সমন্ধে আপনারা কি মুল্যায়ন করবেন ?

আশা করি - ১ চোখে দেখবেন না , ২ চোখেই দেখবেন।

৩য় বিষয়টা- এই মাহমুদ হোসেন ক্যাপ্টেন রফিক কেও চিনতেন বোঝা গেলো । মাহমুদ হোসেন এই ক্যাপ্টেন রফিকের কাছেও একই কথা বলেছিলো মার্কিন মেরিন সাহায্যের ব্যাপারে। তাকেও বলেছিলো ১টা ঘোষনা দিতে।
ক্যাপ্টেন রফিক তার ক্যাম্প ছাড়তে পারবেন না বলে তিনি রাজী হলেন না। যদি তিনি ক্যাম্প ছাড়ার মতো পরিস্থিতিতে থাকতেন এবং তিনি মাহমুদ হোসেনের কথায় রাজি হতেন ক্যাপ্টেন রফিক কে কিভাবে মুল্যায়ন করতেন ?

মাহমুদ হোসেনের বুকপকেটে নাকি জিয়ার ছবি ছিলো ?
কেমনে জানলেন ? ক্যাপটেন রফিকের ছবিও নিশ্চয় আই লাভ ইউ লকেটের হার্টে লুকায়া ঘুরতেন মাহমুদ হোসেন! কারন উনি ক্যাপ্টেন রফিকের কাছেই আগে গেসেন । জিয়ার কাছে পরে গেসেন।

এতো সস্তা ১টা জিয়া বিদ্বেষী মিথ্যুক নুরুন্নবীর কথাবার্তাকে বেস করে সুপারফিসিয়াল পোস্ট দেবেন আশা করি নাই।

অমি পিয়াল কে বলবেন আইসব্যাগ সংগে রাখতে।
হুজুগে পাগল ছাড়া আর কেউ এই রাজনৈতিক বায়োস্কোপ পোস্টে হাততালি দিবেনা।
যারা ডেলিবারেটিভ তার আশা করি আমার এই কমেন্টের প্রশ্ন গুলোকে বিবেচনা করবেন ।
৪২. ২০ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৩৯
দাসত্ব বলেছেন: ৩৬ নং কমেন্ট ১ নং প্রশ্ন
@ ত্রিশোনকু :
১। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের হোতাদের চেনা সত্যেও তাদের ধরিয়ে না দেয়া/গ্রেপ্তার না করা।-এই বিষয়ে আপনার জ্ঞাতব্য পোস্ট

বাকী প্রশ্ন গুলোর জবাবও সামনে আসবে।
শুধু এতটুকু জেনে রাখুন যুদ্ধাপরাধীরা ৭৩ এর নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলো। এদের পুনর্বাসনের ইনিশিয়াল ফেয টা ছিলো ৭২ - ৭৬
আমার ব্লগে চোখ রাখুন। সব প্রশ্নের জবাবই দেয়া হবে।
৪৩. ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:২৩
দাসত্ব বলেছেন: পোস্ট থেকে কপি করলাম:
রফিক লিখেছেন, এরপরেও অপরিচিত আগন্তুক তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য আমার উপর এত চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন যে আমি খুবই সন্দিহান হয়ে পড়লাম। পুরা বিষয়টা পাকিস্তানীদের ফাঁদ হওয়া বিচিত্র নয়- আমি ভাবলাম। আমাকে রাজী করাতে না পেরে তিনি রেকর্ডিং যন্ত্রপাতি নিয়ে আবার আসা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু ভদ্রলোক আর কখনও ফিরে আসেননি।

যদি ঐ লোক (মাহমুদ হোসেন) ফিরে আসতেন রেকর্ডিং এর যন্ত্রপাতি নিয়ে এবং ক্যাঃ রফিক ঘোষনাটা দিতেন তখন কিভাবে মুল্যায়ন করতেন ক্যাঃ রফিক কে ?
৪৫. ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৪৭
ত্রিশোনকু বলেছেন: @দাসত্ব,

"জিয়ার সাথে কি কথা হয়েছিলো এ প্রশ্নের জবাবে ফারুক বলেনঃ সরাসরি না বলে জিয়াকে আমি কথাটা একটু ঘুরিয়ে বলি । আমি বললাম দেশ দূর্নীতিতে ভরে গেছে , দেশের জন্য একটি পরিবর্তন দরকার। এটুকু বলতেই জিয়া বলেনঃ হ্যাঁ হ্যাঁ চলো আমরা বাইরে লনে গিয়ে বসে আলাপ করি।

সেখানে আমি তাকে জানাই যে আমরা জুনিয়র অফিসাররা পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছি। সবশুনে তিনি এই উক্তি করেছিলেঃ আমি ১জন সিনিয়র অফিসার । আমি এধরনের ব্যাপারে জড়িত হতে পারিনা। তোমরা জুনিয়র অফিসাররা যদি এটা করতে চাও তবে এগিয়ে যাও।"

আমি ওপরের কথাগুলোর ভিত্তিতেই বলেছি "১। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের হোতাদের চেনা সত্যেও তাদের ধরিয়ে না দেয়া/গ্রেপ্তার না করা"

-সামরিক বাহিনীতে বিদ্রোহ একটি অত্যন্ত গুরুতরো অপরাধ। শুধুমাত্র বিদ্রোহ স্থলে কাক্তালীয়ভাবে উপস্থিত থাকার জন্যই যে কারো বিরুদ্ধে ভয়াবহ শাস্তি বিধান করা যায়। জেনারেল জিয়া হত্যার পর যে কোর্ট মার্শাল হয় তাতে ""সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকার উতখাতের বিদ্রোহ"এরই বিচার হয়। ১৩ জন অফিসারের ফাঁসী হয়। জিয়া হত্যার কিন্তু বিচার হয়নি।

জেনারেল জিয়া এতদুর পর্যন্ত জানার পরও কিছুই করলেন না, উলটো এগিয়ে যেতে বললেন, এটা কোন ভাবেই মানা যায়না। তার ওপর তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর উপপ্রধান।
২২ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৪৩

লেখক বলেছেন: হ্যা , মুজিব হত্যার বিচার হয়েছে ক্যুদেতার নয় অন্যদিকে '৮১তে ক্যুদেতার বিচার হয়েছে , জিয়া হত্যার নয় । জিয়াকে গুলি করে হত্যাকারী মতিউর রহমানকে বিনাবিচারে হত্যা করা হয় মূ্ল হোতাকে আড়াল করতে ।

৪৬. ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫০
দাসত্ব বলেছেন: @ ত্রিশোংকু : আপনি আমার ব্লগে প্রশ্ন করলেই খুশী হতাম।
আমি শুধু এতটুকুই বলতে পারি- শেখ মুজিবের উৎখাত শেখ মুজিবের অন্ধ ভক্ত ছাড়া সবাই চেয়েছে । সামরিক বাহিনীতে অনেক অসন্তোষ ছিলো। দেশ শাসনে শেখ মুজিব জঘন্য ছিলো।
উপরন্তু তার ভেতরে ১ ধরনের ঔদ্ধত্য ছিলো কারো পরোয়া না করার। সিআইএর কিছু সোর্স সহ ৭২-৭৫ এর উপর পোস্ট আসবে। শেখ মুজিবের অঘনীয় শাসনের উৎখাত এ চেয়ে জিয়া নৈতিক দিক থেকে কোন অন্যায় করেননি। ঐ পোস্টের ছবিটাই দেখুন খোঃ মোশতাকের শপথ অনুষ্ঠানের। সবার চেহারা দেখুন। কোন শোকাবহতা নেই কারো। সাংবিধানিক সরকার ছিলো ঠিক ই। তবে সংবিধানকে কষে ১ টা চড় মারা হয়েছে জন গণের রায়ের তোয়াক্কা না করে সকল নির্বাহী ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে নির্বাচন ছাড়াই পরের ৫ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হয়ে।
শেখ মুজিবের ক্ষমতা থেকে উৎখাত চেয়ে নৈতিক দিক থেকে জিয়া কোন অন্যায় করেন নি।
২২ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:০৬

লেখক বলেছেন: জিয়াকে বাদ দিলাম । সরাসরি উত্তর দেন- সপরিবারে মুজিব হত্যা আপনি কি সমর্থন করেন ?

৪৭. ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৮
দাসত্ব বলেছেন: সাংবিধানিক ভাবে মুজিব সরকারের পতন তো হয়নি!
মুজিবের পতন হয়েছে শুধুমাত্র। খোন্দকার মোশতাকের কেবিনেট দেখেন ! সেলুকাস.- পতন হয়েছে মুজিবের। ফরমাল কথাবার্তা বাদ দিলে মুজিব কেবিনেট ঠিকই ছিলো। মালেক উকিলের কথাটাই চিন্তা করুন।

দেশ আগে না "সাংবিধানিক সুযোগ নেয়া দানব মুজিব" আগে ?
৪৮. ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৩
দাসত্ব বলেছেন:
আপনি কি আমার ব্লগে প্রশ্ন করতে অস্বস্তি বোধ করছেন না ভয় পাচ্ছেন মুজিব কে ডিফেন্ড করতে পারবেন কিনা অথবা জিয়া কে অফেন্ড করতে পারবেন কিনা ?

এখানে আমরা কথা বললে এন। মানিকের জন্য বিষয়টা পছন্দনীয় হবে বলে মনে হয়না । কারন আমরা এই পোস্টের আউট অফ কোর্স কথা বলছি।
২২ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:০৭

লেখক বলেছেন: লজিকাল ও গঠনমুলক আলোচনা এখানে করলে আমার আপত্তি নেই ।

৪৯. ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৭
ত্রিশোনকু বলেছেন: @ ত্রিশোংকু : আপনি আমার ব্লগে প্রশ্ন করলেই খুশী হতাম।

-আপনার ব্লগে আমি যাইনি, আপনি নিয়ে গেছেন আমাকে। প্রশ্ন ছুড়েছেন এ ব্লগে, উত্তরটা এ ব্লগেই আমার দেয়া কথা। আপনি এত তাড়াতাড়ি ভোলেন কিভাবে? - (দাসত্ব বলেছেন: ৩৬ নং কমেন্ট ১ নং প্রশ্ন @ ত্রিশোনকু : ১। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের হোতাদের চেনা সত্যেও তাদের ধরিয়ে না দেয়া/গ্রেপ্তার না করা।-এই বিষয়ে আপনার জ্ঞাতব্য পোস্ট বাকী প্রশ্ন গুলোর জবাবও সামনে আসবে। শুধু এতটুকু জেনে রাখুন যুদ্ধাপরাধীরা ৭৩ এর নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলো। এদের পুনর্বাসনের ইনিশিয়াল ফেয টা ছিলো ৭২ - ৭৬ আমার ব্লগে চোখ রাখুন। সব প্রশ্নের জবাবই দেয়া হবে। )

আমি শুধু এতটুকুই বলতে পারি- শেখ মুজিবের উৎখাত শেখ মুজিবের অন্ধ ভক্ত ছাড়া সবাই চেয়েছে । সামরিক বাহিনীতে অনেক অসন্তোষ ছিলো। দেশ শাসনে শেখ মুজিব জঘন্য ছিলো। উপরন্তু তার ভেতরে ১ ধরনের ঔদ্ধত্য ছিলো কারো পরোয়া না করার।
-আপনাকে মুজিবকে গালাগালি দেবার সুযোগ করে দেবার জন্য আপনার জবাব দেইনি । মুজিব হত্যার পর আমি কেঁদেছি কিনা তা আমার পোস্টে গিয়ে দেখতে পারেন। সামরিক বাহিনীতে আর রক্ষী বাহিনীতে কি হচ্ছিল তার বিষদ বিবরনও পাবেন- নিজ চোখে দেখা।

মুজিবের অঘনীয় শাসনের উৎখাত এ চেয়ে জিয়া নৈতিক দিক থেকে কোন অন্যায় করেননি।

-আহা। জিয়া যা করেছিল তার চেয়ে অনেক কম করে '৮১ তে ১৩ জন অফিসারের ফাঁসী হয়। একচক্ষু কানা হরিণ।

ঐ পোস্টের ছবিটাই দেখুন খোঃ মোশতাকের শপথ অনুষ্ঠানের। সবার চেহারা দেখুন। কোন শোকাবহতা নেই কারো।
-অপ্রাসংগিক।

সাংবিধানিক সরকার ছিলো ঠিক ই। তবে সংবিধানকে কষে ১ টা চড় মারা হয়েছে জন গণের রায়ের তোয়াক্কা না করে সকল নির্বাহী ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে নির্বাচন ছাড়াই পরের ৫ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হয়ে। শেখ মুজিবের ক্ষমতা থেকে উৎখাত চেয়ে নৈতিক দিক থেকে জিয়া কোন অন্যায় করেন নি।

-জিয়া যা করেছিল সেনাবাহিনীতে থেকে তার শাস্তি সামরিক আদালতে মৃত্যুদন্ড।

আপনি কি আমার ব্লগে প্রশ্ন করতে অস্বস্তি বোধ করছেন না ভয় পাচ্ছেন মুজিব কে ডিফেন্ড করতে পারবেন কিনা অথবা জিয়া কে অফেন্ড করতে পারবেন কিনা ?
-আপনি অত্যন্ত বিরক্তিকর। আরে আপনার ব্লগে আমি গেলাম কই? আপনিই তো নিয়ে গেলেন। আমি যেমন আপনাকে চিনিনা আপনিও তেমনি আমাকে চেনেন না-অন্তত ভয়ের কথা অবশ্যই তুলতেন না তা'লে।

তবে আমি যদি আপনি হতাম তা'লে আপনার সম্পর্কে না জেনে এরকম ঢালাও মন্তব্য করতাম না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নির্বোধ বলাতে আমার নামে ক'টা ঘৃণা পোষ্ট এসেছে এ ব্লগে তার খোঁজ রাখেন কি?

আমি ভুল ও হতে পারি, তবে আমার ধারনা আপনার এ ব্লগে বিচরন আমার চেয়ে কম। জামাতিদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ বিএনপির নির্দেশে আপনি মানিক আর পিয়ালের লেখাকে সামলানোর কাজ নিয়েছেন।

২২ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:১৩

লেখক বলেছেন: ১৫/৮/৭৫ এ সংঘটিত ক্যুর বিচার হলে অনেক সিনিয়র অফিসারই ফাঁসবেন । একাশিতে অনেকে জড়ি্ত না হয়েও ফেঁসেছেন ।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠন করা হোক

৫০. ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৩৩
দাসত্ব বলেছেন: @ ত্রিশোনকু:
৪৮ নাম্বার কমেন্ট টাতো স্কিপ করলেন।
আমার সম্পর্কে আপত্তিকর একটা মন্তব্য করলেন। মুজিবকে গালাগালি করার সুযোগ না দেয়ার জন্যই নাকি আপনি আমার ব্লগে প্রশ্ন করেন নাই। সেখনে অনেক মুজিবভক্ত ব্লগারও কমেন্ট করেছেন। আমি উত্তর দিয়েছি। অনেকের সাথে ২-৩ বার বাৎচিৎ হয়েছে। ব্লগার হিসেবে আমি একটা রূচি মেনে চলি। আমার ব্লগে আমার পক্ষ-বিপক্ষ কাউকেই আমি সামান্যতম অরূচিকর আক্রমন করিনা। শেখ মুজিবের ব্যাপারে সেখানে একটা আক্রমনাত্নক কথাও নাই। প্রায় ১০৬/১০৮ টা কমেন্ট হয়ে গেছে।
আপনার এই মন্তব্যটা আশাকরি উইথড্র করবেন ।

আবার বললেন- ১চক্ষু কানা হরিন। বোধহয় বুমেরাং হয়ে গেলো আপনার জন্য মন্তব্যটা।
জিয়া মুজিব কে খুন করে নাই , মুজিবের খুনের ব্যাপারে চিন্তাও করে নাই। সেটা আপনার আগের কমেন্টগুলোতেও অস্বীকার করেন নাই। আর ঐ ১৩জন ছিলো খুনী ।
অখুনী আর খুনী কে যে ১ ভাবে বিচার করে তার চক্ষুবৈকল্যের আশু প্রশমন আশা করছি।

মুজিবের সরকারের পতন যে হয় নাই, শুধু তারই পতন হয়েছে , মোশতাকের কেবিনেট আর মুজিবের কেবিনেট যে মিরর ইমেজ সেটা অস্বীকার তো করতে পারলেন না।

মুজিবের পতন সবাই চেয়েছে- এটা ধ্রুব সত্য।

আমি নাকি অত্যন্ত্ বিরক্তিকর। আপনাকে আমার ব্লগে নিয়ে গিয়েছি। সেটার কোন ঠেকা আমার পড়ে নাই। আপনি কিছু জিয়াবিদ্বেষী প্রশ্ন তুললেন টিপিক্যাল আওয়ামী লীগার এর মত তার জবাব দিলাম। আমার পোস্টের মান কতটুকু সেটা আমি জানি।
আমি জিয়াকে ডিফেন্ড করবো, তবে মতিউর রহমান রেন্টু অথবা আমার দেশ এর সোর্সে না কখনই -এটা নিশ্চিত থাকুন।

ব্লগে নতুন না পুরাতনের ধোয়া জ্বালালেন। চেনা বামনের পৈতা লাগেনা- আশা করি প্রবাদ টা এখনও বেঁচে আছে।

গালাগালির মিথ্যা জুজু দেখিয়ে এই ব্লগে এসে প্যাচাচ্ছেন।
সত্যের বিপক্ষে লা-জওয়াব হলে মানুষ এমনই করে।
সব ব্লগার কে বলবো ত্রিশোনকু গালাগালির যেই মিথ্যা অভিযোগটা আমার বিপক্ষে তুললেন সেটার সত্য-মিথ্যা ৪৩নং কমেন্টের লিংকে গিয়ে দেখে আসতে পারেন।

ত্রিশোনকু , নুরুজ্জামান মানিক ও ঐ ব্লগে গিয়ে কমেন্ট করে এসেছেন । ওনাকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন কি গালাগালি উনি দেখেছেন মুজিবের বিপক্ষে সেখানে ?

আর জামাতের সাথে বিবাহের কথা বললেন ।
৯১-৯৬ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাথে জামাতের রীতিমত আংটিবদল হয়েছে বেশ কবার!
তখন যুগটা এনালগ ছিলো কিনা ! তাই স্মৃতি গুলো ডিজিটালাইজড করা সম্ভব হচ্ছেনা । তবে ১ বারের সত্যি সারা জীবন সত্যি।

আর জামাতের ব্যাপারে আমার অবস্থান কি সেটা নিয়ে আমার পোস্ট আছে। না জেনে মন্তব্য করাটা ঠিক না।

আপনি বললেন:বিএনপির নির্দেশে আপনি মানিক আর পিয়ালের লেখাকে সামলানোর কাজ নিয়েছেন।

মানিক ভাই কে রেসপেক্ট করি। তবে অমি পিয়াল- ঐ ২ + ২ = ৫ মেলানো চাল্লু টাকে আমি ঠিক ই কিছু রিপ্লাই দেবো।
আপনার মত ১টা কমেন্ট আমার ঐ ব্লগে আছে। আমাকে নাকি বিএনপি সরকারের তথ্যমন্ত্রী বানানো হবে ২০১৪ তে আমার বিরাট পরিশ্রমের জন্য!
আবারও বললাম: সত্যের বিপক্ষে লা-জওয়াব হলে মানুষ এমনই বলে।
২২ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:১৯

লেখক বলেছেন: "আর ঐ ১৩জন ছিলো খুনী ।"

আপনি এতো নিশ্চিত হলেন কেমনে ?

ঐ ১৩ জনের প্রথম আসামি কে নিয়ে আমার লেখা-
বীরবিক্রম ব্রিগেডিয়ার মহসীন -এমন মৃত্যুই কি তুমি চেয়েছিলে ?

৫১. ২২ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৭:২৭
ত্রিশোনকু বলেছেন: ৪৮ নাম্বার কমেন্ট টাতো স্কিপ করলেন।

-তখন দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছিল, এখন দিচ্ছি। সাংবিধানিক ভাবে মুজিব সরকারের পতন তো হয়নি!
মুজিবের পতন হয়েছে শুধুমাত্র। খোন্দকার মোশতাকের কেবিনেট দেখেন ! সেলুকাস.- পতন হয়েছে মুজিবের। ফরমাল কথাবার্তা বাদ দিলে মুজিব কেবিনেট ঠিকই ছিলো। মালেক উকিলের কথাটাই চিন্তা করুন। দেশ আগে না "সাংবিধানিক সুযোগ নেয়া দানব মুজিব" আগে ?
-দেশ আগে।

আমার সম্পর্কে আপত্তিকর একটা মন্তব্য করলেন। মুজিবকে গালাগালি করার সুযোগ না দেয়ার জন্যই নাকি আপনি আমার ব্লগে প্রশ্ন করেন নাই। সেখনে অনেক মুজিবভক্ত ব্লগারও কমেন্ট করেছেন। আমি উত্তর দিয়েছি। অনেকের সাথে ২-৩ বার বাৎচিৎ হয়েছে। ব্লগার হিসেবে আমি একটা রূচি মেনে চলি। আমার ব্লগে আমার পক্ষ-বিপক্ষ কাউকেই আমি সামান্যতম অরূচিকর আক্রমন করিনা। শেখ মুজিবের ব্যাপারে সেখানে একটা আক্রমনাত্নক কথাও নাই। প্রায় ১০৬/১০৮ টা কমেন্ট হয়ে গেছে। আপনার এই মন্তব্যটা আশাকরি উইথড্র করবেন ।

-"দেশ শাসনে শেখ মুজিব জঘন্য ছিলো।"-এটাই গালি, তবে যেহেতু কষ্ট পেয়েছেন, ফিরিয়ে নিলাম।


জিয়া মুজিব কে খুন করে নাই , মুজিবের খুনের ব্যাপারে চিন্তাও করে নাই। সেটা আপনার আগের কমেন্টগুলোতেও অস্বীকার করেন নাই।

-এখনো করছিনা। সামরিক বাহিনীতে দায়ভার কেঊ এড়াতে পারেনা। জিয়া ফারুক গংদের ধরিয়ে না দিয়ে/গ্রেপ্তার না করে আবশ্যই
দেশদ্রোহে সামিল হয়েছেন-জিয়াপ্রেমী যে কোন সামরিক অফিসারের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন। ভাল যে কোন উকিলও বোধ হয় আপনাকে এব্যাপারে সাহায্য করতে পারবেন।


আর ঐ ১৩জন ছিলো খুনী । অখুনী আর খুনী কে যে ১ ভাবে বিচার করে তার চক্ষুবৈকল্যের আশু প্রশমন আশা করছি।

-হাসালেন। ওই ১৩ জন খুনী ছিল কি না তার বিচার এখনও হয়নি, তারা দেশদ্রোহী ছিল বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং তার বিচার হয়েছে।

মুজিবের সরকারের পতন যে হয় নাই, শুধু তারই পতন হয়েছে , মোশতাকের কেবিনেট আর মুজিবের কেবিনেট যে মিরর ইমেজ সেটা অস্বীকার তো করতে পারলেন না।
-অস্বীকার করবো কেন?


মুজিবের পতন সবাই চেয়েছে- এটা ধ্রুব সত্য।

-আমি এটাও অস্বীকার করিনি এখানেও না আমার ব্লগেও না।


আমি নাকি অত্যন্ত্ বিরক্তিকর। আপনাকে আমার ব্লগে নিয়ে গিয়েছি। সেটার কোন ঠেকা আমার পড়ে নাই। আপনি কিছু জিয়াবিদ্বেষী প্রশ্ন তুললেন টিপিক্যাল আওয়ামী লীগার এর মত তার জবাব দিলাম। আমার পোস্টের মান কতটুকু সেটা আমি জানি।

-আপনার ব্লগের মানের ব্যাপারে আমি কিন্তু প্রশ্ন তুলিনি একবারো, আপনাকে বিরক্তিকর বলেছি কারন আপনি রেফারেন্স হিসেবে আপনার ব্লগে আমাকে নিয়ে গেছেন। আমি গেছি, রেফারেন্স পড়েছি। তারপর এখানে তার জবাব দিয়েছি। আর আপনি বারবার বলছেন কেন আমি আপনার ব্লগে লিখিনি। কোনটা যৌক্তিক? আপনার ব্লগে মন্তব্য করা না কি এখানে আপনার উত্তর দেয়া?

আপনি কিছু জিয়াবিদ্বেষী প্রশ্ন তুললেন টিপিক্যাল আওয়ামী লীগার এর মত তার জবাব দিলাম।

-আমি জিয়াবিদ্বেষী প্রশ্ন তুলিনি, আমি বলেছি তার বিরুদ্ধে অভিযোগের evidence গুলো circumstantial. সে প্রমান ধ্রুব কিন্তু circumstantial. টিপিক্যাল আওয়ামী লীগারের মত কিনা তা বলতে পারবোনা।

ব্লগে নতুন না পুরাতনের ধোয়া জ্বালালেন। চেনা বামনের পৈতা লাগেনা- আশা করি প্রবাদ টা এখনও বেঁচে আছে।

-আমি তো একবারো বলিনি যে আপনি নতুন আর আমি পুরোনো। আমি বলেছি যে সামুতে আপনার গতায়ত আমার চেয়ে কম যা ভুলও হতে পারে।

আর জামাতের সাথে বিবাহের কথা বললেন । ৯১-৯৬ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাথে জামাতের রীতিমত আংটিবদল হয়েছে বেশ কবার! তখন যুগটা এনালগ ছিলো কিনা ! তাই স্মৃতি গুলো ডিজিটালাইজড করা সম্ভব হচ্ছেনা । তবে ১ বারের সত্যি সারা জীবন সত্যি।


-অবশ্যই হয়েছে। শুধু তাই নয়, ১/১১ এর আগে তারা ফতোয়াকে আইনী সমর্থন দেবে বলে রীতিমত লিখিত চুক্তি করেছিল ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সাথে। কিন্তু জামাতকে তালাক দিচ্ছেনা এখনো বিএনপি?

আর জামাতের ব্যাপারে আমার অবস্থান কি সেটা নিয়ে আমার পোস্ট আছে। না জেনে মন্তব্য করাটা ঠিক না।

-করিনি। আপনি কিন্তু করে যাচ্ছেন।

আপনি বললেন:বিএনপির নির্দেশে আপনি মানিক আর পিয়ালের লেখাকে সামলানোর কাজ নিয়েছেন। মানিক ভাই কে রেসপেক্ট করি। তবে অমি পিয়াল- ঐ ২ + ২ = ৫ মেলানো চাল্লু টাকে আমি ঠিক ই কিছু রিপ্লাই দেবো। আপনার মত ১টা কমেন্ট আমার ঐ ব্লগে আছে।
-আপনার কথায় নিরপেক্ষতার অভাববোধ থেকেই বলেছি।


আমাকে নাকি বিএনপি সরকারের তথ্যমন্ত্রী বানানো হবে ২০১৪ তে আমার বিরাট পরিশ্রমের জন্য!

-না তা অবশ্য হবেনা।

আবারও বললাম: সত্যের বিপক্ষে লা-জওয়াব হলে মানুষ এমনই বলে।

-অসত্যের প্রশ্ন আসছেনা এখানে । আর যদি সত্যের বিপক্ষে লা-জওয়াব হওয়ার কথা বলেন, মানিকের এ পোষ্টে আমার আপনার কথোপকথন গুলো আরেকবার পড়ুন।
৫২. ২২ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৭:৪৭
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: দাসত্ব ও ত্রিশোনকু: উইথ ডিউ রেসপেক্ট, বলতে বাধ্য হচ্ছি, মুজিব হত্যা মামলার জজ কোট, হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট কোথাও কি এসেছে যে জিয়া মুজিব হত্যা কান্ডে জড়িত বা জিয়া মুজিব হত্যার ব্যাপারে জানে.....????????? কোন সাক্ষী বলেছে....??? কোন আসামী বলেছে...??? কোন তদন্তকারী স;স্হা বলেছে....?? উত্তর: না, না, না.......!!! সো , লিভ জিয়া এলোন.....|||
৫৩. ২২ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:০৩
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: ৩৪ নম্বর মন্তব্যে পিয়ালের কিছু ব্যাখ্যা/মতামত আছে । তার জবাবে ব্লগার আদিল ভাইয়ের মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এখানে দিলাম:

@অমি রহমান পিয়াল,

বেশ কিছু বিষয় সিদ্ধান্ত আছে যেগুলি ব্যাক্তিগত মতামতের উপর নির্ভর করে, যেমন জিয়ার পশ্চাদপসরন, মুজিবের বাড়িতে থেকে যাবার সিদ্ধান্ত। কিছু সিদ্ধান্ত আছে যেগুলি ব্যাক্তি মতামতের উপর নির্ভরশীল না, যেমন স্বাধীনতার ঘোষনা বা জিয়ার নিজেকে প্রভিশনাল চীফ দাবী এমন; এইগুলি ইতিহাস গবেষনা করলে জানা যায়।

আপনার অনুসিদ্ধান্তগুলি এই দুই ধরনের শ্রেনীতেই পড়ে।

১/২। সে রাতে জিয়ার সদলবলে চট্ট্রগ্রাম ছেড়ে চলে যাবার সিদ্ধান্ত ব্যাক্তিগত মতামত নির্ভর। এটা তার ব্যাক্তিগত সামরিক সিদ্বান্ত। তবে আমার মনে হয়েছে যে রফিকের সাথে ল্যাক অফ কমিউনিকেশন আরেকটা কারন। জিয়া মনে হয় বুঝতে পারেননি যে রফিকের বাহিনী পালিয়ে না গিয়ে লড়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে হয়ত তিনি পালিয়ে যেতেন না। এখানে জিয়ার স্বভাব যা পরেও কয়েকবার প্রতিফলিত হয়েছে সেটাই মূল কারন। জিয়া সব সময়ই ঘটনার একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতেন, একদম নিশ্চিত হতে চান যে তার সিদ্ধান্তে ভুলের সম্ভাবনা নেই। ৭৫ এর ঘটনাও এর প্রমান। ১/২ এর মূল্যায়ন ব্যাক্তি নির্ভর, তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে হয় আরো ভাল বলতে পারবেন। জানি যে রফিক জিয়াকে সবসময়ই এর জন্য দায়ী করেন। তবে তিনি ২৭ তারিখের মাঝে কিন্তু চট্টগ্রামে কিছু রেকি টীম পাঠিয়েছিলেন পরিস্থিতি জানতে। মীর শওকত মনে হয় ২৬ বা ২৭ তারিখ এমন এক রেকি অভিযানে ফায়ারের মুখে পড়েন। জিয়ার নির্দেশে সম্ভবত ক্যাপ্টেন সুবিদ আলী বা খালেকুজ্জামান এ সময়ের ভেতর ৩০ জনের একটি বাহিনী নিয়ে কমোডর মমতাজের বাসায় হামলা চালায়, যদিও কোন লাভ হয়নি কারন সে বাড়ী ছিল দূর্ভেদ্য দুর্গ।

৩। এতে কোনরকম বিতর্ক নেই। এটা ঐতিহাসিকভাবে প্রমানিত। জিয়া নিজে নিজে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র দখল তো দুরের কথা (যেটা একটা বড় সময় ধরে প্রচার করে আমাদারে মাথায় গাড়া হয়েছে), আসেনও নি। তাকে ডেকেই আনা হয়েছিল নিরাপত্তার জন্য।

৪। এতেও কোন বিতর্ক নেই। জিয়ার ২৮ তারিখের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির ঘোষনা স্রেফ যুদ্ধকালীন প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কোন গুরুত্ব নেই। এ সম্পর্কে আগেই বলেছি। সবাই জিয়াকে তার ২৭ তারিখের ঘোষনার জন্যই স্মরন করে, যাতে প্রভিশনান কোন ব্যাপার নেই।

৫। এই মাহমুদ হোসেন এপিসোড পুরো প্রমানিত নয়। তবে জিয়ার মত কোন অফিসার এত সহজে ফাঁদে পড়বেন কেমন যেন অবিশ্বাস্য লাগে। তবে সত্য হতেও পারে। কারন এই ব্যাক্তি সম্পর্কে সবাই কেমন যেন একটা ঢাক ঢাক গুড় গুড় ভাব নিয়েছেন, জিয়া, বেলাল মোহাম্মদ সবাই। কেউই হয়ত আর বিতর্কে নুতন মাত্রা যোগ করতে চাননি বলেই এর কথা আর বলেন না। স্বাধীনতার ঘোষনায় সিআঈএ জড়িত, তাও জিয়ার সাথে তার নাম জড়ানোর ঝুকি কেউই মনে হয় নিতে চান না। তবে জিয়া নিজে কোনদিন এর নাম বা এমনকি ২৮ তারিখের ঘোষনার কথাও বলেছেন বলে আমার জানা নেই।

৬। এতে আমার দ্বি-মত আছে। জিয়ার ২৭ তারিখের ভাষনের গভীড় গুরুত্ব আছে। ঘোষনা যদিও মুজিব আগেই দিয়েছিলেন তবে তা সেভাবে গণমানুষ, বিচ্ছিন্নভাবে লড়তে থাকা সেনা সদস্যদের কাছে পৌছাতে পারেনি। এই কাজ করে দিয়েছিল জিয়ার ২৭ তারিখের ভাষন। এটা না হলে দেশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খন্ড যুদ্ধরত অনেকেই হয়ত জানতেন না যে তারা যে লড়াই করছেন তা স্রেফ জান বাচানোর লড়াই না। এটা চূড়ান্ত স্বাধীনতার লড়াই, এবং তারা একাও নন, দেশের সব যায়গাতেই হচ্ছে। মনোবল চাংগা করার ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য এর গুরুত্ব অসীম। যদিও এই ভাষন না হলে যুদ্ধ হত না আমরা স্বাধীন হতাম না চিন্তা করা হাস্যকর।

৭। সম্ভাবনার বিচারে হতে পারে। মাহমুদ হোসেন মারা যাবার খবর পাবার পর হয়ত জিয়া প্রভিশনাল রাষ্ট্রপ্রধানের দাবী যে ফাকা বুলি তা বুঝতে পারেন। তাই এই দাবী ছেড়ে দেন। তবে তার নিজেকে প্রপাগান্ডা ছাড়া আর কোন কারনে রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষনার এখতিয়ার ছিল না। সেটাও তিনি নিশ্চয়ই ভালই জানতেন।



৫৪. ২৩ শে এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৫:৩৬
দাসত্ব বলেছেন: @নুরুজ্জামান মানিকঃ ব্রাদার আপনি বললেন নুরুন্নবী প্রেসিডেন্ট জিয়াকে মুল্যায়ন করেনি , মেজর জিয়াকে মুল্যায়ন করেছে।
আমার বক্তব্য মেজর জিয়ার অধীনস্থ ১৯৭১ এর ক্যাপ্টেন নুরুন্নবী মেজর জিয়া কে মুল্যায়ন করেনি , প্রেসিডেন্ট জিয়ার দ্বারা ১৯৮১ তে বরখাস্ত হওয়া ২০০০ পরবর্তী নুরুন্নবী মেজর জিয়াকে মুল্যায়ন করেছে। আপত্তি টা সেখানেই।

৪২ আর ৪৪ নং এ অনেক গুলো প্রশ্ন রেখে গিয়েছিলাম।
অনুত্তোরিত , কেন ?
০২ রা মে, ২০১০ দুপুর ২:০২

লেখক বলেছেন: যদিও নুরুন্নবী জিয়ার সহযোদ্ধা ছিলেন তবু আপনি তার ভাষ্যকে পিয়ালের রেফারেন্স হিসেবে নেয়াকে সমর্থন করছেন না কারণ "প্রেসিডেন্ট জিয়ার দ্বারা ১৯৮১ তে বরখাস্ত হওয়া ২০০০ পরবর্তী নুরুন্নবী মেজর জিয়াকে মুল্যায়ন করেছে।"

ভাল । আপনার লজিককে আমি খারিজ করছি না কিন্তু এই লজিক কি আপনি নিজেই মানবেন অন্যক্ষেত্রে ?

মেজর জলিলকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহারের সময়ও কি এই আপনার মনে কোনো প্রশ্ন উদয় হয় যেমন তার বইয়ের রচনাকাল কবে ? তখন তিনি কি ধরনের রাজনীতি করতেন -জাসদ না ইসলামি রাজনীতি ? সে সময় জামাতের সাথে তার সম্পর্ক ছিল কিনা ? ইত্যাদি ।

৫৫. ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৩৯
মেঘ বলেছেন: মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। সাথে আছি। আপাতত প্রিয়তে প্লাস সহকারে।
২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:০০

লেখক বলেছেন: অজস্র ধন্যবাদ ।

৫৬. ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:১৪
রাফা বলেছেন: পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম ;পুরোটাই মোটাটমুটি পুর্বেই জানা তবুও খারাপ লাগে নাই।ধন্যবাদ
৫৭. ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:০৪
কানু বলেছেন: দাসত্ব জিয়ারে ডিফেন্ড কর্তে না পাইরা ওই মুজিব আর হাসিনার দিকে কথা ঘুরাইতেছে। হায়রে পতিতা বুদ্ধিজীবি, ঘটে জ্ঞান নাই। পরের পর্ব কই?
২৭ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৫৪

লেখক বলেছেন: শীঘ্রই ।

৫৮. ২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:২৩
নাজনীন১ বলেছেন: পড়লাম, ইতিহাস পড়তে ভালোই লাগে। অপেক্ষা করছি পরের পর্বের জন্য।

৬০. ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৭:০৫
ডিটেকটিভ বলেছেন: দাসত্ব তো খুব ফায়ার । তবে নুরুন্নবীর কথা বিশ্বাস করা যায়না ।
তথ্য জানালেন । তবে তথ্য গুলো রংচড়ানো হতে পারে।
দাসত্ব এর ৪১ , ৪৩ আর ৫৪ নং প্রশ্ন গুলো ধারালো এবং পোস্টের নির্ভরযোগ্যতার জন্য চ্যালেন্জ্ঞ।

আমি প্রশ্ন গুলো গ্রহন করলাম । এগুলোর মীমাংসা প্রয়োজন।
৬১. ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৭:১২
দাসত্ব বলেছেন: @ কানু : চোখের ডাক্তার দেখাও ।
৪১ আর ৪৩ নাম্বারের প্রশ্ন গুলার উত্তর তো পোস্টাইসেন যিনি তিনিই দিতেসেননা , চুপ মেরে বসে আছেন ।
৬২. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:২৯
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: @দাসত্ব
ভূ্মিকাতেই বলা আছে ,এই পর্বের লেখক পিয়াল ভাই ।
আচ্ছা , পিয়াল কি এই পর্বে জিয়ার উপর কোনো সিদ্ধান্ত টেনেছে
নাকি কিছু তথ্য (রেফারেন্স-দলিল সহ) তুলে ধরেছে মাত্র ?

আপনি সেই সব তথ্য মানেননি কারণ তথ্যগুলি নিয়ে আপনার মনে কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে , তাই তো ?

এখন পিয়ালের লেখা (থিসিস ) আপনার প্রতিক্রিয়া (এন্টিথিসিস ) থেকে পাঠকরা করবে synthesis।

এখানে আমরা ফুটবল খেলছি না , হার জিতের প্রশ্ন আসবে ।
আমরা ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করছি ।
আমরা কোনো সিদ্ধান্ত টানছি না ।
আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখছি ।

৬৩. ০৪ ঠা মে, ২০১০ রাত ৮:০৫
জাতীয়তাবাদী শুভ বলেছেন: লেখক বলেছেনঃ গত স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তার সৃষ্ট রাজনৈতিক দলের দাবী, তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট, স্বাধীনতার ঘোষক। তার ঘোষণাতেই বাঙালী যুদ্ধ করেছে। তার মাধ্যমেই আমরা স্বাধীন একটি দেশ পেয়েছি। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

এই কথাতেই আপনার লেগে গেলো?? এটা তো আর খালেদা জিয়ার বলা কথা না কিন্তু আপরদিকে শেখ হাসিনা যে তার পিতাকে ভাষা আন্দোলনের সৈনিক বলে দিল তারপর ১৯৬৯ থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার কথা বললেন এগুলোকে কি আপনার ইতিহাসের ধর্ষন মনে হয়না?? শেখ মুজিবকে নিয়ে 'খলিফাতুল মোসলেমিন' বই লেখা হয় সেটা নিয়ে আপনার কোন প্রতিক্রিয়া হয়না?? আপনি হঠাৎ করে আবার ব্লগার দের সেই ইতিহাসের বিতর্কের দিকেই নিয়ে যাচ্ছেন কার স্বার্থ রক্ষা করার জন্যে জানতে পারি?? আপনার মত স্বনামধন্য ব্লগার কি চায় যে জাতি হিসেবে এই ইস্যুগুলো নিয়েই বিভক্ত থেকে যাব? জাতিকে বিভক্ত করা কি আপনার দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ?? আপনার এই পোস্ট কি আমার বাবা বা তার বন্ধু যে নিজ কানে উত্তরবঙ্গের কোন জায়গা থেকে জিয়ার যে ভাষন শুনেছে তাদের সেই স্মৃতি ভুলে দিতে পারবে?? বা তাদের উত্তরসুরীদের সে কথা জানানো থেকে বিরত রাখতে পারবে?? আবার আপনি জিয়া পরিবারের ব্যাক্তিগত ব্যাপার টেনে আনবেন বলছেন সেটা কার স্বার্থে, সংসদে শেখ হাসিনার মুখ আরো ফোটানোর জন্যে??

সবশেষে, যদি আপনি কোন বিশেষ মহলের স্বার্থ রক্ষার জন্যে এই কাজে হাত দিয়ে থাকেন তাহলে আরেকটু কষ্ট করে এই প্রচারনা গ্রামে গঞ্জে, অবহেলিত, ভাগ্যবিরম্বিত মানুষের কাছে করবেন। আশা করি তাতে তাদের ২ বেলা ভালো খাদ্য জুটবে। আমার মনে হয় ১৯৯১ সালের নির্বাচন আপনাদের মত কিছু বুদ্ধিজীবিদের জন্ম দিয়েছে যেসময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতীক দেউলিয়াত্ত্ব প্রমানিত হয়েছিল।
০৫ ই মে, ২০১০ দুপুর ১২:০১

লেখক বলেছেন: ট্রেলার পোস্টে আপনার মনতব্যের জবাব দিয়েছি ।

৬৪. ০৭ ই মে, ২০১০ রাত ১:১৮
শাহেদ সাইদ বলেছেন: আমাদের দূর্ভাগ্য এদেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবিই মুক্তবুদ্ধির চর্চার চাইতে দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে ঢের স্বাচ্ছন্দ। অমি রহমান পিয়াল কিম্বা নুরুজ্জামানরা বুদ্ধিজীবি হিসাবে তত পরিচিত না হলেও ব্লগিংএর জগতে প্রতাপশালী। ডিজিটাল যুগে বড় হলে একদিন নিশ্চয়ই বড় বুদ্ধিজীবি হবেন। তা না হলে আর ইতিহাস সৃষ্টির চেষ্টায় নিজেদের জড়াচ্ছেন কেন? সৃষ্টি বল্লাম এ কারনে যে তারা কিছু ঘটনা বানাচ্ছেন। সময় নিয়ে বানাচ্ছেন। বিশ্বাসযোগ্য গল্প লেখার জন্যে ড্যান ব্রাউন যেমন দীর্ঘ সময় নেন। এ অনেকটা সে রকম ইফ ইউ ক্যান নট কনভিন্স সামওয়ান, কনফিউজ হিম। আওয়ামীলীগ এবার ক্ষমতায় এসেছে অনেক সাবালক হয়ে। গত টার্মে জিয়াকে নিশ্চিন্হ না করে যে ভুল করেছিল এবার তার পনরাবৃত্তি হবে না। জিয়াকে নিশ্চিন্হ করতে গিয়ে একটু আধটু যদি বিকৃতি বিচ্যুতির দরকার হয় তার জন্যে পেশাদার লেখকরা তো আছেই। এবার জিয়াকে পাকিস্তানি দালাল হিসাবে যদি প্রমান করা যায় তবে এ প্রজন্মের আবেগী ভোটারদের আরও দশটি বছর ঘোরের মধ্যে রাখা যাবে। নুরুজ্জামানদের পোষ্টে যে সব নতুন তথ্য আছে,পরে ত্রিশোংকু এবং অরিফ জেবতিক আরও যে সব নতুন তথ্য যোগ করেছেন তার কোনটিই মামূলি গল্প নয়। সু চিন্তিত এবং সু পরিকল্পিত।
প্রথমে দেখা যাক হিলালই জুরাতের বিষয়টি। গবেষকদের ধন্যবাদ এই তথ্যটি জানাবার জন্য। জিয়া বিচিত্রায় ( বিচিত্রা বাংলাদেশের এ যাবৎ কালের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক, আওয়ামীলীগের গেলবারের সুশাসনে পত্রিকাটি গঙ্গাপ্রাপ্তি ঘটে।)একটি জাতির জন্ম নামে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন। সেখানে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে তার ইউনিটের (১ম ইষ্টবেংগল রেজিমেন্ট) অনেক বীরত্বের কথা বললেও নিজের বীরত্বের কথা কিন্তু বলেন নি। পিয়ালের কথায় জানলাম তার খেতাবের কথাও। ১৯৭১ এ জিয়া ৮ম ইষ্ট বেংগলের উপ অধিনায়ক। এর আগে তিনি কোয়েটায় ষ্টাফ কলেজ সম্পন্ন করেছেন, একজন প্যারা কমান্ডো হিসাবে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন, কাকুলে মিলিটারী একাডেমিতে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন অর্থাৎ পদোন্নতি ও পদবীর জন্য যে সব য্গ্যেতা দরকার সবই তিনি অর্জন করেছিলেন। তার প্রমোশন নিশ্চিত ছিল ক'দিন পরেই। পাকিস্তান যাবার জন্য অস্ত্রশস্ত্র জাহাজে তুলে দিয়ে প্রায় নিরস্ত্র অবস্থায় তার ইউনিট পাকিস্তানি অধিনায়কের নেতৃত্বে অবস্থান করছিল সেনানিবাসের বাইরে। মুক্তি যুদ্ধে যোগ না দিয়ে জাহাজে উঠে বসলেই তিনি নিশ্চিত পাকিস্তান চলে যেতে পারতেন। তিনি তা না করে যোগ দিলেন মুক্তিযুদ্ধে। শুধু যোগই দিলেন না, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে সব দুঃসাহসী মানুষ প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তাদের যুথবদ্ধ হবার প্রেরণা যোগালেন।গতবারের আওয়ামী জমানায় ঘটনাটিকে একটি নতুন নাম দেওয়া হলো। স্বাধীনতার ঘোষণা করা নয়, ঘোষণা পাঠ করা। দুর্জনেরা বিষয়টিকে আওয়ামীলীগের হীনমন্যতা হিসাবে দেখলেও খোদ সরকারি নেতারা বাইরের একটি লোকের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা আসার ব্যপারটিকে নিজেদের ব্যর্থতা হিসাবে দেখেন। যার জন্যে আদালতের ভয়দেখিয়ে এখন স্বাধীনতার ঘোষক নির্ধারণ করতে হয়। ত্রিশোংকু মশাইকে একটি প্রশ্ন করি, আপনি তো সেনাবাহিনীতে ছিলেন আপনি ভালোই জানেন চাকরিতে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার পরিণতি, বলেন তো রেডিওতে স্বনামে ঘোষনাটির জন্যে কোর্টমার্শালে তার শাস্তি কি হতে পারতো? এরকম একজন সাহসী দেশদরদী মানুষকে আপনারা কার ইশারায় খল নায়ক সাজাতে চাচ্ছেন?

আমার এখনও অনেক কিছু বলার আছে। আপনাদের এই বুদ্ধিবৃত্তিক দূর্ণীতির জবাব আমি সততার সাথেই দেবো।
৬৫. ০৭ ই মে, ২০১০ ভোর ৬:১৩
ত্রিশোনকু বলেছেন:
@শাহেদ সাইদ

"ত্রিশোংকু মশাইকে একটি প্রশ্ন করি, আপনি তো সেনাবাহিনীতে ছিলেন আপনি ভালোই জানেন চাকরিতে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার পরিণতি, বলেন তো রেডিওতে স্বনামে ঘোষনাটির জন্যে কোর্টমার্শালে তার শাস্তি কি হতে পারতো?"

-মৃত্যুদন্ড।

এরকম একজন সাহসী দেশদরদী মানুষকে আপনারা কার ইশারায় খল নায়ক সাজাতে চাচ্ছেন?

-চাচ্ছিনা, যা ঘটেছিল তার মধ্যে যে সত্য অস্বীকারের কোন অবকাশ নেই সেটাকেই তুলে ধরছি আমি।
______

জন্যঃ ত্রিশোংকু মশাই

পড়ুনঃ ত্রিশোংকু
৬৬. ০৮ ই মে, ২০১০ রাত ১:৩৬
শাহেদ সাইদ বলেছেন: ত্রিশোংকু, ধন্যবাদ। একালের রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই।নেতারা জনগনের কাছে যা বলেন তার অনেক কিছূই মিন করেন না। ১৯৭১ এ জিয়াউর রহমানের সে সুযোগ ছিলো না। তিনি মৃত্যুদন্ড মাথায় নিয়েই যুদ্ধে নেমেছিলেন। সে সময় আর যে সব বীর প্রতিরোধ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাদের সবার বেলায়ই কথাটি প্রযোজ্য্। তারা নিজেরাও বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। আর এ কারনেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এসব দলছুট অফিসাররা তাদের সম্মিলনের প্রথম সুযোগেই একটি রাজনৈতিক সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ঘটনাটি ঘটে ১৯৭১ এর ৪ঠা এপ্রিল। হবিগন্জের তেলিয়াপাড়ার এক চা বাগানে মিলিত হন কর্ণেল ওসমানী, কর্ণেল রব, লেঃ কর্ণেল রেজা, মেজর জিয়া, সফিউল্লাহ,খালেদ মোশাররফ সহ বেশ কিছু সামরিক অফিসার। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, বাহিনী সয়গঠন, প্রয়োজনীয় লজিষ্টিকস সহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয় তেলিয়া পাড়ায়। একই সাথে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যপারেও এই অফিসার রা জোরালো মন্তব্য করেন। কারন সে মুহুর্তে বৈধ রাজনৈতিক সরকারই তাদের কে বাঁচাতে পারে বিচারের হাত থেকে। তাছাড়া দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যে রসদ দরকার একমাত্র সরকার গঠনের মাধ্যমেই তা জোগাড় করা সম্ভব। পরবর্তীতে শিলিগুড়ি বেতার কেন্দ্র থেকে ১০ এপ্রিল তাজউদ্দিনের যে বেতার ভাষণ প্রচারিত হয় জিয়ার ঘোষণার স্বীকৃতি সহ এ বিষয় গুলিরও সেখানে আভাস দেওয়া হয়।

যাহোক জিয়ার ঘোষণাকে গুরুত্বহীন করার ব্যপারে পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ এবং বাম পন্থী বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ দেখা গেছে।( যদিও যুদ্ধের সময় বামদের মুক্তিবাহিনীতে নেবার ব্যপারে অনেক শীর্ষ আওয়ামী নেতারই আপত্তি ছিল। ) এই ব্লগের কোন একটি কমেন্টে লেখা দেখেছি "তখন জিয়ার ঘোষণা শোনার অবস্থা কারো ছিল না।" কালুর ঘাটের ট্রান্সমিটারের ক্ষমতা ছিল সীমিত ইত্যাদি। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে ২৬ মার্চ বেলা আড়াইটায় আব্দুল হান্নান ঘোষণা দেবার মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যেই ট্রান্সমিসন বন্ধ করে দিতে হয়েছিলো। এ জন্যে ঘটনা টি জনমনে প্রভাব ফেলেনি। জিয়ার ঘোষণা অন এয়ার হবার আগে বেশ কয়েক বার রেডিও স্টেশন থেকে তার ভাষণ প্রচারের আগাম ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। জনগন এই ভাষণটি শোনার জন্যে অপেক্ষা করছিল। ট্রান্সমিশন ক্ষমতা বেশি না কম ছিল আমি জানি না। তবে তাজউদ্দিনের সাথে কুষ্টিয়া যাবার পথে জনৈক মেজর জিয়ার ভাষণের কথা শুণে ব্যরিষ্টার অমিরুল অনুপ্রানিত হয়েছিলেন বলে মুক্তিযুদ্ধেল দলিল পত্রের ১৫তম খন্ডে তিনি জানিয়েছেন। ক্র্যাকপ্লাটুনের হাবিবুল আলম বীর প্রতীক ঢাকায় বসেই জিয়ার ঘোষণা শুনেছেন বলে দাবী করেছেন তার প্রকাশিত বইয়ে।এরকম আরও অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যায়। তবে যারা ইতিহাস নিজেদের মত করে লেখেন তারা ভালো অটঘাট বেঁধেই করেন। জিয়ার হিলালই জুররাত পাওয়ার ঘটনাটি তার জীবনেতে সামপ্রতিক তম সংযোজন। উইকিপেডিয়াতে ঢুকে দেখলাম জিয়া সম্পর্কে এই গৌরব গাঁথাটি অতি সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে। ৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধে তার নামে এতদিন পরে খেতাব যুক্ত করার সম্ভাব্য কারণ একটিই। জিয়া একাত্তরে অখ্যাত ছিলেন না এটা প্রমান করা। জিয়া বিরোধীরা এতদিন যা করেছেন তার ঠিক উল্টো। খ্যাত অখ্যাত যাই থাকুন তার প্রফেশনাল এফিশিয়েন্সি যে ঈর্ষণীয় ছিল এতে কোন সন্দেহ নেই।
৬৭. ০৮ ই মে, ২০১০ বিকাল ৫:৩৭
ত্রিশোনকু বলেছেন:
""আর এ কারনেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এসব দলছুট অফিসাররা তাদের সম্মিলনের প্রথম সুযোগেই একটি রাজনৈতিক সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।"
-সঠিক।

উইকিপেডিয়াতে ঢুকে দেখলাম জিয়া সম্পর্কে এই গৌরব গাঁথাটি অতি সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে।
-আগের মত যাচ্ছেতাই এখন আর উইকিতে ঢোকানোসম্ভব নয়। রেফারেন্স ছাড়া আর কিছুই আপনি সেখানে সংযোজিত করতে পারবেন না।

জেনারেল জিয়া হিলালে জুরাত পেয়ে থাকলে সেটা অবশ্যই গৌরবের কারন ১৯৬৫ সালে আমার বয়স যখন ৭ (৬ ই সেপ্টেম্বর) তখন পূর্ব পাকিস্তানের সিংহ ভাগ বাংগালীই ছিল ভারতের বিরুদ্ধে । লক্ষ করুন, আমি বলেছি ভারতের বিরুদ্ধে। পাকি শাসকদের পক্ষে কিন্তু তাই বলে আমরা তখনও ছিলাম না। হিলালে জুরাত পাওয়াটা নিশ্চিত করা কোন ব্যাপার না। পাকিস্তান হবার পর থেকে এ পর্যন্ত হাতে গোনা মানুষই তা পেয়েছেন। তাদের সেনা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সর্বাধিনায়কের দপ্তর, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সবখানেই সেটা লিপিবদ্ধ থাকবে।

শুধু তাই নয়, জিয়া ছিলেন পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমীর প্ল্যাটুন কমান্ডার, যা যে কোন সেনাবাহিনীর যে কোন মেজরের জন্যে শ্রেষ্ঠ নিয়োগ। বাংগালী হওয়ার কারনে তার এ নিয়োগ বিস্ময়কর।

"তবে তাজউদ্দিনের সাথে কুষ্টিয়া যাবার পথে জনৈক মেজর জিয়ার ভাষণের কথা শুণে ব্যরিষ্টার অমিরুল অনুপ্রানিত হয়েছিলেন বলে মুক্তিযুদ্ধেল দলিল পত্রের ১৫তম খন্ডে তিনি জানিয়েছেন।"

-সঠিক, মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র, ১৫ তম খন্ড, পৃষ্ঠা-৬৩,পূনর্মূদ্রিত, জুন, ২০০৯।

তবে ব্যারিষ্টার আমির সেই সাক্ষাৎকারে এও বলেছেনঃ

"চট্টগ্রাম থেকে আমরা খবর পেলাম পশ্চিম পাকিস্তান থেকে 'সোয়াত' জাহাজে করে অস্ত্র এসেছে। বংগবন্ধু হাজী গোলাম মোর্শেদের মাধ্যমে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার কাছে একটি নির্দেশ প্রেরণ করেন। খবরটি ছিল সোয়াত জাহাজ থেকে যেন অস্ত্র নামাতে না দেয়া হয়। এ ব্যাপারে মেজর জিয়া কোন সক্রিয় ভুমিকা পালন না করায় পরবর্তিকালে তাঁর সংগে আর
যোগাযোগ করা হয়নি।"

-মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র, ১৫ তম খন্ড, পৃষ্ঠা-৫৫,পূনর্মূদ্রিত, জুন, ২০০৯।

স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র, চট্টগ্রামের ট্রান্সমিটারের ক্ষমতা ছিল সীমিত-এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য। তথ্য মন্ত্রনালয়ের/বাংলাদেশ রেডিওর পুরোনো দস্তাবেজ ঘেঁটেই তা জানতে পারবেন।

ক্ষমতা ছিল কম-বেশী ৫০ মাইল। আবহাওয়ার তারতম্যে এই কম বেশী হ'ত।

২৩শে মার্চ, ১৯৭১। অতি ভোরে, রেডিও পাকিস্তান চট্টগ্রামে আমি আমার প্রয়াত ফুপাত বোনকে নিয়ে যাই। ছোটদের আসরে ও "আমার সোনার বাংলা" গানটি গায়। আমার ফুপা ফুপু (এখনো জীবিত) এবং তাদের আত্মীয়স্বজনেরা শত চেষ্টাও সে সম্প্রচার শুনতে পাননি নরসিন্দী থেকে। সে সময় সড়ক যোগে যখন ঢাকা থেকে চিটাগাং আসতাম, গাড়ীর রেডিওতে চট্টগ্রাম শোনা যেত ফেনী পার হবার পর।

তা হ'লে কি এত স্বনামধন্য ব্যাক্তিরা অসত্য বলেছেন? আমার মনে হয় না।

এর গ্রহন যোগ্য ব্যাখ্যা হ'তে পারে এরকম যে জিয়ার ভাষনটি ভারতের কোন শক্তিশালী ট্রান্সমিটার দিয়ে পূনঃপ্রচার করা হয়েছিল।

৬৮. ০৯ ই মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৩
রাগ ইমন বলেছেন: মন দিয়েই পড়ছি ।
-----------------

আপনাদের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে গভীর শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন।

------------------------

আমার একটা অনুরোধ আছে, অফেন্ডিং মুজিব নামেও একটা সিরিজ করুন।

অফেন্ডিং এরশাদ নামেও একটা সিরিজ করুন।

এরপর , অতি অবশ্যই যেইটা করবেন , তাহলো অফেন্ডিং খালেদা ও অফেন্ডীং হাসিনা।

প্রতিটা শাসন আমলেই কিছু অন্যায় হয় । অত্যাচার হয়। খুন হয় । এই রাজনৈতিক অন্যায় ও খুন , দেশ বিরোধী চুক্তি গুলোর শ্বেত পত্র আমাদের মত সাধারণ মানুষের কাছে থাকা দরকার।

আগে মানুষ মিডিয়ার উপর ভরসা করতে পারত, এখন তাও পারে না। সাধারন মানুষের এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডীং মিশনই ভরসা।

আশা করছি একটা আবেগ বিবর্জিত , নিরপেক্ষ সিরিজ দিতে পারবেন সব আমলের জন্যই ।

একলা জিয়াকে কাঠ গড়ায় দাড় করানোটা একেবারেই আন ফেয়ার।
৭১. ১১ ই মে, ২০১০ রাত ১১:১৬
শাহেদ সাইদ বলেছেন: নিয়মিত ইন্টারনেটে বসা হয়না এই জন্য দেরি হলো । তাছাড়া পাক ডিফেন্স ফোরামে অনেক খোঁজাখুঁজি করলাম জিয়ার হিলালই জুররাত রহস্যের কিনারা করতে। কোন কিছূ পেলাম না। এদেশে এখনও জিয়ার তিন জন ব্যাচমেট আছেন। জেনারেল শফিউল্লাহ, লে:কর্ণেল হামিদ আর গোপালগন্জের একজন রিটায়ার্ড জেনারেল। (নাম মনে করতে পারছি না।)তাঁরা হয়তো কোন কিছু জানতে পারেন।

প্রিয় ত্রিশোনকু, পয়ষট্টিতে পাক শাসকদের পক্ষে অনেক বাঙালিই ছিলো না। আমি একমত। আমার যতদূর মনে পড়ে একসময়কার ডিজি বিডিআর সাদেকুর রহমান চৌধুরীর নামের শেষে টি কিউ এ বলে একটি পাকিস্তানি খেতাব ছিল। জিয়ার নামের শেষে তো সে হিসাবে বি ইউ, এইচ আই জে (বা জেড) পি এস সি হবার কথা। কিন্তু কেউ কি জিয়ার এ ধরনের নামের কথা মনে করতে পারেন? মনে হতে পারে একটি খেতাব নিয়ে আমি এত চিন্তিত কেন? আমি চিন্তিত কারন কয়েকজন সত্য সন্ধানি আমার মত অন্ধ লোকদের আলোকিত করার জন্যে এটা লিখছেন।

মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর আব্দুস সালাম সহ আরও কয়েকজন অফিসারের নাম শুনেছি যারা কাকুলে প্রশিক্ষক ছিলেন।জেনারেল আমজাদ হোসেন চৌধুরি সৈয়দ পুরে অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ পদে ছিলেন। মুক্তি যুদ্ধে যোগ দেন নি। আবার একই ধরনের পদে থেকেও জেনারেল মনজুর পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে মুক্তি যুদ্ধে যোগ দিয়ে ছিলেন্ এসব প্রসঙ্গে বলার অরও সুযোগ আসবে আগে ব্যরিষ্টার অমির হাজি মোর্শেদের মাধ্যমে বঙ্গ বন্ধু জিয়ার কাছে সোয়াত জাহাজ খালাস না করার নির্দেশ প্রদান করেন বলে যে বক্তব্যটি দিয়েছেন সে বিষয়ে আমার সংশয়ের কথা বলি।

১৯৭১ এর মার্চে চট্টগামে যে দুটি প্রধান ইউনিট ছিলো তার একটির নাম ২০ বেলুচ অপরটি সম্ভবত ৩ কমান্ডো ব্যাটালিয়ান। বিকল্পধারার মেজর মান্নান ৩ কমান্ডো ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। ৮ ইষ্ট বেঙ্গল ছিলো ঢাল তলোযার বিহীন ণিধিরাম সর্দার। তাদের অস্ত্র শস্ত্র পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানোর জন্যে জাহাজে তোলা হয়ে গিয়েছিল। এই ব্যটালিয়নের সহ অধিনায়ক ছিলেন জিয়া। ২৬শে মার্চের আগে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে তার এমন কোন পরিচয় ছিল না যে তাকে এধরনের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।
সম্ভবত মার্চ মাসের ২ তারিখে ব্রিগেডিয়ার মজুমদার জেড এম এল এ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৩ অথবা ৪ তারিখে গভীর রাতে চট্টগাম সার্কিট হাউসে তাঁর সাথে গোপনে দেখা করেন খোন্দকার মুস্তাক (ঠিকই দেখছেন, ইনি কুমিল্লা থেকে গিয়েছিলেন।) এম এ হান্নান, জহুর আহমেদ চৌধুরী। পরবর্তীতে ১৭ মার্চ ব্রিগেডিয়ার মজুমদারের পরামর্শে লে কর্ণেল এম আর চৌধুরীর নেতৃত্বে বাঙালি অফিসাররা তাদের করণীয় নির্ধারণের জন্যে চট্টগাম ষ্টেডিয়ামে মিলিত হয়ে ছিলেন। (ব্রিগেডিয়ার মজুমদার এখনও বেঁচে আছেন। শ্যামলীতে থাকেন।)এখানে কর্ণেল এম আর চৌধুরী ই প্রথম প্রয়োজনে সশস্ত্র বিদ্রোহের কথা বলেন। চট্টগামের অফিসারদের এই মনোভাবের কথা মজুমদারের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দও জানতে পারে। ইপিআরে চাকরী এবং সিভিল সমাজের সাথে সখ্যতার কারনে সে সময় নেতাদের কাছে ক্যাপ্টেন রফিকের যে পরিচিতি এবং গুরুত্ব জিয়ার তা ও নয়। কাজেই হাজি মোর্শেদের মাধ্যমে জিয়াকে নির্দেশ পাঠানোর বিষয়টির সত্যতা প্রশ্নাতীত বলে প্রতীয়মান হয় না।

২৩ তারিখ মজুমদার কে মিথ্যা অজুহাতে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার আনসারি তার স্থলাভিষিক্ত হন। সোয়াত জাহাজ খালাসের জন্যে সম্ভবত তিনিই ৮ ইবেঙ্গল কে নির্দেশ দেন। এই ইউনিটের অবাঙালি অধিনায়ক বাঙালি সেনাদের কৌশলে বিভক্ত করার জন্যেই জ্যেষ্ঠতম অফিসার জিয়াকে বন্দরে পাঠানোর পরিকল্পনা করেন। যে কারনে ৭ই মার্চের বক্তৃতার পরও বঙ্গবন্ধুকে ইয়াহিয়ার সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে হয়েছিল সেই একই কারনে জিয়াকে বন্দরে যাবার আদেশ পালন করতে হয়েছিল।অস্ত্র না থাকলেও এই ইউনিটের বাঙালি সদস্যদের একটি মানসিক প্রস্তুতি ঠিকই ছিল। ভাগ্যিস জিয়া প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন। পাকস্তানিদের পাশার দান উল্টে গিয়েছিল তাতেই।


৭২. ১২ ই মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১১
ত্রিশোনকু বলেছেন: টি কিউ এ: তমঘা এ কায়েদে আজম।

"জেনারেল আমজাদ হোসেন চৌধুরি সৈয়দ পুরে অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ পদে ছিলেন"

-এ লোকের বিচার গোলাম আজমের সাথে একত্রে হওয়া উচিৎ। '৭১এ উত্তর বংগের পাকি ব্রিগেডের বি এম (ব্রিগেড মেজর) ছিল সে। সে অঞ্চলের বাংগালী নিধনের নীল নকশা তার করা। কিন্তু তার এখন এতই সম্পদ যে সে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
৭৩. ১২ ই মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৬
ত্রিশোনকু বলেছেন: প্রাণ, আরএফএল এবং আরো কিছু সাম্রাজ্যের মালিক আমজাদ বাংগালী নিধনে মুক্তি যুদ্ধে অংশ নিয়ে '৭১এর দ্বিতীয়ার্ধে পাকিস্তান চলে যায়। এই আমজাদ আটকে পরা বাংগালীদের সাথে ফিরে এলে বংগবন্ধু তাকে সেনাবাহিনীতে রেখে দেন। জিয়া তাঁকে মেজর জেনারেল পদে উন্নিত করেন!

মুক্তি যুদ্ধের বিপক্ষে প্রবলভাবে সক্রিয় পাকি হানাদারের কি অভুতপূর্ব শাস্তি!

যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার করা তো দুরের কথা, তার নাম পর্যন্ত কোথাও উচ্চারিত হয়না কোথাও।


"হাজি মোর্শেদের মাধ্যমে বঙ্গ বন্ধু জিয়ার কাছে সোয়াত জাহাজ খালাস না করার নির্দেশ প্রদান করেন বলে যে বক্তব্যটি দিয়েছেন সে বিষয়ে আমার সংশয়ের কথা বলি।"

-আমি ব্যারিস্টার আমিরের বক্তব্যের মূল্যমান যাচাই করার জন্যেই উদ্ধৃত করেছি।
৭৪. ১৩ ই মে, ২০১০ সকাল ৭:২৭
দাসত্ব বলেছেন: @ শাহেদ সাঈদ :
১৯৭১ এর ৪ঠা এপ্রিল। হবিগন্জের তেলিয়াপাড়ার এক চা বাগানে মিলিত হন কর্ণেল ওসমানী, কর্ণেল রব, লেঃ কর্ণেল রেজা, মেজর জিয়া, সফিউল্লাহ,খালেদ মোশাররফ সহ বেশ কিছু সামরিক অফিসার।

এই বৈঠকে মেজর জেনারেল (অবঃ) মইনুল হোসেন চৌধুরীও ছিলেন বলে জানি। তিনিই নাকি প্রস্তাব করেন সিএনসি হিসাবে ওসামনীর নাম।

@ ত্রিশোংকু:

এই আমজাদ আটকে পরা বাংগালীদের সাথে ফিরে এলে বংগবন্ধু তাকে সেনাবাহিনীতে রেখে দেন। জিয়া তাঁকে মেজর জেনারেল পদে উন্নিত করেন!

বাহ বাহ.. আশ্চর্যবোধক চিহ্নটা জায়গামত ব্যবহার করেছেন।
মুজিব ওরে আর্মিতে নিতে পারলে ওর প্রমোশন পেতে আর সমস্যা কি ?
এর আগে অনেকবার বলছিলাম মুজিবপন্থীদের চক্ষুবৈকল্য বেশ প্রমিনেন্ট রোগ।

@রাগ ইমন: নুরুন্নবী যে মিথ্যুক এবং ২৫ শে মার্চের রাতে শেখ মুজিবের বীরত্ব গাথা দিয়ে শুরু হবে অফেন্ডিং শেখ মুজিব... হয়ত খুব ছোট পোস্ট হবে... তবে বোম ফাটবে .. মুজিববাদীদের বোরকা ক্রয় আশু জরুরী!
আর ১টা কথা মনে রাখবেন: নুরুন্নবী বীরবিক্রম অথবা বীরপ্রতিক... জিয়া বীরউত্তম... কাকে দিয়ে কাকে মুল্যায়ন করা হচ্ছে ?!
কয়দিন পর বীরশ্রেষ্ঠদের কেও ঘাটা হতে পারে!

৭৫. ১৩ ই মে, ২০১০ সকাল ৮:০১
বিডি আইডল বলেছেন: স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা....
৭৬. ১৩ ই মে, ২০১০ সকাল ৮:০৫
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
-- আহারে পিয়াল......!!! নুরুজ্জামান মানিকের নিকটারে পিয়াল কি নির্মমভাবে বলাৎকার করতাছে.......!!!! দু:খ.......
৭৭. ১৩ ই মে, ২০১০ সকাল ১০:২৬
একজন আমি বলেছেন: বিডি আইডল বলেছেন: স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা....
=p~ =p~ =p~ =p~ =p~

দাসত্বর কমেন্ট দেইখা মনে হইতেছে এর পরের পুষ্ট আর আইবো না...পিয়াল মনে হয় ফিউশন কাহিনী বানাইতে পারতেছে না
৭৮. ১৩ ই মে, ২০১০ রাত ৮:৫৯
ত্রিশোনকু বলেছেন: বাহ বাহ.. আশ্চর্যবোধক চিহ্নটা জায়গামত ব্যবহার করেছেন। মুজিব ওরে আর্মিতে নিতে পারলে ওর প্রমোশন পেতে আর সমস্যা কি ? এর আগে অনেকবার বলছিলাম মুজিবপন্থীদের চক্ষুবৈকল্য বেশ প্রমিনেন্ট রোগ।

@দাসত্ব,

মুজিব যে রেখে দিয়েছিলেন সেটা আমি জানিয়েছি- কারন সরকার প্রধান ও পরে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এ দায় তিনি এড়াতে পারেন না। ওয়াকিফহাল না থাকাটা দায়ীত্ব থেকে অব্যহতির জন্য যথেষ্ঠ কারন নয়।

আশ্চর্যবোধক চিহ্নটি জিয়ার জন্যে। কারন '৭১এ বাংগালী-পাকি অফিসারদের সম্পর্কে তিনিই সবচে' বেশী জানতেন। নিজে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধও পরিচালনা করেছেন।

আপনি যে বুঝবেন না তা বুঝিনি।

তবে আমি মনে করি এক্ষনে মুজিববাদী-জিয়াবাদী বিতর্কে না গিয়ে আমজাদদের বিচারের ব্যাবস্থা করাটাই বেশী প্রয়োজন।







৭৯. ১৩ ই মে, ২০১০ রাত ১১:৫৫
শাহেদ সাইদ বলেছেন: রফিক তার সীমিত লোকবল ও সামর্থ্য নিয়েই জোর লড়াই লড়ছেন।

সীমিত লোকবল কথাটি এক অর্থে ঠিক তবে যে তুলনার জ্রন্য কথাটি বলা হয়েছে তা সঠিক নয়। ওই সময় রফিকের অধীনে প্রায় দেড় হাজার বাঙালি সৈন্য ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সূচনা লগ্নে সারা পূর্ব পাকিস্তানে একক নেতৃত্বে এত বাঙালি সৈন্য আর কোথাও ছিল বলে মনে পড়ছে না। তাতে রফিকের কৃতিত্ব এতটুকু ম্লান হয় বলে আমার মনে হয়না। মাত্র ৪বছর চাকরীর অভিগ্ঞতায় রফিক যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলেন এখন অনেক বেশি সামর্থবান মানুষের কাছেও তা আশা করা যায়না। তবু এ কথাটা বলার কারন বাক্যটির উদ্দেশ্য প্রণোদিত ব্যবহার। একজন কে ছোট করার জন্যে আর একজনকে বড় করতে হবে কেন?

আমজাদের বিষয়ে আমি ত্রিশোনকুর সাথে এক মত। সেই সাথে আর একটি তথ্য দেওয়া জরুরী মনে করি। প্রানের মাহতাব সাহেবও ৭১ এ সৈয়দপুরে সেনানিবাসে মেজর হিসাবে কর্মরত ছিলেন। মুক্তি যুদ্ধ করেন নি। এখনও আমজাদের সাথেই গাঁট ছড়া বেধে আছেন। একথাটি বলার কারন মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের দোসররা এখনও একে অপরের সুখে দুখে। আর অমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বললেও নিজেরাই নিজেদের কে প্রতি মুহুর্তে বিভক্ত করছি।

নুরুন্নবী যে মিথ্যুক এবং ২৫ শে মার্চের রাতে শেখ মুজিবের বীরত্ব গাথা দিয়ে শুরু হবে অফেন্ডিং শেখ মুজিব... হয়ত খুব ছোট পোস্ট হবে... তবে বোম ফাটবে .. মুজিববাদীদের বোরকা ক্রয় আশু জরুরী! আর ১টা কথা মনে রাখবেন: নুরুন্নবী বীরবিক্রম অথবা বীরপ্রতিক... জিয়া বীরউত্তম... কাকে দিয়ে কাকে মুল্যায়ন করা হচ্ছে ?!

নুরুন্নবী (বরখাস্ত)র পুরো নাম এস আই এম নুরুন্নবী। ইনি ই এম ই কোরের একজন অফিসার হলেও যুদ্ধের সময় ৩য় ইষ্ট বেঙ্গলে যোগ দিয়েছিলেন। জেড ফোর্সের বেশ কয়েকটি যুদ্ধে তিনি সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। তবে তার ব্যক্তিগত শৃংখলার মান ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সম্ভবত এ কারনেই তাঁকে ১৯৮১ সালে বরখাস্ত করা হয়। তিনি দ্বিধাহীন ভাবে বরখাস্ত কথাটি ব্যবহারও করেছেন । শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদে রাজনৈতিক বিবেচনায় তার বরখাস্ত আদেশ বাতিল করে তাকে অবসর দেওয়া হয়। তার স্মৃতিচারণ পক্ষপাতদুষ্ট হবারই কথা।

এই বৈঠকে মেজর জেনারেল (অবঃ) মইনুল হোসেন চৌধুরীও ছিলেন বলে জানি। তিনিই নাকি প্রস্তাব করেন সিএনসি হিসাবে ওসামনীর নাম।


সম্ভবত তিনিও ছিলেন। তিনি জয়দেবপুরে ২য় ইষ্ট বেঙ্গলে ছিলেন। ১৯ মার্চ জয়দেব পুরে যে ঘটনাটি ঘটে তিনি সেখানে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন। শফিউল্লার নেতৃ্ত্বে তিনিও তেলিয়া পাড়া আসেন। তেলিয়া পড়া সম্মেলনে তার চেয়ে সিনিয়র অনেকেই ছিলেন। তবে নিজে সিলেটি হবার সুবাদে ওসমানীকে মু্ক্তিযুদ্ধের দায়িত্ব নেবার কথা তিনি বলে থাকতেও পারেন।

আর একটি কথা যারা নিজেদের কে মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাসের সংরক্ষক বলে দাবী করেন তারা ইদানিং প্রায়ই ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি হিসাবে অভিহিত করে থাকেন। ব্যপারটি ঠিক নয়। কোলকাতার থিয়েটার রোডে ১২ থেকে ১৭ জুলাই যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সেখানেই ওসমানী কে সি ইন সি ( কমান্ডার ইন চীফ) হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সি ইন সির বাংলা সর্বাধিনায়ক হলেও হতে পারে প্রধান সেনা পতি কখনোই নয়। এরকম একটি অনুবাদের কারন আমাদের হীনমন্যতা। আমরা সকল কৃতিত্ব তাকেই দিতে চাই যাকে দিলে আমাদের মোক্ষ লাভ হয়।
রাষ্ট্র পতির সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হবার ধারাটি চালু হয় র্সবিধান রচিত হবার পর। কিন্তু নেতা নেতৃর মন রাখতে গিয়ে আমরা ক্রমাগত এধরনের পরিমার্জন, পারবর্তন করে যাচ্ছি ফলে সত্যের সোজা পথটি আঁকা বাকা হতে হতে ক্রমশঃ বন্ধুর হয়ে উঠছে।
৮০. ১৪ ই মে, ২০১০ দুপুর ১২:০৪
ত্রিশোনকু বলেছেন: "প্রানের মাহতাব সাহেবও ৭১ এ সৈয়দপুরে সেনানিবাসে মেজর হিসাবে কর্মরত ছিলেন। মুক্তি যুদ্ধ করেন নি। এখনও আমজাদের সাথেই গাঁট ছড়া বেধে আছেন। একথাটি বলার কারন মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের দোসররা এখনও একে অপরের সুখে দুখে। আর অমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বললেও নিজেরাই নিজেদের কে প্রতি মুহুর্তে বিভক্ত করছি।"

-সর্বাংশে সহমত।

দিন তিনেক আগে মেজর ফজলুর রহমান (ফারুক) বীর প্রতীক (অবসরপ্রাপ্ত)এর সাথে আলাপচারিতার সময় (ওঁ জিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দেবার পটভুমি নিয়ে আলোচনা করছিলেন) ওঁ আপনার শেষের বাক্যটি হুবহু উচ্চারণ করেছিলেন।
৮১. ১৫ ই মে, ২০১০ সকাল ৯:৪২
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: @ শাহেদ সাইদ , ত্রিশোনকু

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, একাত্তরে রাজকার বাহিনীর ডিরেক্টর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের লে. কর্নেল ফিরোজ সালাহউদ্দিনকে বঙ্গবন্ধুর মিলিটারি সচিব করা হয় জেনারেল ওসমানীর সুপারিশে !
৮২. ১৫ ই মে, ২০১০ বিকাল ৩:২৯
ত্রিশোনকু বলেছেন: পুরোপুরি মনে আছে-বিরাট গোঁফ ছিল তার।

বংগবন্ধু তো আর স্বাধীনতা যুদ্ধে আংশ নেন নি!
১৫ ই মে, ২০১০ বিকাল ৪:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ।

৮৩. ১৬ ই মে, ২০১০ রাত ৮:১৩
শাহেদ সাইদ বলেছেন: ত্রিশোনকু, মানিক সেই সময় আসলে কেন যে এসব করা হয়েছিল এতদিন পরে বলা খুব কঠিন। বঙ্গ বন্ধূ আপাত অবোধ্য আরও কিছু কাজ করেছিলেন। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ অফিসারদের বদলী ও পদোন্নতি আদেশ বাতিল করে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের বশংবদ পুলিশ অফিসারদের বিভিন্ন জেলা সদর ও গুরুত্ব পূর্ণ থানায় বসানো। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় ওসমানীকে আরও তিনটি বছর সেনা প্রধান রেখে জিয়া, শফিউল্লাহদের ব্যক্তিত্বের সংঘাত মেটানো যেত কিনা।
৮৪. ১৭ ই মে, ২০১০ রাত ১:০১
ত্রিশোনকু বলেছেন: শাহেদ সাইদ, মানিক,

বংগবন্ধু আরো কিছু কাজ করে নিজের কবর নিজেই খুঁড়েছিলেন।

১।ডি এফ আই (এখন ডিজিএফ আই) এর ডাইরেকটর করেছিলেন ব্রিগেডিয়ার রউফকে (প্রয়াত-১৯৮৮) যিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে আই এস আই তে কর্মরত ছিলেন।

২। কর্নেল জামিল (হত ১৫ আগস্ট সকাল)ও ১৯৭১ এ পাকিস্তানে আই এস আই তে কর্মরত ছিলেন (অধুনা বীর ঊত্তম, মরনোত্তর)।

৩।এন এস আই এ ঢাকায় ১৯৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন জনাব সফদর, বংগবন্ধু তাকে এন এস আই এর প্রধান বানিয়ে রেখে দেন।

বংগবন্ধুর বাবার চল্লিশায় অনেকের মধ্যে যশোরে কর্মরত ৯ (সম্ভবত) ই বেংগলের অধিনায়ক (মুক্তি যোদ্ধা ও খেতাব প্রাপ্ত) ও উপস্থিত ছিলেন। ঠোঁট কাটা হিসেবে পরিচিত এই অফিসার খাবারের সময় বংগবন্ধুর পাশে বসেছিলেন (বংগ বন্ধু নিজেই বসতে বলেছিলেন)। পুরো খাবারের সময় জুড়ে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন বঙ্গবন্ধুকে যে তিনি নিজেই নিজেকে জল্লাদদের দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছেন। বংগ বন্ধু তাঁর কথা হেসে ঊড়িয়ে দেন।
১৭ ই মে, ২০১০ সকাল ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: ঠোঁট কাটা হিসেবে পরিচিত ঐ অফিসার খাবারের সময় বঙ্গবন্ধুকে যা বলেন একজাক্টলি এই কথাগুলিই বলে বঙ্গবন্ধুকে সাবধান করেছিলেন কিউবার ফিডেল কাষ্ট্রো আর বঙ্গবন্ধুর জবাব ছিল -এজন্যই ওদের কাছে রেখেছি যেন নজর রাখতে পারি ।নির্মম পরিহাস হল, সিআইএ এজেন্ট সামরিক-বেসামরিক আমলারাই আসলে বঙ্গবন্ধুর উপর নজর রাখছিল ।

অধিকন্তু রাজনীতিকদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু যাদের বিশ্বস্ত বন্ধু ভেবে কাছে টেনে নেন পরিক্ষিত বন্ধু তাজউদ্দিনকে দূরে ফেলে সেই মোশতাক গংই তার কবর খুড়ছিল ।

সিরাজউদ্দৌলাও ভূল করেছিলেন । বঙ্গবন্ধুও সেই ভূলের পুনারবৃত্তি করলেন । অনুরুপ ভূল জিয়াও করেন এরশাদকে বিশ্বাস করে । এই তিনজনকেই তাদের ভূলের খেসারত দিতে হয় নিজের জীবন দিয়ে ।

৮৫. ১৭ ই মে, ২০১০ রাত ৮:১৬
ত্রিশোনকু বলেছেন: এই তিনজনকেই তাদের ভূলের খেসারত দিতে হয় নিজের জীবন দিয়ে।

-সর্বাংশে সহমত।
-
৮৭. ২৪ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:৪৩
দাসত্ব বলেছেন: অফেন্ডিং শেখ মুজিব-১ রেডী।
সন্ধ্যার পর পাবেন
৮৯. ০১ লা জুন, ২০১০ রাত ২:২৪
কঠিনলজিক বলেছেন: বেতার ভাষণটি মুক্তিযুদ্ধের একটি অন্যতম মাইলস্টোন হলেও আবশ্যিকতার বিচারে খুব একটা প্রয়োজনীয় কিছু ছিলো না।

এত সংকির্ণ মন নিয়ে ইতিহাস রচনা করলে এর চেয়ে ভাল পারফর্মেন্স দিতে পারবেন না ।

একটা অপ্রয়োজনীয় ভাষণ মাইলস্টোন হলো কিভাবে ?
একটা মাইলস্টোন কে অপ্রয়োজনীয় বলতে একটুও খারাপ লাগলো না ?
৯০. ০৯ ই জুন, ২০১০ রাত ১২:৪৩
ওরাকল বলেছেন: রুন্নবীর ভাষ্য অনুযায়ী মাহমুদ জিয়াকে হাস্যকর যুক্তিতে কনভিন্স করেন এই বলে যে পূর্ব পাকিস্তানে সিআইএর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি এবং জিয়া যদি একটি বিপ্লবী পরিষদ গঠন করেন এবং নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেন তাহলে ফিলিপাইন থেকে একদিনের মধ্যে ৭ম নৌবহরকে তার সাহায্যে নিয়ে আসবেন মাহমুদ। ২৭ মার্চ জিয়ার প্রথম ঘোষণাটার এটা অন্যতম রহস্য।


-> সাবেক এক জন সামরীক গয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে জিয়ার কনভিন্স হয়ে যাওয়া সম্পর্কিত রুন্নবীর বক্তব্য হাস্যকর। because

ফিলিপাইন থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব, পাকিস্তান-চীন-আমেরিকার ভারত-রাশিয়া বিরোধী অবস্থান জানা সত্বেও মাহমুদের কথায় পটে যাওয়া সামরিক বাহীনির কোন কেপ্টেনের পক্ষেও সম্ভব নয় আর মেজর জিয়ার মত ইন্টিলিগেন্স বেকগ্রাউন্ডের কারো পক্ষে ত তা নই। আর পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে মাহমুদের সিআইএ কানেকশনের প্রাথমিক ভেরিফিকেশন করাও জিয়ার জন্য কষ্টসাদ্ধ ছিল না।
৯১. ১৩ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:০২
ত্রিশোনকু বলেছেন: ফিলিপাইন থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব, পাকিস্তান-চীন-আমেরিকার ভারত-রাশিয়া বিরোধী অবস্থান জানা সত্বেও মাহমুদের কথায় পটে যাওয়া সামরিক বাহীনির কোন কেপ্টেনের পক্ষেও সম্ভব নয় আর মেজর জিয়ার মত ইন্টিলিগেন্স বেকগ্রাউন্ডের কারো পক্ষে ত তা নই। আর পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে মাহমুদের সিআইএ কানেকশনের প্রাথমিক ভেরিফিকেশন করাও জিয়ার জন্য কষ্টসাদ্ধ ছিল না।

-যুক্তিযুক্ত।

 

মোট সময় লেগেছে ১.২৮৭৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ঢাবি হতে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর । আগ্রহের বিষয় কবিতা-দর্শন-বিজ্ঞান । ১৯৯০'র দশকের শুরু থেকে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেনীর জাতীয়...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই