সভ্য এ পৃথিবীর অসভ্য দংশন ছিঁড়ে ফেলে আমাদের এবং আমায়

অন্য অলিম্পিক

১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

আমার শিশুকন্যা অপনা মেলবোর্নে যে স্কুলে পড়ে, তার কর্মকাণ্ড মূলধারার স্কুলের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। বিভিন্ন কাজে সক্রিয় অংশগ্রহনের জন্য অভিভাবকদের হাজিরা দিতে হয়। প্রতিদিনই তার নোটবুকে কোন না কোন নোটিস থাকে। ক'দিন আগে জানিয়েছিল, মঙ্গলবার স্কুলের অলিম্পিক। গতকাল খাতায় লিখে দিল স্কুল অলিম্পিকে ওকে নীল রঙের পোশাকে স্কুলে পাঠাতে। ওদের ক্লাস, অর্থাৎ ফোর বি'র রং ঠিক করা হয়েছে নীল। তাই আজ সকালে ওকে স্কুলের জ্যাকেট আর ট্র্যাকপ্যান্টের সঙ্গে নীল জামা, নীল মোজা আর ছোট্ট চুলে নীল রিবন বেঁধে পাঠালাম। আমরা, মানে বাচ্চাদের বাবামায়েরা নির্ধারিত সময়ে স্কুলের বিশাল মাল্টিপারপাস ভবনটাতে গেলাম।

দুদিকে কাঁচের দেয়ালঘেরা বিশাল হলরুমটাতে দেয়াল ঘেঁষে রাখা চেয়ারগুলোতে আমরা বসি। দরজা দিয়ে সারবেঁধে ঢোকে স্কুলের খুদে অলিম্পিয়ানরা। ওই দেড়ঘন্টায় ফোর বি, ফাইভ বি, সিক্স এ, বি- এই চারটি ক্লাসের খেলা। এখানে বলে রাখি, এরা ক্লাস ফোর-ফাইভ-সিক্স নয়; স্কুলের প্রথম বর্ষের পাঁচবছর বয়সী বাচ্চা সবাই। এদের সবারই কিছু না কিছু বিকাশগত সমস্যা আছে; এই স্কুলটি একটি বিশেষ অটিস্টিক স্কুল। মানসিক বিকাশের ধরণের ওপর নির্ভর করে তাদেরকে ওয়ান এ থেকে সিক্স বি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্লাসে রাখা হয়েছে। প্রতি ক্লাসে ছ'জন করে বাচ্চা, তিনজন করে টিচার। প্রত্যেক টিচারের হাত ধরে আছে দুজন করে শিশু।

এরপর খেলা। হাল্কা মজার ইভেন্ট সব, হারজিতের কিছু নেই। একেক ক্লাস একেক ব্লকে রাখা ক্রীড়াসামগ্রী নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তিনধাপ মই বেয়ে বারের ওপর সোজা হেঁটে আবার নেমে ঢালু একটা সারফেইসে গড়াগড়ি দেয়া হল জিমন্যাস্টিকস। ছয় ইঞ্চি উচ্চতার ক'খানা হার্ডল একজন একজন করে পেরোলেই হল। রিলে দৌড়ের পার্টনাররা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে; বন্ধুর হাতে ব্যাটন দিয়ে তার হাতটা ধরেই আবার ফিরতি দৌড়। অক্ষর বা নম্বর লেখা ছোট্ট কুশন ছুঁড়ে বক্সে ফেলার নাম শর্টপুট। স্টাইরোফোমের নুডলটা ছুঁড়লেই জ্যাভলিন থ্রো। ট্র্যাম্পোলিনে এক এক করে ঝাঁপানো। টিচারদের নিখুঁত নজরদারীতে কেউই কোন ইভেন্ট মিস করছেনা, শরীরে কোথাও চোট পাচ্ছেনা।

প্রতিযোগিতার লড়াই নেই, শুধুই অংশগ্রহণ। তারপরও শিশুদের সবার জন্য সেটা খুব উপভোগ্য হচ্ছেনা। এরা সেই দুর্ভাগার দল, যাদের মস্তিষ্ক অনুদ্ঘাটিত কোন বিচিত্র কারণে খুব সাধারণ কিছু কিছু বিষয়ও ধারণ করতে অক্ষম। কারও সমস্যা অক্ষর-রঙ-আকৃতি চেনায়। কেউ অচেনা মানুষ সহ্য করতে পারেনা। কেউ বা আই কন্ট্যাক্টে অক্ষম; সরাসরি কারো দিকে তাকাতে পারে না। নানান রকম ফোবিয়া আছে কারো কারো। ভয়ার্ত মুখের দেবশিশু ছোট্ট হাতের সবটুকু শক্তি দিয়ে আঁকড়ে ধরেছে তার টিচারের হাত, মুখ লুকিয়ে চোখ বুঁজে এগিয়ে চলছে কোনোমতে । দূরত্বের অনুমানে বিভ্রান্ত শিশু ছ'ইঞ্চির হার্ডলটা পেরোতেও ঠেকে যাচ্ছে প্রতিপদে। হাতের ব্যাটন রিলে'র সঙ্গীর দিকে এগিয়ে দিতে হবে, শুধু সেটুকু বুঝতেই বড় কষ্ট হচ্ছে কারো। তবু সবাই ওয়েল ডান; সবার জন্যই হাততালি, ফ্যান্টাস্টিক পারফর্ম্যান্স।

"ওয়ান" লেখা একটাই ভিক্টরি স্ট্যান্ড; একে একে সবাই সেটায় দাঁড়িয়ে "গোল্ড মেডেল" পরে নিল গলায়। হাইপারঅ্যাকটিভ কয়েকজন টিভিতে দেখা অলিম্পিক-বিজয়ীর ভঙ্গিতে মেডেলে চুমু খেল; ধারাভাষ্যকারকে কয়েকজন ইন্টারভিউও দিল। আমার কন্যাকে প্রশ্ন করা হল সে ফার্স্ট হয়ে গোল্ড নাকি সেকেন্ড হয়ে সিলভার মেডেল চায়। সে গম্ভীর মুখে জানালো, সেকেন্ড ওয়ান।

অলিম্পিকের পাট চুকলে যার যার ঘরে ফেরার তোড়জোড়। ড্রাইভওয়েতে আমরা কয়েকজন, কিছুক্ষণ দাঁড়াই। নিকোলাসের সদালাপী ল্যাটিন আমেরিকান বাবামা; ডেভিডের সহজসরল ভিয়েতনামী বাবা; থমাস-জেমস জমজদের অসম্ভব রূপবতী ইটালিয়ান মা; অপনার বাংলাদেশী মা। ওদের সবার শুকনো মুখে বিষণ্ণ হাসি; আয়না ছাড়াই বলে দিতে পারি আমাকে দেখেও ওরা ঠিক তাই ভাবছে। আমরা আমাদের দেবশিশুদের কথা বলি। কেউ পড়তে শিখলোনা এখনও; কেউ সেটা পারে তো কারো সঙ্গে কথা বলতে পারেনা; অপ্রকৃতস্থ চাহনি- আচরণে অস্বস্তির যোগান দিচ্ছে কেউ; খুব সাধারণ রেসপন্স-কগনিশন ব্যাপারগুলোই আবার কারো নেই... ... ... ওদের প্রত্যেকের দুটো করে বয়স, দ্বিতীয়টি "বুদ্ধিবৃত্তিক"; কবে দুটো বয়সের ব্যবধান কমে একটু স্বস্তিকর পর্যায়ে আসবে? তিন বছর পর এই স্কুলটা ওদের আর রাখবেনা, কোথায় যাবে ওরা? ডে কেয়ারে অচ্ছ্যুত... মূলধারার কোনো স্কুল ওদের নিতে চায়না... কোনমতে কোথাও একটু ঠাঁই জুটলে বুলিং আর র‌্যাগিংয়ের নিশ্চিত নিয়মিত শিকার... কোথায় যাব আমরা? আর তারও পরের... আরো অনেক, অনেক পরের জীবনে, যখন আমরা থাকবোনা, ওরা তখন কীভাবে থাকবে? কেমন হবে সে জীবন... ?

শীতের বিষণ্ণ আলোয় মুখগুলো ক্লান্ত দেখায়; হাসিগুলো ক্রমশ বিষণ্ণতর হয় । এ দেশেই ওরা অসীম শূণ্যে সূক্ষ তারের ওপর হাঁটছে, আমার জন্য নিজদেশে কী অপেক্ষা করে আছে! কুমারের মা, শিখপত্নী কিরণ, গলার পবিত্র লকেটটা কপালে ছোঁয়ায়। তাকে দেখেই হয়তোবা; জেমসের মা গ্যাবি দীর্ঘশ্বাসে টেনে টেনে বলে- জিইসাআআস... । আশা আর প্রার্থনায়, আশাভঙ্গ আর হতাশায়- আমরা আবার বাইরের পৃথিবীতে পা রাখি। যে পৃথিবী মানেই প্রতিযোগিতা। যেখানে জয় যোগ্যতমের । দেবশিশু এখানে চিরশিশু থাকেনা, আঁকড়ে ধরার মতো হাত এখানে কেবলই হারিয়ে যায়। ছয় ইঞ্চি হার্ডলের একক রেইসের অলিম্পিক এই পৃথিবীর নয়।




 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): অলিম্পিকশিশুহতাশা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: দৈনন্দিনতাসমাজ-ভাবনা  বিভাগে ।

 

  • ১১৬ টি মন্তব্য
  • ১০১৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩০ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৬
comment by: র‌্যাভেন বলেছেন:
টেকা থাকলে ওরম কত কিচুই করা যাই।

অজি গবমেন্ট ডিজাবল চাইল্ডদের পিচে যে পরিমান টাকা খরচ করে তা দিয়া বাংলাদেশে ২-৪ টা যমুনা সেতু বানানো যাবে
১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫২

লেখক বলেছেন: আপনার ধারণা ঠিক না। আমি এদেশের নাগরিক নই, আমার কোনও বরাদ্দ থাকার কথাই না। তবে বহু প্রতিবন্ধী শিশুর পিতামাতাকে দেখেছি স্পিচ থেরাপির খরচ জোটাতে ঘরবাড়ী বিক্রি করে নিঃস্ব। আমি দোয়া করি, বাস্তবতা জানার জন্য কাউকে যেন ভুক্তভোগী না হতে হয়। ভাল থাকুন।

২. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৭
comment by: র‌্যাভেন বলেছেন:
সরি আমি আপনার পোস্টের শেষ দুই প‌্যারা পড়িনাই তখন,
আমার কমেন্টা তাই রুঢ় হয়ে গেছে কিছুটা

তবে এনএসডব্লিউতে ডিজাবেল বাচ্চাদের সমান সুবিধা দেয়া হয়, বাবা মা পিআর বা সিটিজেন কিনা তা দেখা হয়না, ভিক্টোরিয়াতে কি নিয়ম জানিনা.
১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৬

লেখক বলেছেন: সেসব জানার দুর্ভাগ্য আপনাদের কারো যেন কোনদিন না হয়, এটাই কামনা।

৩. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০০
comment by: র‌্যাভেন বলেছেন:
একটি ডিজেবল ইস্কুল দেখার সুবাদে একুটু অন্তত বলতে পারি এরা যে পরিমান সুযোগ সুবিধা অজি গবমেন্ট থেকে পাই তা বাংলাদেশের প্রক্ষাপটে অচিন্তনীয়
১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:০২

লেখক বলেছেন: তুলনা আসলে চলেনা। বাংলাদেশের মতো একটা দরিদ্র দেশে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে প্রাথমিক থেকে শুরু করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত ১৬বছরব্যাপী বলা যায় বিনামূল্যে পড়াশোনা করে- অস্ট্রেলিয়ায় আবার এটা কল্পনাতীত।

৪. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৩
comment by: আদনান শামীম বলেছেন: আপনি খুব ভাল লেখেন...

"আশা রাখি এখানে লিখব কিছু; যেগুলো আসলে হবে কিছুই-না-হওয়া কিছু কথা। হয়তো পড়বে না কেউ; না পড়ুক, ক্ষতি কী? কখনো কখনো শুধু নিজের জন্যও তো মানুষ কিছু করে" - আপনার সাইটের এই কথাটা বেশ ভাল লাগলো।
১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:০৩

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ সাইট ঘুরে আসার জন্য, এবং সদয় মন্তব্যের জন্য।

৫. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৪
comment by: বরুণা বলেছেন: লেখা পড়ে মুগ্ধ হলাম লেখনী স্টাইলে , সাথে সাথে মনটা বিষন্ন হয়ে উঠলো।আপু দোয়া করি এই শিশু গুলোর জীবন দেবশিশু র মতই পবিত্রতাই ভরে উঠুক কোনোনা কোনো অলৌকিকতার ছোঁয়াই।
১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:০৫

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যটি মন ছঁয়ে গেল। ভাল থাকবেন।

৬. ১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:৪৪
comment by: নিরক্ষর বলেছেন: অসাধরন লেখা।
১৯ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:৫২

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

৭. ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:১০
comment by: ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: লেখাটা আমি অনুমতি ছাড়া প্রিয়তে নিলাম। মাঝে মাঝে যখন খুব দুঃখবিলাসী হবো তখন এটা পড়ে সাহস নিবো। স্বার্থপর তো... তাই!

আপনার মানসিক জোরের প্রশংসা করছি। লেখার জন্য ধন্যবাদ!
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:৪০

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই, ভাই।

৮. ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:২৪
comment by: মুহিব বলেছেন: আপনার কষ্ট বুঝতেছি। ইনশাল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে। যদি একটা মেইল করতেন আপনার সাথে এ নিয়ে কিছু কথা বলতাম।
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৩১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাই। আসলে এখন আর সহজে কষ্ট পাইনা। কারণ আমার চেয়েও কত বেশী কষ্টে আছে কত মানুষ- সেটা খুব কাছ থেকে দেখতে পাই। আবারও ধন্যবাদ।

৯. ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:২৯
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: "পৃথিবী মানেই প্রতিযোগিতা। যেখানে জয় যোগ্যতমের । "
আমি বিশ্বাস করতে চাই না,আমি বিশ্বাস করিও না। পৃথিবী মানুষের,সবার জন্য,ফুড চেইনের উপরে থাকার তত্ত্ব জন্তু জানোয়ারের জন্য হতে পারে,আমরা মানুষরা যেন তার মাঝে না পড়ি। আপনার মেয়ের জন্য আমাদের সমস্ত সৌভাগ্য আর ভালবাসা লেখা থাকুক।
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৩২

লেখক বলেছেন: আসলেই খুব ভাল ভেবেছেন। শুভকামনা।

১০. ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৫০
comment by: রুখসানা তাজীন বলেছেন: অপনা যেন আপনার মতো মানবিক গুণগুলো ধারণে সক্ষম হয়, এটুকুই চাওয়া থাকলো।
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৩০

লেখক বলেছেন: ওর জন্য দোয়া করবেন।

১১. ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:০৯
comment by: রুখসানা তাজীন বলেছেন: কী যে ভালো লাগছে এখানে পেয়ে! আমার দুর্ভাগ্য যে সাস্ট ক্যাম্পাসে আপনার সাথে কথা হয়নি কখনো। তবে সুন্দর হাসির চশমা পরা মায়াময় মুখটা মনে আছে। আপনার ছোট্ট একটা মিষ্টি নাম আছে, মনে পড়ছেনা যে!

নির্দিষ্ট করে কোন লেখার কথা বলতে পারবনা, কিন্তু পা-ফো তে আপনি খুব শক্তিশালী ছিলেন। স্যারের সাথে আপনার বিয়ের কথা শুনে আমার দারুণ লেগেছিল!
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৩

লেখক বলেছেন: হাহাহা, মনে পড়লেও ও নামে ডাকবেন না!
আচ্ছা, আমাদের কি দেখা হয়েছিল কখনো?

১২. ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:২৩
comment by: ঘাঘু বাবু বলেছেন: যাক, সচলে না হয় আপনার লেখা আর নাই পেলাম । এইখানে তো পাবো...
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৪

লেখক বলেছেন: কে ভাই আপনি, সচলে এই নাম দেখেছি বলে তো মনে পড়ছেনা...
যাই হোক, অনেক ধন্যবাদ।

১৩. ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৪০
comment by: রুখসানা তাজীন বলেছেন: ডিপার্টমেন্টের পার্টিতে চোখাচোখি হয়েছিল হয়ত, কথা হয়নি। আপনি পুরা ফোর্স নিয়ে ক্যাম্পাসের ক্যাচাল সামলাতে চলে আসতেন, কেমন একটা ড্যাশিং হিরোইনের গন্ধ পেতাম। তবে আপনার মিষ্টি মুখের সাথে কেমন যেন মেলাতে পারতামনা :)

আমাকে তুমি করে বলবেন প্লিজ।
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:০৫

লেখক বলেছেন: কী সর্বনাশ, আমি ভুলে গেলাম কেমন করে!!! বুড়ো হওয়া একেই বলে :(
তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে "তুমি" করে ডাকার মত সাহস হয়না, সত্যিই।

১৪. ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৪
comment by: মুহিব বলেছেন: আরে এতো আরেক অজানা গল্প
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:০৬

লেখক বলেছেন: চোখকান বন্ধ রাখুন :)

১৫. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:২৮
comment by: নোক্সেনডার বলেছেন: আপু মেলবোর্ণের কোথায় থাকেন
২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:৪৮

লেখক বলেছেন: থাকি, কোনও চিপাচাপায়...

১৬. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:১১
comment by: খিলালী বলেছেন: আপ্নের ওয়েবে নাম নাই নামের কোনো এক পাগল ঠিক আমার মরে কথাটাই বলসে। তাই এখিানো কিসু বললামনা।
১৭. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৪৪
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: অনেক মনযোগ দিয়ে লেখাটা পড়েছি।
আপনার এবং অপনা র জন্য অনেক শুভকামনা।
নিয়মিত লেখা চালিয়ে যাবেন সেই প্রত্যাশা রইলো।
২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৫

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, আসিফ।

১৮. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৫৬
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন: মন খারাপ হয়ে গেল...
১৯. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:১০
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: কিছু বলার নেই।
২০. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৪৪
comment by: রাঙা ঠোঁট বলেছেন: তাজীন আপুকে একটা সালাম জানাইয়া গেলাম।
২১. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:২১
comment by: ~টক্স~ বলেছেন: অপনার ঝুঁটিজোড়া আমার খুবই পছন্দের, দেখলেই একটু নেড়ে দিতে ইচ্ছে করে। তোমার পিচ্চিটার সামনে থেকে ছবি অনেকদিন পর দেখলাম আপুনি। অনেক খুশি হলাম। আর তোমার পিচ্চিটার নামটাও খুব সুন্দর, মানে যদিও জানা নেই আমার। জীবনের অলিম্পিকেও যদি হারজিতের প্রতিযোগিতাটা না থাকতো তাহলে জীবনটা আসলেই অন্যরকম হত। ভেতরটা কেমন বাকরুদ্ধ হয়ে আসছে আর কি বলব বুঝতে পারছিনা। আবারো ভাললাগা জানিয়ে গেলাম।
২১ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৮

লেখক বলেছেন: অপনা প্রাচীন বাংলা শব্দ, মানে হল আপন। হিন্দিতে "আপনা" বলে, খেয়াল করেছ নিশ্চয়ই।

২২. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:০৫
comment by: আহমেদ হেলাল ছোটন বলেছেন: লেখাটা কেবল বিষয়ের গুণে নয়- লেখার স্টাইলের জন্য অনেক ভালো।
বাংলাদেশে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখন স্পীচ থেরাপি নিয়ে কাজ হচ্ছে। অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার সাথে তুলনীয় নয়।
আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমাদের মত করে-সীমিত সম্পদ -মেধা আর অফুরাণ প্রাণশক্তি নিয়ে।
শিশুদের মুখে প্রাণবন্ত হাসি দেখবার জন্য।

ধন্যবাদ আপনাকে এই লিংকটা পাঠনোর জন্য।
২২ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:১১

লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: সময় করে লেখাটা পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

এই বয়সেও স্বপ্ন দেখি; কোনদিন ঋণের বোঝা হাল্কা হলে, কখনও সঙ্গতি হলে; ভয়াবহ উচ্চমূল্যের এই স্পীচ থেরাপির কোর্সে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে শিশুদের জন্য কিছু করার।

২৩. ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৪৮
comment by: ~টক্স~ বলেছেন: আমি একটু-আধটু হিন্দি বুঝি, মানেটা শেখানোর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপুনি, একটু অবশ্য ধারনা করে নিয়েছিলাম কোন ধরনের মানে হতে পারে এটার ! আমার আম্মু অল্পবিস্তর পড়াশুনা করেছিলেন স্পীচ থেরাপির উপর অনেক বছর আগে তবে কাজ কখনোই করা হয়নি তার এ বিষয়ে, জানিনা কেন !
২১ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৫৭

লেখক বলেছেন: তুমি অবশ্যই আন্টিকে উতসাহ দেবে স্পীচ থেরাপি নিয়ে কাজ শুরু করতে। অস্ট্রেলিয়াতেও স্পীচ থেরাপিস্টের মারাত্মক ঘাটতি আছে।

২৪. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:১৫
comment by: ফাহমিম বলেছেন: আপুউউ-ভালো লিখো তুমি!

তোমার সাইট এ ঢুকলাম।পড়ছি।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:২৪

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, ফাহমিম।

২৫. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৫:৪৮
comment by: একজন ব্লগার বলেছেন: আন্টি, আমি সিডনীতে থাকি। আর নোক্সেনডার ভাই থাকেন মেলবোর্নে!প্রতিদিন কথা হয় আমাদের।:)


পোস্টে ++++!
২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:০১

লেখক বলেছেন: বেশ বেশ। আমাদের আসলে দেশীয় সার্কেলে মেলামেশা সীমিত (বুঝতেই পারেন, কেন)।

পড়ার জন্য, মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

২৬. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৪৭
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: লেখটা ভাল লাগার সাথে সাথে মনের ভেতর একটা কষ্টের ছোঁয়া দিয়ে গেল। তাই নিজের অজান্তেই একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস বের হয়ে এলো। আমার এক বন্ধু তার ছেলেকে ও এক নিকটাত্মীয় তার মেয়েকে জন্মের পর থেকে একজন ২৬ বছর ও অন্যজন ২৩ বছর এভাবেই তাদেরকে সেবা ও শ্রম দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছ। তারা দুজনের শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী, হয়তো পুরুপুরি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নয় তাই অনেক কিছুই বুঝতে পারে। আর বুঝতে পারে তারা সমাজের কী পরিমাণ বোঝা। তারা এই বোধ নিয়েই দিনের পর দিন বেঁচে আছে- তাদের জীবন একটা নির্দ্দিষ্ট গন্ডীর শধ্যই সীমাবদ্ধ। এদের জন্য খোদার কাছে শুধু দোয়াই চাইতে পারি। আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন। তাদের কষ্ট লাঘব করুন। আর কিছু বলার নেই। এদের মা-বাবার মনে যে কষ্ট তা সহজেই অনুমেয়। এদের জীবনে সাধ আহ্লাদ বলে তেমন কিছুই নেই। কী যে মানসিক কষ্ট এর সহ্য করেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাদের কষ্ট উপলব্ধি করলে মনে হয় পৃথিবীর অন্যত্র কত সুখ ছড়িয়ে আছে।
২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:১৩

লেখক বলেছেন: "তাদের কষ্ট উপলব্ধি করলে মনে হয় পৃথিবীর অন্যত্র কত সুখ ছড়িয়ে আছে।"-----সবাই সেটা উপলব্ধি করতে পারেনা, ভাই।

আপনার সংবেদনশীল মনকে শ্রদ্ধা জানাই।

২৭. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:২৫
comment by: আদনান শামীম বলেছেন: আপনার এই পোস্টটা "নির্বাচিত পোস্টে" যাওয়া উচিৎ।
২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:৩০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। কারো উপলব্ধিই যেন অমানবিক কোন উপসংহারে প্রকাশিত না হয়, এটুকুই চাওয়া।

২৮. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:২৮
comment by: নুশেরা বলেছেন: পাঠকদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।
দয়া করে কেউ এটা ভাববেন না যে নিজস্ব দুঃখের কাঁদুনি গাওয়ার জন্য এ পোস্ট। পৃথিবীর কোটি কোটি ভাগ্যহত মানুষের তুলনায় নিজেকে অনেক ভাগ্যবান ভাবা উচিত আমার মতো অনেকেরই। জীবন তার নিজস্ব গতিতে বহমান; তার মধ্যেও আমরা যেন হতভাগাদের একেবারে ভুলে না যাই।
সবাই ভাল থাকুন।
২৯. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৩২
comment by: আব্দুন নূর তুষার বলেছেন: আপনাকে অভিনন্দন। অসাধারন লিখেছেন। কার কাছে রেখে যাবো এই শিশুকে, বাবা মা এটা ভেবেই চিন্তায় শেষ হয়ে যেতে থাকেন। যে পৃথিবী সুস্থ শিশুর প্রতি নির্দয়, সে পৃথিবী এদের কিভাবে দেখবে সেটা বলাই বাহুল্য। আপনার সাথে আমরা অনেকেই সমব্যাথী।
২৮ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় তুষার, সময় করে লেখাটা পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
মর্মস্পর্শী মন্তব্যের জন্য অসীম কৃতজ্ঞতা।
সমব্যথী হতে না পারুক, কেউ যেন অন্তত নির্দয় না হয়- এটুকুই চাওয়া।

৩০. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৮
comment by: েজবীন বলেছেন: নাহ, কোন দুঃখের কাঁদুনি লাগেনি.......... হয়তো সমান ব্যাথা, কষ্টটা পাইনি, তবে কাছে থেকে চেনা কারো অবস্হা দেখে সামান্য হলেও অনুভব করছি.....

অপনা অনেক অনেক ভালো থাকুক, আপনিও........
২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৫৯

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, জেবীন।

৩১. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৪
comment by: মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: এত সুন্দর করে যার মা ভাবতে পারেন , তার জন্য শুভকামনা
২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:০১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, মেহরাব। ভাল থাকুন।

৩২. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৯
comment by: ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: দেবশিশু এখানে চিরশিশু থাকেনা......

কিছু সত্যি মন খারাপ করে দেয়...
৩০ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৬:৫৮

লেখক বলেছেন: সত্যিই...

৩৩. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৫
comment by: তাসনুভা. বলেছেন: মনটা বিষন্ন হয়ে উঠলো...আপু দোয়া করি এই শিশু গুলোর জীবন দেবশিশু র মতই পবিত্রতায় ভরে উঠুক কোনো না কোনো অলৌকিকতার ছোঁয়ায়...

বাবুর জন্য অনেক অনেক আদর আর ভালবাসা...
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:০৩

লেখক বলেছেন: ভাল থাকুন, তাসনুভা।

৩৪. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৭
comment by: রাতমজুর বলেছেন: :(
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:০৩

লেখক বলেছেন: ........................

৩৫. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৫৭
comment by: পারভেজ বলেছেন: আমার ছেলের বয়স জানুয়ারিতে ৯ হবে। ওর সমস্যাটাকে ধারণা করছি, Mild Asperger Syndrome। সাধারন দৃষ্টিতে যেটা সবাই বলবে ছেলেমানুষি। ডাক্তারের সাথে কন্সাল্ট করার পর বলেছেন সময়ে ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু এটাও বুঝি এটা সাইক্রিয়াটিস্ট দের পক্ষে বুঝে উঠা মুশকিল। মাঝে মাঝে ভাবি বাইরে চলে যাওয়া উচিত, একটা ভালো স্কুল কিংবা একটু ভাল কাউন্সিলিং অভাব প্রতি পদে পদে। আপনার কষ্টের তুলনায় কিছুই হয়তো না, কিন্তু এই পৃথিবী এদের জন্য খুব বিপদজনক। মাঝে মাঝে খুব হতাশ হয়ে পরি।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৪

লেখক বলেছেন: পারভেজভাই, আপনার ছেলের কথা জেনে স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষণ বসে রইলাম। সান্ত্বনা দেয়ার মানে হয়না।
আপনি কোন্ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়েছেন আমি জানিনা। তবে নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এখলাসুর রহমান (এখন সম্ভবত সিলেটে আছেন) সবচেয়ে ভাল পরামর্শ দিয়েছিলেন। এই ফিল্ডে তাঁর বিচরণ আছে। ব্লগের আহমেদ হেলাল ছোটন ভাই'র সঙ্গেও আপনি আলাপ করুন এ বিষয়ে। সাইকিয়াট্রিস্টের মতামতের বিরুদ্ধে বলার কিছু নেই, তবে যাঁরা নিয়মিতভাবে শিশুদের এমন কেইস হ্যান্ডল করেন, তাঁদের পরামর্শটা নিশ্চিতভাবেই বেশী প্রাসঙ্গিক।

আমি অস্ট্রেলিয়ায় কিছু রিলেটেড পড়াশোনা করছি; আরো পড়ার নিয়ত আছে। প্র্যাকটিকালি জানছি অনেক কিছু। স্ট্রাকচার্ড প্লে, স্পীচ থেরাপি ইত্যাদির কার্যকর গুরুত্ব প্রত্যক্ষভাবে দেখছি। এসব নিয়ে বাংলায় একটা ওয়েবসাইট করছি, এখনো প্রস্তুতি পর্যায়ে। সত্যি কথা হল, আমার ব্লগিঙের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হল ঐ সাইটটির প্রচার। যত বেশী সংখ্যক মানুষের কাজে লাগে, ততই মঙ্গল।

অন্য বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করতে চাইলে আপনার ইমেইল ঠিকানাটি দিতে পারেন। অনিবার্য কারণে আমার ঠিকানাটি আমি প্রকাশ করতে চাইছিনা... আশা করি বুঝতে পারবেন।

শেষ কথা, হতাশা সমাধান নয়; বরং সমস্যাকে জটিলতর করার একটা অনিচ্ছাকৃত প্রক্রিয়া। সময় ও শ্রম দিতে হবে; যেটা হবে ইফেকটিভ টাইম স্পেন্ডিং। নার্ভক্ষয়ী ধৈর্যের পরীক্ষায় নামতে হবে। এছাড়া বিকল্প নেই।

৩৬. ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:১৯
comment by: বোকামাষ্টার বলেছেন: আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার মেয়েদুটার গ্রোথ এখনও পর্যন্ত মনে হয় ঠিক আছে, যদিও মাঝে মাঝে ছোটটাকে নিয়ে আমার ভয় লাগে। এখনও তিনে পড়েনি।

ব্যক্তিগত ভাবে ভুক্তভোগী না হলে এই ব্যথা বোঝার ক্ষমতা কারো হয়না, প্রার্থনা করি যেন না হয়। তবে খুব ক্লোজ এক কলিগের ছয় বছর বয়েসী মেয়েটার অবস্থা দেখে কিছুটা অনুভব করতে পারি। ঢাকাতে সীমিত পরিসরে এই জাতীয় স্পেশালিষ্ট স্কুল শুরু হয়েছে, আমাদের কয়েকজনের উদ্যোগে। আমাদের মূল সমস্যা ট্রেনিং এর। তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ একদিন অন্ততঃ এই দেশটাকে এব দেবশিশুর জ্য কিছুটা হলেও বাসযোগ্য করে যেতে পারবো।

সেই আগত দিনের স্বপ্ন দেখি আমি, আমরা যেদিন কোন বাবা মার বিষণ্ন মুখ তার দেবশিশুর ভবিষ্যত চিন্তায় ক্লিষ্ট হয়ে উঠবেনা।

আপনার এবং অপনার সুন্দর ভবিষ্যত কামনা করছি। ভালো থাকবেন।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৩

লেখক বলেছেন: আপনাদের শুভ উদ্যোগ সার্থক হোক। কখনো কোনদিন দেশে ফিরে এমন মহত্ কাজে সম্পৃক্ত হবার স্বপ্ন দেখি। মন্তব্যের জন্য অজস্র ধন্যবাদ।

৩৭. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৫৮
comment by: ঊশৃংখল ঝড়কন্যা বলেছেন: মিরাকল্‌ তো কত-ই হয়... এই নিষ্পাপ দেবশিশুর-ও হবে ইনশাআল্লাহ! ছোট্ট মেয়েটা প্রবল শুদ্ধতা আর ভালবাসায় সুস্থ হয়ে উঠুক! আপনার মানসিক শক্তি সত্যি অসাধারণ আপু! এমন-ই শক্ত থাকুন, সুন্দর থাকুন।

[ আপনার লেখার স্টাইল খুব ভাল, প্রতিটা লেখাই খুব সুন্দর। আপনার অনুমতি না নিয়েই আপনাকে লিংক-এ রাখছি যাতে লেখাগুলো নিয়মিত পড়তে পারি।]
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:০১

লেখক বলেছেন: হাহাহা, লিঙ্ক আর প্রকাশ কি এক হল :)
অনেক ধন্যবাদ, ঝড়কন্যা।

৩৮. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪৯
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: কিছু কিছু লেখা আমি সযতনে এড়িয়ে যাই, এ লেখাটি সেরকম একটি। কস্ট থেকেই এড়িয়ে যাওয়া।

অনেক পথ পারি দিতে হবে বন্ধু, অনেক বন্ধুর পথ।
হয়তো পাশে কাউকেই পাবেন না, তবুও। আলোর দেখা পাবেন অবশ্যই একদিন।

মেয়েটিকে দেখার ইচ্ছে হচ্ছে।
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০৬

লেখক বলেছেন: আমি জানি, বুঝি, মন্তব্য করার জন্য এসব পোস্ট স্বস্তিকর নয়।
বিশ্বাস করুন, লেখার জন্যেও না। তবু লিখি, কেউ যদি নতুন করে জানে বা বোঝে, নিষ্ঠুর পৃথিবীটা যদি আরেকটু সহনশীল হয়...

মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ, মাহবুব সুমন।

৩৯. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:১৭
comment by: একজন ব্লগার বলেছেন: খুটিয়ে খুটিয়ে পড়লাম। আপনার লেখার হাত সত্যিই অসাধারন। নতুবা এইরকম স্পর্শকাতর একটা বিষয়কে এতটা দৃষ্টিনন্দন করে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন না। তবে শেষের প্যারাটায় এসে মন খারাপ করে দিয়েছেন।

আমি এর আগে পোস্টাতে কমেন্ট করে গেছি দেখছি। তখন তাড়ার উপর ছিলাম হয়তো। তাই পড়া হয়নি।

অপনাকে আমার আদর জানাবেন। পিচ্চিটার গাল দুটো খুব টিপে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে। (এটা আমার একটা বদাভ্যাস। ছোট বাচ্চাদের দেখলে তাদের গাল টিপে দেই, চুল এলোমেলো করে দেই!:))
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৩৯

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মন দিয়ে পড়ার জন্য। ভাল থাকবেন।

৪০. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৯
comment by: গিয়াস আহমেদ বলেছেন: নুশেরা, এই রোজার মাসে- কদিন আগে, শিপলু- আমার বউ বলছিল, তোমার অনিক কিছু বুঝি, কিন্তু তুমি আস্তিক না নাস্তিক, বুঝতে পারি না।
এসব অভিমানী দাম্পত্য-সংলাপ। কিন্তু আমিই কী বুঝি- আমি আস্তিক নাকি নাস্তিক! এই প্রতিদিন রোজা নামের উপোস করছি, নামাজ পড়ি না এক ওয়াক্ত।
সেই আমি আমার অপনা মামণির জন্য আমার ভেতরের সর্বশুভ দিয়ে প্রার্থনা করছি... আল্লাহ, এই শিশুটিকে তুমি তোমার রহমতে, তোমার নিজের হেফাজতে রেখো...
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১২

লেখক বলেছেন: আজকাল আর অত সহজে আমার চোখে জল আসেনা। আপনার কথাগুলো পড়ে চোখ মুছলাম।
গিয়াস ভাই, আপনারা সবাই ভাল থাকুন...

৪১. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৭
comment by: মেসবাহ য়াযাদ বলেছেন: নুশেরা (অনেক প্রিয় লেখক আমার),

..........................মন্তব্য করছিনা...........................
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৭

লেখক বলেছেন: মেসবাহ ভাই,
আমরা- আমাদের সেই অদেখা বন্ধুরা- একটা সময়ে একই আনন্দে হেসেছি, একই কষ্টে মন ভার করেছি... ... ...
সেই স্মৃতি থেকে জানি, বুঝি; এই নীরবতার মানে। আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা।

৪২. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩০
comment by: জটিল বলেছেন: লেখাটা অনেক আগেই হয়ত আমার পড়া উচিৎ ছিল আপু । অবশ্যই ভালথাকবেন সবসময় , এই আশাটুকুই রইল ।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:০৪

লেখক বলেছেন: একসময় পড়লেই হল। মাকে নিয়ে আপনার পোস্টটা আমার খুব ভাল লেগেছে। ভাল থাকবেন।

৪৩. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৪২
comment by: একজন ব্লগার বলেছেন: আমি আপনার অনেক ছোট আপু। তুমি করে বলতে পারেন। :)

মাত্র দেড়মাসে আপনার ব্লগের হিটের পরিমান সত্যিই অবাক করার মত। অভিনন্দন।:)
১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:০২

লেখক বলেছেন: এই সেরেছে। এখানে তাহলে বেশীরভাগ ব্লগারকেই... :)
কমবয়সী হলেও আপনাদের জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেচনা-দক্ষতা-সাহস সবকিছুই আমার চেয়ে অনেক বেশী। সেই সম্মানটুকু করতে দিন।

ব্লগ-হিটের বেশীরভাগ আমার নিজেরই করা, মন্তব্যের উত্তর দিতে গিয়ে ;)

৪৪. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩৬
comment by: মেঘাচ্ছন্ন বলেছেন: আচ্ছা আপু অপনা সোনার জন্মদিন কবে?
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০১

লেখক বলেছেন: ২৮ ডিসেম্বর

৪৫. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০১
comment by: আইরিন সুলতানা বলেছেন: খুব ব্যক্তিগত কিনবা কাছে থেকে দেখার তেমন ধারনা নেই....

যে স্কুলে পড়েছি, সেখানে একটা কর্ণার (এক কোনায় একটা ক্লাস রুম) ছিল, এরকম শিশুদের নিয়ে...কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ কখনই সেখানে আমাদের নিয়ে যান নি...যতদূর মনে পড়ে একবার একটু আগ্রহ নিয়ে ঢুকেছিলাম মনে হয়....বিভিন্ন বয়সী বাচ্চারা, এলাকারই সব..বাবা-মা'রা দিয়ে যায়, নিয়ে যায়...এখানে নানা ক্রিয়েটিভ কাজের সাথে সময় কাটানো হয় তাদের ....

খুব সম্ভবত, একবার বিভিন্ন ধরনের মানসিক প্রতিবন্ধীদের একটা গ্রুপ কোন একটা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় (বিভিন্ন দেশের প্রতিবন্ধীদের নিয়ে) দেশের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের জন্য পুরস্কার জিতে এসেছিল .... ব্যাপারটা চমকপ্রদ ছিল; আমাদের সুস্থসবল ক্রীড়াবিদরা যখন আমাদের আশাহত করে তখন আমরা যাদের দূর্বল ভাবি তারাই বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে আসল দেশের বাইরে গিয়ে ...

আমাদের দেশে কি এই সব শিশুদের জন্য শিক্ষা বিনা বেতনে ?

বলছি এই জন্য যে , আমার এক বান্ধবীর বড় ভাই বয়স হয়ে গেলেও স্বাভাবিক হননি এখনও .বান্ধবীরা আর্থিক দিক দিয়ে বেশ স্বচ্ছলই ছিল, তবে সেই ভাইকে লেখাপড়া করিয়েছিল কিনা সেভাবে শুনিনি ..উনি এমনিতে খুব হাসিখুশি ...বাসাতেই ঘোরাফেরা করেন, বিকালে ছাদের গাছপালা দেখেন...আমরা বান্ধবীরা গেলে সামনে এসে কখনো গল্প করেন কিছুটা .... হাসিখুশি মানুষটার বোধজ্ঞান বেশ শিশুসুলভ...তবে শুনতাম মাঝে মাঝে খুব অসুস্থ হয়ে যেতেন, হঠাৎ হঠাৎ খিঁচুনি ....

আমার এক কলিগ এর আত্মীয়ের ছেলে হলো কয়েক মাস আগে...জন্মের আগে বা পরে ডাক্তাররা কোন সমস্যার কথা বলেননি কিন্তু পরে সম্ভবত রেগুলার চেকআপের সময় ডাক্তার সন্দেহ পোষন করলেন বাচ্চার স্বাভাবিকতা নিয়ে .......... শোনার পর থেকেই বাচ্চার মা পাগলপ্রায়.... সাড়া বাড়ি হেস্তনেস্ত অবস্থা হয়ে গেল ....

... অস্বাভাবিকতা কেউ সহজে গ্রহন করে না এটা ঠিক...কিন্তু মাঝে মাঝে বাবা-মা হয়ত লোক লজ্জার কারণেই বেশী মুষড়ে পড়েন তাতে দেখা যায় অজ্ঞতার কারণেই অনেক সময় অবহেলায় এমন বাচ্চারা আরেকটু পিছিয়ে পড়ে স্বাভাবিকতা থেকে ....

এতো কিছুর পরও ভাল থাকুন.... শিশুরা শিশুদের মতই ভাল থাকুক.... বাস্তবতাটুকু আপাতত এর চেয়ে বেশী উপলব্ধি করার ক্ষমতা আমার নেই ...
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০২

লেখক বলেছেন: আপনাকে শুভকামনা, আইরিন...

৪৬. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৮
comment by: রেটিং বলেছেন: ২ বার পড়লাম।
হয়ত আবার পড়ব....।
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, রেটিং...

৪৭. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৪
comment by: গণিত পাগল বলেছেন: কেমন করে জানি কোন এক পোস্ট থেকে এই লেখার লিঙ্কটা পেয়ে গেলাম...
পড়ে মনটা অসম্ভব খারাপ হয়ে গেল...:(

আর সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে আমি আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে(আমি আসলেও অনেক ছোট...) যে কবার দেশের বাইরে গেছি ততবার হ্যারেসমেন্টের শিকার হতে হয়েছে...এই জিনিসটা নিয়ে আমি সত্যিই বিরক্ত।

একটা কন্টেস্টে ইউরোপে গিয়েছিলাম। ভারত,শ্রীলংকা (এমনকি পাকিস্তানের) প্রতিযোগিরা ইমিগ্রেশন পার হয়ে চলে গেল অথচ আমারদের চিঠি দেখানো লাগলো এমনকি তারা কর্তৃপক্ষকে ফোন করে নিশ্চিত হল।X(X((

আপনাদেরও কী এরকম অভিজ্ঞতা আছে সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে?
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৯

লেখক বলেছেন: সবুজ পাসপোর্টের এমন অভিজ্ঞতা কার না আছে! মেনে নিয়েছি। ঠিক যেমন গৃহকর্মী বা গার্মেন্টকর্মী মেয়েটি তার ভোগান্তিময় জীবনের দুর্গতিকে মেনে নেয়...

কারও লেখায় পড়েছিলাম, ইউরোপের কোন্ একটা দেশের ফ্লাইটে ওঠার সময় আমাদের সবুজ পাসপোর্টগুলো পাইলটের কাছে জমা দিতে হয়। কারণ পাসপোর্ট ছিঁড়ে প্লেনের টয়লেটে ফ্লাশ করে গন্তব্যে নেমেই রাজনৈতিক বা এইটাইপের আশ্রয় চাওয়ার বহু নজির আমাদের ভাইয়েরা গড়ে ফেলেছেন।

৪৮. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:০২
comment by: