নিপীড়ক শিক্ষক এবং নীতিমালার যৌক্তিকতা: মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০০
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়ক শিক্ষকের সাজা চেয়ে বেশকিছু সুলিখিত পোস্ট এসেছে ব্লগে। যেগুলো পড়লাম, কারও সঙ্গে দ্বিমতের সুযোগ নেই। এদুটো পোস্টে যথাক্রমে মাহবুব সুমন এবং পারভেজের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু লেখার ইচ্ছে হল।
মাহবুব সুমন এবং পারভেজের প্রশ্ন মূলত অভিন্ন। কেন এইসব নিপীড়কের বিচারের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রয়োজন হবে? প্রচলিত আইনের অধীনেই বিচার সম্ভব বলে তাদের ধারণা। এমন ধারণা একসময় আমারও ছিল; পরে বদলেছে। পেশাগত কারণে দেশের বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে কোনওভাবে জড়িত থাকার কিছু অভিজ্ঞতা এই বদলে ভূমিকা রেখেছে। যার খানিকটা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করার ইচ্ছে হল। এগুলো নিছকই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাজাত নিজস্ব মতামত। আইন বিষয়ে আমার অধ্যয়ন এত গভীর নয় যে, এর ফাঁকফোকর নিয়ে মতামত দিতে পারি।
পেশাগত জীবনে অন্যান্য ম্যাজিস্ট্রেটের মতো আমাকেও আদালতের নির্দেশে অসংখ্য জুডিশিয়াল ইনকোয়্যারি করতে হয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি কর্মস্থলেই নারী নির্যাতন বিষয়ক মামলা বা অভিযোগের তদন্ত করেছি তিন শতাধিক। এ অভিজ্ঞতা বড় মর্মান্তিক। কাগজ-কলমের বা মুখের কথা শুধু না, প্রামাণ্য নমুনা হিসেবে একজন মা বা বোন যখন পরনের কাপড় সরিয়ে বীভৎস বিকৃতির চাষবাষ বের করে দেখাতেন, ইচ্ছে হতো ছুঁড়ে ফেলে দিই এসব নথিপত্র, যাতে শুধু তারিখের পর তারিখ পড়ে আর এই হতভাগীরা কেবলই বারবার মরে। এসব মামলার কোন কোনটিতে সাক্ষী হিসেবে উচ্চতর আদালতে হাজিরাও দিয়েছি। শুধুই বিবেকের টানে। এজন্য ফলোআপও রাখতে হয়েছে কিছু মামলার। যা দেখেছি; আমাদের আদালতের পরিবেশের মতো উন্মুক্ত কদর্যতার চর্চা আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই।
আমাদের প্রচলিত আইনের সিস্টেমটা একবার ভাবুন তো। অভিযোগ করতে হবে হয় থানায় গিয়ে পুলিসের কাছে, নয়তো আমলী আদালতে গিয়ে নালিশ করে। সেখানে গোড়াতেই একদফা বয়ান করো। পুলিসের কাছ থেকে কোর্টে পাঠানোর জন্য ফুয়েল জোগাও। কোর্ট তদন্তের নির্দেশ দেবে, হয়তো ডাক্তারি পরীক্ষারও আদেশ হবে। সেই তদন্তে আরেকদফা ব্যাখ্যা দাও। এই ব্যাখ্যা-বয়ান আবার একজন পুরুষ-কর্মকর্তার কাছেই করার সমূহ সম্ভাবনা। আশা করা যাক, একদিন সব তদন্ত শেষ হবে। রিপোর্টও মিলবে। বিচারিক আদালতের দিকে গড়িয়ে যাবে নথিটি (যারা ভাবছেন, অমুক ট্রাইবুনালে তো অতদিনের মধ্যে বিচার হবেই--- তাদেরকে অভিজ্ঞতার আলোকে খুব আশাব্যঞ্জক কিছু না ভাবার অনুরোধ করি)। ট্রায়াল-কোর্টে চলবে তারিখের খেলা। সেই খেলার দীর্ঘসূত্রিতায় ধৈর্য রাখতে পারলে কোন একদিন সাক্ষ্যগ্রহনের পালা আসবে। সেখানে জবানবন্দীর পাশাপাশি আসামীপক্ষের ঘাগু আইনজ্ঞের প্রশ্নবাণেও জর্জরিত হতে হবে। "ঘাটে ঘাটে হয়রানি" বলার চেয়ে বরং বলি ঘাটে ঘাটে প্রকাশ্য হয়রানি। এই "প্রকাশ্য" অপমানের জ্বালা পুনর্বার নিপীড়নের শিকার হওয়ার চেয়ে কোন অংশে কম নয়; ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ অনুমানও করতে পারবেনা পুরোপুরি। আর সাক্ষ্যপ্রমাণের জটিলতার কথা যত কম বলা যায়, ততই মঙ্গল।
একটা অভিজ্ঞতা বলি। কোন এক তদন্তে কেঁচো খঁড়তে সাপ পেয়ে সে অনুযায়ী রিপোর্ট দিয়েছিলাম। প্রাথমিক অভিযোগ ছিল প্রতারক স্বামীর বিরুদ্ধে। পরে দেখা গেল, সেই রত্ন তার বন্ধুবান্ধবদের কাছেও স্ত্রীকে সঁপে দিয়েছে। ছেলেগুলো ধনীঘরের বখে যাওয়া সন্তান। সম্মানিত বিচারকের সঙ্গে দাপ্তরিক প্রয়োজনে দেখা করতে গিয়েছি। আলাপের মধ্যে একাধিকবার ঐ ভিকটিম মেয়েটির দর্শনদারিত্ব বিষয়ে তিনি যে কৌতুহল এবং মন্তব্যের প্রকাশ ঘটান, তাতে আতঙ্কিত না হয়ে পারিনি। প্রকাশ্য আদালতে আসামীপক্ষের আইনজীবিরা আর নতুন কী করবেন? অপ্রত্যাশিত কী করবে ভীড়ে ঠাসা আদালত-প্রাঙ্গনের টাউট-বাটপার, উৎসুক জনতা, মিডিয়া?
এক আইনজীবি-কন্যার কথা মনে পড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী কর্তৃক নিগৃহীত মেয়েটির পিতা সামাজিক হয়রানির প্রথম অভিজ্ঞতাতেই অভিযোগ তুলে নিয়েছিলেন। ভদ্রলোকের কথাটি কানে বাজে, আমার মেয়ের জীবন যতটুকু নষ্ট হবার বাকী ছিল, সেটুকু আর ধ্বংস নাই করি।
আপনারা হয়তো বাস্তব-ঘটনার আলোকে লেখা সুচিত্রা ভট্টাচার্যের উপন্যাস "দহন" পড়ে থাকবেন। ঋতুপর্ণ ঘোষ তা থেকে ছবি বানিয়েছেন। সেখানে দেখুন, স্বামীর উপস্থিতিতে শারীরিক আঘাত, টানা-হেঁচড়া, অপমান, কটূক্তির শিকার মেয়েটির গায়ে "ধর্ষিতা" ট্যাগটি লাগাতে সমাজের কী আগ্রহ। কারণ কিন্তু সহানুভূতি বা সুবিচারের দাবীর প্রাবল্য নয়। কারণ হল তাতে আরেকটু বিকৃত-আনন্দের জাবর কাটার সুযোগ মেলে। এমনকি আত্মীয়া মহিলাটি পর্যন্ত সাগ্রহে জানতে চান, ঠিক কোন্ জায়গায় হাত দিয়েছিল বল তো? আর আদালতে সেই পুরনো কাহিনী; অভিযোগটা শেষমেষ টিকলোইনা।
আমাদের সমাজ এক বিচিত্র জায়গা। বিচিত্র আমাদের মানস, অদ্ভুত আমাদের মূল্যবোধের সংজ্ঞায়ন। এখানে আমরা যতটা না "ধর্ষণের শিকার" হই, তার চেয়ে বেশী "ধর্ষিতা" হই। ধর্ষণকারী আমাদের মেয়ের সম্ভ্রমহানি করে, ইজ্জত লুটে নেয় (হা সম্ভ্রম, তুমি তবে লুন্ঠনযোগ্য কোনও পণ্য!)। পাশ্চাত্যে ধারণাগুলোর রাতদিন হেরফের তা বলবনা। নিপীড়িতের যন্ত্রণার ভাষা বিশ্বজুড়ে একই। শুধু নিপীড়িতের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির দুস্তর ব্যবধানটাই বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে একটা মেয়েকে শক্ত মাটির ওপর দাঁড় করিয়ে দেয়। যতদিন সে পর্যায়ে আমাদের উত্তরণ না ঘটছে, ততদিন এ ধরণের স্পর্শকাতর ঘটনার যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ নীতিমালার বিকল্প বোধহয় নেই। শিক্ষা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক--- এধরণের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কসূত্রে নারী-পুরুষের স্থানিক সম্পর্ক বিবেচনায় আনতে হবে। সেই আলোকে বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা সম্পন্ন এবং সময়োপযোগী নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের আশু পদক্ষেপ কামনা করি।
---------------------------------------------------------------------
পুনশ্চ: শ্রদ্ধেয় ফারুক ওয়াসিফের মন্তব্যের এই অংশটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য:
এটি রাষ্ট্রীয় আইনের বিপরীত নয়, বরং তার থেকে অগ্রসর এবং পরিপূরক। এ ধরনের নীতিমালা সম্ভব কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেই, যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল, গার্মেন্ট কারখানা ইত্যাদি। এসব স্থানে বৈষম্য আধিপত্যের মধ্যেও একধরনের সমাজ গড়ে ওঠে, সেখানে পারস্পরিক সম্পর্ক অনেক সরাসরি। সুতরাং কমিউনিটির জন্য কমিউনিটির মধ্যে প্রযোজ্য নীতিমালা থাকলে, যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে একটা রক্ষাকবচ থাকে। এটা দরকার হতো না, যদি না পুরুষালী দাপট আর তার প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা (ভিসি-সিন্ডিকেট-সন্ত্রাসী সংগঠন) লাগামছাড়া না হতো। তাই এর বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। কেননা, সেটা নিপীড়ক পুরুষকেই আরো ছাড় দিয়ে দেয়।
প্রকাশ করা হয়েছে: সমাজ-ভাবনা বিভাগে ।
কালপুরুষ বলেছেন:
খুব চমৎকারভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। অনেক কিছু জানা হলো। বিষয়টি নিয়ে ভাববার যথেষ্ট কারণ আছে। আমাদের বিচার ব্যবস্থায় অনেক মামলা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। সেজন্যে আইনি ফাঁক ফোঁকড়গুলো মেরামত করা দরকার যাতে দোষী ব্যক্তি সহজে ছাড়া না পায়।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, কালপুরুষদা। সত্যিই আমাদের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার অনেক কিছু আছে। ভুক্তভোগী না হলে বা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না থাকলে কেউ সহজে বুঝবে না।
কৌশিক বলেছেন:
একটু সংযোজন করি। বিশেষ নীতিমালা বিভিন্ন স্থাপনা, প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের যে স্থানিক সম্পর্কের বিশেষ ধরণ তৈরী হয় - সেক্ষেত্রে উপযোগী হতে পারে। এই উঠে আসা ভয়াবহ চিত্র থেকে মুক্তির একটা উপায়।
লেখক বলেছেন: অবশ্যই, সেটাই বলতে চেয়েছিলাম। এক্ষুনি সংযোজন করছি। অসংখ্য ধন্যবাদ, কৌশিক।
পারভেজ বলেছেন:
নারী নির্যাতন বিষয়ক কিছু আইন তো আছেই। কিন্তু মানসিক নির্যাতন বা নিগৃহিত হবার বিরুদ্ধে কি কোন আইন নেই? কিছুটা হতাশই হতে হয় এই সব চিত্র দেখে!
লেখক বলেছেন: এই ব্যাপারটা জটিল। অভিজ্ঞতায় দেখেছি, মানসিক নির্যাতনে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা এক অভিযোগকারীর অভিযোগটা অবশেষে খারিজ হয়ে গেল, কারণ তার কথার বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই!!! নিশ্চয়ই সংশোধনী এসেছে, এটুকুই আশা করি...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ফারহানা।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
নীতিমাল অবশ্যই প্রয়োজন,তারচেয়েও বেশি প্রয়োজন আমাদেরমানসিকতার পরিবর্তন।ভিক্টিম মেয়েদের ব্যাক্তিগত পরিচয় জানার প্রতি আদালত,পত্রিকা পাঠক,আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ সর্বস্তরের
মানুষের আগ্রহ কেমন একটা ঘিনঘিনে ভাব জাগায়।
পশ্চিমাদেশে টিভি স্টেশন,সাংবাদিক,আদালত, এমনকি সাধারন জনগণও
মেয়েটার পরিচয় জানার জন্য এভাবে নিলর্জ্জ কৌতুহল দেখায় না।
এইটুকুও আমরা অর্জন করতে পারিনি।
লেখক বলেছেন: খুব ভাল একটা পয়েন্ট এনেছেন। একদশক আগে দেশে ধর্ষণ-মহামারি খুব ফোকাস পাচ্ছিল প্রিন্ট মিডিয়ায়। কয়েকটি পত্রিকা ঘোষণা করল, ভিকটিমের নামঠিকানা দেবেনা তারা। তখনকার প্রথম সারির পত্রিকা জনকন্ঠের প্রথম পাতায় "সাধু সাবধান" কলামে কোন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব লিখলেন, "তাহলে আর কীসের আকর্ষণে মানুষ পত্রিকা পড়বে?" বুঝে দেখুন, "আকর্ষণ" কে তৈরি করছে আর কেন। জনরুচি গঠনে মিডিয়ার দায়িত্ব আকর্ষণের বাণিজ্যের কাছে পরাভূত। ব্যক্তি আমরা রিপুবন্দী। কী নিষ্ঠুর পৃথিবী!
মাহবুব সুমন বলেছেন:
প্রথমেই বলছি ব্যক্তিগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতা আমার নাই। আমার পিতা একসময় পুলিশে চাকুরি করতেন, সেখানে অনেক টুকু দেখেছি। নারী-শিশু নির্যাতনে কেসগুলোতে বাবার একটা থিউরী ছিলো যদিও সেটা আইনের দৃস্টিতে অবৈধ। রাত ৩ টায় আসামীকে ঝুলিয়ে এমন ভাবে পিটানো যাতে সেই বরাহ সারাজীবন মনে রাখতে পারে এবং টয়লেটে গেলে পিটনের কথা স্মরন করে প্রতি মুহুর্তে।
শাস্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসুত্রিতা, প্রয়োগের অভাব, দূর্নীতি ইত্যাদি ইত্যাদি কারনে বিচার হয় না, একজন নির্যাতিত নারী বা শিশুকে আরো শতবার নির্যাতীত ( কথা দ্বারা ) হয় সবার সামনে।
এইসব পশুকে সোজা গুলি করা দরকার।
নীতিমালা করা ভালো জিনিস তবে আবারো বলছি প্রয়োগ না থাকলে সেটা ফালতু কাগজের বান্ডিল।
আমার এখানে কাজের ক্ষেত্রে যেকোনো হ্যারেসম্যান্ট কে " জিরো টলারেন্স " এ ট্রিট করা হয়। নীতিমালা আছে প্রয়োগ আছে, তবে মাঝে সাজে প্রয়োগ করা হয় না; এটাও ঠিক, সমস্যা এখানেও আছে। নীতিমালার প্রয়োগ আছে ও আইনের প্রয়োগ আছে বলেই আমরা বাধ্য হই।
"তোমার পদযুগল বেশ যৌনাবেদনময়ী" বলার পর অভিযোগ করার পর যদি তা নীতিমালা ভংগ করে ও প্রমানিত হয় তবে যথাযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়। যদি ব্যবস্থা না নেয়া হতো তবে এসব ঘটনা চলতেই থাকতো সেই অফিসে। ক্যারিয়ারেও কিন্তু প্রভাব ফেলে।
কিছু দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে এ কারনে বাধ্যতামুলক ছুটি দেয়া হয়েছে। তবে ছুটি শেষে তার অপরাধ কি তার ক্যারিয়ারে তেমন বিশাল প্রভাব ফেলবে ? সামাজিক ভাবে হয়তো অনেকে ছিছি করবে কিন্তু বেশীরভাগ মানুষই সেটাকে ভুলে যায়।
এর জন্য শাস্তি দরকার, উদাহরন স্মৃস্টি করা দরকার।
নীতিমালা থাকবে তবে সেটার প্রয়োগ থাকতেই হবে।
আইনগত ব্যপারটাও আমি একই সাথে চালাতে চাই। জানি না আদৌ হবে কি না।
লেখক বলেছেন: মাহবুব সুমন, আপনার সুচিন্তিত ও সুলিখিত মন্তব্য এই পোস্টের চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী বলে আমার ধারণা। অনেক ধন্যবাদ।
বিশেষ বিধিমালা আইনেরই অংশ। প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিচার-প্রক্রিয়ায় খানিক ভিন্নতার সুযোগ প্রয়োজন মাত্র।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
ভাল লাগছে যে, প্রায় ১১ বছর আগে ছাত্র মিছিলে বা লিফলেটের মাধ্যমে যে দাবি আমরা তুলেছিলাম তা আজ জাতীয় হয়েছে। নুশেরাকে ধন্যবাদ যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা ও অভিযোগ সেলের জরুরত তুলে ধরার জন্য। এর পরে আর কিছু বলবার থাকতে পারে না। এটি রাষ্ট্রীয় আইনের বিপরীত নয়, বরং তার থেকে অগ্রসর এবং পরিপূরক। এ ধরনের নীতিমালা সম্ভব কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেই, যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল, গার্মেন্ট কারখানা ইত্যাদি। এসব স্থানে বৈষম্য আধিপত্যের মধ্যেও একধরনের সমাজ গড়ে ওঠে, সেখানে পারস্পরিক সম্পর্ক অনেক সরাসরি। সুতরাং কমিউনিটির জন্য কমিউনিটির মধ্যে প্রযোজ্য নীতিমালা থাকলে, যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে একটা রক্ষাকবচ থাকে। এটা দরকার হতো না, যদি না পুরুষালী দাপট আর তার প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা (ভিসি-সিন্ডিকেট-সন্ত্রাসী সংগঠন) লাগামছাড়া না হতো। তাই এর বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। কেননা, সেটা নিপীড়ক পুরুষকেই আরো ছাড় দিয়ে দেয়।
অন্যভাবে খেয়াল করুন তো, আমাদের সমাজে কোনো নারীর যৌন নিপীড়ন করবার সুযোগ না থাকলেও তার যে কোনো নৈতিক বিচ্যুতির খেসারত কতগুণে শোধ করতে হতো? আর পুরুষ হলে কতটা করতে হয়?
আমাদের পুরুষতান্ত্রিকতা আমাদের মানুষ হতে দিচ্ছে না। আমাদের মানবিকতা পঙ্গু হয়ে থাকছে, পুরুষালী ক্ষমতার কারণে।
লেখক বলেছেন: ফারুক ওয়াসিফ, আপনার অধ্যয়ন বা সচেতন মানসের ধারেকাছে যাবার যোগ্যতা আমার নেই। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কিছু ধারণায় দৃঢ় বিশ্বাস এসে গেছে, এই যা।
আপনার মন্তব্যের দ্বিতীয় প্যারাটি মূল পোস্টের শেষে কোট করতে চাই। আশা করি আপত্তি করবেন না।
অসংখ্য ধন্যবাদ।
রাজর্ষী বলেছেন:
খুবই ভালো লিখছেন, ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য এবং মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ, রাজর্ষী।
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন:
অসাধারণ একটি লেখা...এক নিমিষেই পড়লাম! ..................................................................................................
আলাদা নীতিমালার বিষয়ে দ্বিমত করার কোন সুযোগ নেই। এ নীতিমালা প্রণয়ন প্রক্রিয়া কী হবে, কারা এ নীতিমালা প্রণয়নে অন্তর্ভূক্ত থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত কোন প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়িত হবে এ বিষয়গুলোও জরুরি। এ জন্য যে জরুরি যে, বিদ্যমান অনেক নীতিমালা যেমন আছে তেমনি তার আইনী ব্যাকরণগত প্রচুর ফাঁক আছে...নিপীড়ক (যে সরাসরি অপরাধ সংঘটন করে এবং যারা বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীকে 'ধোয়া তুলসী পাতা' বানিয়ে দেয়) যে ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায় বা যেতে দেয়া হয়। বিগত কয়েক বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণ মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের বিদ্যমান আইনগুলো আপত দৃষ্টিতে খুবই কার্যকরী মনে হতে পারে, কিন্তু এর প্রায়োগিক সীমাবদ্ধতা এত বেশি যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে 'সারভাইভর অব দ্যা ভিকটিম' আইনের দীর্ঘ করিডোরে হেটে হেটে অপদস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত'র জীবনটা বেছে নিতে চায় না। আমাদের আইনগুলোকে নিছক আইন নয়, এর রয়েছে একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মাত্রা। যেখানে আইন নিজেও পুরুষতান্ত্রিক। আর যারা প্রয়োগ করেন, কিছু কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, তারা নিজেরাও আপদ মস্তক পুরুষতান্ত্রিক 'প্রিআইডিয়া' নিয়ে প্রক্রিয়াটা শুরু করেন। পাশাপাশি 'সারভাইভর অব দ্যা ভিকটিম' এবং তার পরিবারের যে সমাজ মনস্তত্ত্ব, যা আপনি খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন, তাও বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
জাবি'র ঘটনায় আসি। বলা হয়েছে, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত নয়। প্রমাণের যে গুণবাচক স্টেজ তা কতটা রাজনৈতিক, কতটা স্বীয় গোষ্ঠী (প্রশাসন ও শিক্ষক) কে দায় মুক্তির আকাঙখা থেকে উৎসারিত এ বিষয়গুলোকে খারিজ করে ভাবলে হয়তো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণের প্রক্রিয়াটা বুঝতে আমরা ব্যর্থ হবো।
আমরা নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা থেকে বলতে পারি, সেখানে আমাদের চোখের সামনে কিছু কিছু শিক্ষক এমন সব মন্তব্য করেছেন, আচরণ করেছেন, যা অবশ্যই যৌনতা কেন্দ্রীক হয়রানির মধ্যে পড়ে। কিন্তু একই সাথে আইনের ব্যাকরণে ফেলে এগুলো প্রমাণ করাও দুঃসাধ্য। সুতরাং একটি নতুন আইন অবশ্যই প্রয়োজন। আর সে আইনটি তৈরির ক্ষেত্রে এ বিষযগুলোকে বিবেচনায় আনতে হবে।
আইনের পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সময় বিকল্প সামাজিকায়নের কথা বলি। কারণ এ ধরনের নীপিড়নগুলো প্রবল সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও আচরণ দ্বারা সমর্থিত।
............................................................................................
অনেক লম্ব মন্তব্য করে ফেললাম!!!
লেখক বলেছেন: আমার অসীম সৌভাগ্য, মূল পোস্ট হিসেবে অসাধারণ হতে পারত, এমন সব মন্তব্য এখানে পেয়ে যাচ্ছি।
প্রায়োগিক সীমাবদ্ধতার বিষয়ে যা বলেছেন, অবনতমস্তকে মেনে নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
অশেষ ধন্যবাদ, মুনীর ভাই।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
নুশেরা, আরিফ ভাইয়ের পোস্টে একটা কমেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে "ন্যায়পালের" কথা বলেছিলাম। সেটা দেখতে পারেন।যৌন নির্যাতন হলে সেই মেয়ে/ছেলেটি কোথায় যাবে ?
কার সাথে শেয়ার করবে ?
কার কাছে সাহায্য পাবে ?
এটা কি ভাবার দরকার নয় !
লেখক বলেছেন: আমি মিস করেছি। লিংকটা দেবেন, প্লীজ...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, অন্যমনস্ক শরত্। সত্যিই, অনেক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এসেছে মন্তব্যগুলোতে।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
আরেকটা ব্যপার নুশেরা আপু,একটি মেয়ের কথাই ধরেন যে একজন শিক্ষক দ্বারা নির্যাতীত হোলো, বিচার হলো, সেই শিক্ষকের শাস্তিও হলো কিন্তু
মেয়েটার মানসিক অবস্থার কি হবে ?
তার কাউন্সিলিং কি করা হয়েছে ?
এটাও কিন্তু ভাবার দরকার।
আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করা দরকার। পূরুষতান্ত্রিক-নারীবাদী বলে সেগুলোকে কোনো গন্ডিতে বাঁধতে চাচ্ছি না। সামাজিকভাবেও সচেতন হতে হবে। আজ অন্যের বোন হয়েছে কাল যে আমার বোন হবে না এটার নিশ্চয়তা কে দেবে ?
শাস্তি হতেই হবে। উদাহরন স্ম্বস্টি করতে হবে যাতে এরকমটি করার আগে কেউ দ্বিতীয়বার চিন্তা করে।
লেখক বলেছেন: প্রতিটা কথার সঙ্গে একমত। শাস্তি হতেই হবে। আর কাউন্সেলিং ব্যাপারটা এখনও আমাদের কাছে বিলাসিতার মতো। এটাও পাল্টানো জরুরী।
সবার ওপর মানবতাবাদী হয়ে উঠতে না পারলে নির্মোহ নিরপেক্ষতায় কিছুই দেখতে পারব না আমরা।
তপন চৌধুরি বলেছেন:
মানুষের বিকৃত রুচিগুলি এইসব পুরুষ শ্বাশিত সমাজে বিশেষ করে আমাদের দেশের পশ্চাদমুখি সমাজে বিভিন্ন ভাবে উত্সাহিত করা হয় ৷ বিদেশেও এইসব হয় তবে আমাদের দেশের মত এত সহজ না৷ এইজন্য দরকার তসলিমা নাসরিনের মত শক্ত মহিলার কিন্তু উনি তো ঘড়ছারা৷
লেখক বলেছেন: মানবতাবাদী, মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষের সংখ্যাবৃদ্ধিই দরকার।
সুরভিছায়া বলেছেন:
আপনার তথ্যসমৃদ্ধ আবেগময় লেখায় অশেষ ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: একমত কিনা তাই বলুন ![]()
সুরভিছায়া বলেছেন:
দ্বিমতের অবকাশ নেই।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য, মন্তব্যের জন্য (এবং একমত হবার জন্যও) অনেক ধন্যবাদ, সুরভিছায়া।
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন:
মাহবুব সুমন বলেছেন:আজ অন্যের বোন হয়েছে কাল যে আমার বোন হবে না এটার নিশ্চয়তা কে দেবে ? তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি কন্যা-জায়া অথবা জননীর দৃষ্টি থেকে দেখারও বিরুধীতা করি। কারণ এ দৃষ্টিভঙ্গিটাও , অন্তত আমার কাছে, সচেতনভাবে অথবা অবচেতনভাবে পুরুষকেন্দ্রীক, তা না হলে অন্তত বংশ মর্যাদা রক্ষা কেন্দ্রীক। ফলে সামাজিক মানুষ হিসেবে নারীর যে প্রত্যাশিত কেন্দ্রীয় অবস্থান তা ঢাকা পড়ে যায় 'বংশ মর্যাদ রক্ষা অথবা 'আমার বোন অথবা আপনার বোন নির্যাতিত হওয়ার' শংকার কাছে। অথচ একটি মর্যাদাপুর্ণ সামাজিক জীবন যাপনের অধিকার সবার। আর শিক্ষক হিসেবে এ মূল্যবোধগুলোকে মহিমান্বিত করার কথা। তার পরিবর্তে যারা সে মূল্যবোধকে কলংকিত করার লাইসেন্স নিয়ে ঘুরে বেড়ান একই সাথে জাতির 'ওস্তাদ' সেজে সামাজিক মর্যদাও ভোগ করেন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় সে ব্যবস্থাটা বদলাতে না পারলে এগুলো ঘটতে থাকবে.....
আবার বিকল্প সামাজিকায়নের কথা বলি। জাবিতে এ ধরনেরে নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রায় এক দশক হতে চলেছে। কিন্তু নিপীড়নকে বন্ধ করার জন্য কর্তৃপক্ষ কী প্রতিরোধকমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। নেয়নি। কতৃপক্ষ যদি শিক্ষকদের জবাবদিহীতার বিষয়টি নিশ্চিত করতো, যদি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌথ অংশগ্রহণে কারণ ও প্রতিকারগুলো খোঁজার চেষ্টা করতো তাহলে হয়তো বিকল্প চিত্র আমরা আস্তে আস্তে পেতে শুরু করতাম। কিন্তু তা হয়নি।
আর ক্ষমতাকেন্দ্রীক মূল ধারার রাজনীতি, তার ভূমিকাটা কী। দু' নেত্রী নারী। কিন্তু পুরষতন্ত্রে আপদমস্তক ঢাকা। আর ঢাকা বলেই এ ধরনের আন্দোলন-সংগ্রামে তারা মুখে 'কুলুপ' এটে বসে থাকেন। আর তাদের সহযোগীরা এ ধরনের আন্দোলনের ফসল নিজেদের ঘরে তোলার সুযোগ খুজেন। কিন্তু ব্যবস্থার পরিবর্তনে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেন না।
...............................................................................................
পুনশ্চ: আমি জাবির আন্দোলনকারীদের স্যলুট করি এ জন্য যে তাদের কারণেই আজ যৌন হয়রানির মতো বিষয়টি 'প্রাইভেট' থেকে 'পাবলিক' ইস্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমার কাছে আন্দোলনের পথে এটাও একটা উৎক্রমণ। এ রকম আরও উৎক্রমণের অপেক্ষায় আছি...তবে অবশ্যই হয়রাণির মতো নতুন ঘটনা দিয়ে নয়, ইতোমধ্যে যারা অপরাধ করে আমাদের পবিত্র শিক্ষাঙ্গনকে কলংকিত করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে।
লেখক বলেছেন: চমত্কার বলেছেন।
(মুনীর ভাই, আপনাকে অনুরোধ করছি এই বিষয়টা নিয়ে আপনি এখানেই আলাদা একটা পোস্ট দিন। অথবা ইচ্ছে হলে অন্য কোথাও লিখুন। শুধু এই দৃষ্টিকোণ থেকেই দারুণ একটা আলোচনা হতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। আপনি চাইলে আমি তখন এই মন্তব্য সরিয়ে ফেলব। একটু বিবেচনা করবেন, প্লীজ?)
নাফিস ইফতেখার বলেছেন:
এই পোস্টের মন্তব্যে আমার কিছু বলার সাহস বা যোগ্যতা কোনটাই নেই...........+ দেয়া বাধ্যতামূলক......
লেখক বলেছেন: পড়লে ঠিক আছে, না পড়লে আপনাকেই মাইনাস ![]()
ব্রাইট বলেছেন:
We need "DARK JUSTICE", nothing else.
লেখক বলেছেন: হা হা হা, মন্দ বলেননি।
আমি জাম্বু্ বলছি বলেছেন:
নিপীড়ক শিক্ষক দের একটাই শাস্তি, কবি মাইকেল মেহেদীর মনোচিকিতসা কেন্দ্রে প্রেরণ। ওহা একটি মানসিক রুগ।
লেখক বলেছেন: কবি মাইকেল মেহেদীর মনোচিকিতসা কেন্দ্র--- এইটা আবার কী!?!
ত্রিভুজ বলেছেন:
ভাল বলেছেন.... সহমত + প্রিয় পোস্ট...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ত্রিভুজ।
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন:
মুনীর ভাই, আপনাকে অনুরোধ করছি এই বিষয়টা নিয়ে আপনি এখানেই আলাদা একটা পোস্ট দিন। অথবা ইচ্ছে হলে অন্য কোথাও লিখুন। শুধু এই দৃষ্টিকোণ থেকেই দারুণ একটা আলোচনা হতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। আপনি চাইলে আমি তখন এই মন্তব্য সরিয়ে ফেলব। একটু বিবেচনা করবেন, প্লীজ?)...............................................................................................
অনুরোধটি অবশ্যই আমার জন্য অনুপ্রেরণার। আমারও মনে হয় এ রকম বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ভবিষ্যতে। না মন্তব্যগুলো সরানোর কোন প্রয়োজন বোধহয় নেই। অন্তত আমার দিক থেকে।
................................................................................................
নাগরিক দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দী এ ব্লগার অনেকটা অফিস ফাকি দিয়ে ব্লগে ঢু মারি। ভাবি মন্তব্যও করবো না। কিন্তু আপনাদের মতো সিরিয়াস লেখকদের আবেদন অনেক সময় এড়াতে পারি না বলে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হয়। মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্য করি আর পড়ি...।
...............................................................................................
অনেক ধন্যবাদ...ভাল থাকবেন!!!!
লেখক বলেছেন: মুনীর ভাই, হাল্কা মজার থেকে শুরু করে চিন্তাশীল- সবধরণের পোস্টেই আপনার লেখনী আর যুক্তির ধার আমাকে মুগ্ধ করে। ভাল থাকবেন।
রাজামশাই বলেছেন:
আমার হাসি পাইলো
পোস্টটা পড়ে খুবই অসহায় লাগল
লেখক বলেছেন: এখানেই একটা মন্তব্যে দেখুন, ক্ষোভটা কোথায় বাজে।
রাজপথ_থেকে_বলছি বলেছেন:
এই মন্তব্যটি মুছে ফেলা হয়েছে, মন্তব্য করার সময় ব্লগ ব্যবহারের শর্তাবলীর দিকে খেয়াল রাখুন । শর্তাবলী
মাহবুব সুমন বলেছেন:
@ শামীম,ব্যক্তিগতভাবে তাত্বিক আলোচনা এড়িয়ে যাই যদি সেই তত্বের সারবত্তা বলে কিছু না থাকে বা ব্যবহারিক উপযোগীতা না থাকে বা কথামালার আড়ালে সারবস্তুটাই হাড়িয়ে যায়।
এজন্যই কিছুটা রুপক অর্থেই প্রায়শই কন্য-জায়া-জননী উপমাটা ব্যবহার করি। আগুন দেখতে অনেকেরই মজা লাগে কিন্তু একটুখানি আগুন যখন নিজের বসত-ভিটে পুড়িয়ে দেয় তখন সেই মজাটা আর মজা না থেকে কস্টে পরিনত হয়। এখানে পুরুষতন্ত্র কি নারীবাদী আসলো সেটা নিয়ে অযথা ভাবিত থাকি না। নিজের উপর আঘাত আসলে মানুষের যে অনয়ভূতিটা হয় সেটাই বলতে চেয়েছি।
অংক অনেকভাবেই করা যায়, কথা হলো সে অংক জটিল ভাবে করবো না সরল-সহজ ভাবে করবো।
কি করা উচিৎ সেটা ভাবা উচিৎ, কেনো করা সম্ভব হয়নি সেটা মাথায় রেখেই।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
ধন্যবাদ। আলাদা নীতিমালাটাকে আমি এপর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় দাবি বলেই গন্য করতাম। কারন আইনের প্যাচে যেকোন নীতিমালাই ফাকা বুলিতে পরিনত হতে বাধ্য। তবে আপনার লেখা পড়ে, বুঝতে পারছি বিশেষ নীতিমালা দরকার আছে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে। অন্তত এতে বিচার চাইতে গিয়ে মেয়েদের পুনরায় ধর্ষিত হতে হবে না ইনশাল্লাহ।
লেখক বলেছেন: "পুনরায় ধর্ষিত হওয়া"--- এটা যথাযথ বলেছেন। আসলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, কলকারখানা- এসব জায়গার পরিবেশ এবং স্থানিক সম্পর্কের বিশেষত্বের কারণে নিপীড়নের চিত্রটিও হয় ভিন্নতর। এর আফটার-ইফেক্টসও আলাদা। সেজন্যেই দরকার বিশেষ নীতিমালা।
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
ভাল লেখা। আপনার অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করলেন, আমরা জানতাম তবে আরও ভাল করে জানলাম। মাহবুব সুমন কয়েকটাই ভাল পয়েন্ট তুলেছেন।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, মাসুম।
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন:
@ মাহবুব সুমন: আমি কিন্তু আপনার আন্তরিকতা নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলিনি। বরং আপনার আবেগ ও আন্তরিকতা দু'টোতেই আমার সহমত। একই সাথে বিদ্যাজাগতিক আলোচনা করতে চেয়েছি সেটিও বোধ হয় ঠিক নয়। আমি শুধু বলতে চেয়েছি দেখার ভিন্নতাও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যেমন আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিবারে হয়তো নীপিড়ক নয়। বরং যথেষ্ঠ শ্রদ্ধাশীলও হয়তো। আবার বাইরে যখন আসি তখন নিপীড়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হই। এ নীপিড়ক হওয়া বা না হওয়ার মধ্যে আমাদের যে প্রতিনিয়ত মেরুকরণ ঘটে তা দৃষ্টিভঙ্গিজনিত কারণে। এ প্রক্রিয়ায় নারী কখনও আমাদের জন্য বিষয় হয়ে ওঠে। আবার কখনও বস্তু হয়ে উঠে। আমি এ বিষয়টিই বলতে চেয়েছে।.............................................................................................
আপনাকে ধন্যবাদ
খোমেনী ইহসান বলেছেন:
আলাদা নীতিমালার আমি বিপক্ষে নই। কিন্তু আমার একটা প্রশ্ন হচ্ছে গত ৪ মাসেও নিপীড়কটাকে একটু ঠান্ডা যেই শিক্ষার্থীরা করতে পারেনি তাদের জন্য যে নীতিমালা করা হবে তা লঙ্ঘন করে নিপীড়ন চালানো হলে তখন কী হবে। একটি সমাজে কোন অপরাধ হবে এবং তার প্রতিকার করতে হবে এমন মানসিকতার আমি ঘোরতর বিরোধী। কারণ কোন নারী গায়ে হাত যাবেই এমন অনিবার্যতা নিশ্চিত বলে দাবি করাটাই কিন্তু নিপীড়কের জন্য যথেষ্ট উস্কানির।...................................................................
আর নীতিমালায় কী হবে। গায়ে হাত দিলে কী শাস্তি দেয়া হবে। যেই কাঠামোগত নৈতিকতাকে আমরা নিপীড়ন বন্ধের উৎস হিসেবে গণ্য করছি তার আইন-আদালত কিন্তু গজ ফিতা দিয়ে মেপে জানতে চাইবে কোথায় কতটুক হাত পড়েছে। তখন মাপজোক করেই একটা রায় দিবে। সেই রায় কিন্তু নিপীড়কের পক্ষেই যাবে। এটাই ইতিহাস দেয়াল লিখনজাত অভিজ্ঞতা।
........................................................................
তাই আমি বলছিলাম কী কোন নারী শিক্ষার্থীকে নিপীড়ন করছে এ অভিযোগ ওঠার সাথে সাথে গেরিলা আক্রমনের ধাঁচে নিপীড়ককে পাকাড়ও করে উত্তম-মধ্যম দিতে হবে। তারপর তাকে নীতিমালার কাছে সোপর্দ বিচার করতে হবে। তাহলেই নীতিমালা কাদে দেবে। শেষ কথা হিসেবে বলবো দৃশ্যমান অপরাধীর হাত গুড়িয়ে দিতে হবে। অপরাধে লিপ্ত হতে ইচ্ছুককে ভয় পরিণামের কথা ভাবতে বাধ্য করে ভয় পাইয়ে দিতে হবে।
...............................................................................
সবার আগে মনে রাখতে হবে যে নিপীড়িত হন তার কষ্টটা কিন্তু থেকেই যায়। বাক্যবাগিশতা করা যায় কিন্তু তার চোখের পানি কিন্তু মুছে দিয়েও থামানো যায় না। সে যদি জানতে পায় অপরাধীর কালো হাতটি কেটে কুত্তার মুখে ছুড়ে দেয়া হয়েছে এবং আর কোন হাত অপরাধীর হাতে পরিণত হবে না তাহলে কিন্তু সে কিছুটা সান্তনা পায়।
লেখক বলেছেন: জাবির ঘটনা কাছ থেকে দেখিনি; সেবিষয়ে কিছুই বলার নেই আমার।
নীতিমালায় কি হবে- এ নিয়ে বড় ভয় ধরানো, আশংকা জাগানো কিছু কথা বললেন। মানছি আমাদের অভিজ্ঞতা খুব আশা-জাগানিয়া কিছু না। তারপরও খামতিগুলো উত্তরণের চেষ্টা তো করে যেতেই হবে সমাজকে, রাষ্ট্রকে, মানুষকে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
খোমেনী, এই চারমাসে জাবির ছেলেমেয়েদের আসলেই পাহাড় ডিঙাতে হয়েছে। চার মাস আগে জরুরি অবস্থা এখনকার মতো ঢিলা ছিল না, জাবির পাশে সেনাক্যাম্পও ছিল। তারা যখন তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে যেত। সেঅবস্থায় ওরা আন্দোলন করেছে, ভিসিকে ঘেরাও করেছে, অনশন করেছে ধর্মঘট করেছে। ওরা তখন রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের খাসলত উস্কানি না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক ছিল। আপনিই তো অন্যত্র বলেছিলেন যে, বলপ্রয়োগকে নৈতিক ভাবে জনগণের সামনে উচ্চে থাকতে হবে। চারমাস কেন এক মাস আগেও সবার কাছে প্রতিষ্ঠিত ছিল না যে, সানি অপকর্মগুলো করায় ওস্তাদ। তারপরে তাদের লেগে থাকায় বিষয়টা জাতীয় ইস্যু হয়েছে, আজ শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকেও নীতিমালার প্রতিশ্রুতি এসেছে। হতে পারে সেই নীতিমালা আর আমাদের চাওয়া নীতিমালা এক নাও হতে পারে। কিন্তু স্বীকৃতি আদায় করায় কাজটা এখন আগের থেকে সহজ হলো। এখন কোনো মেয়ের গায়ে হাত দেয়া, তাকে অস্লীল ইঙ্গিত করা জাতীয় ইত্যাকার পুরুষালি চোখে মেনে নেয়ার মতো কাজও যে নীপিড়ন সেই স্বীকৃতিটা তো এলো। এটাই আপনার সেই নৈতিক উচ্চতা অর্জন। জাবির ছেলেমেয়েরা এই অর্জন সমাধা করেছে। দ্বিতীয় পরিস্থিতিটা বুঝতে জাবির ভেতরের অবস্থা জানা চাই। শিক্ষকদের সকল গ্রুপই প্রায় একাট্টা তাদের শিক্ষকসুলভ ও পুরুষসুলভ অধিকার (টুকটাক নিপীড়ন) রক্ষায় একাট্টা। তার থেকেও বড় হয়ে উঠেছে ভিসি-অ্যান্টি ভিসি সমীকরণ। সবাই-ই চাইছে আন্দোলন যেন ভিসি বিরোধী হয়, মারামারি হয়, তাতে তাদের গ্রুপ ক্ষমতায় আসতে পারে। শিক্ষার্থীরা কাবু হয়েছে এই জায়গায়। পুরুষালী আর দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবে পাল্টা ক্ষমতাপ্রয়োগের সময় যখন এল, তখন তারা তা করতে দ্বিধা করলো। অর্থাৎ সিন্ডিকেটের রায় ঘোষণার পরপরই তাদের উচিত ছিল, সবকিছু বন্ধ করে দেয়া। সেটা হতো মন্দের ভাল। কেননা, তারপরে যে পুলিশি জুলুম হতো, তা এখনকার মাস্তানি জুলুমের থেকে ভাল। আর তখন তা জাতীয় স্তরে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে সবার সামনে হাজির হতো। ওদের কাজ ছিল ওটাকে জাতির দরবারে পেশ করা। এখন বাকি কাজ আমার-আপনার। ওদের দোষারোপ না করে আসুন না, সেই কাজটাই করি।
আপনার নীতিমালা বিষয়ে এখানে আর আলাদা করে বলতে পারছি না সময়াভাবে। নীতিমালা একটা মধ্যবিত্তিয় নরম দাবি। কিন্তু এটা পাওয়া গেলে অচিরেই তা গার্মেন্টেও প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। আর গার্মেন্টের মালিকি দানবীয়তা আর শ্রমিকের আগুনে উত্তেজনায় সেটা আর নরম থাকবে না, হবে বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গির সূচনাকারি এবং নারীত্বের অস্ত্র। নীতিমালা একটা স্কেল। স্কেল না থাকলে আপনি মাপবেন কী করে? তখন এটা যে অপরাধ, তা বলবার জন্য আর আন্দোলন করতে হবে না, অপরাধের সুষ্ঠু বিচারের জন্যই কেবল চাপের দরকার হতে পারে। এটার অ্যাবিউজ হতে পারে, সেটা নির্ভর করবে প্রতিবাদীরা কতটা সোচ্চার থাকবে তার ওপর। সুতরাং সামাজিক-রাজনৈতিক প্রতিরোধের বিকল্প নাই।
লেখক বলেছেন: ফারুক ওয়াসিফ, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, জাবি'র অভ্যন্তরীন সমীকরণগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়ার জন্য। এমন মন্তব্য না পেলে এই পোস্ট অপূর্ণ রয়ে যেত।
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন:
এখানে সবাই অনেক ভালো বোঝেন, আমি আইন বুঝিনা ।আমার প্রশ্ন এই অসভ্য লোকটার যুৎসই শাস্তি হবার জন্য এ মুহুর্তে করণীয় কি। ভদ্রভাবে আন্দোলন তো অনকেদিন থেকে চলছে। নারী সংগঠন গুলোও কিছুদিন আগে নীতিমালা বিষয়ক ব্যাপার নিয়ে একজোট হয়েছিলেন।
আমাদের এখন একশন প্লান করা দরকার যাতে সরকার এব্যপারে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। খুব দ্রুত করা দরকার।
তবে কি আমরা নীতিমালা হবে অতঃপর উহার বিচার হবে এ প্রক্রিয়ায় যাবো। নাকি অন্য কিছু।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, শ্রাবণসন্ধ্যা। আইনের জন্য মানুষ না; মানুষের জন্যই আইন। চলতি ঘটনার সুবিচার করার জন্য নীতিমালার অপেক্ষায় থাকার দরকার হতোনা। প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছাই যথেষ্ঠ হবার কথা। ক্ষমতাবলয়ের নানামূখী সমীকরণে সেটা নেই বলেই আন্দোলনের মতো কর্মসূচির প্রয়োজন হচ্ছে।
এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনার বিচারের জন্য অনুকূল পরিবেশ এবং বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্যই বিশেষ নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আসছে।
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
যারা যারা মন্তব্যগুলো করছেন , ধরে নিচ্ছি তাদের বেশীর ভাগেরই জাবি সম্পর্কে, কিনবা আন্দোলনকারীদের কারো কারো সম্পর্কে কিনবা আইনের বিশেষ বিশেষ কোণ সম্পর্কে কম-বেশী চেনাজানা, জানাশোনা, পড়াশোনা কিনবা কাছ/দূর থেকে দেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে । কথা হলো এরকম অভিযোগ করতে সাধারণত বেশীর ভাগ মেয়েই সংকোচিত হয় কারণ এতে করে দোষীর চেয়ে অভিযোগকারিনী মেয়েটির দিকেই সবাই তাকায় আগে ..এটাই আমাদের সমাজের নিয়ম ।
যদিও আজকাল আমরা অনেক আধুনিক হয়েছি ...ভাল লাগছে আপনার লেখায় উপরের মন্তব্যকারীদের মধ্যে একজন/দু'জন বাদে প্রায় সকলেই পুরুষগোত্রীয় দেখে ....মেয়েদের হয়ে কথা বলা , লড়াই করাই জন্য পুরুষরাও এগিয়ে এসেছে ...বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য দিচ্ছে ...এটা সমাজের ধনাত্মক পরিবর্তনের চিহ্ন ....
কিন্তু আসলেই কি ??????????????????? মেয়েরা আমার মনে হয় এখনো খুব বেশী স্বাচ্ছন্দবোধ করি না এসব ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করতে ...
..... ধরুন একবার একটি মেয়ে প্রতিবাদ করেই বসল, অভিযুক্তের শাস্তিও হলো , কিন্তু ওই মেয়ে ভবিষ্যতে আবার অন্য কারো কর্তৃক এরকম হেনস্তা যে হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায় ? এবং সেই মেয়ে যখন আবারো আগের মতই প্রতিবাদী হয়ে উঠবে, আমার কেন জানি মনে হয় সে আগের মত সাড়া পাবে না ...উল্টো অনেকেই বলে বসতে পারে, "তোমার সাথেই একরম হয় নাকি বার বার !!!!"
আবার কখনো কখনো আমাদের আন্দোলনগুলো হালকা বানিজ্যিকও হয়ে যায় কিন্তু...পাশে এসে দাঁড়ানোটা যতটা না আন্দোলনের প্রয়োজনে তারচেয়ে বেশী অন্য কোন প্রয়োজনে ...
আমরা মেয়েদের প্রতিবাদ করতে তো বলি আজকাল, আবার আমরাই কিন্তু এসব শুনে শুনে মজা লুটি আড়ালে ... এখানে শুধু ছেলেরাই এককভাবে দায়ী
















