ঈদ শপিং: স্মৃতির হাবিজাবি
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৮
রোজা তো শেষের পথে, কী কিনলেন? বাজেট কেমন এবার? কোথায় কেনাকাটা করছেন? ভাইয়া কী দিল তোমাকে?...
এজাতীয় প্রশ্নের মৌসুম এখন। ব্যক্তিগত জীবনে স্বল্প-চাহিদার সামান্য মানুষ; সামর্থ আরও কম। এসবে আমার আগ্রহ থাকার কারণ নেই। তারপরও কীভাবে যেন এগুলো জীবনযাপনের অংশ হয়ে যায়...
০১.
শৈশব-কৈশোরে ঈদের বাজারে যাওয়া হয়নি তেমন। হিটলার বাবার সঙ্গে যাবার প্রশ্নই নেই; তাকেই জীবনে কোনদিন বাজারে যেতে দেখিনি। মা যেতেন, তবে আমাদের দু'বোনকে পারতপক্ষে নিতেন না। আমাদের ঈদের বাজার মানেই ছিল সারাদিনের কলেজশেষে বাজারফেরতা ক্লান্ত-বিধ্বস্ত মায়ের হাত থেকে হইহই করে কিছু জামা-জুতোর প্যাকেট নেয়া।
০২.
একা একা প্রথম ঈদের জামা কিনতে যাই যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি। প্রথম বর্ষের কয়েকটা ছেলেমেয়েকে ম্যাথমেটিক্যাল ইকনমিক্স পড়িয়ে রোজগার করে মায়ের হাতে দিয়েছি। মা কিছু টাকা দিয়ে মার্কেটে পাঠালো। বাজেট বুঝে রেডিমেইড না ধরে দু'বোনের জন্য কাপড় আর মায়ের জন্য কোনরকম একটা শাড়ি নিয়ে বাসায় ফিরেছি। মা কপাল চাপড়াল, এই গাধার বিষয়বুদ্ধি এজীবনে হবেনা। টাকাটা নাকি শুধু আমার জামা কেনার জন্যই দেয়া হয়েছিল।
০৩.
ঈদের পর এক বান্ধবীর বাসায় গিয়েছি। ওর বাবা কাস্টমসের কর্মচারী। আমার পরনের জামাটিই ঈদে নেয়া শুনে বান্ধবীর মা বলে উঠলেন, হায় আল্লা, এইরকম কাপড় তো আমরা আমাদের আসমাকে (গৃহকর্মী) কিনে দিছি।
০৪.
বান্ধবী-কাম-কলিগের সঙ্গে অফিসের পর বাজারে ঘুরতে ঘুরতে কী খেয়ালে দামী এক বুটিকে ঢুকলাম। এমন দোকানে অর্থের বিনিময়ে রুচি মেলে। দু'জনে ভয়ে ভয়ে গা বাঁচিয়ে হাঁটছি, কিছুতে হাত লাগলেও আঁতকে উঠছি। হঠাত্ দোকানে এলেন হুমায়ূন-পত্নী শাওন। আগে থেকেই বাছা ছিল তার শাড়ী-সম্ভার; একটা একটা করে টান মেরে ছুঁড়ে দিলেন কাউন্টারে। ক্রেডিট কার্ডে ছাপ্পান্ন হাজার টাকায় পাঁচটা তাঁতের শাড়ীর দাম চুকিয়ে বেরিয়ে গেলেন। আমার বান্ধবী প্রায় আক্ষরিকঅর্থেই মূর্ছিত। তাকে সান্ত্বনা দিয়ে সেলসের মেয়েটি বলল, আপা আপনের জামাইয়ের বয়স ষাইট হইলে আপনিও...![]()
০৫.
বিয়ের পর একই কর্মস্থলে মিয়াবিবির প্রথম ঈদ। সে পাঞ্জাবী পছন্দ করেনা। তাই ঈদের দিনদশেক আগে একটা শার্ট পছন্দ করে যথেষ্ট দাম দিয়েই কিনে আনি তার জন্য। উপলক্ষ্য ঈদ। পরদিন অফিসে ফোন পাই তার কলিগের। কী, অফিস ফাঁকি দিয়ে মার্কেটে ঘোরা হয়, না? আমি হতবাক। ঈদের ছুটিও শুরু হয়নি; ঐ শার্ট পরে সে ভার্সিটিতে চলে গেছে! ![]()
০৬.
সংসারের বিচিত্র খরচ আর অল্পবেতনের চাকরীর প্যাঁচে পড়লে নিজের শখআহ্লাদ বলে আর কিছু থাকেনা। সরকারী চাকরীতে ঢুকে আমার দশাও তেমনই। হঠাত্ অফিসে জুনিয়র ব্যাচের কয়েকজন প্রবেশনার জয়েন করল। এরা কাজ শেখার উছিলায় সারাদিন আমার রুমে বসে আড্ডা দেয়, পত্রিকার বিনোদন-পাতা পড়ে। এদের তালে পড়ে ঈদফ্যাশন পাতা দেখে একটা শাড়ী পছন্দও করে ফেললাম। পাশের সেকশনের সিনিয়র এক সহকর্মী একথা শুনে খুব খুশী হয়ে অফিস-শেষে আমাকে নিয়ে গেলেন সেই শোরুমে। ম্যাডাম একটা শাড়ি দেখলেন, মানে প্রাইসট্যাগ দেখলেন। তিন হাজারে খুব ভাল তো, নিয়েই নিই, কী বল। হাতে নিয়ে দেখা গেল ৩এর আগে একটা ১ আছে। অর্থাত্ ১৩ হাজার। আমি দাঁত কেলিয়ে হাসলাম। কিন্তু আমার পছন্দের সেই লাল শাড়ি তো দেখা যাচ্ছেনা। ঘটনা কী? কাউন্টারে জানা গেল, "একটু দামী" শাড়িগুলো আগে অর্ডার দিতে হয়। তখন পালাতে পারলে বাঁচি, কিন্তু ম্যাডাম ছাড়বেন কেন! কেন, কত দাম ওটার? জানা গেল, ফর্টি প্লাস। এই খবর বিদ্যুদ্বেগে ব্যাচমেইট কলিগদের কাছে পৌঁছে গেল। ভরা মজলিশে তারা ঘোষণা দিল, চাঁদা করে ওই শাড়ি আমাকে কিনে দেয়া হবে। শর্ত একটাই, অন্য অ্যাকসেসরিজ সবকিছুই হতে হবে ক্যাটালগের মডেলের মতো
।
০৭.
আজকাল বিদেশে বসেও ঈদবাজার ব্যাপারটা আঁচ করা যায়। অনেকের ঘরেই দেশী টিভি চ্যানেল। দেশ থেকে পরিজনেরা জামাকাপড় পাঠানই। তারপরও একটু যারা স্বচ্ছল, এখানকার ভারতীয় বুটিকে শপিং সেরে ফেলেন। গত ঈদে আমাদের জন্য মা জামাকাপড় পাঠিয়েছিলেন। ঈদের দেড়মাস পর সেই গাট্টি এসে পৌঁছায়। আমার বিকার নেই; সময়-শ্রম-অর্থ খরচ হয়েছে তাদের, চিন্তাটা তাদেরই বেশী ছিল। এবার আগেভাগেই মানা করে দিয়েছি। মিথ্যে করে বলেছি, এখান থেকেই কেনা হবে... । সত্যমিথ্যা যা দিয়ে হোক, জীবন থেকে ঝুটঝামেলা যত বিদায় করা যায়, ততই শান্তি... ... ...
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ঈদ শপিং, স্মৃতিচারণ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: উৎসব-পার্বণ, স্মৃতিচারণ বিভাগে ।
পারভেজ বলেছেন:
আগে প্লাস দেই, পরে পড়বো!! হা হা হা
লেখক বলেছেন: প্রথম মন্তব্যকারী হওয়ার জন্য চর-দখল টাইপ কায়দা ![]()
লেখক বলেছেন: আরে ঐ খালাম্মা মহা ইন্টারেস্টিং মানুষ। একবার আমরা অর্থনীতি সমিতির সেমিনার করলাম ফাটাফাটি; ওনার মেয়ে মিস করে আফসোস করছে। উনি হঠাত্ বলে বসলেন, "কিচ্ছু হইবে না লুনা, তোর আব্বার সাথে বরিশাল সমিতির মিটিঙে যাবি তো..."
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন:
যাক, লেখাটাই আমাদের ঈদ (ব্লগীয়) উপহার.....হা হা
লেখক বলেছেন: থ্যাংকস, মুনীর ভাই
মেসবাহ য়াযাদ বলেছেন:
টুকরো টুকরো এমন স্মৃতি প্রায় সব মধ্যবিত্ত বাঙালীরই আছে... কিন্তু এমন চমৎকারভাবে কজন লিখতে পারে বলেন ?আপনারে প্লাস আর সরকাররে মাইনাস...
লেখক বলেছেন: আহ্হা, এইখানে তুচ্ছ বিষয়ে আবার সরকাররে টানেন ক্যান...
(গত ২-১ বছর বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পইড়া তাদের সাথে ২-১ বার গেসি,তারা কিনছে,আমি দেখসি,সুন্দর জামাকাপড় আর সুন্দর আপুদের
লেখক বলেছেন: ফারহান দাউদ বলেছেন: "আমি দেখসি,সুন্দর জামাকাপড় আর সুন্দর আপুদের
"
এইতো ছেলে সেয়ানা হয়েছে ![]()
মদন বলেছেন:
দারুন লিখেছেন...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ... (এমন নিক নিলেন কেন!)
পারভেজ বলেছেন:
একেবারেই বলার কিছু পাচ্ছিনা। ছোটবেলা পার হবার পর ঈদের কেনাকাটা খুব একটা কখনো টানেনি।কলেজ পার হয়ে সংসার শুরুর কিছুদিন পর পর্যন্ত মানে টানা ১০ বছর ঈদের পান্জাবীটা ছিল দুজনের যৌথ ডিজাইন, তার হাতের কাজ করা- উপহার হিসাবে পেতাম। এখন রেডিমেড পান্জাবী পরতে হয়। অনুযোগ করলে অযুহাতের অভাব হয়না!
লেখক বলেছেন: ওরেরেরেরেরে........
ঘটনা তাইলে এই!!! যৌথ ডিজাইনের ফ্যাশন শো, মানে ছবি দেখতে চাই। এই ব্যাপারে ব্লগের সবার ঐকমত্য কামনা করছি।
আবু সালেহ বলেছেন:
সত্যমিথ্যা যা দিয়ে হোক, জীবন থেকে ঝুটঝামেলা যত বিদায় করা যায়, ততই শান্তি... ... ...
খাটি কথা....
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন: আবার দেখায়!!!
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
শর্ত একটাই, অন্য অ্যাকসেসরিজ সবকিছু হতে হবে ক্যাটালগের মডেলের মতো ---------এই ডায়লগটা বউরের জন্য মুখস্ত করলাম।কত কিছুই না শেখার আছে............
লেখক বলেছেন: হে হে হে... ঐ তালিকায় শাড়ি পরার কায়দা আর ব্লাউজের ছাঁটকাটও আছে, কাজেই ভাবীর প্রতিক্রিয়ার জন্য আমাকে দায়ী করবেন না ![]()
লেখক বলেছেন: একটুস কন কি, মহা কিপটুস!
মাহবুব সুমন বলেছেন:
নিজে নিজে একবার একটা শার্ট কিনলাম ঈদের পড়ার জন্য খুব বেছে বুছে। ঈদের দিনে পড়তে গিয়ে দেখি সাইজে ছোট আমাদের মাসুম ভাই ও মেজবাহ বস বউ ছাড়া কিছুই বুঝেনই না, আদর্শ জামাই
লেখক বলেছেন: এই যে দেখুন, আপনারও বউ ছাড়া ঠিক সাইজের শার্ট কেনা হবেনা ![]()
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
অর্থনীতির শিক্ষার্থী ছিলেন নাকি আপনি?
লেখক বলেছেন: শিক্ষার্জন হয়নি ভাই; ঐ বিভাগে যাতায়াত করেছি, সার্টিফিকেটও মিলেছে এই আরকি ![]()
মদন বলেছেন:
টাকার সমস্যা আমার নিত্যদিনের সঙ্গী, আর রোজার ঈদে চেষ্টা করি সবাইকে কিছু দিতে। তাই এবার রোজার আগেই ঈদের বাজার শেষ করেছি। এখন সেসব জিনিসের দাম প্রায় দ্বিগুন লেখক বলেছেন: বিয়ের আগে ভাল বেতনের চাকরি করতাম, আত্মীয়-বন্ধুদের জন্য টাকা ওড়ানোটা কোন ব্যাপার মনে হতোনা। পরে সংসার আর সরকার- এই দুয়ের চিপায় সংকুচিত হয়ে মনটা এমন ছোট হয়ে গেছে...
লেখক বলেছেন: ![]()
অপ্সরা বলেছেন:
নুশেরা আপু তুমি সেই আমাকে বলা শাওনের শাড়ী কেনার গল্পটা এখানে বলেছো। হাহাহা আবারো হাসলাম পড়ে। সাথে সবার মন্তব্য পড়েও হাসলাম অনেক অনেক।বিশেষ করে পারভেজ আর মাহবুব সুমনের মন্তব্য পড়ে।চিকনা মিয়ার মন্তব্য টাও মজার।আমার বেদানা খেতে ইচ্ছে হচ্ছে।
লেখক বলেছেন: থ্যাংকস অপ্সরা। তোমার আর কোন ইন্টারেস্টিং অভিজ্ঞতা হলে জানাতে ভুলো না যেন।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
পরিবারে টানাটানি ব্যাপারটা আসলে ভালই, নির্জীব ছোট ছোট জিনিস গুলোর জন্য একটা টান কাজ করে। যদি অঢেল টাকা থাকত আর কোন চিন্তা ছাড়া কেনাকাটা করতে পারতাম তাহলে হয়ত সেই অনুভবটা থাকত না। লেখক বলেছেন: সংসার আর সরকারের প্যাঁচে পড়ার আগে বছর তিনেক প্রায় অঢেল টাকার সুখেই ছিলাম। আমি মহা খরুচে, সবার জন্য ইচ্ছেমতো খরচ করতাম। পরে হাত গুটিয়ে নিতে এমন কষ্ট হল...
মোঃ গাউছুল আজম বলেছেন:
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ![]()
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
আমার উপায়টাই সবচাইতে ভালো । আমারটা আমি কিনি , বউয়েরটা বউ ।
আম্মা সিলেট থেকে নিজেরটা নিজে কিনে ফেলে ।
"খাইট্ট খা " সিস্টেম । যার যার বাজেট , তার তার ।
আমি সারাজীবন দুইশ টাকার উপরে পাঞ্জাবী কিনি না , গতবার ট্যাগের লেখা বুঝতে না পেরে ১৮০ টাকা মনে করে ১৮০০ টাকার একটা পাঞ্জাবী কাউন্টার পর্যন্ত নিয়ে এসেছিলাম । শেষে বউ দয়াকরে বাকী টাকা দিয়ে দিয়েছে ।
লেখক বলেছেন: আমি কিছু না বলি ![]()
একটু নীচে রাঙা ঠোঁট কী যেন বলে গেলেন...
শাহারিয়ার আহমেদ বলেছেন:
কিছু কিছু জায়গায় প্লাস দি, চোখ বন্ধ করে। চার্লস ডিকেন্সকে যাচাইয়ের কোন প্রয়োজন নাই। ভূতের গল্প চাই।
লেখক বলেছেন: শাহারিয়ারকে মনে হচ্ছে ব্লক করতে হবে এবার ![]()
আমি ভূতপ্রেত আর সাপের নাম শুনলেই আধমরা...
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন:
আপু, আপনার ওই বান্ধবী এখন কি করে?
লেখক বলেছেন: কাস্টমস-তস্করের কন্যার কথা বলছেন তো? শুনেছি আমাদের আট বান্ধবীর মধ্যে সে-ই কফি হাউজের সুজাতা। ধনীকন্যা ধনীগৃহিনী প্রাসাদনন্দিনী।
রাঙা ঠোঁট বলেছেন:
জেবতিক ভাইজানের চাপা মারা দেইখা পুরা কাইত।ভাইরে, নিজের মানটা একটু রাখেন......এইসব আজকাল পুরান চাপা হয়া গেছে।
নুশেরা আপু লেখা ভালো লাগছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ![]()
সাইফুল আকবর খান বলেছেন:
আমি নতুন এই অঞ্চলে, হয়তো বুঝতেই পারছেন এমনিতেই। আপনার লেখা ভালো লাগছে। সহজ, আর সত্য সত্য সাবলীল। সুন্দর। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আরে আমিও নতুনই। দেড়মাসও হয়নি।
আপনার লেখা পড়ব আশা করছি।
গণিত পাগল বলেছেন:
এত চমৎকার লেখা পড়ে মন্তব্য দেবার জন্য লগ ইন করলাম। খুবই ভাল লেগেছে। আপনাকে ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন। আর এই ঈদের আগাম শুভেচ্ছা...
লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ, গণিত পাগল। আমারও নেশা ছিল গণিতে ![]()
অনেকগুলো কথা বলার বাকি আছে এখনো
লেখক বলেছেন: সত্যিই বাকী আছে কিন্তু। হাঁ ভাই, আসিতেছে... সামহোয়ারের পর্দায় চোখ রাখুন...
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
একই পথ দেখছি। আমিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে একটা সার্টিফিকেট পাইছিলাম।
লেখক বলেছেন: আরে তাই নাকি! আমি অবশ্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের। ঢাবিতেও একই বিষয়ে পড়ার সুযোগ হয়েছিল; চট্টগ্রামে আরামে থাকা আর মায়ের হাতে খাওয়ার অভ্যস্ততায় সেটা ছেড়ে দিয়েছিলাম।
মিঞা ভাই বলেছেন:
আমি এইবার নিজেরে একটা ফতুয়া কিনে দিবানে।
লেখক বলেছেন: অতি উত্তম। ফটুক দিয়েন।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
গাধার বিষয়বুদ্ধি হইছে শেষ পর্যন্ত...হা হা হাকিন্তু হুমায়ুনরে নিয়া মজাক ভালা লাগে নাই
আর আমার মনের কথাটা বিবর্তনবাদী কইয়া ফেলসে, তাই আর কিছু কইলাম না
লেখক বলেছেন: সরি, ভাঙ্গা পেন্সিল, মজাক আমি করি নাই, করছে সেলসগার্ল।
আচ্ছা, তাও ধন্যবাদ।
সাইফুর বলেছেন:
আনন্দে ঈদ পালন করেন...শুভকামনা
লেখক বলেছেন: আপনাকেও শুভকামনা, সাইফুর। ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, অরণ্যচারী।
লেখক বলেছেন: হা হা হা, তাই তো মনে হয়। আমরা সমবয়সী, দুজনেই ৩৩, এইসব পুতুপুতু আহ্লাদ তার নাই।
বোকামাষ্টার বলেছেন:
"আমার পরনের জামাটিই ঈদে নেয়া শুনে বান্ধবীর মা বলে উঠলেন, এইরকম কাপড় তো আমরা আমাদের আসমাকে (গৃহকর্মী) কিনে দিছি।"খুব মজার ঘটনা মনে করিয়ে দিলেন। আমরা তখন সদ্য চাকরীতে ঢুকেছি। সরকারী চাকরী, অবস্থাতো জানেনই। আমাদের ক্লাশে সবেধন নীলমণি দুটা মেয়ের একজনের বিয়ে হয়েছে আমাদের এক সিনিয়র কলিগের সাথে। তো একদিন লেডিসক্লাবে কী একটা অনুষ্ঠান ছিলো। আমাদের বান্ধবীটা মোটামুটি রুচিশীল(দামী নয়) একটা শাড়ি পড়ে গিয়েছে। তাকে দেখে বেশি সিনিয়র একজন ভাবী (মানে ম্যাডাম) ডেকে বল্লেন, "ভাবী আপনার শাড়িটা তো সুন্দর। আমার ও ছিলো এমন একটা। সেদিন বুয়াকে দিয়ে দিয়েছি।" আমাদের বান্ধবীটা যথেষ্ট ঠোটকাটা টাইপ ছিলো (বোঝেন না, সেই আমলে অতগুলো ছেলের সাথে ফাইট করে পড়াশোনা করেছে)। সামান্যতম আগপাছ না ভেবে দাঁত কেলিয়ে বল্লো "ও ভাবী তাই নাকি? আমার না একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ষ্ট ক্লাশ ডিগ্রী আছে, আর আমি ওটা কাউকে দেইনা।" পরের ঘটনা তো সহজেই অনুমেয়। শেষ পর্যন্ত চাকরী ছেড়ে দিয়ে ওরা কানাডায় প্রবাসী হয়েছে। যাই হোক ওর মুখ থেকে কথাটা শুনে এতো মজা লেগেছিল যে নিজের বউকেও শিখিয়ে দিয়েছিলাম।
ব্যাচেলর থাকাকালীণ ঈদবোনাসের সদগতি করতে কেবল বউ ( তদানীন্তন প্রেমিকা) এর জন্য ভাবলেই চলতো। কিন্তু এখন সবার জন্য ভাবতে গিয়ে বাজেট কাট ছাট করেও কিস্যু করতে পারিনা। এই যেমন এ মাসের প্রথম সপ্তাহেই ঢাকা গিয়ে বাচ্চাদের আর গুরুজনদের জন্য ঈদের পোষাক কিনে এমনই ফতুর হয়ে গেছি যে আজ বৃহস্পতিবার, টাকার অভাবে ঢাকা যেতে পারছিনা। বউএর কাছে প্রেস্টিজ বজায় রাখতে (আসলে ও-ও বোঝে) বলেছি খুব ব্যস্ত। আসলে "সত্যমিথ্যা যা দিয়ে হোক, জীবন থেকে ঝুটঝামেলা যত বিদায় করা যায়, ততই শান্তি... ... ... " ।
ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: এই ভাবীসমাজের কথা আর বলবেন না। কত কাহিনী তাদের আর পত্নীভক্ত পতিকুলের!
আপনার মন্তব্যই তো দারুণ গল্প। লিখছেন না কেন???
লেখক বলেছেন:
বল তুমি উৎসব কাহারে-
আনন্দ উল্লাস, তাহারে?
আহা রে!
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন:
লেখক বলেছেন: কাস্টমস-তস্করের কন্যার কথা বলছেন তো? শুনেছি আমাদের আট বান্ধবীর মধ্যে সে-ই কফি হাউজের সুজাতা। ধনীকন্যা ধনীগৃহিনী প্রাসাদনন্দিনী। আহারে ...
আহারে ...জীবনের কি নিদারুন অপচয় ...
লেখক বলেছেন: আহারে?
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
কতকিছু কিনে ওরা বাহারে
কতকিছু খায় ওরা আহারে!
আহা রে!
মাহবুবুল আলম লীংকন বলেছেন:
ঘুরতে বেরুলাম। ভাবলাম নুশেরা ডট কম হয়ে যাই। বলে যাই দু'একটি কথা। এ লেখাটি নেই!! অতঃপর অভিযোগ জানাতে এলাম বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজে। অপনার খবর নেয়া হয় না। কেমন আছে অপনা? শারদশশী হারিয়ে আপনিইবা কেমন আছেন?
লেখক বলেছেন: অপনার একটু ভাইরাল এটাক মতো হয়েছে, খুব হাঁচিকাশি হচ্ছে। কাল স্কুল হয়ে দুসপ্তাহ বন্ধ, এটা স্বস্তিকর। শারদশশীহীন অমাবশ্যা ভালই ভোগাচ্ছে, দেখি ভোগান্তি ক'দিন চলে।
আপনি, আপনারা কেমন আছেন, বিশদ জানতে চাই। ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, সোনিয়া। শুভকামনা।
লেখক বলেছেন: হহ্, না দেখে যাবা কই!
ঐটা বোধহয় তার জীবনের প্রথম ফুলশার্ট; এর আগে তো টিশার্ট ছাড়া কোনদিন কিছু কেনেনি বা পরেনি...
সুরভিছায়া বলেছেন:
সুন্দর লেখায় কত কিছু মনে করিয়ে দিলেন । ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: সুরভিছায়া, যা মনে পড়ল লিখে ফেলুন প্লীজ, আপনার ব্লগে গিয়ে খুঁজব কিন্তু।
লেখক বলেছেন: চিপার সুবিধাও আছে; কাউরে কিছু দিতেও হয়না ![]()
শ।মসীর বলেছেন:
সত্যমিথ্যা যা দিয়ে হোক, জীবন থেকে ঝুটঝামেলা যত বিদায় করা যায়, ততই শান্তি... ... ... এটাকে ভাবছি পাথেয় করে পথ চলব।আপু চমৎকার লিখনী আপনার।লিখে চলুন।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, শামসীর। ভাল থাকবেন।
রাতমজুর বলেছেন:
এইটা মাইনক্যা চিপা, অলরেডি বাজেট করা সারা পোলাপাইনডির, পুরা বোনাস তো যাইবোই, বেতনও যাইবো লেখক বলেছেন: হা হা হা, আমি প্রথম চাকরীতে ঢোকার পর আমার মামাতো ভাই মামাকে বলল, "দিলা না তো কিছু জীবনে! দেখ এখন আমার ক্রিকেট ব্যাট, ডিভিডি প্লেয়ার, কম্পিউটার সব আপু কিনে দেবে"...
তখন মনে হইল চাকরীটা না পাইলেই বোধহয় ভাল ছিল।
রুখসানা তাজীন বলেছেন:
নুশেরাপু, শামসীর আপনার শ্বশুরবাড়ি ডিপার্টমেন্টের বিশিষ্ট সংগঠক আর আলোকচিত্রী।
লেখক বলেছেন: তাই নাকি? তাইলে কথাবার্তা সাবধানে কওয়া লাগে দেখি।
লেখক বলেছেন: মনের কথা বাইর হইয়া গেছে... ![]()
পোলাপানের জন্য কিনে একটা তৃপ্তিও আছে কিন্তু।
মুকুল বলেছেন:
মোবাইলে আগেই পড়েছি। কত কথা মনে করিয়ে দিলেন! এত সুন্দর করে লিখতে পারি না। তাই লেখা হয় না।
লেখক বলেছেন: আমি কখনো মোবাইলে নেট দেখিনি। ফন্ট খুব ছোট নাকি?
আমার লেখা হল বকবকানির লিখিত রূপ। সুন্দর লেখা হল ভাই কবিদের। আসল কথা এত প্যাচাল পাড়ার সময় নেই, তাই লিখছেন না।
রাতমজুর বলেছেন:
হা হা হা। তাইলে শুনেন, হপ্তা দুই আগে হঠাৎ খালার ফোন, তাও বইনের মুবাইল দিয়া।পরথম প্রশ্ন, "কি রে বোনাস টোনাস কত পাবি?"
কৈলাম, "বোনাস? বেতন পাই কিনা ডাউট আছে, আবার বোনাস!!" (সেফ থাকা ভালো
খালা: "ও, আমি তো এদিকে একটা জামার কাপড় দেখছি, বেশি না [এ্যামাউন্ট শুইনা আমার দম বন্ধ প্রায়])
আমি: "ঠিকাসে পাডাইতেছি মার কাছে।"
মা রে ফুন দিলাম:
আমি: "মা কি খবর?"
মা: "কিরে? রোজতো রাতে ফোন দিস, আজকে দুপরে?"
আমি: "এমনি টাকা পাঠাইলাম এতো (এ্যামাউন্ট), কাইল পাবা।"
মা : "ঠিকাছে"
আমি : (ভয়ে ভয়ে)" ঈদের প্রোগ্রাম কি? কৈ বেড়াইবা? আর পোলাপাইনের কেনাকাটায় কেমন কি লাগবে?"
মা: (ফর্দ শুরু, এতিম খানা থিকা শুরু কৈরা লতার-পাতার আত্মীয়তে শেষ হৈল) "এত (এ্যামাউন্ট)। আর শুন, ভাবতেছি কাপ্তাই সোমার কাছে, নাইলে চিটাগাং টুনির কাছে, নাইলে সিলেট (কেডা নাম মনে নাই, উনার খালাতো নাইলে মামাতো বইন) এর কাছে।
আমি: (টাস্কিত হৈলাম প্রতি ঈদের মতই), "ঠিকাসে, প্ল্যান শেষ কৈরা জানায়ো"
মা: "ঠিকাসে"
(আমার মা আসলেই হিটলার, আপনের বাপের মত মাঝে মাঝে নরম হন না, যা কৈবেন ঐটাই আইন)
অফিসে বইসা সাহস করিনাই, হিসাবনিকাশে, রাইতে বাসায় ফিরা হিসাব কৈরা লগে লগে ফুনাইলাম হাতেগোনা কিছু বন্ধুর একটারে। হাতে ব্যাকআপ রাখন ভালো
লেখক বলেছেন: দ্যাখেন. কোরবানী ঈদে না উট কিনা দিতে কয়![]()
ত্রিভুজ বলেছেন:
আমার ঈদ শপিং আমি নিজে করেছি খুব কমই... আসলে শপিং জিনিষটাই কেমন যেন বিরক্তিকর লাগে... তবে ইলেক্ট্রনিক্সের মার্কেটে যেতে আপত্তি নেই.. ঈদ শপিং স্মৃতি ভাল লাগলো....
লেখক বলেছেন: আসলেই জামাকাপড় নির্ভর শপিং খুব বিরক্তিকর। আমাদের বাসায় ঈদের সময়টাতে সাহিত্যনির্ভর ঈদসংখ্যাগুলোর পাশাপাশি বই কেনার চল ছিল বেশ।
লেখক বলেছেন: কেন যেন ইচ্ছে হলনা...
হয়তো পরিজনদের কারো চোখে পড়লে অস্বস্তি হবে তাদের... এই ভাবনা থেকেই। পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ, ফারজানা।
লেখক বলেছেন: হুম যাব। শপিং ভাল কাজ না ![]()
আসিফ আহমেদ বলেছেন:
৩৩ বছরে পুতুপুতু আহ্লাদ চলে যায় নাকি?তাইলে ৩২ এর পরে একবারে প্রমোশন নিয়ে ৩৪ করে নেবো
এতো বড় লেখা আর কমেন্ট পড়ে যে টায়ার্ড হলাম সেইটার কি হবে?
লেখক বলেছেন: আরে নতুন করে "চলে যায়"নি। এসব আহ্লাদ তার কখনোই ছিলনা। সেই গল্প নিয়ে সিক্যুয়াল দেয়া লাগবে দেখি।
রোজা রাখছেন আর টায়ার্ড হবেন না, একি মামাবাড়ীর আবদার!
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
বাপরে!!! আমি মন্তব্য পড়তে পড়তে শেষ! সারা রাতে যতো পাতা পড়লাম তার সমান লেখা পড়তে হলো
ঈদ নিয়ে বড়ো যন্ত্রণায় আছি। বললাম কিছু লাগবে না, মা তবু জ্বালাচ্ছে। এই মানুষের ভীড়ে তবু বের হতে হলো একদিন। সেদিন মা একটা পাঞ্জাবী গছিয়ে দিলো (মনে মনে অবশ্য বালকের মতোন খুশিই হলাম!)
এখন মনে হচ্ছে এই পাঞ্জাবী প্রতি মাসে অন্তত একদিন না পড়লে পয়সাটা উসুল হবে না। আমার মা বিরাট ধুরন্ধর!!
লেখক বলেছেন: এই ছেলে, কেউ কি বলেছে, মন্তব্যগুলো না পড়লে রোজা কবুল হবে না
?
মাকে ধুরন্ধর বলার জন্য মাইনাস।
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
ধুরন্ধর হওয়া দোষের কিছু না। তবে নাড়িবাঁধা ছেলেকে কারণে অকারণে কালোচিঠিগত (ব্ল্যাকমেইল) করা কি ঠিক বলেন? মন্তব্য না পড়লে পোস্টের মজা নাই!
লেখক বলেছেন: অবশ্যই ঠিক। মায়েদের সবকিছু ঠিক (এই উপলব্ধি আমার হয়েছে কয়েকবছর আগে; লেবার পেইন নামের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অর্জনের পর)।
















