আমার প্রিয় পোস্ট
- শিশুর অটিজমঃ তথ্য ও ব্যবহারিক সহায়তা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। একুশে বই মেলা ২০১০ - লাল দরজা
- কতৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতি পুর্ণ সমর্থন জানাই। - তামিম ইরফান
- খোঁয়াড়-প্রস্থান বিজ্ঞপ্তি - ঊশৃংখল ঝড়কন্যা
- শর্তাবলী - হাসান মাহবুব
- নিকট ভবিষ্যতে সামহোয়ারইন......
(ফান পুস্ট,
মডুরা বেরসিকের মত ডিলিট মাইরেন না) - রোবোটিক্স
- যাপিত জীবনের টুকরো চিত্র এবং তা থেকে উপনিত অনুসিদ্ধান্ত সমূহ - কঁাকন
- চুয়ান্নের বাইশে অক্টোবরঃ কবি! - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- রেস্টুরেন্টের দিনগুলি- (শেষ পর্ব) - দূরন্ত
- দুঃখিত, আমি এই জাতীয় কীটদের আমাদের মাঝখানে দেখতে চাই না - হাসিব
- আমি সামু ছেড়ে যাব না - দন্ডিত
- ডুব দেওয়া, ফিরে আসা নিয়ে কিছু (অ)প্রাসংগিক কথা - শাফ্ক্বাত
- একটা প্রাক-ঘটকালীমূলক ঘুষ ফর নুশেরা; দশমী, পুরান ঢাকা - অন্যমনস্ক শরৎ
- আমার ছোট মার জন্মদিন আজ - শওকত হোসেন মাসুম
- আমার গান, আমার মান্না দে...
- ভেবে ভেবে বলি
- Wish you were here-'RICK' (1943-2008) - ফয়সালরকস
- orianthi কে চেনেন? - খোলা_আকাশ
- প্রবাসের পথে ... (৭) ইকেবানা... - নতুন রাজা
- নীল সমুদ্র সবুজ পাহাড়ঃ এক আশ্চর্য্য ভ্রমন... - মুনশিয়ানা
- তপঃসিদ্ধ এক শাহ আবদুল করিম - আকাশ অম্বর
- হাটের দিন - রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী
- ব্লগারদের সরাসরি অংশ গ্রহনে ঈদ স্পেশাল ব্লগালাপ (আজকের অতিথি নুশেরাপু)
) - কঁাকন
- বাংলাদেশের প্রায় সকল পর্যটন স্হানের ছবি ব্লগের সংকলন (শত তম পোষ্ট ) - শ।মসীর
- রোজার কথা - জ্বিনের বাদশা
- মনের ভেতর মন পোড়ে আজ - লাল দরজা
- অটিজম, নুশেরার পোস্ট, ফারহানের কমেন্ট ও আমার কিছু অর্থহীন রোবোটিক প্রলাপ - রোবোট
- তোমার দেহে বাস করে কারা, ও মন জানোনা; তোমার দেহে বসত করে কয়জনা? - হোরাস্
- কবিতারা…….. - শওকত হোসেন মাসুম
- কর্পোরেটকে ঘৃণার সংস্কৃতি - এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ এবং কর্পোরেট না থাকলে কি সভ্যতার চাকা ঘুরতো? - বিলাশ বিডি
- আমার মূক ও বধির বাবা। - বুলবুল আহমেদ পান্না
- চলে যাওয়া - পারভেজ
- রাত আর গিটারের টুংটাং - রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত
- বাস্তবের পাটাতনে স্বপ্ন দেখার অপরাধ ( ব্লগার শয়তান ভাইয়ের প্রতি নিবেদিত ) - রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী
- সামহোয়্যারে বাংলা বানান বিভ্রাট: চাই একটু সচেতনতা - ফারহান দাউদ
- সঞ্জীব চৌধুরীর সঙ্গে এক রাত এবং অভিনেতা সঞ্জীব : প্রিয় শিল্পীর স্মৃতিতে নিবেদিত ভিডিও - সোজা কথা
- কবিতা সময়ের পাঠ নাকি সময়কে পাঠ করা? - সৈয়দ আফসার__১৯৭৯
- জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্বগতোক্তি এবং বিক্ষিপ্ত প্রশ্ন - সোজা কথা
- চট্টগ্রাম কলেজের দিনগুলি -- একটি স্মৃতি তুমি বেদনা টাইপ পোষ্ট
- রোহান
- রূপকথা নিয়ে কিছু কথা হতে পারে! - খারেজি
- একাত্তরের যীশুরা...... - সুফিয়ান ডট কম
- আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- শব্দ-রাজ্যে অভিযান (৬): Lament, Jeremiad ! - ম্যাভেরিক
- গানপাগলাদের ( আরণ্যক, হাসান মাহবুব, নকীব, সুদীপ্ত, বি.মা, আরো যারা আছেন) - অমি রহমান পিয়াল
- স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে নিয়ে আমার জীবনের প্রথম লেখা (মুক্তিযুদ্ধে যারা বাবা হারিয়েছ তোমাদের সবার জন্য উৎসর্গ) - মুনীর উদ্দীন শামীম
- Google SketchUp : স্কেচ করুন, তৈরি করুন নিজের বিশ্ব - 'লেনিন'
- অদ্ভুতুড়ে: আটলান্টিস (শেষ পর্ব) - সব্যসাচী প্রসূন
- সাদা চোখে অপরবাস্তব - ভাঙ্গা পেন্সিল
- 'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- শুভ জন্মদিন: শাহ আবদুল করিম - ইমন জুবায়ের
- আজ নুশেরা তাজরীনের জন্মদিন - মাহবুবুল আলম লীংকন
- অ্যাপোক্যালিপস ফিলিস্তিন - ফারহান দাউদ
- অশউইৎস- বিরকেনিঊ, নাজী কনসেনস্ট্রেশান গ্যাস চেম্বারের গনহত্যা, আমাদের বিষণ্ণ যাত্রা... - |জনারন্যে নিসংঙগ পথিক|
- অনুসরন করুন আপনার পছন্দের ব্লগারদের - আছহাবুল ইয়ামিন
- এসো পরিচিত হই বাংলার ফুলের সাথে - রাজামশাই
- বাইসাইকেলের বয়স তখন আমার, শুভ্রাদি যখন মৃদু ঘন্টাধ্বনি যুবকের কানে - অশোক দেব
- এই পোস্টটা শুধুই নিজের জন্য (প্রথম পাতায় নেই) - নুশেরা
- যারা স্কেচ শিখতে চান আসুন তবে স্কেচ শিখি। (এক) - জেমিনি
- আমার ও বউয়ের বিয়া হইছিলো একই দিনে, আইজ সেই দিন
- শওকত হোসেন মাসুম
- আজ তা হলে সলিল চৌধুরীর কথাই বলি - ইমন জুবায়ের
অটিজম নিয়ে কিছু কথা
০১ লা আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:২৯
এই পোস্টটি একেবারেই অপরিকল্পিত; সহব্লগার আল্লাহ রাখার একটি পোস্টের কিছু মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্য করতে গিয়ে বিশাল আকৃতি দেখে শেষে আলাদা পোস্ট হিসেবে দিয়ে দিলাম। কিছু ব্যক্তিগত দুঃখবোধ ও ক্ষোভ কাজ করেছে; কাউকে কোনভাবে আঘাত দিয়ে থাকলে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
============================================
ঐ পোস্টের দু'টো মন্তব্য কোট করছি।
*পৃথিবীর অনেক প্রতিভাবানরাও অটিষ্টিক ছিলেন।
*রেইন ম্যানের মত দু চারটা অটিস্টিক যদি জন্ম নিত বঙ্গদেশে!
এখানে মনে রাখা দরকার, অটিজম সম্পর্কে বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। এর একটি হলো ASD (Autism Spectrum Disorder) আক্রান্ত ব্যক্তিরা সুপ্ত প্রতিভার অধিকারী।
বাস্তবতা: অটিস্টিকদের কেউ কেউ হয়তো বিশেষ পরিস্থিতিতে খুব ভাল আইকিউ স্কোর করতে পারে অথবা বিশেষ কোন কাজে দক্ষতা দেখাতে পারে, কিন্তু এটা নিছকই ব্যতিক্রমী ঘটনা। সাধারণ অটিস্টিক জনগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য মিডিয়ায়, চলচ্চিত্রে বা সাহিত্যে সমাদৃত হবার মতো আকর্ষণীয় কিছু নয়। বিশেষ কোন দক্ষতার অধিকারী অটিস্টিককে নিয়ে লিখিত উপন্যাস পড়ে, কিংবা তাকে নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি বা চলচ্চিত্র দেখে অনেকে ধারণা করে নেন ASD আক্রান্ত সবারই বিশেষ কোন প্রতিভা থাকে (যেমন গণিতে ভাল হওয়া)। বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র রেইনম্যানে ডাস্টিন হফম্যানের চরিত্র, অথবা আইনস্টাইনের অটিজম থাকার প্রসঙ্গ অনেকেই জানেন এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনায় রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে ভালবাসেন। বাস্তবতা হলো আমেরিকায় শিশুদের প্রতি ১৫০ জন একজন এবং অস্ট্রেলিয়ায় ১৬০ জনে একজন শিশু অটিজম আক্রান্ত। যাদের অধিকাংশই ম্যাথ-জিনিয়াস হওয়া দূরে থাক, খুব সাধারণ দৈনন্দিন কাজকর্মেও অন্যের উপর নির্ভরশীল।
=============================================
আরেকটি মন্তব্য দেখা যাক।
*ইদানীং বাংলাদেশে শোনা যাচ্ছে।
বাস্তবতা: অটিজম বাংলাদেশে একেবারে নতুন কিছু না। স্রেফ শনাক্ত করা হয়নি বা হয়না বলেই আগে শোনা যেতোনা। অবিশ্বাস্য শোনাতে পারে; বাংলাদেশে মাত্র কয়েক বছর আগেও চিকিৎসকদের অনেকেই (এমনকি শিশু বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও কেউ কেউ) ছিলেন যারা অটিজম সম্পর্কে সেভাবে সচেতন ছিলেন না। এই তথ্যটি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অর্জন। কেউ আপত্তি করলে সবিনয়ে জানাতে চাই, জনৈক চক্ষুবিশেষজ্ঞ আমার অটিজম-আক্রান্ত সন্তানের চোখের সমস্যার জন্য আইড্রপ দিতে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ দেখে প্রচণ্ড বিরক্ত হন। তখনই নাকি এই অটিজম টার্মটি সম্পর্কে উনি প্রথম জানতে পারেন। আরেকবার এক শিশু শল্যবিশেষজ্ঞ এই টার্মটি শুনে তখনই আবার হাসিমুখে অটিস্টিক-এর নিষ্ঠুর বঙ্গানুবাদ করেন: ভোদাইস্টিক। এখনও খুব বেশী আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন আসেনি এই অবস্থার। পনেরষোলকোটির দেশে একজনও স্পিচ থেরাপিস্ট নেই এবং স্পিচ থেরাপির গুরুত্ব বিষয়ে উন্নত বিশ্বে যতোটা জোর দেয়া হয়, আমাদের চিকিৎসকরা অভিভাবকদের কাছে বিষয়টি সেভাবে উপস্থাপন করেন বলে মনে হয়নি।
প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, ইউএসএ'তে ষাটের দশকে প্রথম অটিস্টিক শিশুকে চিহ্নিত করা হয়। তবে তখন একে অব্যাখ্যায়িত অক্ষমতা হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ১৯৯১ সাল থেকে special education exceptionality হিসেবে অটিজমকে অন্যান্য শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতার বাইরে স্বতন্ত্র ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়। বর্তমানে এটা fastest-growing developmental disability এবং বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার ১০-১৭% (অটিজম সোসাইটি অফ অ্যামেরিকা'র ২০০৬ সালের তথ্যানুযায়ী)। পৃথিবীতে মাত্র চারটি দেশে অটিস্টিকদের সংখ্যার হিসাব রাখার ব্যবস্থা আছে (ইউএসএ, ইউকে, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায়; তাও সর্বত্র অপেক্ষাকৃত মৃদু মাত্রার অ্যাসপারগার সিনড্রোম ও PDDNOS (Pervasive developmental disorder not otherwise specified) কে হিসেবের মধ্যে ধরা হয়না। এইসব দেশের হারকে ব্যবহার করে অন্যান্য দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে অটিস্টিকদের অনুমিত সংখ্যা হিসাব করা হয়)। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব দেশের কোথাও কোথাও অটিস্টিকদের সংখ্যা ৫০০%-১০০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হার নিঃসন্দেহে আতঙ্কজনক। স্থানবিশেষে অটিস্টিকদের সংখ্যাবৃদ্ধির অস্বাভাবিক উচ্চহারের কারণ হিসেবে পরিসংখ্যানিক প্রক্রিয়ার আওতার পুনঃনির্ধারণকে হয়তো দায়ী করা যেতে পারে; কিন্তু বাস্তবতা হল এই হার সত্যিই বাড়ছে।
============================================
একই মন্তব্যের দ্বিতীয় অংশ:
*চিন্তা করবেন না, সব ঠিক হয়ে যাবে।
বাস্তবতা: অটিস্টিক শিশু কখনোই পুরোপুরি সেরে উঠবে না। তারপরও, মৃদু মাত্রার অটিজম, যেমন অ্যাসপারগার সিনড্রোমের ক্ষেত্রে যথাযথ সহযোগিতা, সমর্থন ও শিক্ষা পেলে পরিণত বয়সে আত্মনির্ভরতা অর্জন করা সম্ভব। বাকীদের বেলায়, উচ্চমাত্রার অটিজমের ক্ষেত্রে পরিণত বয়সেও অন্যের সাহায্য ছাড়া কখনোই স্বনির্ভর দৈনন্দিন জীবনযাপন সম্ভব নয়।
============================================
============================================
এবার একান্তই আমার নিজের কিছু কথা।
অটিজম আক্রান্ত শিশুর পিতামাতা কী জীবন যাপন করেন, তারা ছাড়া আর কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব না। আমার অনুরোধ, তাদের প্রতি কোনরকম সান্ত্বনাবাণী দেবেন না। তাদেরকে এই সমস্যা মোকাবেলায় সাহায্য করুন। এটা দৈবক্রমে সেরে যাবেনা, তাদেরকে যা করতে হবে তা হলো মন স্থির করে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে শিশুটির সঙ্গে কঠোর পরিশ্রমসাধ্য কার্যকর সময় ব্যয়।
অটিজম আক্রান্ত শিশুকে অর্থপূর্ণভাবে কথা বলা, অন্যের সঙ্গে কমিউনিকেট করা, অন্যের ডাকে সাড়া দেয়া, অন্যের সঙ্গে আইকন্ট্যাক্ট করা, গ্রস মোটর অ্যাক্টিভিটি (হাঁটা, দৌড়ানো, হামাগুড়ি দেয়া, লাফানো, এক পায়ে লাফানো ইত্যাদি), ফাইন মোটর অ্যাক্টিভিটি (আঙুল দিয়ে কোন বস্তু (যেমন পেন্সিল) ঠিকভাবে ধরা, বোতাম লাগানো, কাগজ বা কাপড় ভাঁজ করা বা কাটা, হাত রগড়ে ধোয়া, হাত থেকে পানি ঝাড়া) ইত্যাদি কাজ শেখানো অকল্পনীয় ধৈর্য্য, সময় ও শ্রমসাপেক্ষ। স্বাভাবিক শিশুরা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ-প্রতিবেশ থেকেই এতো স্বতঃফূর্তভাবে এসব শেখে যে আমরা ধারণাই করতে পারিনা এগুলো কোন বিশেষ "কাজ" কিনা আর সেসব "শেখাতেই" বা হবে কেন।
আমার সন্তান মাঝারি ধরণের অটিজমের শিকার; তাকে কথা শেখানোর জন্য অনর্গল গল্প বলে যেতে হয়েছে, অন্য কারো সঙ্গে বিভিন্ন ধরণের সংলাপ আদানপ্রদানের পুনরাবৃত্ত অভিনয় দেখাতে হয়েছে বার বার। তার আগ্রহ অনুযায়ী খেলনা, চারপাশের জীবজড় নির্বিশেষে সবার মুখে সংলাপ বসিয়ে গল্প বলে যেতে হয়েছে। এই কাজ করতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থেই আমার গলায় ঘা হয়ে গিয়েছিলো সেই সময়। সে সাইকেলে উঠে বসে থাকতো, প্যাডেলে চাপ দেয়ার সাধারণ ব্যাপারটা শেখানোর জন্য আমাকে তার পায়ের পাতা হাত দিয়ে চেপে ধরে তার সাইকেলের পাশে পাশে প্রায় হামাগুড়ি দিতে হয়েছে প্রতিদিন অন্তত আধাঘন্টা করে ছয় মাস। প্রতিদিন অন্তত আধাঘন্টা ধরে তাকে জামার বোতাম লাগাতে শেখাতে হয়েছে। কিছুক্ষণ বিছানায় পাশাপাশি দুটো জামা রেখে; একটা বোতাম নিজে লাগিয়ে তাকে দেখিয়ে, এবং একই কাজ তাকেও রিপিট করতে হবে সেটা বোঝাতে হয়েছে। আয়নার সামনে দুজনকেই দাঁড়াতে হয়েছে, পরে থাকা জামার বোতাম লাগিয়ে-খুলে আয়না দেখে দেখে প্র্যাকটিস করাতে হয়েছে। এভাবে প্রায় একবছর পর সে প্রথম নিজে নিজে বোতাম লাগাতে সক্ষম হয়। তেমনি পেন্সিল ধরে লেখা শেখানো। অসংখ্য তুচ্ছাতিতুচ্ছ অথচ দৈনন্দিন কাজ। এসব কাজ শেখানোর সময় সবচেয়ে কঠিন কাজটা হলো তার মনোযোগ আর দৃষ্টি ধরে রাখার জন্য অনর্গল তার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এমনভাবে বুঝিয়ে বুঝিয়ে কথা বলে যাওয়া।
এতো কথা বলার উদ্দেশ্য হলো, এই স্নায়ুক্ষয়ী দীর্ঘমেয়াদী পরিশ্রমে শিশুর অভিভাবককে উদ্বুদ্ধ করুন। আইনস্টাইন অটিস্টিক ছিলেন-- এই ধরণের স্টুপিড উদাহরণ না দিয়ে এভাবে শ্রম আর সময় দেয়ার পর শিশুর উন্নতি দেখলে তাদের অ্যাপ্রিশিয়েট করুন। শিশু তার ঘাটতি কমিয়ে আনবে এমন প্র্যাক্টিক্যাল আশাবাদ দিন। দয়া করে আমার সেই অর্বাচীন আত্মীয়টির মতো বলবেননা, "এইসব কোন ব্যাপার, সব ঠিক হয়ে যায়, দুইদিন আগে আর পরে। আর তুই করলি কী, ক্যারিয়ার বাদ দিয়ে বেবীসিটিং! এতো পড়াশোনা তাহলে কেন করলি!"
ব্লগে অটিজম নিয়ে পোস্ট দিতে গিয়ে নিষ্ঠুর থেকে শুরু করে অশ্লীল রসিকতা পর্যন্ত পেয়েছি। যে দেশের শিশু বিশেষজ্ঞ একটা শিশুকে "ভোদাইস্টিক" বলতে পারেন, সে দেশে শিক্ষিত লোকের জন্য এসব আসলে কোন ব্যাপারই না। তাদের বলি, দয়া করতে না পারলে স্রেফ অফ যান, শুধু নিষ্ঠুরতা দেখাবেন না প্লিজ। সেটা এক নিয়তিই আমাদের যথেষ্ট দেখিয়েছে।
আগ্রহীরা দেখতে পারেন--
http://www.nushera.com/taxonomy/term/25
প্রকাশ করা হয়েছে: শিশু ও অটিজম বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
বিডি আইডল বলেছেন:
ধন্যবাদ নুশেরাপু
সোহানা মাহবুব বলেছেন:
শুভকামনা রইল।
বিডি আইডল বলেছেন:
পারভেজ বলেছেন: কি মিয়া?! মাথা গরম হইলো কেন? কুল ডাউন ম্যান! পারভেজ ভাই...কাকে বললেন?
কারো কষ্ট কেউ কোনদিন নিতে পারে না, পাশে থাকা যায় শুধু।
হ্যাঁ, আমরা খুব কষ্ট দিতে পারি, উপহাস করতে পারি আর পারি করুণা করতে ...
ভালবাসা নুশেরা।
বড় বিলাই বলেছেন:
আপনার মত মা যেন সকল অটিস্টিক শিশুরা পায়।
পারভেজ বলেছেন:
@বিডি আইডল; নুশেরাকে বল্লাম। একটু আপসেট মনে হচ্ছে তাকে- লেখায়।আপসেট হবার কারণ নেই। অটিজম নিয়ে সচেতনতা আসতে আরো অনেক সময় লাগবেই।
বিডি আইডল বলেছেন:
অ্যাসপারগার সিনড্রোম এর দু'জন ছাত্রের সাথে আমি কাজ করেছি এখানকার স্টুডেন্ট ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে...শুধুমাত্র ঠিকমত সাহায্য পাবার ফলে এরা সুন্দরভাবে ইউনিভার্সিটির চৌহাদ্দি পেরোতে পারছে আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারি সহায়তার বাইরেও জানা-শোনার প্রচন্ড রকম সীমাবদ্ধতা চোখে পড়ার মত
মরি-নাই বলেছেন:
দিদি কওয়ার মত কিছু নাই।ঈশ্বর মানি মাবাবা রে। আমার কাছে মাবাবা ই সব অসাধ্য সাধন করতে পারে। কেন পারে আর কেন মানি তা আবার মনে পইরা গেলো।
আর হ্যাঁ, জাতিগতভাবে আমাদের অন্যের দুর্দশায় সহানুভূতির একটু অভাব আছে, নিজেকে অন্যের জায়গায় বসিয়ে ভাবতে পারিনা, খুব বেশি মনখারাপ করবেন না। আর কারো বোঝার দরকার নেই, আপনার সন্তান আপনাকে পাশে পাচ্ছে এটাই বড় কথা, বাকি সব যেখানে খুশি যাক।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
আমার এক বন্ধু, খুব মেধাবী, ওরকম মেধাবী আমি কম মানুষকেই দেখেছি। অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত। আমি দেখেছি, কি ভয়াবহ হতে পারে এটা,খুব কাছ থেকে। আর এটাও দেখেছি, কাছ থেকে দেখেও অনেকে না দেখার ভান করত, মজা লুটত, তাদের প্রতি আমার করুনা ভরা ঘৃনা।আচ্ছা, মানুষ মানসিক হাসপাতালে ঘুরতে যায় কেন? যেন চিড়িয়াখানায় বেড়াতে যাচ্ছে। সত্যিকারের মানসিক অসুস্থ্য আমার এদেরকেই মনে হয়।
পোস্টের জন্যে ধন্যবাদ।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
শুধু অটিস্টিক শিশুই না, মানসিক প্রতিবন্ধী যেকোনো শিশু সমবয়সী শিশু তো বতেই, এমনকি প্রাপ্রবয়স্ক বুঝদার মানুষদের কাছেও খুব বাজে ব্যবহার পেয়ে থাকে।
সাইফুর বলেছেন:
আসলেই এভাবে জানতাম না আগে
তামজি বলেছেন:
+++++++++++++++++++
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
আমাদের বর্তমান লাইফস্টাইল অটিজম আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ ভাবে দায়ী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মানব সমাজ যে ভাবে পালটে গেছে, সেই পরিবেশ মানুষ তার বিবর্তনের পথে কখনই ফেস করে নাই। ফলাফল অটিজম যার জেনেটিক ভিত্তি থাকার সম্ভবনাই বেশি। একটা প্রশ্ন। অন্তত আজকের যুগে কিছু কিছু জেনেটিক রোগ সম্পর্কে শিশুর জন্মের পূর্বেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। আমি মনে করি, যদি শিশুর জন্মের পূর্বে এই জাতীয় কোন আভাস পাওয়া যায় তবে শিশুটিকে পৃথিবীতে আসতে দেওয়া উচিত নয়। আপনি কি মনে করেন?
আহমেদ রাকিব বলেছেন:
কি লিখবো বুঝতে পারছি না। ভালো লিখেছেন শুধু এইটুকু বলতে পারি। আপনার লেখা পড়ে বোঝা যায় আপনি অনেক শক্ত মানসিকতার মেয়ে। সব সময় এমন দৃঢ় ইস্পাতের মতন থাকুন।
রোহান বলেছেন:
Apu apni chara ar karo kach theke emon lekha kolponao kora jay na..aj mobile diye log in, kal shokale ekta experience share korbo..
বিডি আইডল বলেছেন:
বিবর্তনবাদী @ কানাডাতে গর্ভাবস্হার ১৫-১৬ সপ্তাহের একটা ঐচ্ছিক পরীক্ষা আছে...বাবা-মা চাইলে করতে পারে যাতে এ ধরণের কোন সমস্যা থাকলে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারে....কিন্তু যতদূর শুনেছি বেশীর ভাগ বাবা-মাই এই পরীক্ষাটি করান না
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
ভাল লাগল। আইনস্টাইন অটিসটিক ছিলেন, এটার জানা ছিলনা। বিয়ে শাদী, সন্তান জন্ম দেয়া, লেকচার দেয়া, দার্শনিক মন্তব্য রাখা সবই তো করেছেন! নাকি অটিজমের মাত্রাটা এতটা তীব্র ছিলনা!যতদূর জানি উনি বোহেমিয়ান ছিলেন বলে দুটো বিয়ের কোনাটাই টিকেনি।
কোলাহল বলেছেন:
এই লেখাটা অনেক মাকেই সাহস যোগাবে।
জাতেমাতাল বলেছেন:
আপনার লেখাটা চু্পচাপ পড়ে গেলাম, কি মন্তব্য করবো বুঝতে পারছি না.... খুব হতাসাজনক আমাদের তথাকথিত শিক্ষিতদের মন-মানসিকতা। এটাই সম্ভবতঃ আমাদের চিরন্তন বাঙ্গালী ক্যালাসনেসে....।
তবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, অটিজম নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা আগের থেকে বেড়েছে। পরিচিত মানুষদের মধ্যে দেখেছি, এখন অনেকেই এই রোগটি নিয়ে কম বেশি জানে।
নুশেরা বলেছেন:
যারা পড়েছেন, মন্তব্য করেছেন, সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ। অটিজম নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে, আরও বাড়ানোর জন্য সুযোগমতো আপনাদের ভূমিকা অন্যের উপকারে আসবে।@ বিবর্তনবাদী-- সুযোগ থাকলে এমন পরীক্ষার সুযোগ নেয়া উচিত এবং আমার মত থাকবে উপযুক্ত ক্ষেত্রে এমন শিশুর জন্ম রোধের পদক্ষেপ নেয়ার পক্ষে। জেনেশুনে একটা মানুষকে ভোগান্তিময় জীবনে না আনাই বোধহয় শ্রেয়। তবে সব দেশে তো এমন পরীক্ষার সুযোগ নেই। আর থাকলেও শতভাগ নিশ্চয়তা মনে হয় নেই। এমন পরীক্ষার ভালো রিপোর্টের পরও শারীরিক-মানসিক উভয় দিক থেকেই চরম প্রতিবন্ধকতার শিকার শিশুর জন্ম হয়েছে, এমন একটা নজির অস্ট্রেলিয়াতে পরিচিত এক বাংলাদেশী পরিবারে দেখলাম, শিশুটির বয়স এখন সাড়ে চার। এবার অটিজম প্রসঙ্গে বলি। মেলবোর্নে স্থানীয় অটিস্টিক স্কুল আর অটিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সাথে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের মায়েরা যারা এই পরীক্ষা করিয়েছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে এটা কোন পূর্বাভাস দেয়নি। অন্যদের কথা জানিনা, আমার সন্তানের সমস্যা শুরু হয় দেড় বছর বয়স থেকে, এর আগে মূলধারার আর দশটা শিশুর সাথে তার কোন পার্থক্য ছিলোনা। তার মস্তিষ্কের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, তাতেও কোন সমস্যা পাওয়া যায়নি।
@সাঈফ শেরিফ-- পোস্ট থেকেই হয়তো খেয়াল করেছেন, আইনস্টাইনের সময়কালে অটিজম টার্মটারই উদ্ভব হয়নি। তবে তাঁর ছোটবেলার ঘটনা আর আচারআচরণ বিশ্লেষণ করে কেউ কেউ এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আবার বিশেষজ্ঞদের সবাই এই মতের সঙ্গে একমতও হননি।
নির্ঝরিনী বলেছেন:
লেখাটা পড়ে চোখে পানি চলে আসলো....তোমার ধৈর্য্য, অসীম শক্ত মানসিকতার জন্য অভিবাদন...এগিয়ে যাও...শুভকামনা।
নীল লাল সবুজ বলেছেন:
ধন্যবাদ। কেমন আছেন? অপনা কেমন আছে? কষ্ট হলেও মাঝে মাঝে অটিজম নিয়ে লিখবেন।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
আসলে মানুষের ডেভেলপমেন্ট তার জন্মের বহু বছর ধরে চলে। জীবনের বিভিন্ন স্টেজে বিভিন্ন রোগের প্রকাশ হয়। হতে পারে তা ৩০ বছর। কিন্তু যদি তার রোগ জেনেটিক হয় তবে তা সনাক্ত করা সম্ভব। শর্ত হল রোগটা সম্পর্কে আমাদের জানা থাকতে হবে। অনেক জেনেটিক ডিজিজ হয়ত তার লক্ষণ দেখে বোঝা যায়, কিন্তু তা জন্মের সনাক্তকরণের সহজ পদ্ধতি আজো পাওয়া যায় নি। এই জন্যই আপাতত আমাদের হাতে থাকা পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না শিশুর অবস্তা কি হতে পারে। তবে হ্যা, কিছু কিছু জেনেটিক ডিজিজ জন্মের আগেই সনাক্ত করা সম্ভব।
এ জাতীয় টেস্ট ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে সমস্যা হল, কেউ কেউ এটাকে অমানবিক আবার কেউ কেউ এটাকে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার উপর হস্তক্ষেপ বলে মনে করেন।
লেখক বলেছেন:
"এ জাতীয় টেস্ট ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে সমস্যা হল, কেউ কেউ এটাকে অমানবিক আবার কেউ কেউ এটাকে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার উপর হস্তক্ষেপ বলে মনে করেন।"
============================================
বাইরে থেকে বড় বড় কথা বলা খুব সহজ। নিত্যদিন যারা নরকযন্ত্রণায় থাকে তাদের ভোগান্তি ক'জন বুঝতে পারে!
আল্লাহ রাখা বলেছেন:
আপা আমি কিন্তু মন্তব্য গুলো আপনার মত করেই জবাব দিছি।আমি জানি এটা কি ,আপনাকে ধন্যবাদ।
Click This Link
লেখক বলেছেন: ব্যাপারটা দু'দিক থেকেই বিবেচনা করা শ্রেয়। বিকলাঙ্গ জড়বুদ্ধি মানুষের কাছে তার নিজের জীবন কতোটা উপভোগ্য? জেনেশুনে একটা মানুষকে ভোগান্তিময় জীবনে না আনাই বোধহয় শ্রেয়। সে তো নিজের ইচ্ছায় জন্ম নামের প্রক্রিয়াটির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেনা।
ব্যক্তিগতভাবে এমন অপশন দেয়া হলে আমি নিজে হয়তো আপনার মতোই যুক্তি দিতাম। কিন্তু এমন কয়েকজন শিশুকে চিনি-জানি যারা প্রতি মুহূর্তে অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করে। আরোগ্যের অতীত তীব্র যন্ত্রণায় দেয়ালে মাথা ঠোকে বারবার। নিজের হাতপা নিজে কামড়ে রক্তাক্ত করে ফেলে। এদের ঘুম আসেনা, গোঙানিও থামেনা। পরিবারের কথা বাদ দিলাম, তাদের নিজের কাছে কেমন লাগে এই বেঁচে থাকা? বলতে পারেনা বলে জানা হয়না। তবে অনুমান করতেও কষ্ট হয়না।
ইউথানাশিয়া বলে একটা ব্যাপার আছে জানেন বোধহয়। বোধবুদ্ধি বাকশক্তি থাকলে এরাও বোধহয় এটা চাইতো।
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
ডঃ লিডি হক এর সাথে পরিচয় হয়েছিল ওনার ছেলের এক্সিবিশন দেখতে গিয়ে ... পরে বাসায় এসে আব্বুর সাথে অনেক ডিসকাশন হয়েছিল এ বিষয়ে , শিশু বিশেষজ্ঞ উনি... জানিনা কোন ডাক্তার এমন কথা বলেছিল......... বাবার কাছ থেকে অনেক কিছুই জানা হয়েছে। পরে একবার স্ট্রিট চিলড্রেন দের শেল্টার হোমস এ কাজ করতে গিয়ে অটিস্টিক এমন ছেলে মেয়েদের দেখেছিলাম ...... যাদের ভাত কাপড়ের নিশ্চয়তা নেই , তারা কিরকম তা সেখানে কোন বিষয় ই না !! অন্যদের ধমক , বাজে ব্যাবহার ...... ধাক্কা......... অস্বচ্ছল, সহায়হীন অটিস্টিক ছেলে মেয়েদের বেড়ে ওঠা খুব বেশি কষ্টের !
আপু , আপনি অনেক রিওয়ার্ডেড হবেন , ইনশাল্লাহ । সৃষ্টিকর্তা যে আমানত দিয়েছেন...... কোনভাবেই তার খেয়ানত হয়নি ...
একজন সৈকত বলেছেন:
এই লেখাটি পড়ে আমি আমার ভিতর নিজেকে আরো "পরিণত" হওয়ার তাগিদ অনুভব করছি। অটিজম নিয়ে আপনার কিছু লেখা আমি বিচ্ছিন্নভাবে আগেও পড়েছি কিন্তু এই লেখাটি পড়ে অনুভব করলাম "মানুষ" হয়ে জন্মানোর মত গুরুভার কিংবা দায়িত্ববোধের মত আর কিছু নেই! মানব জীবন কি নিরন্তর যুদ্ধের অপর নাম?ব্যক্তিগতভাবে আমার বিশ্বাস মানুষের প্রতি পরিপূর্ণ দরদ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে সমাজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারলে খোদার আমানতের হক আদায় করা সম্ভব ইনশাল্লাহ্! খোদা মানুষকে এমন চ্যালেঞ্জ দিতে পারেন না যা অনতিক্রম্য নয় - তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে আরো পরিণত, বাস্তববাদী ও দায়িত্ববান হতে চাই!
আপনার লেখাটি এ ব্যপারে আমার পাথেয় হবে নির্ঘাত। এজন্য ধন্যবাদ!
একটি প্রশ্ন, অটিস্টিক শিশু কিংবা শিশুদের অভিভাবকদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় কি আলাদা প্রতিস্ঠান আছে? জানালে বাধিত থাকবো।
লেখক বলেছেন: অস্ট্রেলিয়ায় আলাদা প্রতিষ্ঠান আছে, এনজিও-ও কাজ করে। তবে অটিস্টিকদের সংখ্যার তুলনায় সব স্টেইটে স্কুলের বা বিশেষজ্ঞের সংখ্যা যথেষ্ট নয়। তাই ওয়েটিং লিস্টে থাকতে হয় অনেকদিন। কোন শিশু অটিজমআক্রান্ত কিনা তা যাচাইয়ের জন্য নানান রকম পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে দীর্ঘসূত্রিতার জটিলতায় পড়তে হয়। অর্থশালীরা, অথবা, আমার মতো যারা এখানকার নাগরিক নন, প্রাইভেট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে অগ্রসর হয়ে প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করেন। এই খরচ অবিশ্বাস্য রকমের বেশী। শুনেছি ব্রিটেন, কানাডা আর আমেরিকায় অবস্থা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে অনেক ভালো।
আকাশচুরি বলেছেন:
আমি খুব কাছ থেকে, আমার কিছু কাছের মানুষের অমানুষিক পরিশ্রম দেখেছি তাদের আদরের বাবুটাকে নিয়ে। আপু আমি তাদের আপনার কথা বলবো, ওঁরা সাহস পাবেন।
অদ্রোহ বলেছেন:
আমার মামাত ভাই অটিস্টিক,মামা মামীর ওকে নিয়ে কি দুঃসহ সংগ্রাম,এ আমার নিজ চোখে দেখা।আপনার লেখা আমার মামাকে পড়তে দেব,ভালো থাকবেন নুশেরাপু।
অপরিচিত_আবির বলেছেন:
অটিজম টার্মটা প্রথম জানি একটা বই পড়ে। এরপর এ মানবমনের রহস্যময় জটিলতাটা নিয়ে পড়াশোনা করে কিছু কিছু জ্ঞান হয়। এরপর যখন দেখি এখনো কিছূ কিছু মানুষ অটিস্টিক বলতেই মানসিক ভারসাম্যহীনতা আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতি প্রতিভাবান ব্যক্তি - তখন বেশ অবাকই হই। তবে বাংলাদেশের মানুষের ব্যাপারে অভিযোগ করে কি লাভ, যে দেশে এখনো হিস্টিরিয়াগ্রস্থ মানুষকে শিক্ষিত(!) ব্যক্তিরাই জ্বীনগ্রস্থ বলে আখ্যায়িত করেন - সেখানে অটিজম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান আমঅ করাটাই বৃথা। আর রেইনম্যান দেখার কুফল স্পর্কে বলব. এখন কোন চুপচাপ কিন্তু ব্রিলিয়ান্ট কোন ছাত্রকে দেখলেই আমার সহপাঠীরা অটিস্টিক বলে অভিহিত করে। টার্মটা ধীরে ধীরে একটা ফান বা গালিতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষিত মানুষেরাও যখন ঠূলি পড়া গরুর মতো আচরণ করেন তখন আর বলার কিছুই থাকে না। আপনার এই স্যাক্রিফাইস আর সংগ্রামের কাহিনী অনেককেই অনুপ্রেরণা দেবে। আপনার জন্য শুভকামনা।
চাচামিঞা বলেছেন:
আর্টিকেলটা পড়ে একটাই কমেন্ট করবো......আপনার মনটা এখনো শিশুর মতোই কোমল।
সহেলী বলেছেন:
নুশেরা তুমি যেমন অটিস্টিক চাইল্ড সম্পর্কে জান , তেমন তোমার জানা উচিৎ বিকৃত রুচির মানুষরাও আছে , সংখ্যায় তারা নগন্য ।
তুমি যে বিচার বিবেচনায় অনেকটাই পরিনত জানি , তাই আশা করি তোমার সব কিছুই সফলার সাথে পার করবে ।
অ:ট: কেমন একটা লেখা পড়তে গিয়ে ভুলেই গেছি আজ বন্ধু দিবস ! দোষ তো তোমার !!!
অনেক অনেক শুভেচ্ছা সুশেরা না কি যেন নাম তোমার ? কেমন আনকমন নাম মনেও থাকে না ঠিক
রোবোট বলেছেন:
আমার নতুন পোস্ট। অস্বস্তিকর মনে হলে ড্রাফট করে ফেলবো। তুমিও এ কমেন্ট টা মুছে ফেলতে পারো। Click This Link
অন্ধ দাঁড়কাক বলেছেন:
আপনার এই লেখা অনেক পিতামাতার জন্য মানসিক শক্তির খোরাক হবে। অনেকের চিন্তা-ভাবনা পাল্টে দিবে অটিজমের প্রতি। আপনার লেখাটা পড়ে অনেকক্ষণ কমেন্ট করতে পারিনি।ভালো থাকবেন।
মাহবুবুল আলম লীংকন বলেছেন:
হাসজারু বলেছেন:
পৃথিবীর অনেক দেশেই অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিশেষ স্কুল আছে। আমাদের দেশেও অবশ্যই থাকা উচিৎ। শুধু মাবাবার পক্ষে শিশুটির দেখাশোনা আসলেই দুঃসাধ্য।আমাদের দেশে পিজির শিশু বিকাশ কেন্দ্র, মহাখালির সাহিক হয়তো কিছু সহায়তা দিতে পারে।
অটিজম জন্মের আগে সনাক্তকরার উপায় এখনও জানা যায়নি। রোগটি ডেভেলপমেনটাল। জেনেটিক ও এনভায়রনমেন্টাল কারনগুল এখনো পরিষ্কার নয়। রোগটি নিউরো-ডেভেলপমেনটাল। শিশুর এক/দেড় বছরের আগে এটি সনাক্তকরা যায়না।
আপু, আপনাকে কিছুই বলার নেই। অটিস্টিক শিশুর একজন সচেতন অভিভাবক হাজার চিকিৎসকের চেয়ে বেশি জানেন। দোয়া করি যেন কখনো মনোবল না হারান..........।
মেহবুবা বলেছেন:
বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা । শরীর ভাল আছে তো ?অপনাকে আমার হয়ে বন্ধুত্বের রাখি বেঁধে দিও ।
তোমার পোষ্ট পড়ে একটা পোষ্ট দিতে ইচ্ছে হচ্ছিল , হয়তো সময়ে কুলোবে না ।
লেখক বলেছেন: তোমার পোস্ট আশা করছি। অপনার ততটা বোধবুদ্ধি হোক, নিশ্চয়ই বুঝবে তুমি ওর মায়ের শুধু না, ওরও কতো কাছের বন্ধু।
~~~~~~~~~~~~~~~~
আপনার বাচ্চার ব্যাপারটা কিছুটা শুনেছিলাম ।
ব্লগীয় কোন আবেগের কথা বলতে ইচ্ছে করছে না ।
শুধু বলতে পারি অনেক মানুষেরই আপনার মতো ধৈর্য হবে না । আপনার সন্তান খুব ভাগ্যবান আপনার মতো মা পেয়েছে।
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন:
নুশেরা লেখাটা পড়ে খুব কষ্ট লাগলো। অটিজম এর জন্য একজন ধর্যশীল মা দরকার। তোমার বাচ্চার কথা জেনে আরো খারাপ লাগছে। ভালোবাসা নিও।
নুশেরা বলেছেন:
সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ, পোস্টটি যত্ন করে পড়ার জন্য, সদয় মন্তব্যের জন্য। সবার মঙ্গল কামনা করি।
টোনা বলেছেন:
আর কি বলবো আপু , কিছু বলার নাই ..... শিক্ষিত মানুষগুলো এইরকম করে বললে বাকিরা কি বলবে ??
একলব্যের পুনর্জন্ম বলেছেন:
আমাদের কালচারাল ডেভেলপমেন্ট এখোনো সে পর্যায়ে যায় নাই আপু ।আপনি এক্সট্রিম অবস্থা গুলো বাদ দেন - আমাদের সাথে একটা মেয়ে আছে কলাভবনে , কোন বিভাগ আমি ঠিক জানি না , মেয়েটার হাইট অনেক কম -- অনেক বেশি কম - বামন বলে মনে হয় এরকম হলে --
তো , তাকে আসতে যেতে সিঁড়িতে , রাস্তায় কিভাবে যে অপমান করা হয় ,দেখলে বিশ্বাস করা যায় না । অথচ এই শারীরিক ত্রুটি নিয়েই সে এতদূর আসছে । তার আলাদা সম্মান প্রাপ্য ।
কিছু বলার নাই ।
লেখক বলেছেন: আমার এক বন্ধু, যার বিধবা মা হাসপাতালে আয়ার কাজ করে দু'টো ছেলেমেয়েকে মানুষ করেছিলেন। মায়ের পেশার কারণে তার সঙ্গে কেউ মিশতে চাইতো না। অথচ তখন আমরা ভার্সিটিতে পড়তাম! আমরা আটজন মেয়ে একসঙ্গে থাকতাম, ওকে আমরা দলে ভিড়িয়ে নিই। আটটা মেয়ের সঙ্গে একটা ছেলে ঘুরছে, এটা নিয়েও অন্য ছেলেরা কতো বিদ্রুপ করতো। কী অসহ্য নিষ্ঠুর আমরা!
শাওন৩৫০৪ বলেছেন:
ভালো থাকেন..
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
জানি এবং বুঝি যে জীবন আপনার সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করেছে। তারপরেও আপনি ধৈর্য ধরে আছেন। হাসি হাসি মুখ নিয়ে থাকেন। মজার পোস্ট যখন দেন তখন ভাবি নুশেরার মন কি বেশি খারাপ? ধৈর্য রাখেন। এই প্রথম আপনাকে রাগ দেখাতে দেখলাম। বুঝি কোথায় লেগেছে।
ভাল থাকেন।
একলব্যের পুনর্জন্ম বলেছেন:
আপু সেটাই । আমরা হাজার বার বললেও এদের আচরণে পরিবর্তন আসবে না -
সাইফুল আকবর খান বলেছেন:
[আপনি ফিরেছেন দেখে ঢুকলাম ভিতরে। প'ড়ে ওইসব নেতিগুলা শুনেদেখে মন খারাপ হ'লো অনেক।
তবে, আপনার আর অপনার গল্পেরও নতুন দৃশ্যগুলো দেখে আরো শ্রদ্ধাবনত হ'লাম। স্যাল্যুট দিয়ে শেষ করতে পারবো না আপনাকে আর আপনার এই স্পিরিটকে। না আপু, কোনো স্বান্ত্বনা দেয়ার জন্য বলছি না, সেই ধৃষ্টতা আমি দেখাবো না। পুরো ব্যাপারটার সাথে আছি, শুধুই ধারণাগত ও মানসিকভাবে হ'লেও। এটা কোনো কাজেই আসে না যদিও, তবু আছি। আপনার মনখারাপগুলো নিয়েও কিছুই বলার সাহস করছি না, কারণ, জানি- সেই কঠিন গভীরতার নাগাল কোনোদিন পাবো না নিছক শব্দসঙ্গে।]
পাথুরে বলেছেন:
নুশেরাবু, খুব কাছ থেকে একজনকে দেখেছি। আমার চেয়ে ৩-৪ বছরের বড়। আমরা একসাথেই খেলতাম গ্রামের বাড়িতে। সামান্য অস্বাভাবিকতা ছিল আচরণে, বাকি সব ঠিক। দিনের পর দিন অবহেলার কারণেই আজ সে সম্পূর্ণ অপ্রকৃতিস্থ। গত বছর বাড়িতে গিয়েছিলম, চিনতে পারল না......
সহেলী বলেছেন:
বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা পাইনি , মনে থাকে যেন !কি কৃপন তুমি , কতটুকু কম পড়তো একটুকরো শুভেচ্ছা দিলে ?
১০০ বছরের আড়ি , দিয়ে আসব বয়ে তোমার বাড়ি ।
লেখক বলেছেন: দাও, আড়িই বোধহয় পাওনা আমার। মনটা খুব এলোমেলো ছিলো...
কঁাকন বলেছেন:
কি বলবো আপু কিছু বলার নেই আসলেঅটিজম নিয়ে আমার নিজেরো অনেক রোমান্টিক ধারনাছিলো ; ধারনা হয়েছিলো হুমায়ুন আহমেদের "কে কথা কয়" বইটা পড়ে পরে সম্ভবত প্রথম আলোতেই একটা আর্টিক্যাল পড়ে ভুলটা ভাঙে আর আপনার লিখাথেকে আরো জানছি
ভালো থাকুন
তবে ডাক্তারের ব্যাবহারে খুব অবাক হলাম এবং কষ্ট পেলাম
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
......................................................................................................
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
নুশেরা তোমার একাগ্রতার জয় হোক........
ভালো থেকো।
সব বাঁধা তুচ্ছ করে।
আমরা সবাই নানারকম যুদ্ধ করে বাঁচছি।
শুভেচ্ছা সবসময়ের।
নুশেরা বলেছেন:
সবাইকে আবারও ধন্যবাদ। সাজির কথাটা খুব সত্যি; আমরা সবাই সারাজীবন নানারকম যুদ্ধ করেই কাটাই। অন্যের দুঃখকষ্টের প্রতি সংবেদনশীল হওয়া অথবা অন্যের স্পর্শকাতর অনুভূতির প্রতি সামান্য সম্মান দেখানো খুব কঠিন কিছু না। এটাই বলতে চেয়েছিলাম। ভালো থাকুন সবাই।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...





















লেখক এই পোস্টে কোন মন্তব্য গ্রহণ করবেন না