somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আশরাফুলের বাজেফর্ম ও উটপামেলার রিপোর্ট B-)B-) (রম্য)

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

করিতেই হইবে ...... আজ একটা হেস্তনেস্ত করিতেই হইবে, দাঁতখানা কিড়মিড় করিতে করিতে ক্রীজের দিকে রওনা দেয় আশরাফুল !!

গত কয়েকদিন ধরিয়া তাহার বাজে ব্যাটিংএর কারন লইয়া বিশাল এক গবেষনা চালাইয়াছে আশরাফুল .... যাবতীয় দোষত্রুটি ধরাইয়া দিতে সাথে ছিলো দীর্ঘদিনের অর্ধাঙ্গিনী উটপামেলা। আশরাফুলের মাঝে মাঝে সন্দেহ হয় , এই সঙ্গিনী কি নারীরুপি পুরুষ কিনা !! পাকিস্তানীগুলার মতো না আবার ধরা খায় কোন সাংবাদিকের কাছে......সেই সন্দেহ প্রকাশ করিতেই উটপামেলা লাস্যময়ী হাস্য দিলো !
বলিলো,''বলোতো,৩১২০৯১৪১৩৬.....এইটা কি ??''
ব্যাগ্রস্বরে আশরাফুল বলিলো,''প্রভাবতির নতুন নাম্বার নাকি?? কোন অ্যাক্টো আছে?? '' ;)
বিরক্তস্বরে উটপামেলা বলিলো,''গর্ধব,এইটা তোমার সর্বশেষ ৬ ওডিআইএর ফলাফল :|....দেখ প্রিয়ে,দিনকে দিন তুমি ডাব্বা মারিতেছ.....কিন্ত আদর্শ ভারতীয় নারীর মত পতিপ্রানা হইয়া আমি তোমাকেই চোষ্য-রুপে ভজি , তাও তোমার সন্দেহ যায় না ?? ...... শুনিয়াছি , অভাব আসিলে ভালোবাসা জানালা দিয়া পলায়ন করে....তোমার কিসের অভাব??? ''
আশারাফুল মন খারাপ করিয়া কহিল,'রানের অভাব '' !!
উটপামেলা বলিল, '' প্রিয়ে,রানের অভাব মিটাইতে তো আমার কাছেই আসো,তদুপরি ভালোবাসা কোথা দিয়া পলায়ন করিলো?? '' :-*
আশরাফুল মেজাজ খারাপ করিয়া বলিলো,'' তুমি কি দেখিতে পাও নাই আমার বাহুসন্ধি,যাহাকে তুমি বগল-সোনা বলো,সেখানে মস্ত একটা ফুটা !! সেই ফুটা দিয়াই তো রান সকল পালাইয়া যাইতেছে , কিছু একটা করো !! '' X(
উটপামেলা তৎক্ষনাত ফুটা বগলে পোজ মারা আশরাফুলের একখানা চিত্র তুলিয়া লইল, বলিল,'' চিন্তা করিয়োনা, কালই পত্রিকায় রানের অভাবের কারন হিসাবে এই ছবি সকলকে দেখানো হইবে!! কি সর্বনাশের কথা !! ফুটা বগলে ব্যাটিং করিলে রান তো পালাইবেই !!! '' :|
আশরাফুল তারপরও নিশ্চিন্ত হইতে পারিলোনা, পত্রিকায় সবাইকেই বগল দেখানোই সার হইলো,সবাই কেশহীন বগলের প্রশংসাও করিলো,কিন্তু রান ব্যাটা এখনও ধরা দিলোনা !! তদুপরি টাক্কু সিডন্স এখন তাকে দল হইতেও ছাঁটাই করিয়াছে !!
বিরসমুখে সে সিডন্সকে বলিলো,'' জীবনেও তো অস্ট্রেলিয়ার জাতীয়দলে ঢুকেন নাই, তা হইলে আমার মত প্রতিভাকে বাদ দিয়া দল ঘোষনা করেন কিভাবে??.....খালি শিখান ব্যাক-লিফট,তা দিয়া আমার হইবেটা কি,শুনি??জানেন ,উটপামেলা বলিয়াছে আমি এই অঞ্চলের সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড়.... সে আপনাকে দেখিয়া লইবে ,বলিয়া দিলাম হ্যাঁ !! ''
সিডন্স ঘ্যানঘ্যানানিতে বিরক্ত হইয়া বলিলো,'' প্রভাবতির সাথে অ্যাক্টো করিতে করিতে পশ্চাৎদেশে যেরুপ চর্বি জমাইয়াছো,ব্যাক-লিফট শিখাইবোনা তো কি শিখাইবো ?? আরে যা যা ..... তোর উটপামেলা কে বলিস ,চোথা মারিয়া কাব্য রচনা করিতে ....... আমার সে ইয়ে করিবে !!! '' বলিয়া একটা খিস্তি করিলেন !!
আশরাফুল এই বার তার মহার্ঘ অস্ত্রটা প্রয়োগ করিবে বলিয়া স্থির করিলো ;),ম্যাচট্যুরের সময় সে সেহওয়াগের সাথে সিডন্সকে দেখিয়াছে টাক মাথায় কেশ উৎপাদনের জন্য ষান্ডার তৈল কিনিতে !!
সে চোখ টিপিয়া বলিলো, '' গতকালের রাতে স্বপ্নে দেখিলাম, আপনি আমাকে খেলিতে সুযোগ দিয়াছেন,সেই ম্যাচে আমি ভালো রান করিলাম ........ আর ...... '' বলিয়া চুপ মারিলো ।

সিডন্স জিজ্ঞাসিলো, '' চুপ মারিলি কেন ?? আর কি?? ''
আশরাফুল বলিলো, '' জানেনই তো.....ফজরের আযানের সময় দেখা স্বপ্ন সত্য হয় !!''
সিডন্স বলিলো,'' তো কি হইয়াছে??আর কি দেখিলি?? ''
আশরাফুল গলা খাঁকারি দিয়া বলিলো,'' দেখিলাম,ভালো রান করিবার সুবাদে খুশিতে আপনার টাকে কেশ গজাইয়াছে !!''
সিডন্স চুপ রহিল, আশরাফুলও বুঝিলো, টাক্কু-মাছ টোপ গিলিয়াছে !
সিডন্স বলিলো,'' আর যদি রান করিতে অসমর্থ হইস,তবে??''
আশরাফুল মনে মনে ভাবিলো, তখন কি আর করা, উইলো-কাষ্ঠ দিয়া নিজের হস্তে আঘাত করিয়া আফসোস করিতে করিতে ফিরিয়া আসিবো .....কিন্ত এই মূহুর্তে তা বলা সমিচীন হইবেনা,তাই সে বলিলো,'' আরে তা হইতেই পারেনা,লাগবা বাজি??? '' B-)
সিডন্স শুনিয়াছিলেন কতিপয় সাংবাদিকের সাথে আশরাফুলের ''বিশেষ সম্পর্কের '' কথা, এই মূহুর্তে আশরাফুলের মুখে ''লাগবা বাজি'' শুনিয়া তাহার ধারনা বদ্ধমূল হইলো, আর বাজি লাগার সাহস পাইলেন না ।

ঐদিকে উটপামেলা কিবোর্ড টিপিয়া অন্তর্জালে তথ্য খুজিয়া বেড়াইতাছে.... আগামীকাল ম্যাচে আশরাফুলকে দলে নেওয়া হইয়াছে!!স্বভাবতই উটপামেলার মনে ঔৎফুল্য আর জন-সাধারনের মনে আশংকা !! এই আশংকা দূরীকরনের নিমিত্তে সকাল সকাল ''অমাবস্যার আলো'' পত্রিকায় একখানা কলাম লিখিতে হইবে,তাই এত তোড়জোড় । খুঁজিয়া খুঁজিয়া আজিজ মার্কেট হইতে সংগৃহীত কবিতার বইখানি বাহির করিলো সে,তারপর প্রাপ্ত তথ্যগুলান সুচারুরুপে বিন্যস্ত করিয়া রিপোর্ট লেখিয়া ছাপিতে পাঠাইয়া দিলো অফিসে .....


.............বাংলার আশার ফুল আজ প্রস্ফুটিত হবেই ...............

কবি বলেছিলেন, মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়,আড়ালে তার সূর্য হাসে...... সুর্যের আলোকে কোন মেঘ দাবিয়ে রাখতে পারেনা, তেমনি বাজেফর্মের যে কালো মেঘ ঘিরে ধরেছিলো বাংলার আশার ফুল কে ,তারও আজ ক্ষমতা নেই আশরাফুলকে ঠেকিয়ে রাখার।গত কিছুদিন বাংলাদেশের সাকিব,মুশফিক,তামিমরা ভালো করে চলেছেন,সেটাই এখন বড় ভরসা নয়।সবাই আশা করে আছেন কবে আশরাফুল মাঠে ফিরবেন।বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম আশরাফুল আজ মাঠে নামছেন,প্রতিপক্ষের বুক তাই আজ ভয়ে দুরুদুরু। বাজে ফর্ম থাকবেই, ব্র্যাডম্যানেরও বাজে সময় কেটেছে,হালের তারকা শচীনও পার করেছেন,আর পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিভাবান আশরাফুল তা কাটাতে পারবেন না ?? তা তো হয়না বাপু... তার প্রতিভা দেখেই স্টিভ ওয়াহ মন্তব্য করেছিলেন,'' ফর্ম ইজ টেম্পোরারী,বাট ক্লাস ইজ পারমানেন্ট '' ,(!!) ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছিলাম টাটেন্ডা টাইবুর কাছে, জিজ্ঞেস করেছিলাম ,আজ তো আশরাফুল নামছে,ডাবল সেঞ্চুরীর রেকর্ড তো করে ফেলবে ,কি বলেন ??? টাটেন্ডা টাইবু মুখে বললেন,''আশরাফুলকে নিয়ে ভাবছিনা,বড়জোর ৫ রান..''.....তবে তার কালো মুখ দেখে বুঝলাম,টাইবু আশরাফুলকে নিয়ে ভয়েই আছেন ....... কবি আরও বলেছেন ...... ..... ..... .... ..... .....

করিতেই হইবে ...... আজ একটা হেস্তনেস্ত করিতেই হইবে, দাঁতখানা কিড়মিড় করিতে করিতে ক্রীজের দিকে রওনা দেয় আশরাফুল !!

ঠিকঠাক গার্ড নিলো আশরাফুল, বল করিতে ছুটিয়া আসিতেছে উতসেয়া ,
''আহ ,ব্যাটা এমন কালো,ফেয়ার এন্ড লাভলি মাখিলে সেই ক্রিমও কালো হইয়া যাইবে '',ভাবিলো আশরাফুল।
কোনমতে প্রথম দুইটা বল ঠেকাইয়া সাহস অর্জন করিলো,তৃতীয় বলটি ফ্লিক করিতেই চার !! বাহ !! ক্রিকেট তো মজার খেলা,ভাবিলো আশরাফুল।কেমন যেন হালকা লাগিতেছে নিজেকে এখন ,বিশেষতঃ নিম্নাঙ্গ!!! প্যাভিলিয়নে বসা সিডন্সকে হাত দেখায়া সাহস দিলো সে।

চতুর্থ বলটিতে মনে পড়িয়া গেল আজ সে গার্ড আর আন্ডু ছাড়াই খেলিতে নামিয়াছে ..... সর্বনাশ ,লাঞ্চ হইতেও দেরি আছে :((!!!!!! বিপদে নাকি বুদ্ধিমানেরা অর্ধেক ত্যাগ করে,তাই সে মুল্যবান নিম্নাঙ্গ বাচাঁনোর নিমিত্তে পশ্চাৎদেশ পিছনে ঠেলিয়া বলটিকে লেট-কাট করা সাব্যস্ত করিলো , ফলাফল আর বলার অপেক্ষা রাখে না , কেননা ততক্ষনে ক্যামেরায় দেখা যাইতেছে, আশরাফুল সজোরে উইলো-কাষ্ঠ দ্বারা নিজ-হস্তে আঘাত করিয়া উল্টাদিকে হাটিতেছে । :|





( অমাবস্যার আলোর রিপোর্ট : ভালো খেলা শুরু করেও আউট হলেন আশার ফুল, হাতে ইনজুরির কারনে তাকে পরবর্তী ম্যাচে না খেলানোর .... )




বি.দ্র. সিডন্স ও আশরাফুল বাদে সকল চরিত্র ও পুরো ঘটনা কাল্পনিক । কেউ আন্দাজ করিতে পারিলে তাহা ব্লগতালীয় বলিয়া বিবেচ্য হইবে।সম্পুর্ন বিষয় রম্য বলিয়া ধরিয়া নিতে হইবে, অন্যথায় মাইনাস প্রদানের জন্য তাহাকে আশরাফুল উপাধি প্রদান করা হইবে । B-)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১১
৩২টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×