somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবই ভ্রম-ওরা বলে,গোলাপী বলে কিছু নেই !!

১০ ই মার্চ, ২০১২ রাত ৯:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গোলাপী ম্যাডামকে চেনেন না,এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর।আর নিয়মিত টিভি অথবা পত্রিকা দেখলে স্তন ক্যান্সারের প্রতীক হিসেবে দেখানো 'গোলাপী রিবন'-ও আপনাদের দেখে থাকার কথা। টসটসে গোলাপী ঠোট বানানোর জন্য ঘষা লিপস্টিক আর ত্বক গোলাপী আভায় উজ্জ্বল করে তোলার জন্য মাখা ফেয়ার এন্ড লাভলীও আপনারা সবাই চেনেন।
মোদ্দা কথা-মেয়েদের ক্ষেত্রে গোলাপী রংটা একটা সিম্বল।




এখন যদি বলা হয়,গোলাপী রংয়ের কোনো অস্তিত্ব এই পৃথিবীতে নেই -সবটাই আপনার উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনা,তাহলে?

ভিমড়ি খাবেন না,মারতেও আসবেন না আশা করি।বাধ্য ছেলেমেয়ের মত চুপ করে আমার লেখা পড়তে থাকুন।ব্যাখ্যা করছি।
বিজ্ঞানীরা কিছুদিন আগেই প্লুটোকে গ্রহের তালিকা হতে ভাগিয়েছেন।এখন তাদের নজর পড়েছে গোলাপী রংয়ের দিকে।লিজ এলিয়ট এবং এনপিআর অর্গানাইজেশনের রবার্ট ক্রালউইচ সবাইকে জানাচ্ছেন কেন গোলাপি/পিংক/ম্যাজেন্টা কোনো রং নয়।এই নিয়ে ভালোই একটা তোলপাড় পড়ে গেছে।

আপনাকে যদি বলি রং কি ? আপনার উত্তর কি হবে ? রংয়ের সংজ্ঞা অনুযায়ী-The property possessed by an object of producing different sensations on the eye as a result of the way it reflects or emits light. ((অক্সফোর্ড)
লক্ষ্য করুন,আলো একটি শক্তি যাকে অনুভব করতে পারবেন এবং অবশ্যই এর কোনো রং নেই ।যা ঘটে,তা হচ্ছে বিভিন্ন ওয়েভলেংথ বা তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনুযায়ী আপনি বিভিন্ন রংয়ের আলো দেখতে পারবেন।নিশ্চয়ই নবম-দশম শ্রেনীতে পড়ার সময় বেনীআসহকলা ইত্যকার বিভিন্ন কলা পড়েছেন ? আরেকবার দেখি।

খেয়াল করুন,এখানে কোথাও আপনার প্রিয় গোলাপী বেগম কে দেখতে পাচ্ছেন ? কি আশ্চর্য! আমিও পাচ্ছিনা !

গোলাপি রং কিভাবে তৈরী হয় ? এটি হলো লাল আর বেগুনী রংয়ের মিশ্রন।(কেউ যদি বলে থাকেন লালের সাথে সাদা রং মেশালে গোলাপী হয়,এক্সকিউজ মি- সাদা রং কোনো মৌলিক রং নয়।) এখন রঙধনুটির ছবিতে লালের আর বেগুনীর অবস্থান খেয়াল করুন।লাল রংয়ের আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচে লম্বা ,অন্যদিকে বেগুনীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে ছোট।এখন আপনাকে যদি গোলাপী বেগম-কে তৈরী করতে হয়,তাহলে লাল আর বেগুনীর মিশ্রন ঘটাতে হবে।সেক্ষেত্রে রঙধনুটিকে পুরোপুরি বাকিঁয়ে একসাথে মেলাতে হবে ।
তাই না ?

আসুন একটি পরীক্ষা করি।নিচের ছবিটির গোলাপী বিন্দুর দিকে ৪৫ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন।তারপর ছবিটির সাদা অংশে চোখ ফেরান।কি রংয়ের বিন্দু দেখতে পাচ্ছেন ? সবুজ ?


বিষয় কি ? এটাকে বলা হয় আফটার ইমেজ।আফটার ইমেজ কেন দরকারী ? কারন আফটার ইমেজ সবসময়ই কোনো একটি রংয়ের সম্পূরক রং (উল্টো রং) তৈরী করে দেখায়,মানে লাল রংয়ের উল্টোটি হলো নীলাভ সবুজ ।
দাঁড়ান দাঁড়ান.... লালের সম্পূরক তো বইতে পড়েছিলেন সবুজ,তাই না ? আমি বলছি নীলাভ সবুজ।দেখুন তবে-


মিলেছে?
সব রংয়েরই সম্পূরক একটি রং থাকবে-হলুদের জন্য বেগুনী,কমলার জন্য নীল, ইত্যাদি।কিন্তু ব্যাতিক্রম হলো সবুজ যা আপনার ঐ গোলাপী বেগম এখানে এনে হাজির করেছে।(সম্পুরক রং বোঝার জন্য কালারহুইল দেখুন। )
সবুজের কোনো সম্পূরক রং নেই ,কিন্তু গোলাপী রংটি উপরের পরীক্ষায় দেখলেন সবুজ এনে হাজির করছে।অথচ স্পেক্ট্রামব্যান্ড বা তরঙ্গবারে গোলাপী নেই।এটা কিভাবে এসে হাজির হচ্ছে ?

আপনি জানেন,আলোকতরঙ্গ তৈরী হয় বিভিন্ন দৈর্ঘের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন দিয়ে।এদের দৈর্ঘ্যের মাঝে সবচে লম্বা হলো লাল রংয়ের আলোর আর সবচে ছোট তরঙদৈর্ঘ্যের মালিক হলো বেগুনী।বাকী সব দৃশ্যমান রংয়ের আলো এই 'সবচে বড়-সবচে ছোট ' দৈর্ঘ্যের তালিকায় থাকে।
আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন,অদৃশ্যমান আলো আবার কি জিনিস? আপনি নিশ্চয়ই এক্সরে/গামা রে/ ইনফ্রারেড রে/আল্ট্রাভায়োলেট রে-এদের নাম শুনেছেন।এরা হলো অদৃশ্যমান আলো যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য মানব চোখে ধরা পড়েনা,সুতরাং এরুপ নামকরন। নিচের চিত্রটি দেখুন,তাহলে বিভিন্ন প্রানীর জন্য দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রেঞ্জ বা সীমা জানতে পারবেন।


আমরা যাকে রং বলছি,তা আসলে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো যা আমাদের চোখের রেটিনায় এসে আঘাত করছে।প্রতিটা রংয়ের নিজস্ব তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে এবং ঐসব তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে আমাদের মস্তিষ্ক বিন্যস্ত করে ভিজুয়াল ডিসপ্লে হিসেবে উপস্থাপন করে-সুতরাং আমরা নির্দিষ্ট রংটি দেখতে পাই।

মানে কি ? রংয়ের ধারনা আসলে আমাদের মগজে অবস্থান করে।আলো মহাশয় তো শুধু বস্তু থেকে নির্গত হয়ে আমাদের চোখে এসে পড়ছেন এবং বস্তু ভেদে প্রতিফলিত অথবা নির্গত হচ্ছেন।এখনে রাজামশাই হলেন আমাদের মগজ/ব্রেইন,যিনি প্রসেসিং করে নির্ধারন করছেন কোন রংয়ের আলো দেখছি।

এখন এমন যদি হয়,দুটি ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো চোখে এসে পড়ছে তখন ? সেইক্ষেত্রে ব্রেইন বাবাজি তার কাছে এসে পৌছানো ভিন্ন ভিন্ন আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের যোগফলের ভিত্তিতে নির্ধারন করবে-আউটপুট রংয়ের ভিজুয়াল ডিসপ্লে কি হবে। যেমন লাল আর নীল রংয়ের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর মিশ্রনে ব্রেইন উৎপাদন করবে হলুদ রংয়ের আলো। (খেয়াল করুন,হলুদ রংয়ের আলোর অবস্থান কিন্তু রংধনুর চিত্রের মাঝামাঝিতে আছে )


এখন যদি এমন হয়,এমন দুটি ভিন্ন ওয়েভলেংথ বা তরঙদৈর্ঘ্যের আলো আমাদের চোখে এসে পড়ছে,যাদের অবস্থান রংধনুর ঠিক দুই প্রান্তে ? ( লাল আর বেগুনী)।
এইক্ষেত্রে ব্রেইন বাবাজির ঠিক দুটি কাজ করার অপশন থাকে।

ক.- রংধনুর ঠিক মাঝের রংটি বেছে নেয়া।এইক্ষেত্রে লাল আর বেগুনীর মিশ্রনে তৈরী হবার কথা সবুজ রং (চিত্র)।কিন্তু আপনি নিজেই লাল রং আর বেগুনী রং মিশিয়ে সবুজ পাবেন না। পরীক্ষা প্রার্থনীয়।

খ.-এদের মধ্যবর্তী সম্পূর্ন আলাদা একটি রং আবিষ্কার করা ।

ব্রেইন ঠিক এই কাজটি করছে,আলোকতরঙ্গের দুই প্রান্তের দুই রংয়ের মাঝে একটি কাল্পনিক রং তৈরী করে শুন্যস্থানটি পূরন করছে।কেননা স্পেক্ট্রামে গোলাপীর কোনো অস্তিত্বই নেই,গোলাপী রংয়ের কোনো তরঙ্গদৈর্ঘ্য জানা নেই। এবার একটি ভিডিও দেখুন।পুরোপুরি বুঝে ফেলবেন এইবারে !!



স্যার আইজ্যাক নিউটন নিজেও গোলাপী বেগমকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।প্রিজম নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটির সময় তিনি গোলাপীকে না পেয়ে হতাশ হয়েছিলেন।তখন তিনি করলেন কি ,প্রিজমে প্রাপ্ত লাল রংয়ের আলোর উপরে নীল আলো ফেলে দেখলেন- গোলাপী বেগম হাজির ,কিন্তু সাদা রংয়ের আলোর প্রিজম বিশ্লেষনে দিব্যি 'গোলাপী বেগম'' উধাও !




সাথে কিছু অপটিকাল ইল্যুশন দিয়ে যাই।
নিচের ইমেজটিতে ছুটন্ত গোলাপী ডটগুলোর মাঝের ক্রসটির দিকে তাকিয়ে থাকুন,তাকিয়ে থাকুন,তাকিয়ে থাকুন...... সবুজ হয়ে গেলো কি ? আহারে !


তবে আরেকটি দেখাই -
ডটটির দিকে তাকিয়ে থাকুন,তাকিয়ে থাকুন..... ওকি ! সব গোলাপী মিলিয়ে গেলো ? আবারও আফসোস !

সুতরাং - হে গোলাপী রংয়ের জন্য লালায়িত লুল এবং আমার ভগিনীরা,দুঃখের সাথে আপনাদের জানাচ্ছি-গোলাপী রং বলতে কিছু নেই ,সব আপনাদের মনের কল্পনা,মস্তিষ্কের সৃষ্টি করা একটি অলীক রং।মিছেমিছি গোলাপী রংয়ের চামড়া বাননো,গোলাপি রংয়ের কাপড় কেনার জন্য ঘ্যানঘ্যান করবেন না।

সুতরাং গোলাপীর পিছনে না ছুটে লাল রং অথবা লাল অন্য কিছুর পিছনে ছুটুন।কাজে লাগার কথা,বৈকি!
___________________________________________________________

সংযুক্তি:
@একই সাথে নিজস্ব ব্লগস্পটে প্রকাশিত।
@ View this link
সুত্র-১-বায়োটেল এবং সুত্র-২-ডেইলী মেইল
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১২ রাত ৯:৩৪
১৫১টি মন্তব্য ১৫০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুপ্রিয় কবি নীলপরির "মহিয়সী" কবিতার অনুভবে

লিখেছেন ভ্রমরের ডানা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৪৭




ভ্রমরের ডানা

আর তাকেও বলা যায় নক্ষত্র বলাকা পাখা~
হিম হিম বাতাস যার ভালবাসা মধু মাখা..
যে ছুঁয়ে গেছে রহস্যাবৃত উষ্ণসাগর ঘেঁষে
মিহিদানা মিহি প্রেম বালুকা বেলার দেশে...
উত্তর থেকে দক্ষিণ বলয় কোলে..
প্রকাণ্ড সুনামি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একরাত থাকা যাক সুইডেনের আরলান্ডা বিমানবন্দরে, হোটেল যখন বিশালাকার বোয়িং ৭৪৭-২০০ জাম্বো জেট

লিখেছেন মাহবুবুল আজাদ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:২৬




সুইডেনের আরলান্ডা বিমানবন্দর, অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা হতে পারে যে কারো জন্য। এখানে একরাত কাটাতে পারেন ইচ্ছে করলে বিশালাকার বোয়িং ৭৪৭-২০০ বিমানের মধ্যে, আকাশে উড়তে হবেনা্‌ মাটিতেই থাকবে। এটা বিমানবন্দরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অস্তিত্ব

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৩৯

সন্ধ্যার বেশ কিছু সময় পরের কথা, সারা দিনের খাটাখাটনির পরে বাসে করে বাসায় ফিরছি। সকাল ৭ টায় বের হয়ে বাসায় ফিরছি প্রায় রাত ১০ টার কিছু পরে।

মাঝখানে তিনবার হালকা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি ক্ষুদ্র সাফল্যঃ

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২০ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৮:১৪

আমাদের মধ্যে হয়তো এমন অনেকেই আছেন, যারা মাঝে মধ্যে একটু আধটু কিংবা নিয়মিতভাবেই ইংরেজীতেও লেখালেখি করে থাকেন। ইংরেজীতে মাঝে মধ্যে দু’চারটে কবিতাও লিখেছেন, স্রেফ মনের ইচ্ছের কারণেই, এমনও হয়তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রকৃতার্থ...

লিখেছেন কথাকথিকেথিকথন, ২০ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৭


আমি কী হারিয়ে যাচ্ছি ? দিনের পর দিন বাড়ছে দেহ ভস্মের ঘ্রাণ। বৃষ্টির জলে আঁকাবাঁকা পথে ভেসে যায় সদ্য ঝরে পড়া ফুল। আমি তার পথ ধরে মিশে যাই জলস্রোতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×