somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার চলচ্চিত্র দর্শন-ভালোবাসার রং

১০ ই অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিত্যিদিন গিন্নির অনলবর্ষী বাক্যমালায় জর্জরিত হইতেছিলাম।মুক্তির উপায় খুঁজিতে খুঁজিতে বাটী হইতে নিস্ক্রান্ত হইলাম।
''হে প্রভু,আমার গিন্নীর মাঝে সেই আগের ভালোবাসার যৎকিঞ্চিত রঙ ফিরাইয়া না দিলে তো আর চলিতেছে না!বকাঝকা আর কত!''আকাশপানে প্রভুকে খুঁজিতে গিয়া দৃষ্টি আটকাইয়া গেলো বিলবোর্ডে!গাঢ় টকটকে রক্তবর্নের ''ভালোবাসার রঙ'' নামক নতুন চলচ্চিত্রে আকাশ ঢাকিয়া গিয়াছে,প্রভু পর্যন্ত হয়তো দোয়ার সিগন্যাল পৌঁছাইতেছে না।এমন উদ্ভিন্নযৌবনা বিলবোর্ডে সিগন্যাল আটকানো অস্বাভাবিক কিছু নহে।এতক্ষনে আশেপাশের সব লোক উপরের দিকে তাকাইয়া কেন হাটিতেছে,তাহার কিছুটা মর্মার্থ অনুধাবন করা গেলো।


ছোটভাইকে দেখিলাম হাঁ করিয়া ভালোবাসার রঙ গিলিতেছে।গলা খাঁকারি দিয়া বলিলাম,''এখন কয়টা বাজে?''।সে উত্তর দিলো,''নেক্সট শো ১২টায়''।
মুচকি হাসিলাম।ছোটভাই দুদ্দাড় করিয়া রিকসা ভাড়া করিয়া ফেলিলো।তাহার কর্মতৎপরতায় মুগ্ধ হইয়া পিঠ চাপড়াইয়া দিলাম।আড়চোখে দেখি রিকশাওয়ালাও বিলবোর্ড দেখিতেছে।

যথাসময়ে প্রেক্ষাগৃহে চলিয়া আসিলাম।নিজ নিজ আসনে উপবিষ্ট হইতেই জাতীয় সঙ্গীত বাজিলো,পেছনে দুইজন দুইজন করিয়া চার দলীয় ঐক্যজোটের মহাসমাবেশ দেখা গেলো।জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের পরও তাহাদের অধিবেশন মুলতুবির কোনো লক্ষন দেখিলাম না।গনতান্ত্রিক অধিকার!

ছবি শুরু হইলো,ঝকঝকা প্রিন্ট দেখিয়াই শুরুতেই আহলাদিত হইলাম।পুকুরপারে থ্রি প্যাকের অধিকারীনি কয়েকজন মহিলা অন্যান্য পুরুষের সাথে রগড় করিতেছিলো।এমন অবস্থায় নায়ক বাপ্পীর ঝাঁপ মারিয়া পুকুরে প্রবেশ।চেহারায় শাকিব খানের সৌন্দর্য্য অথচ অভিনয়ে অনন্ত জলিলের সাবলীলতার অপূর্ব মেলবন্ধন।আলীরাজের পুত্র বাপ্পী পাড়ার সবচাইতে দুষ্ট লোক হিসেবে পরিচিত,উনি এর বাড়ির মুরগী চুরি করেন,ওর বাড়ির চল্লিশোর্ধ্ব কিশোরী মহিলার বিবাহে ভাঙ্গানি দেন।এই গ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজ্জাক। কেহ কহিয়া না দিলেও তপোবন বলিয়া বোধ হইতেছে,সুতরাং আগেভাগেই আঁচ করিলাম,রাজ্জাকের নাম হইবে চৌধুরী সাহেব।হইলোও তাই।

চৌধুরী সাহেব রাজ্জাকের নাতনি হইলেন মাহিয়া মাহী।গান না শুনিয়া স্নান করিতে পারেন না দাবী করিলেও স্নানের বালাই দেখিলাম না,উনি বাথটাব হইতেই নৃত্য করিতে করিতে বারান্দায় হাজির হইলেন,ব্যাকগ্রাউন্ডে শাকিরা হাজির হইলো,লুল দর্শকের চাহিদা মিটাইতে নায়িকা শাকিরার অনুরুপে কোমর বাকাইলেন।আমি নড়িয়াচড়িয়া বসিলাম।এবং বাপ্পির সাথে তাহার দেখা হইয়া গেলো।নায়কনায়িকার দেখা হইয়াছে,একখানা প্রেম হইয়া যাওয়া ছবির জন্য আবশ্যক এবং তাহাও হইলো।একতরফাভাবেই বাপ্পী প্রেমে পড়িলেন।প্রেমে পড়িলে নায়িকাকে বাচাঁনোই নিয়ম,সুতরাং গ্রাম পরিদর্শনে বাহির হওয়া নায়িকা মাহী অবশ্যম্ভাবীরুপেই বিপদে পড়িলেন।বিপদে বলাটা ভুল হইবে,খাদে পড়িলেন।খাদের কিনারায় উনি খানকতক ঘাস ধরিয়া ঝুলিয়া ছটফট করিতে লাগিলেন।ছোটভাই চিন্তিত হইয়া বলিলো,''এইভাবে ঘাস ধরিয়া ছটফট করিলে ঘাস ছিড়িয়া নায়িকা পড়িয়া যাইবে তো''! আমিও নায়িকার জীবনের চাইতে ঘাস লইয়া চিন্তিত হইয়া গেলাম।
নায়িকার বাচিঁয়া গেলো।তবে প্রেমের পরীক্ষায় আজকাল জীবন বাচাঁইলে হয়না।বাসাবাড়ি হইতে টেপরেকর্ডার আর দাদুর ছড়িও চুরি করিতে হয়,সুতরাং নায়ক ইটালিয়ান জব পাইয়া গেলো।টেপরেকর্ডার চুরি করিতে গিয়া উনি প্রায় ধরা পড়িতেছিলেন,পশ্চাৎদেশ উচুঁ করিয়া লুকাইলেন খড়ের গাদার ভিতরে।নায়িকার চাচারা আসিয়া ''নায়ক এইখানে লুকাইয়া আছে'' ভাবিয়া খড়ের গাদায় বল্লম চালনা করিলো।আমার পাশাপাশি হলের অনেক দর্শকই হাসি শুরু করিলো এই ভাবিয়া যে,উপুড় হইয়া থাকা নায়কের পাছায় বল্লমের খোঁচা মারিয়াছে!কিন্তু সকল দর্শককে নির্বাক বানাইয়া খড়ের গাদা হইতে নায়ক পেট চাপিয়া বাহির হইলেন।

পেট হইতে রক্তক্ষরন দেখিয়া নায়িকা অনুতপ্ত হইলেন এবং প্রেম দিতে মনস্থির করিলেন।সুতরাং একখানা গানাবাজানা হইয়া যাওয়া ফরজ।ফরজ আদায় হইয়া যাওয়ার পরপরই আমরা জানিতে পারিলাম,এই মাহি আসলে চৌধুরী সাহেব রাজ্জাকের আসল নাতনী না।উনি হাজার কোটি টাকা মূল্যের 'ফারিয়া গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ' এর ভবিষ্যত উত্তরাধিকারীনি!বয়স আঠারো হইলেই সব উনার মালিকানা।হুট করিয়া আমাদের নিয়া যাওয়া হইলো হাসপাতালে,সেইখানে বেত্তমিজ এক ডাক্তারকে দেখা গেলো এক রোগীর পালস দেখিতেছেন হলটার মনিটরিং দিয়া।পরিচালক সাহেব বিশাল জ্ঞানের আকর,তাই জনতাকে ভোদাই মনে করিয়া হলটার মনিটরিংকে বানাইয়া দিয়াছে শক দেয়ার মেশিন,ইহাতে মানুষের মন নিয়ন্ত্রন করা যায়!
ছোটভাই বলিলো,''একি!''
আমি বলিলাম,''একটিকেটে দুই ছবি দেখিয়া ল।হলিউড হইতে আমদানীকৃত সাইফাই মেশিন ও কাহিনীমালা।''।ছোটভাই সম্ভবত রোগনির্নয়ের যন্ত্রের এরুপ অপব্যবহার দেখিয়া শোকাচ্ছন্ন,কথাই বলিতে পারিতেছেনা।
সেই শক দেয়ার মেশিনের শক (!) খাইয়া রোগী কাতরাইতাছে,সমগ্র হাসপাতালে এক হৃদয়স্পর্শী নারকীয় পরিবেশ।বাম হস্তে চক্ষু মুছিলাম।দর্শকেরা নিষ্ঠুর হইয়া হাসিতেছে। একসময়ের অশ্লীল নর্তকী এবং এইযুগের ডাক্তার নাসরীন খবর পাইলেন,ফারিয়া(মাহী) শক মেশিনের থেরাপি খাইবার পরও বাঁচিয়া আছে।উনি সাথে সাথে মিজু আহমেদকে খবর দিলেন।মিজু আহমেদ খুনী অমিত হাসানকে ভাড়া করিলেন।

অমিত হাসান লিভারের রোগী।উনার লিভার চিকিৎসার টাকা লইয়া ভাগিয়া গিয়াছে তাহার ছোটভাই আসিফ।লিভারের চিকিৎসায় উনি নিয়মিত ব্যথায় কাতরান,সেই বেদনা কমিয়া যায় ডিব্বা হইতে একখানা মাল্টিভিটামিন বড়ি সেবন করিলে।লিভারের রোগের এরুপ চিকিৎসা দেখিয়া আমি মুগ্ধ হইলাম।যাক,দেশ চিকিৎসাসেবায় শুধু হার্বাল ও ধুর্বাল লিমিটেড কোম্পানিতে আটকাইয়া থাকিতেছেনা।উহা এখন এফডিসি হইতেও নিয়ন্ত্রিত হইতেছে।অকাটমুর্খ পরিচালক খালি মাল্টিভিটামিনেই লিভারের চিকিৎসা থামান নাই,লিভার রোগী বিশ্বাসযোগ্য করিবার নিমিত্তে মাঝে মাঝে অমিত হাসানের গলা দিয়া পানিও বাহির করাইয়া দেখাইয়াছেন।নিশ্চিতভাবেই লিভাররোগী হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করাইবার এই টোটকাতে কাজ হইয়াছে,কেননা আমার পাশের ভদ্রলোক বারবার বলিতেছিলেন,''আহারে!আহারে!লিভারের পানি বাহির হইয়া গেছে!মারা যাইবে!আহারে!''।মহা মুসিবত!

অমিত হাসান মাহী ওরফে ফারিয়াকে তুলিয়া নিয়া যাইবার জন্য চৌধুরীসাহেবের বাসায় হাজির হইলেন।চৌধুরীসাহেবের দোনলা বন্দুক অমিত হাসানের শটগানের সামনে টিকিতে পারিলোনা।স্ক্রিপ্ট ফুরাইয়াছে,সুতরাং রাজ্জাকের ভবলীলা সাঙ্গ হইলো।নায়িকা গিয়া পালাইলেন নায়কের বাসায়।নায়কের পিতা আলীরাজ নায়ককে নীলগিরির খামার বাড়ি নামক পোড়াগৃহে পালাইতে বলিলেন।নায়ক ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে হিসেব করিয়া বাহির করিলেন,মাহীর ১৮ বছর পূর্ন হইতে আর মাত্র সাতদিন বাকি আছে,কোনোভাবে এই সাতদিন কাটাইতে পারিলেই সম্পত্তি নায়িকার হাতে চলিয়া আসিবে।

সুতরাং তাহারা নীলগিড়ির জঙ্গলে রওনা দিলেন।কপাল মন্দ হইলে যা হয়,সেইখানেও অমিত হাসানের চ্যালারা ওঁত পাতিয়া ছিলো।লোকে ভাবে এক আর হয় আরেক,চ্যালারা তাহাদিগকে ধৃত করিবার পূর্বেই তাহারা আগে হইতেই খনন করিয়া রাখা ডোবায় গিয়া লুকাইলেন।ভিলেনরা তাহাদের ডোবার আশেপাশে খুঁজিলো,কিন্তু পাইলোনা।যখন পাইলো তখন তাহারা আবার আরেকখানা খনন করিয়া রাখা ডোবায় লুকাইলেন।ক্রমাগত একেরপর এক ডোবা খুঁজিয়া পাইতে লাগিলো নায়ক নায়িকা আর সেইখানে ঘাপটি মারিয়া ভিলেনদের এড়াইতে লাগিলো।দর্শকেরা ডোবার উপরেই বিরক্ত হইয়া উঠিলো।নায়কও সম্ভবত ক্রমাগত ডোবায় লুাইতে লুকাইতে বিরক্ত হইয়া গিয়াছিলো,তাই সে নায়িকাকে বলিলো,''এই জঙ্গলে খেলাধুলা করবে আমার শিশু,আমি আর লুকাইয়া থাকবোনা...যারা অন্যায় করে,আল্লাহ তাদের নিজেই শাস্তি দেন.....মিত্যুও তুমাকে আলাদা করতে পারবেনা.... '' ইত্যকার আলিফলায়লা ওয়া লায়লাদেশীয় ডায়লগবাজি।এমতাবস্থায় সম্মুখযুদ্ধে গমনরত নায়ককে শেষবারের মত ডাকিলো নায়িকা,''শুনিয়া যাও''।হলের দর্শকদের সাথে আমিও নড়িয়াচড়িয়া বসিলাম,ফ্রেঞ্চদেশীয় চুম্বন হইবে হইবে ভাব।সকলের চক্ষু চকচক করিতেছে,দুয়েকজন উৎসাহী হইয়া শিষ মারিতেছে.....নায়িকা নায়ককে মুখের সামনে ডকিয়া বলিলো,''ফি আমানিল্লাহ!''।
এরুপ সম্ভাষনের জন্য কেহই সম্ভবত প্রস্তুত ছিলোনা,সুতরাং শিষ বন্ধ হইয়া খিস্তি শুরু হইয়া গেলো।

ইতমধ্যে কাদামাটিজল অনেকদূর গড়াইয়া গিয়াছে।লিভাররোগীর টাকা মারিয়া দেয়া আসিফ সেই গভীর বনে আইটেম গানে অংশগ্রহন করিয়া যেইভাবে গৃহে ফিরিতেছিলেন,মনে হইলো জঙ্গলে আজকাল চাহিলেই ড্যান্স ফ্লোর পাওয়া যায়।খরচা একটু বাড়াইলে নর্তকী,পরিচালক সায় দিলে নর্তকীর সাথে হাজারো নর্তকও।গৃহে ফিরিবার পথে উনি বড়ভাই অমিত দ্বারা ধৃত হইলেন এবং আইটেম গানে সময় দেয়ার কৃতজ্ঞতাস্বরুপ উনিও বাধ্যতামূলক মৃত্যুবরন করিলেন।অমিত হাসান আসিফের টাকা আদায় করিয়া চলিয়া যাইবার সময় লুকাইয়া থাকা নায়িকা 'উহ' করিয়া উঠিলেন এবং ধরা পড়িলেন।তারপর বেশ কিছুক্ষন নায়কের সাথে ভিলেনের যুদ্ধ হইলো।স্ক্রিপ্ট শেষ হইয়া যাওয়ায় পাশের জঙ্গলের কোনায় মিজু আহমেদ,কামাল আর নাসরীনের নিজেদের মাঝে ফ্রেন্ডলি ফায়ার হইলো এবং সাফল্যর সাথে মিজু বাদে বাকিরা পটল তুলিলেন।ছবির বাজেট এইভাবে কমাইয়া আনায় আমি মন হইতে শাহীন সুমনকে স্যালুট ঠুকিলাম।

ছবি শেষের দিকে,অমিত হাসান মুখোমুখি হইয়াছেন নায়কের।পরিচালক সম্ভবত অজাতশ্মশ্রু বাপ্পিকে দিয়া অমিত হাসানের শটগানের মুখোমুখি করিতে ভয় পাইতেছিলেন,তাই বাংলা পুলিশভাই টু দ্যা রেসকিউ।পুলিশ অমিত হাসানের পিস্তল কাড়িয়া লইলো।অমিত হাসান আহলাদের সাথে তাহার পিস্তল ফিরাইয়া দিতে কাকুতি মিনতি করিলেন।ইহাতেও কাজ না হওয়ায় উনি নিজেই পিস্তল কাড়িয়া লইয়া পুনর্বার চুক্তি বিবেচনার আহবান জানাইয়া বলিলেন,''পালাবার দে,আমারে পালাবার দে''।তাহার এমন আবদারে কাহারো মন গলিলোনা।আমি আর আমার আমার ছোটভাই চিন্তা করিতে থাকিলাম-পুলিশ নিরস্ত্র,নায়ক নায়িকাও তাই....অমিত হাসানের হাতেও পিস্তল!অমিত হাসান মরিবে কিভাবে?

আমাদের বিশেষ চিন্তা করিতে হইলোনা।শাহীন সুমনের কুদরতি পরিচালনায় শেষ মুহুর্তেই অমিত হাসানের লিভারের বেদনা উঠিলো।উনি তাড়াহুড়া করিয়া মাল্টিভিটামিনের ডিব্বা বাহির করিতে গেলেন।নায়িকা সেই ডিব্বা ছিনাইয়া লইয়া দিলেন নায়করে,নায়ক দিলেন পুলিশরে,পুলিশ দিলেন নায়িকারে,নায়িকা দিলেন..... দুষ্টচক্র!অতঃপর নায়ক সেই মাল্টিভিটামিনের বড়ি পা দিয়া পিষিয়া ফেলিলেন।অমিত হাসান লুটাইয়া পড়িলেন,গলা দিয়া আবারও পানি বাহির হইলো।আমি পাশের ভদ্রলোককে বিড়বিড় করিতে শুনিলাম,''আহারে!আহারে!লিভারের পানি বাহির হইয়া গেছে!আহারে!আহারে!''

ছবি শেষ হইলো।আমিও পজিটিভ বিষয় নিয়া ভাবিতে লাগিলাম।

*সময়ানুবর্তিতা।রাজ্জাক বলেন অথবা মিজু আহমেদই বলেন,আসিফ বলেন অথবা নাসরীন বলেন,কামাল বলেন অথবা নায়িকার পিতামাতা-স্ক্রিপ্ট শেষ হইয়া যাওয়ার সাথে সাথে সবাই মৃত্যুবরন করিয়াছে।বাস্তব না অবাস্তব উপায়ে,তাহা ধর্তব্য নহে।
*সম্ভবত পরিচালকের একসময় ভ্যানিশিং ক্রিমের কোম্পানী ছিলো। এই ছবিতে ক্যারেক্টারের অভাব নাই।সবাই সুষ্ঠুভাবে নিজ নিজ অংশ অভিনয় করিয়াই হাওয়া হইয়া গিয়াছেন।কারো কোনো খোঁজ পরে পাওয়া যায়নাই।নায়িকার চাচারা গান গাহিয়া হাওয়া,কাবিলা নাচিয়াই হাওয়া,নায়কের পিতামাতা নায়ককে পালাইতে বলিয়াই হাওয়া!
*নিঃসন্দেহে পরিচালক বাস্তববাদী।বাপ্পীর মতন পটকা নায়ক নিয়া উনি বুঝিয়া গিয়াছিলেন-ইহাকে দিয়া মারামারি হইবেনা।যাহা হইবে তাহা হইলো দৌড়।ঝাড়িয়া দৌড়।তাই তিনি সাপ দ্বারা ভিলেন মারিয়াছেন,সুন্দরবনের বাঘ চট্টগ্রামে হাজির করাইয়া ভিলেন মারিয়াছেন,নিজেদের মাঝে গোলাগুলি করাইয়া ভিলেন মারিয়াছেন-কিন্তু নায়ক দিয়া নহে।এই নায়ক নায়িকা বাচাঁতে খোদার শরনাপন্ন হয় এবং দোয়া করে,''মাহি,যারা অন্যায় করে,খোদা তাদের নিজেই শাস্তি দেন''!
*নায়ক মিতব্যয়ী।পুরা ছবিতেই উনি কোমরে কমব্যাট নাইফ নিয়া ঘুরিয়া বেড়াইয়াছেন,জঙ্গলে দৌড়াইয়াছেন।তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে আসিয়া একখানা ভিলেনের গলা কাটা ছাড়া বনের কোনো ডালপালাও কাটেন নাই।ছুঁড়িতে ধার থাকিলেও ছুরিতে ছিলোনা বোধহয়।
*নায়িকা সম্ভবত চিরযৌবনা।৫ বছর আগে যখন তাহার বয়স ছিলো ১৩,তখনও সে এখনকার মতনই ইয়ে।তদুপরি স্মৃতিভ্রংশের রোগি হইলেও ১৩ বছর বয়সে পাওয়া উকিলের নম্বর ঠিকঠাক ডায়াল করিয়াও ফেলে!
*অনেকদিন পর নাসরীনকে দেখিলাম।আর কিছু বলা সমীচিন হইবেনা।অফটাইমে ডাক্তাররা যদি এমন গামবুট পড়িয়া হর্নিবেশে ঘোরে!রোগিরা সরাসরি হাসপাতাল না,গোরস্থানেই যাইবে।
*অমিত হাসানের শটগান।ইহা এক বিশেষ জিনিস।শটগান হইলেও ইহার গুলি মানবশরীর ফুটা করে রিভলবারের ন্যায়।ঢিঁচকিয়া!
*পরিচালকের এনাটমি জ্ঞান।পাছায় খোঁচাইলে রক্ত পড়ে পেট হইতে।শটগানের গুলিতে চিতপটাং চৌধুরী সাহেবের আবার পেট হইতে রক্তক্ষরনই হয়না।
*লোডশেডিং হইলে জঙ্গলে চলিয়া যাইবার অনুরোধ রইলো।সেইখানে আলোই আলো।
পোস্টার দেখিয়া অথবা রেড ক্যামেরার প্রচার শুনিয়া আমি নিশ্চিত হইয়াছি,ভালোবাসার রং লাল।লালটিপের মতন লাল না হইলেও,লাল!যেই লাল,সেই কদু।


___________________________________________________________
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:১৫
১৯৩টি মন্তব্য ১৯০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুপ্রিয় কবি নীলপরির "মহিয়সী" কবিতার অনুভবে

লিখেছেন ভ্রমরের ডানা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৪৭




ভ্রমরের ডানা

আর তাকেও বলা যায় নক্ষত্র বলাকা পাখা~
হিম হিম বাতাস যার ভালবাসা মধু মাখা..
যে ছুঁয়ে গেছে রহস্যাবৃত উষ্ণসাগর ঘেঁষে
মিহিদানা মিহি প্রেম বালুকা বেলার দেশে...
উত্তর থেকে দক্ষিণ বলয় কোলে..
প্রকাণ্ড সুনামি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একরাত থাকা যাক সুইডেনের আরলান্ডা বিমানবন্দরে, হোটেল যখন বিশালাকার বোয়িং ৭৪৭-২০০ জাম্বো জেট

লিখেছেন মাহবুবুল আজাদ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:২৬




সুইডেনের আরলান্ডা বিমানবন্দর, অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা হতে পারে যে কারো জন্য। এখানে একরাত কাটাতে পারেন ইচ্ছে করলে বিশালাকার বোয়িং ৭৪৭-২০০ বিমানের মধ্যে, আকাশে উড়তে হবেনা্‌ মাটিতেই থাকবে। এটা বিমানবন্দরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অস্তিত্ব

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৩৯

সন্ধ্যার বেশ কিছু সময় পরের কথা, সারা দিনের খাটাখাটনির পরে বাসে করে বাসায় ফিরছি। সকাল ৭ টায় বের হয়ে বাসায় ফিরছি প্রায় রাত ১০ টার কিছু পরে।

মাঝখানে তিনবার হালকা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি ক্ষুদ্র সাফল্যঃ

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২০ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৮:১৪

আমাদের মধ্যে হয়তো এমন অনেকেই আছেন, যারা মাঝে মধ্যে একটু আধটু কিংবা নিয়মিতভাবেই ইংরেজীতেও লেখালেখি করে থাকেন। ইংরেজীতে মাঝে মধ্যে দু’চারটে কবিতাও লিখেছেন, স্রেফ মনের ইচ্ছের কারণেই, এমনও হয়তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রকৃতার্থ...

লিখেছেন কথাকথিকেথিকথন, ২০ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৭


আমি কী হারিয়ে যাচ্ছি ? দিনের পর দিন বাড়ছে দেহ ভস্মের ঘ্রাণ। বৃষ্টির জলে আঁকাবাঁকা পথে ভেসে যায় সদ্য ঝরে পড়া ফুল। আমি তার পথ ধরে মিশে যাই জলস্রোতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×