২০৯৯ সালে যখন সৌরশক্তি ব্যবহার করে নাম মাত্র মুল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাওয়ার প্লান্ট প্রতিটি বাসার ছাদে ছাদে, ঠিক সেই সময়ে একজন দাদু তার নাতি-নাত্মিদের সাথে গল্পের আসরে মেতে আছেন । তিনি নাতি-নাত্মিদের জুক্স শোনাচ্ছেনঃ
►►►
অনেক অনেক অনেক দিন আগের কথা, ডুক্কিন হাসিও অঞ্চলে ডাইনেস্টিক সৈরো-ডেমোক্রেসির এক রাজ্য ছিল । সেই রাজ্যে ছিল আজব এক রাজা । প্রেম বিষয়টাই ছিল তার চক্ষুশুল । তিনি জানিতে পারিলেন গ্রীক সাম্রাজ্যের ঘুমের দেবতা মরফিয়াস এর মৃত আত্মার ভুত তাহার সহধর্মিনী রংধনুর দেবী আইরিসের মৃত আত্মার পেত্নীকে ছাড়িয়া গ্রীক সাম্রাজ্যের রাতের দেবী নক্সের মৃত আত্মার পেত্নীর সাথে ভাগিয়া আসিয়া তাহার রাজ্যে প্রেম করার নিমিত্বে বাসা বাধিয়াছে । ক্রোধে বিহ্ববল রাজা মরফিয়াস এর মৃত আত্মার ভুতকে একটি বোতলে বন্ধ করিয়া রাখিল । আর নক্সের মৃত আত্মার পেত্নীকে সমগ্র রাজ্যের পাওয়ার সিষ্টেমের সুইচের অফ অংশে আবদ্ধ করিয়া তার আজ্ঞাবাহী দাশী করিয়া রাখিল । অফ অবস্থায় থাকা সুইচ অন হলেই সে মুক্তি পাইতো ।
উক্ত রাজ্যের প্রাগৈতিহাসিক কালের দাদাদাদিরা তাদের ছোট ছোট নাতিদের নাসিরুদ্দিন হোজ্জা, গোপাল ভাঁড় আর ভুতপেত্নীর গল্প শোনাইতো । কিন্তু সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল যখনি অনেক অনেক অনেক দিন আগের সেই সময়ে আসিয়া পড়িলো তখন সেই সব জুক্সের আর অস্তিত্ব থাকিলো না । কারন রাজ্যের রাজাই সেই অঞ্চলে ব্যাপক জোক্সের ব্যবস্থা করিয়া রাখিয়াছিলেন ।
►►►
সেই রাজ্যে ফাচৌমি নামক এক ইস্মার্ট পোকৌষুলি সামু নামক এক অতি পরিচিত ব্লগে বোলগিং করিত । অলসতা আর বাংলা লেখনি ভীতির কারনে সে খুব কম কমেন্ট প্রদান করিত । হামা নামক এক পোকৌষুলি গ্যাংস্টার ব্লগার ছিলেন । তিনি “‘প্রসাধনোত্তর উচ্চ বিভবের বিদ্যুৎকামী’ এবং “মেনোপজ সময়ের উত্তপ্ত কামুক ও পিউবিক হেয়ারে আবৃত” "জোনাকের শবোৎসবে সামিল হব কংক্রীটের কীট হয়ে কামড়ে" থাকা রাজ্যদ্রোহী ছিলেন । রাজ্যের রাজার জোক্স করার অধিকারের উপর বিতশ্রুত গ্যাংস্টার হামা জন্ম দিলেন এক কোবতে যাহার নাম দেন তিনি “প্রত্যাবর্তন”।
সেই রাজ্যদ্রোহীর কোবতের পোষ্টের পোষ্ট-মর্টেম করতে ফাচৌমি নামক সেই ব্লগার হামা নামক সেই গ্যাংস্টার ব্লগারের ঘরে গমন করিয়া সকল গল্প আর কোবতের মাঝে ব্যাপুক রাজ্যদ্রোহীতার গন্ধ পাইলো । অতঃপর একটি অতি জ্ঞানি একটি কমেন্ট করিবার নিমিত্তে লিখিতে লিখিতে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার পরিমান দুরত্ব অতিক্রম করিলো । রাজ্যের রাজা প্রমাদ গুনিয়া ভাবিলেন তাহার প্রজারা প্রায় আধা-ঘড়ি দুরত্ব পরিমান উহার লম্বা কাটার সময় তাহার রাজ্যের প্রজারা আনন্দ ও জোক্স হইতে বঞ্চিত ।
রাজ্য তখন আলোয় আলোয় উদ্ভাসিত । বহুকষ্টে পরিবহন-ঝোলা প্রজারা তখন হাসিমুখে বাসায় ফিরিয়া একটু ফ্যানের বাতাসের নিচে বসিবে । তখনি পাওয়ার সিষ্টেমের সুইচ অফ হৈলে নক্সের আত্মার পেত্নী প্রজাগনকে কামানলে ঘর্মাক্ত করিয়া ফেলিলো ।
►►►
পনের সেন্টিমিটার উচ্চতার সেই কমেন্টের অকাল মৃত্যু ঘটিল । কারন উহার দৈর্ঘ হইতো আসলে সতেরো সেন্টিমিটার । দুই সেন্টিমিটার সর্টেজের কারনে ফাচৌমি নামক সেই ব্লগার ভাবিলো জোক্স শেষ হইলে সে রাজ্যদ্রোহী হামা কবিকে উক্ত কমেন্টটি প্রদান করিয়া রাজ্যদ্রোহীতার শাস্তি স্বরুপ একটি উচিৎ শিক্ষা প্রদান করিবে । কিন্তু গ্রীক ভাগ্য দেবী টাইকি বিট্রে করলো । ফামিচৌ উক্ত কমেন্টটি ডকুমেন্ট ফাইলে সেভ করিয়া রাখিতে পারিলো না । প্রাচীন ইজিপ্টের মর্ত্যুর দেবতা আনুবিস ইউপিএসের ভিতরে প্রবেশ করিয়া উহার আত্মার সামুয়িক কবজ করিলো । উল্লেখ্য রাজ্যের রাজার দৈনিক এরুপ পচিশটি জোক্সের অবতারনায় ইউপিএস সামুয়িক মৃত্যু সজ্জায় পাচসেকেন্ডও টিকিয়া থাকিতে পারিলো না । কি আর করা অভ্র নামক সফটওয়ার ইঊজ করিয়া বহু কষ্টে লিখিত উক্ত কমেন্ট সামুর আলো দেখিবার পুর্বেই তিরোধান করিলো । রাজ্য রাজা এহেনো জোক্সে হর্সোৎফুল্লো হইলো কারন এসব বিচ্ছিন্ন জোক্স তাকে বড়ই পুলকিত করে । অতপর তিনি এয়ার কন্ডিশনড় রুমে বসিয়া বড়ই সুখে শান্তিতে দিনাতিপাত করিতে লাগিলেন ।
কিন্তু ইহাতেই জুক্সের সমাপ্তি নহে । ফাচৌমি বাসার নিচে যাইয়া ভীনদেশী চিনি, শৈলঠোর চা বাগানের দুই নম্বর চায়ের প্যাকেটের চায়ের গুড়া, হোয়াআশার পানি ফুটাইয়া উহাতে ঢালিয়া দিয়া তৈরি এক প্রকার মিশ্রন এর সাথে একটা শুভ্রবর্ন দেহের এবং হলুদ বাটিক প্রিন্টের গাঢ় হলুদ ফিল্টারের আট সেমি দীর্ঘ ধুম্রশলাকা টানিয়া আবার তিন তলায় উঠিয়া আনন্দিত হইয়া উঠিলো । কারন ঘর্মাক্ত প্রজারা আবার ফ্যানের বাতাসের নিচে বসিবার সক্ষমতা অর্জন করিয়াছে । ডেক্সটপের পাওয়ার বাটন চাপিয়া কম্পিঊটারের সুচনা সঙ্গীত যেই না বাজিয়া উঠিল সাথে সাথে রাজ্যদেবতা আবারো নক্সের মৃত আত্মাকে, শার্ট প্যান্ট চেঞ্জ করে খোলা শরীরে বসে থাকাদের সাথে আনন্দ লীলা চালানোর জন্য সুইচ অন করেন । নির্মম পরিহাস । আল্টিমেট জোক্স !!!
☻☻☻
নাতিরা বলিয়া উঠিল বাহ!!!! কি চমৎকার জুক্স । ফাচৌমি এর কথা ভাবিয়া তারা হাসিয়া উঠিলঃ
হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ.................
☻☻☻
[ বিঃ দ্রঃ অনেক চরিত্র, ঘটনা, স্থান, বা কালের সাথে এই গল্পের চরিত্র, ঘটনা, স্থান, বা কালের মিল খুজে পেলে পেতে পারেন । ইহাতে কারোর আপত্তি গ্রহণযোগ্য
হাসান মাহবুব ভাইয়ের নিকট কৃতজ্ঞতা ।
তার অসাধারণ "প্রত্যাবর্তন" কবিতার কিছু অংশ ব্যবহৃত হয়েছে]
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৪ রাত ৯:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


