আমার প্রিয় পোস্ট

আজকে আমার দেখা সেরা মন্তব্য। ধন্যবাদ রন্টি চৌধুরী এবং হলদে ডানা।

০৭ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৩৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

রন্টি চৌধুরী বলেছেন: হলদে ডানা, আপনি শিক্ষিত এবং সচেতন। আপনি ভাল বুঝেই জামায়াতের আদর্শ বিশ্বাস করেন।আপনি নিশ্চই জানেন জামাতের কি ভাল, আর সেটা জেনেছেন বলেই শিবিরের প্রতি এত অন্তপ্রান। আপনার এই আবেগকে আমি দোষারূপ করছি না। আপনি এমনকি রাজনৈতিক দলের খুন খারাবীর বিরুদ্ধেও সোচ্চার। রিয়াজ শাহেদের প্রশ্নের জবাবেও আপনি এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আপনার এ দৃষ্টিভঙ্গি আমার কাছে অনেক ভাল লেগেছে। এ থেকে আশা পাই যে আপনি অন্তত যদি কোন দলের শীর্ষপদে যান তাহলে ওই দলে ওইসব হবে না।

হলদে ডানা, আপনার চিন্তা চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দুটি প্রশ্ন করতে চাই। এ বিষয়দুটি নিয়ে আমার খটকা আছে। আপনি চাইলে উত্তর না দিতে পারেন, বা অন্য কথা বলে বা অন্য প্রসঙ্গ অবতারনা করে এড়িয়ে যেতে পারেন। কিন্তু তাতে আমার খটকাটা থেকেই যাবে এই যা। আমার যে জায়গাতে খটকা তা হল, জামায়াতী ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল কি? আপনার কি মত? যদি করে থাকে তাহলে কি কাজটা জঘন্য হয়েছিল? আমি আপনার দৃষ্টিকোন থেকে উত্তর আশা করছি।

সারাদেশে জামায়াতের ইমেজের সংকটের মুলে আছেন জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতা নিজামী আর মুজাহিদ সাহেব। জামায়াত থেকে যতই বলা হোক তারা শুদ্ধ, কিন্তু বাস্তব সত্যি হচ্ছে তাদের বাজে ইমেজের কারনে জামাত ঠিকমত এগুতে পারছে না। প্রশ্ন হল, আপনার কি মনে হয় না এ দুনেতাকে শীর্ষপদে আনা উচিত হয় নি বা সরিয়ে দেয়া উচিক? বলবেন না যেন তাদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ বানোয়াট। কেননা তা হলেও বিতর্কিত মানেই বিতর্কিত। তাদের আগলে রাখতে গিয়ে সারাদেশে কি জামাতের ইমেজের বারোটা বাজছে না? তাহলে কেন তাদের আগলে রাখা? জামাত কি তবে ব্যাক্তিকেন্দ্রিক দল?

ছাত্রশিবির। আমার চোখের দেখা আামর ক্যাম্পাসে এ দলটি মিছিল করে, নবীন বরন মিছিল করে রামদা হাতে...ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে দেখাতে শোডাউন করে কাচের কাটা বড়বড় রামদা সাদৃশ টুকরা আর আসল রামদা হাতে। আপনি শিবিরের এ আচরনকে কিভাবে দেখেন? বলবেন না যেন এটি মিথ্যা। কেননা এটি আমার চোখের দেখা।

৭১ এ দলটি দেশবিরোধী ছিল। তারপরেও হয়ত এ দলটিকে মেনে নেয়া যেত। কেননা এ দলের নতুন প্রজন্ম, মানে আপনারা তো এ দেশের সন্তান। কিন্তু যখন দেখছি দলটির শীর্ষপদে ওই লোকগুলোই আছেন, এবং দলটির কার্যক্রমে সন্ত্রাসী ভাব ভীষনভাবে আছে,(যেটা উল্লেখ করলাম) তখন মনে হয় কেন যেচে যেচে আরেকটি বিষফোড়া দলকে পৃষ্ঠপোষকতা করব।

আপনি কি এ ব্যাপারগুলোতে একটু পরিস্কার করবেন আপনার অবস্থান?








০৬ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:০৮
লেখক বলেছেন: আপনার চিন্তাশীল মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। নির্মোহ মানসিকতা নিয়ে আলোচনা করলে সত্য উদঘাটন সম্ভব। আমাকে শিক্ষিত হিসেবে আখ্যা দিয়ে আমার দায়বদ্ধতাকে বাড়িয়ে দিয়েছেন। সমানভাবে আপনিও শিক্ষিত। তাই আশা থাকবে আমার জবাবকে নির্মোহ অবস্থানে থেকেই বিচার করবেন। যদি আপানার প্রতিষ্ঠিত ধারণা-মানসিকতায় ভর করে আমার জবাব পাঠ করেন, তবে আমার জবাব পাঠের ছত্রে ছত্রে আপনার খটকা বরং আরো শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া বৈ কিছুই হবেনা। তাই আশা করি শিক্ষিত হিসেবে আত্মবিবেক দিয়ে বিচার করার দায়বদ্ধতা আপনার ক্ষেত্রেও সমানভাবে বজায় থাকবে।


০১. জামায়াত ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাঃ

হ্যা, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। এটি আমার মুখ থেকে নতুন করে স্বীকৃতি নেয়ার কিছু নেই। তবে বিরোধিতা করা ও অপরাধ করা সমান জিনিস নয়। আবারও বলছি- বিরোধিতা করা ও অপরাধ করা সমান জিনিস নয়। আচ্ছা একটি কথা বলুন , মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছিল? পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের মানুষ বিদ্রোহ করেছিল। এটিই তো মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক কারণ? জামায়াত মনে করেছিল- ঠিক ঐ মুহুর্তে ঐ পরিমাণ শক্তি-সামর্থ নিয়ে ভারতের সহায়তায় দেশ স্বাধীনের জন্য অগ্রসর হলে পরিণতি আরো খারাপ হবার সম্ভাবনাই বেশি। আর ভারত তথা হিন্দু শাষকগণ, আবার বলছি- আপামর হিন্দু জনতা নয়, হিন্দু শাষকগণ, বিগত ব্রিটিশ শাষণের সময় থেকে সে পর্যন্ত মুসলিমদের সাথে কি ব্যাবহার করেছে তা ইতিহাসে খোদাই করে লেখা আছে। তদুপরি দূর্বল রাষ্ট্রকে গিলে ফেলার- নেপাল সংলগ্ন সিকিমকে মাত্র কয়েক বছর আগে ভারত দখল করে নেয়- ভারতীয় আগ্রাসী চেহারা তখন জামায়াত নেতৃবৃন্দের মস্তিষ্কে জ্বলন্ত হয়ে কাজ করছে। তাদের মাথায় ছিল- অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্ত হতে গিয়ে যদি ভারতের সর্বাঙ্গিণ শৃঙ্খল তথা ম্লেচ্ছ প্রজাতির তকমা গলায় পড়তে হয়, তা আত্মঘাতি বৈ কিছু হবেনা। তারা একদিকে পূর্ব পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শোষণের কবল থেকে মুক্ত রাখার আকাঙ্খা করেছে, অন্যদিকে এ অঞ্চলের মুসলমানদের স্বকীয়তা অক্ষূন্ন থাক, তাও চেয়েছে। ঠিক ঐ সময়ে ভারতের সহায়তায় স্বাধীনতার চেষ্টা সে প্রত্যাশার জন্য হুমকি বলে বিবেচনা করেছে। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে আমরা একটি বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছি, রাজধানী পেয়েছি- সেখান থেকেই এ অঞ্চলের চাষাভুষারা শিক্ষার আলো পেয়েছে, অগ্রসর হবার সুযোগ পেয়েছে। তার বিপরীতে সে সময় এই ভারতীয় নেতৃবৃন্দের আচরণ স্মরণ করার মত। তাই অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বিশ্বাসগত পরাধীনতার নতুন শৃঙ্খলের আশঙ্কায় জামায়াত ও অধিকাংশ ইসলামী দল মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করতে পারেনি। দেশ ও জাতির কথা মাথায় রেখেই তাদের এ ভাবনা ছিল।

এটি একটি রাজনৈতিক তথা নীতিগত বিরোধিতা। আল্লাহর হাজারো শোকর। তিনি আমাদেরকে তেমন কঠিন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেছেন। কিন্তু আপনাকে স্বীকার করতে হবে যে তাদের আশংকা একেবারে অমূলক ছিলনা।

জামায়াতের আশংকা অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশেরে মানুষের জন্য বিরাট রহমত, আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে। সব প্রেডিকশনই যে একশত ভাগ সত্য হতে হবে, এমন হবার সুযোগ নেই। তবে ভারতের চেষ্টা কিন্তু সব সময়ই ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই নতজানু সরকারের বদৌলতে দেশে মরণ বাধ ফারাক্কা চালু হলো। বাজার দখল, সংস্কৃতি দখল, সব কিছ’ই ভারত সাধ্যমত চালিয়ে যাচ্ছে।

পুরাতন কথায় ফিরে আসি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা আর মুক্তিযুদ্ধে অপরাধ করা এক জিনিস নয়, স্মরণ রাখা দরকার। জামায়াতের কারো নামে অপরাধের কোন প্রমাণ নেই। কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগও নেই। আনুষ্ঠানিক বলতে আইনগত। বলুনতো, যাদের নামে অভিযোগ করা হয়, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার দায়িত্ব কি তাদের না যারা অভিযোগ করে, দোষী প্রমাণ করা তাদের দায়িত্ব? আপনার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ, অথচ আপনি খুন করেননি। আপনার তখন এ ছাড়া আর কি করার আছে যে আপনি শুধু বলবেন আমি খুন করিনি? জামায়াত তো সেই কথাই বলছে। কিন্তু ওদের কথা পঞ্চাশবার মিডিয়াতে এলেও জামায়াতের কথা একবার আসতে চায়না। কোথাকার কোন সলিমুদ্দিন কলিমুদ্দিনও যদি কোনদিন সংবাদ সম্মেলন করে কোনদিন বলে যে জামায়াত যুদ্ধাপরাধী সাথে সাথে মিডিয়া কভারেজ। মিডিয়া কভারেজ পাবার জন্য জামায়াত বিরোধিতা যেন এক দারুন টনিক। কিন্তু জামায়াতের কোন কথা প্রচারে রয়েছে তাদের সূচিবাঈ।

সম্ভবত আপনার এখনও কিছু কথা রয়ে গেছে। পরের অংশে আশা করি জবাব পাবেন।




০২. "নিজামী মুজাহিদ: বিতর্কিত মানেই বিতর্কিত"।


আমি যখন ছাত্রশিবিরের কর্মী হই, সেই স্কুল জীবনে। তখন আমার প্রায়শই এ প্রশ্ন জাগতো- এই গোলাম আযমকে আমীর না বানালে জামায়াতের কি এমন ক্ষতি হয়? এখন দেখছি প্রশ্নটা আপনারও। সম্ভবত আরো অনেকেরই।

আপনার কথার একটু সংশোধনি আছে। স্বাধীনতার পরে দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর অধ্যাপক গোলাম আযম জামায়াতের আমীর ছিলেন। এ সময়ই জামায়াত আরো বড় হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তাই নিজামী মুজাহিদের চেয়ে গোলাম- আযমের বিতর্কিত হওয়াটাই বোধহয় অধিক প্রশ্নবোধক। আপনার প্রশ্নটি বোধহয় এক্ষেত্রে আরো পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়।

একটি উদাহরণ দেই। প্রশ্নটি এড়িয়ে যাচ্ছিনা। ভালোভাবে ব্যাক্ত করার জন্য উদাহরণ দিচ্ছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহবুবুল আলম সালেহীর ঘটনা আপনার মনে আছে নিশ্চই? এই প্রথম আলো গোষ্ঠী কী সর্বগ্রাসী প্রচারণাই না চালালো সালেহী ভাইকে খুনি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। যদি আদালতের রায় না হত, পৃথিবীতে এমন কোন সুপার গ্লু ছিল যা দিয়ে প্রথম আলোর মুখ বন্ধ করা যেত?? বলবেন কি? আমার এলাকায় এক পয়সাওয়ালা নানা শিবিরকে নিয়মিত সহায়তা করে থাকেন। সেবার ইফতার মাহফিলের টাকা চাইতে গেলে তিনি চরম বিরক্ত। তোমরা শিক্ষক খুন কর আবার ভালো মানুষের কাজ কর, তোমাদের টাকা পয়সা দেয়ার ক্ষেত্রে আমার মন উঠে গেছে। প্রিয় রন্টি চৌধুরী, বলুন, মিথ্যা সংবাদ দিয়ে এভাবে কত হাজারো মানুষের মাথা খেয়েছে প্রথম আলো গোষ্ঠী? এ কি মোটেও কম দুর্নীতি? এর চেয়ে বড় সন্ত্রাস আর কি হতে পারে? এই সালেহী ভাইয়ের বিরুদ্ধে যদি মামলা না হত, আর এ অবস্থায় তিনি কেন্দ্রীয় সভাপতি হতেন, আমি হাজারো চিৎকার করলেও তো আপনি বলতেন, আপনাদের দলে বিতর্কিত ও খুনিকে সভাপতি বানিয়ে কেন নিজেদের ইমেজ নষ্ট করেন? প্রথম আলো গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মানুষকে বিতর্কিত করবে আর আমরা "বিতর্কিত মানেই বিতর্কিত" এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদেরকে নেতৃত্ব থেকে অপসারণ করবো, একজন চাষাভুষার মুখে এ কথা মানাতে পারে, কিন্তু একজন শিক্ষিত মানুষের মুখে এই কথা আমরা কিভাবে মেনে নিতে পারি? বলবেন কি? দয়া করে মাইন্ড করবেননা, সকল শিক্ষিত মানুষকে উদ্দেশ্য করেই বলছি।

সালেহী ভাইর বিরুদ্ধে তবু মামলা হওয়ায় আমরা জোড় গলায় বলতে পারি তিনি নির্দোষ। কিন্তু গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহীদ, এদের বিরুদ্ধে মামলাই তো কেউ করলোনা। কি দিয়ে প্রমাণ করবো যে তারা নির্দোষ? আমাদের ফাহমিদুল হক, রাগিবরা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা দলিল দস্তাবেজের পসরা নিয়ে বসে পড়েন তাদের অপরাধ প্রমাণ করতে, কিন্তু কে তাদের কানে ফু দিয়ে বলবে যে আদালতে কেন যান নি, এবং যান না? কারণ কি এটাই ছিলনা যে আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হলে আর অপপ্রচারের সুযোগ থাকবেনা? সালেহী ভাইয়ের বিরুদ্ধে যদি মামলাই না হত, কার বাবার সাধ্য ছিল প্রথম আলো গোষ্ঠীর কথার জবাব দেয়? যে জবাব দিত তাকেই বলতো আপনিও একজন খুনি। রন্টি, আপনি কি একটিবার নির্মোহ হয়ে এই "বিতর্কিত" শব্দের ভ্যালিডিটি নিয়ে ভেবে দেখবেন না? সবাইকে বলছিনা, আপনাকে বলছি।

বিষয়গুলো আমার সামনে যত পরিষ্কার হতে লাগলো, আমার প্রশ্নের উত্তর ততই পেতে লাগলাম। আর একজন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে বায়বীয় কিছু অভিযোগকে আমি আমলে নেব, না তার কাজ দেখে তাকে মূল্যায়ন করবো? আমি তার বেশ কিছু বই পড়েছি। একজন লোকের লেখনি, কথা, কাজ, চিন্তাধারা এগুলো দেখেও তো তার সম্পর্কে মূল্যায়ন করা যায়। তার প্রত্যেকটি বই-ই চিন্তার খোরাক যোগায়।

নিজামী মুজাহিদের ক্ষেত্রেও একই কথা। খুনির পক্ষে কিভাবে সম্ভব হয় সততার সাথে মন্ত্রণালয় পরিচালানা করা? এই বিষয়গুলো কি মোটেই ভেবে দেখার মত নয়? তারা চরম বৈরী প্রচারণার শিকার। স্বার্থান্বেশী গোষ্ঠী কাউকে পরিকল্পিতভাবে "বিতর্কিত" করবে আর তার দল তাকে সেখান থেকে অপসারণ করবে, এটি আপনার কাছে কতটুকু যৌক্তিক জানিনা, কিন্তু আমি মেনে নিতে পারিনা। ওরা তো তাকেই বিতর্কিত করবে যে সবচেয়ে যোগ্য। তাই শুধু তথাকথিত বিতর্কিতের অপরাধে একজন সৎ যোগ্য মেধাবীকে নেতৃত্বচ্যুত করাটাকে অন্যায় আবাদার বৈ আর কিছু কি বলা সম্ভব? ভেবে দেখার অনুরোধ রইলো।



০৩. রামদা হাতে ছাত্রশিবিরঃ

ঘটনাটা আপনার নিজের চোখে দেখা, তাই আমার অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু আমি যেহেতু সে সম্পর্কে জ্ঞাত নই, তাই প্রকৃত বিষয়ও আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। আবার একতরফা নির্দোষও দাবী করবো না। অর্থাৎ আপনার কথার প্রেক্ষিতে আমি অনেকটা কিংকর্তব্যবিমুঢ়। কেননা আমি এ দীর্ঘ জীবনে যা জানি, আপনার বর্ণনা তার সাথে মেলেনা। তারপরও আমার পক্ষে যা বলা সম্ভব বলছি।

২৮শে অক্টোবর আমার হাতে ইট ছিল। কেউ যদি বলে আমি নিজ চোখে হলদে ডানাকে একের পর এক ইট ছুড়তে দেখেছি। তাহলে অন্যের পক্ষে তা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। আর ঘটনাও সত্যি। একে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন? কিন্তু ২৮শে অক্টোবর আমি রক্তে গোসল করে গৃহে ফিরেছি- এ কথা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত হলদে ডানার ইটের রহস্য কি করে ব্যাখ্যা করা সম্ভব?

আপনি যে ঘটনার বর্ণনা দিলেন, তার প্রেক্ষিত কি ছিল তা তো আমি কম্পিউটারের সামনে বসে বলতে পারবোনা। যে কোন ধরণের মারামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় আমাদেরই। সাধারণ ছাত্ররা আমাদের থেকে দূরে সরে যায়। তবুও অনেকসময় অস্তিত্বের স্বার্থে মুখোমুখি হতে হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮২ সালের ১১ই মার্চ এক সাথে ৪ জনকে হত্যা করলো প্রতিপক্ষ, সাব্বির, হামিদ, আয়ুব, জব্বার। প্রায়শই শিবির উৎখাতের দিন তারিখ ঘোষণা দিত। ১৯ দল, ২২ দল এক জোট হতা শিবির উৎখাতের লক্ষ্যে। সারা বাংলাদেশে একটা সময় এ কঠিন পরিস্থিতি আমাদেরকে ফেইস করতে হয়েছে। আপনার বর্ণিত ঘটনা কোন প্রেক্ষিতে, তা তো আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। তাই আপনার সে প্রশ্নের জবাব দিতে আমি অক্ষম।

তবে সারাদেশের শিবির কর্মীদের আচার আচরণ, ইমেজ, চরিত্র, এগুলো মানুষ দেখছে। আপনিও কম বেশি জানেন। তাই সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করাটাই যু্ক্তিযুক্ত হবে।

. . . . . .. . . . . .. . . . . . .. . . . . . . .

আমার মন্তব্যে আপনি কতটা পরিষ্কার হতে পেরেছেন আপনি জানেন। তবে আমি আমার কাজ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমার বক্তব্য- যদি প্রশ্ন করার জন্যই প্রশ্ন, ঘাটানের জন্যই হয় প্রশ্ন, তবে কখোনোই পরিষ্কার হবার সুযোগ নেই। আমি বিশ্বাস করতে চাই, আপনি নিছক স্বচ্ছ হবার জন্যই প্রশ্ন করেছেন।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মন্তব্য ;

 

  • ১১ টি মন্তব্য
  • ২৬৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ১৫ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৪৭
comment by: ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান বলেছেন: গরুর সেই জাবর কাটা পোষ্ট।


আর কত জাবর কাটবে সো কলড জামায়াতিরা?
২. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১২:৫৩
comment by: আরিফ থেকে আনা বলেছেন: জাঝাকুল্লাহ খায়রান।
৩. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:১০
comment by: নূহান বলেছেন: আরিফ থেকে আনা বলেছেন: জাঝাকুল্লাহ খায়রান।
৪. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:২৬
comment by: রাতনিশি বলেছেন: অধ্যাপক গোলাম আযম এর নামে মামলা নাই তাই নিদোর্ষ!!!!!!!!

নামের আগে আবার অধ্যাপক লাগাছে।

ইতিহাস তবে কি ভূল ঐ হালারা আমাগো মা-বোন গোরে ক্যাম্পে পাঠায়নি?

ওনার তো মগজ শুধু ধোলাই করেনি. মগজের রস টুকু ছেকে ফেলে দিসে।
৫. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:৪৯
comment by: ফেরদৌস ৬৯ বলেছেন: **********************************************************************************************************************************************************
************************************************************
******************************************************
************************************************************
*******************************************************
****************************************************
*************************************************************
*********************************************************
**********************************************************
৬. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:৫০
comment by: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
কষে মাইনাস দেয়া হলো ।
৭. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:৫৯
comment by: দস্যু বনহুর বলেছেন: "অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বিশ্বাসগত পরাধীনতার নতুন শৃঙ্খলের আশঙ্কায় জামায়াত ও অধিকাংশ ইসলামী দল মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করতে পারেনি। দেশ ও জাতির কথা মাথায় রেখেই তাদের এ ভাবনা ছিল।.... মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা আর মুক্তিযুদ্ধে অপরাধ করা এক জিনিস নয়, স্মরণ রাখা দরকার। জামায়াতের কারো নামে অপরাধের কোন প্রমাণ নেই। "



এই সিক্যুয়েলের পরবর্তী পোস্ট কি "রাজাকার আলবদর হেরাই যুদ্ধ কইরা দেশ স্বাধীন করছে" ?
৮. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:১১
comment by: আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: ১০ নম্বর মাইনাস।
৯. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:০৬
comment by: সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: এই সিক্যুয়েলের পরবর্তী পোস্ট কি "রাজাকার আলবদর হেরাই যুদ্ধ কইরা দেশ স্বাধীন করছে" ?
১০. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:১৯
comment by: দখিনা বাতাস বলেছেন: পোস্টের সাইজ দেইখাই বুজসি চাপা মারতে মারতে হুশ ছিলনা ওবায়েদের, লেখতাসে তো লেখতেই আছে....... গন্জিকা সেবন একটু বেশি হইয়া গেসিল মনে লয় ;) ;)
১১. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:২০
comment by: তেপান্তের মাঠ পেরিয়ে বলেছেন: "অধ্যাপক গোলাম আযম এর নামে মামলা নাই তাই নিদোর্ষ!!!!!!!!"
খুবই উত্তম যুক্তি।

আপনাকে কষে ব্রেইন ওয়াশ করা হয়েছে, তাই কষে মাইনাস।

 



 


আমি এক বাংলাদেশী।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ১৯৯৭৭