আমার প্রিয় পোস্ট

সত্যের সন্ধান

বিদেশি মিডিয়ায় ১৫ আগষ্ট

২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৪

শেয়ারঃ
0 3 0

এই লেখাটি আমার দেশ পত্রিকা থেকে সংরক্ষন করার চেষ্টা।



২য়।



৩য়।





Click This Link

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ১৫ আগষ্ট ;
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪০
ওবায়েদ বলেছেন: XYZ এর মন্তব্য........

ধন্যবাদ, আমার দেশকে ঐ সময়ের বিদেশি মিডিয়ার বক্তব্যগুলোর জন্য! ঐ সময়ের দেশী পত্র-পত্রিকার খবরগুলো এবং দেশী বিভিন্ন পার্টির ও নেতা-নেত্রীর বিবৃতি-বক্তব্য-ছবি গুলো পুনঃপ্রকাশ করা যায়না? এ বিষয়গুলোতে নূতন প্রজন্মের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে আওয়ামী-প্রচারণা সিন্ডিকেট তাদের পছন্দমত তৈরী করা ইতিহাস ও মতাদর্শে নূতন প্রজম্নের মস্তিষ্ক ধোলাইয়ের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কারণ দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় মুজিব পরিবারকে অধিষ্ঠত রাখতে এবং ভবিষ্যতে জয়কে রাজনীতিতে নিয়ে আসতে, এখন থেকেই বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যে আর ধর্মচর্চায় অনুকূল মনোভাবাপন্ন নূতন প্রজন্ম তৈরীর প্রয়োজন! আওয়ামী সিন্ডিকেট র-মোশাদের সহযোগীতায় কৌশলে সে কাজটাই এখন করে যাচ্ছে।

মুজিব হত্যার রায় কলঙ্কমুক্তির (কারু কারু মতে ‘লজ্জামুক্তি’) নয, বরং নূতন করে কলঙ্কিত হওয়া। যে মুজিব পাকিস্তানের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন, সে অমুক্তিযোদ্ধা মুজিবের জন্য ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা -যারা জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল - আজ তারা ফাঁসীর কাঠগড়ায়। তারা শুধু আমাদের স্বাধীনতাই এনে দেয়নি - যখন একটা স্বৈরাচারী-দুর্নীতিবাজ সরকার থেকে কোন রকমেই নিয়মতান্ত্রিক ভাবে জাতির মুক্তি সম্ভব ছিলনা এবং জাতি দুর্ভিক্ষ-মহামারি-সন্ত্রাস-লুটপাটে ধুকে ধুকে মরছিল -জাতির এ সূর্যসন্তানরা তখন অসীম সাহসে জাতিকে মুক্তির আলো দেখিয়েছিল। জাতি যেন নূতন করে স্বাধীনতা পেল - মসজিদে, মন্দিরে, গীর্জায়, প্যাগোডায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হোল - এমনকি আওয়ামী নেতারাও একে ‘ফেরাউন থেকে নাজাত পাওয়া’র সাথে তুলনা করলো! দেশের জন্য যারা এত বড় কাজ করলো, তারা আজ কেউ কারার অন্ধপ্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনছে, কেউ বিদেশের মাটিতে পড়ে আছে, কারো পরিবার পরিজন এমনকি মেয়ের ব্যক্তিগত ঘটনা রসিয়ে রসিয়ে পত্রিকায় লেখা হচ্ছে। আমরা জাতি হিসেবে কত অকৃতজ্ঞ -যারা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিল, যারা আমাদের স্বৈরাচারী-দুর্নীতিবাজ সরকার থেকে মুক্তি দিল - আজ তাদের মৃত্যুদন্ড ঘোষণায় উল্লাস করছি। অবশ্য দেশ এখন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় রয়েছে - আওযামী উল্লাসে যোগ না দিলে যে কারু জন্য তা বিপজ্জনক। দেশে এখন ৭২-৭৫ সময়ের পদধ্বনি শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। হায়রে, আমার বাংলাদেশ! যে দৃষ্টান্ত আজ স্থাপিত হলো, তাতে ভবিষ্যতে কি কেউ স্বৈরাচারী নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে রুখে দাঁড়াবার মত প্রেরণা পাবে?
এ ফোরামের একজন পাঠক Arman-এর লেখা থেকে,
“শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগ সম্পর্কে জানার জন্য ওয়ার্কার্স পার্টির একটি বিবৃতির অংশবিশেষ উল্লেখ করা যেতে পারে। শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালের ২৯ আগস্ট প্রচারিত এই বিবৃতিতে ওয়ার্কার্স পার্টি বলেছিল, ‘গত ১৫ আগস্ট সামরিক অভ্যুত্থানে শেখ মুজিবের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গত সাড়ে তিন বছরের ঘৃণ্য ও গণধিকৃত মুজিবী রাজত্বের অবসান হয়েছে। লুট-দুর্নীতি, দুর্ভিক্ষ-অনাহার, চোরাচালান-পারমিটবাজি, স্বৈরাচার-পারিবারিক রাজত্ব কায়েম, জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা ও অবমাননায় বিক্ষুব্ধ জনগণ প্রতি মুহূর্তে মুজিবের পতন কামনা করেছে। ... বিশেষ করে বিগত নয় মাসের কালোদিনগুলোতে পরম ধৈর্য ও সাহসিকতা নিয়ে সংগঠিত হয়েছে মুজিবী শাসন ব্যবস্থাকে চিরতরে কবর দেয়ার জন্য।'
বিবৃতির পরের অংশে বলা হয়েছে, ‘মুজিবের অপসারণে জনগণ উল্লসিত। তার মৃত্যু কারো মনে সামান্যতম সমবেদনা বা দুঃখ জাগায়নি- জাগাতে পারে না। ইতিহাস নির্ধারিত ফ্যাসিস্ট একনায়কের পরিণতিই তাকে বরণ করতে হয়েছে। ... এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ইতিহাস জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লড়াইয়ের ইতিহাস। শেখ মুজিব ও তার সহচররা জনগণের সেই লড়াইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করে কায়েম করেছে স্বৈরাচার ও পারিবারিক শাসন। ... জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে সম্প্রসারণবাদী ভারতীয় শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থে অধীনতামূলক সামরিক ও বাণিজ্যিক চুক্তির শৃংখলে আবদ্ধ হয়েছে। ... মুজিব তার সিংহাসন থেকে হুকুম করেছে নির্বিচারে জনগণ ও গণতান্ত্রিক কর্মীদের হত্যা, গ্রেফতার, এমনকি সপরিবারে ধ্বংস করার জন্য। ...' ।
ওয়ার্কার্স পার্টির ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, আগস্ট অভ্যুত্থান ‘মুজিবী শাসন, অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতার' বিরুদ্ধে ‘জাতীয় ঐক্যবোধ' সৃষ্টি করেছিল।“
২. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪১
ওবায়েদ বলেছেন: XYZ এর মন্তব্য........


শুধু ওয়ার্কার্স পার্টির নয, আমার কাছে সে সময়ের আরো অনেক বক্তব্য-বিবৃতি আছে যা পড়লে আশ্চর্য হতে হয় সেসব বক্তব্যদাতা-বিবৃতিদাতাদের বর্তমান চেহারা দেখলে। কিছুদিন আগে Anisur Rahman এ ফোরামে লিখেছিলেন , “--মতিয়া চৌধুরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল আওয়ামী-বাকশালী। ন্যাপ (মোজাফফর) এর কর্মী মতিয়া আওয়ামী লীগের ঢোকার পর একবার শফিউল আলম প্রধানকে গালাগালি করেন। তখন শফিউল আলম প্রধান বলেছিলেন, "এই মতিয়া চৌধুরীকে যখন শেখ কামাল ও তার সাঙ্গাপাঙ্গরা ধর্ষণের জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠেছিল তখন আমি তাকে ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলাম। আর আজ অকৃতজ্ঞ মতিয়া আমাকে গালাগালি করছে।" শোনা যায় শফিউল আলম প্রধানরা মতিয়াকে শুধু পেটিকোট পরা অবস্থায় উদ্ধার করেছিল শেখ কামাল গংদের হাত থেকে। ------ এই মতিয়া চৌধুরীরা, আসম রব, মইনউদ্দিন খান বাদল, ইনু, মেননরা একসময় বলেছিল তারা শেখ মুজিবের চামড়া দিয়ে জুতা বানাবে। আর আজ মতিয়া আওয়ামী লীগের মন্ত্রী। রব, বাদল, ইনু, মেননরা নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাথে সরকারে যায়। সেলুকাস.....”
সিরাজ শিকদারের হত্যা, ফকা চৌধুরীর জেলখানায় হত্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সেভেন মার্ডার’, ছাত্রলীগ গুন্ডাদল কর্তৃক ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী সুন্দরী মতিয়া চৌধুরীর (বর্তমান মন্ত্রী) প্রকাশ্যে বস্ত্রহরণ, ডাকসু নেতা মুজাহিদুল সেলিম কর্তৃক মুজিবের ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি (যা ডাকসু’ই ১৯৬৯-এর ফেব্রুয়ারীতে মুজিবকে দিয়েছিল) প্রত্যাহারের ঘোষনা, ৩০ হাজার জাসদ সমর্থকের হত্যা (তাহেরের আত্মার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইনু এখন আওয়ামী জোটে !), শেখ কামাল-জামালের সীমাহীন বেলেল্লাপনা ও গুন্ডামী (ডালিমের বৌকে অপহরণ/ মতিয়া চৌধুরীকে উলংগ করে প্রকাশ্য রাস্তায় ছেড়ে দেয়া/ সুলতানাকে জোরপূর্বক বিয়ে করা), সুলতানা-রোজীকে স্বর্ণমুকুটে বরণ প্রকারান্তরে দূর্ভিক্ষপীড়িত অভূক্ত কংকালসার জাতির সাথে উপহাস করা, শেখ মণির ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ - সবই এখন এক এক করে মনে পড়ছে।

মুজিব পরিবার বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ না অভিশাপ? মুজিব থেকে শুরু করে এ পরিবার এবং এদের বশংবদদের দ্বারা এ দেশের জনগণ সময়ে সময়ে বার বার অন্যায় অত্যাচারে জর্জরিত হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের শূরুতে মুজিব পুরো দেশবাসীকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে পাকিস্তানের কাছে আত্মসমর্পণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। অথচ তাজউদ্দীন জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধের শুধু নেতৃত্বই দেননি - প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতার মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকে অবস্যম্ভাবী করে তুলেন। যুদ্ধে মুজিব পরিবারের একটা লোকেরও মরতে হয়নি। নিরাপদ প্রসবতো দূরের কথা, যুদ্ধের নৃশংসতার মধ্যে কত গর্ভবতী নারী গর্ভপাতের শিকার হয়েছে, মৃত সন্তানের মা হয়েছে -তার ইয়ত্তা নেই। সে করুন দৃশ্য আজো মনে পড়ে। অথচ ঐ ঘোরতর যুদ্ধের মধ্যেও পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ মুজিব কন্যা হাসিনার জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের মত সুরক্ষিত ও নিরাপদ স্থানে জয়ের প্রসবের ব্যবস্থা করে দেয়। তারপর দেশ স্বাধীন হলে, অমুক্তিযোদ্ধা মুজিব দেশে এলেন ‘বীরের বেশে’। এসেই সবাইকে অবজ্ঞা করতে লাগলেন - রাজাকার আলবদরদের ক্ষমা করে দিলেন- মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতা তাজউদ্দীনকে করলেন উপেক্ষা । কে মুজিবকে অধিকার দিয়েছিল রাজাকার আলবদরদের ক্ষমা করার? রাজাকার আলবদরদের নির্মম-নির্যাতন-সহিংসতার শিকার হয়েছিলাম আমরা জনগণ -তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউতো হয়নি -এজন্য? সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশ নিমজ্জিত হলো সীমাহীন লুট-দুর্নীতি, দুর্ভিক্ষ-অনাহার, চোরাচালান-পারমিটবাজি, স্বৈরাচার-পারিবারিক রাজত্বে। মুজিব একদিকে দেশকে অবক্ষয়ের শেষপ্রান্তে পৌঁছে দিয়ে এবং অন্যদিকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকার পরিবর্তনের সব রাস্তাই বন্ধ করে নিজের ও পরিবারের এ মর্মান্তিক পরিণতিকে অনিবার্য করে তুলেছিলেন। মুজিবের পর হাসিনাও হরতাল, জ্বালাও পোড়াও, লগি-বৈঠা ইত্যাকার কর্মসূচীর মাধ্যমে জন-জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। তার শাসনামলেও ৭২-৭৫ সময়ের পদধ্বনি শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। মুজিবও এদেশের নিরীহ জনগণকে জ্বালিয়েছে, তার মেয়েও জ্বালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তার পরিবারের অন্য কেউ জ্বালাতে থাকবে। এ পরিবার যতদিন থাকবে ততদিন এ জাতির মুক্তি নেই। এহেন পরিবার কি দেশের জন্য এত প্রয়োজনীয় যে, কোটি কোটি টাকা খরচ করে এদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে? আর আমরা সাধারণ মানুষ খেয়ে থাকি আর না খেয়ে থাকি এবং আমাদের নিরাপত্তা থাকুক আর না থাকুক শুধুমাত্র মুজিব পরিবারের নিরাপত্তার জন্য আমাদের এসব টাকার যোগান বছরের পর বছর দিয়ে যেতে হবে? মুজিব পরিবার বাংলাদেশের জন্য শুধু এক অভিশাপই নয়, বাংলাদেশের জন্য এক অপ্রয়োজনীয় বোঝা -এটা মানুষের অন্তরের কথা! আর কতকাল আমাদের এ বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে?
সব সেক্টরে মুজিব পরিবারের কিছু বশংবদ তৈরী করা আছে - যাদের প্রত্যেকের অতীত পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে এরা কোন না কোনভাবে মুজিব বা তাঁর পরিবার দ্বারা সুবিধাপ্রাপ্ত। এখন তারা তাদের মুজিব পরিবারের পক্ষে কাজ করে এ ঋণ শোধ করছে। এই বশংবদরা, আজকের এই তথাকথিত ‘বীরসন্তানর’রা, কোন টু শব্দতো দূরের কথা - যে যার মতো করে সেদিন দৌড়ে পালিয়ে জনরোষ থেকে নিজেদের রক্ষা করেছে।
৩. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪২
ওবায়েদ বলেছেন: XYZ এর মন্তব্য........



আজ সবাই সবকিছু ভুলে গেল? আদালতের রায়ে আজ এ সূর্যসন্তানরা খলনায়ক, আর মুজিব মহানায়ক! ইতিহাস একদিন কথা বলবেই - মুজিব হবে ইতিহাসের খলনায়ক, আর এরা হবে ইতিহাসের মহানায়ক! এ আদালত আওয়ামী পোষা - তাই এ আদালতের বিচারে মুজিব হত্যা শুধুই একটা হত্যাকান্ড, এটা কোন সেনা বিদ্রোহ বা সামরিক অভ্যুথ্থান কিংবা রাস্ট্রক্ষমতা থেকে মুজিবকে উৎখাত প্রচেষ্টার ফল নয়। কারণ এ দু’য়ের মধ্যে পার্থক্য আছে - হত্যাকান্ড এবং অভ্যুথ্থান /রাস্ট্রক্ষমতা থেকে উৎখাত প্রচেষ্টার রায় ভিন্ন ভিন্ন। আদালত আওয়ামী পক্ষে যা যায় তাই বেছে নিয়েছে। মুজিব হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকালে বিচারকদের পাঁচটি বিবেচ্য বিষয়ের মধ্যে প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলঃ “১৫ আগস্টের ঘটনাটি 'সেনা বিদ্রোহ' নাকি ‘হত্যাকাণ্ড’?” এ প্রসঙ্গে আসামিপক্ষের যুক্তি ছিল - মুজিব হত্যা কোনক্রমেই একটা সাধারণ হত্যাকান্ড ছিলনা, বরং তা ছিল একটা সেনা অভ্যুথ্থানের ফল। স্বৈরাচারী নিষ্পেষণ হতে জাতিকে মুক্ত করার জন্য রাস্ট্রক্ষমতা থেকে মুজিব সরকারকে উৎখাতের অভিপ্রায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট একটা অভ্যুথ্থান সংঘটিত হয়েছিল। এ অভ্যুথ্থানের পর একটা সামরিক সরকার গঠিত হয়েছিল - যার প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (ও রাস্ট্রপতি) ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। যে কোন বিবেচনাতেই এটা ছিল দেশব্যপী চরম দুঃশাসনের বিরুদ্ধে একটা সফল সেনা বিদ্রোহ বা সামরিক অভ্যুথ্থান এবং মুজিব হত্যা এ অভ্যুথ্থানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অথচ বিচারকবৃন্দ এটা যে সেনা বিদ্রোহ বা সামরিক অভ্যুথ্থান ছিল তা বিবেচনায় না এনে, একে শুধুমাত্র মুজিব হত্যা হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে - যা আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়। কারণ এরা আওয়ামী লীগের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক। অন্য সব বিষয়েও বিচারকবৃন্দ যা আওয়ামী লীগের পক্ষে যায় -তাই করেছে।
রিভিউ পিটিশন হবে আওয়ামী আদালতের এ পক্ষপাতিত্বমূলক ভূমিকার প্রেক্ষিতে- যদিও আদালত কি বলবে তা জানাই আছে। ইতিহাসকে হয়তো কিছুদিনের জন্য ছাইচাপা দিয়ে ঢেকে রাখা যায়, কিন্তু ঐ ছাইচাপা থেকে ইতিহাসের সত্য একদিন জ্বলে উঠবেই - বিশেষ করে এ জিটিটাল টেকনোলজির যুগে। মনে রাখতে হবে, আদালতের রায়ই এখানে চূড়ান্ত নয় - আগামীতে এ ইতিহাসের সত্য উদ্ঘাটনে প্রচুর গবেষণা হবে। আদালতের রায়ে না হলেও ইতিহাসের রায়ে একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে - মুজিব হত্যা কোনক্রমেই একটা সাধারণ হত্যাকান্ড ছিলনা, বরং তা ছিল একটা সফল স্বতঃস্ফূর্ত সেনা অভ্যুথ্থানের ফল। স্বৈরাচারী নিষ্পেষণ হতে জাতিকে মুক্ত করার জন্য রাস্ট্রক্ষমতা থেকে মুজিব সরকারকে উৎখাতের অভিপ্রায় নিয়ে এ মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট একটা সফল অভ্যুথ্থান ঘটিয়েছিল - এ হচ্ছে ইতিহাসের চরম সত্য। এ অভ্যুথ্থানের ফলে দেশের মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল, একদলীয় শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি পেয়ে জাতি বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছিল, শুধুমাত্র চারটি নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্রের পরিবর্তে জাতি পেয়েছিল অসংখ্য অনিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র সহ অবাধ বাক স্বাধীনতা, দেশ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ মুক্ত হয়েছিল, পেয়েছিল সৌদী আরব ও চীনের মত দেশগুলোর স্বীকৃতি, জাতি মুক্তি পেয়েছিল মুজিব পবিবারের অন্যায় অত্যাচার ও নৃশংসতা থেকে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ সিকিম-ভূটান না হয়ে এর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেয়েছিল। এমনকি আওয়ামী লীগও (যা ‘৭৫-এর ১৫ই আগস্টের আগে বাকশালে বিলীন হয়ে গিয়েছিল) তার পুনর্জম্মের জন্য ঋণী এ অভ্যুথ্থানের কাছেই।
তবে যে কোন পরিস্থিতিতেই শেখ মুজিব ও তাঁর পরিবারের এ হত্যাকান্ড কাম্য নয় - যদিও মুজিব একদিকে দেশকে অবক্ষয়ের শেষপ্রান্তে পৌঁছে দিয়ে এবং অন্যদিকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকার পরিবর্তনের সব রাস্তাই বন্ধ করে নিজের ও পরিবারের এ মর্মান্তিক পরিণতিকে অনিবার্য করে তুলেছিলেন। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ দৃষ্টে প্রতীয়মান যে, এ মুক্তিযোদ্ধাদেরও মুজিবহত্যার পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র ছিলনা -তাঁদের পরিকল্পনা ছিল মুজিব-সরকার উৎখাতের। যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল - তা ছিল অভ্যুথ্থানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আদালত এদের ফাঁসীর আদেশ দিয়ে প্রকারাস্তরে এদের ইতিহাসের মহানায়ক বানিয়ে দিল!
৪. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬
ওবায়েদ বলেছেন: XYZ এর মন্তব্য........


আমার মতে ফাঁসী যদি হতে হয় -তবে সবার আগে শফিউল্লাহর হওয়া উচিৎ - যে রাস্ট্রপতিকে রক্ষার কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। বরং মুজিবের মত একজন ক্যারিশম্যাটিক নেতাকে বাড়ীর পিছন দিয়ে পালিয়ে আসার পরামর্শ দিয়ে এবং পরবর্তীতে তা প্রকাশ্যে বলে শফিউল্লাহ মুজিবের অবমাননা করেছে। রাস্ট্রপতিকে রক্ষা করতে গিয়ে শফিউল্লাহর মৃত্যু হলেও সে মৃত্যু হতো গৌরবের। আওয়ামী লীগ করে বলে শফিউল্লাহ পার পেয়ে গেল।

এ ১২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসীর আসামী করে আওয়ামী লীগ তাবৎ সেনাবাহিনীকেই ফাঁসীর আসামী বানিয়ে ফেললো - কারন এরা সবাই সেনাবাহিনীর সদস্য। শুধু সেনাবাহিনীই কি মুজিব হত্যার সাথে জড়িত? কোন রাজনীতিক কি এর সাথে জড়িত ছিলনা? ওসব রাজনীতিক আওয়ামী লীগার ছিল বলে তারা রেহাই পেয়ে গেল? অথচ আওয়ামী লীগাররাইতো মুজিব হত্যার পর সরকার গঠন করেছিল! আওয়ামী লীগ সেনাবাহিনীর ভাবমুর্তির আর কত ক্ষতি করবে - প্রথমতো রক্ষীবাহিনী করেছিল সেনাবাহিনীকে কোনঠাসা করার জন্য -আর এবারতো বিডিআরকে দিয়ে সেনাবাহিনীকে ধ্বংশের আরেকটা মিশন শেষ করলো। মনে পড়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অনুপস্থিতিতে জাতি যখন দিশেহারা, ২৫শে মার্চের সেই কালো রাত্রিতে অকুতোভয় সেনানীরাই অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল - স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল - দিকনির্দেশনাহীন জাতি একটা দিকনির্দেশনা পেয়েছিল। যে যত বিতর্কই করুন না কেন - ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’র একক কৃতিত্ব ও গৌরব সেনাবাহিনীর। রাজনীতিকরা পিছিয়ে গেলেও দেশপ্রমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনী জীবন বাজি রেখে হলেও পদক্ষেপ নিতে পিছপা হয়নি। প্রত্যেকের অবদান যথাযথ ভাবে স্বীকার করা উচিৎ। কৃতিত্ব ছিনতাইয়ে গৌরব বাড়েনা। রাজনীতিকরা সেনাবাহিনীর এ কৃতিত্ব ও গৌরব আজও ছিনতাই করতে চাচ্ছেন। মনে পড়ে কত অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রায় ধ্বংশপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীকে জিয়া তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দিয়ে আধুনিক বাংলাদেশের উপযোগী একটা সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। হাসিনা-এরশাদ-মইনরা জিয়ার এ অর্জনকে ধূলিসাৎ করে দিল। মুজিব বলেছিলেন -বাংলাদেশ প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড, এর সেনাবাহিনীর কোন প্রয়োজন নেই। মুজিব নেই, কিন্তু হাসিনা-এরশাদ-মইন-তাপস-ভারত আছে এ লক্ষ্য হাসিলের জন্য!

৭৫-এর ১৫ই আগস্ট এ সূর্যসন্তানরা অসীম সাহসে জাতির জন্য যে অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছিল - জনগণের বারংবার ম্যান্ডেটে বিএনপি সুযোগ পেয়েছিল তা কাজে লাগিয়ে দেশের সাংস্কৃতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক অঙ্গনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটানো -যা মালয়েশিয়াকেও অতিক্রম করতে পারতো - বিএনপি তাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এতে আজ শুধু বিএনপিই বিপর্যস্ত নয, পুরো দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বই বিপর্যস্ত। এ জাতি কার উপর নির্ভর করবে? কোথায় সেই আগামীর রাস্ট্রনায়ক ‘মাহাথির’?
৫. ২৩ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:১৬
রাকিব খান বলেছেন: A judgment cannot rewrite the history. So, do not worry.
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৯

লেখক বলেছেন: বলতে না, জানতে আছি।

৭. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৫
মামুন বিদ্রোহী বলেছেন: হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: বলতে থাক।
২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১৩

লেখক বলেছেন: এইটা কি গীবত হইলো?

৯. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:২৪
ইরফান আহেমদ বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬২৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি এক বাংলাদেশী।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই