মতিঝিলে শাপলা চত্বরে দাঁড়িয়ে আছি। অনেক কাজের মধ্যেও হঠাৎ হঠাৎ দাঁড়িয়ে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের এই বদ অভ্যেসটা আমার আছে ষোল আনা! কখনও ধরা খাইনি বলে পস্তাইনি আর পস্তাইনি বলে দোষটা শোধরায়নি। আমরা বছর বছর যে কি পরিমাণ ব্যস্ত হয়ে পড়ছি সেটাই দেখছি এখন! কারণে-অকারণে ড্রাইভারদের হর্ন, রিক্সার টিং টিং কানের শক্তির নির্মম পরীক্ষা নিয়েই চলেছে অবিরত! আর গালি গালাজ তো আমাদের সংস্কৃতির অংশই!
দরজা ধরে কোন যাত্রী উঠলো, তার মুখ দেখতে পেছন ফেরা অবস্থাতেই বাস চালু করে দিলেন ড্রাইভার। এবারই পেরোতে না পারলে আর কোন সুহৃদ ড্রাইভার কোন সুযোগ দেবে না বলে এখনই রাস্তা পেরোতে চাইলেন এক পঞ্চাশোর্ধ ভদ্রলোক। ফলাফল, অর্ধশতকের পুরোনো পা খুঁজে পায় কৈশোরের গতি। মুহূর্তের জন্য জীবনের মূল্য গতি বাড়িয়ে দেয় হৃদপিন্ডের। যাক বাবা! এ যাত্রা একটা কিনারা হল! কিন্তু তার পর পথচারীর কোন ক্ষোভ বা ড্রাইভারের কোন ভ্রুক্ষেপ চোখে পড়ল না। ব্যাপারটা স্বাভাবিক বটে!
কাকরাইলের মসজিদ পার হয়ে শেরাটনের পথে ব্যাপক জ্যাম। সুতরাং ফুটপাথ বাইকাররা সক্রিয় ভূমিকায়! আমি কেন এতবার হর্ন দেবার পরেও জায়গা ছাড়ছি না তা আমার মুখে মনে হয় লিখা আছে! বাইকাররা ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে। দৃষ্টিদিয়ে ভষ্ম করার চেষ্টা চালাচ্ছে আমাকে। আমি নির্লিপ্ত! কিছু করতে পারলে তো মটরসাইকেলে পিষেই মারতে পারতি, এমন একটা ভাব নিয়ে হাঁটছি আর ভাবছি ব্যস্ততার কাছে মূল্যহীন নাগরিক অধিকারের কথা!
এবার একটা রিক্সায় বসে নাগরিক ব্যস্ততার সর্বোচ্চ রূপটা অনুভব করছি। রিক্সাওয়ালা মনে হয় এ যুগের বাংলাদেশের জন হেনরী! গাড়ির আগে তাকে যেতেই হবে! দশ টাকা রিক্সাভাড়ার জন্য নিজের ও আমার জীবনকে তিনটে চাকার উপর ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ আমাকে যথাস্থানে পৌঁছে পাওয়া প্রথম যাত্রীকেই সে বলবে, "যামু না!" তাহলে কিসের এত তাড়া? অনেক স্বপ্নের স্বাধীনতার ৩৭ বছর পরও আমাদের কিছুই হয় নি। আগামী ২০ বছরের ফোরকাস্টিঙেও অর্থনীতিতে কোন মহা বিপ্লবের খবর নেই। তাহলে কিসের এত মূল্যবান ব্যস্ততা যার কাছে আমাদের জীবনও বিক্রি হয়ে যায়? অধিকার বিক্রি হয়ে যায়?
আমাদের ব্যস্ততা কি অলসতা প্রসূত নাকি ধৈর্য্যহীনতা প্রসূত? কিসে আমাদের এতটা আত্মকেন্দ্রীক করে তুলছে? এসব প্রশ্নের উত্তর ভাবছি আর ঘরে ঢুকছি। এখনও কানে আসছে ব্যস্ত হর্নের আওয়াজ, রিক্সার টিং টিং। অবশ্য গালিগালাজটা এতদূর পৌঁছোতে পারছে না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



