“এক খুশির সংবাদ,বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশী হত্যার প্রতিবাদে ভারতের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ ঘোষণার প্রথম দিনেই প্রায় সাড়ে ১০,০০০+ ইন্ডিয়ান সাইট হ্যাক করে নিয়েছে বাংলাদেশী হ্যাকারেরা।হ্যাক করা সাইটগুলোতে ঝুলছে ফেলানির লাশের ছবি।”
আজ সকালে ঘুম ভেঙ্গেই ফেসবুকের বদৌলতে সংবাদটি দেখলাম।দেখে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলাম।ফাইনাল পরীক্ষার কারণে অনেকদিন ধরে ব্লগে আসা হয়না।মাঝে মাঝে যখন উঁকি মারি তখন অনেক ভারতবিদ্বেষী লেখা চোখে পড়ে।চোখে পড়ে আমার মত ফেলানির অনেক ভাইবোনের নীরব প্রতিবাদ আর ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রতিশ্রুতি।কিন্তু আসলেই কি আমরা তা করতে পারছি বা পারব?
সীমান্তে প্রতিনিয়ত বেওয়ারিশ কুকুরের মত মানুষ মরছে,নির্যাতিত হচ্ছে।এসব ভিডিও ইউটিউবে আসছে,আমরাও দেখছি।চরম আহত হয়ে কেউ হয়ে পড়ছি বাকহারা,কেউবা ভারতীয়দের গোষ্ঠী উদ্ধার করে দুয়েকটা জ্বালাময় কমেন্ট করছি আর কেউবা জানাচ্ছি সমবেদনা।কিন্তু যে জাতির গোঁড়ায় গলদ সেই জাতির এমন লম্ফঝম্ফ হাসির উদ্রেক করে বটে।ক্ষুব্ধ জনতা,নীরব সরকার!আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যস্ত আমাদের দেশরক্ষকরা(!)।আর তাই ফেলানিরা এভাবেই মরতে থাকবে নির্বিচারে।কারণ তারা কোন প্রাক্তন বা বর্তমান মন্ত্রীর সন্তান বা নাতি-নাতনী নয়!
রক্ষকদের কথা নাহয় বাদই দিলাম।আমরা কি করছি?শাহরুখ খান আমাদের দেশে এসে কনসার্ট করে যান।আমরা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে তা দেখতে যাই,মাতলামি করে স্টেজে ফালতু কথা বলে হাসির খোরাক হই।আমাদের দেশে বিপিএল এর মত আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠানে বিপাশা বসু বা মালাইকা অরোরা না নাচলে জমেইনা।আজ আমাদের প্রতি ১০০টি ঘরের মধ্যে ৯০টি ঘরেই টিভিতে ইন্ডিয়ান চ্যানেল ছাড়া আর কোন চ্যানেল চলেনা।কোন সিরিয়ালে কোন অভিনেত্রী কোন ড্রেস পরল,কোন শাড়ি পরল,কোন গয়না পরল তা আমাদের বোন-ভাবীদের চেয়ে ভাল কেউ বলতে পারবে বলে মনে হয়না।ভাই-দুলাভাইরাও পিছিয়ে নেই কুর্তা,শেরওয়ানি,শার্ট-প্যান্ট এর কাট এমনকি চুলদাড়ির স্টাইল অনুকরণেও।ঈদের উৎসব অপূর্ণই থেকে যায় নূর ফেব্রিক্সের ইন্ডিয়ান বুটিকের ড্রেস বা ইন্ডিয়ান আনারকলি না থাকলে।নিজের বা নিকট আত্মীয়ের বিয়ে,সমস্যাই নয়!কাশিস বা তায়েফের ইন্ডিয়ান ক্যাটালগের একটা শাড়িই যথেষ্ট নিজেকে সবচে গর্জিয়াস প্রমাণ করতে।আর মন চাইলে তো এখন নির্দিষ্ট মুভি বা সিরিয়ালের নির্দিষ্ট ড্রেস বা শাড়িই আনিয়ে নেয়া যায়,একটু খরচ করতে হয় এই যা!আজকাল তো আমরা গয়না কিনতে গেলে জয়পুরী ডিজাইন ছাড়া চোখেই পড়েনা।আর আমাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান তো মুন্নি বাদনাম,শীলা কি জাওয়ানি বা উ লা লা ছাড়া জমেইনা।ইন্ডিয়ান মুভিতে আইটেম গার্লের মত আজকাল আমাদের উচ্চশ্রেনীর পার্টিতেও আকর্ষণীয় মেয়েদের রাখা হয়।যাদের ভদ্রভাষায় বলা হয় ‘কয়েন’।আমাদের দেশে এসে অগ্নিমিত্রা পালের মত নামী ইন্ডিয়ান ফ্যাশন ডিজাইনাররা শো করে যাচ্ছেন।আমাদের ধনবান সমাজপতিরা নিলাম হেঁকে লক্ষ লক্ষ টাকায় কিনে নিচ্ছেন সেসব শাড়ি-ড্রেস আর পত্রিকায় শিরোনাম হচ্ছেন।কালো টাকা সাদা করার কি অভিনব কৌশল!আবার সেসব টাকা ব্যয় হচ্ছে দেশের অবহেলিত শ্রেণীর উন্নয়নে।আদৌ তা হচ্ছে কিনা আমরা খবর নিতে যাইনা শুধু দেখে যাই চারপাশে দারিদ্রের নির্মম থাবা আর আমাদের সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়ন!আর আমরাই কিনা বদলাবো!আমরাই কিনা বর্জন করব ভারতীয় পণ্য!
আমার এ লেখা কাউকে ব্যাক্তিগতভাবে হেয় করার জন্যে নয়।আমি নিজেও এই অভিযোগের বাইরে নই।আমি কোন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ নই,তবে চিন্তা করতে ভালবাসি।কিন্তু চারপাশে চিন্তা-চেতনা,কথা ও কাজে এত ভারসাম্যহীনতা দেখতে দেখতে স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলছি!
(১৩ই ফেব্রুয়ারী,২০১২ইং)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





