somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধী, মইত্যা রাজাকার নিজামীর পলায়ন

০১ লা অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৫:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখন ১৯৭১ নয়। কালের প্রবাহে পাবনার ইছামতি নদী দিয়ে অনেক পানি গড়িয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ঘটে গেছে প্রতিবিপ্লব। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হয়েছে। জেনারেল জিয়ার বদৌলতে নিজামীরা প্রাণে বেঁচে গেছে। পেয়েছে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ। নিজ স্বার্থে ধর্মকে স্বার্থক ব্যবহার করেছে, করছে নিজামী। ইসলামে নারী নেতৃত্ব বৈধ না হলেও নিজামীরা ধর্মব্যবসায়ী হওয়ায় ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার জন্য এখন মানছেন। নিজামীর শিষ্য আলী আহসান মুজাহিদের ভাষায় খালেদা জিয়া যেন তাদের ‘নয়নমণি’।
জেনারেল জিয়ার সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যবহার করে হয়েছিল ক্ষমতার অংশীদার। সে আর ‘মইত্যা রাজাকার’ নয়, সে হয়েছিল তথাকথিত মাননীয় সাবেক শিল্পমন্ত্রী এবং মহাক্ষমতাধর ব্যক্তি। বাংলাদেশের পুলিশ তাকে দিন রাত পাহারা দিত। শুধু পুলিশ কেন প্রয়োজন হলে চিতা, কোবরা, বিডিআর এমন কি সেনাবাহিনীও তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতো।
মইত্যা রাজাকার নিজামী ক্ষমতার ভাগ পেয়ে ভাবল ৩৫ বছর কম তো সময় নয়। আমার হাতে এখন আর বাঙ্গালির রক্তের দাগ নেই। আমিতো জাতীয় স্মৃতিসৌধেও গেছি। কই কেউ তো আমাকে কিছু বলেনি। সবাই আমার ’৭১-এর ‘কুকীর্তি’ ভুলে গেছে। আমি যাব বিশালিখায় (?) যেখানে একদিন আমি পাকিস্তান রক্ষার নামে বধ্যভূমি সৃষ্টি করেছিলাম। সেখানেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করে বিশালিখার মানুষকে দেখিয়ে দেব আমি কেমন শক্তিধর।
কিন্তু অবস্থা বেগতিক। নিজামীর আগমন বার্তা পেয়েই স্বজন হারানো মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। গর্জে উঠে গ্রামবাসী। ‘তারা মইত্যা রাজাকার নিজামীকে গ্রামে ঢুকতে না দেয়ার ব্যাপারে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আগমনের আগের রাতেই ঘাতক নিজামীর নামফলক ভিত্তিপ্রস্তর স্তম্ভটি গুড়িয়ে দেয়। গ্রামের সকল রাস্তাঘাট, হাটবাজারসহ বাড়ি বাড়ি কয়েকশ’ কালো পতাকা উড়িয়ে দেয়। গ্রামে প্রবেশের মুখে গাছের গুড়ি ফেলে বেরিকেড সৃষ্টি করে। পরের দিন শনিবার দুপুরে ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের নির্দিষ্ট সময়ের আগে গ্রামবাসী বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে অনুষ্ঠান স্থানসহ গোটা গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। এ সময়ে গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিজামী খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামলাতে নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে সটকে পড়ে’। একাত্তরে এ গ্রামের মানুষের উপর অত্যাচার-নির্যাতন মাওলানা মতিউর রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে বলে গ্রামবাসী মনে করে। তারা বিশ্বাস করেন, নিজামী এ গ্রামে ঢুকলে শহীদদের আত্মা কষ্ট পাবে। তাই শহীদদের পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধারাসহ গ্রামের সর্বস্তরের লোকজন নিজামীকে গ্রামে ঢুকতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
নিজামীর কথায় টিএনও ডিসি পুলিশ অফিসার উঠ-বস করত। কিন্তু সেদিন রাজাকার নিজামীকে কেউ রক্ষা করতে পারেনি। একটি পাড়াগাঁয়ের স্বজন হারানো সাহসী মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় কথিত ‘সম্মানিত’ শিল্পমন্ত্রী। ২০০৬ সালে নিজামীর লেজ গুটিয়ে পলায়নের দৃশ্য আবার প্রমাণ করে ভোল পাল্টালেও আসলেই সে ‘মইত্যা রাজাকার’। ছোট গ্রাম বিশালিখার বীর জনতা সারা বাংলাদেশের মানুষকে শিখিয়ে দেয় কিভাবে রুখতে হয় স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী নিজামীদের। সাবাস বিশালিখার গ্রামবাসী।
(সংগৃহীত)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৪২
৩২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×