somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন প্রবাসী কীর্তিমান ◄► সৈয়দ মাহফুজুল আজিজ ►একটি আশাজাগানিয়া গল্প

০৬ ই মে, ২০১০ সকাল ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আরো অনেকের মতো প্রথমে আমিও পড়িনি নিউজটা। আসলে পড়তে পারিনি। দেশের পত্রিকা, ব্লগের শিরোনাম এখন রাজনৈতিক হানাহানি। তাছাড়া এই ক্যাচালগুলোর মাঝে পড়ে সময় যে পত্রিকা + ব্লগ পড়ার জন্য বরাদ্দ সময়টুকু যে কীভাবে পার হয়ে যায় তা বোঝা কষ্টকর।

এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর অনুরোধে প্রায় সপ্তাহখানেক আগের লেখাটা খুঁজে বের করে পড়তে বাধ্য হলাম। পড়া শেষ করে একই সাথে বিস্ময় আর বেদনা বোধ করলাম।

পরিচয় একটাই - "বাংলাদেশি"। এই বাংলাদেশিরাই বিদেশের মাটিতে সাফল্যের দ্যুতি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আবার তারাই নিজের দেশে নিজের ভাইকে ধারলো অস্ত্রের আঘাতে রাঙিয়ে দিচ্ছেন! :(
আর এইসব বিষয় নিয়েই প্রায় সারাদিন লড়ছি আমরা ব্লগাররা।

'ব্লগার' - যাদের কিনা ইন্টারনেটের মতো অত্যাধুনিক একটি প্রযুক্তির সংস্পর্শে থাকার সুযোগ রয়েছে। আমরা সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার না করে করছি নষ্ট রাজনীতির গুনগান!!

এবার পড়ুন কিছু আশাজাগানিয়া গল্প। নিজের প্রচন্ড ভালো লাগা থেকেই ব্লগারদের সাথে লেখাটা শেয়ার করতে বাধ্য হলাম। [সূত্র: ছুটির দিনে, প্রথম আলো ১ মে ২০১০]

░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░

চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে ক্যানবেরার পার্লামেন্ট হাউসে। নৈশভোজের ঠিক আগমুহূর্ত। গোটা অস্ট্রেলিয়ার সামনের সারির সব শিক্ষক ও গবেষক সেদিন হাজির পার্লামেন্ট ভবনে। আছেন শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা পাওয়া ২৪ জন শিক্ষকও। উত্তেজনাটা মোটামুটি তাঁদের ঘিরেই। তাঁদের যেকোনো একজনই পাবেন এবারের প্রাইম মিনিস্টার অ্যাওয়ার্ড। পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার। অর্থের অঙ্কের চেয়েও বড় কথা, গোটা অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষক মহল জানে, এটাই তাদের দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার।

পাঁচ সদস্যের বিচারক পরিষদের ব্যাপক যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্ধারিত হয় বিজয়ীর নাম। এমনতর পুরস্কার ঘোষণার আগে উত্তেজনা থাকবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। সম্মাননা পাওয়া ২৪ শিক্ষকের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের সৈয়দ মাহফুজুল আজিজও। নাম ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে ঘটে গেল ছোট্ট একটা নাটক।

প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে পুরস্কার তুলে দেন, এটাই নিয়ম। জানানো হলো, বিশেষ কারণে অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড। সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করে একটি বাণীও পাঠিয়েছেন তিনি। কেভিনের বাণী পড়ে শোনানো হলো। তারপর নীরবতা। নিচুস্বরে আলাপ করছিলেন কেউ কেউ। খানিক পর সে শব্দও স্তিমিত হয়ে এল। ঘোষণা হলো বহুল প্রতীক্ষিত সেই সম্মাননা বিজয়ীর নাম—ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ "মাহফুজুল আজিজ"।

‘মনে মনে যে একটু আশা হচ্ছিল না তা নয়। কিন্তু আশপাশে এত সব দিকপাল মানুষজন, তাই ভেতরে ভেতরে আবার সংকোচিতও ছিলাম একটু। প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড সেদিন বিশেষ কারণে আসতে পারেননি। তাঁর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনেটর মার্ক আরবিব।’—মাহফুজ আজিজ বলছিলেন মাস ছয়েক আগের সেদিনকার কথা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক এবার দেশে ফিরেছিলেন তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে। জানালেন, যত ব্যস্ততাই থাকুক, দেশের এ ধরনের কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সুযোগ সহজে ছাড়তে রাজি নন তিনি।

এত সব প্রথিতযশা শিক্ষকের মধ্যে মাহফুজ আজিজকে বেছে নেওয়ার কারণ কী? তার উত্তরও দিয়েছেন বিচারকেরা।

মাহফুজ আজিজ মূলত করেন ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ডিজাইন ও কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ডিজাইনের কাজ। কিন্তু পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার ওপরই জোর দেন বেশি। গুরুত্ব দেন ছাত্রদের স্বাধীন ভাবনাচিন্তা, নিজে মাথা ঘামিয়ে সমস্যার সমাধান, নতুন চিন্তা করার ক্ষমতা—এসব কিছুর ওপর। এই ঘরানার সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতিরই কেতাবি নাম প্রজেক্ট-বেজ্ড লার্নিং। এই প্রজেক্ট-বেজ্ড লার্নিংই মূলত মুগ্ধ করেছিল বিচারকদের।

এই বিশেষ শিক্ষাপদ্ধতির মূল ব্যাপারটা আরেকটু খোলাসা হতে পারে মাহফুজ আজিজের কথায়—

‘আমি চাই ছাত্রদের একদম হাতে-কলমে ডিজাইন করার কাজটা শেখাতে। ছোট ছোট প্রকল্প থেকে ধীরে ধীরে তাদের বড় প্রকল্পে আগ্রহী করে তোলা হয়। ছাত্র অবস্থায়ই তারা পেশাদার লোকজনের মতো কাজ করতে শিখে যায়। ফলে কর্মজীবনে গিয়ে দ্রুত জায়গা করে নিতে তাদের কোনো সমস্যা হয় না।’



প্রবাসী কীর্তিমান এই মানুষটির বৃহত্ একটি অর্জনের কথা আমরা জেনেছি। তাঁর বেড়ে ওঠার কথা জানতে হলে আমাদের ক্যানবেরা থেকে ফিরতে হবে পুরান ঢাকার র্যাংকিন স্ট্রিটে। সময় ১৯৬১ সাল। এ বছরেই জন্ম মাহফুজ আজিজের। জানতে হবে সৈয়দ আবদুল আজিজের নাম। আদর্শ শিক্ষক হিসেবে নিজেকে গড়ার প্রথম পাঠটা মাহফুজ আজিজ পেয়েছিলেন বাবা আবদুল আজিজের কাছ থেকেই। অসম্ভব বিদ্যানুরাগী মানুষ ছিলেন তিনি। বলাই বাহুল্য, অবদান কোনো অংশে কম নয় মা জোহরা খাতুনেরও। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও নটর ডেম কলেজের পাঠ চুকিয়ে আবদুল আজিজ ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৮৯ সালে এল দেশের বাইরে যাওয়ার ডাক। মিলল কমনওয়েলথ বৃত্তি। ইংল্যান্ডের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেন পিএইচডি ডিগ্রি। তারপর দেশে শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন।

১৯৯৯ সালে তিনি পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় সরাসরি সিনিয়র প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। এখন ইনফরমেশন টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড দি এনভায়রনমেন্ট বিভাগের একাডেমিক ডিরেক্টরের বিশাল দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। মা ও বাবা গত হয়েছেন বেশ অনেক দিন। সপরিবারে এখন তিনি বসবাস করছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে তাঁর নিজের বাড়িতে। স্ত্রী তানজিমা রহমান। মেয়ে সাদিয়া মাহফুজ লেখাপড়া করেছে কম্পিউটারবিজ্ঞানে। ছেলে মারুফুল আজিজ পড়ে নবম শ্রেণীতে।

ঢাকার মোহাম্মদপুরে বোনের বাসায় এসে উঠেছিলেন তিনি। পরদিনই আবার রওনা হবেন অস্ট্রেলিয়ার পথে। আলাপ শেষে বেরিয়ে আসব। তিনি এগিয়ে দিতে এলেন লিফট পর্যন্ত। লিফটের দোরগোড়ায় পা রেখে মনে পড়ল আসল প্রশ্নটাই তো করা হয়নি। পেছনে ফিরে জানতে চাই, ভালো শিক্ষক হওয়ার মূলমন্ত্রটা আসলে কী? জবাবটা যেন তাঁর তৈরিই ছিল, ‘একজন শিক্ষক মানে আসলে আজীবনের ছাত্র। ভালো শিক্ষক হতে চাইলে আগে আজীবন ছাত্র হওয়া চাই।’

░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░░

খুব অবাক লাগে যখন দেখি এধরনের খবর দেশের সংবাদপত্রগুলোতে স্থান পায়নি, শীর্ষ সংবাদ হওয়া তো দূরে থাক! হানাহানি, টেন্ডারবাজি, খুন, দূর্ণীতি, তোষামোদি, মিথ্যাচারি আমাদের দেশের পত্রিকারগুলোর জন্য যোগ্য শিরোনাম।

একটি দেশের উন্নতি কি আসলেই এত সহজ!

ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তো বলেই গেছেন: যে দেশে জ্ঞানের সমাদর নেই সেদেশে জ্ঞানী জন্মাতে পারে না!!

এদেশে যাদের সমাদর করা হয় তারা তো চক্রবৃদ্ধিহারে বংশবৃদ্ধি করে দেশের পাল উল্টোদিকে উড়িয়ে চলেছেন। আর আমরাও ভেসে চলেছি সেই পালে হাওয়া দিয়ে! X((
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১০ সকাল ৮:৫১
১৪টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×