আমার শৈশব ছিল বিচ্ছিন্ন সুখের, বিবর্ণ একাকীত্বের। বারান্দার গ্রিল ধরে থাকা বিষণ্ণ বালকের। কিশোরী মার প্রথম সন্তান আমি। কখনো তাঁর চোখের আড়াল হতে পারতাম না। বিকেলের ধূলোমাখা দিনগুলো অনেক বেশি সংক্ষিপ্ত ছিল। নাম ভুলে যাওয়া ছেলেদের সাথে পাল্লা দিয়ে রংচটা ঘাসের মাঠে ফুটবল-ক্রিকেট কিংবা আম্মুর চোখ ফাঁকি দিয়ে পাড়ার দোকানে একটু ভিডিওগেম খেলা, এইসব বড্ড মনে পড়ে। সবাই বলতো আমি নাকি বড় হয়ে বিজ্ঞানী(!) হব।
মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া ওষুধের বোতল নিয়ে সারাদিন পড়ে থাকা, কুড়িয়ে পাওয়া টেস্ট টিউবে রঙয়ের বিচ্ছুরণ আর খেলনার ভেতরে খুলে দেখা যন্ত্রাংশ আমার শৈশব, কার্টুন নেটওয়ার্কে আলাদিনের ম্যাজিক কার্পেট, টারজানের সবুজ আফ্রিকা আর বিটিভিতে দেখা ‘মিস্টিরিয়াস আইল্যান্ড’ আমার শৈশব, আব্বুর কোলে বসে প্রথম ছড়া উচ্চারণ আমার শৈশব, গ্রামের বাড়ির ঘাঘট নদী আমার শৈশব, চাচা চৌধুরী-বিল্লু-পিংকি-ফ্যান্টম-টিনটিন আমার শৈশব, শুক্রবারের ছাদখোলা দোতলা মসজিদ আমার শৈশব, ছিঁচকাদুনে মোটু ছোট ভাই আমার শৈশব, স্কুলের ছুটির ঘণ্টায় দ্রুত প্রস্থান আমার শৈশব। দিনে দিনে বড্ড বেলা গড়িয়ে গেছে। আমি আর সেই ছোট্ট জিতু নই। এই দিনগুলোতে আর ফিরতে পারবো না ভেবে মন খারাপ হয়। 'আজ রাতে কোন রূপকথা নেই' গানটা সেই মন খারাপের অগ্নিকুন্ডের দাহ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
নুয়ে পড়া নারকেল পাতায় মস্ত একটা দাঁড়কাক, আমার বারান্দার সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্য। নারকেল পাতার জন্ম হয় সুউচ্চ শিখরে। আস্তে আস্তে ঝুঁকে পড়ে বাঁকা বড়শির মত। শৈশব সেই উদ্ধত নারকেল পাতার মতো। সকালের আলোয় শুধু তার রঙয়ের বিবর্তন।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


