ভাবলেই হাসি পায় আমি ছোটবেলায় পাকিস্তান ক্রিকেট দলের পাঁড় ভক্ত ছিলাম।
আমার রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা ছিল শারজা কাপ, এশিয়া কাপ ঘিরে। পাক-ভারত ক্রিকেট ম্যাচ থাকলে তো স্কুলই যেতে চাইতাম না। মনে পড়ে পোস্টারের দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে সাঈদ আনোয়ার, ওয়াসিম আকরাম, শহীদ আফ্রিদিদের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকা। টিফিনের পয়সা জমিয়ে দু’টাকার স্টিকার কেনা। ভারতের সাপোর্টারদের সাথে গলা ফুলিয়ে করা তর্কের ধোঁয়াটে স্মৃতিগুলো এখনো উঁকি দেয় স্মৃতির মেঘে। বাংলা টিচার মনোয়ারা ম্যামের প্রিয় ছাত্র ছিলাম। উনিই প্রথম আমার কবিতার লুকিয়ে রাখা খাতাটা দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর তীব্র ভ্রূকুটি উপেক্ষা করেও আমি পাকিস্তান-পাকিস্তান করে ক্লাস মাতাতাম! সঙ্গী হিসেবে যাদের পেয়েছিলাম তাদের অনেকেই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। স্কুল জীবনের ইতি ঘটেছে এবং তাদের পাকিস্তান প্রেমের সফল পরিসমাপ্তি ঘটেছে একটি প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলে যোগদানের মাধ্যমে!
বেলা অনেক গড়িয়ে গেছে। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের সেই বিখ্যাত ম্যাচের কথা মনে পড়ছে। তখন আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। পাকিস্তান-বাংলাদেশের ম্যাচের দিন সকালে পাকিস্তান সাপোর্টার বন্ধু জানালো আজও সে পাকিস্তানকেই সমর্থন করবে! আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। অসাম্প্রদায়িক বাবাকে ঘটনাটা বলতেই তিনি আমাকে বলেছিলেন, কেন একাত্তর, পাঁচ মেইল দূরের দমদমা গণকবর আর তীর ধনুকে ভর করে বাঙ্গালির রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও। আমি অবশ্য তখুনি সবটা ঠাউরে উঠতে পারিনি। তবে, আস্তে আস্তে সম্বিত ফিরে পাই। আজ পাকিস্তান ক্রিকেট দল আমার ততটাই অপছন্দের যতটা সেই অভিশপ্ত দেশটা।
ঘুম ঘুম চোখে পত্রিকার পেছন পাতায় চোখ বোলানো আমার ছোটবেলার অভ্যেস।আজ পত্রিকার পেছন পাতায় দেখি বিপিএল দল ঢাকা গ্লাডিয়েটরস এর বিজ্ঞাপন। সেখানে আসরের মধ্যমণি হয়ে আছে পাকিস্তানের জার্সি পড়া উদ্বাহু আফ্রিদি। তার পরের ফোকাসে কাইরন পোলার্ড, সাঈদ আজমল সহ অন্য বিদেশিরা। আমাদের গর্বের আশরাফুল আর মাশরাফির উপস্থিতি সেখানে নিতান্তই দায়সারা। আফ্রিদি, আজমল, নাজির, পোলার্ডরা অনেক বড় খেলোয়াড় হতে পারেন কিন্তু আমার কাছে ঘরের আশরাফুল, মাশরাফিসহ ওন্য স্বদেশী খেলোয়াড়রাও কম নন। আমি এটা ভুলে যাওয়ার বাতুলতা দেখাতে রাজি নই যে শত প্রতিকূলতার মাঝেও লাল-সবুজের জার্সি পরে তাদের নিরন্তর যুদ্ধ। চাই না তাদের একটুও অসম্মান।যে অসম্মানের শুরু হয়েছে আইকন নামের বোঝা তৈরি করে তাদের সম্মানি হাস্যকরভাবে কমিয়ে।
বিদেশিদের পদলেহন আমাদের পুরনো অভ্যেস। ১৭৫৭-১৯৭১ অনেক উদাহরণই আছে। যাকগে সেসব ইতিহাসের কথা। সাদা চামড়ার চোরও আমাদের দেশে ভগবানে পরিণত হয়। বিপিএল এর মতো প্রতিযোগিতা যদি আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড়দের কাজে ব্যবহৃত না হয়ে যদি আইপিএল এ অচ্ছুত বিদেশিদের টাকা কামানোর মচ্ছবে পরিণত হয় তবে তা স্বর্ণের পাথরবাটির মতোই নিষ্ফল স্বপ্নে পরিণত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





