আমার প্রিয় পোস্ট
- আল জাজিরার রিপোর্ট - ইন্টারনেটের মাধ্যমে আদিবাসীরা প্রকাশ করল সত্য - সুদিনের বার্তা
- আমি আরজ আলী মাতব্বরের বই পড়তে চাচ্ছি - সেলিম জাহাঙ্গীর
- খালেদা জিয়া'র জন্মদিনের ডকুমেন্টস - সেলটিক সাগর
- এম এন লারমার স্মারক বক্তৃতা-২ আদিবাসীদের ভূমি অধিকারসহ সাংবিধানিক স্বীকৃতি কেন জরুরি : মঙ্গল কুমার চাকমা ও রোবায়েত ফেরদৌস - রেজা ঘটক
- কল্পনা চাকমা এখন কোথায়? - বিপ্লব রহমান
- পাহাড়ি নিপীড়িত জনগোষ্ঠির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বায়ত্তশাসন দাবীর প্রশ্নে শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন অংশের রঙ বে রঙের জোড়াতালি তত্ত্বের বিপরীতে একটি বিশ্লেষণ। - মনজুরুল হক
রাজা দেবাশীষ রায় জাতিসংঘে আদিবাসী বিশেষজ্ঞ হিসেবে নির্বাচিত: বাংলাদেশ সরকারের আদিবাসী পরিচিতি হাইজ্যাকের অপচেষ্টার প্রতি চপেটাঘাত
০৬ ই মে, ২০১০ ভোর ৫:৩১
৫ এপ্রিল দৈনিক ‘প্রথম আলো’ ছোট একটি খবর ছাপিয়েছে “জাতিসংঘ আদিবাসী বিশেষজ্ঞ হলেন দেবাশীষ রায়” শীর্ষক শিরোনামে। তবে এ সংবাদ প্রচারিত হওয়ার আগেই জেনেছিলাম রাজা দেবাশীষ রায় আদিবাসী বিশেষজ্ঞ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে গত ২৮ এপ্রিল ২০১০ তারিখে আগামী ২০১১ - ২০১৩ মেয়াদের জন্যে জাতিসংঘ আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামে (United Nations Permanent Forum on Indigenous Issues)একজন আদিবাসী বিশেষজ্ঞ সদস্য (Indigenous Expert Member) হিসেবে ঘোষণা করেছে। এরকম একটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ায় আমরা তাকে উঞ্চ অভিনন্দন জানাই। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, তিনি কেবল বাংলাদেশের আদিবাসী নয়, গোটা এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামে কাজ করবেন এবং জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদকে আদিবাসী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করবেন।
এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের কাজ কী কী এবং বিশেষজ্ঞ সদস্যদের কিভাবে নিয়োগ করা হয় সে ব্যাপারে কিছু বলা প্রয়োজন। আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের মধ্যে একটি স্থায়ী সংস্থা। এই স্থায়ী ফোরামের কাজ পরামর্শমূলক। এর বিশেষজ্ঞ সদস্যরা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কার্যক্ষমতার সাথে সংগতি রেখে আদিবাসী অধিকার সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি বিষয় যেমন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, সংস্কৃতি, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানবাধিকার সম্পর্কে জাতিসংঘকে পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। প্রতিবছর এপ্রিল মাসে স্থায়ী ফোরামের বার্ষিক অধিবেশন নিউইউয়র্কে জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক অধিবেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তাবলী গ্রহণ করা হয়। ঐ অধিবেশনে সরকারী প্রতিনিধি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আদিবাসী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে থাকেন।সবার অংশগ্রহণে স্থায়ী ফোরামের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্যে জাতিসংঘসহ সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাগুলোকে আহবান জানানো হয়।
জাতিসংঘ আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম ১৬ সদস্য নিয়ে গঠিত। তার মধ্যে ৮ জন রাষ্ট্র প্রতিনিধি ও ৮ জন আদিবাসী প্রতিনিধি রয়েছেন। তাদেরকে বিশেষজ্ঞ সদস্য (Expert Members) হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাঁরা ২ বছরের জন্যে মনোনীত হন, তবে কোন সদস্য দুই মেয়াদের অধিক স্থায়ী ফোরামের সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন না। রাষ্ট্রপ্রতিনিধিদেরকে জাতিসংঘভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রসমূহ নির্বাচিত করে থাকেন।অন্যদিকে আদিবাসী প্রতিনিধিদেরকে আদিবাসীরা নির্বাচিত করে থাকেন। আদিবাসীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্যে সারা পৃথিবীকে ৭টি আদিবাসী অঞ্চলে বিভক্ত করেছেন। যেমন, আফ্রিকা; এশিয়া; মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল; উত্তর আমেরিকা অঞ্চল; মেরু অঞ্চল; মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ, রাশিয়া ফেডারেশন ও মধ্য এশিয়া; এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। এ ৭টি অঞ্চল থেকে আদিবাসীরা ৮জন আদিবাসী প্রতিনিধি নির্বাচিত করে থাকেন। প্রতি অঞ্চল থেকে ১ জন করে হলে নির্বাচিত হন। তবে অতিরিক্ত ১টি আসনে প্রথমোক্ত তিন অঞ্চল থেকে পালাক্রমে নির্বাচিত করা হয়ে থাকে।এবার এশিয়া থেকে ১ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন এবং তিনি হলেন বাংলাদেশের আদিবাসী নেতা রাজা দেবাশীষ রায়।আদিবাসী প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের দায়িত্ব হলেও প্রথাগতভাবে আদিবাসী সংগঠনসমূহ নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে আসছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদও সেটা মেনে নিয়েছে। এশিয়া দেশগুলো যেমন নেপাল, ভারত, বাংলাদেশ, জাপান, থাইল্যান্ড, বার্মা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান ও কম্বোডিয়ার আদিবাসী সংগঠনসমূহ ভোটের মাধ্যমে গত ১০ ডিসেম্বর ২০০৯ রাজা দেবাশীষ রায়কে এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিল।আদিবাসী সংগঠনসমূহের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কাছে রাজা দেবাশীষ রায়ের নাম পাঠানো হয়েছিল। আর জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ ২৮ এপ্রিল আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের বার্ষিক অধিবেশনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আদিবাসী বিশেষজ্ঞ হিসেবে ঘোষণা দেয়।
বাংলাদেশ থেকে রাজা দেবাশীষ রায়ের এ মনোনয়ন বাংলাদেশের জন্যেও গৌরবের বিষয়, যদিও সরকারের তরফ থেকে তাকে এখনো অভিনন্দন বা শুভেচ্ছা বার্তা কোন কিছুই পাঠানো হয়নি। রাজা দেবাশীষ রায় কেবল আদিবাসী নেতা নন, তিনি সবার উপরে বাংলাদেশের নাগরিক। শিক্ষায় একজন দক্ষ ব্যরিষ্টার। লেখক ও গবেষক হিসেবেও সুখ্যাতি লাভ করেছেন।চাকমা সার্কেলের রাজা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি পার্বত্য মন্ত্রণালয় ও তিন পার্বত্যজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উপদেষ্টা হিসেবে সরকারকে পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে পার্বত্য মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা সংক্রান্ত কৌশলপত্র প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাঁর সুখ্যাতি রয়েছে। জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামে আদিবাসী বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর নিয়োগ তাঁর দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি। তিনি কেবল আদিবাসী প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্যে অনেক অবদান রাখার যোগ্যতা রাখেন। তার অভিজ্ঞতা দেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর জন্যে সরকারকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
রাজা দেবাশীষ রায়ের জাতিসংঘের আদিবাসী বিশেষজ্ঞ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে আদিবাসী বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান সম্পর্কেও কিছু বলা প্রয়োজন বোধ করছি। আওয়ামীলীগ নেত্রী হোক আর বিএনপি নেত্রী হোক, বিরোধী দলে থাকলে ‘আদিবাসী’ সম্বোধন করে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বিবৃতি দেন এবং আদিবাসীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। আর সরকারের গেলে বাংলাদেশ কোন ‘আদিবাসী’ নেই বলে বিদেশীদের কাছে বক্তব্য তুলে ধরেন। এ দ্বিমুখী নীতির কারণে তারা ক্ষমতায় গেলে আদিবাসীদের কথা বেমালুম ভুলে যান। ঠিক বিএনপি সরকারের মত বর্তমান আওয়ামী জোট সরকারও আদিবাসী বিষয়ে একই বুলি আওড়াচ্ছে। যেমন, গত ১১ এপ্রিল জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর আবাসিক প্রতিনিধি ও সমন্বয়কারী মিজ রেনাটা লক ডেসালিয়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপুমণি’র সাথে বিদায়ী সাক্ষাত করতে গেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে বলেছিলেন, বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই। যারা আছে তারা হলো জাতিগত সংখ্যালঘু ও উপজাতি।
ভাবতে অবাক লাগে, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষায়-দীক্ষায় চরম উৎকর্ষের যুগ এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদী চেতনাপ্রসুত ‘উপজাতি’ শব্দটি বিশ্বকে গিলাতে চাচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদিবাসীদের অস্বীকার করলে কী হবে, দেশীয় বিভিন্ন আইনে ‘আদিবাসী’ শব্দের স্বীকৃতি আছে। দেশের কথা না হয় বাদ দিলাম, আন্তর্জাতিক আইনেও যেমন জীববৈচিত্র্য কনভেনশন ‘৯২, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ১৬৯ নং চুক্তি, আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার কনভেনশন ইত্যাদিতে আদিবাসীদের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। জাতিসংঘ সনদের আওতায় প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কাঠামোর মধ্যে আদিবাসীদের জন্যে স্থায়ী ফোরাম গঠিত হয়েছে। সেখানে আদিবাসী প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র প্রতিনিধিদের সাথে পাশাপাশি বসে বিশ্ব আদিবাসীদের কথা তুলে ধরছেন। এসব আন্তর্জাতিক সনদ বাংলাদেশও অনুমোদন দিয়েছে। সরকার এসব আন্তর্জাতিক চুক্তি বা কনভেনশন কিভাবে অস্বীকার করবে? নিজের দ্বিমুখী নীতির জন্যে সরকার নিজেই নিজের ফাঁদে পড়ে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেদিন আদিবাসীদের অস্তিত্ব অস্বীকার করলেন, তার ঠিক তিন সপ্তাহের মাথায় সেই বাংলাদেশের আদিবাসী নেতা রাজা দেবাশীষ রায় জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ীফোরামে আদিবাসী বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পেলেন।বাংলাদেশে যদি আদিবাসী না-ই থাকে, সেই বাংলাদেশের আদিবাসী কিভাবে জাতিসংঘের আদিবাসী বিশেষজ্ঞ হন?
শুধু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নয়, আরো অনেক বাঙালি ভাই-বোন আছেন যারা আদিবাসী শব্দ শুনলেই মুর্ছা যান। আদিবাসীর সংজ্ঞা খুঁজেন, এ বাংলায় কার আগমন প্রথম ঘটেছিল সেসব নিয়ে (কুট)তর্কে নামেন। তখন তারা বাঙালি থাকতে চান না, আদিবাসী পরিচয়টা ‘উপজাতি’দের থেকে হাইজ্যাক করে নিতে চান। আদিবাসী পরিচিতি হাইজ্যাক করার অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও চিৎকার মারেন, বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই। তাঁর এই চিৎকারের জবাবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ কর্তৃক রাজা দেবাশীষ রায়কে জাতিসংঘের আদিবাসী বিশেষজ্ঞ নিয়োগদান বাংলাদেশ সরকারের মুখে বড় চপেটাঘাত - এ কথা জোর দিয়ে বললে অযৌক্তিক হবে না ।
দুনিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। উপনিবেশবাদী ও বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে কোন রাষ্ট্র চলতে পারবে না, এগিয়ে যেতে পারবে না। পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও পরমতসহনশীলতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।বিশ্বব্যাপী আদিবাসী আন্দোলন জোরালো হয়েছে। জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র গ্রহণ করেছে; স্থায়ী ফোরাম গঠন করেছে। এখন আন্তর্জাতিক আদিবাসী আন্দোলনকে বলা হয় ‘চতুর্থ বিশ্ব’। চতুর্থ বিশ্বের আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বাংলাদেশ সরকারের অস্বীকার করার জো নেই। তাই বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে দেশীয়ভাবে আদিবাসীদের যথাযথভাবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া। পশ্চাদপদ চিন্তা পরিহার করে এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রমাণ করতে হবে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক ও বহুসংস্কৃতির পরমতসহনশীল দেশ।
রাজা দেবাশীষ রায়ের প্রতি শুভ কামনা রইল।আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তার কীর্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি হোক।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১০ ভোর ৬:২৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
হায় ঈশ্বর! বলেছেন:
দিলাম প্লাস , বেশি বড় কালকে পরবো
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
অ্যামাটার বলেছেন:
উদ্বিগ্ন হবার মত একটা খবর। দেবাশীষ একজন আত্মস্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারের সন্তান; তাছাড়া একজন সুবিধাবাদি লোক। দেবাশীষ কে জাতিসংঘের কোনও পদে বসানো, তাও আবার আদিবাসী সংক্রান্ত; একটা সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের আলামত দেখতে পাচ্ছি!ভয়ঙ্কর একটা সংবাদের জন্য দিলাম মাইনাস।
লেখক বলেছেন: আপনার মাইনাস-এর জন্যে ধন্যবাদ।
রাজাকার প্রসঙ্গ টেনে এনে মাঠ গরম করে লাভ নেই। দেবাশীষ রায়ের বাবা গো-আজম মুজাহিদ-নিজামীদের মত জঘন্যতম কিছু করেছিলেন কি না জানা থাকলে জানাবেন। তার বাবা বাংলাদেশে এসে বাঙালি রাজাকার গো-আজমের মত সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে নাগরিকত্বও দাবী করেননি। তিনি তার মত ছিলেন, তার মত এখনো আছেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কিছু করছেন না। তিনি পাকিস্তানের নাগরিক। তাই ''আত্মস্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার'' বলে গালিগালাজ করা অপ্রয়োজনীয়।
সুবিধাবাদীর কথা বলছেন। হ্যাঁ, সবাই সুবিধাবাদী। আপনি সুবিধাবাদী না হলে কি এ রকম মন্তব্য করতেন?
আতিকুল হক বলেছেন:
খুশী হওয়ার আগে ভাইবা দেখেন গোআ'র বাচ্চা জাতিসংঘে গেলে খুশী হইতেন নাকি? তাহইলে রাজাকার ত্রিদিব রায়ের বাচ্চা গেলে খুশী হওয়ার কি আছে?
লেখক বলেছেন: ভাই, রাজাকার বলে কি বলতে চাচ্ছেন? আপনার বাংলা ভাষায় কথা আছে, 'জন্ম হোক যথাতথা কর্ম হোক ভাল'। তার বাবা পাকিস্তানে চলে গেছেন বলে, তার ছেলের সবকিছুই বাঁকা চোখে দেখবেন?
গোআ ও ত্রিদীব রায়ের মধ্যে কোন পার্থক্য দেখেন নি? বাঙালির বড় রাজাকার গোআ বাংলাদেশে এসে কোর্টে গিয়ে নাগরিকত্ব আদায় করে নিয়েছে। কই, আপনারা তো কিছুই করতে পারলেন না? অন্যদিকে ত্রিদীব রায় তো বাংলাদেশে আসেনও নি, বাংলাদেশ থেকে কিছু দাবীও করেননি।
তাই, তাই কার বাচ্চা ভাল সেটা আগে বিশ্লেষণ করেন, তারপর খুশী হলে হোন, আর বেজার হলে বেজার হোন।
আতিকুল হক বলেছেন:
আমি সব মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী। আমি মনে করি, সমতল বা পাহাড় যে কোন জায়গাতেই হত্যা-লুণ্ঠন বা মানবতাবিরোধি অপরাধ সমান পাপের। কিন্তু জাতিসংঘ বা পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে আদিবাসি বিষয়ক সবক নেয়া খুবই হাস্যকর। আমি মনে করি পাহাড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে তদন্ত এবং বিচার হওয়া উচিত। কোন চুক্তি বা আদিবাসি পরিচয় খুনী সন্তু লারমার বিচারের বাধা হওয়া উচিত নয়। আর পার্বত্য চুক্তির নামে সমতলের গরীব বাঙ্গালির সমান নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করাকে ঘৃণা করি।
লেখক বলেছেন: ভাই, সমান অধিকার নীতিগতভাবে সার্বজনীন এবং গ্রহণযোগ্য। এটা হচ্ছে আদর্শিক বা কাম্য অবস্থা, কিন্তু বাস্তবে সমান অধিকার নেই। তাই ন্যায্যতার প্রশ্ন চলে আসে। সমান অধিকারের সাথে ন্যায্যতা আপনার বিবেচনায় আনতে হবে। কেননা, সমাজ সহজ সরল পথে চলে না। বৈচিত্র্যকে মানলে আপনাকে ন্যায্যতাকে মানতে হবে। তাই সমান অধিকারের পাশাপাশি ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
পশ্চিমা-প্রাচ্য সে বিতর্কে এখন যেতে চাচ্ছি না। মানবাধিকার লংঘনের বিচার - এটি একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। রাজনীতিবিদ নই, তাই রাজনৈতিক বক্তব্যও দেবো না এখানে।
চুক্তির প্রশ্নে, কিভাবে বাঙ্গালির সমান অধিকার ক্ষুন্ন হলো সেটা বিস্তারিত বলেননি। চুক্তির আওতায় পাহাড়ী-বাঙ্গালি সবার ন্যায্য অংশগ্রহণ আছে। সন্তু লারমা বা তার দলও স্বীকার করে যেসব বাঙ্গালি পাহাড়ে বসতিস্থাপন করেছে তারাও গরীব প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। তাই তারা কখনও দাবী করেননি ঐ বাঙ্গালিদের বঙ্গোপসাগরে ডুবিয়ে মারতে হবে। দাবী জানাচ্ছেন, সম্মানজনক পুনর্বাসনসহ তাদের সমতল এলাকায় ফিরিয়ে নেয়া। তারা তো আসমান থেকে পাহাড়ে যায় নি। কিন্তু আলোচনার টেবিলে না বসে, সমাধানের কথা না বলে সমান অধিকারের দাবী তোলেন। বেশ তো, কেউ তো অস্বীকার করে না।
লেখক বলেছেন: মাইনাস গ্রহণ করলাম। মাইনাসে মাইনাসে প্লাস বানামু।
দাসত্ব বলেছেন:
আগেও বলেছিলাম ১বার , আপনাদেরকে মোটেও আদিবাসী মনে করিনা। কারনটাও বলেছিলাম।এগুলো জাতিসংঘের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্রের অংশ। আচ্ছা - সত্যি করে বলেনতো আপনারা কি স্বাধীন বাংলাদেশ চান , না পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা দেশ চান ?
লেখক বলেছেন: যার নাম দাসত্ব, তার মধ্যে মুক্তি আসতে অনেক সময় লাগবে।
আপনিই বলেন, বাংলাদেশে রাখতে চান নাকি আলাদা দেশ দেবেন?
দাসত্ব বলেছেন:
আপনি আমার ব্লগিং নিক কে ইনসাল্ট করলেন!ব্লগার হিসেবে আপনার বালেগ হতে এখনো বেশী সময় লাগবে।
সারা দুনিয়ার ষড়যন্ত্রের জালে জড়ানো দাসত্বে বাধ্য করা মানুষের পক্ষেই এই নিক , এই প্রোফাইল পিক।
বেশ ভালোই বুঝলেন!
আমার বিশ্বাস- আপনারা বিচ্ছিন্নতাবাদী , সত্যিকার বাংলাদেশ প্রেমী হলে কারো কাছে পারমিশন চাইতে হয়না , নিজেথেকেই অখন্ড দেশের পক্ষে চেতনা জন্মায়। মুখোশ টা খুলে দিলেন।
আপনিতো আবার কমেন্ট মডারেট করেন , এইটা কাপুরুষতা , গালাগালি করলে ডিলিট করবেন , তবে মডারেশন কেন ?
মানুষ কি জানতে পারবে কার কোন পোস্ট ব্লক করতেসেন ?
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, খাঁটি কথা কইলেন। বিচ্ছিন্ন হওয়া বা না হওয়া সেটা একান্ত নিজেদের ব্যাপার। তার জন্যে কারোর পারমিশনের প্রয়োজন হয় না। তবে কেউ যদি দেশপ্রেমকে নিজেদের একচেটিয়া সম্পত্তি মনে করে তখন একটু কষ্ট লাগে বৈকি!
মডারেশন করছি, তাই বলে কাপুরুষতা বললেন! চোরের মন সব সময় পুলিশ পুলিশ করে।
কানা-বাবা বলেছেন:
ডিটেকটিভ বলেছেন: আপনারা আবার আদিবাসী হইলেন কবে ? পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়া যে জাতিসংঘ পলিটিক্স করতাছে এইটা কে না জানে ? ~ অত্যন্ত হাস্যকর একটা কথা, জাতিসংঘেরতো খেয়েদেয়ে আর কোন কাজ নেই!
লেখক বলেছেন: জি ভাই ঠিকই বলেছেন। "জাতিসংঘের খেয়েদেয়ে আর কোন কাজ নেই", কিন্তু ডিটেকটিভের খেতে হবে, কাজ তো কিছু একটা করতে হবে।
লেখক বলেছেন: আপনি মনে হয় শয়নে স্বপনে ভারতের নাম জপেন!
মে ঘ দূ ত বলেছেন:
অভিনন্দন রাজা দেবাশীষ রায়কে। তানভীর মুকাম্মেলের "কর্ণফুলীর কান্না" ডকুমেন্টারীতে রাজার উপস্থাপন দেখে যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছিলাম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
চেম্বার জজ বলেছেন:
দাসত্ব বলেছেন: আপনি আমার ব্লগিং নিক কে ইনসাল্ট করলেন!ব্লগার হিসেবে আপনার বালেগ হতে এখনো বেশী সময় লাগবে।
সারা দুনিয়ার ষড়যন্ত্রের জালে জড়ানো দাসত্বে বাধ্য করা মানুষের পক্ষেই এই নিক , এই প্রোফাইল পিক।
বেশ ভালোই বুঝলেন!
আমার বিশ্বাস- আপনারা বিচ্ছিন্নতাবাদী , সত্যিকার বাংলাদেশ প্রেমী হলে কারো কাছে পারমিশন চাইতে হয়না , নিজেথেকেই অখন্ড দেশের পক্ষে চেতনা জন্মায়। মুখোশ টা খুলে দিলেন।
আপনিতো আবার কমেন্ট মডারেট করেন , এইটা কাপুরুষতা , গালাগালি করলে ডিলিট করবেন , তবে মডারেশন কেন ?
মানুষ কি জানতে পারবে কার কোন পোস্ট ব্লক করতেসেন ?
লেখক বলেছেন: জজ সাহেব, আপনি যা পোস্ট করেছেন তা হলো বিদ্যাচুরি। যার ইংরেজী নাম Plagiarism, যা কপিরাইট আইনের গুরুতর লংঘন। জজ হয়ে তা করবেন না। নিজের মাথা থেকেও কিছু লিখেন। তা না হলে লোকজন আপনাকে 'তৃতীয় শ্রেণীপ্রাপ্ত' জজ বলে ধরে নেবে। আজকাল তো তৃতীয় শ্রেণীপ্রাপ্ত জজের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
লেখক বলেছেন: মাথা খারাপ!মাথা খারাপ!মাথা খারাপ!
মাথা খারাপ বলেছেন:
রাজাকার প্রসঙ্গ টেনে এনে মাঠ গরম করে লাভ নেই। দেবাশীষ রায়ের বাবা গো-আজম মুজাহিদ-নিজামীদের মত জঘন্যতম কিছু করেছিলেন কি না জানা থাকলে জানাবেন। তার বাবা বাংলাদেশে এসে বাঙালি রাজাকার গো-আজমের মত সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে নাগরিকত্বও দাবী করেননি। তিনি তার মত ছিলেন, তার মত এখনো আছেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কিছু করছেন না। তিনি পাকিস্তানের নাগরিক। তাই ''আত্মস্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার'' বলে গালিগালাজ করা অপ্রয়োজনীয়।সুবিধাবাদীর কথা বলছেন। হ্যাঁ, সবাই সুবিধাবাদী। আপনি সুবিধাবাদী না হলে কি এ রকম মন্তব্য করতেন?
রাজাকার রাজাকারই।
গোলাম আযম, নিজামী আজকে শেখ হাসিনার বেয়াই হলে এতক্ষনে আপনার মতো অনেক লোক পাওয়া যেত, যারা বলত গোলাম আযম, নিজামী রাজাকার না।
লেখক বলেছেন: আপনি কি আমার বক্তব্য বুঝার চেষ্টা করেছেন? মারমা ভাষায় একটা প্রবাদ আছে, "কথার মধ্যে কথা আছে, মানুষের মধ্যে মানুষ আছে।" রাজাকার রাজাকারই। সেটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু রাজাকারের মধ্যে রাজাকার আছে। কোন রাজাকার কি রকম সেটা দেখার জন্যে বলেছি। যার কথা বলছেন তিনি তো বাংলাদেশে এসে কাউকে কিছু করেননি। তিনি এখন এদেশের নাগরিক নন, বিদেশের নাগরিক। তাকে নিয়ে কেন চিল্লাচিল্লি? অধপতিত হয়ে গোআজমদের মত এখানে এসে রাজনীতি করেননি, দেশের ক্ষমতার ভাগ চাননি। ভাই, আরো কিছু বলবো?
অডং চাকমা বলেছেন:
ভাই, 'কুত্তার লেজ চোঙ্গার মধ্যে রাখলেও তা সোজা হয়না।'
কথাটা ঠিক।
পার্থক্যটা আপনাকে দেখিয়ে দিতে চাই সেটা হলো, বাঙালি কুত্তারা বাংলাদেশে ফিরে এসেছে চোঙ্গার মধ্যে লেজ ঢুকিয়ে। এখন চোঙ্গা থেকে লেজ খুলে আবার বাঁকা হয়ে গেছে। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ঘেউ ঘেউ করছে। মানুষের রগ কাটে, লাল সবুজের পতাকা উড়াইয়া বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়। আর 'উপজাতির' কুত্তা দেশে আসেনি, কাউরে কামড়ায়নি, ঘেউ ঘেউ করা তো দূরের কথা। এ সত্যটা আপনি মেনে নিতে পারছেন না কেন?
আপনার রাজা বাংলাদেশ স্বাধীনতা মেনে নেয়নি তাই সে পাকিস্তানে রয়ে যায়, তার মানে তিনি পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের মিত্রদের মিত্র, অন্যদিকে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা বা যে সব দেশ প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে সে সব দেশ এর মিত্র নয়। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অব্যাহতি পরেই আপনারা (চাকমারা) পার্বত্য চট্টগামে ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ও বাংগালী হত্যা শুরু করেন-- এটা কি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হত্যা করতে না পেরে স্বাধীনতার পর শোধ নেয়া? আপনাদের রাজার মিত্র হিসাবে আপনাদের সাহায্য নেয়ার কথা মিয়ানমারের, কিন্তু আপনারা সাহায্য নিলেন ভারতের-- কেন?
@ আপনি বলেছেন- পার্থক্যটা আপনাকে দেখিয়ে দিতে চাই সেটা হলো, বাঙালি কুত্তারা বাংলাদেশে ফিরে এসেছে চোঙ্গার মধ্যে লেজ ঢুকিয়ে। এখন চোঙ্গা থেকে লেজ খুলে আবার বাঁকা হয়ে গেছে। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ঘেউ ঘেউ করছে। মানুষের রগ কাটে, লাল সবুজের পতাকা উড়াইয়া বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়। আর 'উপজাতির' কুত্তা দেশে আসেনি, কাউরে কামড়ায়নি, ঘেউ ঘেউ করা তো দূরের কথা। এ সত্যটা আপনি মেনে নিতে পারছেন না কেন?
স্বাধীনতার পর স্বাধীন বাংলাদেশেই হাজার হাজার বাংগালী হত্যা করেছেন, আর এখন অস্বীকার করেন কেমনে?
আর আপনাদের রাজাকারের বাচ্চা কি লাল সবুজের পতাকা উড়াইয়া বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়না?
আর আপনার লেখার শিরোনাম- 'রাজা দেবাশীষ রায় জাতিসংঘে আদিবাসী বিশেষজ্ঞ হিসেবে নির্বাচিত: বাংলাদেশ সরকারের আদিবাসী পরিচিতি হাইজ্যাকের অপচেষ্টার প্রতি চপেটাঘাত'--------- আমি আমার লেখায় কোথাও 'আদিবাসী- উপজাতি' এ বির্তক আনিনি, কিন্তু আপনি আমার লেখার উত্তর দিতে গিয়ে সত্যি কথাটাই স্বীকার করে ফেলেছেন--
@ অডং চাকমা বলেছেন: ভাই,
'কুত্তার লেজ চোঙ্গার মধ্যে রাখলেও তা সোজা হয়না।'
কথাটা ঠিক।
পার্থক্যটা আপনাকে দেখিয়ে দিতে চাই সেটা হলো, বাঙালি কুত্তারা বাংলাদেশে ফিরে এসেছে চোঙ্গার মধ্যে লেজ ঢুকিয়ে। এখন চোঙ্গা থেকে লেজ খুলে আবার বাঁকা হয়ে গেছে। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ঘেউ ঘেউ করছে। মানুষের রগ কাটে, লাল সবুজের পতাকা উড়াইয়া বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়। আর 'উপজাতির' কুত্তা দেশে আসেনি, কাউরে কামড়ায়নি, ঘেউ ঘেউ করা তো দূরের কথা। এ সত্যটা আপনি মেনে নিতে পারছেন না কেন?
শব্দটা এখন বুঝা যাচ্ছে? আপনারা নিজেরাও জানেন আপনারা 'উপজাতি', আদিবাসী না। আর এটা আপনার রাজা দেবাশীষ রায়ও জানে, কিন্তু ঐযে বললাম .................লেজ।
লেখক বলেছেন: ভাই, আপনি হলেন মহাজাতির মহামানুষ। তাই আপনি যা বলেন সব সত্য। সত্য কথা বলা আপনাদের স্বভাব ও সহজাত ব্যাপার। তাই নিচে কিছু প্রশ্ন রাখলাম। সত্য কথা বলবেন কি?
ক) স্বাধীনতার পরপরই কে প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী হত্যালীলায় মেতে উঠেছিল? ঐ 'মুক্তিবাহিনী' কয়জন নিরীহ আদিবাসী পাহাড়ী হত্যা করেছিল আপনি জানেন কি?
খ) সেটেলার-সেনাবাহিনী মিলে কয় হাজার আদিবাসী লোকজনকে হত্যা করেছিল? কয় হাজার ঘরবাড়ী ও গ্রাম পুড়ে দিয়েছিল? জমিজমা দখল করেছিল?
আগে আদিবাসী পাহাড়ী জনগণের হত্যার হিসাব দেন। তারপর বাঙ্গালী হত্যার হিসাব নেবেন।
গ) ভারতের সাহায্যের কথা বলা আপনাদের মনোরোগ। ভারত আমাদের সাহায্য করলে খুশি হতাম, কিন্তু তা করেনি।
কিন্তু ভারতের সাহায্য (সাহায্যের চেয়ে বেশি কিছু) নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, আর সেই ভারতের অবদানকে অস্বীকার করবেন? নেমকহারামি করছেন কেন? ভারত সাহায্য না করলে এতদিন কী পাক পাক করতেন না? আপনিই তো বড় রাজাকার হতেন, তা নয় কি?
ঘ) রাজাকার আর রাজাকারের বাচ্চা এক নয়। বাবা রাজাকার হতে পারে, কিন্তু পোলা রাজাকার নয়। বাঙালির রাজাকার লাল সবুজের পতাকা নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছে - এ সত্য মানতে আপনার অসুবিধা হচ্ছে কেন?
(আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন আপনার ৪/৫ পুরুষ পূর্বে আপনার পরিবারে কেউ চোর ডাকাত ছিল কিনা), আপনার বাবা চোর হলে আপনিও কি চোর হবেন? (প্লিজ, উদাহরণটা একটু রসকসহীন বলে অন্যকিছু মনে করবেন না।) তাই রাজাকার আর রাজাকারের বাচ্চা একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না।
ঙ) 'উপজাতি' শব্দটা স্বীকার করা বা না করা একই কথা। আপনারা তো এমনিই 'উপজাতি' ডাকেন। আমার পরিচিতি আমার মধ্যে আছে। সেটাতে আপনার করার কিছুই নেই।
চ) আমার লেজটা বাঁকা দেখলেন, কিন্তু আপনার লেজটা কতটুকু বাঁকা সেটা দেখবেন না? দেখতে না পেলে অন্তত একটু স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। "নিজেকে জান" - এ সারগর্ভ উক্তিটা আগে রপ্ত করুন, তারপর অন্যের দিকে আঙ্গুল তাক করুন।
রিয়াজুল ইস্লাম বলেছেন:
সমুদ্রের তীরে মনে হচ্ছে অক্টোপাসের ভূমিকায় আছে!! আপাতত গ্যালারিতে........
লেখক বলেছেন: ভাই, বুঝলাম না।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















