পোষ্টটা দেখে অনন্যা’র প্রচন্ড হাসি পেল, লোকটা মাথা পুরা খারাপ। এপিকালচার খুব সোজা জিনিস। তা রেখে শুধু শুধু প্রজাপতি পালার যন্ত্রনায় কেন যাবে লোকটা? মার্কেট কই? পুরা এক্সপোর্ট করতে হবে। ব্যাবসায়িক দিক হিসাব করলে জিনিসটা হয় “ঘোড়ায় চরিয়া মর্দ হাটিয়া চলিল” র বাস্তব উদাহরন। কিন্তু জিনিষটা মাথা থেকে পুরা সরাতেও পারলো না। নতুন জিনিষে অনন্যা’র আগ্রহ অসীম। নেটে একটু নাড়াচাড়া করল। ধুসস..... তেমন কিছুই নাই। কাজ পায় নাই আর......শুক্রুবার ভার্সিটিও বন্ধ। আচ্ছা জিনিশটা কতটা সম্ভব? তিন গোয়েন্দার একটা বই আছে। সেই কবেকার ছোটবেলার বই, সব পাতাও নাই। ইসস ইসস......
“হ্যালো, বড়চাচা?” “আপনি কি butterfly farming সম্পর্কে আমাকে কোন ধারনা দিতে পারবেন? এটা কি আদ্যো সম্ভব?” মেয়েটা’র সবকিছুই পাগলা। আর প্রচন্ড জেদ। সদা রাশভারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক চাচাটিও মৃদু একটু হাসে। আস্কারা অনন্যা বরাবরই অনেক বেশি পায়। সবার কাছেই পায়। বই আর তথ্য উপাত্ত আসতে লাগে মাত্র ২ ঘন্টা। খুবই সম্ভব ঘটনা। বাহ!!! সবাই শষ্য উৎপাদন নিয়ে ভাবে, বড়জোর পোল্ট্রি, ডেইরী। ফুড প্রসেসিং পর্যন্ত ভাবার সুযোগ যেখানে নাই, সেখানে প্রজাপতি’র খামার? আইডয়াটা ইউনিক। খুব ইউনিক।
পড়াশুনা সব সময়ই অনন্যার প্রিয় কাজ, তার চেয়েও প্রিয় পাঠ্যবইয়ের বাইরে নাক ডুবিয়ে দেয়া। কি সুন্দর প্রজাপতিগুলি!! মনে চায় ছুঁয়ে দেখি!!!
দেখতে দেখতে ঘরটায় প্রজাপতি ছড়িয়ে যায়। নীল নীল প্রজাপতি.........বিস্তৃর্ণ মাঠ...... দূরে কোথাও একটা পাহাড়......... ছোট্ট একটা জলাশয়ের মত.........একেই বোধহয় হ্রদ বলে...... হেইডি’র মত কিছুটা......... তবে কার্টুনের এ্যনিমেশন না, সত্যিকারী পৃথিবী......সত্যিকারি হ্রদ......... খেয়ালই করা হয় না কোথায় একটা কোকিল ডাকছে। কোকিলটা শুধু ডাকছে না তিরতির করে কাঁপছে, অনন্যাকেও কাপাচ্ছে।
“অনু ফোন পাশে নিয়ে ধরছিস না কেন?” “আজব মেয়ে!!! ফোনে কোকিল ডাকে, কাক ডাকে, ব্যাঙ ডাকে, বিড়াল ডাকে.........এইসব আজব রিংটোন তুই পাস কই বল তো?” শেষের কথাগুলো ঝাপসা শোনায়। কোকিল ডাকে শুনেই লাফ দিয়ে উঠে। কোন সিনিয়ারের কল।
ইয়েস!!! খুব এক্সপেক্টেড কল।
কথা বলে খুব আস্তে আস্তে। তবে ধীরে না। স্বভাবসুলভ চাঞ্চল্য আছে তবে চিন্তার গভীরতাটাও টের পাওয়া যায়, সবচেয়ে আকর্ষনীয় হচ্ছে পার্সনালিটিটা। “পোষ্টটা দেখেছ?” “কোন পোষ্ট?” খুব অবহেলা সাথে জবাব দেয় অনন্যা। “ও আচ্ছা হ্যাঁ দেখলাম” “so, what do you think?” “well, why u’r asking me? There r so many ppl there”
ভেবেছিলে বাউন্সার? No Baby, It’s a sixer. আলতো একটা হাসি মুখে মাখিয়ে দেয় অনন্যা। ফোনের ওই প্রান্তে হাসিটা যায় না এই ভেবে খুব মজা লাগে। “এপিকালচার রেখে এখানে কেন গেলেন? টার্গেটেড কাস্টমার কারা? এক্সপোর্ট বেসড মার্কেটে কতক্ষন সারভাইভ করতে পারবেন? এক্সিটিং সেলার আছে। what made u feel u could make a good business? বাংলাদেশের weather সাপোর্ট করবে?” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে বলটা খুঁজে, যুবরাজের রেকর্ড ছাড়াতে পারলো নাকি?
চলতে পারে..
(একটা ধারাবাহিক চলছে, সেটাই শেষ করি না। হাতে সময়ের খুব টানাটানি তারপরও শুরু করলাম। সবার ভালো লাগলে শেষ করব নয়তো না)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১০ রাত ২:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



