“সব প্রশ্নের জবাব তো নিজেই দিয়ে দিলে। yes, there R so many ppl, but no one is like u!! I love U’e speed” হাসিটা ধরে রেখেই আবার বলে “চিন্তায় তো দেখি মেয়ের ঘুমই হারাম হয়ে গেছে। যাক!!! আমার জীবন বৃথা গেল না। কোন একটা সুন্দরীর ঘুম হারামের কারন হতে তো পারলাম।” “ও!!! তাই না?” বলে চেপে রাখা হাসিটা বের করে দেয়, ঝাকানো সফট ড্রিংসের মত বুলকে উঠা হাসি। তারপর কিছুক্ষন আগডাম-বাগডাম কথা চলে, হি হি হা হা চলে। সম্পর্কটা খুনসুটির। প্রজাপতির মত সারা বাড়ি ঘুড়ে ঘুড়ে কথা বলে অনন্যা, ফুড়ুৎ করে কিছু সময় উড়ে যায়।
ঠিক যেন উড়েও যায় না, সময়টা যেন ফ্রেমে আটকে যায়। কথাগুলো প্রতিধ্বনির মত ফিরে আসে। বার বার......বার বার......দিন ভরে কথাগুলো মনের মধ্য নাড়াচাড়া করে। খুব মজা লাগে। সবাই ওকে বেশ প্যাম্পার করে, ফ্লার্ট করার চেষ্টা করে। জিনিশটা ওর বিরক্তির কারন। এই লোকটা ঠিক সেইরকম না। এক লেভেল ধরে রেখে কথা বলা যায়। তার কথার ধরনটাও খুব মজার। খোঁচা মেরে মেরে কথা বলে। অনন্যার তার সাথে খুব জমে।
so, girl r u in love? নিজেকেই প্রশ্ন করে অনন্যা। করেই ফিক করে হেসে দেয়। “প্রেম? আমি? হিহিহি......” এটাই ওর স্বভাব মুড থাকলে সবকিছুই ওর ভাল লাগে। সব কিছু ভালো লাগার অদ্ভুত ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে মেয়েটা। মনে তো কিছুই লেগে থাকে না। আজ যেটা ভাল লাগছে তা নিয়ে খুব হইহই করবে, কালই হইহই করার নতুন বিষয় পেয়ে যাবে। “It’s not love. But honestly I am so much flirted, n am loving it” হাসলে এক গালে টোল পরে। বেশ লাগে দেখতে।
“তাই? তা আপনি কবে থেকে flirted হতে পছন্দ করছেন? আহারে বেচারা স্যারটা কি দাবরানিটাই না খেল! আফসোস আফসোস!! তখন যদি আপনার একটু এইরকম মুড থাকত তবে একজন উদিয়মান কবি এভাবে নিভে যেত না!!!” স্বাতীর কথাটা বেশি পছন্দ হয় না অনন্যার মুখ ভেংচি কেটে বলল “ভাল হয়েছে!!! পড়াতে আসে না পাত্রী খুঁজতে? কবিকে চেয়ারম্যানের হাতে দিয়ে পাদুকাস্তবকসহ ছবকের ব্যাবস্থা যে করি নাই এই বেশি।” অনন্যার কথার ধরনে হেসে উঠে স্বাতী, অনন্যা নিজেও।
স্বাতী আর অনন্যা। ডিপার্টমেন্টের মানিকজোড়। বগুড়া থেকে আসা স্বাতী আর আপাদোমস্তক ঢাকায় বড় হওয়া অনন্যা কিভাবে যে এক হল তা কেউ জানে না, উল্টা অনেকেই জানে স্বাতী আর অনন্যা ছোটবেলার বান্ধবী। ক্লাসের প্রথমদিন থেকেই সবাই ২ জনকে একসাথে দেখছে। ওদের সব কিছুই একরকম। সবচে একরকম জিনিসটা হচ্ছে ওদের ২ জনেরই একটা নিজেস্বতা আছে। দেখা যায় একই কাপড়ের জামা ২ জনই বানিয়েছে। সব এক তবু কিছু একটা আলাদা। যা অনন্যার গায়ে পুরা অনন্যার কথা বলবে স্বাতীর গায়ে স্বাতীর। ২ জনই নিজের একটা আলাদা স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানে। কেন যেন তারপরও ব্যাক্তিত্বের সঙ্ঘাত নেই।
ওদের তৃতীয় বন্ধু হচ্ছে মানব। মানবকে অনন্যা ডাকে “সোমেস্বরী”। ভীষন ঠান্ডা আর চাপা একটা ছেলে। কোন কথা নাই, যা কথা শুধু বন্ধুদের সাথে, ওর বন্ধুও খুব কম। নিজের মধ্যে থাকে, চাইলে হয়ত অনেক কিছু করতে পারে বিন্তু ওকে সিগারেট ফুকা ছাড়া তেমন কিছুই করতে দেখা যায় না। স্বাতী আর অনন্যার পুরা উলটা একটা চরিত্র।
চতুর্থ হচ্ছে আর একটা মেয়ে, নাইমা। নাইমা ঠিক বন্ধু না। মেয়েটা প্যারাসাইট টাইপের। একা কিছু করতে পারে না, দিন ভরে কোন না কোন বিপদে পরে। প্রচন্ড চিকন, দেখলে মনে হয় আমের কুশি, ওকে ক্লাসের পাজি ছেলেরা “কুশি” বলেই আওয়াজ দেয়। ক্লাসের কারও কাছে বিশেষ পাত্তা পায় না। অনন্যা কেন যেন নাইমাকে বেশ পছন্দ করে। এমনও না নাইমা অনন্যার গুণমুগ্ধ। মেয়েটা যথেষ্ট পরিমানে ফাউল, স্বাতীর ভাষায় বাস্তবিক অর্থে প্যারাসাইট। স্বাতী নাইমাকে মোটের ওপর দেখতে পারে না, কিন্তু অনন্যার নাইমাকে নিয়ে অকারন উচ্ছ্বাস নিয়েও কিছু বলে না।
তিনতলা উঠে হাপাতে থাকে নাইমা, রোজ দেরী করাই হচ্ছে ওর অভ্যাস। অনন্যাদের বারান্দায় দেখে কিছুটা আশ্বস্ত হয় যাক!! স্যার আসে নাই। নাইমাকে দেখেই মুখ শক্ত করে ফেলে স্বাতী, অনন্যা হাসতেই থাকে। “কিরে স্যারের জন্য এত প্রেম কবে থেকে হল দৌড়ে দৌড়ে ক্লাসে আসিস আজকাল?” ব্যাগ দিয়ে অনন্যার পেটে বাড়ি মারে নাইমা। “যা!! তোর জন্য আজকে দেরী হয়েছে।” “ক্যান রে ভাই? আজকাল আমি কি তোকে স্বপ্নে ডিস্টার্ব দেই? হায় হায়!!! কুশি তুই এই জিনিষ? স্বাতী চলরে ভালয় ভালয় ভাগি, পরে আমাদের বিয়ে হবে না” হিহি করে হাসতেই থাকে অনন্যা। হাপাতে হাপাতেই ব্যাগ থেকে একটা প্যাকেট বের করে অনন্যার হাতে ধরিয়ে দেয় নাইমা। “ও মা!! গিফুট নি? কুশি দেখি সত্যিই আমার প্রেমে পরেছে, আমার জন্য গিফুট কিনতে গিয়ে দেরী? ও রে কে আছিস? রায়হানকে ডাক রে... কালকের পত্রিকায় দেবার মত নিউজ, ও বলে নিউজ পায় না?” কথার মাঝে যে যতি টানা যায় তাই কোনদিন শুনে নি অনন্যা, স্কুলে থাকতে ওর নাম ছিল “বাতি talk” বাতিস্তুতার সাথে মিলিয়ে দেয়া নাম, আস্ত একটা talking machine মেয়েটা।
“সায়েম ভাইয়া দিয়েছে” এতক্ষনে বেশ সামলে উঠেছে নাইমা। বিরক্ত হয় অনন্যা, আধা খোলা প্যাকেটটা আবার নাইমার হাতে দিয়ে দেয়, পুরা বদলে যায়। “নাইমা তোমার পোস্টাল সার্ভিস তোমার কাছে রাখ প্লিজ!!! I don’t like it………কথা শেষ করতে পারে না অথবা চায় না। ক্লাসে টিচার ঢুকে পরে।
সায়েম অনন্যাদের এক ব্যাচ সিনিয়ার, তবে সাবজেক্ট আলাদা। ভালো ছাত্র, ভালো গান গায়। দেখতে ভালো। নিজে গাড়ী চালিয়ে ভার্সিটি আসে। হার্ট থ্রোব বলতে যা বুঝায় সায়েম হচ্ছে তা। সে খুব ভাল জানে তার অবস্থানটা কোথায়। অনন্যার সাথে পরিচয় গানের সুত্রে। সবার হার্ট থ্রোবের হার্ট থ্রোব হছে অনন্যা।
“I don’t like heroes, আর পার্লারে যাওয়া পোলা দেখলে মনে চায় শীষ দিয়ে বলি নাচ আমার বুলবুল তুই পয়সা পাবি রে” এটা ছিল অনন্যার বক্তব্য যখন নাইমা প্রথম তাকে জানায় সায়েম অনন্যার ব্যাপারে ইন্টারেসস্টেড। সায়েম নিজ গরজে নাইমা কে খুঁজে বের করছে, এই পথে অনন্যা পর্যন্ত আসার চেষ্টা করছে। ভার্সিটিতে কোন ছেলের এত সাহস নাই যে দীপ্তি অনন্যা চৌধুরী’র সামনে দাড়িয়ে এই জাতীয় কথা বলে। এমন না অনন্যা ছেলেদের সাথে মিশে না। ওর বেশির ভাগ বন্ধু ছেলে। তবে কেউ বন্ধুর বাইরে বিশেষ কিছু হতে চাইলে লাভ নেই। এই পাত্তা কেউই পায় না। she loves to make herself precious.
সায়েম পুরা আদা জল খেয়ে লেগেছে। ওর সব কিছুই সিনেমাটিক এইটা অনন্যার খুব অপছন্দ। সবচেয়ে বিরক্তির কারন সারা ভার্সিটিময় অনন্যা’র সাথে সায়েমের ব্যাপারটা নিয়ে একটা গুঞ্জন। আর সবখানে সায়েমে’র ফেভার করার প্রবনতা। এখন জিনিষটা এমন হয়েছে অনন্যার নিজ যোগ্যতায় অর্জিত জিনিষের ক্রেডিটও সায়েমের ঝোলায়। যেখানে সায়েমের যোগ্যতাই অনন্যার চেয়েও কম সেখানেও, যেখানে নেই সেখানেও।
আজকে presentation আছে। যে যার যারটা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। নাইমাও আর অনন্যাকে ঘাটার সাহস করে না। তন্ময় হয়ে অনন্যার কাজ দেখে। অনন্যা প্রথমে presentation করলে বাকিদের অবস্থা খুব ফিকে পড়ে যায়। নাইমারটা তো গোনার মধ্যেই পড়ে না। একই অবস্থা হয় ভাইভা বোর্ডেও। ৩ জন করে যায় বোর্ডে। টিচাররা অনন্যা ছাড়া যেন কাউকে দেখতেই পান না। ক্লাসে সবার মধ্যে এটা নিয়ে একটা চাপা জেলাসি আছে। এক স্বাতী ছাড়া অনন্যার সাথে স্বেছায় কেউ ভাইভা বোর্ডে ঢুকতে চায় না।
Presentation শুরু করে অনন্যা। আজকের টপিক “রিটেইল মার্কেটিং” নরমাল ক্লাস presentation. কোন প্রজেক্টরের কারবার না, শুধু মুখে ৫ মিনিট কথা বলা। খালি হাতে ডায়েসে উঠে অনন্যা। কখনো গালা নামিয়ে কখনো পর্দা তুলে ৫ মিনিট আটকে রাখে শ্রোতাদের। কথা শেষ করে শ্বাস ছেড়ে খুব মিষ্টি করে হেসে বলে “so, I am ready for the questions” হাসি ধরেই রাখে।
ক্লাসের প্রথম ১০ জনের মধ্যে নেই অনন্যা। প্লেস ১৬/১৭ র দিকে। তবু ওকে কেউ আটকাতে পারে না। উল্ট ফার্ষ্টকে বেশ ভাল বিপদে ফেলল, ফার্ষ্ট বেচারা স্কিপ্ট ঘেটে ঘেটে হয়রান হয়!!! এভাবে ২টা ঘন্টা পুরা দখল করে রাখে। নাইমা খুব কাছের থেকে মেয়েটাকে দেখে, তবু থৈ পায় না। নিজেকে খুব তুচ্ছ, ক্ষুদ্র আর নগণ্য মনে হয়।
চলবে.........
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১০ রাত ২:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



