আমার প্রিয় পোস্ট
- সর্বকালের সেরা ৫০টি Gangster মুভি + সবগুলোর ডাউনলোড লিংক - নাফিজ মুনতাসির
- এন্ড্রয়েড সমগ্র (আপডেটেড ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১২ পর্যন্ত) - রায়হান কবীর
- রাগিবনামা - যেমন ইচ্ছে লেখার আমার ব্লগের খাতা - রাগিব
- আমার দেখা সেরা শর্টফিল্ম গুলোর কালেকশন, একটি মাস্টওয়াচ পোস্ট - নিয়নের আলো
- চেঙ্গিস খানঃ আধুনিক নৈতিকতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ একজন মহান মানব। - হোরাস্
- চলচ্চিত্র না জীবনচিত্র - পল্লী বাউল
- থাইল্যান্ড যদি যেতে চান - মুহিব
- মেজাজ খারাপের ঔষধ....................... - মোঃ সফিকুল ইসলাম
- আনলাকি 13 ও মৌলিক সংখ্যার মধুর সম্পর্ক (শেষ অংশ) - পগলা জগাই
- মোমিন মুসলমান কিউ ইতনা বেওকুফ হোতা হে??? - পেট কাঠি চাঁদিয়াল
- ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন,যাদের সাথে হয়তো সুসম্পর্ক ছিল প্রাচীন মানুষদের ! - পুশকিন
- বাসের চালিয়াৎ হকার এবং কিছু উপলব্ধি - আসিফ মহিউদ্দীন
- এত মিথ্যাচারেও নত নন জাতির পিতা ( অমি পিয়ালের একটি অসাধারন লেখা ) - সাদা ছায়া
- নাস্তিকতার প্রয়োজনীয়তা (জীবন থেকে নেয়া) - সন্যাসী
- কেন ইসলাম বিদ্বেষ - আসিফ মহিউদ্দীন
- আমি রনি কলকাতার ব্যান চাই না - রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী
- সিকিম ও কাস্মিরের ভুখন্ড বড়দের বাট্টা হতে পারে কিন্তু রক্তের দামে কেনা বাংলাদেশ নয়- পর্ব ১ - এ. এস. এম. রাহাত খান
- চমকপ্রদ কিছু CMS টুল, কাজ করে ডেটাবেস সার্ভার ছাড়াই - আরিফ বল্গ
- ৪০টি টিপস(সাথে বোনাস): PHP অপটিমাইজ করুন - 'লেনিন'
- PHP শেখার সহজ উপায়গুলো জেনে নিন - 'লেনিন'
- সর্বরোগের মহৌষধ: সরকারি প্রতিষ্ঠানের সামরিকীকরণ এবং বেসরকারিকরণ - আই আনাম
- আল্লার ঘর হবে, অতএব হে বান্দা জায়গা ছাড় !!! - মনজুরুল হক
- যন্ত্রনায় ই মেইল চেক করতে ইচ্ছা করে না। - রাসেল ( ........)
- জিমেইলের সেরা কিছু ফিচার যার জন্য জি-মেইল ব্যবহার করবেন (আর.এস.এস পড়ুন মেইল বক্স থেকে) - ১ - পাপী
- ভোটটা এবার দাড়িপাল্লায়ই দেবো...... - সামী মিয়াদাদ
- কেন আ'লীগকেই ভোট দেবেন? - নরাধম
- কুরবাণী নৃশংসতা, অথবা ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা, একটি পর্যালোচনা। - মনজুরুল হক
- ঢাকা ইউনিভার্সিটি [শুরু থেকে শেষ]-০২ - আলী
- মডারেট মুসলিমের সন্ধান করি - আরিফ জেবতিক
- অভিনন্দন মৌলবাদ! দেশ এখন ধর্ষণ উপভোগ করতে শিখেছে! - সুমন রহমান
- বিকল্প কিছু সার্চ ইঞ্জিন - নাসির খান
- ইতিহাসের পাতা থেকে ৬ - বোলারস ব্যাকড্রাইভ
- ব্লগার টেমপ্লেটঃ Modified Ads Theme - রাশেদ
- ইসলামী শিক্ষা দিবস ,ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আমার কিছু আউটসাইড প্রশ্ন - আরিফুল হোসেন তুহিন
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- "অনেক কথা যাও যে বলি - কোন কথা না বলি" - এস্কিমো
- বিশ্ববিদ্যালয় ক্রম - অঞ্চল ভিত্তিক সেরা বিশ - নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী
- নবীজী মুহম্মদ সা. এর বিয়েসমূহ এবং কিছু প্রশ্ন - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ইন্টারভিউ অব রাজাকার - সবাক
- আমাদের টমি আর শের আলীর গল্প - এস্কিমো
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- বীক্ষণ-১: আওয়ামিলীগ। - হ্যারি সেলডন
- নতুন ঈশ্বর আবশ্যক - দীক্ষক দ্রাবিড়
- ঈশ্বর ও বিজ্ঞান- "আছে" ও "নাই" প্রমাণের কথিত দ্বন্দ্ব - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ধর্মে বিজ্ঞানঃ নিম গাছে আমের সন্ধান - নাস্তিকের ধর্মকথা
- রাজকন্যার কাছে বাবার কৈফিয়ত... - অমি রহমান পিয়াল
- ইসলাম শান্তির/অশান্তির ধর্ম নিয়ে ব্লগার আরিফুর রহমানের সাথে আলোচনা। - হ্যারি সেলডন
- Proxy Server Setting Tutorial (Collected) - নয়ন
- বর্ষবরণের সাথে বিদঘুটে মুখোশ ও প্রতিমার কি সম্পর্ক? - হলদে ডানা
- আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিষ্টার- (রিপোষ্ট) - বোঘদাদি হেকিম
- বাংলা ইউনিকোড ভিত্তিক ওয়েব সাইট - ক্যামেরাম্যান
- নাম বিভ্রাট- বাংলা, আরবী, ইংরেজী বিবিধ ভাষা এবং ধর্ম সমাচার! - মানবী
- কম্পিউটার সতেজ (ঢিলেমি দূর) করার কিছু টিপস্....................... - লুলুপাগলা
- সাইদী : নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে - নরাধম
- প্রিয় বিহংগকে - পুতুল
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ও ত্রিভুজ গোত্রীয়দের বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেস্টা - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ক্যাচালের সিরিয়াস পোস্ট - ক্যাচাল
- নির্বাসিতের আপনজন। পর্ব-৬ (ক)। - নির্বাসিত
- সবার জন্য দরকারী কিছু ওয়েবসাইট এর ঠিকানা - রন্টি চৌধুরী
- একটি মৃত্যু আর আমার যত আক্ষেপ - ডাক্তার আইজউদ্দিন
- ইন্টারনেট যখন সফটওয়্যার প্লাটফর্ম ... - আদনান™
- আমার শততম পোস্ট, আরিফের কার্টুন এবং আমাদের নবী প্রেম - আরশাদ রহমান
- কার্টুন রাজনীতির নেপথ্যে - অমি রহমান পিয়াল
- দৈনিক প্রথম আলোর সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন আলপিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-কে বিদ্রূপ করে কার্টুন প্রকাশ ! - ইবনে সালাম
সাদাসিধে কথা, বাংলাদেশে পারমাণিবক শক্তি কেন্দ্র -মুহম্মদ জাফর ইকবাল
১২ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:০৫
সাদাসিধে কথা
বাংলাদেশে পারমাণিবক শক্তি কেন্দ্র
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
জুন ১১, ২০০৯
প্রথম আলো
১.
যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দিনের জন্য গিয়েছি, সেখানে হ্যারল্ড নামে একটা ছেলের খুব সখ আমাদের রান্না করে খাওয়াবে। তাকে অনেক দিন থেকে চিনি। এমআইটি নামক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছে। ভদ্র, বিনয়ী এবং সুদর্শন একটি ছেলে। খুব আগ্রহ নিয়ে তার বাসায় ডিনার করতে গিয়েছিলাম। হ্যারল্ড খুব ভালো রান্না করে সুস্বাদু কিছু খাওয়াবে সে জন্য নয়−সে আমাকে কথা দিয়েছে খাওয়ার পর আমাদের নিয়ে যাবে টোকামাক দেখাবে। বইপত্র ম্যাগাজিনে টোকামাক সম্পর্কে পড়েছি, টেলিভিশনে ছবি দেখেছি, নিজের চোখে দেখার একটা সখ ছিল। হ্যারল্ডের কল্যাণে আমার সেই সখটি পূরণ হলো। ঘুরে ঘুরে আমরা সেই টোকামাকটি দেখলাম। এবারে টোকামাকটি কী জিনিস সেটা বলা দরকার।
বাংলাদেশের মানুষ গত কিছুদিনে ‘পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র’ কথাটি অনেকবার শুনেছে এবং আমার ধারণা, দেশের বেশির ভাগ মানুষ সেটা নিয়ে এক ধরনের আগ্রহ এবং উত্তেজনা অনুভব করেছে। প্রথমেই বলে নেওয়া দরকার, পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র কথাটি ভুল, শুদ্ধ কথাটি হচ্ছে ‘নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র’। পৃথিবীর সবকিছু তৈরি অণু-পরমাণু দিয়ে এবং আমাদের চারপাশের পরিচিত সব শক্তি আসে এই অণু-পরমাণুর রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে। আমরা যখন ম্যাচের কাঠি জ্বালাই তখন সেই শক্তিটা আসে পরমাণুর বিক্রিয়া থেকে−সেই অর্থে সেটাও পারমাণবিক শক্তি। পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস। যখন সেই নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা জুড়ে দিয়ে তার ভেতর থেকে শক্তি বের করে আনা হয় সেটাই হচ্ছে নিউক্লিয়ার শক্তি। এবং এই নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে বের করে আনা শক্তি দিয়ে যখন বৈদ্যুতিক কেন্দ্র তৈরি করা হয় তখন সেটাকে বলা হয় নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র। কোনো একটা বিচিত্র কারণে পৃথিবীর সব জায়গাতেই নিউক্লিয়ার শক্তি বোঝাতে পারমাণবিক শক্তি এই ভুল কথাটি অবলীলায় ব্যবহার করা হয়। (আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা এ রকম অনেক ভুল শব্দ অবলীলায় ব্যবহার করি। দুই পক্ষের গোলাগুলিতে মাঝখানে আটকা পড়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার নাম ক্রসফায়ার। আমাদের দেশে ক্রসফায়ার শব্দটির অর্থ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে বিনা বিচারে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় একজন মানুষকে হত্যা করা। বর্তমান সরকার কথা দিয়েছিল তারা বিনা বিচারে মানুষকে হত্যা করা বন্ধ করবে−সেটা বন্ধ হয়নি। দেখে মনে হচ্ছে সরকারের ভেতর আরেকটা সরকার আছে তারা এত দুর্বিনীত এবং বেপরোয়া যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতেও দ্বিধা করে না।)
যাই হোক, নিউক্লিয়ার শক্তি নিয়ে কথা হচ্ছিল। বলা হয়েছে ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে বা হালকা নিউক্লিয়াস জুড়ে দিয়ে নিউক্লিয়ার শক্তি পাওয়া যায়। যখন ভারী নিউক্লিয়াস (যেমন ইউরেনিয়াম) ভাঙা হয় তখন দেখা যায় ভাঙা টুকরোগুলোর ভর মূল নিউক্লিয়াসের ভর থেকে কম এবং যেটুকু ভর কমে যায় সেটা আইনস্টাইনের বিখ্যাত সুত্র E=mc2 হিসেবে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। হিরোশিমাতে যে বোমা ফেলে এক মুহুর্তে প্রায় লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল সেই বোমায় এই প্রক্রিয়ায় শক্তি বের করা হয়েছিল। এই পদ্ধতিটির নাম Fission এবং পৃথিবীর সব নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে এই পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করা হয়।
দুটি হালকা নিউক্লিয়াস (যেমন হাইড্রোজেনের আইসোটপ) জুড়ে দিয়ে অন্য একটি নিউক্লিয়াস তৈরি করে যখন শক্তি তৈরি করা হয় সেটাকে বলা হয় Fusion, এখানেও দেখা যায় তৈরি করা নিউক্লিয়াসের ভর হালকা দুটি নিউক্লিয়াসের ভর থেকে কম এবং যেটুকু ভর কমে যায় সেটা আইনস্টাইনের E=mc2 অনুযায়ী শক্তি হিসেবে বের হয়ে যায়। সুর্যে এই প্রক্রিয়া দিয়ে শক্তি তৈরি হয়, অল্প একটু ভর ব্যবহার করে অনেক শক্তি পাওয়া যায় বলে সুর্যের জ্বালানি হঠাৎ করে এশ দিন শেষ হয়ে যাবে আমাদের সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। এই পদ্ধতিতে এখনো কোনো নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র তৈরি করা যায়নি। এটা করার জন্য যে তাপমাত্রার দরকার হয়, সেটা ধারণ করার মতো কোনো পাত্র নেই। তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের মাঝে শুন্যে ভাসিয়ে রেখে প্রক্রিয়াটা করার চেষ্টা করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে যেখানে এ রকম চৌম্বক ক্ষেত্রে ফিউসান করার চেষ্টা করা হয় সেটাই হচ্ছে টোকামাক। এমআইটিতে আমি এ রকম একটি টোকামাক দেখতে গিয়েছিলাম। এই ফিউসান পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ মিলে ফ্রান্সে ITER নামে একটা বিশাল প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। ধারণা করা হয়, পৃথিবীর মানুষ যদি এই প্রক্রিয়ায় শক্তি তৈরি করার প্রযুক্তিটি জেনে যায় তাহলে আমাদের পৃথিবীর জ্বালানির জন্য হাহাকার পুরোপুরি মিটে যাবে−আমরা তখন একটি নতুন পৃথিবী দেখব, যেখানে শক্তি বা বিদ্যুতের জন্য আর কোনো দুর্ভাবনা থাকবে না।
এটুকু ছিল ভুমিকা, (ভুমিকাটা একটু বড়ই হয়ে গেল) এবার মূল বক্তব্যে আসি।
২.
একটা দেশ কতটুকু উন্নত সেটা বোঝার সহজ উপায় হচ্ছে সেই দেশে কতটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তার একটা হিসাব নেওয়া। যে দেশ যত উন্নত সেই দেশে বিদ্যুতের ব্যবহার তত বেশি−কথাটা উল্টোভাবেও বলা যায়, যে দেশে যত সহজে বিদ্যুৎ দেওয়া যায়, সেই দেশ তত দ্রুত উন্নত হয়ে ওঠে। কাজেই আমরা যদি আমাদের দেশের উন্নতি করতে চাই তাহলে দেশে বিদ্যুৎ তৈরি করতে হবে। আমাদের খুব বড় দুর্ভাগ্য, গত জোট সরকারের আমলে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও তৈরি হয়নি। অসংখ্য বিদ্যুতের খাম্বা তৈরি হয়েছে। এর চাইতে উৎকট রসিকতা আর কিছু হতে পারে কি না আমার জানা নেই।
বিদ্যুৎ তৈরি করার জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করতে হয় এবং সেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর জন্য জ্বালানির দরকার হয়। আমাদের দেশের প্রধান জ্বালানি হচ্ছে গ্যাস, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান নির্বাচনে জিতেই বলেছিলেন এই দেশ গ্যাসের ওপর ভাসছে এবং সেই গ্যাস বিদেশে রপ্তানি করার জন্য লাফঝাঁপ দেওয়া শুরু করেছিলেন। দেশের মানুষ রীতিমতো পথে নেমে আন্দোলন করে সেই ষড়যন্ত্র বন্ধ করেছিল। এখন আমরা দেখছি সম্পুর্ণ ভিন্ন একটা ছবি, বিদেশে রপ্তানি দুরে থাকুক দেশের জন্যই যথেষ্ট গ্যাস নেই। দ্রুত গ্যাস শেষ হয়ে আসছে, দেশের প্রয়োজনের জন্য যদি নতুন গ্যাস ফিল্ড পাওয়া না যায় আমাদের প্রধান জ্বালানি যদি শেষ হয়ে যায় তাহলে এই দেশ চলবে কীভাবে?
দেশকে রক্ষা করার লক্ষ্যে এখনই আমাদের ভবিষ্যতের জন্য বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আমি ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা নই, কিন্তু তারপরও এই দেশের মানুষের টিকে থাকার ক্ষমতা দেখে অনুভব করতে পারি, যদি তাদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎটুকু সরবরাহ করা হয় তাহলে দশ বছরের মধ্যে এই দেশ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে যাবে। সে জন্য যেকোনো মূল্যে আমাদের দেশের জন্য বিদ্যুৎ তৈরি করতে হবে।
যে দেশে অন্য কোনো জ্বালানি নেই, সেই দেশের জন্য বিদ্যুৎ তৈরি করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র, একটা কেন্দ্র থেকে অনায়াসে ছয় সাত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। সবাই দেখেছে কিছুদিন আগে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র স্থাপনসংক্রান্ত একটা চুক্তি হয়ে গেছে।
পরবর্তী প্রশ্ন: আমাদের দেশের জন্য নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র কি একটি যথাযথ সমাধান? বাংলাদেশের জন্য এই প্রশ্নের উত্তর কে ঠিক করেছেন? কিছু আমলা না কি বিশেষজ্ঞরা?
৩.
আমাদের দেশের খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেন আমলারা। আমি এর ঘোর বিরোধী। কেন বিরোধী, সেটা বোঝানোর জন্য কয়েকটা উদাহরণ দিই। একটা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে শিক্ষা। সেই শিক্ষার ‘সংস্কার’ করার জন্য হাজার কোটি টাকা খরচ করে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (হাজার কোটি লিখতে হলে একের পরে কয়টা শুন্য বসাতে হয় সেটা সবাই জানে না!)। সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে একমুখী শিক্ষা। পাঠ্যবইয়ের বেসরকারীকরণ এবং স্কুল বেসড এসেসমেন্ট (এসবিএ যেটাকে ছাত্রছাত্রীরা টিটকারী করে বলে ‘স্যারের বাসায় এসো’)। এর মধ্যে কিছু ঠেকানো গেছে, কিছু আধাখিচড়ে অবস্থায় আছে। কিছু গলার মধ্যে কাটার মতো বিঁধে আছে। এ রকম আরও একটা প্রজেক্ট ছিল কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন−অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এটা চমৎকার একটা পদ্ধতি। এই দেশের শিক্ষাবিদেরা এটাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন, প্রফেসর আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ এর নতুন নামকরণ করেছেন সৃজনশীল প্রশ্ন। এ রকম চমৎকার একটা প্রক্রিয়া এমনভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল যে এটা জন্নানোর আগেই মৃত্যুবরণ করত। অনেক কষ্ট করে সেটাকে ঠেকানো গেছে। কারণ আমলা নন, এ রকম কিছু মানুষ সেটাকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। আশির দশকে কিছু আমলা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আমাদের দেশের জন্য ইন্টারনেটের প্রয়োজন নেই। কারণ তাহলে দেশের তথ্য বাইরে পাচার হয়ে যাবে। দুই-একজন মানুষের নির্বুদ্ধিতার কারণে পুরো দেশ প্রায় এক যুগ পিছিয়ে গিয়েছিল। এ রকম উদাহরণ কতগুলো প্রয়োজন?
আমলারা যে ইচ্ছে করে এ রকম সিদ্ধান্ত নেন তা নয়, অনেক সময় তাঁদের কিছু করার কথা থাকে না। পশু মন্ত্রণালয়ে কিছুদিন কাজ করে একজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চলে আসেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ে। কীভাবে কীভাবে জানি আমি বিটিসিএলের একজন বোর্ড মেম্বার, অল্প কিছুদিনে সেখানে তিন তিনজন চেয়ারম্যান বদল হয়েছেন। কিছু বোঝার আগেই একজন বোর্ড মেম্বার বদল হয়ে আরেকজন চলে আসেন। সৃজনশীল প্রশ্ন নিয়ে আমি চেঁচামেচি করেছিলাম বলে আমাকে একবার একটা মিটিংয়ে ডাকা হয়েছিল সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কথা আমার আলাদাভাবে মনে আছে। তার কারণ তিনি ছিলেন সবচেয়ে সরব এবং একটা অবস্থা মেনে নেওয়ার জন্য তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘যদি কোনো মেয়ে আবিষ্ককার করে সে ধর্ষিত হতে যাচ্ছে এবং তার বাঁচার কোনো উপায় নেই তাহলে তার জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে ধর্ষণটাকে উপভোগ করা।’ (এটা কোনো মৌলিক কথা নয়, একজন আমেরিকান রাজনীতিবিদ এই কথাটা বলে সারা পৃথিবীর ঘৃণার পাত্র হয়েছিলেন)। কিছুদিন আগে আমি টেলিভিশনে দেখেছি তিনি সম্পুর্ণ ভিন্ন একটা মন্ত্রণালয়ের জন্য অত্যন্ত উচ্চকন্ঠে বক্তব্য রাখছেন। শিক্ষাসংক্রান্ত ব্যাপারে তিনি তাঁর দলবল নিয়ে অসংখ্যবার বিদেশ গিয়েছেন, এখন তিনি তাঁর সমস্ত জ্ঞানভান্ডার আর অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্পুর্ণ ভিন্ন একটা মন্ত্রণালয়ের জন্য কাজ করছেন। যার অর্থ আমাদের আমলারা আসলে একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ নন। নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগ নেই, তাঁরা কিছুদিন এক জায়গায়, কিছুদিন অন্য জায়গায় কাজ করেন।
যাঁরা কাজের মানুষ তাঁরা সম্ভবত সব জায়গাতেই কাজ করতে পারেন। অ্যাপল কম্পিউটার তৈরি করে যে মানুষটি পৃথিবীতে ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বিপ্লব শুরু করেছিলেন, সেই অ্যাপল কোম্পানি তাঁকে বহিষ্ককার করে পেপসি কোলার একজন কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে এসেছিল। পেপসি কোলার মানুষ কম্পিউটারের ব্যবসা বেশ ভালোভাবেই চালিয়ে নিয়েছিল। তাই পশু মন্ত্রণালয়ের আমলা সম্ভবত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও ভালোভাবেই চালিয়ে নিতে পারবেন−যতক্ষণ পর্যন্ত সেটা হবে রুটিন কাজ। কিন্তু রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত তাঁরা সঠিকভাবে নিতে পারবেন না। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁদের সত্যিকারের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলতে হবে, দেশের মানুষের অনুমতি নিতে হবে।
আমাদের দেশের বিদ্যুতের জন্য পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র (আসলে নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র) বসানোই সার্বিক পরিকল্পনা কি না সেই সিদ্ধান্তটিই যেন এই দেশের দুই-একজন আমলারা না নিয়ে বসে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, লাভ-ক্ষতির কথা দেশের মানুষকে জানাতে হবে। একটা দেশের জন্য এটা অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত।
৪.
আমি কেন বিষয়টিকে এত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি? কারণগুলো এ রকম: সারা পৃথিবীতে এখন ‘সবুজ’ আন্দোলন হচ্ছে। সবুজ আন্দোলন বলতে বোঝানো হয় পরিবেশের প্রতি সহানুভুতিশীল হওয়ার আন্দোলন। এ মুহুর্তে সারা পৃথিবীতে পরিবেশের ওপর সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হচ্ছে বাতাসে কার্বন-ডাই অক্সাইড অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া। বাতাসে যদি কার্বন-ডাই অক্সাইড বেড়ে যায় তাহলে সেটা আলাদাভাবে তাপমাত্রাকে ধরে রাখতে পারে, পৃথিবীর তাপমাত্রা যদি বেড়ে যায় তাহলে মেরু অঞ্চলের জমে থাকা বরফ গলতে থাকবে, সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে পৃথিবীতে যে কয়টি দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার মধ্যে বাংলাদেশের নাম সবার আগে। দেশের অর্ধেক পানিতে ডুবে যাবে, না হয় লোনা পানির আওতায় চলে আসবে। পৃথিবীর এত বড় বিপর্যয় বন্ধ করার জন্য সারা পৃথিবীর মনুষই এখন সোচ্চার। তাই তেল, গ্যাস বা অন্য কিছু না পুড়িয়ে শক্তি কেন্দ্র তৈরি করার দিকে সবাই নতুন করে নজর দিয়েছে। সেই হিসেবে নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র খুব আকর্ষণীয় সমাধান, কোনো কার্বন-ডাই অক্সাইড জন্ন না দিয়েই এটা শতশত মেগাওয়াট শক্তি তৈরি করতে পারে। পৃথিবীতে বেশ কিছু দেশ অত্যন্ত সফলভাবে এই শক্তি তৈরি করে যাচ্ছে। ফ্রান্স এর অত্যন্ত চমৎকার একটি উদাহরণ। তাদের শক্তির একটা বড় অংশ আসে নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র থেকে। তবে আমার সবচেয়ে পছন্দের উদাহরণ হচ্ছে, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত। নিউক্লিয়ার বোমা বানানোর কারণে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতকে সারা পৃথিবী একঘরে করে রেখেছিল, তাতে তারা বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে নিজেদের বিজ্ঞানী আর প্রযুক্তিবিদদের দিয়ে নিজের দেশের উপযোগী একেবারে ভিন্ন রকম নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র তৈরি করেছে। বাইরে থেকে জ্বালানি না এনেই নিজের দেশের নতুন ধরনের জ্বালানি দিয়ে তারা তাদের নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রগুলো চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি (শতাধিক) নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। পৃথিবীর সব দেশের মতোই তাদের দেশেও শক্তির চাহিদা বাড়ছে, তারপরও গত ৩০ বছরে তারা তাদের দেশে একটিও নতুন নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র করেনি। বলা হয়, কারণটি রাজনৈতিক (তার মানে কী আমি জানি না) সাদা কথায় বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটা দেশ বিশাল একটা ভুখন্ডের মালিক হওয়ার পরও তাদের দেশে নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র বসাতে স্বস্তি বোধ করে না। জার্মানির মতো দেশ তাদের মাটিতে নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার কারণটি কী? তার কারণ, আজকাল সবাই মনে করে এটা পরিবেশের জন্য একটা হুমকি।
নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রকে পরিবেশের জন্য হুমকি মনে করার প্রধান কারণ এর বর্জ্য। এ ধরনের শক্তি কেন্দ্র ব্যবহার করার পর জ্বালানির যে অংশটুকু বর্জ্য হিসেবে পড়ে থাকে সেটা তেজষ্কিত্র্নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তেজষ্কিত্র্নয় পদার্থের তেজষ্কিত্র্নয়তা ধীরে ধীরে কমে আসে, কাজেই নির্দিষ্ট একটা সময় এই তেজষ্কিত্র্নয় পদার্থগুলো আলাদা করে সুরক্ষিত একটা জায়গায় সংরক্ষণ করতে হয়। সেই নির্দিষ্ট সময়টুকু কত? উত্তরটা শুনে সবাই চমকে উঠবে, সময়টুকু এক-দুই সপ্তাহ নয়, এক-দুই মাস বা বছর নয়, টানা ১০ হাজার বছর। মানুষের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার বছর টিকে থাকা কোনো কিছু তৈরি করার উদাহরণ নেই। (তেজষ্কিত্র্নয় পদার্থের আয়ু আরও অনেক বেশি, অনায়াসে লাখ বছর হয়ে যেতে পারে)।
বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ ছবিটি আসলে নিউক্লিয়ার বর্জ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেখানে তাদের নিউক্লিয়ার বর্জ্য সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছে তার বর্ণনাটি পড়লে যেকোনো মানুষ আতঙ্কে শিউরে উঠবে। বর্তমান পৃথিবীতে আমরা কিছু বর্জ্য তৈরি করে যাচ্ছি হাজার হাজার বছর পরও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্নকে সেই ভয়াবহ তেজষ্কিত্র্নয় বর্জ্যরে ঝুঁকি সহ্য করে বেঁচে থাকতে হবে, এটি অনেক বড় একটি নৈতিক প্রশ্ন।
আমাদের বাংলাদেশে নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র বসানো হলে সেখান থেকেও তেজষ্কিত্র্নয় বর্জ্য বের হবে, সেই বর্জ্য আমরা কোথায় রাখব? মাঝেমধ্যেই খবরের কাগজে দেখি, ভয়ানক বর্জ্য দিয়ে দুষিত পুরোনো জাহাজ সারা পৃথিবী থেকে পরিত্যক্ত হয়ে বাংলাদেশে চলে আসে ভাঙার জন্য। নিউক্লিয়ার বর্জ্যরে বেলায়ও সে রকম কিছু হবে না তো? সারা পৃথিবীর নিউক্লিয়ার বর্জ্য আমাদের দেশে সংরক্ষণ করার জন্য পঠিয়ে দেওয়া হবে না তো? যাঁরা আমাদের বুড়িগঙ্গা নদীটি দেখেছেন, তাঁরা জানেন আমরা এর কী অবস্থা করেছি। বুড়িগঙ্গার পানি এখন আর পানি নয়, এটি থিকথিকে কালো আঠালো দুর্গন্ধযুক্ত দুষিত এক ধরনের তরল। লোভী ব্যবসায়ী, দুর্বল আমলা আর অবিবেচক মানুষেরা মিলে আমরা নদীকে হত্যা করতে পারি। নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে সে রকম ভয়াবহ কিছু ঘটবে না তো?
কিছুদিন আগেও একটা নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র তৈরি করতে কয়েক যুগ লেগে যেত। আজকাল প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হয়েছে। এখন পাঁচ-ছয় বছরেই একটা নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র তৈরি করা যায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এর আয়ুষ্ককাল কিন্তু ৩০ বছরের মতো। নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র তৈরি করার প্রক্রিয়া যে রকম জটিল, আয়ুষ্ককাল শেষ হওয়ার পর সেটাকে পরিত্যাগ করা বা নতুন করে তৈরি করার প্রক্রিয়া কিন্তু একই রকম জটিল। কাজেই নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রটির অবস্থা ৩০ বছর পর কী হবে? (ভবদহের কথা মনে আছে? প্রকল্পটি ৩০ বছরের কাছাকাছি সময়সীমার জন্য ছিল। সেই সময়টুকু পার হওয়ার পর পুরো এলাকার মানুষের জন্য কী ভয়ানক দুর্ভোগ নিয়ে এসেছিল মনে আছে?) কাজেই একটা নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র তৈরি করা হলেই কাজ শেষ হয় না, সেটাকে সংরক্ষণ করতে হয় এবং সময় শেষ হলেই সেটাকে ঠিকভাবে পরিত্যাগ করার বিশাল একটা ঝুঁকি সামলাতে হয়।
নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র তৈরি করতে কত খরচ পড়ে? আমি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত না, তাই ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করে জানতে পেরেছি পাঁচ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার, টাকার অঙ্কে তিন থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা। টাকাটা কোথা থেকে আসবে, কী সমাচার সেই প্রশ্নের উত্তর দেবেন দেশের নীতিনির্ধারকেরা, দেশের অর্থনীতিবিদেরা।
নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রের বড় দুটি দুর্ঘটনা হয়েছে রাশিয়ার চেরনোবিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের থ্রি মাইল আইল্যান্ডে। মনে রাখতে হবে, নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রের দুর্ঘটনা কিন্তু অন্য দশটা দুর্ঘটনার মতো নয়। প্রচন্ড উত্তাপে যখন চুল্লিটি গলে যায়, তখন তার ভেতরকার ভয়ঙ্কর তেজষ্কিত্র্নয় পদার্থ বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসে উড়ে যায়, পানিতে মিশে যায়। সেই তেজষ্কিত্র্নয় পদার্র্থ লাখ লাখ বছর ধরে বিকীরণ করে, কেউ সেখানে যেতে পারে না। রাশিয়ার চেরনোবিলে দুর্ঘটনা ঘটার পর পুরো শহরটাকেই বাতিল করে দিতে হয়েছিল। চেরনোবিল এবং থ্রি মাইল ছিল বড় দুর্ঘটনা। গণমাধ্যমে সেভাবে আসেনি, এ রকম ছোট দুর্ঘটনার উদাহরণ কিন্তু অসংখ্য। পৃথিবীর যেকোনো প্রযুক্তিতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গাড়িতে নিয়মিত দুর্ঘটনা হচ্ছে, জাহাজ ডুবে যায়, বিমান মাটিতে আছেড়ে পড়ে, ফ্যাক্টরিতে আগুন ধরে, স্পেস শাটল মহাকাশে ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও মানুষ এই দুর্ঘটনাকে ভয় পেয়ে থেমে থাকে না। তারা গাড়ি, জাহাজ কিংবা বিমানে চড়ে, ফ্যাক্টরিতে কাজ করে, স্পেস শাটল করে মহাকাশে যায়। নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে দুর্ঘটনা হতে পারে জেনেও মানুষ নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র তৈরি করে। চেষ্টা করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাতে, কিন্তু কখনো দুর্ঘটনা হবে না কেউ সেই গ্যারান্টি দিতে পারে না।
৫.
কাজেই আমাদের দরিদ্র দেশের যৎসামান্য সম্পদ ব্যবহার করে দেশের মানুষের একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমার ইচ্ছা, আমলারা যেমন করে একমুখী শিক্ষা বা স্কুল বেডস এসেসমেন্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে থাকেন এবারে যেন সেটা না ঘটে। দুই-চারজন আমলা কিংবা ইন্টারনেটে দুই পাতা পড়ে রাতারাতি গজিয়ে ওঠা বিশেষজ্ঞরা যেন এই সিদ্ধান্ত না নেন। আমাদের দেশের অনেক বড় বড় বিশেষজ্ঞ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে, তাঁদের সম্মিলিত চিন্তাভাবনা এবং চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যেন সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়। নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র তৈরি করতে যত খরচ হয়, তার প্রায় মাত্র দশ ভাগের এক ভাগ খরচ করে অস্ট্রেলিয়া নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র থেকেও বেশি মেগাওয়াট তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। অপ্রচলিত প্রযুক্তির ঝুঁকি হয়তো বাংলাদেশ নিতে পারবে না, তারপরও যেন সেগুলোও বিবেচনা করা হয়।
যেকোনো মূল্যে আমাদের বিদ্যুৎ দরকার, যদি দেখা যায় সত্যিই নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র তৈরি করাই হচ্ছে সবচেয়ে বাস্তবসম্মমত সমাধান তাহলে আমরা যেন পাশাপাশি আরেকটা কাজ করি। আমরা যেন বিদেশ থেকে শুধু একটা যন্ত্র কিনে এনে দেশে বসিয়ে না দিই। আমরা যেন নিউক্লিয়ার শক্তিসংক্রান্ত প্রযুক্তিতে আমাদের দেশের নিজেদের জনশক্তি গড়ে তুলি। ভারত থোরিয়াম এবং ইউরেনিয়াম মিশিয়ে নিজেদের প্রযুক্তিতে ফুয়েল রড তৈরি করেছে। আমাদের কক্সবাজার সমুদ্র উপকুলে থোরিয়াম ইউরেনিয়াম জাতীয় খনিজ পাওয়া গেছে। এ রকম একটা তথ্য প্রচলিত আছে। সে জন্য কক্সবাজারে আণবিক শক্তি কমিশনের একটা অফিসও তৈরি করা হয়েছে বলে জানি। আমরা যেন নতুন করে সেটাকে পুনরুজ্জীবিত করি। আমাদের সমুদ্র উপকুলে নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রের জ্বালানি যদি পেয়ে যাই তার থেকে চমৎকার ব্যাপার আর কী হতে পারে? পৃথিবীতে কিন্তু ইউরেনিয়ামের খুবই অভাব, যাঁরা নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রের বিরোধিতা করেন তাঁরা এটাকে একটা বড় যুক্তি হিসেবে দেখান।
আমাদের বিদ্যুৎ দরকার, যেকোনো মূল্যে বিদ্যুৎ দরকার। যদি নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র তৈরি করেই সেটা পেতে হবে তাহলে সেই সিদ্ধান্তই আমাদের নিতে হবে।
তবে আমি স্বপ্ন দেখি, আমরা আমাদের নিজেদের বিজ্ঞানী প্রযুক্তিবিদ গড়ে তুলব। পাশের দেশ ভারত যেভাবে নিজেদের শক্তি কেন্দ্রগুলো গড়ে তুলেছে, আমরাও সেভাবে এক দিন নিজেদের শক্তি কেন্দ্র গড়ে তুলব। কক্সবাজারের সমুদ্র উপকুল থেকে শুধু ঝিনুক কুড়াব না, আমরা থোরিয়াম ইউরেনিয়াম কুড়িয়ে নিজেদের জ্বালানি নিজেরা তৈরি করে নেব।
আমরা স্বপ্ন দিয়ে শুরু করতে চাই, কিন্তু শুধু স্বপ্নে থেমে থাকতে চাই না।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক। অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:৪১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
বড় বিলাই বলেছেন:
অনেক বড় পোস্ট। সব বুঝিনাই, টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো। তবে মূল কথার সাথে একমত।
জেমস কালাহান বলেছেন:
আমদের ঐ একটা জিনিস ই আছে - আশা। আমিও আশা করি এমন এক বাংলাদেশ হবে যেখানে কোন দিন লোডশেডিং হবে না। আমি হয়ত পারবো না দেখতে কিন্ত আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে --- যানিনা হয়ত তারাও আমার মতই শুধু আশা করে যাবে।
তানহা তাবাসসুম বলেছেন:
++plus++
অসীম পাল বলেছেন:
তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো।এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন। কেননা এটা পত্রিকাটির সত্ব। আশা করি উল্লেখ করবেন।
প্রথম আলোর কোন লেখা উইনিকোড ভিত্তিক না হওয়ায় ইন্টারনেট এ সার্চেবল না। এই জন্য জাফর ইকবাল স্যার এর লেখা গুলো উইউনিকোড এ কনভার্ট করে ব্লগ এ দেওয়া। যাতে গুগল এ সার্চ দিলে পাওয়া যায়।
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন:
ভাইরে এই কথাগুলি যখন আমি কই আমার বন্ধুরা আমারে পাগল কয়। ওরা আবার জাফর ইকবালের ভক্ত। এহন দেহি ওদের মন পালটায় কিনা।
ফ্রুলিংক্স বলেছেন:
এইজন্যই জাফর ইকবাল স্যার মানুষ। উনাকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। জার্মানিতে এসেছিলেন। এতো সাধাসিদে চালচলন।নিজে এই কথাগুলো বিভিন্ন মন্তব্যে বলেছি। ইউরেনিয়ামের প্রতুলতা, বর্জ্য নিষ্কাশন, রিসাইক্লিং, সিকিউরিটি। এতোকিছুর সমাধান হলে পরে প্লান্ট স্হাপনে টাকার প্রশ্ন।
দেখা যাক দেশের কা(আ)মলারা কি করে।
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন:
Plus
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
ইয়ুকা মাউন্টেনের কথা উনি বলেন নাই। পারমানবিক বর্জ্যটা হচ্ছে সবচেয়ে বর চ্যালেন্জ্ঞ। এখন সমগ্র ইইউ নিজেদের কয়েকটা দেশের বর্জ্য এখন নরওযের একটা জায়গায় ডাম্পিং করে ওখানে ওটা নিয়ে গবেষনাগার করা হবে।
আমাদের দেশে পারমানবিক শক্তি চালু হলে আমাদেরকেও এমন একটা ব্যাপারে যেতে হবে ভারতের সাথে কিন্তু যদি নিজেরা এসব ওয়েস্টেজ ডাম্পিং করি তাহলে সেটা হবে নির্বুদ্ধিতার সামিল। আর টেকনোলজী নির্বাচন করা সবচেয়ে বড় একটা ফ্যাক্টর।
এখন সেটা কিভাবে হবে সেটাও ভেবে দেখা দরকার!
আকাশ_পাগলা বলেছেন:
দারুণ। ইস এই কথাগুলো কী আসলেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছবে????উনি ত শেষ পর্যন্ত কোন সমাধান দিলেন না। আমাদের দেশে অন্য কোন পাহাড়ী হ্রদে কী বাঁঢ দেয়া যায় না? বা, নেপালে কী বাঁধ তৈরির চুক্তি করে দিয়ে সেখান থেকে বিদ্যুত আনলে হয় না?
উনি যেভাবে বলেছেন, শেষের দিকে এসে মনে হল, এই লেখার ভাষাগুলো রাজনীতিকরাই ল্টা ব্যবহার শুরু করবে। তারা বলবে, "হ্যা হ্যা,আমরা সব খেয়াল রাখব। কুন ছমছ্যা নাই। " আসলে ইকবাল স্যার একটা সমাধান দিয়ে গেলে ভাল হত।
প্রিয়তে নিলাম।
রায়হান(তন্ময়) বলেছেন:
আপনাকে ধন্যবাদ লেখাটি এখানে দেয়ার জন্য।
কাঙাল মামা বলেছেন:
চমৎকার এনালইসিস।
কবন্ধ বলেছেন:
চমৎকার এনালইসিস।
দিনমজুর বলেছেন:
জাফর ইকবাল স্যারের লেখাটা পড়ে ভাল লাগল। ঐক্যতানকে ধন্যবাদ লেখাটি ব্লগে দেয়ার জন্য। যেকোন মূল্যে বিদ্যূত চাই এর অযুহাতে যে ভাবে কখনও বিদেশী কোম্পানী দিয়ে তাদের ইচ্ছামত যেভাবে খুশি কয়লা উত্তোলনের কথা বলা হয়, কিংবা গভীর সমুদ্রসীমার মধ্যকার গ্যাস তরিঘরি করে উত্তোলনের কথা বলা হয় কিংবা এই যে কোন ধরণের বিশেষজ্ঞ এবং জনগনের মতামত/অংশগ্রহন ছাড়াই রাশিয়ার সাথে নিউক্লিয়ার চুল্লী ক্রয়ের চুক্তি ক্রয় করে ফেলা হলো, তার বিরুদ্ধে তো বুদ্ধিজীবীদের কাউকেই তো কোন অবস্থান নিতে দেখলাম না। এরকম একটা পরিস্থিতিতে জাফর ইকবাল স্যারের কিছু গুরুত্বপ্রশ্ন উত্থাপন করার ব্যাপারটিকে সাধুবাদ জানাই।তবে স্যার প্রতিবেশী দেশ ভারতের নিউক্লিয়ার শক্তির হালহকিকত সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন:
তবে আমার সবচেয়ে পছন্দের উদাহরণ হচ্ছে, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত। নিউক্লিয়ার বোমা বানানোর কারণে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতকে সারা পৃথিবী একঘরে করে রেখেছিল, তাতে তারা বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে নিজেদের বিজ্ঞানী আর প্রযুক্তিবিদদের দিয়ে নিজের দেশের উপযোগী একেবারে ভিন্ন রকম নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র তৈরি করেছে। বাইরে থেকে জ্বালানি না এনেই নিজের দেশের নতুন ধরনের জ্বালানি দিয়ে তারা তাদের নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রগুলো চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সে প্রসংগে কিছু কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি:
১) ভারত ১৯৬৯ সালের এপ্রিল মাসে মহারাষ্ট্রের তারাপুরে নিউক্লিয়ার বিদ্যুত উতপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুত উতপাদন শুরু করার পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারত এ বিষয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট হয়ে উঠতে পারেনি। একেবারে সাম্প্রতিক কালে যে দুটো ৫০০ ও ৭০০ মেগাওয়াটের চুল্লী স্থাপনের কাজ শুরু করেছে সেগুলোরও প্রযুক্তির মূল্য সর্বরাহকারী হলো আমেরিকা, রাশিয়া ও ফ্রান্স।
২) ভারত ইউরেনিয়াম প্রকৃয়াজাত করতে পারলেও এখনও তাকে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আমদানীকৃত ইউরেনিয়ামের উপর নির্ভর করতে হয়। এই তো ২০০৬ সালেও ভারত রাশিয়া থেকে ৬০ টন ইউরেনিয়াম আমদানী করেছে এবং ২০০৮ সালে আমেরিকার সাথে প্রায় দ্বাসত্বমূলক এক পরমাণু চুক্তি করছে যার মূল কারণ সেক্ষেত্রে ইউরোনিয়াম আমাদানীর সহজলভ্য হবে।
ভারতের মহারাষ্ট্রের যদুগোড়ায় ইউরেনিয়াম খনন ও প্রকৃয়াজাত করন চালু রয়েছে। এছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশ ও মেঘালয়ে ইউরেনিয়াম খননের তোড়জোর চলছে। যদিও যদুগোড়ায় ইউরেনিয়াম প্রকৃয়াজাত করণ অঞ্চলে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে। ২০০৬ সালে ইউরেনিয়াম কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড কারখানা থেকে টেলিংস ড্যামে যাওয়ার পথে পাইপ ফেটে ৯ ঘন্টা ধরে বর্জ্য তেজস্ক্রিয় তরল পদার্থ গ্রামের মধ্যে দিয়ে গুড়া নদীতে মিশেছে।
৩) জন্মের কয়েক বছরের মধ্যে ভারতের পরমাণু শক্তি কমিশন ঘোষণা করেছিল যে ১৯৮০-৮১ সালের মধ্যে ৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উতপাদন করা হবে। সে লক্ষ পূরণ হয়নি। এরপর ৮০'র দশকের গোড়ায় তারা জানায় যে ২০০০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উতপাদন করবে। সে লক্ষ পূরণের জন্য প্রয়োজন ছিল ১২ টি ২৩৫ মেগাওয়াট এবং ১০ টি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র চালু করা। ৮ টি ২৩৫ মেগাওয়াটের চুল্লী আগেই চালু হয়েছিল যদিও এগুলোর কর্মক্ষমতা ছিল মাত্র ৩৩%। ইউরেনিয়াম ও মন্থরক হিসেবে ভারী জল জোগানে ঘাটতি ছাড়াও এর বড় কারণ চুল্লীগুলোর যান্ত্রিক ব্যর্থতা। এভাবে বর্তমানে এসে ভারতের পরমাণু বিদ্যুত উতপাদন ক্ষমতা হলো ৪১২০ মেগাওয়াট।
৪) ১৯৯৬ সালে ভারতের এটমিক এনার্জি রেগুলেটরী বোর্ডের চেয়ারম্যান গোপালকৃষ্ঞন সেদেশের যাবতীয় পারমাণিবিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ত্রুটি বিচ্যুতি খতিয়ে দেখেন এবং সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানান যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার সংখ্যা ১৩১ টি। কিন্তু অফিসিয়াল সিক্রেসি আইনের জন্য এর বেশী কিছু প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু তার জন্য তো আর দুর্ঘটনা থেমে নেই। ১৯৯৩ সালে নারোরা এটমিক পাওয়ার স্টেশনে(NAPS), ১৯৯১ সালে কাকরাপার এটমিক পাওয়ার স্টেশনে(KAPS), ১৯৯৪ সালে কাইগা এটমিক পাওয়ার স্টেশন তৈরীর সময়, ১৯৯৯ সালে মাদ্রাজ এটমিক পাওয়ার স্টেশনে(MAPS) সহ আরো বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দুর্ঘটনা কিন্তু লেগেই আছে।
৫) ভারতের ট্রম্বে ও তারাপুর পুন:শোধন কেন্দ্রে ৩০ বছর আগে নির্মিত স্টিলের ট্যাংক বা আধারে তেজস্ক্রিয় তরল বর্জ্য সংরক্ষণ করা হয়। এগুলো স্টিলের ট্যাংকগুলো কংক্রীটের ঢালাইয়ের মধ্যে বসানো আছে। এরই মধ্যে ট্য্যংক লিক করে কংক্রীটের আস্তরণের মধ্যে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তরল জমা হচ্ছে। সেখান থেকে তা চুইয়ে একসময় তা মাটিতে প্রবেশ করবে। কিংবা ভূমিকম্পে সেখান থেকে তেজস্ক্রিয তরল মাটিতে মিশে যেতে পারে। কেননা এ কংক্রীটের আধারগুলো ভুমিকম্প প্রতিরোধক করে বানানো হয়েছিল কি-না তা এখন কেউই নাকি বলতে পারছে না! ১৯৯৬ সালে ড. গোপাল কৃষ্ঞন এ বিপদের কথা সামনে আনলেও আজ পর্যন্ত তার সুরাহা হয়নি।
এই দীর্ঘ কমেন্টটুকো দিলাম কারণ এটা আমাদের বোঝা প্রয়োজন ভারত প্রায় অর্ধ-শতাব্দি ধরে নিউক্লিয়ার এনার্জির পেছনে লেগে থাকলেও, ব্যাপক প্রযুক্তিগত গবেষণা ব্যয় করলেও আজও সে নিউক্লিয়ার শক্তির বেসিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আর আমরা এ বিষয়ে তেমন কোন গবেষণা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা গড়ে তোলার কোন প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করেই স্রেফ আর দশটা ভোগ্যপণ্য আমদানির মতো করে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর আমদানীর চুক্তি করে ফেললাম রাশিয়ার সাথে।
গরীবের ঘোড়া রোগ আর কারে কয়!
দিনমজুর বলেছেন:
ওহ! মন্তব্যের সূত্র দিতে ভুলে গিয়ে ছিলাম:কোলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রদীপ দত্ত লিখিত
পরমাণু চুক্তি নয় নবীকরণযোগ্য শক্তিই ভরসা, মে ২০০৮ বইটি
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















