somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিতা, তোমার পা দুটো দেবে? একবার সালাম করতাম!! কাঁধ দেবে? কাঁদতাম!

১৫ ই আগস্ট, ২০১৩ সকাল ৮:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকের দিনটি ক্ষমা প্রার্থনার,
ক্ষণগুলো নতমস্তকে কিছু শব্দ বুনবার,
শোকের প্রাবল্যে হওয়া কাতরতার,
আজকের সময়গুলো ভেঙে পড়ার।
আজ কালোর জয়, পিতৃশোকের লগ্ন,
চশমাটা, পাইপটা একান্তে-নিভৃতে ছুঁয়ে
ত্যাগিও অশ্রু খানিক, হও স্মৃতিতে মগ্ন!
আজ বাতাসের কান্নাগুলোর গল্প হবে,
বিষণ্ণ কষ্টগুলো আর্দ্র হয়ে জেগে রবে।

আজ স্বাধিকার পরাধীন হবার ইচ্ছে !
আজকের দিনটি কর্কশতার, বেদনার,
অস্তিত্বে নীলগুলো খুঁজে ফেরা কান্নার,
মাতমে মাতমে আবার উঠে দাঁড়াবার,
আবার কেঁদে কেঁদে হওয়া প্রেরনার।
আজকের ভোর প্রেমিকের মৃত্যুদিবস,
মাটিকে মুকে আঁকড়ে ধরে কাঁদা মহাত্মার
মহাপ্রয়াণ অস্বীকারিয়া বলা, তুমি নির্দোষ!
কান্নামাখা দরদে আবীর ঢেলে দেবার নির্মমতা
প্রত্যক্ষ করিনি বটে তবু জেনেছি সে আকুলতা!
জেনেছি কি আবেগে বেসেছো ভালো পিতা,
বেঁচেছে প্রেরনায় সে, জাগ্রত জনতা।




বঙ্গবন্ধু তার বড় শক্তির কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন জনগনের তার প্রতি ভালোবাসার কথা। আর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল, তিনি বাংলার মানুষকে প্রচণ্ড বেশী ভালোবাসতেন! আমরা জাতি হিসেবে অনন্য, ভালোবাসার সর্বোত্তম প্রতিদান আমাদের থেকে ভালো আর কে দিতে পারে?



আজ আমি চিৎকার করে বলবো, জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!! আমাকে 'আওয়ামীলীগ' বলবেন? গালি গালাজ করবেন? আপনাকে ধন্যবাদ দেই, এবং গালিটুকু হাঁসিমুখেই গ্রহন করবো! আজ যে আমার পিতৃশোকে মাতমের দিন! আজ আমাকে সান্ত্বনা কেউ দেবে না জানি তাই গালির ভয় কেন করবো! সাড়ে সাত কোটি থেকে ষোল কোটির আরেক নাম হওয়া মুজিবরকে ভালোবেসে পাওয়া গালিও আমার কাছে রাজ মুকুটের ন্যায়। এই মহামানবকে ভালোবেসে পাওয়া সব কিছুই অনেক বেশী পবিত্র যে!

তোমাকে হারাবার দুঃখ আমি চিনিনা পিতা, তবু বারে বারে চোখ কেন ভিজে আসে আমার জানা নেই। আমি দেখিনি তোমার রক্তাক্ত দেহখানি তবু তার নির্মমতা কেন আমাকে আলোড়িত করে আমি জানিনা। নিজ কানে শোনা হয় নি সে বজ্রকন্ঠ, তোমার বানী বাবার মুখে শুনে তবু কেন শিহরিত হয়েছি সে প্রশ্নের উত্তরও অজানা। বঙ্গবন্ধু, ভালোবাসি তোমাকে, অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে! যদি আরেকবার জন্মাতে এই অভাগা বাংলার বুকে! বুক পেতে তোমার জন্য বরাদ্দ বুলেটখানি জন্ম জন্মান্তরে নিতে আপত্তি নেই এতোটুকু! সেই যে দিশাহীন তরীখানি ফেলে চলে গেলে, আজ পর্যন্ত পথের খোঁজে হন্যে হয়ে সে ভূখণ্ডখানি ভেসে চলে! সেই ভূখণ্ড যা অর্জনে বিসর্জনের ছিল না কার্পণ্য! সেই মাটি যার সোঁদা গন্ধ বুকে মেখে কেঁদেছিলে প্রচণ্ড সুখের হাঁসি! আমি গর্বিত সেই আলো-হাওয়া ভাগ করে নিতে পেরেছি যা তোমার স্পর্শে হয়েছিল মহিমান্বিত!

পিতা, তুমি অমর, তুমি মহান! তুমি রয়েছ এই বাংলার প্রতিটি বালুকণায়, প্রবল অট্টালিকার প্রতিটি গাঁথুনিতে! এই বাংলার প্রতিটি আত্মা কৃতজ্ঞ রইবে তোমার কাছে! আর ক্ষমা করো সে সব বেঈমানদের, জারজদের যারা পিতৃপরিচয় অস্বীকারের ধৃষ্টতা দেখায়, প্রতিনিয়ত এই বাংলা মা-কে করে নির্মম অপমান! আমি তো জানি তোমাকে! অন্তর দিয়ে ওই মুখখানি একবার যে দেখেছে সেই বুঝেছে, ওই বুকের মাঝে মানচিত্রটা নিয়েই লুটিয়ে পড়েছিলে পিতা! তোমাকে কোন উপাধি দেবার অন্যায় করতে চাইনা, শুধু ভালোবাসা জানাই।



তোমার নিথর দেহখানি, রাসেলের নিস্পাপ চাহুনি আমাকে বলে দেয় দেশকে ভালোবাসতে, বলে দেয়, 'হ্যাঁ, মায়ের জন্য অকাতরে জীবন দেয়া চলে!' বলে দেশপ্রেম এর অর্থ জানতে চাইলে ওই ব্যাক্তিত্বের দিকে তাকাও! তোমার প্রতিটি রক্তবিন্দু দিয়েই যে পতাকার লালটুকু আরও গাঢ় হয়ে পূর্ণতা পেয়েছে!

তোমার ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া বাংলার মাটিতে তুমি শুয়ে আছো, ও রক্ত মেঝের ধুলিতে গিয়ে মিশেছে, ওই হাড়-মাংস মিশেছে তোমারই ভালোবাসার মৃত্তিকায়! তাই আজ চিৎকার করে বলবোই পিতা, অনেক অনেক ভালোবাসি তোমাকে, অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে,

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!
১৮টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পোড়লো ইচ্ছার আলো

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৩


হইতাম যদি- চড়ুই পাখি
এতোদিনে ঘর বানাতাম-
অট্রালিকার ছাউনি;
চোখ জুড়াইয়া- মন পোড়াইয়া
দেখতাম শুধু
ঐ চাঁদেরও হাসি;
আগের মতো বুঝতো না রে
এতো ভালবাসি-
আমি অধম রয়ে গেলাম
হইলাম না রে- চড়ুই পাখি!
জনমের স্বাদ জনমেই থাকলো
পুড়লো শুধু ইচ্ছার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা ও খোকার রাজ্যপাট

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪১


নদীর তীরে কাশের বন সেথায় ছোট্ট কুঁড়েঘর,
আমি থাকি মা-ও থাকে আর কেউ নেই আপন-পর।

ঘরের পাশে বাঁশের বন তার ওপারে সুদূর মাঠ
সেই মাঠেতে কাটে দিন সভা-সদ বিহীন রাজ্যপাট।

শান্ত শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগাররা সব কোথায় গেল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩১

ব্লগাররা সব কোথায় গেল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ব্লগাররা সব কোথায় গেল, ব্লগটা কেন শূণ্য?
কে বলেছে এমন কথা, ব্লগ লেখায় নাই পূণ্য?

ব্লগাররা সব কোথায় গেল, ব্লগটা রেখে খালি?
শূন্য কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উগ্র মতাদর্শ বৃদ্ধির বিপদ আমরা বুঝতে পারছি?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৪৪


আড়াই দশক ধরে আমরা একটা জোয়ার দেখছি। নীরবে, ধীরে ধীরে উঠে আসা এক জোয়ার। ধর্মীয় উগ্রপন্থার জোয়ার। কখনো গোচরে, কখনো অগোচরে। রাজনীতির মঞ্চে, বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে, ফেসবুকের টাইমলাইনে, প্রবাসে বসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এটা মানুষ নাকি রাক্ষস?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


প্রিয় পাঠক, আজ আপনাদের সামনে এমন এক ব্যক্তির গল্প তুলে ধরব, যার কীর্তিকলাপ শুনে আপনি নিজেকে প্রশ্ন করবেন — এটা আসলেই মানুষ, নাকি পৌরাণিক কোনো রাক্ষস? না, এটা কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×