somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই দুই-এক মাসে সামহোয়ারইন ব্লগে এক বছর পূর্ন হইছে।

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বছরের আগষ্ট মাসের কোন একদিনে বইপাগলের এক পোষ্টে ডা: আইজুদ্দিনের কমেন্টের রিপ্লাই দিতে গিয়া রেজিষ্ট্রেশন করলাম। পোষ্টের লিংকটা পাশের টেবিলের ডেভেলপার মেসেন্জারে দিসিলো। সেই থাইকা শুরু।

চোখে ভাইসা উঠতাছে সব কিছু। রাতের পর রাত জাইগা ব্লগিং করা। চোখের নীচে কালি। কথায় কথায় ঝগড়া। আবার ঠিক। ব্লগিং যখন শুরু করছিলাম মন ছিল দিশাহারা। সমস্যা আর সমস্যায় জীবন জর্জরিত। এখন যে খুব ভাল আছি তা না। তবে অভ্যাস জিনিসটার সাথে ভালো কইরা পরিচয় হইছে। আমি দারুন এক শ্রোতা। মানুষের কথা শুনতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে। রাস্তায়, বাসে, পার্কে, অফিসে, আড্ডায় আমি মানুষের কথা শুনতে ভালবাসি। কিন্তু ব্লগে বলার চেষ্টা করলাম।

এই খানে আইসা কত রকম মানুষের সাথে পরিচয় হইলো। কত জনের গল্প শুনলাম। দেখলাম বেজন্মা রাজাকার, ঘাউড়া রাজনীতি কর্মী। দেখলাম শীতের একফোটা শিশিরের মত ক্ষনজন্মা অথচ পাথরের মত কঠিন বাষ্তব কিছু স্বপ্ন। দেখলাম সবার হাতে হাত রেখে কিভাবে ঝাপিয়ে পরা যায়। দেখলাম অসত্যের মুখোশ পরে থাকা মানুষকে আর দেখলাম সেই অসত্যের প্রতিবাদের ঝড়। কত রকম ব্লগার দেখলাম। কেউ বা ব্লগে বাহবা খোজে, কেউ খোজে বন্ধু। আর কেউ খোজে অদম্য কামনা দমন করার উপায়।

ব্লগের বন্ধু, সহব্লগারদের দিকে তাকালেই নিজেকে গর্বিত মনে হয়। আমার আইডল এরাই।

ডা: সাহেবের কথা দিয়েই শুরু করি। অসম্ভব তীক্ষ্ণবুদ্ধিমত্তার এই ব্লগার প্রায়ই নর্মাল তর্কে লিপ্ত থাকে। আর কয় মাস পর পর দুই একটা ভাইরাস সাইজের লেখা দিয়া এটম ফোটায়। হোসেইনের লেখা পইড়া প্রায়ই আমি দীর্ঘ নি:শ্বাস ফালাইছি। মনে হইতো আমার লেখাটা মন থাইকা চুরি কইরা শালা লেইখা ফালাইলো।

রাগইমনের কথাও না কইলেই না। শব্দের যাদুকরের মত এই কবির কবিতার আমি ভক্ত। হাসিবের ছোট্ট কিন্তু অব্যার্থ কমেন্টগুলা আমারে এখনও দারুনভাবে মুগ্ধ করে। এখন আবার কোশ্চেন কইরেন না আমি এগো কেন এক প্যারাতে রাখলাম।

প্রিয় অমিপিয়ালরে একদিন সামনা সামনি দেখছিলাম। ভাবলেশ চেহারা দেইখা বোঝাই যায় না দারুন আইকিউ ওয়ালা এই ব্লগার দেশের পক্ষে আর স্বাধীনতার শত্রুদের বিরুদ্ধে জীবন-পন যুদ্ধে নামছে। এস্কিমো আর শমশেরএর লেখাও দারুন। স্নোবল, নির্বাক শুশীল, হট্টগোল, ইয়র্কার, হনলুলু , অরণ্যক যাযাবর, মনিটর, আরিফুর রহমানের নিকেদের ভালো লাগে। সু-শান্তদা, ছায়ার আলো , লোকালটক, লালদরজা, রাতমজুর, একরামুল হক শামীম ভাল লেখে।

ভালো লাগে জয়িতার কবিতা। উদাসী স্বপ্নের শিশুর এভারটারে। অর উপরে রাগ করলেও কিছু বলা হয় নাই ঐ ছবিটার জন্য। জোনাকী, মুজতবাকে এখন খুব একটা দেখা যায় না। মিস করি নাজিরুল, নাদান, প্রত্যু, অচেনা বাঙ্গালিরে। মানুষ-আউলা-তানজিলার ঝঘড়াও খুব মিস করি।

সবসময় পজিটিভ মন্তব্য করা টারটল সাইফুরের লেখা ভাল লাগে। রাশেদের কথাও আসে। পোষ্ট পড়তে দেরী নাই, ঝাপায়া কমেন্ট কইড়া বইসা আছে। জেবীনের লেখাও অনেক দৃঢ়। মনে পড়ছে নরাধম আর অচেনা বাঙালি কথা। আত্নবিশ্বাসী মুকুলের সাথে দেখা হয়েছিল একবার। বিষাক্ত মানুষের গানের চয়েজ আমার সাথে ১০০% মিলে। দেখি তামিম ইরফান, চানাচুর, মুন্না, মুতাসিমরে।

অনেকে আছে যাদের কখনও মিস করি না, দালাল মাহবুব মোরশেদের চোখে যারা ইরিটেডিং ব্লগার। গন্ডার, জেনারেল, মেন্টাল আরও উপরের অনেকে। একসময় ছায়ার মত এরা পাহারা দিয়েছে এই ব্লগ। অসত্যের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিবাদ করেছে। এখনও করে।

এই লেখাটা খুব তারাহুরা কইরা লিখা। পছন্দের অনেকের নাম নাই। অন্য কোন কারনে না, মনে আসে নাই। ব্যান-ব্যানানির জ্বালায় নিক বদলাইতে বদলাইতে সব কই হারায়া গেলো। আর নিয়মিত আসতেও পারি না। আর বয়স হয়া গেছে। আগের মত সব মনে রাখতে পারি নাই। খুশি হমু আমারে মনে করায়া দিলে।

অপছন্দের লিষ্টি আর টানাইলাম না। এগুলারে হাতের কাছে পাইলে যে কি করি, আল্লাহই জানে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২০
৪০টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×