আমার প্রিয় পোস্ট

অতীত খুড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি

রাজাকার, জামাত এবং ইত্যাদি....

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১০:০৮

শেয়ার করুন:                   Facebook

রাজাকার, জামাত এবং ইত্যাদি...

ক.
চরম ডান বা চরম বাম দলগুলোর মধ্যে একটা চমৎকার মিল আছে! তারা খুবই সুশৃংখল এবং সংগঠিত হয়, সেই সঙ্গে আদর্শের ব্যাপারে আপোষহীন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বা সমমনা দলগুলোকে আমি এদের মধ্যে ধরছি না। সর্বহারারা আসতে পারেন যদিও ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং নারীনির্যাতনেই তাদের আদর্শ এখন ডুব দিয়েছে। চরম ডান বলতে কী জামাতে ইসলামী আসবে? পুরোপুরি নয়। সমপ্রতি সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে শোর ফেলে দেওয়া তথাকথিত ইসলামপন্থী দলগুলো নিঃসন্দেহে এ তালিকায় ওপরে। কিন্তু বেশ কজন জঙ্গী ধরা পড়ার পর 'আগে শিবির বা জামাত করতাম' জাতীয় স্বীকারোক্তি দেওয়ায় এটা মোটামুটি পরিষ্কার জামাত-শিবির তাদের মোহভঙগ করায় অন্যপথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছে তারা। 'ইসলামী বিপ্লব জামাতের এজেন্ডায় এখন নেই। তারা এখন অন্য ধান্দায়। এতবড় ভূমিকা আমার মূল আলোচনায় প্রাসঙ্গিক কিনা এখনই নিশ্চিত নই। লিখতে থাকি, পড়তে থাকেন।
খ.
ব্লগে ইদানিং রাজাকার প্রসঙ্গটাই তুমুল হট আইটেম- সঙ্গে জামাত এবং পক্ষে-বিপক্ষে জমজমাট বিতর্ক। আমি কোন পক্ষে? উত্তর আসছে। তার আগে বলে নিই, এই উপমহাদেশেই শুধু নয়, গোটা বিশ্বেই মানুষের বিশ্বাস ও আবেগ নিয়ে ফায়দা লোটে একদল। অভিধানিক নাম ধর্ম ব্যবসায়ী। এরা আগেও ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। প্রেক্ষাপট যখন বাংলাদেশ, তখন বলতেই হয় প্রচণ্ড ধর্মভীরু জাতি আমরা। আর সেই বিশ্বাস ভাঙ্গিয়ে এবং একরকম ইমোশোনাল ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে যারা আখের গুছিয়ে নিয়েছে তাদের সংগঠিত দলটির নাম হতে পারে জামাত। তবে '71র জামাত আর সামপ্রতিক জামাত এক নয়- এই বিশ্বাস যাদের তাদের সুখস্বপ্নে জল ঢালতেই হচেছ এই বলে যে 'এরা একটা নির্দিষ্ট আদর্শে বিশ্বাসে' এবং তা থেকে টলবার নয়। আওয়ামী লিগ বা বিএনপি বা জাতীয় পার্টির মতো বুর্জোয়া দলগুলো নিজেদের আদর্শ (যদি সেরকম কিছু আদৌ থাকে) বিসর্জন দিয়ে অবলীলায় ফুলের মালা নিয়ে বিপ দলে যোগ দিতে পারে। জামাত থেকে তা সম্ভব নয়। এ কারণেই তাদেও কর্মী, সমর্থক একেবারে অঙ্কের মতো হিসেব করা_ এক চুলও এদিক ওদিক হয় না। (দুয়েকটা ব্যাতিক্রম থাকতেই পারে, তা নিয়ম বলে ভাববেন না)
গ.
একাত্তরে জামাতের আদর্শ ছিল পাকিস্তান ভাঙ্গা যাবে না এবং ভারতের গোলাম হওয়া যাবে না। নতুন মিলেনিয়ামে তাদের ভাবনা মোড় নিয়েছে_ এদেশটাকেই আমরা পাকিস্তান বানিয়ে নিই না কেন! সম্ভব অসম্ভব পরের কথা- এ লক্ষ্যে তারা গুছিয়ে এগিয়ে গেছে বহুদূর। আর তাতে কখনো কাঁধ পেতে দিয়েছে আওয়ামী লিগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি। '75 পরবর্তী পুনর্বাসনে গোলাম আযম তার নাগরিকত্ব উদ্ধারের পাশাপাশি যে কাজটি নিশ্চিত করেন তা হলো সারা দেশে তখন পর্যন্ত রাজাকার বলে নিগৃহিতদের একটা হিল্লে করা। আশির দশকের সাপ্তাহিক বিচিত্রার একটি প্রবন্ধ ডিটেলে তুলে ধরেছিল ব্যাপারটা- উদাহরণ হিসেবে ছবিসহ দিয়েছিল এক কানকাটা রাজাকারের প্লাস্টিক সার্জারি করিয়ে আনার ছবি।
ঘ.
মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় আমার বয়স সাড়ে তিন। সেইরকম কোনো স্মৃতি মনে নেই। আবছা মনে পড়ছে ব্রাক্ষনবাড়িয়ার পাইকপাড়ায় আমাদের বাসার সামনে রামকানাই স্কুলে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যামপ, প্রথম স্টেনগান ছুঁয়ে দেখা, চোখ বাঁধা ট্রাক বোঝাই বাঙ্গালীর বধ্যভূমি যাত্রা, আমাদের ময়না মিঠুর 'জয় বাংলা' শ্লোগান, ট্যাঙ্কের পাড়ে হেলিকপ্টার থেকে মিত্র বাহিনীর শিখ কমান্ডারের অবতরন, বাবাকে না পেয়ে আমাদের বাসা লুট এবং চাকর কবিরকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া। মনে আছে বোম্বিং হবে এই ভয়ে আমাকে বুকে নিয়ে ট্রেঞ্চের দিকে ছুটছে আমার গর্ভবতী মা। রমজান মাসে কর্ণেল সাহেব ইফতারির দাওয়াত দিয়েছিলেন। বাবা কি মনে করে ঘুরপথে সেদিন বাড়ি ফিরেছিলেন। ফলে ভৈরব ব্রিজের ওপর দাঁড় করিয়ে মারা 32জন ডাক্তার-ইনজিনিয়ার ও বুদ্বিজীবির সঙ্গী হতে হয়নি তাকে। বাবা ডায়েরি রাখতেন। পরে এতে যোগ হয়েছে বিজয়ের পর প্রকাশিত পত্রিকাগুলোয় যুদ্ধকালীন প্রতিদিনকার ভয়াবহ সব কিপিং। বাবা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি পান্ডুলিপি করে গেছেন। বাংলা-ইংরেজি দুভাষাতেই। কিন্তু এর প্রকাশনা দেখে যেতে পারেননি টাকার অভাবে। আশা রাখি একদিন তা প্রকাশের সামর্থ্য আমার হবে।
ঙ.
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের শক্তি, ও তা নিয়ে এখন দেশ বিভাজন চলছে বলে যারা বুলি কপচান, তারা হয় সত্যি জানেন না নয়তো তা স্বীকার করতে লজ্জা পান। '71-এ কারা লড়াই করেছে? 12 বছরের শহীদ যে বাঘা সিদ্দিকীকে বলেছিলেন 'গ্রেনেড দেন খানগো মারুম' কিংবা 65 বছরের কৃষক বশিরউদ্দিন যে চওড়া কাধে মর্টারের ভার নিয়ে অবহেলায় সতীর্থদের বলেছিলেন, 'কী যে কও ভাতিজারা, গরু না থাকলে এই কাধে জোয়াল বইছি, আর এইডা কী ভার?' কিংবা আমাদের চট্টগ্রাম মেডিকেলের তরুন ডাক্তার শাহআলম বীরোত্তমের কথা যিনি ক্যারিয়ারের চেয়ে দেশ বড় ভেবে খরস্রোতা কর্ণফুলি সাঁতরে উড়িয়ে দিয়েছিলেন শত্রুজাহাজ- তারাই কী শুধু! তারাও, যারা জানের মায়া না করে ঘরে আশ্রয় দিয়েছেন গেরিলাদের, না খেয়ে খাইয়েছেন সোনার ছেলেদের- ওরা একটি পতাকার জন্য জান লড়িয়ে দিচেছ, এই ভাবনায়। বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে তখন মুক্তিযোদ্ধা। এবং রাজাকার- তাদের পতাকা চাঁনতারা। মুখে পাকসারজমিনবাদ...।
চ.
আরেকটু পেছনে ফেরা যাক। '70র নির্বাচনে শেখ মুজিব ও তার দল বাঙ্গালীদের সংখ্যাগরিষ্ট ভোট পেয়েছিলেন। একটাই ডাকে- ভোট দাও আমি তোমাদের নিজের দেশ দেব। 25 মার্চ রাতে পাকিসতানি সেনাবাহিনী চরম হিংস্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ার পর, মুজিব বন্দী হলেন। তার সঙ্গীরা পাল্টা প্রতিরোধের বাণী নিয়ে ছড়িয়ে পড়লেন এদিক ওদিক, কেউ বা সীমানার বাইরে। তখন বন্দুকের নল খুঁজে বেরাচেছ আওয়ামী লিগ আর হিন্দুদের। এই সময় ফিল্ডে নামল যে দুটি দল তারা হচেছ মুসলিম লিগ ও জামাতে ইসলামি- পাকিদের কাছে বিহারিদের পর সাচচা মুসলমান ও পাকিস্তানি। তাদের কাজ দেশদ্রোহী যারা ভারতের দালালী করে পাকিস্তান ভাঙতে চায় তাদের চিহ্নিত করা ও ধরিয়ে দেওয়া। মুসলিম লিগ একটু মাঝামাঝি বিবেকের, সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করতে তারা গঠন করল শানতি কমিটি। জামাত এক কাঠি বাড়া- রাজাকার। কি সুন্দর নাম! স্বেচছা সেবক- আসল অর্থ ঘাতক-দালাল। কোন বাড়িতে সুন্দরী মেয়ে আছে, কার টাকা পয়সা আছে, হিন্দু কই, কোন বাড়ির ছেলে দেশের ডাকে ঝাঁপ দিছে, তালিকা করো, জ্বালাও পোড়াও। একেক জায়গায় অবশ্য একেক রকম। তুমুল যুদ্ধের সময় তাদের লুঙ্গির উপর খাঁকি ইউনিফর্ম জুটছে, আর থ্রি নট থ্রি রাইফেল। পাকিরা বাঙ্কারে মাইয়া লইয়া ফুর্তি করে, তারা বাইরে পাহারা দেয়- আর অপেক্ষায় থাকে যদি ঝুটা জুটে। হাজার হোক মালে গনিমত! শত্রু সমপত্তি- জায়েজ আছে! 10 লাখ বাঙ্গালী বীরাঙ্গনা তাদের দালালীতে সম্ভ্রম খুইয়েছেন। লাখখানেক যুদ্ধশিশুকে '72 সালে বিদেশে চালান করা হয়েছে। তাদের অনেকেই ফিরে এখন মাকে খোঁজে। কিন্তু কে স্বীকার করবে সেই অপমান!
ছ.
ব্যাতিক্রম ছিল শুনেছি। অনেকে জান বাঁচাতে রাজাকারের তালিকায় নাম তুলেছে। কেউবা ফায়দা লুটতে। কেউ কেউ নাকি গোপনে মুক্তিদের সাহায্যও করেছে। বিবেকবান রাজাকার! শহুরে পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন। জামাত ও শিবির (তখন নাম ছিল ইসলামী ছাত্র সংঘ) মহানবী ও ইসলামের বিখ্যাত বিজয় বদর যুদ্ধের অপমান করে মাঠে নামে 'আল বদর' নাম নিয়ে। আল-শামস নামটা কোত্থেকে এসেছে জানি না। তবে এরা ছিল জেনুইন কিলার- তাও পারভার্ট ধরনের। বুদ্ধিজীবি হত্যার নীলনক্সা ও বাস্তবায়ন ঘটায় তারাই; যার প্রথম সারির নেতা ছিলেন এখন কার দুই জামাতি মনত্রী নিজামী ও মুজাহিদ। ফকিরাপুলে মুজাহিদ পাকিসতানের পতাকা হাতে সামরিক মার্চ করছে-এমন ছবি আছে। যুদ্ধ শেষে এরা কোথায় ডুব দিয়েছিল সেটা গবেষনার বিষয়। কিন্তু পাকরা তাদের দোসরদের পালাবার সময় সঙ্গী করেনি। বলা হয় তারা অনেকেই লুটের সোনাদানার কিছুটা বখরা দিয়ে জানের সদকা কিনেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদেও মাঝেও ঢুকে পড়েছিল কিছু। 16 ডিসেম্বর বেশ কিছু এ জাতীয় লোক কুড়িয়ে পাওয়া রাইফেল নিয়ে 'জয় বাংলা' শ্লোগান নিয়ে শরিক হয়েছিল বিজয় মিছিলে। তাদের রসিকতা করে বলা হতো 'সিক্সটিনথ ডিভিশন'। এবং অধঃপতিতরাও আছেন। মায়ার কথাই ধরুন। '71-এ রাজধানীর বুকে শত্রুসেনার ঘুম হারাম করা 'ক্র্যাক' প্লাটুনে'র সদ্যস্য ছিলেন তুমুল সাহসী এই যুবক। পেয়েছেন বীর বিক্রম খেতাব। অথচ ক্ষমতায় গিয়ে বিকিয়ে দিলেন তার চেতনা ও আদর্শ। উনি একটি উদাহরন মাত্র। আমরা কত সসতাতেই কমপ্রোমাইজ করি!
জ.
তাহলে শেখ মুজিব কেন এদের ক্ষমা করলেন- এই প্রশ্ন অনেক অর্বাচীনের। মানুষটার মায়া ছিল বড্ড, কারণ কলিজাটা বিশাল যে! বললেন, 'কাদের মারব? এরাই তো কারো ভাই, কারো বাবা।' ভুল করেছিলেন, বড্ড ভুল করেছিলেন রাক্ষসের রক্তবীজের ঝাড় শেষ না করে। তবে আমাদের গ্রামে খলিল চাচা ব্রাশফায়ারে নিজের বাবাকে মারতে দ্বিধা করেননি দালাল বিধায়, থু থু ছিটিয়েছিলেন মরা লাশের মুখে।
ঝ.
'75-র পরবর্তী সরকারের আনুকুল্যেই ফিরে আসে হায়েনাদের দল। বুক ফুলিয়েই। এরপর তো তাদের মিডাস টাচ- যেখানে হাত দেয় সেখানেই সোনা। আশির দশকের মাঝামাঝি চট্টগ্রাম-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাদের দখলে। চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টির ছাত্রনেতা হামিদ ভাইকে সালাম দিয়ে হ্যান্ডশেইক করল একজন, তারপর হাত ছাড়ে না। আরেকজন কিরিচ দিয়ে এক কোপ! সমানে রগকাটা। আর কী প্ল্যানিং! আশেপাশের গ্রামে প্রথম লজিং টিচার হিসেবে ঢুকে বিয়েশাদি আত্মীয়তা করা। ব্যাস এভাবেই জাহাঙ্গীর নগর পর্যনত দখল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ঘেরেই আছে, প্রগতিশীল ছাত্রদের কারণে (এমনকি ছাত্রদলও এই ব্যাপারে অনেকখানি আপোষহীন!) ডাইরেকট অ্যাকশনে অক্ষম। আর মহাবিদ্যালয়গুলো? ওগুলোও তাদের।
ঞ.
মহাশয়রা। নিশ্চিন্তে রাত্রি যাপন করেন। অচিরেই বাংলা হবে তালিবান। লক্ষণ সব দেখা যাচেছ! ছেলেরা কলেমা আবার রিভাইস দিয়ে নামাজ ধরেন, দাড়ি রাখার অভ্যাস করেন। মেয়েরা বোরকা। শরীয়া আইন সমপর্কিত বইগুলো বই মেলাতেই পাবেন। ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ।
'মা গো ভাবনা কেন, আমরা তোমার শানতি প্রিয় শানত ছেলে, তবু শত্রু এলে অসত্র হাতে ধরতে জানি। তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি...'
কে বলছে এটা মুক্তিযুদ্ধের গান। এইটা তো 'ক্লোজআপ ওয়ান' নোলক বাবু গাইছে। তাই না মলি?

পুনশ্চ : ছবির ক্যাপশনটা বুদ্ধি খাটাইয়া বুইঝা নেন। তবে হাল জমানায় রঙিন ছবিতে মানুষ দুজনের অবস্থান বদলাইয়া গেছে_ ইহাই বাংলার নিয়তি!!!

 

প্রকাশ করা হয়েছে: রাজাকার  বিভাগে ।

 

  • ৫২ টি মন্তব্য
  • ১৪৬০ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩৭ জনের ভাল লেগেছে, ৩ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৪:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: পিয়াল, সংক্ষেপে মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি আবেগময় অথচ পক্ষপাতহীন লেখা উপহার দেয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। মলি, শাওন (সত্যি যদি এরা অল্পবয়স্ক হয়ে থাকে ও সত্য না জেনে থাকে) বা তাদের অন্যান্যরা নিশ্চয়ই নতুন কিছু তথ্য পাবে। যা তাদের চোখ খুলতে সাহায্য করবে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। অমিত হাবিবকে আমার শুভেচ্ছা দেবেন।
২. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৪:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: অসাধারন,সবার পড়া উচিত এই লিখা। আর ও লিখা চাই
৩. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:০২
comment by: :) বলেছেন: ধন্যবাদ পিয়াল। লেখা থামাবেন না, আপনার মত লেখনী আমদের এখন খুব প্রয়োজন। আপনি দুহাত খুলে লিখুন, বিভ্রান্ত প্রজন্ম চিনতে শিখুক তাদেরকে।
৪. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: তথ্যবহুল ও সত্যনির্ভর লেখার জন্য পিয়াল আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে চেতনার ব্যাপারে নিস্পৃহ থাকার চেস্টা সত্যি অনেক কস্টকর। রাজনীতিবিমূখ মানুষকে ইতিহাস সচেতন করতে এধরণের লেখার কোন বিকল্প নেই। তাই, এধরণের লেখা আরও চাই। ধমান্ধতার বিস্তৃতি ছড়াতে জামাত দেখিয়েছে পথ। আর সেই পথ ধরে এসেছে ধমর্ীয় নৈরাজ্য ও উন্মাদনা। তাই বলি, জামাত-শিবির নিরোধে রাজনৈতিক কর্মসূচীর চেয়ে সামাজিক কর্মসূচীর প্রয়োজন অনেক বেশী যাতে রাজনীতির ফাঁক ফোকর দিয়ে জামাতী দের বিকাশ আর কখনো না হয়। এই অংগীকার অনুরণিত হোক প্রতিটি মানুষের অন্তরে আর কর্মে।
৫. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: পিয়াল, চমৎকার হয়েছে। তবে শিরোনামটা আরো ধারালো হওয়া দরকার।
৬. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৬:০২
comment by: সমকালের গান বলেছেন: এ ধরনের আরো লেখা চাই। লেখককে অনেক ধন্যবাদ।

সাথে সাথে মাদক নিয়ে কি কেউ লিখবেন প্লিজ। জামাতীদের মতো মাদক ও আমাদের সময়ের এক বড় সমস্যা। আমার মনে হয় এই ব্লগ হতে পারে মাদক বিরোধী আন্দেলনের এক সফল প্ল্যাটফর্ম।
৭. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৭:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: ভাল লেগেছে । সবগুল অনুচ্ছেদই ভাল লেগেছে । আসলে এগুলো আমরা জানি । কেউ কেউ জানেননা । কিংবা জেনেও চোখ বুজে থাকেন । তবে অনুচ্ছেদ "জ" নিয়ে একটু কথা আছে । আপনি আমাকে বলেন, রোকেয়াকে রেপ করল রহিম, আর রহিমকে খমা করলেন রকেয়ার বাবা, রকেয়া কি ন্যায্য বিচার পেল ? নির্যতিত হয়েছে এদেশের 30 লাখ মানুষ । খমা করার অধিকার শুধু তাদেরই আছে আর কারও নয় । সে যে ই হননা কেন ।
৮. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৭:০২
comment by: সমকালের গান বলেছেন: আই এগ্রি
৯. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৮:০২
comment by: ভূত বলেছেন: পিয়াল, ভাবছিলাম আপনার লেখাকে ভারসাম্যপূর্ণ বলে রায় দেবো। কিন্তু তা আর হতে দিলেন কই!

আপনি বলেছেন '70 এর নির্বাচনে মুজিবের ডাক ছিলো একটাই - "ভোট দাও আমি তোমাদের নিজের দেশ দেব।" এতবড় একটা মিথ্যা বলে ভাববেন না যে পার পেয়ে যাবেন। পেয়ারা পাকিস্তানের সরকার প্রধান হবার আশাতেই '70 এর নির্বাচনে শেখ মুজিব অংশগ্রহণ করেছিলেন, বাঙ্গালীদের একটি নতুন দেশ দেয়ার জন্যে নয়।

7 মার্চ 1971, রেসকোর্স ময়দানের ভাষণেও মুজিব অবিলম্বে শাসকগোষ্ঠীকে নির্বাচনে বিজয়ীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছিলেন। অর্থাৎ তখনও তার খায়েশ ছিলো পাকিস্তানের সরকার প্রধান হবার। ভাষণটাও তিনি শেষ করেছিলেন "জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান" বলে (জোছনা ও জননীর গল্প - হুমায়ুন আহমেদ)। অর্থাৎ তখনও তিনি শাসকগোষ্ঠীর কাছে বিচ্ছিন্নতাবাদী রূপে পরিচিত হতে চাননি।

25 মার্চ 1971, তখনও একটি নতুন দেশের চিন্তা তিনি করেননি। করলে শাসকগোষ্ঠীর সাথে সংলাপে বসতে রাজি হতেন না।

উপরোক্ত মিথ্যাচারটি ছাড়া মোটামুটি ভারসাম্য আছে আপনার লেখায়। কিন্তু তারপরও প্রিজুডিসের গন্ধ আছে।

গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদরা স্বীকার করে তারা রাজাকার ছিলো (গোলাম আযম প্রকাশ্য এক জনসভায় ক্ষমাও চেয়েছেন কৃতকর্মের জন্য)। তাই পাকিস্তানের পতাকা হাতে তারা ফকিরাপুলে মার্চ করতেই পারে। দেশের অখণ্ডতা রক্ষার মত সম্মানজনক একটি কাজে তারা শরীক হতেই পারে। কিন্তু হত্যা, গণহত্যা, কিংবা ধর্ষণের অভিযোগ তারা সবসময় প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে যাদের এই অভিযোগ তারা জাতির কাছে সেটা প্রমান করতে না পারলে অভিযোগকারীদের মরে যাওয়া উচিৎ। 35 বছর পার হয়েছে কিন্তু লক্ষ লক্ষ শহীদ আর ধর্ষিতাদের পক্ষে কেউই বাংলাদেশের কোথাও একটা সাধারণ মামলাও দায়ের করেনি।

চট্টগ্রামের খুনী হামিদ কি আপনার ভাই হয়? ওর হাত কেটে ফেলার যথেষ্ট কারন থাকার পরও আপনার গাত্রদাহের কারনটা স্পষ্ট নয়। তখন র্যাব ছিলোনা। তাই শিবিরকেই কাজটা করতে হয়েছে ;-)

মানুষ ভুল স্বপ্ন দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়। আবার ভুল শংকায় কারো কারো রাতের ঘুম হারাম হয়। আমি আপনাকে আশ্বস্ত করছি। বাংলা কখনো আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বা সৌদি আরব হবেনা। যদি আপনারা আপনাদের লক্ষ্যে স্থির থাকতে পারেন, যদি বিএনপি এবং লীগ দেশে দূর্নীতি, বেকারত্ব দূর করতে পারে তাহলে আর জামায়াতের উত্থান নিয়ে চিন্তিত হতে হবেনা। কিন্তু তা কি কখনো হবে? ভয় যদি কিছুকে পেতে হয় তাহলে এই প্রশ্নটাকে ভয় পান। জামায়াত-শিবিরের নাম শুনলে খিঁচুনি দিয়া জ্বর আনবেন আর ইশকুল পালানির (নিজের দায় এড়ানোর) মতলব করবেন এইডা ঠিক না।
১০. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৮:০২
comment by: অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যার অবকাশ অবশ্যই আছে। কিন্তুওই পরিচ্ছদটা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে একটাই কারণে- কেউ কেউ রাজনীতির গন্ধ শুকে মূল আলোচনাটা ফালতু বা অপযুক্তিতে ঘুরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা নিতে পারেন। আপনার সাথে দ্্বিমত পোষন না করে এইটুকুই যোগ করছি, তখনো লাশের গন্ধে বাতাস শ্বাসের অযোগ্য নদীনালার পানি তখনো লাল, মুজিব হয়তো চাননি আরো হত্যা। কিংবা এই ভুল ভাবনা তাকে পেয়েছিল ক্ষমা পেলে মানুষগুলো শুধরে যাবে। একটি কথা প্রাসঙ্গিক কিনা বুঝতে পারছিনা, তবে বলেই ফেলি। এখন পর্যন্তকোনো বিপ্ললবেই বিপ্ললবীরা বেনিফিশিয়ারি নয়, হন না। ছবির মুক্তিযোদ্ধাটা '72 সালে অস্ত্র জমা দিয়ে হয়তো হাল চাষে ফিরে গেছেন। আর চোখ বাধা রাজাকারটি হয়তো '75'র পর তার লুকিয়ে রাখা লুটের মাল বের করে বিত্তশালী হয়েছে। হয়তো সেই এখন ওই মুক্তিযোদ্ধার গ্রামের হর্তাকর্তা, চেয়ারম্যান বা এমপি। হয়তো একরাশ ঘৃণা বুকে নিয়েও তাকে সালাম করতে বাধ্য হন মুক্তিযোদ্ধাটি আর কান্না চেপে দেখেন তার সতীর্থদের কবরে বিজয় দিবসের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি ওই রাজাকার!
১১. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১০:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: পরশুরাম প্রমাণ করেছিলেন : ভূত = 0
১২. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১০:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: পিয়াল, শুভেচ্ছা নিন। আপনার লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। এই ভালো লাগা অকারণ নয়, বরং সামনের দিনগুলিতে এরকম যে কোনও লেখা ও তার লেখক যে বাংলাদেশ ও বাঙালির কতো বড় সহায় সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

70-এর নির্বাচন বিষয়ে আপনার বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ ঠিক, কারণ ছয় দফা আর কিছুই নয়একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টির সনদ, এই তথ্য জামাতিদের গায়ে বিছুটি লাগাবেই।
আর সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি? অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে, বাহাত্তরে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিটি বেশ জমেই উঠেছিল বিশেষ করে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কাশ্মীর বিরোধের মীমাংসায় আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পুরোপুরি জড়িয়ে গিয়ে শেখ মুজিবের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। সোভিয়েত আর্কাইভ থেকে কিছু গোপন নথিপত্রে দেখেছি সেসব চিঠিপত্র। কিন্তু শেখ মুজিব এমন যে শক্তিশালী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার, তাকেও ঢাকা বিমানবন্দরে চার ঘন্টা বসিয়ে রেখেছিলেন, কারণ তিনি পাকিস্তানের পক্ষে ওকালতি করতে এসেছিলেন। অবশ্য সেই বসিয়ে রাখার জের শেখ মুজিবকে দিতে হয়েছে জীবন দিয়ে, যদিও এ মৃতু্য অনেক বেশি সম্মানজনক, নয়?
আমরা অনেকেই জানি না যে, পাকিস্তানী বন্দী সেনাদের মুক্তি আর তাদের সহযোগীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সিমলা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল দুই পরাশক্তির মধ্যস্থতায়। আর রাজাকারদের সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি বলছেন? দয়া করে কেউ যদি দালাল আইনটির বিস্তারিত পড়ে দেখেন তাহলে দেখবেন সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে, যাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, লুট ও অগি্নসংযোগের অভিযোগ রয়েছে এবং এই অভিযোগের পক্ষে একটি মাত্র প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী রয়েছে, তাদেরকে ক্ষমা করা হবে না।
তাছাড়া বঙ্গবন্ধু আইন করেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন, এটা আমাদের ভুললে চলবে না।
আসলে সাধারণ ক্ষমা নয়, পচাত্তরের পরে জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় এসেই অর্ডিন্যানস জারি করে সংবিধান সংশোধন করে এই জামায়াতী গোখরোদের ক্ষমতার পথ দেখিয়েছিল আর এখন তো ম্যাডাম-এর সংসারই তাদের নিয়ে। দেখছেন না বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা অংশ এই সংসার ভাঙার শত চেষ্টা করেও সফল হচ্ছে না, জামায়াতী ইততরের গন্ধ এতোটাই মধুময়!!
আপনি লিখুন, আরও লিখুন,ওদের মতো মিথ্যাচার নয়, একটি মিথ্যাকে একশবার বলে বলে সত্য করার দায় আপনাকে নিতে হবে না, আপনি সত্য বলছেন যা ওই মিথ্যেবাদীরাও স্পষ্ট করেই বুঝতে পারে, তাইতো শরীলটা অগো পোড়ায়....ভালো থাকুন। শুভেচ্ছা অমিয়।
১৩. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১০:০২
comment by: অপ বাক বলেছেন: অমি ভাই ধন্যবাদ।
কিন্তু কিছু বিষয়ে আমার আপত্তি আছে, 70 এর নির্বাচনের পর এসেম্বলিতে যাওয়ার আগ্রহ ছিলো শেখ মুজিব এর, লক্ষ্য ছিলো পুর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন।
71 পরবর্তি প্রেক্ষাপটে উচিত ছিলো মুজিবনগর সরকারের রূপরেখা মেনে আগানো, আবেগ রাজনীতির পন্থা হতে পারে তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ামক হতে পারে না। প্রশাসন চালানোর দুর্বলতা দেখে আমার নিয়মিত মনে হয়, শেখ মুজিব বিরোধি দলের নেতা হিসেবে অসাধারন ছিলো, এমন কি তার হঠকারিতাগুলোও আবেগের জন্য চমৎকার কিছু সমাপ্তি এনেছে, তবে স্বাধীন বাংলার শাসনভার না নিলেই সবচেয়ে ভালো হতো, শাসক হিসেবে মুজিব 100 তে 40 পেলে মনে করতে হবে অনেক পেয়েছে, তার ধারাবাহিক ভুল হলো, অযোগ্য মানুষদের প্রশাসনে সুযোগ দেওয়া, মুসলিম লীগ নেতাদের রাজনৈতইক উপদেষ্টা পদে বসানো, ইসলামি জাতিয়তাবাদী মনোভাবাপন্ন একদল লোকের দ্্বারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পরা, এবং আইন শৃংখলা রক্ষা করতে ব্যার্থ হওয়া। যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্থিরতা আনতে ব্যার্থহওয়া, যেটার প্রয়োজন ছিলো সবচেয়ে বেশি।

এসব ভুলের খেসারত জীবন দিয়ে দিতে হয়েছে তাকে,
আমি গর্বিত হই সেসব মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যারা দেশের টানে যুদ্ধ করেছে, ছাত্র- শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, উর্দুভাষি উপজাতিয় সব শ্রেনির সব পেশার লোকদের নিয়ে, এবং তারা যুদ্ধ শেষে নিজ নিজ পেশায় ফিরে গেছে, দেশের পক্ষে কাজ করেছে, এদের নিয়েই আজকের বাংলাদেশ, এরাই বিভিন্ন উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত, কখনই নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে দেশের কাছে পারিশ্রমিক চায় নি।
লজ্জিত হই এটা ভাবলে, কিছু কিছু মুক্তিযোদ্ধা দেশের জন্য যুদ্ধ করার পারিশ্রমিক আশা করেছে, এরাই বাংলাদেশের অধপতনের জন্য দায়ি, 71 নয় মাসের গনহত্যা, ধর্ষন, রাইফেল বুলেট , এসবের সম্মিলিত যোগফলের উপরে একটা আদর্শের বাস্তবায়নের লড়া ৈলো। সেসব মুক্তিযোদ্ধা এই আদর্শের সাথে আপোষ করে নিজের আখের গুছিয়েছে,
এই সুবিধালোভি লোকদের হাত জামায়াতকে পুর্নবাসনে সহায়তা করেছে, ব্যাক্তি স্বার্থ যখন দেশের তুলনায় বড় হয়ে উঠে তখন যারা নিজের জন্য দেশের আদর্শের সাথে আপোষ করে তাদের দেশপ্রেমিক বলা বোধ হয় উচিত নয়।

এসব কুলাঙ্গারদের জন্য শাস্তির বিধান উচিত ছিলো, 72 থেকে সংখ্যালঘুদের ,উর্দুভাষি জনগনের সম্পদ লুণ্ঠনের ইতিহাসে শরিক সেসব লুটেরাদের অনেকেই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে, প্রশাসনে উচু পদ, কিছু অনৈতিক রাজনৈতিক সুবিধা, এবং এদের একদল পরে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন,
ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়াটা আমাকে পীড়া দেয় এজন্যই যে জামায়াত আজকে বড় গলায় বলতে পারছে তাদের উত্থানে শায়ক ভুমিকা পালন করেছে মুক্তিযোদ্ধারা,
কিন্তু পাকিস্তানের আদলে ধর্মপরিচয়ে দেশ তৈরির বিরোধিতার লড়াই ছিলো 71, সেই আদর্শ বিসর্জন দিয়ে যারা আপোষ করেছে, যারা মুক্তিযোদ্ধা এবং জামায়াতের রোকন, যারা তাদের সন্তানদের 71এর লক্ষ্য বুঝাতে ব্যার্থ তাদের দায়ভার নিবে কে?

ভুত ভাই মাঝে মাঝে আমার আশ্চর্য লাগে আপনার উদ্ভট চিন্তাধারা দেখলে? বিব্রত হই না, লজ্জিত হই,। আপনি যেকেউ হতে পারেন, হতে পারেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিেেঠর সেরা একজন শিক্ষক, কিংবা কোনো জামায়াতের ক্ষমতাধর নেতা, আপনার সাথে আমার বিরোধের জায়গাটা রয়ে যাবে। আমি এটা বলবোই যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি একটা ভন্ডামি, এটা কখনই দেশের উন্নতির সপক্ষে কাজ করবে না, দেশের মানুষের ধর্মিয় আবেগ পুঁজি করে জামায়েত ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।
আর শিবিরের আদর্শ নিয়ে অনেক গালগল্পদেখলাম কয়েক দিন, আপনার মুখ দিয়েও কিছু বের হলো, নির্বোধের গলা দিয়েও বের হলো, আপনার স্ব ীকারোক্তি দেখে লজ্জিত হলাম।


১৪. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১০:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: ভিভা মাসুদা ভাট্টি !
১৫. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১০:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: ভুতকে বলছি, র্যাব িছলনা, তাই বিচারের দায়িত্বটা িশবিরকে নিতে হয়েছে । তাইত ??? আর আপনি আমাদের আশ্বস্ত করছেন যে বাংলা কখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান কিংবা সোদি আরব হবেনা । এর পাশাপাশি আপনি এটাও বলেছেন যে, দেশের অখন্ডতা রকখা করার মত সন্মানজনক একটি কাজে তারা (গোলাম আজম, নিজামি) শরিক হতেই পারে । বাহ ! আপনিত ভাই জিনিস । হাহাহা...
১৬. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১১:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: পিয়াল, শুভেচ্ছা নিন। আপনার বাবার পান্ডুলিপিটি আমি পড়তে আগ্রহী। যদি সম্ভব হয়, অংশবিশেষ এই ব্লগে তুলে দিন। ডাবি্লউ ডাবি্লউ ডাবি্লউ ডট ব্লগার ডট কম এ গিয়ে আপনি প্রকাশ করতে পারেন ইংরেজি ব্লগ, সেখানে তাঁর ইংরেজি পান্ডুলিপিও খানিকটা তুলে দিতে পারেন। আমরা পড়বো, প্রয়োজনে প্রকাশে সহায়তা করবো।
১৭. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ দুপুর ২:০২
comment by: ভূত বলেছেন: মাসুদা ভাট্টিকে ধন্যবাদ দালাল আইনের কথাটি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য। ক'দিন আগে চ্যানেল আই-এর তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতা কামারুজ্জামান এ প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন। যাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষনের অভিযোগ ছিলো তাদের শাস্তি দালাল আইনেই সম্ভব ছিলো। যেখানে মাত্র একজন প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী থাকলেই অভিযুক্তকে শাস্তি দেয়ার বিধান ছিলো সেখানে কেন গোলাম আযম নিজামীরা ফসকে গ্যালো? তারা এত এত অপকর্ম করলেন আর সেসবের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষীও জুটলোনা? বাঙ্গালীকে এই কথাও বিশ্বাস করতে হবে? আদৌ কি তারা হত্যা এবং ধর্ষণে মেতে উঠেছিলেন কি না অথবা এইসব কাজে উস্কানি দিয়েছিলেন কি না সেটা জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই তলিয়ে দ্যাখা প্রয়োজন ছিলো। এ থেকে জামায়াতও উপকৃত হতে পারতো। কারন তাহলে '71 এর চেতনার ধ্বজ্বাধারীরা অযথা জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হয়রানির সুযোগ পেতোনা।
১৮. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ বিকাল ৩:০২
comment by: অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ইংরেজিতে 'টানেল আই ভিশন' বলে একটা শব্দ আছে, যার কাছাকাছি অর্থটা হচ্ছে একচোখা নীতি। এই ধরণের নীতিবান মানুষদের কোনো তথ্য উপাত্ত যুক্তিই স্পর্শ করে না। তারা গোয়ারের মতো বলবেন- সালিশ মানি, কিন্তুতাল গাছ আমার। (ভূতরা তো তাল গাছেই থাকে!)
আসলে ভাই আপনি চরম বিভ্রান্ত একজন মানুষ-হয়তো জামাতি মগজধোলাইয়ের সফল এক্সপেরিমেন্ট। আপনার সঙ্গে তর্ক করা আর গাছের সঙ্গে কথা বলা একই কথা। আপনার উত্তরটাও আমি আগেই বলে দিতে পারি! 'কেন গাছ ও তো কথা বলে! (বৃক্ষ মানব : হুমায়ুন আহমেদ)
১৯. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ বিকাল ৩:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: চমৎকার বলেছেন পিয়াল। 'আপনার উত্তরটা আমি আগেই বলে দিতে পারি।'
২০. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ বিকাল ৪:০২
comment by: দাদা বলেছেন: পিয়াল, ভূত যা বললো তার জবাব না দিয়ে পাশ কাটিয়ে গেলেন যে বড় ? উনি তো মিছা বলেন নাই । উনার যুক্তি উনি দিয়েছেন, আপনার যুক্তি আপনি দিন, তাহলেই তো ল্যাঠা চুকে যায় । জনতা খুশ হয়েগা ।

আর হীরক দা, পিয়াল মোটেও চমৎকার বলেন নাই, ঠেলা দিয়া সুপারি গাছে উঠান কেলা? পড়ে তো চিৎ হইয়া পড়বো ।
২১. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ বিকাল ৪:০২
comment by: ভূত বলেছেন: অমি, ভাই আপনের মৌলিক সমস্যা আছে। বিভ্রান্তি ছড়াইতেছেন আপনে, আর আমারে কন বিভ্রান্ত! ভাবছিলাম নিজের ভুলটা স্বীকার করে বাক্যটাকে শুধরে নেবেন। কিন্তু আপনে নিজেই যে "টানেল আই ভিশন" বাতিকগ্রস্থ এইটা জানা ছিলোনা! আমারতো মনে হয় আমি যথেষ্ট উদার। আমার প্রিয় নেতা গোলাম আযমরে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানোর কথাও বললাম। আর কত উদার হইতে কন?

হুমায়ুনের রেফারেন্স ব্যবহার কইরা যেই কথাটা বলছি দেশের সকল ইতিহাসবিদ সেইটা জানেন। তবে আপনাকে আরো পরিষ্কার ধারনা দিতে পারবেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক তাজ হাশমী এবং অধ্যাপক মুফাখ্খারুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন একদিন। তাদের সাথে পরিচয় করায়ে দিবো। হাশমী স্যার অবশ্য কানাডায় চলে গেছেন। আমার কথাকে সাপোর্ট করার একজন লোক কমে গেল। কিছু করার নাই :-(
২২. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ বিকাল ৫:০২
comment by: অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: এটা আসলে অবস্থানগত সমস্যা, উনি ওনার মেরুতে, আমি আমার। বিতর্ক করলে করা যায়, আর সেটা যে এক পর্যায়ে সীমা ছাড়ায় অন্য ব্ললগে দেখেছি। আমার ভাই রুচিতে কুলায় না। বললাম তো ভীতু মানুষ। আর একটা কথা বুঝলামনা পুরো লেখাটা কী নিয়ে অনেকে সেটা ভুলে গিয়ে আবোল তাবোল জায়গার বিশ্লেষণে যাচ্ছেন। এখন কোন জায়গায় বিশ্বাসীর জায়গায় বিশ্বাসে লেখা হয়েছে বা র এর জায়গায় ও এসেছে- এই ধরণের ত্রুটি বিচরণই বাকি। আমি কী লিখেছি তা বুঝতে পেরেছেন হীরক লস্কর, মাসুদা ভাট্টি- প্রশংসার জন্য নয়। তার এর সারবেত্তাটা ঠিকই ধরেছেন। আর বাকিদের ক্ষেত্রে ঢালাও মন্তব্য না করে এক কথায় শেষ করছি- লেখাটা আবার পড়েন।
২৩. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ বিকাল ৫:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: দাদা, এইটা কি কইলেন?
সুপারি গাছে তুলবাম আমি? মানুষটার গতর দেখছেন? পেশায় খেলা-ধূলার লেখক বলে খেলা ধূলা করে না ভাবছেন?
তবে আমাদের এখানে ভালো কুতুবের অভাব। আপনারে তো এখন পর্যন্ত কলম ভাঙতে দেখলাম না।
তাই একটু সাবাশ দেই।
২৪. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ বিকাল ৫:০২
comment by: অতিথি বলেছেন: অমি রহমান। আপনার লেখাটি বেশ ভালো ও ভাবাবেগে পরিপূর্ণ। কিন্তু তারপরেও আমার সামান্য ক'টি কথা রয়েছে। একাত্তুরের জামাতের কাছে যা করার কথা ছিল, তারা তাই করেছে। একটা অন্ধ-মৌলবাদী শক্তির কাছে অন্য কিছু আশা করা যেতে পারেন না। পৃথিবীর বিভিন্ন মুক্তিকামী মানুষের এ ধরণের একটা অপ:শক্তি সবসময়েই বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্নগুলো হচ্ছে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের।

যে আশা নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগ ও মুক্তিকামী দলগুলোর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, তাদের সে আশা কতটুকো পুরণ করতে পেরেছে ওরা স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে। তখনও তারা পাগলা কুকুরের মতো ক্ষমতা আর সম্পদের লড়াইএ মেতে উঠেছে। আর সে লড়াইয়ের তীব্রতা আর নগ্নতা তখন থেকে শুরু করে আজ অবধি বেড়েই চলেছে। তাতেই জল পড়েছে জামাতের মতো অপ:শক্তির আগাছায়।

জামাত হচ্ছে সুশীল সমাজের একটা অতি নিকৃষ্ট ফোঁড়ার মতো। কোন প্রগিতিশীল দল কোন ইস্যুতেই এমনি একটা দলের সাথে আঁতাতে যেতে পারে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা করেছে বিরোধী দলীয় আঁতাতে গিয়ে। আর তাতে যে স্থান জামাত খুজে পেয়েছে, তা তাদের বাংলাদেশের মাটিতে কখনোই খুজে পাওয়ার কথা ছিল না। বি এন পি আওয়ামী লীগ এর মতো প্রগতিবাদী হিসেবে পরিচিত নয়। সুতরাং তাদের তো জামাতের সাথে আঁতাতের বেলায়