ট্রলিং নিয়া রাগিব একটা দারুণ পোস্ট দিছিল। আমাগো সুফী নামের ব্লগারও একখানা দিছে। প্রথমটা সার্বজনীন, এইটার ব্যাপকতা আন্তর্জালিক। ধইরা নিতে পারেন গাণিতিক সূত্র। সুফীর পোস্টে বলা হইছে সামহোয়ার ইন নিয়া। দুইখানাই জব্বর পোস্ট। জ্ঞান বাড়ানোর জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। কিন্তু যারা পাঠ্যবই না পইড়া পরীক্ষাকালে নোটবইর প্রয়োজনীয় পাতা কাটিয়া টুকলিফাই করতে অভ্যস্ত। তারা আমার পোস্টে খানিকটা দিশা পাইলেও পাইতারেন।
হঠাৎ কইরা সামহোয়ারে ভিজিট বাইরা গ্যাছে। কর্তৃপক্ষর খুশী হওয়ার কথা। নতুন নতুন ব্লগার আইতাছে। নতুন পোস্ট, নতুন লেখা। কি চমতকার আবহাওয়া। হ্যারা খুশী, আমরা না। চারিদিকে লাদির গন্ধ। একটু হালুম, তারপরই ম্যা। দুইডা স্পেসেফিক ধারায় এই নতুন রফতানিরা কাম করতাছেন। রফতানি বললাম এইজন্য যে এই চিত্রনাট্য আমাদের বহুল পরিচিত। প্রথম ধারা, সামহোয়ারের সর্বনাশ হইয়া যাইতাছে, জাতির আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা- এই লাইনে ব্লগাইতাছেন। প্রিয় ব্লগাররা নাই, তাই সামহোয়ারের ব্যানারের লালবাত্তিটা অচিরেই পাতায় পাতায় ছড়াইয়া পড়ব বইলা তারা সহমত।
আরেক ধারা সরাসরি আক্রমণ করতেছেন তাদেরকে, যারা এই আগাছা নির্মূল অভিযানের পক্ষে ছিল। আমরা জামাতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের প্রচারণায় ভরা ফ্লাডিং দেখলাম। এরপর সেই মূলধারা থেকে সইরা আইসা লাদি ধারা শুরু হইছে। কিন্তু (তাদের জন্য) বিপদের কথা হইল ঢুকতে না ঢুকতেই ধরা খাইয়া যাইতাছে। ক কইলে কলা বুঝার মতোই ওগো প্রথম লাইনেই পাবলিক ম্যা পড়ে। এইডা ঠিক না। এত ঘণ্টার পর ঘণ্টা ম্যাসেঞ্জারে থাইক্যা, পার্টির ইন্টারনেট বিল উঠাইয়া লাদি আন্দোলন ব্যর্থ হইতে দেয়া উচিত না। আমার আর সহ্য হইতাছে না এই ব্যর্থতা। তাই ঘরের শত্রু বিভীষণ হইয়া কিছু টিপস দিলাম, যা ফলো করলে লাদি আন্দোলন চরম সফল হইতারে।
টিপস এক : আগে নিজের পায়ের নিচে মাটি ঠিক করেন
ঢুইকাই পাবলিকরে বিলা করা ঠিক হইব না। ভাব ধরবেন সামহোয়ারে নতুন আর পোস্ট লিখবেন তিন মাসের আগের ঘটনার রেফারেন্স দিয়া- তাইলেই সারছে। ভুলে ও লিখবেন না আমি অনেকদিন থেকে সামহোয়ারে আসি, এখন রেজিস্ট্র করলাম। এইডি কমন ম্যাতকার। আগে কিছুদিন কাটপেস্ট মারেন। যেহেতু মৌলিক লেখার অভ্যাস নাই, সেই চেষ্টা করতে গিয়া সময় নষ্ট করার দরকার নাই। সবচেয়ে ভালো হয় ৯০ সালের পত্রপত্রিকা ঘাটাঘাটি কইরা গল্প-কবিতা কাটপেস্ট করা। হিন্দুস্তানের সাহায্য নিতে পারেন। ওগো দেশ নামে একটা পত্রিকা আছে ফুটপাথে ৪ টাকা কইরা বেচে, ওইডা তুইলা দিবেন। আর যারা পত্রিকার লগে যুক্ত তারা পত্রিকায় ছাপা হওয়া লেখা কপিপেস্ট মারবেন। এই তরিকায় থাকবেন ১৫ দিন, ৩০ পোস্ট।
দূর্বল দিক : এতে লাদি আন্দোলনের দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হবে। কিন্তু অপেক্ষার ফল সবসময়ই মধুর হয়।
টিপস দুই : পার্টিজানগো লগে দূরত্ব বজায় রাখবেন
আগে থাইক্যা সব সঙ্গী সাথীদের বইলা দিবেন তুই আমার পোস্টে কমেন্ট দিবি না। আপনার নিক যদি হয় বিজয়, আপনে মুক্তিরে কইবেন দূরে থাকতে। একইভাবে বিবেকরে নিজের পোস্টে ঢুকতে নিষেধ করবেন ক। কারণ এই খানে এ-টিম বইলা একটা সেইরকম জিনিস আছে, এইডি সিরিফ গন্ধ শুইঙ্গা কইয়া দিব কোনডা কাঠাল পাতা খাইয়া আইছে। তাই খুব সাবধান। আর আইসাই লিংক কিভাবে দিতে হয় শিখিয়ে দিন জাতীয় পোস্ট দিবেন না। এইডা কিন্তু ধরা খাওয়ার পুরান সিস্টেম। আর নতুন নামে আইসাই লাদি আন্দোলনে যুক্ত এমন কোনো ইঙ্গিত দিবেন না। কারণ একবার চিন্যা লাইলেই সিস্টেম লস। ওই নিকের ইন্তেকাল ফর্মাইবেন। পার্টিজানগো পোস্ট বাদ। ভারতীয় দালাল আর আম্লিগারগো পোস্টে গিয়া লিখবেন। খবর্দার রেটিং দিবেন না। দিলে বিবেক কষ্ট পাইব। এইডারো মেয়াদ ১৫ দিন, ৩০ পোস্ট
দূর্বল দিক : পোস্টে কমেন্ট কম পড়বে। লোকজন নাও পড়তারে। এতেও লাদি আন্দোলনের দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হবে। কিন্তু অপেক্ষার ফল সবসময়ই মধুর হয়।
(আপাতত এই দুইডা লইয়া কাম করতে থাকেন। ঠিকঠাক মতো করতারলে আরো দিমু)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



