somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অমি রহমান পিয়াল
রাজাকারমুক্ত ব্লগ : ভুলেও ঢুকিস না!!!

আমার সেরা উপহার

০২ রা নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ও হেনরি আজীবন আমার টপ লিস্টে থাকবেন। একটা ছোট গল্পের কারণেই। গিফট অব দ্য ম্যাগাই (উচ্চারণটা ম্যাজাই কিংবা ম্যাগিও হতে পারে) পড়ে আমি খুব আপ্লুত হয়েছিলাম। সেটা ছিল ক্লাস এইট বা নাইনের ঘটনা। এরপর একই গল্প নিয়ে বিটিভিতে একটি নাটক হয়েছিল। তখন পুরো ব্যাপারটা মাথায় ঢুকেছিল আমার। দুটো মানুষের প্রচণ্ড ভালোবাসা দেখে আবেগে কেঁদে ফেলেছিলাম। ছিঁচকাঁদুনে অবশ্য বলা যাবে না আমাকে। কি যে স্পর্শ করে আর কি করে না এটা আমিও বুঝি না ঠিকঠাক। ছোট ঘটনায় দেখা গেলো আমি তুমুল ব্যথিত, আবার সিরিয়াস কিছুতে খুবই নির্লিপ্ত। তো হেনরির জিম-ডেলা আবার ফিরে এসেছিল আমাতে। গত রাতে। তীব্র বেদনা নিয়ে আমি ভালোবাসায় আপ্লুত হয়েছি। আমাকে ছুঁয়ে গেছে একজন ডেলা। আমি জিম হয়ে তার ভালোবাসায় ডুবেছি, ভেসেছি, হাবুডুবু দিয়েছি।

জন্মদিন নিয়ে আমার আদিখ্যেতা ছিল না কোনো কালেই। এমন কোনো পার্সোনালিটি নই যাকে নিয়ে গর্বিত হতে পারে কেউ। কিন্তু অদ্ভুত এক কারণে মুক্তা গর্বিত। এত না পাওয়ার মাঝে থেকেও তার ঝকঝকে হাসিতে মরচে পড়ে না। চাহিদার তালিকাটা লম্বা ছিল না কখনোই। তারপরো যেটুকু না হলেই নয়, সে অপূর্ণতাও তার মুখে বিষাদের ছাপ ফেলেনি। এই ঈদে সেটা আরো বোঝা গেছে বেশি করে। তো রাত বারোটায় জন্মদিনের একটা ফরমাল উইশ থাকে। সেটা না পেয়ে অবাক হয়েছি। যেটা পেয়েছি সেটা অদেখা দৃশ্য। আমাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ডাইনিং টেবিলে। উপস্থিত আমার সত্যি মা (সাহিবা) আর মিথ্যা মা। টেবিলে কেক ও মোমবাতি। মোমবাতিটা সাধারণ, আধপোড়া। ঘন ঘন পাওয়ার ফেইলিউরে জ্বালানো হয়। কেক বলতে ঘরে খাওয়ার সুজি দিয়ে বানানো। সেটাতে নানান উপকরণ মিশিয়ে এবং একটা প্লাস্টিক কনটেইনারে রেখে কেকের রূপ দেয়া হয়েছে। আমার দুই মা জন্মদিনের উইশ করলেন। কেক কাটা হলো। অতি সুস্বাদু- ভালোবাসার মসলা মিশে মুচমুচে টেস্টি।

ঘরে ফিরে একটা প্যাকেট পেলাম। সেটাতে আমার প্রিয় একটা বিলাস- বডি পারফিউম। মুক্তা কিভাবে কিনেছে জানার পর আমার ডেলার কথাই মনে এলো। সে স্মরণ করিয়ে দিলো কদিন আগে কিভাবে সে জিমকে পেয়েছিল। জিন্স আমার প্যাশন। একসময় ছিল, এখন নেই মনে হয়। মাস দুয়েক আগে এনাম প্লাজায় বুমারসে খেতে গেছিলাম। নামার সময় চোখ আটকে গিয়েছিল একটা জিন্সে। রাতে ঘুম হয়নি। সকালে আমার ইমার্জেন্সি ফান্ড ভেঙে গেছি সেটা কিনতে। দোকানীরা খাচ্ছিল। পাশের দোকানেই ডিসপ্লেতে একটা ড্রেস দেখে গিলে ফেললাম জিন্স কিনার ইচ্ছেটা। জিম হয়ে গেলাম।

আমার মাঝে অনেক বেদনা কাজ করে। দায়িত্বশীল স্বামী না হতে পারার বেদনাটাই বুঝি তীব্র বেশি। হানিমুনে হিমছড়িতে ওকে একটি কদম ফুল পেড়ে দিতে পারিনি বলে দিনটা পুরো গোমড়া ছিলাম। শুনে ওর সে কি হাসি। এইরকম নানা ইচ্ছে পুরো করতে না পারার বেদনায় আমি নীল থাকি। সংসার এরকম চাওয়া-পাওয়া-না পাওয়া এবং হঠাত পেয়ে অভিভূত হওয়ার অজস্র গল্পেই ভরে থাকে সবার। আমি আমার সাময়িক সেটব্যাকে একদমই অখুশী নই। কারণ তাহলে যেটা হারাতাম সেটা হলো ভালোবাসা। একদম পরানের গহীন ভিতর থেকে উঠে আসা ভালোবাসা। ম্যাজাইরা জেসাসকে তেমনই কিছু দিয়েছিল যাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল জিম-ডেলা। জীবনের এই তৃতীয়ার্ধে এসে হিসাব কষতে বসলে দেখি, মুক্তা আমার জীবনের সেরা উপহার। মিলন প্রভাবিত হয়ে যৌবনের শুরুতে খুব বকতাম- চল্লিশের পর বেচে থাকার কোনো মানে দেখিনা। আত্মহত্যা করবো। মরে যাবো। এখন কেনো জানি খুব বাঁচতে ইচ্ছে করে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩৯
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×