somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার : অতীতের খেরোখাতা থেকে-২

০৮ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ৭:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। যদিও এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে ১৯ ডিসেম্বর ১৯৭১। এদিন সকাল ১১টায় ঢাকা সেনানিবাসের গলফ কোর্সে পাকিস্তানী অফিসাররা আক্ষরিক অর্থেই অস্ত্র সমর্পণ করে। এর আগ পর্যন্ত মুক্তিবাহিনী ও বাঙালীদের রোষ থেকে আত্মরক্ষার জন্য তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্র রাখার অনুমতি দিয়েছিলো ভারতীয় সেনাবাহিনী। পাশাপাশি পশ্চিম রণাঙ্গনেও যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার আগে এক বেতার ভাষণে মেনে নেন জাতিসংঘ আরোপিত যুদ্ধবিরতি।



যদিও পূর্ব রণাঙ্গনে মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলো পাকিস্তান। তাই আটক পাকিস্তানী সেনাদের উপর বাংলাদেশের অধিকার ছিলো সমান। কিন্তু জেনেভা কনভেনশন মেনে যুদ্ধবন্দীদের লালন পালনের মতো অবস্থানে ছিলো না সদ্য স্বাধীন এই দেশ। তাছাড়া স্বজন হারানো বাঙালী এসব খুনেদের খাইয়ে পড়িয়ে আরো তাজা বানাবে- এমন মহত্ব দেখানোর মানসিকতায় থাকার কথাও নয়। সুবাদেই দায়িত্বটা কাধে নেয় ভারত।

মূলত দু ধরণের যুদ্ধাপরাধীর দায়িত্ব নিয়েছিলো তারা। পশ্চিম রণাঙ্গনে ৫৪৫জন আটক পাকিস্তানী সেনা ছিলো পুরোপুরি ভারতের অধিকারে। আর পূর্ব রণাঙ্গনে ১৫ মার্চ ১৯৭২ পর্যন্ত ৯২ হাজার ২০৮ জন যুদ্ধবন্দীর মধ্যে সেনা সদস্য ছাড়া ছিলো বেসামরিক লোকজনও। এর মধ্যে ৫৫ হাজার ৬৯২ জন ছিলো নিয়মিত সেনাবাহিনীর, ১ হাজার ৯২ জন নৌবাহিনীর, ৮৩৮ জন বিমান বাহিনীর, ১৬ হাজার ৩৫৪জন আধা-সামরিক বাহিনীর, ৫ হাজার ২৯৬ জন সিভিল পুলিশ, ৬ হাজার ৪০৩ জন নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা বেসামরিক ব্যক্তি, ১ হাজার ৯২২ জন যুদ্ধবন্দীদের স্ত্রী (সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে) ও ৪ হাজার ২০৭ জন ছিলো শিশু-কিশোর।

আগে বলা কথার প্রসঙ্গেই জানাচ্ছি ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় যার কাজ ছিলো কিভাবে জেনেভা কনভেনশন মেনে যুদ্ধবন্দীদের ব্যবস্থা করা হবে তার রূপরেখা দেয়া। এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাকিস্তানের নিয়মিত বাহিনী ও সহযোগী বাহিনীগুলোকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে সুপারিশ করা হয়। যদিও রাজাকার ও আল-বদররা যুদ্ধের কোনো নিয়ম কানুন মানেনি, তারা পাশবিকতার পাশাপাশি লুটতরাজেও লিপ্ত ছিলো। এবং জেনেভা কনভেনশনের ৪-এ (২) ও ৪-এ (৬)এর শর্তাবলীও তারা পূরণ করে না বলে যুদ্ধবন্দীর মর্যাদা পাওয়ার অধিকার তাদের ছিলো না। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আরো রক্তপাত ঠেকাতে এদেরও যুদ্ধবন্দীর মর্যাদা দেয়। তবে এটা স্পষ্ট করে বলে দেয় যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গনহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের জন্য কারো বিচারে তারা বাধা দেবে না।



এর পেছনে আন্তর্জাতিক চাপ একটা বড় ভূমিকা পালন করে। কারণ ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা স্টেডিয়ামের খোলা ময়দানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশ্যে ৫ জন অপরাধীর মৃত্যুদন্ড বাস্তবায়ন টিভি ও পত্রিকার কল্যাণে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে। এই ঘটনাকে নিজেদের অনুকুলে কাজে লাগায় পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ঘটনার হোতা কাদের সিদ্দিকী স্পষ্টই বলেছেন, যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের হাতেনাতে ধরা হয়েছিলো দুজন অবাঙালী কিশোরীকে অপহরণ করার সময়। এবং মৃত্যুদন্ড পাওয়ারা কেউই অবাঙালী নয়।



এসব যুদ্ধাপরাধীকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তড়িত উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিয়াজী ও রাও ফরমান আলীর মতো মাথাগুলোকে ২১ ডিসেম্বর উড়িয়ে নেওয়া হয় কলকাতা। তিন সপ্তাহের এক বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ৮০টি ট্রেন করে সমস্ত যুদ্ধবন্দীদের সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের জন্য ১৩টি স্থানে ৪৯টি বন্দিশিবির খোলা হয়। স্থানগুলো হচ্ছে- মিরাট, রুরকি, এলাহাবাদ, আগ্রা, ফৈজাবাদ, ফতেগড়, গায়া, রাচি, ধানা, রামগড়, বেরিলি, গোয়ালিয়র ও জবলপুর। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ৮:০১
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:২১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
==========================
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×