somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা আর কতদিন এমন রবো? আমাদের বোধ কবে আসবে? আমাদের মেধাবীরা কাদের হাতে বন্ধী হচ্ছে?

২০ শে জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার এক বন্ধু ছিলো। বন্ধু বলা যায় এই অর্থে স্কুলের সব সহপাঠীকে বন্ধু মনে করেছি। গ্রাম থেকে আসা এই ছেলেটা শহুরে স্কুলে মেধাতালিকায় প্রথম ছিলো সবসময়ই। তাকে জিজ্ঞেস করতাম, তার বাসা কোথায়? লুকিয়ে যেতো। একদিন চেপে ধরলাম। তার বাসায় নিতেই হবে। নিয়ে গেলো। আমি থমকে গেলাম। শহরের একটা মার্কেটের দোতালায় শাটারওয়ালা একটা ছোট্ট দোকানে থাকে। শাটার নামিয়ে দিলে একরাশ অন্ধকার নেমে আসে। কোনো জানালা নেই! আলো-বাতাসের প্রবেশের কোনো জায়গা নেই। মানবেতর জীবন-যাপন! এস.এস.সি. তে গোল্ডেন এ্+ পেলো সে। এইস.এস.সিতেও ভালো রেজাল্ট করে চান্স পেলো চুয়েটে। মেধাবী এই ছেলেটির মেধা কিনে নিয়েছে, ছাত্রশিবির নামের একটা রাজনৈতিক দল। যারা এদেশের স্বীকৃত পশুদের দ্বারা পরিচালিত। ফেসবুকে এক পহেলা বৈশাখের সে স্ট্যাটাস দেয়,"আল্লাহ, এই বাংলা বছরের প্রথম দিনে তোমার কাছে প্রার্থনা করি, পুরো বছরে যেনো ইসলামের শত্রুদের হত্যা করতে পারি।" আমি ক্ষেপে যাই, আমি জবাবে লিখি, "তুই বিয়ের আসরে কবুল বলার আগে তোর বউকে বলিস, আমাদের সন্তানকে যেনো আল্লাহর রাস্তায় কোরবানী করে দিতে পারি। সবকিছুর সময় আছে। মানুষ হ।" তারপর তার সাথে রাগারাগি আর ফ্রেন্ড লিষ্ট থেকে রিমুভ করে দেই। বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছি, এই বন্ধু নাকি সমকামী! শিবির কি তাকে সমকামিতাও শিখিয়েছে? এই ছেলেটি হয়তো, অনেক বড় বিজ্ঞানী হতে পারতো! কিন্তু শিবির তাকে আরেকজন শায়খ আবদুর রহমান বানাবে।

আমার আরেকটি বন্ধুর নাম আজকে সবাই জানে। প্রায় পত্রিকায় তার খবর আসে। আমরা একসময় হাওয়ায় ওড়া পাখি ছিলাম। সারাদিন-সারারাত দুই বন্ধুতে মিলে কার্ল মার্ক্স থেকে রসময় গুপ্তের চরিত্র উদঘাটন করতাম। সারারাত পথে পথে ঘুরে মানুষ দেখতাম। স্বপ্ন দেখতাম, ছবি বানাবো। নাটক লিখবো। আরো কতো স্বপ্ন! স্কুল-কলেজ এক হয়ে যাওয়াতে আমাদের বন্ধুত্ব আরো বেশি গভীরতা পায়। একসাথে একটা থিয়েটার করতাম। ভালো মানুষের কথা বলতাম। এই বন্ধুটি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যায়। আমি তখনো কোথাও ভর্তি হইনি। জাবির বিশাল ক্যাম্পাস নিয়ে দুই বন্ধুতে কত পরিকল্পনা ছিলো! বন্ধুটি হলে উঠার পর আমাকে যেতে মানা করে। কারন, সেখানে নাকি র‍্যাগিং এর ভয়ে সে নিজেই সারাদিন থাকেনা। ক্যাম্পাসের কোনো এক জায়গায় লুকিয়ে থাকে। রাত গভীর হলে চুপিচুপি হলে যায়, ভয়ে ভয়ে। এই বুঝি বড় ভাইরা দেখে ফেললো। আর শুরু হলো র‍্যাগিং নামক নির্যাতন! অনেক রাতে না খেয়ে থাকতে হয়েছে, তাকে। ফিরতে ফিরতে ডাইনিং বন্ধ হয়ে যায় যে! বাইরে খায়না। কাটা কুপন নষ্ট হতে দেয়া যায়না। আহা! কষ্ট। একদিন সে রাজনীতি শিখলো। ছাত্রলীগে নাম লেখালো। মানুষ পেটাতে শুরু করলো, বড় ভাইদের নির্দেশে। আমার সাথে দূরত্ব বাড়তে লাগলো। ফোন দিলেই এখন আর এই বই সেই বই না। মারামারির আলাপ। রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত হবার আলাপ। বিরক্ত হয়ে আর ফোন দেইনা। তবু মাঝে মাঝে কথা বলতে ইচ্ছে হয়। কথা হয়। মুখে তেতো স্বাদ নিয়ে ফোন রাখি। সাবধান করি। জাহাঙ্গীর নগর থিয়েটারের সভাপতি হবার প্রস্তাব ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলো, ছাত্রলীগের সভাপতি হবার লোভে! আর আজ! জোবায়ের হত্যা মামলার প্রধান আসামীদের একজন হয়ে, সেই বন্ধুটি জেলে। খুব দেখতে যেতে ইচ্ছে কর। যাইনা। একজন খুনীকে ঘৃনা করি। তবু মাঝরাতে খুব মনে পড়ে। একাকী সময়ে। কতরাত আমরা একসাথে পা চালিয়ে গেছি এই নগরীর বুক ছিড়ে!

দোষ কার? এইসব মেধাবীদের কারা খুনি বানায়? ছাত্ররাজনীতির নামে খুনী তৈরীর কারখানা বন্ধ হোক। আমরা মুক্তি চাই। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কি রেখে যাবো? কি আছে আমাদের?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২৪
১৭টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×