somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবই এবং সবাই আছে, নেই শুধু চির দুখি আমাদের দুখু মিয়া।

১৫ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গতকাল প্রথম আলো পত্রিকা সহ আরো বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা বাংলা নববর্ষ ১৪১৮ নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। প্রথম আলোর "বৈশাখ-১৪১৮" নামে বিশেষ সাপ্লিমেন্ট ছিল দেখার মত। সেখানে এসেছে লালন শাহ, কবি চন্দ্রাবতী ভনে, আরজ আলী মাতুব্বর, কাঙাল হরিনাথ মজুমদার, মণসুর উদ্দিন, শাহ আবদুল করিম সহ মোট ১১ জনের নাম। যেখানে সুকৌশলে বাদ দেয়া হয়েছে আমাদের জাতীয় কবি, চির অসাম্প্রদায়িক কাজী নজরুল ইসলামকে একটি হাস্যকর যুক্তির মাধ্যমে। যেখানে কতৃপক্ষ বলেছে "নববর্ষের এই দিনে আমরা স্মরণ করতে চাই আমাদের মাটির নায়কদের, যাঁদের জীবন আর কর্মের বৈশিষ্ট্য হলো মৃত্তিকালগ্নতা, যাঁদের অবদানে পুষ্ট হয়েছে আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি।" হুম ঠিকাছে, নজরুল কোন অবদান নাই আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিতে।

কিন্তু সম্পাদকীয় পাতায় পহেলা বৈশাখ নিয়ে দুটি লেখায় কোন অজুহাতে নজরুলকে অবজ্ঞা করা হল? যেখানে পত্রিকা সম্পাদক মতিউর রহমান তার সম্পাদকীয় লেখা শেষ করেছেন, "এই দিনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কণ্ঠে আমরা বলি: বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক।"

আর ঠিক তার পাশে উপসসম্পাদকীয় কলামে কথাসাহিত্যিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তার হে নূতন, নিষ্ঠুর নূতন, সহজপ্রবল শিরোনামে লেখা তার কলামে যেন আগাগোড়া রবীন্দ্র গুনকীর্তন করেছেন। তার লেখা শুরু হয়েছে, "১৩০৫ সালের ৩০ চৈত্রের ঝড়ের দিনে শান্তিনিকেতনে বসে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন ‘বর্ষশেষ’ কবিতাটি..." এর মাধ্যমে আর শেষ করেছেন এই লাইন দিয়ে..."সত্য যে কঠিন, এখন এই কঠিনেরে ভালোবাসতে হবে। সেটি অসাধ্য কিছু নয় শেষ বিচারে এবং আমাদের অভয় দেন রবীন্দ্রনাথ, যে কখনো করে না বঞ্চনা।" মানে শুরু রবিন্দ্রনাথ দিয়ে শেষও সেই রবীন্দ্রনাথ দিয়ে। মধ্যখানে আমাদের চির দুখি দুখু মিয়া বাদই থাকলো। অথচ স্যার আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তারই প্রতিষ্ঠালগ্নে আপনার এই বিশ্বকবির ভুমিকা কি ছিল সেটা আপনি ভাল জানেন।

সর্বক্ষেত্রে আজ কাজী নজরুল ইসলামকে যেভাবে অবজ্ঞা আর অবমাননা করা হচ্ছে তা দেখে আর শঙ্কিত হয়না এখন আগের মত। কারন যারা অসাম্প্রদায়িকতার আড়ালে সাম্প্রদায়িকতা চড়াচ্ছে তাদের চিনতে সবাই ভুল করলেও আশা করি তরুণ প্রজন্ম এদের চিনতে ভুল করবেনা। কি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া আর কি প্রিন্ট মিডিয়া কোথাও আজ নজরুল নেই। নজরুলকে তাদের এত ভয় কিসে??

জাতীয় কবিকে নিয়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক আর চরম অবমাননাকর যে ব্যাপারটি আমাকে গতকাল পিড়া দিয়েছিল সেটা আমারই শহর চট্টগ্রামের একটি বিষয়ে। বিগত জোট সরকারের সময় চট্টগ্রাম শহরের বৌদ্ধ মন্দির সড়কে অবস্থিত ডিসি হিল পাহাড়টিকে জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য "নজরুল স্কয়ার" নামকরন করা হয়। এবং এর দুইপাশের প্রবেশমুখে বসানো হয় জাতীয় কবির বিশাল দুইটি মুর‍্যাল। এই পাহাড়টির সাথে কবির রয়ছে অনেক স্মৃতি। দুঃখজনক হলেও সত্যযে, বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার রাতেই কে বা কারা জাতীয় কবির এই মুর‍্যালে কালিমা লেপন করে তার প্রতি যে অবমাননা আর অবহেলার সুচনা করেছিল সেটা আজকের দিন পর্যন্ত বিদ্যমান।
চট্টগ্রামের বর্ষবরনের মুল অনুষ্ঠান এখানে হয়। যেহেতু সরকারিভাবে এখনো জায়গাটির নাম "নজরুল স্কয়ার" আছে সেহেতু নিয়ম অনুযায়ী তা ব্যবহার করা সবার কর্তব্য। কিন্তু বর্ষবরন নিয়ে প্রকাশিত সকল ব্যনার, পোস্টার, প্রকাশনাতে "নজরুল স্কয়ার" ব্যবহার না করে ডিসি হিল ব্যবহার করা হয়েছিল। আর আমাদের মিডিয়াও এক কাঠি সরস। চট্টগ্রামের বর্ষবরন নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন এবং পত্রিকায়ও এটিকে "নজরুল স্কয়ার" এর পরিবর্তে আগের ডিসি হিল ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে আজ আমাদের নজরুলকে যেভাবে অবজ্ঞা আর অবহেলা করা হচ্ছে তাতে সময় আর বেশিদিন যখন আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম বলবে, নজরুল!! উনি আবার কে?? যেখানে এখনকার কবি নির্মেলেন্দু গুণ আর মিডিয়া ব্যক্তিত্ত রামেন্দ্র মজুমদারও এটিকে নজরুল স্কয়ার না বলে ডিসি হিল বলেন।


নজরুল স্কয়ার (ডিসি হিল) এর প্রবেশ মুখ। ছবির ডানদিকে নজরুল ইসলামের মুর‍্যালের সামান্য দেখা যাচ্ছে।

সকাল বিকাল সন্ধ্যা রাত্রি যেভাবে রবীন্দ্র সঙ্গীত আর রবীন্দ্র দর্শন নিয়ে আমাদের মিডিয়া সরব থাকে তাতে আমি বলি কি কি দরকার কাজী নজরুল ইসলামের মত একজন যাযাবর আর পথ-ঘাট থেকে উঠে আসা কবিকে জাতীয় কবির মত ভারি বস্তু দিয়ে শুধু শুধু কষ্ট দেয়া। তার ছেয়ে বরং সোনার চামচ মুখে দিয়ে বড় হওয়া, জমিদার শ্রেণীর প্রতিনিধি, কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের সাথে আজীবন আত্মিক সম্পর্কে গড়ে উঠা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্রনাথকেই এই পদবী দিয়ে দেয়া হোক। কত কিছুইতো পরিবর্তন হচ্ছে। এটাও হলে তেমন কিছু যায় আসেনা। কারন গরিবের বন্ধু নজরুলকেতো আর মিডিয়া এবং প্রভাবশালীরা ভালবাসেনা যে প্রতিবাদ হবে।

সুতারাং আমাদের চির দুখি দুখু মিয়া নজরুলকে আমাদেরই মত সাধারনের মাঝে বেঁচে থাকার অধিকার দেয়া হোক। অসাম্প্রদায়িক, আজীবন সংগ্রামী, বিপ্লবী আর আপোষহীন আমাদের কাজী নজরুল ইসলাম আমদের মাঝে বেঁচে থাকবে যতদিন বাংলা আর বাংলাদেশ থাকবে।

৪৪টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×