
বিয়ের পরে গাজা সমুদ্র সৈকতে হাটছেন রায়দা-জহির
আমাদের দু বাসা পরে একটি ফ্লাটে থাকে সুন্দরী-শিক্ষিত মেয়ে রামিছা। আমেরিকা প্রবাসীর সাথে বিয়ে হয়েছে ৩ বছর। ছোট ১ টি বাচ্চাও আছে। সেদিন শুনলাম পরকীয়ায় জড়িয়েছে স্বামীর মাত্র ৬ মাস আমেরিকা থাকাকালীন সময়ে। এখন ছেলে ডিভোর্স দিবে মোটামুটি নিশ্চিত। অন্যদিকে গ্রামের বাড়ির রাজিয়া। দু বাচ্চার মা। স্বামী সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী। টাকা পয়সা কিংবা পারিবারিক কোন সমস্যা নেই। কিন্তু বাসার গৃহশিক্ষকের সাথে পালিয়ে গিয়েছেন। এটা আমার বাস্তব জ্ঞান থেকে জেনে লেখা। এমন হাজারো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে আমাদের সমাজে, যার অনেক গুলোই আমাদের চাক্ষুষ। সাধারণত স্বামীর অনুপস্থিতির সময়েই নারীরা এমন অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। এই দুটি উদাহরন কেন টানলাম তা নিচে বলছি। আশা করি পড়বেন।
ভালবাসা এখনো আছে পৃথিবীতে। আর বোধহয় সে কারনে এখনো আমাদের পৃথিবিটা টিকে আছে। ঠিক তেমনি এক অবিশ্বাস্য ভালোবাসার নজির স্থাপন করলেন প্যালেস্টাইনের বোন রায়দাহ। আজ থেকে ১৮ বছর আগে টগবগে তরুণী রায়দার সাথে এংগেজমেন্ট হয় আরেক প্রাণচঞ্চল্য ভরা তরুণ জহির কাবাহর। এংগেজমেন্টের পর বিয়ের দিনক্ষন ঠিক হবার পরে যখন অপেক্ষা সংসার শুরুর ঠিক এমন সময়ে স্বাধীনতাকামী হামাস যোদ্ধা জহির কাবাহকে ধরে নিয়ে যায় বর্বর ইসরাইল সৈন্যরা। সেই যে ধরে নিয়ে গেল কাবাহকে আর ফেরা হয়নি তার। অন্ধকার ইসরাইলী কারাগারে কাবাহ বেঁচে আছে জানতে পেরে বোন রায়দাহ অপেক্ষার প্রহর ঘুণতে থাকে জহিরের ফেরার জন্য। গাঁজা সীমান্তে বোন রায়দার অপেক্ষার প্রহর ১-২-৩ বছর করে পার হতে থাকে, কিন্তু জহির ফেরেনা। তবুও হাল ছাড়েনি রায়দা। মনে প্রবল বিশ্বাস ভালোবাসার মানুষ ঠিকই একদিন আসবে। ৫-১০ বছর করে এক যুগ পার হল ফেরেনি জহির। এভাবে কেটে গেল ১৮ টি বছর মানে যে দেড়যুগ!! নিজের পরিবার এমনকি জহির কাবাহর পরিবারের অনুরোধ ছিল যেন রায়দা অন্য কাউকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে। কিন্তু রায়দা ছিল অনড়। কারন রায়দার বিশ্বাস ছিল জহির একদিন ফিরবেই। হুম বোন রায়দা সফল, রায়দার ভালোবাসা সফল, রায়দার অপেক্ষা (সবর) সফল, আল্লাহ রায়দার ১৮ বছরের অপেক্ষা এবং দোয়া কবুল করেছেন। জহির কাবাহ ফিরেছে। সম্প্রতি এক ইসরাইলী সেনার বিনিময়ে যে এগারশ ফিলিস্তিনি যোদ্ধা মুক্তি পেয়েছে তার প্রথমবারের মুক্তি তালিকায় ছিল জহির কাবাহর নাম। সম্প্রতি তিনি ইসরাইলী কারাগারের ১৮ বছরের অন্ধকার বন্দী জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরেছেন নিজ ভূমি প্যালেস্টাইনে। আর ফিরেই প্রিয় মানুষটির ১৮ বছর অপেক্ষার প্রহরের কথা জেনে সাথে সাথেই স্রষ্টার সেজদায় পড়ে যান মাঝ বয়সে উপনীত হওয়া জহির কাবাহ। আর বেশী দেরি না করে গতকালই বিয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে জীবন শুরু করলেন জহির কাবাহ এবং বোন রায়দাহ। জানালেন নিজেদের ভবিষ্যৎ সন্তান যেন স্বাধীন প্যালেস্টাইনে জন্মগ্রহণ করে এখন সেই প্রতিক্ষার প্রহর তাদের। জানালেন বন্দী জীবন তার আগের তারুণ্যকে ধ্মাতে পারেনি বরং তাকে দিয়েছে আরো অনুপ্রেরণা। ইসরাইলের সাথে স্বাধীন প্যালেস্টাইন ছাড়া কোন আপোষ নই এবং তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন নতুন জীবন শুরু করা এই দুইজন।
আমাদের পক্ষ থেকে রইলো স্বাধীনতাকামী সকল ফিলিস্তিনির জন্য ভালোবাসা আর সমর্থন। দোয়া করি বোন রায়দার এমন অনন্য ভালোবাসার নজির এবং তার শিক্ষা যেন ছড়িয়ে পড়ুক সকল নারীর মাঝে বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান অস্থির ভঙ্গুর সমাজে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

