somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই দেশ আমার না এই সমাজ আমার না এই বর্বরতা আমি মানিনা!!!

১২ ই নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রোমেলার শরীরের এই ক্ষতচিহ্নগুলো মূলত আমাদের নষ্ট হয়ে পঁচে যাওয়া সমাজের প্রতিফলন।

আচ্ছা একবার ভাবুনতো আপনার ১০ বছর বয়সী সন্তান অথবা এই বয়সী কোন শিশুর চেহেরার কথা। তাদের হাসি আর উচ্ছলতা কি আপনার শত ব্যাথা বেদনা ভুলিয়ে দেয়না?? আমার দেই। তাই আমি আমার বাসার পাশের বস্তিতে থাকা রোমেল, যশোর থেকে আসা আমার পাশের বাসার পিচ্চি কাজের ছেলে মুহিব সহ আমার নিজের ভাতিজা-ভাইজিদের যখনি সুযোগ পাই সবাইকে নিয়ে গল্প আর খেলায় মেতে উঠি। কারন শিশু বলতেই সুন্দর এক সোনালি শিশুরাই ভবিষ্যৎ এর প্রতিচ্ছবি।

কিন্তু রোমেলা খাতুন, বয়স মাত্র ১০। অভাব অনটনের সংসার রোমেলাদের। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশীনাথপুর ইউনিয়নের গোটেংরা গ্রামের রোমেলার বাবা মো. ইয়াজ উদ্দিন দিনমজুর। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রোমেলা সবার ছোট। অভাবের সংসারে সন্তানদের ঠিকমতো খাওয়াতে-পরাতে পারেন না রোমেলার বাবা ইয়াজুদ্দিন। তাই সন্তানের শুধু দু বেলা খাওয়ার দিকে তাকিয়ে পাশের গ্রামের এক লোকের পিড়াপীড়িতে রোমেলার বাবা রোমেলাকে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহেদ আলীর বাসায় কাজের জন্য দেন। শাহেদ আলী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানায় কর্মরত। এরপর এসআই শাহেদ ৯ মাস আগে গৃহকর্মী হিসেবে তাকে নিয়ে আসে চট্টগ্রামে।



সেই যে মেয়েটা মা-বাবা থেকে চলে গেল, তারপর থেকে রোমেলার বাবা বারবার যোগাযোগ করেও মেয়ের কোন খোঁজ নিতে পারছিলেন না। এ আট মাসে মেয়ের সঙ্গে মোবাইলে তাদের মাত্র একবার কথা হয়েছে। মোবাইল ফোনে মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে বলা হতো ‘আপনার মেয়ে ভালো আছে, এখন কথা বলা যাবে না।’

কিন্তু দু বেলা পেট ভরে খাবে এই আশায় যে রোমেলাকে বাবা ইয়াজুদ্দিন তুলে দিয়েছিল এই শিক্ষিত ভদ্রলোক নামের দুই পশু এসআই সাহেদ আলী এবং তার স্ত্রী সুইটির হাটে তারা সেখানে রোমেলাকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই মাত্রারিক্ত দৈনন্দিন কাজের বোঝা চাপিয়ে দেয়। এতটুকুন এই বাচ্চা, হটাত নতুন পরিবেশে এসে কাজের ক্ষেত্রে সামান্য ভুল হলেই তার ওপর চালানো হয় অসহনীয় নির্যাতন। এরই ধারাবাহিকতায় ঈদের দু’দিন আগে সামান্য একটি কাচের প্লেট ভাঙার অপরাধে শিশুটিকে বেদম নির্যাতন করে এসআই শাহেদের স্ত্রী সুইটি বেগম। তার সারা শরীরে গরম খুন্তির ছেঁকা দেওয়া হয়, সারা শরীর পুড়ে ঘা হয়ে যায়। এছাড়া তাকে কয়েকবার গরম পানি ও গরম তরকারি ঢেলে ঝলসে দেয়া হয়েছেও বলে জানায় সে। এখন রোমেলার পুরো শরীরে ক্ষত। মাথার চুল উঠে গেছে। মুখ, পিঠ ও ঠোঁটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘা সৃষ্টি হয়েছে। তার দিকে তাকালে যে কারো হৃদয়ে হাহাকার করে উঠবে, চিৎকার দিয়ে বলতে ইচ্ছা হবে এই কোন বাংলাদেশে আছি আমরা??



কি পিছন আর কি সামনে, শিশু রোমেলার শরীরের আর কোন জায়গা ক্ষত হবার জন্য অবশিষ্ট নেই।

এরপরেও জানোয়াররূপী মানুসগুলো রোমেলাকে ফেরত দেয়নি। কিন্তু কোরবানির ঈদে এসআই শাহেদ আলী পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বেড়াকোলা গ্রামে তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন জানতে পেরে গত ৯ নভেম্বর রোমেলার পিতা ইয়াজ উদ্দিন সেখানে গিয়ে মেয়েকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে যেতে চাইলে এসআই শাহেদ প্রথমে বাধা দেন। একপর্যায়ে আত্মীয়দের চাপে এসআই শাহেদ আলী রোমেলাকে তার বাবার হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন। পরে ইয়াজ উদ্দিন তার শিশুকন্যাকে বাড়িতে আনার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

রোমেলার বাবা ইয়াজ উদ্দিন গতকাল শুক্রবার দুপুরে সাঁথিয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি। এ অভিযোগে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আয়ুব আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতব্বর। পরে এসপির নির্দেশে পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করে তা সীতাকুণ্ড থানায় পাঠিয়ে দেয়। আশা করি এই ডায়রী সেখানে কোনকালেও পৌঁছাবেনা, আর পৌঁছালেও এইসব জানোয়ারদের কিছুই হবেনা। কারন সব যে এখন জানোয়ারদের দখলে।

মানুষ যখন পশুর মত আচরন করে তখন মানুষ আর পশুর মাঝে কোন পার্থক্য থাকেনা, এ ধরেনর পশুদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা উচিত......তবে
বিচার কে করবে?? আমাদের স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী টুকু সাহেবের বাড়িও পাবনার সাথিয়ায়, তিনি কি এ ব্যাপারে ভুমিকা রাখবেন?? সে ক্ষমতা কি উনার আছে?? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি মেয়েটার চিকিৎসার দায়িত্ব নিবেন?? কারন মেয়েটাতো তারই প্রজাতন্ত্রের এক কর্মচারীর নিষ্ঠুরতার শিকার।

=>> প্লীজ সবার কাছে একটা অনুরোধ, এই লেখায় কেউ "ভাল লেগেছে বাটন" চাপবেন না।

লেখা এবং ছবি সুত্র- বাংলানিউজ২৪ এবং প্রথম আলো অনলাইন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৯
৩৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×