দাচ বঙ্গ ব্যাংকে একটা একাউন্ট আছে, মূলত এতিমের মত (এটিএমের জন্য) ব্যবহার করি। সেদিনও যথারীতি একাউন্টে টাকা জমা দিতে গেছিলাম! লগে আরেকটা কাজও ছিল, একটা ছোট ব্যাংক ড্রাফট করতে হবে। তো টাকা জমা দেয়ার আগে ড্রাফট করতে গিয়ে দেখি ফ্রন্ট ডেস্ক এক্সিকুটিভ আমারে বলে ড্রাফটের ফি ৫৮ টাকা মাত্র! আমি একটু টাশকি খাইলাম। সামান্য ক'টা টাকার ব্যাংক ড্রাফট ৫৮ টাকা, তাও মাত্র!!!! পরে অবশ্য এখান থেকে আর ড্রাফট করি নাই! সরাসরি সোনাতে চলে গেছিলাম। সোনার ফি ৩৫ টাকা! ২৩ টাকা সেইভ হইছে!
শুনলাম ব্যাংকগুলা নাকি ইদানিং কাস্টমার ধরার জন্য বিভিন্ন অফার দিতাছে। অবশ্য কালো কাস্টমার। আমি কালোর মইধ্যে পরি না। আমি হইতাছি সাদা আম কাস্টমার। এজন্য আমার বেইল নাই! তারা এখন "কালো মাল সাদা করে থাকি" এই বাণীতে উজ্জবিতি হয়ে উঠছে। এই ব্যবস্থা আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই প্রচলিত যদিও এবারের তাৎপর্য একটু ভিন্ন। আমাদের মাল সাব এবার ঘোষণা দিছেন যে এবার সহ আগামী তিন বছর পর্যন্ত কালা টাকা সাদা করা যাবে। কথা শুইনা অনেকেই সাদা দাঁতের ঝিলিক মারা ক্লোজআপ হাসি দেয়া শুরু করছে। ফলে প্রথম ২ বছর মাল কালা কইরা পরের বছর এইটারে সাদা করা যাইবে এটা একটা বুকাচুদাও বুঝে! আর ব্যাংকগুলা তো আছেই এই ধান্দায়। হিমুর ব্লগে পড়লাম,"একটা কালা সাঁওতাল ছেমরিকে ব্যাঙ্কের দরজা দিয়ে ঢুকিয়ে দিবো, আর বেরিয়ে আসবে ধলা মডেল সোনালিমা ..."
মাল সাব সম্বন্ধে মাঝে মধ্যে এই রকম মনে হয়, "উপ্রে চুল নাই, ভিত্রে মাল নাই, কথার তাল নাই, হাসির বেইল নাই!"
আমি অবশ্য উনার হাসি মাখা মুখরে ভালা পাই! মুখে একটা শিশুসুলভ নির্বোধ নির্বোধ আদুরে ভাব আছে।
সব কালোরেই কি সাদা বানানো যায়? মনে তো হয় যায়। অনেকেই হইছে। কেউ টেম্পোরারি হয়, কেউ পার্মানান্ট। জ্যাকসন সাব নাকি পার্মানান্টলি কাল থেকে সাদা হইছিল। অবশ্য এইটা নিয়া অনেক ফেরকা আছে, কেউ বলে রোগ হইছিল (হায় আল্লা! এই রকম রোগও দুনিয়াতে আছে, ভাগ্য ভাল এইটা সংক্রামক না। তা না হইলে কসমেটিক কোম্পানীগুলার যে কি হইত? এই বিশ্বমন্দায় সবগুলাই লাটে উঠত! ) আর কেউ বলে দুর্ঘটনায় মুক বিকৃত হয়ে যাবার কারণে এইরম প্লাস্টিক সার্জারী করছে। যাই হোক, ইচ্ছাকৃত না হইলেই হয়।
আর কত জনরে যে দেখলাম প্লাস্টার বার্নিশ কইরা সাদা বানাইতে..., কিন্তু লাভ কি? মেন্ডেলাও কালো আছিল। আর কালো চামড়ার সুদানি জাতির রূপের কথা তো মুজতবা আলিই বইলা গেছে।
অবশ্য যদি হাইকোর্ট রায় দেয় তাইলে ভিন্ন কথা। ইদানিং সবারই আদালতে গিয়ে একটা রায় নিয়ে আসার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। সরকারসমূহের মাঝেও এই একই প্রবণতা, এমনকি হালের ডিজিটাল সরকারও আদালতের রায়েই ইতিহাসকে বাঁচাতে/সাজাতে চাচ্ছে। ইতিহাসের ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের উপর নির্ভর না করে অল্প ইতিহাস জানা বিচারকদের উপরেই মনে হয় তাঁদের ভরসা বেশী। অথচ হাজার হাজার মামলা পরে আছে যেগুলা সমাপন করার কোন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। আমার নানার এক জমি নয় বছর ধরে কোর্টে ঝুলে আছে, কাগজ-পত্র সব ঠিক থাকার পরও ৮ বছর শুনানির পর আদালত রায় দিল বিবাদমান ২ পক্ষ বসে সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধান করতে! কি বিচিত্র!
আদালত যদি কালোকে সাদা আর সাদাকে কালো বলে তাহলে চোখ বন্ধ করেই তা মেনে নিতে হবে। কারণ আমরা এইসব নিয়া কথা বললে আবার আদালত অবমাননা হয়ে যেতে পারে। মাফ চাই দোয়াও চাই। আম-পাবলিক আমি নিজের হালকা পাতলা মান-সম্মান রক্ষা করতেই হিমশিম খাই, অন্য কাউরে অবমাননার প্রশ্নই আসে, তাও সেটা যদি আদালতের মত বড় কিছু হয়।
টাকা থেকে কালো টাকা, সেখান থেকে চামড়া হয়ে আদালতে চলে আসলাম! শেষ করি রাইত দিয়া। সাদা রাতের কথা কিন্তু আমরা কেউ চিন্তাই করতে পারি না। রাত হিসেবে কালই ভাল!
কালো জিনিসকে অনর্থক সাদা করতে যাওয়া রোগের লক্ষণ। জাতীয় জীবন থেকে এই রোগ দূর হোক..... আমীন!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

